
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম ম্যাচে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। এক বিবৃতিতে বার্সা জানিয়েছে ,চোটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে অনিশ্চিত ইয়ামাল। পাশাপাশি সোমবার লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে থাকছেন না ১৮ বর্ষী স্পেনিয়ার্ড।
দলের গুরুত্বপূর্ণ উইঙ্গারের ইনজুরিতে বেজায় চটেছেন বার্সা কোচ হ্যান্সি ফ্লিক। রীতিমত স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ওপর ক্ষোভ জেড়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, পরবর্তী ম্যাচের জন্য ইয়ামাল ফিট নয়। সে ইনজুরি নিয়েই স্পেনের হয়ে খেলতে গিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তির ভাস্কর্য উন্মোচন বায়ার্নের |
|
হ্যান্সি ফ্লিকের অভিযোগ, পেইন কিলার খেয়েই স্পেনের হয়ে খেলেছেন ইয়ামান। তিনি বলেন,
'তারা (স্পেন) প্রতিটি ম্যাচে তারা কমপক্ষে তিন গোলে এগিয়ে ছিল। কিন্তু ইয়ামাল দুটি ম্যাচেই ৭৩ ও ৭৯ মিনিট পর্যন্ত খেলেছেন। ম্যাচগুলোর মাঝেই সে ট্রেনিংও করতে পারেননি। এটা কি আসলেই খেলোয়াড়ের যত্ন নেওয়া? এ নিয়ে আমি খুবই হতাশ।’
জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনের সময় তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে আরো সতর্ক হওয়া উচিত বলেন ফ্লিক। তিনি বলেন,
‘আমি জাতীয় দলের হয়ে কাজ করেছি, জানি কাজটা কত কঠিন। আমি কখনো তার (দে লা ফুয়েন্তে) সঙ্গে যোগাযোগ করিনি। বার্তা ছিল একটা, কিন্তু সরাসরি কথা হয়নি। আমার স্প্যানিশ ভালো না, আর তাঁর ইংরেজি ভালো না, হয়তো এটাই একটা সমস্যা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত, যোগাযোগটা ভালো হওয়া উচিত। শুধু ইয়ামালই নয়, আমাদের আরও অনেক খেলোয়াড় রয়েছে যারা একই অবস্থা ভোগ করছে।’
No posts available.
৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম

ক্লাব ক্যারিয়ারের বিচারে অনেকেই আঁতোয়ান গ্রিজমানকে অভাগা বলেন। বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি তারকা ফরোয়ার্ড দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কখনও লিগ শিরোপা জয়ের স্বাক্ষী হতে পারেননি। ক্লাব পাল্টেও ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে পারেননি। ইউরোপীয় ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে থাকা গ্রিজমান এখন শেষটা রাঙানোর অপেক্ষায় আছেন। আর শেষ অংশে এসে তাঁর সামনে সাবেক ক্লাব বার্সেলোনা।
চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে আজ বার্সেলোনার বিপক্ষে মাঠে নামছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। ইউরোপ সেরার মুকুট কখনও পায়নি আতলেতিকো, একইসঙ্গে এই শিরোপা জেতা হয়নি গ্রিজমানেরও। মৌসুম শেষেই ইউরোপ ছেড়ে এমএলএসের দল অরলান্ডো সিটিতে পাড়ি জমাবেন তিনি। তাতে ক্লাব এবং নিজের জন্য প্রথমবার এই শিরোপা জেতার অভিজ্ঞতা নিতে শেষবারের জন্যই হয়তো দেখা যাবে গ্রিজমানকে।
আরও পড়ুন
| পিএসজি ম্যাচেই ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যেতে পারে স্লটের |
|
ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যূতে বার্সার সবচেয়ে বড় শক্তি লামিনে ইয়ামালই। কাতালান ক্লাবটির আক্রমণভাগে রাফিনিয়ার অনুপস্থিতি স্প্যানিশ উইঙ্গারের দায়িত্ব দ্বিগুণ করেছে। দায়িত্বের ভারে অবশ্য মোটেও টলতে দেখা যায় না ইয়ামালকে। তিনদিন আগেই আতলেতিকোকে তাদেরই মাঠে নাচিয়ে ছেড়েছেন। গোল-অ্যাসিস্ট না পেলেও একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার। এবার ঘরের মাঠে দিয়েগো সিমিওনের দলের বিপক্ষে আরও আগ্রাসী ইয়ামালকেই হয়তো দেখতে চাইবেন সমর্থকরা।
