
প্রত্যাবর্তন ম্যাচে তাসকিন আহমেদ ও তানজিম হাসান সাকিবের তোপে শ্রীলঙ্কাকে ২৪৪ রানে অল আউট করেও লাভ হয়নি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ ৪ ম্যাচের তিনটিতে জয়ের নিকট অতীত আছে বলেই ছিল ভরসা। প্রিয় ফরম্যাটে হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজেছে বাংলাদেশ দল। তবে ওয়ানডেতে সর্বশেষ ৬ ম্যাচের সব ক'টিতে হেরে অনেক প্রশ্নের মুখে পড়া বাংলাদেশ দল শ্রীলঙ্কা সফরের শুরু করেছে হার দিয়ে।
হাসারাঙ্গার গুগলিতে (৭.৫-২-১০-৪) ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৭৭ রানে হেরে বড় লজ্জা পেতে হয়েছে। মিরাজের নেতৃত্বে নতুন শুরু হয়েছে ম্লান। ২৪৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৬১/১ স্কোরে হারের বৃত্ত ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল বাংলাদেশের। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে নাজমুল হোসেন শান্ত-তানজিদ হাসান তামিম ৭১ বলে ৭১ রান যোগ করে বড় জয়ের আবহ তৈরি করেছিলেন।
স্ট্রাইক রেটে মনযোগী এই জুটির ব্যাটিং দেখে কপালে হাত উঠেছিল শ্রীলঙ্কার ড্রেসিংরুম এবং ডাগ আউটে। তবে এমন একটা পরিস্থিতি থেকে শান্ত'র রান আউটে কাটা পড়াটা অশুভ লক্ষণ হয়েছে।দুই স্পিনার হাসারাঙ্গা-কামিন্দু মেন্ডিজের ছোবলে স্কোরশিটের চেহারা হয়ে গেছে ১০১/২ থেকে ১০৫/৮! প্রেমাদাসায় এক দমকা হাওয়ায় মাত্র ৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বড় হারের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ থেমেছে ১৬৭/১০-এ। লেট অর্ডারে জাকের আলী অনিকের ফিফটি (৪ চার, ৪ ছক্কায় ৫১) শুধু সান্ত্বনার উপলক্ষ্য হয়েছে।
আরও পড়ুন
| দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রধান কোচ সিমন্সকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ |
|
অথচ আগে ফিল্ডিংয়ে নেমে শ্রীলঙ্কাকে শুরুতে ভালই চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ। ৪ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে নিজেকে ভালোই উপস্থাপন করেন তাসকিন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৬ষ্ঠ এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয়বারের মতো ৪ উইকেট শিকারে (১০-২-৪৭-৪) দিয়েছেন তাসকিন স্বাগতিক দলকে ঝাঁকুনি।
তার পেস বোলিং পার্টনার তানজিম হাসান সাকিবও দেন যোগ্য সমর্থন (৯.২-০-৪৬-৩)। এই পেস জুটির বোলিংয়ে ২৪৪/১০-এ থামে শ্রীলঙ্কার ইনিংস। বাংলাদেশ পেসারদের বিপক্ষে একাই লড়ে যাওয়া আসালাঙ্কার সেঞ্চুরিতে (১২৩ বলে ৬ চার, ৪ ছক্কায় ১০৬) চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা।
তাসকিন আহমেদ-তানজিম হাসান সাকিবের দারুণ ওপেনিং স্পেলে স্কোরশিটে প্রথম রানের মুখ দেখতে অপেক্ষা করতে হয়েছে শ্রীলঙ্কাকে ১১টি বল। ৫ ওভার শেষে স্কোর ১৫/২। সেখান থেকে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৩ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার স্কোর হয় ৫০/৩।
স্কোরশিটে ২৯ উঠতে ৩ উইকেট ফেলে দিয়ে শ্রীলঙ্কার উপরে চাপ অব্যাহত রাখতে পারেনি বাংলাদেশ বোলাররা। চতুর্থ উইকেট জুটিতে আসালাঙ্কা-কুশল মেন্ডিস ৭৭ বলে ৬০, পঞ্চম উইকেট জুটিতে আসালাঙ্কা-লিয়াঙ্গে ৭৬ বলে ৬৪ যোগ করলে চ্যালেঞ্জিং পুঁজির আবহ পায় শ্রীলঙ্কা। কুশল মেন্ডিসকে ফিরিয়ে দিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অভিষেকে উইকেট পান বাঁহাতি স্পিনার তানভির।
