
উইকেটে স্পিন ধরবে বলেই ভারত একাদশ সাজাল তিন স্পিনার নিয়ে। সবাই দিলেন নিজের সেরাটা। তাতে পাকিস্তান ব্যাটারদের কাজটা হয়ে গেল বেশ কঠিন। চাপের মুখে দারুণ এক ফিফটি করলেন সাউদ শাকিল। তবে অন্য ব্যাটাররা সেভাবে অবদান না রাখায় বোর্ডে জমা পড়ল মামুলি স্কোর। ভারতের দুই ওপেনার অল্পেই ফিরলেও ‘চেজ মাস্টার’ বিরাট কোহলি আরও একবার দেখালেন, কেন তিনি ওয়ানডে গ্রেটদের একজন। তার ব্যাটে চড়ে পেশাদার রান তাড়ায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের উড়িয়ে সেমিফাইনাল প্রায় নিশ্চিত করে ফেলল রোহিত শর্মার দল।
দুবাইয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ‘এ’ গ্রুপের হাইভোল্টেজ ম্যাচ পারেনি প্রত্যাশা অনুযায়ী উত্তাপ ছড়াতে। ৪৯.৪ ওভারে পাকিস্তান গুটিয়ে গিয়েছিল ২৪১ রানে। ভারত সেই টার্গেট পাড়ি দিয়েছে ৬ উইকেটে, মাত্র ৪২.৩ ওভারেই।
টানা দুই ম্যাচ জিতে ভারতের সেমিফাইনাল প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেল। আর দুই ম্যাচ হেরে বাদ পড়ার শঙ্কায় পাকিস্তান।
আরও পড়ুন
| ১৪ হাজারি ক্লাবে শচিন-সাঙ্গাকারাকে পেছনে ফেললেন কোহলি |
|
ছোট টার্গেটের পেছনে ভারত শুরু থেকেই ব্যাট করে আগ্রাসী মেজাজে। নাসিম শাহর করা দ্বিতীয় ওভারে ট্রেডমার্ক পুল শটে ছক্কা হাঁকান রোহিত। শাহিন শাহ আফ্রিদিকে অন্য প্রান্তে এক ওভারে দুটি চার মারেন শুবমান গিল। দারুণ ছন্দে ব্যাট করা রোহিতকে বিপজ্জনক হওয়ার আগেই থামান শাহিন।
ইনসুইং ইয়র্কারে রোহিতকে বোকা বানিয়ে বোল্ড করেন এই বাঁহাতি পেসার। তবে সেই ধাক্কা কাটিয়ে শাহিনের করা পরের দুই ওভারে দুটি করে চারের মার আসে গিলের ব্যাট থেকে।
৩৫ রানে একটা সুযোগ দিয়েছিলেন তিনি, তবে হারিসের বলে মিড অফে ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন খুশদিল শাহ। বাংলাদেশের বিপক্ষে আগের ম্যাচে অপরাজিত সেঞ্চুরি করা গিল এদিনও ছিলেন চেনা ছন্দেই। তাকে ফেরাতে দরকার ছিল বিশেষ কিছুর।
আর সেটা নিয়ে হাজির হন আবরার আহমেদ। দুর্দান্ত এক ক্যারম ডেলইভারিতে বিভ্রান্ত করেন গিলকে। বোল্ড হওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় ভারত ওপেনারের ৭ চারে ৪৬ রানের ইনিংস।
তবে ওই সময়ের মধ্যেই কোহলি সেট হয়ে গেছেন ভালোভাবেই। চাপ না নিয়ে, বড় শট না খেলেই সিঙ্গেলস-ডাবলসেই চলে যান ত্রিশের ঘরে।
আরও পড়ুন
| একদিনের মাথায় স্থগিত সাকিবের নিবন্ধন |
|
আর সেই পথেই ভারতের সাবেক অধিনায়ক পূর্ণ করেন ওয়ানডে ক্রিকেটে তার ১৪ হাজার রান। মাত্র ২৮৭ ইনিংসেই তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেন, যা ইতিহাসেরই দ্রুততম। এই তালিকায় এতদিন শীর্ষে ছিলেন ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটার শচিন টেন্ডুলকার। ২০০৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষেই তিনি যেদিন প্রথম ব্যাটার হিসেবে ১৪ হাজারি ক্লাবে নাম লেখান, তখন তার লেগেছিল ৩৫০ ইনিংস।
কোহলি ও শচিন বাদে ওয়ানডেতে ১৪ হাজার রান আর করেছেন কুমার সাঙ্গাকারা। সাবেক শ্রীলঙ্কা ব্যাটার ২০১৫ সালে পূর্ণ করেন ১৪ হাজার রান। সেজন্য তাকে খেলতে হয়েছিল ৩৭৮ ইনিংস।
