
প্রত্যাবর্তন ম্যাচে তাসকিন আহমেদ ও তানজিম হাসান সাকিবের তোপে শ্রীলঙ্কাকে ২৪৪ রানে অল আউট করেও লাভ হয়নি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ ৪ ম্যাচের তিনটিতে জয়ের নিকট অতীত আছে বলেই ছিল ভরসা। প্রিয় ফরম্যাটে হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজেছে বাংলাদেশ দল। তবে ওয়ানডেতে সর্বশেষ ৬ ম্যাচের সব ক'টিতে হেরে অনেক প্রশ্নের মুখে পড়া বাংলাদেশ দল শ্রীলঙ্কা সফরের শুরু করেছে হার দিয়ে।
হাসারাঙ্গার গুগলিতে (৭.৫-২-১০-৪) ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৭৭ রানে হেরে বড় লজ্জা পেতে হয়েছে। মিরাজের নেতৃত্বে নতুন শুরু হয়েছে ম্লান। ২৪৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৬১/১ স্কোরে হারের বৃত্ত ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল বাংলাদেশের। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে নাজমুল হোসেন শান্ত-তানজিদ হাসান তামিম ৭১ বলে ৭১ রান যোগ করে বড় জয়ের আবহ তৈরি করেছিলেন।
স্ট্রাইক রেটে মনযোগী এই জুটির ব্যাটিং দেখে কপালে হাত উঠেছিল শ্রীলঙ্কার ড্রেসিংরুম এবং ডাগ আউটে। তবে এমন একটা পরিস্থিতি থেকে শান্ত'র রান আউটে কাটা পড়াটা অশুভ লক্ষণ হয়েছে।দুই স্পিনার হাসারাঙ্গা-কামিন্দু মেন্ডিজের ছোবলে স্কোরশিটের চেহারা হয়ে গেছে ১০১/২ থেকে ১০৫/৮! প্রেমাদাসায় এক দমকা হাওয়ায় মাত্র ৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বড় হারের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ থেমেছে ১৬৭/১০-এ। লেট অর্ডারে জাকের আলী অনিকের ফিফটি (৪ চার, ৪ ছক্কায় ৫১) শুধু সান্ত্বনার উপলক্ষ্য হয়েছে।
আরও পড়ুন
| দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রধান কোচ সিমন্সকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ |
|
অথচ আগে ফিল্ডিংয়ে নেমে শ্রীলঙ্কাকে শুরুতে ভালই চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ। ৪ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে নিজেকে ভালোই উপস্থাপন করেন তাসকিন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৬ষ্ঠ এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয়বারের মতো ৪ উইকেট শিকারে (১০-২-৪৭-৪) দিয়েছেন তাসকিন স্বাগতিক দলকে ঝাঁকুনি।
তার পেস বোলিং পার্টনার তানজিম হাসান সাকিবও দেন যোগ্য সমর্থন (৯.২-০-৪৬-৩)। এই পেস জুটির বোলিংয়ে ২৪৪/১০-এ থামে শ্রীলঙ্কার ইনিংস। বাংলাদেশ পেসারদের বিপক্ষে একাই লড়ে যাওয়া আসালাঙ্কার সেঞ্চুরিতে (১২৩ বলে ৬ চার, ৪ ছক্কায় ১০৬) চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা।
তাসকিন আহমেদ-তানজিম হাসান সাকিবের দারুণ ওপেনিং স্পেলে স্কোরশিটে প্রথম রানের মুখ দেখতে অপেক্ষা করতে হয়েছে শ্রীলঙ্কাকে ১১টি বল। ৫ ওভার শেষে স্কোর ১৫/২। সেখান থেকে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৩ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার স্কোর হয় ৫০/৩।
স্কোরশিটে ২৯ উঠতে ৩ উইকেট ফেলে দিয়ে শ্রীলঙ্কার উপরে চাপ অব্যাহত রাখতে পারেনি বাংলাদেশ বোলাররা। চতুর্থ উইকেট জুটিতে আসালাঙ্কা-কুশল মেন্ডিস ৭৭ বলে ৬০, পঞ্চম উইকেট জুটিতে আসালাঙ্কা-লিয়াঙ্গে ৭৬ বলে ৬৪ যোগ করলে চ্যালেঞ্জিং পুঁজির আবহ পায় শ্রীলঙ্কা। কুশল মেন্ডিসকে ফিরিয়ে দিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অভিষেকে উইকেট পান বাঁহাতি স্পিনার তানভির।
