১১ মার্চ ২০২৬, ২:৫৩ পিএম

ক্রিকেটের বাণিজ্যিকীকরণের যুগে এখন প্রতি বছরই কোনো না কোনো আইসিসি ইভেন্ট লেগেই থাকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ওয়ানডে বিশ্বকাপ কিংবা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি—বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে প্রায় প্রতিবছরই ব্যস্ত থাকতে হয় ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থাকে।
অনেকের কাছেই এত এত ক্রিকেটের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের কোনো মানে হয়না। এই যেমন এ বিষয়ে ঘোর আপত্তি জানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক ভারতীয় ব্যাটার ও জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়া। তাঁর মতে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রতি দুই বছরের পরিবর্তে ওয়ানডে বিশ্বকাপের মতো চার বছর অন্তর হওয়া উচিত।
৮ মার্চ টানা দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে ভারত। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার পর নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এক আলোচনায় ‘মাত্রাতিরিক্ত’ আইসিসি ইভেন্ট নিয়ে কথা বলেন আকাশ চোপড়া।
আরও পড়ুন
| ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, নেই সৌম্য, পাকিস্তানের ৪ অভিষেক |
|
প্রতি বছর আইসিসি ইভেন্ট প্রসঙ্গে আকাশ চোপড়া বলেন, ‘আইসিসি সাদা বলের টুর্নামেন্টগুলো ২০২১ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই হচ্ছে। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, একাধিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ওয়ানডে বিশ্বকাপ রয়েছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কথা তো বাদই দিলাম। প্রতি বছর কীভাবে একটি আইসিসি ইভেন্ট হতে পারে? মনে হচ্ছে আমরা যেন প্রতি সপ্তাহে একটি করে আইসিসি ট্রফি খেলছি।’
বড় টুর্নামেন্ট চার বছর পরপর আয়োজনের যুক্তিকতা তুলে ধরেন আকাশ চোপড়া, যেমনটা দেখা যায় ফুটবল বিশ্বকাপে। তাঁর মতে মেগা ইভেন্টগুলো চার বছর পরপর হলে সমর্থকদের মধ্যে যে উন্মাদনা ও আবেগ কাজ করে, প্রতি বছর চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ হলে তা অনেকটা ফিকে হয়ে যায়।
আলোচনায় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছক্কার দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে বাড়তি রান দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও কথা বলেন আকাশ। কেভিন পিটারসনের মতো তিনিও ১০০ মিটারের বেশি দূরত্বের ছক্কায় ৮ রান দেওয়ার পক্ষপাতী, তবে ১০ বা ১২ রান দেওয়ার বিরোধী।
আকাশের মতে, ‘১০০ মিটার পার করা সহজ কাজ নয়, পুরো টুর্নামেন্টে হয়তো দুইবার এমনটা ঘটে। যদি কেউ এটি করতে পারে, তবে ৮ রান দেওয়া যেতেই পারে। তবে ক্রিকেটের নিয়ম এত দ্রুত পরিবর্তন হয় না, তাই এখনই এমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা কম।‘
ব্যাটারদের সুবিধার পাশাপাশি বোলারদের জন্যও নতুন একটি কৌশলের কথা ভাবছেন এই বিশ্লেষক। তিনি প্রস্তাব করেন, যদি কোনো বোলার টি-টোয়েন্টি ম্যাচে উইকেট শিকার করেন, তবে তাকে পুরস্কার হিসেবে একটি অতিরিক্ত ওভার করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে করে খেলার ধরনে ভারসাম্য আসবে বলে মনে করেন তিনি।
২০২৪ ও ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের টানা সাফল্যের পর ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ভবিষ্যৎ এবং এর জৌলুস ধরে রাখা নিয়ে আকাশ চোপড়ার এই পর্যবেক্ষণ ক্রিকেট মহলে নতুন আলোচনারই জন্ম দিয়েছে।
No posts available.
