
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য শুক্রবার দল ঘোষণা করেছে তিউনিসিয়া। ২৬ সদস্যের দলে বড় চমক হিসেবে বাদ পড়েছেন অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ফেরজানি সাসি। তাঁর জায়গায় বিশ্বকাপে দায়িত্ব সামলাবেন এলিস শিখিরি।
৩৪ বছর বয়সী ফেরজানি তিউনিসিয়ার ফুটবল ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচ (১০১টি) খেলা ফুটবলার। সবশেষ ৩১ মার্চ প্রীতি ম্যাচে কানাডার বিপক্ষেও ছিলেন দলটির অধিনায়ক।
২০১৩ সালে কার্থেজ ঈগলসদের জার্সিতে অভিষেক করে এখন পর্যন্ত ৯ গোল করেছেন ফেরজানি। তিউনিসিয়ার হয়ে এর আগে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে খেলেছেন এই মিডফিল্ডার।
আরও পড়ুন
| লিভারপুলকে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে অ্যাস্টন ভিলা |
|
২০২৫ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) শেষ ১৬ থেকে তিউনিসিয়া বিদায় নেওয়ার পর সামি ট্রাবেলসিকে বরখাস্ত করা হয়। জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া সাব্রি লামুশি মার্চে হাইতি ও কানাডার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে পুরো স্কোয়াড ঢেলে সাজানোর আভাস দেন।
তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপ দলে সেই বড় পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা গেল। আফকনের দল থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে আরও রয়েছেন অভিজ্ঞ নাবিল ম্যালুল, ইয়াসিন মেরিয়াহ এবং নাইম স্লিটি। এর মধ্যে স্লিটি গত মার্চেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন।
দলে জায়গা করে নিয়ে চমক দিয়েছেন ইউনিয়ন বার্লিনের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার রানি খেদিরা। জার্মান ফুটবলের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ৩২ বছর বয়সী এই তারকা গত মার্চে তিউনিসিয়ার হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন।
খেদিরার পাশাপাশি স্কোয়াডে এসেছেন খলিল আয়ানি, রায়েদ চিকাউই, রায়ান এলৌমি ও ওমর রেকিকের মতো তরুণরা। চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন নরউইচ সিটির মিডফিল্ডার আনিস বেন স্লিমানে।
অভিজ্ঞদের বাদ দিলেও ইউরোপীয় ফুটবলে খেলা একঝাঁক চেনা মুখের ওপর আস্থা রাখছেন কোচ। বার্নলির হয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ২৫ ম্যাচ খেলা হানিবাল মেজবরি আছেন মাঝমাঠের দায়িত্বে। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ফ্রাঙ্কফুর্টের হয়ে বুন্দেসলিগা মাতানো এলিস শিখিরি।
কোপেনহেগেনের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলা উইঙ্গার এলিয়াস আশুরি থাকছেন তিউনিসিয়ার আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে। রক্ষণ সামলাবেন ফরাসি ক্লাব নিসের ফুল-ব্যাক আলি আবদি।
১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এফ’ এ তিউনিসিয়া। উত্তর আফ্রিকার দেশটির গ্রুপ পর্বের প্রতিপক্ষ জাপান, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেন। ১৪ জুন সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে তিউনিসিয়া। এরপর ২১ জুন জাপান এবং ২৫ জুন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মাঠে নামবে তাঁরা।
তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোালকিপার: সাব্রি বেন হাসান, আবদেলমুহিব চামখ, আয়মেন দাহমেনে।
রক্ষণভাগ: আলি আবদি, মোহাম্মদ আমিন বেন হামিদা, আদেম আরৌস, ডিলান ব্রন, রায়েদ চিকাউই, মোতায নেফতি, ওমর রেকিক, মন্তাসার তালবি, ইয়ান ভ্যালেরি।
মিডফিল্ডার: মোর্তাধা বেন ওয়ানেস, আনিস বেন স্লিমানে, ইসমাইল ঘারবি, রানি খেদিরা, হাদজ মাহমুদ, হানিবাল মেজবরি, এলিস শিখিরি।
ফরোয়ার্ড: এলিয়াস আশুরি, খলিল আয়ানি, ফিরাস চাউয়াত, রায়ান এলৌমি, হাজেম মাস্তৌরি, এলিয়াস সাদ, সেবাস্টিয়ান টুনেকতি।
No posts available.