অকেশনাল বোলার শান্ত দিয়েছেন আর একটি ব্রেক থ্রু। ইতোপূর্বে ওডিআই ক্যারিয়ারে একটি উইকেটের মালিক ছিলেন শান্ত। আর এবার প্রেমাদাসায় লিয়াঙ্গেকে (৪০ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ২৯) ডাউন দ্য উইকেটে খেলার টোপ ফেলে লং অনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন শান্ত।
ইনিংসের শেষ ১০ ওভারে সেভাবে রান বাড়াতে দেননি তাসকিন-তানজিমরা। পায়ের পেশীতে টান পড়ে মোস্তাফিজকে বাইরে রেখে বোলিং করাটা যখন শঙ্কায় ফেলে দেয়ার কথা, তখন অন্যদের ভালো বোলিংয়ে শেষ ৪ উইকেট হারানোর বিপরীতে শ্রীলঙ্কা যোগ করতে পেরেছে মাত্র ৫১ রান।
ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে সেঞ্চুরিয়ান আসালাঙ্কাকে (১২৩ বলে ৬ চার, ৪ ছক্কায় ১০৬) মিড উইকেটের উপর দিয়ে খেলতে প্রলুব্ধ করে করে তাকে শিকার বানান তানজিম। ২০২৩ বিশ্বকাপে দিল্লীতে উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচে আসালাঙ্কা করেছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি (১০৮)।
আসালাঙ্কার এই সেঞ্চুরিই শেষ পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে তৈরি করেছে ব্যবধান। কঠিন সময়ে এক প্রান্ত আগলে রেখে কীভাবে দৃঢ় প্রত্যয়ে ব্যাট করতে হয়, আসালাঙ্কাকে দেখে তা শেখেনি বাংলাদেশ ব্যাটারদের কেউ। ইনিংসের ৫ম ওভারে আসিথা ফার্নান্ডোর শর্ট বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আনলাকি থারটিনে থেমেছেন ওয়ানডে অভিষিক্ত পারভেজ হোসেন ইমন (১৬ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ১৩)।
৭১ বলে ৭১ রানের পার্টনারশিপে তানজিদ হাসান তামিমকে দারুণ সঙ্গ দেয়া শান্ত করেছেন মারাত্মক অপরাধ। রান আউট নামক বিপদ নিজেই ডেকে এনেছেন (২৬ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২৩)।
আরও পড়ুন
| নাটকীয় ব্যাটিং ধসে বিশাল হার বাংলাদেশের |
|
১৬.৩ ওভারে ওই আউটটাই অলুক্ষুনে ছিল। সেই থেকে মাত্র ২৬ বলে নেই ৭ উইকেট! লেগ স্পিনার হাসারাঙ্কার দ্বিতীয় বলটি ছিল গুগলি, তা আন্দাজ করতে না পেরে আউট হন লিটন (৪ বলে ০)। ওই ওভারের ৫ম ডেলিভারিতে মিড অফে তানজিদ হাসান তামিম লিয়াঙ্গের দারুণ ফ্লাইং ক্যাচে পরিণত (৬১ বলে ৯ চার, ১ ছক্কায় ৬২)।
কামিন্দু মেন্ডিসের পরের ওভারের তৃতীয় বলে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে বোল্ড হৃদয়। হাসারাঙ্গার পরের ওভারে গুগলিতে মিরাজও ফেরেন সাজঘরে। ক্যাপ্টেনসির নতুন অধ্যায়ে উইকেটহীন কাটিয়ে ব্যাটিংয়েও ব্যর্থ মিরাজ। কামিন্দু মেন্ডিসের পরের ওভারের ২য় বলে তানজিম হাসান সাকিব (৬ বলে ১) শর্ট মিড উইকেটে খিকসানার ডাইভিং ক্যাচে পরিনত। ওই ওভারের ৫ম বলে তাসকিন রং লাইনে ডিফেন্স করতে যেয়ে আউট হয়ে যান (৩ বলে ০)।
প্রথম স্পেলে গুগলি ভেল্কিতে বাংলাদেশ ব্যাটারদের নিয়ে ছেলেখেলা উৎসবে মেতে ওঠা লেগ স্পিনার হাসারাঙ্গা দ্বিতীয় স্পেলেও দারুণ বোলিং করেন। সেটা সামলে ফিফটি করে হারের ব্যবধান কমানোর লড়াই করা জাকের আলী অনিককেও পর্যুদস্ত করেছেন হাসারাঙ্গা গুগলিতে। আর সেই উইকেটটিও যথারীতি এলবিডব্লিউ থেকে।
No posts available.