নাসিমকে চার মেরে ৬২ বলে পঞ্চাশে পা রাখেন কোহলি। তৃতীয় উইকেটে তিনি ও শ্রেয়াস আইয়ার মিলে ধীরে দলকে নিয়ে যান জয়ের পথে। ভারতের জয় যখন নিশ্চিত, সেই সময়ে শ্রেয়াস (৫৬) ও হার্দিক (৮) আউট হন অল্প সময়ের মধ্যে। বাকি অংশে ম্যাচের মূল রোমাঞ্চ ছিল কোহলির সেঞ্চুরি।
দলের জয় আর তার সেঞ্চুরির রানের ব্যবধান এগিয়ে যাচ্ছিল প্রায় একই গতিতে। শেষ পর্যন্ত খুশদিলের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে চার মেরে দলকে জেতানোর পাশাপাশি তুলে নেন ওয়ানডেতে নিজের ৫১তম সেঞ্চুরি।
এর আগে দিনের শুরুতে বল হাতে ভারতের শুরুটা অবশ্য ছিল না খুব ভালো। বাংলাদেশের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নেওয়া মোহাম্মদ শামি ইনিংসের প্রথম ওভারে দেন পাঁচ ওয়াইড। তবে ১১ বলের সেই ওভারে আসে মাত্র ছয় রান। হার্ষিত রানার করা চতুর্থ ওভারে দুটি ক্লাসিক চার মেরে বাবর আজম আভাস দেন ফর্মে ফেরার। তবে ওই পর্যন্তই। ভারতের পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সেভাবে রান বাড়াতে পারছিলেন না ওপেনাররা।
ফখর জামানের চোটে দলে আসা ইমাম-উল-হক শুরু থেকেই ছিলেন আড়ষ্ট। রানের জন্য তার সংগ্রাম চাপ বাড়িয়ে দেয় বাবরের অপর। সেটা সরাতে গিয়ে হার্দিক পান্ডিয়ার অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে ফেরেন উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে।
পরের ওভারে বিদায় নেন ইমামও। কুলদ্বীপ যাদবের বলে মিড অফে বল ঠেলে নিতে চেয়েছিলেন এক রান। তবে আকসার প্যাটেলের সরাসরি থ্রোয়ে শেষ হয় তার ২৬ বলে ১০ রানের ইনিংস।
এরপর পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরানো একটা জুটি গড়েন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাউদ শাকিল। তবে ১০ থেকে ২৫ ওভারের মধ্যে মন্থরগতিতে ব্যাট চালান দুজনেই। এই সময়ে বাইন্ডারিও সেভাবে হয়নি, আবার তারা সিঙ্গেলসও সেভাবে বের করতে ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে তো দুজনই ব্যাটিং করছিলেন ৮০-এর কম স্ট্রাইক রেটে!
২৫ ওভারে মাত্র ৯৯ রান করা পাকিস্তানের জন্য বড় স্কোর গড়ার কাজটা কঠিন করে দেয় এই জুটি। যদিও এরপরের কয়েকটি ওভারে কয়েকটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে কিছুটা রানের চাকা সচল করেন রিজওয়ান ও শাকিল মিলে।
আরও পড়ুন
| বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ নিয়ে চিন্তায় নিউজিল্যান্ড |
|
৬৩ বলে ফিফটি পূরণ হয় শাকিলের। জুটিতেও হয়ে যায় শতক। তবে হার্দিকের বলে ৪৪ রানে জীবন পাওয়া রিজওয়ান পারেননি বেশিদূর যেতে। টেস্ট মেজাজের ইনিংসের ইতি ঘটে আকসারকে বড় শট মারতে গিয়ে। ৭৭ বলে মাত্র তিন চারে পাকিস্তান অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ৪৬ রান।
৫৮ রানে জীবন পাওয়া শাকিলও ব্যর্থ হন তা কাজে লাগাতে। ৬২ রানে মিড অফে ক্যাচ বানিয়ে তাকে সাজগরের পথ দেখান হার্দিক। এরপর একটা মিনি ধস নামে পাকিস্তান ইনিংসে, ২০০ রানেই চলে যায় ৭ উইকেট।
সেখান থেকে লড়িয়ে এক ইনিংসে পাকিস্তানকে একটা ফাইটিং স্কোর এনে দেওয়ার কাজ করেন খুশদিল শাহ। আগের ম্যাচে ফিফটি করা এই অলরাউন্ডার শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে ২ ছক্কায় করেন ৩৮ রান।
৪০ রানে তিন উইকেট নিয়ে ভারতের সেরা বোলার ছিলেন বাঁহাতি স্পিনার কুলদ্বীপ।
No posts available.