অকেশনাল বোলার শান্ত দিয়েছেন আর একটি ব্রেক থ্রু। ইতোপূর্বে ওডিআই ক্যারিয়ারে একটি উইকেটের মালিক ছিলেন শান্ত। আর এবার প্রেমাদাসায় লিয়াঙ্গেকে (৪০ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ২৯) ডাউন দ্য উইকেটে খেলার টোপ ফেলে লং অনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন শান্ত।
ইনিংসের শেষ ১০ ওভারে সেভাবে রান বাড়াতে দেননি তাসকিন-তানজিমরা। পায়ের পেশীতে টান পড়ে মোস্তাফিজকে বাইরে রেখে বোলিং করাটা যখন শঙ্কায় ফেলে দেয়ার কথা, তখন অন্যদের ভালো বোলিংয়ে শেষ ৪ উইকেট হারানোর বিপরীতে শ্রীলঙ্কা যোগ করতে পেরেছে মাত্র ৫১ রান।
ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে সেঞ্চুরিয়ান আসালাঙ্কাকে (১২৩ বলে ৬ চার, ৪ ছক্কায় ১০৬) মিড উইকেটের উপর দিয়ে খেলতে প্রলুব্ধ করে করে তাকে শিকার বানান তানজিম। ২০২৩ বিশ্বকাপে দিল্লীতে উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচে আসালাঙ্কা করেছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি (১০৮)।
আসালাঙ্কার এই সেঞ্চুরিই শেষ পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে তৈরি করেছে ব্যবধান। কঠিন সময়ে এক প্রান্ত আগলে রেখে কীভাবে দৃঢ় প্রত্যয়ে ব্যাট করতে হয়, আসালাঙ্কাকে দেখে তা শেখেনি বাংলাদেশ ব্যাটারদের কেউ। ইনিংসের ৫ম ওভারে আসিথা ফার্নান্ডোর শর্ট বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আনলাকি থারটিনে থেমেছেন ওয়ানডে অভিষিক্ত পারভেজ হোসেন ইমন (১৬ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ১৩)।
৭১ বলে ৭১ রানের পার্টনারশিপে তানজিদ হাসান তামিমকে দারুণ সঙ্গ দেয়া শান্ত করেছেন মারাত্মক অপরাধ। রান আউট নামক বিপদ নিজেই ডেকে এনেছেন (২৬ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২৩)।
আরও পড়ুন
| নাটকীয় ব্যাটিং ধসে বিশাল হার বাংলাদেশের |
|
১৬.৩ ওভারে ওই আউটটাই অলুক্ষুনে ছিল। সেই থেকে মাত্র ২৬ বলে নেই ৭ উইকেট! লেগ স্পিনার হাসারাঙ্কার দ্বিতীয় বলটি ছিল গুগলি, তা আন্দাজ করতে না পেরে আউট হন লিটন (৪ বলে ০)। ওই ওভারের ৫ম ডেলিভারিতে মিড অফে তানজিদ হাসান তামিম লিয়াঙ্গের দারুণ ফ্লাইং ক্যাচে পরিণত (৬১ বলে ৯ চার, ১ ছক্কায় ৬২)।
কামিন্দু মেন্ডিসের পরের ওভারের তৃতীয় বলে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে বোল্ড হৃদয়। হাসারাঙ্গার পরের ওভারে গুগলিতে মিরাজও ফেরেন সাজঘরে। ক্যাপ্টেনসির নতুন অধ্যায়ে উইকেটহীন কাটিয়ে ব্যাটিংয়েও ব্যর্থ মিরাজ। কামিন্দু মেন্ডিসের পরের ওভারের ২য় বলে তানজিম হাসান সাকিব (৬ বলে ১) শর্ট মিড উইকেটে খিকসানার ডাইভিং ক্যাচে পরিনত। ওই ওভারের ৫ম বলে তাসকিন রং লাইনে ডিফেন্স করতে যেয়ে আউট হয়ে যান (৩ বলে ০)।
প্রথম স্পেলে গুগলি ভেল্কিতে বাংলাদেশ ব্যাটারদের নিয়ে ছেলেখেলা উৎসবে মেতে ওঠা লেগ স্পিনার হাসারাঙ্গা দ্বিতীয় স্পেলেও দারুণ বোলিং করেন। সেটা সামলে ফিফটি করে হারের ব্যবধান কমানোর লড়াই করা জাকের আলী অনিককেও পর্যুদস্ত করেছেন হাসারাঙ্গা গুগলিতে। আর সেই উইকেটটিও যথারীতি এলবিডব্লিউ থেকে।
No posts available.