১৬ মে ২০২৬, ৬:০৪ পিএম
১৬ মে ২০২৬, ৪:৪২ পিএম

রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান প্রধান কোচ আলভারো আরবেলোয়া জানিয়েছেন যে হোসে মরিনিয়ো যদি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন এবং আগামী মৌসুমে ক্লাবের দায়িত্ব নেন, তবে তিনি খুশিই হবেন।
বার্নাব্যুতে নিজের প্রথম মেয়াদের ১৩ বছর পর ক্লাবের নতুন বস হওয়ার জন্য মরিনিয়ো এখন চূড়ান্ত আলোচনায় রয়েছেন। ৬৩ বছর বয়সী এই কোচ গত সেপ্টেম্বরে দুই বছরের চুক্তিতে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকার দায়িত্ব নেন। এদিকে রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ তাঁকে পেতে আগ্রহী।
রোববার সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে আরবেলোয়া বলেন,
‘একজন সাবেক মাদ্রিদ খেলোয়াড় এবং একজন মাদ্রিদিস্তা হিসেবে আমার কাছে হোসে মরিনিয়োই এক নম্বর। তিনি আমাদেরই একজন। তিনি যদি আগামী বছর ফিরে আসেন, তবে তাঁকে নিজের ঘরে ফিরে আসতে দেখে আমি খুব খুশি হব।’
জাভি আলোনসোর বিদায়ের পর গত জানুয়ারিতে রিয়ালের দায়িত্ব নেন আরবেলোয়া। কিন্তু ক্লাবটি এ সময় টানা দ্বিতীয় মৌসুমের মতো কোনো বড় ট্রফি ছাড়াই শেষ করেছে।
এদিকে রিয়াল ওভিয়েদোর বিপক্ষে লস ব্লাঙ্কোসদের ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে শুরুর একাদশ থেকে বাদ পড়ার পর কিলিয়ান এমবাপের কাছ থেকেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন আরবেলোয়া।
উরুর চোটের কারণে এমবাপে তাঁর দলের আগের দুটি ম্যাচ মিস করেছিলেন। যার মধ্যে গত সপ্তাহের এল ক্লাসিকোও ছিল। সেই ম্যাচটি জিতে বার্সেলোনা লিগ শিরোপা নিশ্চিত করে। ওভিয়েদোর বিপক্ষে ম্যাচে যখন ফরাসি স্ট্রাইকার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন, তখন নিজের সমর্থকরাই তাঁকে উদ্দেশ্য করে দুয়ো ধ্বনি দেয়।
বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ক্লাবের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন, এমনকি ‘এমবাপে আউট’ দাবির একটি অনলাইন পিটিশনে কোটি কোটি মানুষ স্বাক্ষর করেছে।
তবে শনিবার কোচ এই ঘটনাটিকে তেমন আমলে নেননি। আরবেলোয়া বলেন তাঁর সঙ্গে এমবাপের সম্পর্কও আগের মতোই আছে,
‘মাত্রই তাঁর (এমবাপে) সঙ্গে আমার দেখা হলো, আমি তাঁকে শান্ত থাকতে বলেছি। আমি বুঝি যে এই ধরনের বিষয়গুলো হেডলাইন তৈরি করে, তবে এটি আপনার ভাবনার চেয়েও অনেক বেশি স্বাভাবিক একটি ঘটনা। আমি নিজে একজন খেলোয়াড় ছিলাম। আমি জানি এই পরিস্থিতিতে তারা কেমন অনুভব করতে পারে। আমি বুঝতে পারছি যে বৃহস্পতিবার খেলতে না পেরে কিলিয়ান খুশি ছিল না, এবং আমি এটাই পছন্দ করি। সে যদি খেলতেই না চাইত, তবে আমি সেটা বুঝতাম না। তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক আগের মতোই আছে।’

যেকোনো ফুটবলারের ক্যারিয়ারেরই পরম আরাধ্য স্বপ্ন থাকে ফুটবলের মহাযজ্ঞ বিশ্বকাপে খেলা। আর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ফুটবলারদের জন্য এই স্বপ্নের গভীরতা স্বাভাবিকভাবেই একটু অনেক বেশিই। ব্রাজিল আর বিশ্বকাপ—এক চিরন্তন ও অবিচ্ছেদ্য আবেগের নাম। কিন্তু ফুটবল বিধাতা সবার ভাগ্যে সেই আনন্দ লিখে রাখেন না। বড় কোনো টুর্নামেন্টের ঠিক দ্বারপ্রান্তে এসে চোটের আঘাতে ছিটকে যাওয়ার নির্মম বাস্তবতাও রয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগেও সেই একই ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির সবচেয়ে বড় দুঃশ্চিন্তা তারকা ফুটবলারদের চোট। আগামী সোমবার রিও ডি জেনিরোতে, ইতালিয়ান কোচ ব্রাজিলের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন। আর সেলেসাওদের চূড়ান্ত দল ঘোষাণার আগে অভিজ্ঞ এই কোচের স্মৃতিতে ভেসে আসছে ১৯৮২ বিশ্বকাপে নিজের জীবনের এক চরম ট্র্যাজেডি। সেবার ইতালির বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পেয়েছিলেন আনচেলত্তি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইনজুরির কবলে পড়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ভেস্তে যায় তাঁর। আর সে বছরই ইতালি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
১৯৮১ সালের জানুয়ারিতে মাত্র ২১ বছর বয়সে রোমার হয়ে খেলার সময় প্রথম ইতালি জাতীয় দলে ডাক পান আনচেলত্তি। অল্প সময়ের মধ্যেই ব্রুনো কন্তি, মার্কো তারদেল্লি, কায়েতানো শিরেয়া, জিয়ানকার্লো আন্তোনিওনি এবং ক্লাউডিও জেন্তিলের মতো কিংবদন্তিদের পাশাপাশি ইতালিয়ান মাঝমাঠের নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠেন।
