প্রত্যাবর্তন ম্যাচে তাসকিন আহমেদ ও তানজিম হাসান সাকিবের তোপে শ্রীলঙ্কাকে ২৪৪ রানে অল আউট করেও লাভ হয়নি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ ৪ ম্যাচের তিনটিতে জয়ের নিকট অতীত আছে বলেই ছিল ভরসা। প্রিয় ফরম্যাটে হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজেছে বাংলাদেশ দল। তবে ওয়ানডেতে সর্বশেষ ৬ ম্যাচের সব ক'টিতে হেরে অনেক প্রশ্নের মুখে পড়া বাংলাদেশ দল শ্রীলঙ্কা সফরের শুরু করেছে হার দিয়ে।
হাসারাঙ্গার গুগলিতে (৭.৫-২-১০-৪) ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৭৭ রানে হেরে বড় লজ্জা পেতে হয়েছে। মিরাজের নেতৃত্বে নতুন শুরু হয়েছে ম্লান। ২৪৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৬১/১ স্কোরে হারের বৃত্ত ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল বাংলাদেশের। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে নাজমুল হোসেন শান্ত-তানজিদ হাসান তামিম ৭১ বলে ৭১ রান যোগ করে বড় জয়ের আবহ তৈরি করেছিলেন।
স্ট্রাইক রেটে মনযোগী এই জুটির ব্যাটিং দেখে কপালে হাত উঠেছিল শ্রীলঙ্কার ড্রেসিংরুম এবং ডাগ আউটে। তবে এমন একটা পরিস্থিতি থেকে শান্ত'র রান আউটে কাটা পড়াটা অশুভ লক্ষণ হয়েছে।দুই স্পিনার হাসারাঙ্গা-কামিন্দু মেন্ডিজের ছোবলে স্কোরশিটের চেহারা হয়ে গেছে ১০১/২ থেকে ১০৫/৮! প্রেমাদাসায় এক দমকা হাওয়ায় মাত্র ৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বড় হারের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ থেমেছে ১৬৭/১০-এ। লেট অর্ডারে জাকের আলী অনিকের ফিফটি (৪ চার, ৪ ছক্কায় ৫১) শুধু সান্ত্বনার উপলক্ষ্য হয়েছে।
আরও পড়ুন
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রধান কোচ সিমন্সকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ |
![]() |
অথচ আগে ফিল্ডিংয়ে নেমে শ্রীলঙ্কাকে শুরুতে ভালই চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ। ৪ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে নিজেকে ভালোই উপস্থাপন করেন তাসকিন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৬ষ্ঠ এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয়বারের মতো ৪ উইকেট শিকারে (১০-২-৪৭-৪) দিয়েছেন তাসকিন স্বাগতিক দলকে ঝাঁকুনি।
তার পেস বোলিং পার্টনার তানজিম হাসান সাকিবও দেন যোগ্য সমর্থন (৯.২-০-৪৬-৩)। এই পেস জুটির বোলিংয়ে ২৪৪/১০-এ থামে শ্রীলঙ্কার ইনিংস। বাংলাদেশ পেসারদের বিপক্ষে একাই লড়ে যাওয়া আসালাঙ্কার সেঞ্চুরিতে (১২৩ বলে ৬ চার, ৪ ছক্কায় ১০৬) চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা।
তাসকিন আহমেদ-তানজিম হাসান সাকিবের দারুণ ওপেনিং স্পেলে স্কোরশিটে প্রথম রানের মুখ দেখতে অপেক্ষা করতে হয়েছে শ্রীলঙ্কাকে ১১টি বল। ৫ ওভার শেষে স্কোর ১৫/২। সেখান থেকে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৩ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার স্কোর হয় ৫০/৩।
স্কোরশিটে ২৯ উঠতে ৩ উইকেট ফেলে দিয়ে শ্রীলঙ্কার উপরে চাপ অব্যাহত রাখতে পারেনি বাংলাদেশ বোলাররা। চতুর্থ উইকেট জুটিতে আসালাঙ্কা-কুশল মেন্ডিস ৭৭ বলে ৬০, পঞ্চম উইকেট জুটিতে আসালাঙ্কা-লিয়াঙ্গে ৭৬ বলে ৬৪ যোগ করলে চ্যালেঞ্জিং পুঁজির আবহ পায় শ্রীলঙ্কা। কুশল মেন্ডিসকে ফিরিয়ে দিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অভিষেকে উইকেট পান বাঁহাতি স্পিনার তানভির।