১১ মার্চ ২০২৬, ৪:০০ পিএম

শুরুর গতি-বাউন্সের ঝড় তুললেন নাহিদ রানা। তার টানা ৫ উইকেটের পর যোগ দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজনের চমৎকার বোলিংয়ে পাকিস্তানকে বেশি দূর যেতে দিল না বাংলাদেশ।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ১১৪ রানে গুঁড়িয়ে গেল পাকিস্তান। সিরিজে লিড নিতে বাংলাদেশের সামনে এখন মামুলি লক্ষ্য।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই পাকিস্তানের সর্বনিম্ন স্কোর। এর আগে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে ১৬১ রানে পাকিস্তানকে অলআউট করেছিল বাংলাদেশ।
পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কারিগর নাহিদ। টানা ৭ ওভারের স্পেলে মাত্র ২৪ রানে ৫ উইকেট নেন ২৩ বছর বয়সী পেসার। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা বোলিং।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রয়েসয়ে ইতিবাচক শুরুই করেন পাকিস্তানের দুই অভিষিক্ত ওপেনার মাজ সাদাকাত ও সাহিবজাদা ফারহান। প্রথম ৯ ওভারে কোনো উইকেট পড়তে দেননি তারা।
দশম ওভারে প্রথমবার আক্রমণে এসেই ধস নামান নাহিদ। তার প্রথম ওভারের শেষ বলে স্ল্যাশ করতে গিয়ে পয়েন্টে সহজ ক্যাচ তুলে দেন সাহিবজাদা। পরের ওভারে তার গতিময় ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে আকাশে তুলে দেন আরেক অভিষিক্ত শামিল হোসেন। সহজ ক্যাচ নেন লিটন কুমার দাস।
তরুণ পেসারের পরের ওভারে আরেকটি গতিময় ডেলিভারির শিকার মাজ সাদাকাত। বুক বরাবর ধেয়ে আসা বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে ডিপ থার্ড ম্যানে সাইফ হাসানের হাতে ক্যাচ দেন ১৮ রান করা অভিষিক্ত ওপেনার।
পরে ইনিংসের অন্যতম সেরা ডেলিভারিটি করেন নাহিদ। ফোর্থ স্টাম্পে পিচ করে বেরিয়ে যাওয়ার মুখে খোঁচা দেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন লিটন। এরপর সালমান আগাকে ফিরিয়ে পূর্ণ হয় নাহিদের ৫ উইকেট।
টানা পাঁচ ওভারে ৫ উইকেট নেওয়ার পর নাহিদকে আরও দুই ওভার করান অধিনায়ক মিরাজ। নাহিদের সপ্তম ওভারে আসে আরেকটি উইকেটের সুযোগ। কিন্তু ফাহিম আশরাফের বিপক্ষে রিভিউ নেয়নি বাংলাদেশ। তাই ষষ্ঠ উইকেট পাওয়া হয়নি তরুণ পেসারের।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে কোনো ম্যাচে প্রতিপক্ষের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের উইকেট নিলেন নাহিদ। প্রথম পাঁচ ব্যাটার না হলেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গত বছর প্রথম ৫ উইকেটের সবকটি একাই নেন রিশাদ হোসেন।
নাহিদের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ ম্যাচে ছিল মোট ৫ উইকেট। এবার ষষ্ঠ ম্যাচে প্রথম ৫ ওভারেই তিনি নিলেন ৫টি উইকেট।
এছাড়া মিরপুরে প্রায় ১১ বছর পর ৫ উইকেটের দেখা পেলেন বাংলাদেশের কোনো পেসার। এর আগে ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে পরপর দুই ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজ।
নাহিদের আগে দেশের মাঠে পেসারদের মধ্যে সবশেষ ৫ উইকেট নিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ। ২০২৩ সালে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২ রানে ৫ উইকেট নেন তরুণ পেসার।
পরে নাহিদ আর না পেলেও উইকেট শিকারে যোগ দেন মিরাজ। চমৎকার ডেলিভারিতে পাকিস্তানের চতুর্থ অভিষিক্ত ব্যাটার আব্দুল সামাদকে ফেরান বাংলাদেশ অধিনায়ক। পরে একই ওভারে হুসাইন তালাত ও শাহিন শাহ আফ্রিদিকেও আউট করেন মিরাজ।
নতুন স্পেলে ফিরে মোহাম্মদ ওয়াসিমকে ক্যাচ আউট করেন তাসকিন আহমেদ। মাত্র ৮২ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে একশর আগে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে পাকিস্তান। সেখান থেকে একাই দলকে এগিয়ে দেন ফাহিম আশরাফ।
দশম উইকেটে আবরার আহমেদকে নিয়ে ৩২ রানের জুটি গড়েন ফাহিম। যেখানের আবরারের অবদান ১০ বলে শূন্য রান। নতুন স্পেলে ফিরে ৩১তম ওভারে ফাহিমকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে অলআউট করে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৪৭ বলে ৩৭ রান নেন ফাহিম।