নিজের সেই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির চার দশক পর, ইনজুরি আবারও আনচেলত্তিকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। এlfর মিলিতাও, এস্তেভাও এবং রদ্রিগো—যাঁরা প্রত্যেকেই ব্রাজিলের শুরুর একাদশের সম্ভাব্য খেলোয়াড় ছিলেন, তাঁরা সবাই ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন।
ইনজুরির ভয়াবহতা জানার পরপরই এই ইতালিয়ান কোচ প্রতিটি খেলোয়াড়ের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে সাহস জোগান। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ইউওএল-কে আনচেলত্তি বলেন,
‘চোট একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারেরই অংশ। যখন আপনি এমন একটা নেতিবাচক ও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাবেন, তখন আপনাকে সামনে তাকাতে হবে এবং পরবর্তী সুযোগের কথা ভাবতে হবে। আমি রদ্রিগো এবং মিলিতাওয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের বলেছি যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে উঠতে এবং সেলেসাওদের হয়ে পরবর্তী ম্যাচ ও আগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে ভাবতে।’
১৯৮১ সালের জানুয়ারিতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচ দিয়ে ইতালির জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল আনচেলত্তির। ওই ম্যাচেই তিনি ‘আজ্জুরি’দের হয়ে তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম ও একমাত্র গোলটি করেন। তাঁর পারফরম্যান্স ছিল দারুণ নজরকাড়া। কিন্তু সে বছর আরও পাঁচটি ম্যাচ খেলার পরই ইনজুরিতে পড়েন এবং ১৯৮২ বিশ্বকাপ মিস করেন। বিশ্বজয়ী দলের অংশ হতে না পারলেও, সেই সময়টা নিয়ে মনে কোনো ক্ষোভ পুষে রাখেননি তিনি।
ইতালির হয়ে ২৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা আনচেলোত্তি বলেন,
‘যখন আপনি চোটে পড়বেন, তখন অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাবেন। মানসিকভাবে নিজেকে আরও শক্তিশালী করার এবং আরও পেশাদার হয়ে ওঠার এটাই সময়। আমার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছিল। তখন আমার বয়স ২১ বা ২২ বছর, আর চোটের কারণে আমাকে টানা দুই বছর মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল। ওই সময়টাতে আমি জীবনের অনেক বড় শিক্ষা পেয়েছিলাম।’
চোট কাটিয়ে ওঠার পর আনচেলত্তি তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এর মধ্যে দুটি ছিল খেলোয়াড় হিসেবে (১৯৮৬ ও ১৯৯০) এবং অন্যটি ১৯৯৪ সালে সহকারী কোচ হিসেবে, যেখানে ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে পেনাল্টিতে হেরে রানার্স-আপ হয়েছিল ইতালি। শিরোপা না জিতলেও ফুটবল বিশ্বের এই মহাযজ্ঞ নিয়ে তাঁর মনে জমিয়ে রাখা মধুর স্মৃতির কমতি নেই।
আনচেলত্তি আরও যোগ করেন,
‘যারা ফুটবল নিয়ে কাজ করে, তাদের জীবনে বিশ্বকাপ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সময়টাকে পুরোপুরি উপভোগ করা উচিত। আমি ১৯৮৬ ও ১৯৯০ সালে খেলেছি এবং ১৯৯৪ সালে সহকারী কোচ ছিলাম। এটা একটা দেশের জন্য যেমন বিশেষ মুহূর্ত, তেমনি এখানে চাপ সামলানোর একটা ব্যাপারও থাকে। আমাদের কাজ হলো সেই চাপকে অনুপ্রেরণায় রূপান্তর করা।’

উৎসবমুখর পরিবেশ ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ‘অ্যাক্সেনটেক প্রেজেন্টস এফআইসিসিআই ফুটবল টুর্নামেন্টের’ দ্বিতীয় আসর। গতকাল ঢাকার একটি মাঠে জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয় দেশের করপোরেট জগতের বড় এই স্পোর্টিং ইভেন্ট। ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) ব্যানারে টুর্নামেন্টটি আয়োজন করে ‘নাটমেগ’।
এবারের টুর্নামেন্টে দেশের শীর্ষস্থানীয় ২০টি বহুজাতিক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। সব মিলিয়ে ৫০টি ম্যাচের এই টুর্নামেন্ট করপোরেট অঙ্গনে টিমওয়ার্ক ও স্পোর্টসম্যানশিপের ব্যাপারটিও টের পাওয়া গেছে।