ইংল্যান্ডের একশো বলের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট দ্য হান্ড্রেডের নিলামে দল পাওয়ার পরদিনই মুদ্রার উল্টোপিঠ দেখলেন আবরার আহমেদ। বাংলাদেশের বিপক্ষে শুক্রবার দ্বিতীয় ওয়ানডের একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন পাকিস্তানি এই লেগস্পিনার। তাঁর পরিবর্তে দলে ডাক পেয়েছেন পেসার হারিস রউফ।
মিরপুরে প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের কাছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারে পাকিস্তান। সেই ম্যাচে তিন ওভার বল করে ২৫ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি টসের সময় আবরারকে পরিবর্তনের কারণ হিসেবে বিশ্রামের কথা বলেছেন।
হান্ড্রেডের নিলামে বৃহস্পতিবার আবরার আহমেদকে দলে ভিড়ায় সানরাইজার্স লিডস। আইপিএল মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তার জন্য ১ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ড খরচ করে।
আরও পড়ুন
| ৮ রানে ৬ উইকেট, সাকিবের রেকর্ডে ভাগ উসামার |
|
ভারতভিত্তিক মিডিয়া প্রতিষ্ঠান সান টিভি নেটওয়ার্কের মালিকানাধীন সানরাইজার্স লিডস। একই গ্রুপ আইপিএলের সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টি-টোয়েন্টি লিগের সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ দলেরও মালিক।
২০০৯ সালের পর থেকে আইপিএলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ বন্ধ রয়েছে। এরপর আইপিএল মালিকানাধীন বিশ্বের অন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিতেও পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দেখা যায়নি। সেদিক বিবেচনায় ভারতীয় মালিকানাধীন দলে আবরারের অন্তর্ভুক্তি ব্যতিক্রমী ঘটনাই বলা যায়। এই ঘটনার পর ভারতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং সানরাইজার্স লিডসের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
আবরারকে দলে নেওয়ার কারণও জানিয়েছেন লিডসের কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টোরি। তিনি জানিয়েছেন, আদিল রশিদকে না পাওয়ার পর তারা একজন মানসম্পন্ন বিদেশি স্পিনার খুঁজছিলেন। আবরারের বৈচিত্র্য এবং মিডল ওভারে উইকেট নেওয়ার ক্ষমতার জন্য তাকে দলে নিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

পাকিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে সিয়ালকোটের হয়ে খেলছেন উসামা মির। দেশের জার্সিতে এখন পর্যন্ত ১৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই লেগ স্পিনার দারুণ একটি রেকর্ড গড়েছেন সেখানে। দুই ম্যাচে সাত উইকেট নেওয়া উসামার ছয়টিই এসেছে লাহোরের বিপক্ষে।
বৃহস্পতিবার প্রথমে ব্যাট করে চার উইকেটে ২১০ রান করে সিয়ালকোট। ৩১ বলে ৫৭ রান করেন পাকিস্তান দলের ব্যাটার আবদুল্লাহ শফিক। ১৭ বলে অপরাজিত ৪৭ রান করেন আহসান হাফিজ ভাট্টি। তাদের ইনিংসে দল দুই শতাধিক রান তুলতে সক্ষম হয়।
ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় ওভারেই উইকেট হারায় লাহোর। এরপর ওপেনার উমর সিদ্দিক খান ও হামজা জহুর দ্বিতীয় উইকেটে ৫৫ রান যোগ করেন। তবে উমরকে ফিরিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন উসামা।
আরও পড়ুন
| ধর্ষণ মামলা থেকে মুক্তি বাবরের |
|
প্রতিপক্ষের ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামান তিনি। দুই ওভার শেষে তার বোলিং ছিল ৬ রানে ২ উইকেট, যা তৃতীয় ওভার শেষে দাঁড়ায় ৮ রানে ৪ উইকেটে।
শেষ পর্যন্ত লাহোর ১০০ রানে আট উইকেট হারায় এবং ১৪ ওভার ২ বলে সবকটি উইকেট হারিয়ে ফেলে। শেষ দুই উইকেট কোনো রান না দিয়েই উইকেট নেন উসামারা। তার বোলিং বিশ্লেষণ ৮ রানে ৬ উইকেট—যা পাকিস্তানের মাটিতে টি–টোয়েন্টিতে সেরা বোলিং। এর আগে ২০২৩ সালে ১৬ রানে ৬ উইকেট নিয়ে এই রেকর্ড গড়েছিলেন মোহাম্মদ ইমরান।
টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি উসামা মিরের দ্বিতীয়বার ছয় উইকেট নেওয়ার ঘটনা। এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তান সুপার লিগে মুলতানের হয়ে লাহোরের বিপক্ষে ৪০ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