সাম্প্রতিক ছন্দ দুর্দান্ত হলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে আতলেতিকোর সঙ্গে স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস আছে বার্সেলোনার। এই প্রতিযোগিতায় দুটি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বার্সাকে বিদায় করেছে আতলেতিকো। ২০১৩-১৪ মৌসুমে শেষ আটে ন্যু ক্যাম্পের দল ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল, এবং ২০১৫-১৬ মৌসুমে ৩-২ ব্যবধানে।
সব মিলিয়ে বার্সা তাদের শেষ চারটি ইউরোপীয় ম্যাচের মধ্যে আতলেতিকোর বিপক্ষে মাত্র একটি জয় পেয়েছে, মাত্র তিনটি গোল করেছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে অবশ্য সবশেষ ছয় ম্যাচের পাঁচটিই জিতেছে বার্সেলোনা।
চলতি মৌসুমে এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে বার্সা-আতলেতিকো। লিগে দু’বার কোপা দেল’রেতে দুইবারের পর এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে। তাতে হান্সি ফ্লিকের বার্সার দূর্বল জায়গা ভালো করেই জানা আছে সিমিওনের। বার্সাকে কিভাবে আঘাত করতে হয় সেটা নাকি ভালো করেই জানা আছে আতলেতিকো মাদ্রিদ কোচের।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে সিমিওনে বলেন, ‘তারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। আমরা তাদের সক্ষমতা জানি, আর ২৩ ম্যাচের মধ্যে তারা মাত্র একটি হেরেছে। আমরা এখানে লড়াই করার জন্য এসেছি, এবং এমন আমরা এমন জায়গায় টেনে নিয়ে যাব, যেখানে আমরা আঘাত করতে পারি।’
আরও পড়ুন
| কাই হাভার্টজের গোলে মান বাঁচাল আর্সেনাল |
|
বার্সেলোনার দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি আমরা তা আগামীকাল সকাল দেখাতে পারব, আর মাঠে তা দৃশ্যমান হবে। আমরা জানি আমাদের বিপরীতে কে আছে। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, আর কে আমাদের পথে দাঁড়াচ্ছে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়।’
ম্যাচের আগে সিমিওনের সঙ্গে কথার লড়াইয়ে জড়াতে আপত্তি ফ্লিকের। কেবল নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিতে চান জার্মান এই কোচ, ‘একমাত্র যে ব্যাপারটায় আমাদের মনোযোগ দেওয়া দরকার তা হলো, আমরা মাঠে কী অর্জন করতে পারি। নিজেরা যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব, এর বাইরের কোনো বিষয় নিয়ে আমি ভাবতে চাই না।’

মিশরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে গ্যালারি থেকে ভেসে আসা মুসলিম-বিদ্বেষী স্লোগান। বর্ণবাদী এই ঘটনায় কেঁপে ওঠে স্পেনসহ বিশ্ব ফুটবল। গ্যালারি থেকে স্পেনের দর্শকদের এমন আচণের কারণে রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। মঙ্গলবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
গত ৩১ মার্চ বার্সেলোনার এস্পানিওল আরসিডিই স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে মিশরের জাতীয় সংগীত চলাকালীন দুয়োধ্বনি দেয় স্প্যানিশ সমর্থকরা। অনেক সমর্থক ‘যে লাফাবে না, সে মুসলিম’ বলে স্লোগান দেয়। মিশরের কিছু খেলোয়াড় যখন মাঠে সিজদা দিচ্ছিলেন তখনও গ্যালারি থেকে অসম্মানজনক চিৎকার শোনা যায়।
আরও পড়ুন
| পিএসজি ম্যাচেই ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যেতে পারে স্লটের |
|
ম্যাচ শেষে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। দ্রুতই নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেয় রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)। গত সপ্তাহে স্প্যানিশ পুলিশও ওই স্লোগানগুলোর বিষয়ে একটি তদন্ত শুরু করেছে।
তবে এতে পার পাচ্ছে না আরএফইএফ। ম্যাচের ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ এবং রেফারি, ম্যাচ পরিদর্শক ও নিরাপত্তা দলের রিপোর্ট পর্যালোচনার পর ফিফা তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'মিশরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য ফিফা আরএফইএফ-এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে।’