১২ মার্চ ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
১২ মার্চ ২০২৬, ৫:২৪ পিএম

বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ইংল্যান্ডের একশ বলের ক্রিকেট ‘দ্য হান্ড্রেড’ নিলামে দল পেলেন মোস্তাফিজুর রহমান। টুর্নামেন্টের সামনের সংস্করণে বার্মিংহাম ফিনিক্সের জার্সিতে দেখা যাবে বাংলাদেশের কাটার মাস্টারকে।
লন্ডনে বৃহস্পতিবার বিকেলে শুরু হওয়া নিলামের শেষ দিকে গিয়ে দল পান মোস্তাফিজ। তাকে ভিত্তিমূল্য ১ লাখ পাউন্ডেই কিনে নিয়েছে ফিনিক্স। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বেশি।
মোস্তাফিজের আগে নিলামে নাম উঠেছিল বাংলাদেশের তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের। তবে তার প্রতি আগ্রহ দেখায়নি কোনো দল। তাই হান্ড্রেডে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে থাকবেন মোস্তাফিজই।
একশ বলের এই টুর্নামেন্টে প্রধান কোচ হিসেবে নিউ জিল্যান্ড দলের সাবেক গতি তারকা শেন বন্ডকে পাবেন মোস্তাফিজ। এই দলটিতে নিলামের আগেই সরাসরি চুক্তিতে জায়গা পেয়েছেন জ্যাকব বেথেল, রেহান আহমেদ, মিচেল ওয়েন ও ডনোভান ফেরেইরা।
দ্য হান্ড্রেডের আগে চলতি বছরের আইপিএল ও পিএসএলেও দল পেয়েছিলেন মোস্তাফিজ। তবে নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে মোস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। তাই এখন পিএসএলে দেখা যাবে তাকে।
আগামী ২১ জুলাই শুরু হবে দ্য হান্ড্রেডের নতুন সংস্করণ। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা বিবেচনায় ইংল্যান্ডের এই টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়ার অনুমতি পেতে পারেন অভিজ্ঞ পেসার।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কায় এক নারীর সঙ্গে অসাদাচরণের অভিযোগ ওঠে সালমান মির্জার বিরুদ্ধে। তবে পাকিস্তানি এই পেসার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে প্রচারিত ওই প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা ও মানহানিকর’ বলে অভিযোগ করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সালমান মির্জার আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ নাকি টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করেছিল। এছাড়া সেখানে আরও দাবি করা হয়, আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তাকে জরিমানাও করেছিল। তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন মির্জা এবং এ কারণেই সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।
সালমান মির্জার পাঠানো আইনি নোটিশে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, পিসিবি তাদের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশ্যে এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে এবং প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যকে বিদ্বেষপূর্ণ, মনগড়া ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, মির্জার ওপর কোনো জরিমানাও আরোপ করা হয়নি। যাচাই-বাছাই ছাড়াই খবরটি প্রকাশ করায় মির্জা, পিসিবি এবং পুরো পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এছাড়া ওই প্রতিবেদনে বাঁহাতি এই পেসারকে অসম্মানজনক ও অপেশাদার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে, যা জনসাধারণ ও ক্রিকেট মহলের চোখে তার মর্যাদা কমিয়ে দিয়েছে।