সব মিলিয়ে টি–টোয়েন্টিতে দুইবার ছয় উইকেট নেওয়া বোলারের তালিকায় তিনি এখন চতুর্থ। তার আগে এই কীর্তি গড়েছেন অজন্তা মেন্ডিস, সাকিব আল হাসান ও অর্জন নাগওয়াসওয়ালা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টস জিতল বাংলাদেশ দল। সফরকারীদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
প্রথম ওয়ানডেতে ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। আজ মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজ লক্ষ্যে মাঠে নামছে স্বাগতিকেরা। পাকিস্তানের সুযোগ সিরিজ বাঁচানোর।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একাদশে কোনো পরিবর্তন নেই বাংলাদেশের। ছয় ব্যাটারের সঙ্গে দুই স্পিনার ও তিন পেসার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। পাকিস্তানের একাদশে অবশ্য একটি পরিবর্তন আছে। বাদ পড়েছেন লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ। তাঁর জায়গায় একাদশে ফিরেছেন অভিজ্ঞ পেসার হারিস রউফ।
২০১৫ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশ-পাকিস্তান কোনো দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে খলেছে। নিজেদের মাঠে আবারও সফরকারীদের সিরিজ হারানোর দারুণ সুযোগ তাসকিন-মোস্তাফিজদের।
আরও পড়ুন
| ট্রু উইকেটে বল করা চ্যালেঞ্জিং, বললেন মিরাজ |
|
এই সিরিজে ২-১ বা ৩-০ ব্যবধানে জয় পেলে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে নবম স্থানে উঠে আসবে বাংলাদেশ। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জনের দৌড়ে তাদের অবস্থান আরও সমৃদ্ধ হবে।
বাংলাদেশ একাদশ:
তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাস (উইকেটকিপার), আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), রিশাদ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা।
পাকিস্তান একাদশ:
সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, শামিল হুসাইন, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), সালমান আলী আগা, হুসাইন তালাত, আব্দুল সামাদ, ফাহিম আশরাফ, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র ও শাহিন শাহ আফ্রিদি (অধিনায়ক) ও হারিস রউফ।

লন্ডনের পিকাডিলি লাইটসে তখন বিডিং যুদ্ধ। পাঁচ দলের সেই যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জিতেছে লন্ডন স্পিরিট। সাসেক্সের ২১ বছর বয়সী তরুণ অলরাউন্ডার জেমস কোলস হয়তো ভাবতেও পারেননি তাকে নিয়ে এমন কাড়াকাড়ি হবে। কারণ, ২০২৬ দ্য হানড্রেডের নিলামে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন বিশ্বের বাঘা বাঘা সব নাম।
বৃহস্পতিবারের নিলামে কোলসকে নিয়ে বিডিংয়ের শুরুটা করেছিল সানরাইজার্স লিডস। এরপর যোগ দেয় ট্রেন্ট রকেটস। ৭৫ হাজার পাউন্ড ভিত্তিমূল্যের কোলসকে শেষ পর্যন্ত ৩ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে দলে ভেড়ায় লন্ডন স্পিরিট। সাহসী এই সিদ্ধান্তে নিলাম কক্ষেই উপস্থিত অনেকের প্রশংসা পায় দলটি।
কোলস এর আগে সাদার্ন ব্রেভের হয়ে খেলেছেন। তাকে দলে নিতে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস ও বার্মিংহাম ফিনিক্সও আগ্রহ দেখায়। মোট পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে প্রতিযোগিতা হয় তাকে পাওয়ার জন্য। শেষ পর্যন্ত স্পিরিটই তাকে দলে ভেড়ায়। যদিও মনে হচ্ছিল সানরাইজার্স লিডসই হয়তো তাকে কিনে নেবে।
নিলামে কোলসকে চতুর্থ সর্বোচ্চ দামে কেনা হয়েছে। তার আগে ইংল্যান্ডের জোফরা আর্চার ৪ লাখ পাউন্ডে সাদার্ন ব্রেভে, ফিল সল্ট ৪ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডে ওয়েলশ ফায়ারে এবং হ্যারি ব্রুক ৪ লাখ ৬৫ হাজার পাউন্ডে সানরাইজার্স লিডসে যোগ দেন। এই তিনজনকে অবশ্য নিলামের আগেই দলে নেয় তাদের ক্লাবগুলো।
প্রশ্ন উঠেছে—কেন কোলসকে নিয়ে এত আগ্রহ? আর কেনই বা তার দাম পড়েছে ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ক্রিকেটার জো রুটের চেয়েও প্রায় দেড় লাখ পাউন্ড বেশি?