অকেশনাল বোলার শান্ত দিয়েছেন আর একটি ব্রেক থ্রু। ইতোপূর্বে ওডিআই ক্যারিয়ারে একটি উইকেটের মালিক ছিলেন শান্ত। আর এবার প্রেমাদাসায় লিয়াঙ্গেকে (৪০ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ২৯) ডাউন দ্য উইকেটে খেলার টোপ ফেলে লং অনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন শান্ত।
ইনিংসের শেষ ১০ ওভারে সেভাবে রান বাড়াতে দেননি তাসকিন-তানজিমরা। পায়ের পেশীতে টান পড়ে মোস্তাফিজকে বাইরে রেখে বোলিং করাটা যখন শঙ্কায় ফেলে দেয়ার কথা, তখন অন্যদের ভালো বোলিংয়ে শেষ ৪ উইকেট হারানোর বিপরীতে শ্রীলঙ্কা যোগ করতে পেরেছে মাত্র ৫১ রান।
ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে সেঞ্চুরিয়ান আসালাঙ্কাকে (১২৩ বলে ৬ চার, ৪ ছক্কায় ১০৬) মিড উইকেটের উপর দিয়ে খেলতে প্রলুব্ধ করে করে তাকে শিকার বানান তানজিম। ২০২৩ বিশ্বকাপে দিল্লীতে উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচে আসালাঙ্কা করেছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি (১০৮)।
আসালাঙ্কার এই সেঞ্চুরিই শেষ পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে তৈরি করেছে ব্যবধান। কঠিন সময়ে এক প্রান্ত আগলে রেখে কীভাবে দৃঢ় প্রত্যয়ে ব্যাট করতে হয়, আসালাঙ্কাকে দেখে তা শেখেনি বাংলাদেশ ব্যাটারদের কেউ। ইনিংসের ৫ম ওভারে আসিথা ফার্নান্ডোর শর্ট বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আনলাকি থারটিনে থেমেছেন ওয়ানডে অভিষিক্ত পারভেজ হোসেন ইমন (১৬ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ১৩)।
৭১ বলে ৭১ রানের পার্টনারশিপে তানজিদ হাসান তামিমকে দারুণ সঙ্গ দেয়া শান্ত করেছেন মারাত্মক অপরাধ। রান আউট নামক বিপদ নিজেই ডেকে এনেছেন (২৬ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২৩)।
আরও পড়ুন
নাটকীয় ব্যাটিং ধসে বিশাল হার বাংলাদেশের |
![]() |
১৬.৩ ওভারে ওই আউটটাই অলুক্ষুনে ছিল। সেই থেকে মাত্র ২৬ বলে নেই ৭ উইকেট! লেগ স্পিনার হাসারাঙ্কার দ্বিতীয় বলটি ছিল গুগলি, তা আন্দাজ করতে না পেরে আউট হন লিটন (৪ বলে ০)। ওই ওভারের ৫ম ডেলিভারিতে মিড অফে তানজিদ হাসান তামিম লিয়াঙ্গের দারুণ ফ্লাইং ক্যাচে পরিণত (৬১ বলে ৯ চার, ১ ছক্কায় ৬২)।
কামিন্দু মেন্ডিসের পরের ওভারের তৃতীয় বলে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে বোল্ড হৃদয়। হাসারাঙ্গার পরের ওভারে গুগলিতে মিরাজও ফেরেন সাজঘরে। ক্যাপ্টেনসির নতুন অধ্যায়ে উইকেটহীন কাটিয়ে ব্যাটিংয়েও ব্যর্থ মিরাজ। কামিন্দু মেন্ডিসের পরের ওভারের ২য় বলে তানজিম হাসান সাকিব (৬ বলে ১) শর্ট মিড উইকেটে খিকসানার ডাইভিং ক্যাচে পরিনত। ওই ওভারের ৫ম বলে তাসকিন রং লাইনে ডিফেন্স করতে যেয়ে আউট হয়ে যান (৩ বলে ০)।
প্রথম স্পেলে গুগলি ভেল্কিতে বাংলাদেশ ব্যাটারদের নিয়ে ছেলেখেলা উৎসবে মেতে ওঠা লেগ স্পিনার হাসারাঙ্গা দ্বিতীয় স্পেলেও দারুণ বোলিং করেন। সেটা সামলে ফিফটি করে হারের ব্যবধান কমানোর লড়াই করা জাকের আলী অনিককেও পর্যুদস্ত করেছেন হাসারাঙ্গা গুগলিতে। আর সেই উইকেটটিও যথারীতি এলবিডব্লিউ থেকে।
২৯ আগস্ট ২০২৫, ১১:৪৩ পিএম
২৯ আগস্ট ২০২৫, ৮:২০ পিএম
২০২৬ যুব বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। সাউথ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে সফর শেষে এবার ইংল্যান্ডে যাচ্ছে তারা। সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ড সফরে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবেন জাওয়াদ-তামিমরা।