নাহিদের ৫ উইকেট ছাড়াও টানা ১০ ওভারের স্পেলে ২৮ রানে ৩ উইকেট নেন মিরাজ।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার
পর আইসিসি র্যাঙ্কিংয়েও বড় লাফ দিল ভারতের একাধিক ক্রিকেটার। টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটারদের
র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দুই স্থানই এখন চ্যাম্পিয়ন ভারতের দখলে। শীর্ষে আরও পোক্ত হয়েছেন
অভিষেক শর্মা আর দুইয়ে উঠে এসেছেন ইশান কিশান। তবে বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে রাজত্ব হারিয়েছেন
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়া বরুণ চক্রবর্তী। ভারতীয় স্পিনারকে হটিয়ে
এক নম্বরে এখন রশিদ খান।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের
১০ম আসরে ব্যাট হাতে একের পর এক ব্যর্থতার গল্প লিখছিলেন অভিষেক। তবে শিরোপার মঞ্চে
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জ্বলে উঠেন বাহাতি ব্যাটার। ফাইনালে কিউইদের বিপক্ষে ২১
বলের ৫২ রানের বিধ্বসী ইনিংস
খেলা অভিষেকের রেটিং পয়েন্ট এখন ৮৭৫।
একই ম্যাচে ২৫ বলে ৫২ করেন
ইশান কিশান। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে
খেলেন ১৮ বলের ৩৯ রানের ইনিংস।
দুই ধাপ উপরে উঠে আসা ২৭ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটার ৮৭১ রেটিং নিয়ে সতীর্থ অভিষেকের
ঘাড়ে নিঃস্বাস ফেলছেন তিনি। ইংল্যান্ডের ফিল
সল্ট ও পাকিস্তানের সহিবজাদা
ফারহানকে পেছনে ফেলেছেন ইশান কিশান। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে
শেষবার একই দলের দুই ব্যাটার
পাকিস্তানের বাবর
আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান
এক–দুই নম্বরে ছিলেন।
শীর্ষস্থান থেকে মাত্র
চার পয়েন্টের ব্যবধান পিছিয়ে থাকা কিশানের সামনে সুযোগ রয়েছে বিরাট কোহলি, সুর্যকুমার যাদব ও অভিষেক শর্মার
পর চতুর্থ ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে এক নম্বরে ওঠার।
নিউজিল্যান্ড ওপেনার টিম সেইফার্ট সেমিফাইনালে
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫৮ ও ভারতের
বিপক্ষে ফাইনালে ৫২ রানের ইনিংসের
পরে র্যাঙ্কিংয়ে চার
ধাপ এগিয়ে ক্যারিয়ার সেরা ষষ্ঠ স্থানে
উঠেছেন। অন্যদের মধ্যে বড় লাফ দিয়েছেন—ইংল্যান্ডের জ্যাকব বেথেল (১৭ ধাপ, ১৬তম), বিশ্বকাপের প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট
সঞ্জু স্যামসন (১৮ ধাপ, ২২তম), শিবম
দুবে (৪ ধাপ, ২৭তম),
এবং উইল জ্যাকস (৮
ধাপ, ৫৮তম)।
বোলিং র্যাঙ্কিংয়ে ভারতের
স্পিনার ররুণ চক্রবর্তী শীর্ষস্থান
হারিয়েছেন। যদিও সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ
উইকেটশিকারী ছিলেন তিনি (৯ ম্যাচে ১৪
উইকেট)। চার বছরের
বেশি সময় ধরে শীর্ষে
থাকা আফগানিস্তানের তারকা রশিদ খান আবারও প্রথম স্থানে ফিরে পেলেন। ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ
সেমিফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে দুই উইকেট নিয়ে
চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছেন।
ভারতের ফাস্ট বোলার জাসপ্রিত বুমরাহ, ফাইনালে মাত্র ১৫ রান দিয়ে চার উইকেট
নিয়ে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ
হওয়ার পর র্যাঙ্কিংয়ে
এক ধাপ এগিয়ে ষষ্ঠ
স্থানে এই পেসার। তাঁর সতীর্থদের মধ্যে এগিয়েছেন অক্ষর
প্যাটেল (৬ ধাপ, ১৭তম),
হার্দিক পান্ডিয়া (৪ ধাপ, ৪৬তম)।

সালমান আলি আগার কোমরের ওপরের উচ্চতায় শর্ট বল করলেন নাহিদ রানা। অন সাইডে খেলার চেষ্টা করলেন পাকিস্তানি ব্যাটার। কিন্তু ঠিকঠাক ব্যাটে হয়নি তার। শর্ট লেগে দাঁড়িয়ে দুবারের চেষ্টায় তালুবন্দী করলেন তানজিদ হাসান তামিম। প্রথম ৫ ওভারে ৫ উইকেট হয়ে গেল নাহিদের।
দুর্দান্ত বোলিংয়ে গতি ও বাউন্সের ঝড় তুলে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৫ উইকেট নিলেন নাহিদ। মিরপুরে বুধবার দুপুরের ম্যাচে তরুণ পেসারের গতিময় বোলিংয়ের সঙ্গে বাউন্সের মিশেলে নাস্তানাবুদ হলেন পাকিস্তানের প্রথম পাঁচ ব্যাটার।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে কোনো ম্যাচে প্রতিপক্ষের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের উইকেট নিলেন নাহিদ। প্রথম পাঁচ ব্যাটার না হলেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গত বছর প্রথম ৫ উইকেটের সবকটি একাই নেন রিশাদ হোসেন।