সবার নজর ছিল টুর্নামেন্টের মূল আকর্ষণ ‘কাপ ফাইনালের’ দিকে, যেখানে মুখোমুখি হয় রবি আজিয়াটা পিএলসি এবং ডিএইচএল এক্সপ্রেস বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ে দুই দলই চমৎকার রক্ষণাত্মক কৌশল প্রদর্শন করায় ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। পরবর্তীতে টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচের ভাগ্য। পেনাল্টি শুটআউটে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে ডিএইচএলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে রবি আজিয়াটা পিএলসি। ফাইনালে অনবদ্য অবদানের জন্য রবির শাকিব ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন।
দিনের শুরুতে ‘প্লেট ফাইনাল’ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল শেভরন বাংলাদেশ ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা থাকায় ম্যাচটি ট্রাইবেকারে গড়ায়। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের পক্ষে তূর্য এবং শেভরনের পক্ষে আশিক গোল করেন। শেষ পর্যন্ত নাটকীয় ‘সাডেন-ডেথ’ টাইব্রেকারে শেভরনকে হারিয়ে প্লেট শিরোপা জিতে নেয় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। চমৎকার পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচ সেরা হন তূর্য।
ফাইনাল ম্যাচ শেষে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এফআইসিসিআইয়ের পরিচালক এম এইচ এম ফাইরোজ, নির্বাহী পরিচালক টিআইএম নূরুল কবির, রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ আলম এবং সিঙ্গার বাংলাদেশের মার্কেটিং ডিরেক্টর মো. জুবায়ের উল ইসলামসহ অন্যান্য পার্টনার ও স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বক্তারা জানান, এই আয়োজন কেবল একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, বরং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও পেশাদার সম্পর্ককে আরও জোরদার করার একটি দারুণ মাধ্যম।

ফুটবল ডিসিপ্লিন দিয়ে আজ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ঢাকা অঞ্চলের প্রতিযোগিতা শুরু হলো। অংশ নেয় ঢাকার ৮টি জেলার মোট ১৬টি দল। মোহাম্মদপুরের সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় নারায়ণগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ। ছেলে ও মেয়ে দুই বিভাগেই জয় তুলে নিয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলা। বালক বিভাগে কিশোরগঞ্জ ১-০ গোলে নারায়ণগঞ্জকে পরাজিত করে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে মেয়েদের ফুটবলে কিশোরগঞ্জ ৪-০ গোলে নারায়ণগঞ্জ জেলাকে পরাজিত করে শেষ চার নিশ্চিত করেছে।
শনিবার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে ঢাকা অঞ্চলের প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আজমুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ক্রীড়া পরিদপ্তরের পরিচালক মাহবুবুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য সচিব সুমন কুমার মিত্র এবং ঢাকা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তাসহ অন্যরা।
দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের জন্য উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম গড়ে দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান অতিথিরা। টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য সচিব সুমন কুমার মিত্র অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে জানিয়েছেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ঢাকা অঞ্চল পর্যায়ে ৮ টি ইভেন্টে ৮ টি জেলার ১৩৬০ জন প্রতিযোগী, প্রশিক্ষক কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করছেন। ফুটবলের পাশাপাশি বাকি ডিসিপ্লিনগুলো হবে বিভিন্ন ভেন্যুতে।
দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের জন্য উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম গড়ে দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান অতিথিরা। টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য সচিব সুমন কুমার মিত্র অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে জানান নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ঢাকা অঞ্চল পর্যায়ে ৮ টি ইভেন্টে ৮ টি জেলার ১৩৬০ জন প্রতিযোগী, প্রশিক্ষক কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করছেন। ফুটবলের পাশাপাশি বাকি ডিসিপ্লিনগুলো অনুষ্ঠিত হবে বিভিন্ন ভেন্যুতে।
আরও পড়ুন
| ক্যাস্ট্রোপের ইতিহাস, রেকর্ড বুকে নাম লেখানোর অপেক্ষায় সন |
|