সাসেক্সের হয়ে মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় কোলসের। ২০২০ সালে তিনি ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী অভিষিক্ত ক্রিকেটার হন।
২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলের সদস্য ছিলেন তিনি। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া সফর করা ইংল্যান্ড ‘লায়ন্স’ দলেও জায়গা পান।
লন্ডন স্পিরিটে তিনি কাজ করবেন ইংল্যান্ডের সাবেক কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের অধীনে। গত অক্টোবরে ট্রেন্ট রকেটস ছেড়ে স্পিরিটের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন ফ্লাওয়ার।
কোলসকে দলে নেওয়ার বিষয়ে ফ্লাওয়ার বলেন, তিনি আগে থেকেই এই ক্রিকেটারকে চেনেন। তার ভাই গ্রান্ট ফ্লাওয়ার সাসেক্সে ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করেন এবং সেখানেই কোলসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতাতেও কোলসের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে তার।
ফ্লাওয়ারের মতে, কোলস একজন অলরাউন্ডার। নিলামে এমন ক্রিকেটারদের দাম সাধারণত বেশি হয়। সব ধরনের ক্রিকেটেই এখন ভালো করছেন তিনি।

শুরুর দিকে নাহিদ রানার তোপ। এরপর ঘূর্ণি বিষ নিয়ে হাজির মেহেদী হাসান মিরাজ। তাতেই তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে শিরদাঁড়া টান করে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮ উইকেটে হেরে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ ওয়ানডে সিরিজ শুরু অতিথিদের।
শাহিন আফ্রিদিদের বিপক্ষে পেসার নাহিদ রানার ফাইফারের ছায়ায় কিছুটা আড়াল হয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের কৃতিত্ব। তবে অতিথিদের ১২৪ রানে আটকে ফেলতে কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না তার ৩ উইকেট। বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন জানালেন, নিজেকে ফিরে পেতে বেশ কয়েকদিন ধরেই জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
শুক্রবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে দ্বিতীয় ও সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে নামবে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগের দিন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় নিজের বোলিং নিয়ে তিনি কথা বললেন।
আরও পড়ুন
| মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে পটারের সঙ্গে চুক্তি বাড়াল সুইডেন |
|
মিরাজ বলেন, ‘বেশ কয়েকদিন ধরেই বোলিং নিয়ে কাজ করছি আমি। মাঝখানে বোলিং নিয়ে স্ট্রাগল করছিলাম। কোথায় আমার উন্নতি করতে হবে সেটা আমি খুব ভালো করেই জানি। সেটা নিয়ে আমি কাজ করেছি। বিসিএলে দুটো ম্যাচ খেলেছি, সেখানেও কাজ করার চেষ্টা করেছি।’
খানিক বিলম্ব হলেও নিজেকে ফিরে পেয়ে খুশি মিরাজ। প্রথম ম্যাচে নিজের বোলিং পারফরম্যান্সের ওপর সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন তিনি, ‘আলহামদুলিল্লাহ কাল আমার বোলিংয়ের অনেক বেশি কন্ট্রোল ছিল এবং লাইন-লেন্থ অনেক ভালো জায়গায় ছিল। উইকেট অনেক ভালো ছিল। এই উইকেটে লাইন-লেন্থ মেইনটেইন করে যদি বল করতে না পারতাম, রান হয়ে যেত, উইকেটও বের করতে পারতাম না।’
সিরিজের আগে ট্রু উইকেটে কথা বলেছিলেন মেহেদী। দ্বিতীয় ম্যাচের আগেই সেই ট্রু উইকেট নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। জানিয়েছেন, ট্রু উইকেট স্পিনারদের জন্য একটু কঠিনই।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু ট্রু উইকেটে খেলছি, স্পিনারের জন্য ট্রু উইকেটে বল করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। যদি ভালো জায়গায় বল করতে পারি, লাইন লেন্থ ঠিক রাখতে পারি, আমার কাছে মনে হয় সফল হওয়ার সুযোগ বেশি থাকবে।’