আজিজুল হাকিম তামিমকে অধিনায়ক করে ইংল্যান্ড সফরের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রাখা হয়েছে আরও পাঁচ ক্রিকেটার।
আগামী পরশু লন্ডনের উদ্দেশ্যে উড়ান ধরবে যুবারা। ৩ সেপ্টেম্বর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা।
৫ সেপ্টেম্বর শুরু হবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ইংল্যান্ড সফরের ওয়ানডে সিরিজ। লাফবোরোর হাসলেগ্রেভ গ্রাউন্ডে হবে প্রথম ম্যাচ। একই ভেন্যুতে ৭ সেপ্টেম্বর হবে দ্বিতীয় ওয়ানডে। ১০ সেপ্টেম্বর ব্রিস্টলের সিট ইউনিক মাঠে গড়াবে তৃতীয় ম্যাচ।
সিরিজের শেষ দুই ওয়ানডে হবে বেকেনহামে। ১২ সেপ্টেম্বর চতুর্থ ম্যাচ ও ১৪ সেপ্টেম্বর পঞ্চম ম্যাচ খেলবে দুই দল কেন্ট কাউন্টি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল:
আজিজুল হাকিম তামিম (অধিনায়ক), জাওয়াদ আবরার, সামিউন বসির, দেবাশীষ সরকার, রিজান হোসেন, আল ফাহাদ, স্বাধীন ইসলাম, মো. আব্দুল্লাহ, ফরিদ হাসান ফয়সাল, কালাম সিদ্দিকী, সানজিদ মজুমদার, রিফাত বেগ, শাহরিয়ার আল আমিন, সাদ ইসলাম রাজিন ও ফারহান শাহরিয়ার।
স্ট্যান্ডবাই
আহমেদ শাহরিয়ার, ফারজান আহমেদ আলিফ, শাহরিয়ার আজমির, রাফিউজ্জামান রাফি ও মো. সবুজ।
ওভারপ্রতি ৬-এর ওপরে রান দিচ্ছিলেন। তবু শেষ ওভারে অধিনায়ক চরিত আসালাঙ্কা আস্থা রাখলেন তাঁর ওপরে। দিলশান মাদুশাঙ্কাও যেন নিজের সেরাটা জমিয়ে রেখেছিলেন রঙিন শেষের জন্য। শেষ ৬ বলে জিম্বাবুয়ে প্রয়োজন ১০ রান। মাদুশঙ্কা হ্যাটট্রিকের বিপরীতে দিলেন মাত্র ২ রান।
শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে তরী এসে তরি ডুবল জিম্বাবুয়ের। ৭ রানে হেরে দুই ম্যাচের ওয়ানডের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ল তারা
জিম্বাবুয়ের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখা সিকান্দার রাজাকে প্রথম বলে বোল্ড করে সেঞ্চুরি বঞ্চিত করেন মাদুশঙ্কা। পরের দুই বলে ব্র্যাড ইভানস ও রিচার্ড এনগারাভাকে ফেরান গোল্ডেন ডাকে। ২৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৮ উইকেটে ২৯১ রান করতে সক্ষম হয় জিম্বাবুয়ে।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বেন কারান ৭০, শন উইলিয়ামস ৫৭, রাজা ৮৭ বলে ৯২ এবং টনি মুনিওঙ্গা ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন। ৬২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন মাদুশঙ্কা।
হারারে স্পোর্টস ক্লাবে টস জিতে লঙ্কানদের আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় স্বাগতিকেরা। পাতুম নিসাঙ্কা, জেনিত লিয়ানাগে ও কামিন্দু মেন্ডিসের ঝোড়ো ফিফটিতে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৯৮ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা।
শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি লঙ্কানদের ৯ রানের হারায় ওপেনার নিশান মাদুশকার উইকেট। প্রথম ৫ ওভার পর্যন্ত এক অঙ্কের ঘরে ছিল তারা। ১৩ বলে ০ রানে ফেরেন মাদুশকা। দ্বিতীয় উইকটে কুশল মেন্ডিস ও নিসাঙ্কার ১০০ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা।
কুশল ৩৮ ও নিসাঙ্কা করেন ৯২ বলে ৭৬ রান। সাদিরা সামারবিক্রমাও (৩৫) থিতু হয়ে ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। ৬ রানে আউট হন চরিত আসালাঙ্কা। ষষ্ঠ উইকটে লিয়ানাগে ও কামিন্দু ৮৩ বলে গড়েন ১৮৭ রানের অসাধারণ এক জুটি। তাতে স্কোরটা প্রায় তিন শ ছুঁই ছুঁই হয়।