নোটিশে আরও দাবি করা হয়, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ও প্রতিবেদক তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। যথাযথ যাচাই ছাড়া বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্যে তথ্য প্রকাশ করে তারা পেশাদার সাংবাদিকতার নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন।
১৭টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করা মির্জা নিজের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম রক্ষার জন্য আইনি প্রতিকার চাইছেন।
সালমান মির্জা দৃঢ়ভাবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন এবং প্রকাশ্যে প্রতিবেদনটির সমালোচনা করেছেন। পাকিস্তানি ফাস্ট বোলারের ভাষায় এটি দায়িত্বহীন কাজ যে যাচাই না করা তথ্য প্রচার করা। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন,
‘মিডিয়ায় একটি অবাস্তব খবর প্রচারিত হচ্ছে এবং আমি এই ধরনের সস্তা সাংবাদিকতা দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানাচ্ছি। কোনো মিডিয়া হাউস যাচাই না করা কোনো খবর সম্প্রচার করতে পারবে না।’
পিসিবিও অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে এবং খেলোয়াড়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। বোর্ড সাংবাদিকের কাছ থেকে একটি প্রকাশ্য ক্ষমা দাবি করেছে এবং সতর্ক করেছে যে, বিষয়টি সমাধান না হলে তারা ব্যবস্থা নেবে।

বিবিসি স্পোর্টসের সংবাদে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল বৈকি। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ব্রডকাস্টিং প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্য হানড্রেডে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে টুর্নামেন্টে আইপিএল সংশ্লিষ্ট ফ্রাঞ্চাইজিগুলো।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের রাজধানী পিকিডিলি লাইটে বাংলাদেশ সময় বিকাল চারটা থেকে শুরু হওয়া নিলামে এখন পর্যন্ত আইপিএল সংশ্লিষ্ট চার ফ্রাঞ্চাইজির কোনোটি থেকে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের নাম ডাকা হয়নি। দেশটি থেকে কেবল উসমান তারিক ও আবরার আহমেদের প্রতি আগ্রহ দেখানো হয়েছে।
এক লাখ পাউন্ডের ভিত্তিমূল্যে থাকা উসমান বিক্রি হন ১ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ডে। তাকে কিনেছে বার্মিংহ্যাম ফিনিক্স। আর আবরার ডাক পেয়েছেন সানরাইজার্স লিডসে। তাকে ১ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে কেনা হয়েছে। সানরাইজার্স অবশ্য আইপিএল সংশ্লিষ্ট দল।
এর আগে নাম উঠেছিল হারিস রউফ ও শাদাব খানদের নাম। তাদের প্রতি আগ্রহ দেখায়নি কেউ। আর নিলাম শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নাম প্রত্যাহার করে নেন শাহীন শাহ আফ্রিদি।
গত দুই বছরে ৪৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৭৮ উইকেট নিয়েছেন উসমান। গড়ে ১৬ রান প্রতি উইকেট এবং প্রতি বল ১.১৫ রান দেন তিনি। তার অনন্য বোলিং অ্যাকশন নতুন বা আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলা ব্যাটসম্যানদের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারেন।

ইংল্যান্ডের ‘দ্য হান্ড্রেড’ টুর্নামেন্টের নিলামের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন বাংলাদেশের
২৩ ক্রিকেটার। ফাইনাল তালিকায় অর্ন্তভুক্ত হয়েছিলেন কেবল মোস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ
হোসেন। বৈশ্বিক নামি-দামি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট খেলা বাংলাদেশের এই দুই ক্রিকেটারকে নিয়ে