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ৮:১৭ পিএম
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৪৫ পিএম

কঠিন লক্ষ্যে দারুণ উদ্বোধনী জুটিতে জেগেছিল জয়ের আশা। কিন্তু প্রথম উইকেট পড়ার পর রান আউটের কালো ছায়া পড়ল ইনিংসে। শেষ হয়ে গেল সব সম্ভাবনা। আবার হেরে গেল বাংলাদেশ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশকে ২১ রানে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা নারী ক্রিকেট দল। সফরকারীদের ১৫৪ রানের জবাবে ১৩৩ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ।
এই জয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা।
স্বাগতিকদের ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা শেষ হয় মূলত ৩টি রান আউটে। এক ম্যাচে বাংলাদেশের এর চেয়ে বেশি রান আউটের ঘটনা আছে স্রেফ দুইটি। ২০১৪ সালে ভারত ও ২০১৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪টি করে।
রান তাড়ায় দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ৷ কোনো উইকেট না হারিয়ে পাওয়ার প্লেতে ৪৬ রান করে ফেলেন দিলারা আক্তার দোলা ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়িতা।
সপ্তম ওভারে আক্রমণে এসে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন কাভিশা দিলহারি। ৪ চারে ২৩ রান করে ফেরেন দিলারা।
আরেক ওপেনার জয়িতা ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন। তবে দশম ওভারে রান আউটে কাটা পড়েন তরুণ এই ব্যাটার। ৩ চারের সঙ্গে১ ছক্কায় ২৩ বলে তিনি খেলেন ২৯ রানের ইনিংস।
এরপর জয়িতার মতোই রান আউটে থামতে হয় অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি (৭ বলে ৭) ও সোবহানা মোস্তারি (২ বলে ০)। তিনটি রান আউটেই অন্য প্রান্তে ছিলেন শারমিন আক্তার সুপ্তা।
ছয় নম্বরে নেমে এদিন তেমন কিছু করতে পারেননি প্রথম ম্যাচে ঝড় তোলা স্বর্ণা আক্তার। ফলে নিশ্চিত পরাজয়ের দিকে এগোতে থাকে বাংলাদেশ। ১২ রান করে আউট হন স্বর্ণা।
শেষ পর্যন্ত খেলে ৪ চারে ৪৭ বলে ৪৫ রান করেন সুপ্তা।
শ্রীলঙ্কার হয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রানে ২ উইকেট নেন কাভিশা।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে তেমন সুবিধা করতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। পঞ্চম ওভারে হাসিনি পেরেরাকে ফিরিয়ে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা।
প্রতিরোধের চেষ্টা করেন ইমেশা দুলানি ও অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু। তবে এই জুটিতে বেশি দূর যেতে দেননি একাদশে ফেরা রিতু মনি। ১১তম ওভারে ২৭ রান করা দুলানি ফিরলে ৩৭ বলে ৪৪ রানের জুটি।
শুরু থেকে খেলতে থাকা আতাপাত্তুকে থামান সুলতানা খাতুন। লঙ্কান অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ৬ চারে ৩৭ বলে ৪২ রানের ইনিংস।
এরপর ঝড় তোলেন হার্শিতা মাধবি ও নিলাকশিকা সিলভা। চতুর্থ উইকেট জুটিতে দুজন মিলে মাত্র ৩৭ বলে যোগ করেন ৬১ রান। শেষের কয়েক ওভারে গড়ে ১০ রান করে নেয় সফরকারীরা।
ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়া হার্শিতা ৪ চার ও ২ ছক্কায় ২৯ বলে করেন ৪৯ রান। নিলাকশিকা সিলভার ব্যাট থেকে আসে ১৮ বলে ২২ রান।
বাংলাদেশের পক্ষে ১টি করে উইকেট নেন ফারিহা, নাহিদা আক্তার, রিতু ও সুলতানা।
একই মাঠে শনিবার সিরিজের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।

পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন দলের ড্রেসিংরুমে রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক রিয়ান পরাগকে ইলেকট্রনিক সিগারেট বা ভেপ ব্যবহার করতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নড়েচড়ে বসে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। এবার ম্যাচ চলাকালীন 'ধূমপান' করার অপরাধে রিয়ান পরাগকে তাঁর ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানা করেছে বিসিসিআই।
পরাগকে এক নোটিশে বিসিসিআই জানিয়েছে, তিনি খেলোয়াড়দের আচরণবিধির ২.১ অনুচ্ছেদের অধীনে লেভেল-১ পর্যায়ের অপরাধ করেছেন। এই ধারাটি সাধারণত খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের সাধারণ কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। বিধি অনুযায়ী ড্রেসিংরুমে ধূমপান করে পরাগ খেলার ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন।
আইপিএলের চলতি মৌসুমে পরাগ তাঁর ১৪ কোটি রুপির চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি ম্যাচের পারিশ্রমিক দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি রুপি। সেই হিসেবে ২৫ শতাংশ জরিমানার পরিমাণ প্রায় ২৫ লক্ষ। যেহেতু এটি তাঁর প্রথম অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়েছে, সেই বিবেচনায় ২৫ লক্ষ টাকা বেশ বড় অংকের জরিমানাই।
আচারণবিধি অনুযায়ী এতে বেপরোয়া এবং এড়ানো সম্ভব এমন আচরণের কথাও উল্লেখ আছে। অপরাধটি কতটা গুরুতর তা বিচারের সময় কয়েকটি বিষয় দেখা হয়—কাজটি কি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল, নাকি বেপরোয়া, অবহেলাজনিত, এড়ানো সম্ভব ছিল এমন, নাকি স্রেফ দুর্ঘটনাবশত। এছাড়া, যিনি অভিযোগ দায়ের করবেন, তিনিই ঠিক করবেন এই অপরাধটি কতটা মারাত্মক (যা সামান্য অপরাধ বা 'লেভেল-১' থেকে শুরু করে চরম পর্যায়ের অপরাধ বা 'লেভেল-৪' পর্যন্ত হতে পারে)।
বিসিসিআই এবং রাজস্থান রয়্যালস ম্যানেজমেন্টের সূত্র অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে পরাগকে এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর আপিল করার অধিকার থাকলেও, তাতে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। জানা গেছে, এই পরাগ জরিমানা মেনে নিয়ে বিষয়টি এখানেই মিটিয়ে ফেলতে চান।