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ স্লোগানকে ধারণ করে সারা দেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে ২ মে থেকে হচ্ছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রতিযোগিতা। সিলেটে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে শুরু হয় প্রতিযোগিতা।
জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে বাছাইকৃতদের নিয়ে হচ্ছে দেশের ১০টি অঞ্চলের প্রতিযোগিতা। তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও ঢাকা জেলা ক্রীড়া অফিসের আয়োজনে শনিবার থেকে শুরু হলো ঢাকা অঞ্চলের প্রতিযোগিতা।
আগামী ২০ মে ২০২৬ তারিখ বিকাল ৪ টায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ঢাকা অঞ্চলের সমাপনী ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠিত হবে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বাকি মাত্র ২৬ দিন। টুর্নামেন্টের মূল পর্বে কোয়ালিফাই করলেও ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। গ্রুপপর্বে তাদের ম্যাচগুলোর নিরাপত্তা ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান করতে আজ ফিফার সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসছে ইরান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তুরস্কের ইস্তানবুলে হতে যাওয়া সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন ফিফার সাধারণ সম্পাদক মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম ও ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) নীতি-নির্ধারকরা।
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হবে এবারের বিশ্বকাপ। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরানের তিনটি গ্রুপ ম্যাচই হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রে। তবে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক বাহিনী ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর থেকেই দলটির বিশ্বকাপ ভাগ্য নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
আরও পড়ুন
| ক্যাস্ট্রোপের ইতিহাস, রেকর্ড বুকে নাম লেখানোর অপেক্ষায় সন |
|
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় গত মাসের শেষদিকে। কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে গিয়ে দেশটির ইমিগ্রেশনের মারপ্যাঁচে পড়েন ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ।
ইরানের এলিট সামরিক শাখা ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-এর সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মেহেদি তাজকে কানাডায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। যার জন্য ফিফা কংগ্রেসে অংশ না নিয়েই দেশে ফিরে যায় ইরানের প্রতিনিধিদল। আইআরজিসির সঙ্গে সম্পর্ক থাকা কোনো ব্যক্তিকে ভিসা না দেওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা।
বিষয়টির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি। চলতি সপ্তাহে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সব যোগ্য দলের নির্বিঘ্ন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা সম্পূর্ণ ফিফার দায়িত্ব।
গরিবাবাদি লিখেছেন, ‘ইরান জাতীয় ফুটবল দল মাঠে লড়াই করে, সম্পূর্ণ ফিফার নিয়ম মেনেই বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এখন যদি রাজনৈতিক অজুহাতে আমাদের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ বা ফুটবল কর্মকর্তাদের পথ রুদ্ধ করা হয়, তবে তা বিশ্বকাপের মূল চেতনার ওপর বড় আঘাত হবে।‘
আরও পড়ুন
| অধিনায়ককে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ দল ঘোষণা তিউনিসিয়ার |
|
নিষেধজ্ঞা ও ভিসা জটিলতার কারণে ইরান তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করলেও ফিফা তাতে সায় দেয়নি। কংগ্রেসে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আবারও জোর দিয়ে বলেন, ‘পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরান যুক্তরাষ্ট্রেই খেলবে।‘
অনিশ্চয়তা থাকলেও মাঠের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ইরান দল। সোমবারই তেহরান ছেড়ে তুরস্কে কন্ডিশনিং ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে উড়াল দেবে তারা।
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ 'জি'-তে রয়েছে ইরান। ১৫ ও ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়াম। এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে তারা।