বেশ আগ্রহ ছিল সমর্থকদের। তবে নিলামে বাংলাদেশের লেগ স্পিনারকে কিনতে আগ্রহ প্রকাশ
করেনি কোনো দল।
যুক্তরাজ্যের রাজধানী পিকিডিলি
লাইটে বাংলাদেশ সময় বিকাল চারটা থেকে শুরু হয় দ্য হানড্রেডের নিলাম। যেখানে স্পিনারদের
ক্যাটাগরিতে ওঠে রিশাদের নাম। কিন্তু তাকে কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি কোনো দল। শেষ পর্যন্ত
অবিক্রিতই থেকে যান রিশাদ।
দ্য হান্ড্রেডের নিলামের
রিশাদের ভিত্তিমূল্য ধরা হয় ৭৫ হাজার পাউন্ড। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় এক কোটি ১২
লাখ ৫০ টাকা।
রিশাদের সঙ্গে স্পিনার ক্যাটাগরিতে নাম ওঠে জাফের চৌহান, উসমান তারিক এবং আকিল হোসেনের। এখন পর্যন্ত হানড্রেডে সর্বোচ্চ অর্থে বিক্রি হয়েছেন ২১ বছর বয়সী জেমস কোলেস। তিন লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে থাকা দলে ভেড়ায় লন্ডন স্পিরিট।

২০১৫ সালের পর দ্বিতীয়বার বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮ উইকেটে হারল পাকিস্তান। বুধবার মিরপুরে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে শাহিন আফ্রিদিদের এই হার নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছে। দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররা শূল্যে চড়াচ্ছেন নির্বাচক, কোচ এবং টিম ম্যানেজমেন্টকে। যার সর্বশেষ সংযোজন বাসিত আলি।
সাবেক এই ক্রিকেটার এতটাই ক্ষেপেছেন যে, রীতিমতো পাকিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্টকে গুলি করা উচিত বলে মনে করছেন। তিনি বলেন,
“প্রথমেই গুলি করা উচিত সেই মানুষটিকে, যে ব্যাটসম্যানদের বলেছিল প্রথম দশ ওভারে অন্তত ৬০ রান করতে। মনে হয় সে কখনো মাঠে ক্রিকেট খেলেনি, শুধু কাগজে পরিকল্পনা লিখে দেয়। এখানকার পরিস্থিতি কি সে দেখেনি? বাংলাদেশে যে বড় বড় দলও হেরে যায়, সেটাও কি জানত না?”
পাকিস্তানের সাবেক উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান কামরান আকমলের কাছে শাহিন আফ্রিদিদের দলকে ক্লাবের দল মনে হয়েছে। তিনি বলেন,
“মনে হচ্ছিল এক দল আন্তর্জাতিক মানের আর অন্য দলটা যেন বিশ্বকাপের আগে অনুশীলন করতে নামা কোনো ক্লাব দল। আমি বাসিত আলিকে ফোন করেছিলাম, কিন্তু কী বলব বুঝতে পারছিলাম না।”
সমালোচনা সেখানেই থামাননি তিনি। তার ভাষায়,
“আল্লাহর কসম, এমন ব্যাটিং ক্লাব ক্রিকেটেও দেখা যায় না। ক্লাবের ক্রিকেটাররাও এত খারাপ ব্যাটিং করে না।”
বাসিত আলি মনে করেন, এই ম্যাচে পাকিস্তান ক্রিকেটের বড় একটি সমস্যা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন,
“তরুণদের সময় দিতে হবে—এই বিতর্ক এখন শেষ করা উচিত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যে নতুন খেলোয়াড় আসে, সে প্রস্তুত হয়েই আসে এবং প্রভাব ফেলে। আমাদের ক্রিকেটারদের বুঝতে হবে, এটি কোনো স্থানীয় ক্লাবের মাঠ নয়, আন্তর্জাতিক মানের বড় ভেন্যু।”
সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে চারজন নতুন ক্রিকেটারকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দুজনই। বাসিত আলির মতে,
“নতুন খেলোয়াড় এক বা দু’জন করে আনা উচিত, একসঙ্গে চারজনকে নামানো ঠিক নয়।”
আকমল মনে করেন, পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে চতুর্থ অবস্থান খুব একটা গুরুত্ব বহন করে না। তিনি বলেন,
“ঘরের মাঠে দুর্বল দলের বিপক্ষে জিতে পয়েন্ট বাড়ানো যায়, কিন্তু বিদেশে গেলে বাস্তবতা দেখা যায়।”