২৪ বছর বয়সী রিয়ান পরাগ এবার রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সঞ্জু স্যামসন দল পরিবর্তন করে চেন্নাই সুপার কিংসে যোগ দেওয়ায় পরাগের ওপর নেতৃত্বের ভার তুলে দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে নেতৃত্বের পাশাপাশি ব্যাটে হাতেও তিনি চূড়ান্ত ব্যর্থ। এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে করেছেন ১১৭ রান, গড় ১৪.৬৩।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বশেষ আসর কী বাজেভাবেই না কেটেছে বাবর আজমের ? সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটের মেগা আসরে ৪ ইনিংসে রানের সমষ্টি মাত্র ৯১। পাকিস্তান সেনসেশনের নামের সঙ্গে বড়ই বেমানান। গত ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই বাজে পারফরমেন্সের বিরূপ প্রভাব পড়েছে তার ক্যারিয়ারে। পরের মাসে বাংলাদেশ সফরে ওয়ানডে স্কোয়াডে বিবেচ্য হননি বাবর আজম।
পিএসএলের দশম সংস্করনেও নিজেকে চেনাতে পারেননি (২৮৮ রান)। তবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বাধিক রানের মালিকের (১৪৫ ম্যাচে ৩ সেঞ্চুরি, ৩৯ ফিফটিতে ৪৩৮০ রান) কদর অবশ্য কমেনি পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল)। প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে ৭ কোটি রুপিতে (বাংলাদেশী মুদ্রায় ৩ কোটি ৮ লাখ ১৫ হাজার ১৮৬ টাকা) পেশোয়ার জালমিতে ডাইরেক্ট সাইনিংয়ে থেকে গেছেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দুঃসময়ে পিএসএল ফ্রাঞ্চাইজি পেশোয়ার জালমির কদর তাকে করেছে পারফরমেন্সে উদ্বুদ্ধ। পিএসএলের ১১তম সংস্করণে চেনা বাবর আজম ছড়াচ্ছেন দ্যুতি। পিএসএলে চলমান আসরে বাবর আজমের পারফরমেন্স অতীতের সব রেকর্ডকে গেছে ছাড়িয়ে।
২০২১, ২০২৩, ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত পিএসএলে সর্বাধিক রানের মালিক এক আসরে করেছেন সর্বাধিক ৫৬৯ রান। চলমান আসরে ফাইনালের আগেই ছাড়িয়ে গেছেন সেই রেকর্ড। ইতোমধ্যে পেশোয়ার জালমির সুপার স্টার বাবর আজম ১০ ইনিংসে ৮৪.০০ গড়ে করেছেন ৫৮৮ রান। ২ সেঞ্চুরি, ৩ ফিফটিতে তার স্ট্রাইক রেট ১৪৬.২৬ প্রশংসনীয়। ৬০টি বাউন্ডারির পাশে ১৫টি ছক্কায়ও নিজেকে নতুনভাবে চিনিয়েছেন বাবর আজম এই আসরে। পিএসএলএর ১১টি সংস্করণের মধ্যে এর আগে ফখর জামান এক আসরে (২০২২) করেছেন ৫৮৮ রান। কোয়ালিফাইয়ারে এসে ফখর জামানকে ছুঁয়ে এখন পিএসএলে এক আসরে সর্বাধিক রানের রেকর্ডে চোখ বাবর আজমের।
পিএসএলের চলমান আসরে ৯ দিনের ব্যবধানে করেছেন ২টি সেঞ্চুরি, ১৯ এপ্রিল কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সের বিপক্ষে ৫২ বলে ১০০*-এর পর ২৮ এপ্রিল কোয়ালিয়াইয়ার ম্যাচে লাহোর কালান্দার্সের বিপক্ষে ৫৯ বলে ১০৩। তাঁর এই ইনিংসেই পেশোয়ার জালমি উঠেছে ফাইনালে।
পিএসএলে রানের ধারাবাহিকতায় টি-২০ ক্রিকেটে ২টি মাইলস্টোন পূর্ণ করেছেন বাবর আজম। শোয়েব মালিকের পর দ্বিতীয় পাকিস্তানী হিসেবে ১২ হাজার রানের মাইলফলকে রেখেছেন পা। অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার (১২৮) এবং ভারতের বিরাট কোহলির (১০৮) পর তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে টি-২০ ক্রিকেটে ফিফটির সেঞ্চুরি উদযাপন করেছেন (১০১টি)।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৫ হাজার রানের দিকে ধাবিত বাবর আজম এখন সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটে আছেন ফর্মের তুঙ্গে। এক সময়ে তিন সংস্করণের ক্রিকেটে ৫০-এর আশেপাশে গড় রানে ভারত সেনসেশন বিরাট কোহলিকে ছুঁড়েছিলেন চ্যালেঞ্জ। কিছুদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অধারাবাহিক বাবর সেই চেনারূপে ফেরার আভাস দিচ্ছেন।

বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটিং দেখে অতিমানবীয় ব্যাটিং দেখে কারও মনে কৌতূহল জাগতেই পারে—১৫ বছর বয়সী এই বালকের মধ্যে কী এমন বিশেষ কিছু আছে? কিভাবে এমন অবলীলায় বিশ্বের সেরা সব বোলারদের পাড়ার বোলার বানিয়ে ছাড়েন ভারতীয় এই ব্যাটার? কোনো ছলছাতুরির আশ্রয় নিচ্ছেন কি না সূর্যবংশী, এমন সন্দেহেরও উদ্রেক হচ্ছে অনেকের মনে।
এবারের আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটার সূর্যবংশীর ব্যাটিং দেখে সামাজিক মাধ্যমে তো রীতিমতো গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে—তাঁর ব্যাটের ভেতর কি কোনো 'এআই চিপ' লুকানো আছে? প্রশ্নটা প্রযুক্তির চেয়েও বেশি ছিল বিস্ময়ের। সূর্যবংশীর ব্যাটিং দেখে অনেকেরই মনে হচ্ছিল, সাধারণ ব্যাটে এমন শট খেলা তো অসম্ভব!
রাজস্থান রয়্যালস তাদের সামাজিক মাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেছে, যেখানে বৈভবকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হয়, ‘তোমার ব্যাটে কি এআই চিপ আছে?’ এমন অদ্ভুত প্রশ্নের জবাবে কোনো নাটকীয়তা নয়, বরং একগাল হাসি আর কিশোরসুলভ সারল্য নিয়ে বৈভব কাঁধ ঝাঁকিয়ে যে উত্তরটা দিয়েছে, তা হয়তো তাঁর মারা ছক্কাগুলোর মতোই অনেক দূর যাবে। আসলে মানুষের এই অবিশ্বাসটাই বুঝিয়ে দিচ্ছে বৈভবের ব্যাটিং কতটা অবিশ্বাস্য পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মানুষ এখন অলৌকিক বা অবাস্তব ব্যাখ্যা খুঁজতে শুরু করেছে।
বৈভব হেসেই উত্তর দিল, ‘ঈশ্বর লাগিয়ে দিয়েছেন। ওপর থেকেই বলে দিয়েছিলেন যে, তোমার ব্যাটে আমি কিছু একটা লাগিয়ে দিচ্ছি। আমি শুধু সেটারই ব্যবহার করছি।’
সূর্যবংশীর এই জবাবের পেছনে অবশ্য একটা প্রেক্ষাপট আছেও। পাকিস্তানের ক্রিকেট বিশ্লেষক ডক্টর নোমান নিয়াজ বৈভবের ব্যাটিং দেখে অনেকটা নাটকীয় ঢঙেই রসিকতা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বৈভবের ব্যাট পরীক্ষা করা উচিত এবং তাকে ল্যাবে পাঠানো দরকার—ঠিক যেভাবে ওয়াদা ডোপ টেস্ট করে। তিনি আরও যোগ করেছিলেন, বৈভবের ব্যাটে সম্ভবত কোনো ‘এআই চিপ’ আছে, কারণ তার ব্যাটিংটা একদমই ‘অবাস্তব’ মনে হচ্ছিল।
নোমান নিয়াজের এই মন্তব্যটি সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। বৈভবের ব্যাটিংয়ের ধার এখন এতটাই যে, তা ক্রিকেটের সাধারণ ব্যাকরণকেও যেন হার মানাচ্ছে। সূর্যবংশী কিন্তু নিজের ব্যাটের গুণগান গায়নি, নিজের টেকনিক নিয়েও কথা বলেনি, এমনকি সে অপমানিতও বোধ করেনি। খুব সহজভাবে আলোচনার মোড় প্রযুক্তি থেকে বিশ্বাসে, অভিযোগ থেকে রসবোধে এবং ল্যাব টেস্ট থেকে ঈশ্বরের উপহারে সরিয়ে নিয়েছেন।
মাঠে নামলেই রেকর্ড উৎসব করা সূর্যবংশী আইপিএলের চলতি আসরে ৯ ইনিংসে দুই ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরি ৪০০ রান করে সবার ওপরে আছেন। চোখ কপালে তোলা ২৩৮ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করা সূর্যবংশীর গড় ৪৪.৪৪।