লিয়ানাগে ৩ ছক্কা ও ৬টি চারে ৪৭ বলে করেন ৭০ রান। ২ ছক্কা ও ৪টি চারে ৩৬ বলে ৫৭ রান করেছেন কামিন্দু। ৩৪ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন এনগারাভা।
নিজেদের চেয়ে দুর্বল দলের বিপক্ষে অনেকবারই হেরেছে বাংলাদেশ দল। এ সব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনাও শুনতে হয়েছে বিভিন্ন সময়। সিলেটে কাল থেকে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের। কোচ ফিল সিমন্স তাই সমালোচনার অগ্রীম আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখলেন, ভালো না খেললে সমালোচনাই প্রাপ্য।
কিছুটা ভয়ও অবশ্য থাকার কথা, সবশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ডাচদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। তবে এবার শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো বড় দুই দলকে সিরিজ হারিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী লিটনরা।
শ্রীলঙ্কা সফরে যে মানদণ্ডে দল খেলেছিল, সেটিই টেমপ্লেট হিসেবে সামনে রাখতে চান সিমন্স। সিরিজপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আজ বাংলাদেশ কোচ বলেন,
‘শ্রীলঙ্কায় যে মান আমরা মেলে ধরেছি, সেটিই ধারে রাখতে চাইব আমি। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের কিছুটাও বয়ে নিতে চাইব, যদিও ওই সিরিজে মিরপুরের উইকেট শ্রীলঙ্কার মতো অতটা ভালো ছিল না। শ্রীলঙ্কায় আমাদের ওই স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখতে চাই।’
আরও পড়ুন
ইংল্যান্ড দলে আছে বার্সা, নেই রিয়াল |
![]() |
বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ মনে করেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মান ধরে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ডাচদের বিপক্ষে সিরিজে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ ফেভারিট। তবু প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিতে নারাজ সিমন্স।
সিমন্স স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন- ভালো না খেলতে পারলে সমালোচনার ঝড় আসাটা স্বাভাবিক, আর সেটা মেনে নিতেই হবে,
‘অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলেও সমালোচনা হয়, তাই নেদারল্যান্ডসের কাছে হারলে সমালোচনা হওয়া খুব খারাপ কিছু নয়। কারণ, যে দিন আমরা ভালো খেলতে পারব না, সেদিন সমালোচনা প্রাপ্যই। কিন্তু যদি আমরা আমাদের মান ধরে রাখতে পারি, আমি নিশ্চিত—জিতবই।’
আরও পড়ুন
সাঙ্ঘার সেঞ্চুরির পর দিপুর লড়াই |
![]() |
বাংলাদেশ এখানে অবশ্যই ফেবারিট। কিন্তু নেদারল্যান্ডসের রেকর্ডও দারুণ। গত দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তারা দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মতো দলকে হারিয়েছে। নিয়মিতভাবেই বিশ্বকাপে তারা চমক দেখাচ্ছে। সিমন্সও সে ব্যাপারে সতর্ক,
‘তারা আন্তর্জাতিক মানের দল। টানা দুই বিশ্বকাপে খেলেছে, ভালো ফল করেছে। এখন আর কাউকেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।’
বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজ শুধু জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়, এশিয়া কাপেরও প্রস্তুতি। তবে সিমন্স আপাতত সেখানেই মন দিতে চাইছেন না,
‘চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় পৌঁছতে হলে তো আগে প্রাথমিক পর্ব উতরাতে হয়। কাজেই এশিয়া কাপ নিয়ে আমি ভাবছি না। এশিয়া কাপ আসবে এটির পরে। এটি আন্তর্জাতিক দলের বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক সিরিজ। আমাদের মনোযোগও এই সিরিজে।’