দর্শকদের মুসলিম-বিদ্বেষী আচারণে আঘাত পেয়েছেন স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামাল। ১৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড নিজেও একজন মুসলিম। ঘটনার পরদিন সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে বার্সেলোনার উইঙ্গার লেখেন, ‘আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। স্টেডিয়ামে 'যদি তুমি না লাফাও, তবে তুমি একজন মুসলিম' বলে স্লোগান দেওয়া হয়েছে। আমি জানি এটি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ছিল এবং ব্যক্তিগত কিছু নয়, তবে একজন মুসলিম হিসেবে এটি তবুও অসম্মানজনক এবং সম্পূর্ণ অসহনীয়।‘
ওই ম্যাচে বিরতির সময় জায়ান্ট স্ক্রিনে একটি বিশেষ বার্তা দেখা যায়। সেখানে সমর্থকদের উগ্রবাদী মন্তব্য ও বর্ণবাদী গান থেকে বিরত থাকার থাকার জন্য মাইকে বারবার নির্দেশ দেওয়া হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও একই সতর্কতা দেওয়া হলে দর্শকদের একটি অংশ উল্টো দুয়োধ্বনি দেয়।
এই ঘটনায় শাস্তি হিসেবে আরএফইএফ এর বিরুদ্ধে বড় অংকের জরিমানা এবং স্টেডিয়াম বন্ধ রাখার মতো শাস্তির খড়গ নেমে আসতে পারে।

এইতো গত মৌসুমেই চ্যাম্পিয়নস লিগে মুখোমুখি হয়েছিল পিএসজি-লিভারপুল। অল রেডরা তখন তুখোড় ছন্দে। লিভারপুলের দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম মৌসুমেই রীতিমতো উড়ছেন আর্নে স্লট। ইউরোপের যেকোনো দলের বিপক্ষে তখন ‘ফেবারিট’ তকমা লিভারপুলের নামের পাশেই। তবে শেষ পর্যন্ত লিভারপুলকে বিদায় করে লুইস এনরিকের এই পিএসজি।
বছর ঘুরতেই এবার পাশার দান উল্টে গেছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে একের পর এক হারে নাজেহাল লিভারপুল। প্রিমিয়ার লিগে পয়েন্ট টেবিলে বেহাল দশা ক্লাবটির আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলা নিয়েই এখন অনিশ্চয়তা। চাকরি নিয়ে টানাটানি অ্যানফিল্ডের কোচ স্লটের।
বিপরীতে ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি আজ নিজেদের মাঠে লিভারপুলকে আতিয়েতা দেবে পুরোদস্তর এগিয়ে থেকেই। ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের দলটাকে একেবারে পরিপূর্ণ বললে ভুল বলা হবে না।
আরও পড়ুন
| রিয়াল যেকোনো মাঠে জিততে পারে, হারের পর আরবেলোয়া |
|
গত মৌসুমে শেষ ম্যাচে টাইব্রেকারে লিভারপুলের বিপক্ষে জিতেছিল পিএসজি। গত আসরে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগও ঘরে তুলেছিলেন লুইস এনরিকের শিষ্যরা। এই মৌসুমেও ধারাবাহিক পিএসজি। লিগ ওয়ানের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে।
গত সপ্তাহে এফএ কাপে শেষ আটে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ৪-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর লিভারপুল এখন দিশেহারা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে লিভারপুলের ১৫তম হার ছিল এটি—ইংলিশ জায়ান্ট ক্লাবটি সবশেষ এক মৌসুমে এত হার দেখেছিল ২০১৪-১৫ মৌসুমে। গত মৌসুমে প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতে নিজেকে অ্যানফিল্ডের মহানদের তালিকায় নাম লেখানো স্লট এখন ক্লাবের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম উত্থান-পতনের সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে এখন চাকরি হারানোর শঙ্কায় আছেন তিনি।
ফিটনেসের দিক থেকে পিএসজির ব্র্যাডলি বারকোলা সম্ভবত এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না তার গোড়ালির চোটের কারণে। যদিও অনুশীলনে ফিরেছেন ফরাসি উইঙ্গার। ফাবিয়ান রুইজ এবং কোয়েন্টিন নজান্তুও এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না।