দেশের মাঠে সাকিব আল হাসানকে বিদায় দেওয়া নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ক্রিকেটার একাধিকবার ঘরের মাঠে অবসর নেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক। এবার আরও একবার অধরা স্বপ্ন পূরণের কথা বললেন সাকিব।
মুম্বাইয়ে ইইউ টি২০ বেলজিয়াম ইভেন্টে জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাকিব। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসময় নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার, বাংলাদেশের ক্রিকেটের বর্তমান-ভবিষ্যত সহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন এই অলরাউন্ডার। দেশে ফিরে একটি টেস্ট খেলে বিদায় নিতে চান কি না এমন প্রশ্নে সাকিব সবকিছু ছেড়ে দেন সময়ের কাছেই।
সাকিব বলেন, ‘সেটা না হয় পরে দেখা যাবে। তবে আমি বিশ্বাস করি, আজ হোক বা কাল পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। সময়ের সঙ্গে সবকিছুই ঠিক হয়ে যায়। আমি আশাবাদী, আমি যা চাই (সম্মানজনক বিদায়), তা পাবো।’
এর আগেও তিন সংস্করণেই বাংলাদেশের জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামার স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন সাকিব। ৩৯ বছর বয়সী ক্রিকেটারকে ফেরানোর কথা বলেছিলেন সদ্য ভেঙে যাওয়া বিসিবির পরিচালক আসিফ আকবরও। তবে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন জটিলতায় সাকিবের ফেরা বারবার অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
২০২৪ সালে ভারত সফরের পর থেকেই জাতীয় দলের বাইরে সাকিব। তবে বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিয়মিতই খেলে বেড়াচ্ছেন সাকিব। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা সাকিব দেশকে মিস করা নিয়ে বলেন, ‘আমি তো দেশের জন্য অনেক খেলেছি। এখন তরুণদের সুযোগ দেওয়ার সময়।’
বাংলাদেশ দলের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ তারকাদের নিয়েও আশার কথা শোনান সাকিব। তাঁর মতে বাংলাদেশ আর আগের মতো নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং দল হয়ে খেলা শিখেছেন লিটন দাস-মেহেদী হাসান মিরাজরা, ‘একটা সময় বাংলাদেশ দল ব্যক্তি-নির্ভর ছিল, কিন্তু এখন দল হিসেবে তারা দারুণ খেলছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জয়ই তার প্রমাণ। এখন আর আগের মতো ব্যক্তি-কেন্দ্রিক খেলা নেই, বরং পুরো দল মিলে পারফর্ম করছে—এটাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার সঠিক পথ।’
তরুণ তুর্কি নাহিদ রানা প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, ‘নাহিদ রানাকে আমাদের খুব যত্ন করে গড়ে তুলতে হবে। সে এখনো অনেক তরুণ। ওর প্রতিভা আর মানসিকতা অসাধারণ, তবে সঠিক নির্দেশনার প্রয়োজন আছে। যদি তাকে ঠিকভাবে পরিচালনা করা যায়, তবে সে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বড় সম্পদে পরিণত হবে।’