২৬৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের। ডারউইনে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় দিন শেষে ৩ উইকেটে ১০৬ রান করেছে সফরকারীরা। এখনো পিছিয়ে ১৬০ রানে। উঁকি দিচ্ছে ইনিংস হার।
৭৫ রানে ৩ উইকটে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যর্থ হন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। প্রথম ওভারে ফেরেন ৪ রানে। তৃতীয় ওভারে দলীয় ৬ রানে ফেরেন তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা অমিত হাসান (০)।
থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি ওপনোর ইফতেখার হোসেন ইফতি। ৬৯ বলে ৩৫ রান আসে তাঁর ব্যাট থেকে। চতুর্থ উইকেটে শাহাদাত হোসেন দিপুর সঙ্গে ৬৯ রানের একটি জুটি গড়েন ইফতি।
আরও পড়ুন
জিম্বাবুয়ের সামনে ৩০০ ছুঁই ছুঁই লক্ষ্য |
![]() |
৭৫ রানে ৩ উইকটে হারায় বাংলাদেশ। পঞ্চম উইকেটে ইয়াসির আলী রাব্বি (১৮) ও দিপু লড়াইয়ের চেষ্টা করছেন। ৩১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন দুজনে। ৮৭ বলে ৪২ রানে অপরাজিত আছেন দিপু।
তার আগে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস থামে ৩৮০ রানে। আগের দিন ৮৩ রানে অপরাজিত থাকা জ্যাসন সাঙ্ঘা আজ তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। ৩১ রানে অপরাজিত থাকা হ্যারি নিলসেন করেছেন ফিফটি।
২৩৫ বলে ১৪৩ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন সাঙ্ঘা। সেঞ্চুরি আশা জাগিয়েও ১৪৬ বলে ৮৬ রানে ফেরেন নিলসন। শেষ দিকে ৪৬ রান করেন হেনরি থরটন। তিনটি করে উইকটে নেন হাসান মুরাদ ও এনামুল হক। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করে ১১৪ রান।
সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে তিন ফিফটির কল্যাণে জিম্বাবুয়েকে ২৯৯ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে টস জিতে লঙ্কানদের আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় স্বাগতিকেরা। পাতুম নিসাঙ্কা, জেনিত লিয়ানাগে ও কামিন্দু মেন্ডিসের ঝোড়ো ফিফটিতে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৯৮ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা।
শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি লঙ্কানদের ৯ রানের হারায় ওপেনার নিশান মাদুশকার উইকেট। প্রথম ৫ ওভার পর্যন্ত এক অঙ্কের ঘরে ছিল তারা। ১৩ বলে ০ রানে ফেরেন মাদুশকা। দ্বিতীয় উইকটে কুশল মেন্ডিস ও নিসাঙ্কার ১০০ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা।
আরও পড়ুন
সাফে ভুটানের বিপক্ষে হতাশার ড্র বাংলাদেশের |
![]() |
কুশল ৩৮ ও নিসাঙ্কা করেন ৯২ বলে ৭৬ রান। সাদিরা সামারবিক্রমাও (৩৫) থিতু হয়ে ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। ৬ রানে আউট হন চরিত আসালাঙ্কা। ষষ্ঠ উইকটে লিয়ানাগে ও কামিন্দু ৮৩ বলে গড়েন ১৮৭ রানের অসাধারণ এক জুটি। তাতে স্কোরটা প্রায় তিন শ ছুঁই ছুঁই হয়।
লিয়ানাগে ৩ ছক্কা ও ৬টি চারে ৪৭ বলে করেন ৭০ রান। ২ ছক্কা ও ৪টি চারে ৩৬ বলে ৫৭ রান করেছেন কামিন্দু। ৩৪ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন রিচার্ড নাগারাভা।
৩ দিন আগে
৩ দিন আগে
৩ দিন আগে
৪ দিন আগে
৪ দিন আগে
৪ দিন আগে
৪ দিন আগে
৪ দিন আগে
৬ দিন আগে
৬ দিন আগে
৮ দিন আগে
৮ দিন আগে
৮ দিন আগে
১০ দিন আগে
১০ দিন আগে