লিভারপুলের ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার স্কোয়াডে থাকলেও পুরো ফিট নন। শুরুর একাদশে না থেকে তাকে বদলি হিসেবেই নামাতে পারেন স্লট। গোলপোস্টের নিচে আলিসন বেকারের অনুপস্থিতিতে আবারও দেখা যাবে জিওর্জি মামারদাশভিলিকে। ছন্দহীনতায় থাকা মোহাম্মদ সালাহকে হয়তো বেঞ্চে মাঠে নামতে পারেন।

ঠিক পাঁচ দিন আগেই রোমানিয়া জাতীয় দলের দায়িত্ব ছেড়েছিলেন। কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করার পাঁচ দিন পরই না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন কিংবদন্তি কোচ মিরচা লুচেস্কু। মৃত্যুকালে ফুটবল বিশ্বের কিংবদন্তি এই কোচের বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
গত বৃহস্পতিবার অনুশীলনের আগে অসুস্থ বোধ করায় পদত্যাগ করেছিলেন লুচেস্কু। শুক্রবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হয়।
লুচেস্কুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে রোমানিয়ান ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমাদের ফুটবল কেবল একজন উজ্জ্বল কৌশলীকেই হারাইনি, বরং একজন মেন্টর, একজন স্বপ্নদ্রষ্টা এবং একটি জাতীয় প্রতীককে হারিয়ছি, যিনি বিশ্ব ফুটবলের শিখরে রোমানিয়ার পতাকাকে নিয়ে গিয়েছিলেন।‘
লুচেস্কু ১৯৮১ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত রোমানিয়া জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এরপর ২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরে আসেন। লুচেস্কুর কোচিংয়ে সবশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপ ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইয়ের প্লে অফ সেমিফাইনালে খেলেছিল রোমানিয়া। ২৬ মার্চের সেই ম্যাচে তুরুষ্কের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় ট্রিকোলোরিরা।
দীর্ঘ ৪৭ বছরের ক্যারিয়ারে লুচেস্কু ইন্টার মিলান, গালাতাসারাই, বেসিকতাস, শাখতার দোনেৎস্ক, জেনিথ সেন্ট পিটার্সবার্গ, ডায়নামো কিয়েভ এবং তুরস্ক জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেছেন।
লুচেস্কুর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে গালাতাসারাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে ( সাবেক টুইটার) লিখেছে, ‘আমরা আমাদের ইউয়েফা সুপার কাপ এবং ১৫তম তুর্কি লিগ জেতানো কোচ মিরচা লুচেস্কুর প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। শান্তিতে থাকুন লুচে, আমরা আপনাকে ভুলব না।‘
কোচিং ক্যারিয়ারে চার দশকেরও বেশি সময়জুড়ে লুচেস্কু জিতেছেন ৩৫টি বড় শিরোপা। ট্রফি জেতায় ফুটবল ইতিহাসে সর্বকালের সেরার তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন তিনি। রোমানিয়ান এই কোচের সামনে আছেন শুধু কিংবদন্তি স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন এবং পেপ গার্দিওলা।
১২ বছর ইউক্রেনের ক্লাব শাখতার দোনেৎস্ককে ৮টি লিগ শিরোপা ও উইয়েফা কাপ জিতিয়েছেন লুচেস্কু। এছাড়া তার অধীনে ঘরোয়া শিরোপা জিতেছে দিনামো বুখারেস্ট, র্যাপিড বুখারেস্ট, গালাতাসারাই, বেসিকতাস, জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং ডায়নামো কিয়েভ। সাতটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে শিরোপা জয়ের অনন্য কীর্তি নেই আর কোনো কোচেরই।
লুচেস্কুর কোচিংয়ে সবসময়ই আকর্ষণীয়, আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়েছে দলগুলো। বিভিন্ন ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন এক অসাধারণ কৌশলী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
টাচলাইনে নিজের বিশাল ছাপ রাখার আগেই তিনি মূলত উইঙ্গার হিসেবে গড়েছিলেন দারুণ এক খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার। দিনামো বুখারেস্টের হয়ে জিতেছেন ৭টি লিগ শিরোপা। তিনি রোমানিয়ার হয়ে ৬৪টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ১৯৭০ বিশ্বকাপে জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। খেলোয়াড়ি জীবনের শুরু থেকে রেকর্ড গড়া কোচিং ক্যারিয়ার—পুরো পথজুড়েই ফুটবলের প্রতি তার অবিচল ভালোবাসা লেখা থাকেবে স্বর্ণাক্ষরেই।

চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হারের পর এবার দ্বিতীয় লেগে বাভারিয়ানদের দূর্গ জয় করে ফেরার কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে লস ব্লাঙ্কোসদের। তবে দলটা রিয়াল মাদ্রিদ বলেই শেষ কথা বলার উপায় নেই। ম্যাচ শেষে রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়াও বললেন, রিয়ালের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা এখনও টিকে আছে।
নিজেদের মাঠে ম্যাচের ৪০ মিনিটে লুইস দিয়াজের গোলে পিছিয়ে যায় রিয়াল। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ২০ সেকেন্ডের মাথায় হ্যারি কেইন ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
৭৪ মিনিটে এমবাপে বাঁ-পায়ের জাদুতে একটি গোল শোধ করেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের চলতি আসরে ফরাসি তারকার গোল হলো ১৪টি, এখন পর্যন্ত প্রতিযোগীতার সর্বোচ্চ গোলদাতাও এমবাপে । তারকা ফরোয়ার্ডের এই গোলেই আগামী বুধবার মিউনিখে ফিরতি লেগের লড়াইয়ে এখনও টিকে আছে রিয়াল।
ম্যাচ শেষে আরবেলোয়া বলেন,
‘এখনও টিকে আছি, এটা পরিষ্কার। মাত্র এক গোলে পিছিয়ে। আমরা যেকোনো জায়গায় জেতার ক্ষমতা রাখি। ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলে তা কাটিয়ে ওঠা খুব কঠিন হতো... আমি ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে বলছিলাম, একটি গোল আমাদের লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনবে। আমরা এখনও টিকে আছি কারণ মাদ্রিদ যেকোনো মাঠে জিততে পারে।’
হাঁটুর চোট থেকে ফিরে শনিবার মায়োর্কার বিপক্ষে শুরুর একাদশে ফেরেন এমবাপে। বিরতির পর নিজের চেনা রূপে ফেরার আভাস দিয়ে রাখলেন বায়ার্নের বিপক্ষে গোল করে। জার্মান জায়ান্টদের বিপক্ষে লক্ষ্যে শট রেখেছেন চারটি, গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন দুটি। লা লিগায় মায়োর্কার বিপক্ষে হারের পর তাকে নিয়ে শুরু হওয়া মৃদু সমালোচনা যেন তুড়ি মেরেই উড়িয়ে দিলেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে।
আরবেলোয়া শিষ্যের সমালোচনার জবাবে বলেন,
‘আমার কাছে এমবাপেকে অত্যন্ত নিবেদিত মনে হয়েছে। সে তাদের রক্ষণভাগকে সমস্যায় ফেলেছে এবং প্রমাণ করেছে কেন সে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। সে প্রতিপক্ষের জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি হয়ে ছিল এবং আমরা এমবাপেকে এই রূপেই দেখতে চাই।’
চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ ছাড়া বাকি সব শিরোপা থেকে ছিটকে গেছে রিয়াল। মায়োর্কার কাছে হারের ফলে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে রিয়াল এখন ৭ পয়েন্টে পিছিয়ে। ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগই এখন এই মৌসুমে তাদের শিরোপা জেতার সেরা সুযোগ।
বায়ার্নের বিপক্ষে মঙ্গলবার রাতের ম্যাচ নিয়ে আরবেলোয়া বলেন,
‘এই হারটি এড়ানো যেত, যদি দ্বিতীয়ার্ধে ভাগ্য কিছুটা সহায় থাকতো। আমরা দুটি ভুল করেছি এবং দুবার বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি, যা আমাদের এড়ানো উচিত ছিল। এই ধরনের দলের বিরুদ্ধে এমন ভুল করলে তার চড়া মূল্য দিতে হয়।’
এমবাপের গোল নিয়ে রিয়াল কোচ বলেন,
‘গোলটি আমাদের আশা জুগিয়েছে... কাজটা সহজ হবে না, তবে মিউনিখে গিয়ে জেতার ক্ষমতা যদি কোনো দলের থাকে, তবে সেটি রিয়াল মাদ্রিদ।’