নাহিদের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ ম্যাচে ছিল মোট ৫ উইকেট। এবার ষষ্ঠ ম্যাচে প্রথম ৫ ওভারেই তিনি নিলেন ৫টি উইকেট। পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট পাওয়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার তিনি। এর আগে ২০১৯ বিশ্বকাপে ৭৫ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান।
এছাড়া মিরপুরে প্রায় ১১ বছর পর ৫ উইকেটের দেখা পেলেন বাংলাদেশের কোনো পেসার। এর আগে ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে পরপর দুই ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজ।
নাহিদের আগে দেশের মাঠে পেসারদের মধ্যে সবশেষ ৫ উইকেট নিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ। ২০২৩ সালে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২ রানে ৫ উইকেট নেন তরুণ পেসার।
দশম ওভারে প্রথম আক্রমণে আসেন নাহিদ। ওভারের শেষ বলে সাহিবজাদা ফারহানকে ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু দেন ২৩ বছর বয়সী পেসার। পরের ওভারে তার গতিময় ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে আকাশে তুলে দেন আরেক অভিষিক্ত শামিল হোসেন। সহজ ক্যাচ নেন লিটন কুমার দাস।
তরুণ পেসারের পরের ওভারে আরেকটি গতিময় ডেলিভারির শিকার মাজ সাদাকাত। বুক বরাবর ধেয়ে আসা বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে ডিপ থার্ড ম্যানে সাইফ হাসানের হাতে ক্যাচ দেন ১৮ রান করা অভিষিক্ত ওপেনার।
পরে ইনিংসের অন্যতম সেরা ডেলিভারিটি করেন নাহিদ। ফোর্থ স্টাম্পে পিচ করে বেরিয়ে যাওয়ার মুখে খোঁচা দেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন লিটন। এরপর সালমান আগাকে ফিরিয়ে পূর্ণ হয় নাহিদের ৫ উইকেট।
টানা পাঁচ ওভারে ৫ উইকেট নেওয়ার পর নাহিদকে আরও দুই ওভার করান অধিনায়ক মিরাজ। নাহিদের সপ্তম ওভারে আসে আরেকটি উইকেটের সুযোগ। কিন্তু ফাহিম আশরাফের বিপক্ষে রিভিউ নেয়নি বাংলাদেশ। তাই ষষ্ঠ উইকেট পাওয়া হয়নি নাহিদের।
নাহিদের তাণ্ডবের পর উইকেট শিকারে যোগ দেন মিরাজ নিজেই। তিনি নেন পরের ৩টি উইকেট। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২৩ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৮১ রান।

গত বছরের ৬ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে নির্বাচন বর্জনকারী ক্রীড়া সংগঠকরা প্রশ্ন তুলে গণমাধ্যমে অসংখ্যবার বিবৃতি-বক্তব্য দিয়েছে। ক্লাব ক্রিকেট অর্গানাইজার্স ব্যানারে একটার পর একটা সংবাদ সম্মেলন করে বিসিবির নির্বাচিত কমিটিকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে দ্রুত এই কমিটি ভেঙ্গে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত ৮ মার্চ ক্যাটাগরি-২ ( ঢাকার ক্লাব কোটা) এবং ১০ মার্চ ক্যাটাগরি-১ ( জেলাও বিভাগীয় কোটা) ও ক্যাটাগরি-৩ ( সাবেক ক্রিকেটার, বিভিন্ন সংস্থা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ, শিক্ষা বোর্ডসমূহ, বিকেএসপি, ক্রীড়া পরিদপ্তর, এনএসসি, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, আম্পায়ার্স প্রতিনিধি) থেকে একদল কাউন্সিলর বিসিবির নির্বাচনের অনিয়ম তদন্তে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের কাছে আবেদন করেছেন।
বিসিবির নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে তাঁদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার (১১ মার্চ) ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। সুপ্রীম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে সভাপতি করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে রাখা হয়েছে যুবও ক্রীড়া মন্ত্রানালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: সেলিম ফারুক,যুগ্ম পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসিমুল ইসলাম, ক্রীড়া সাংবাদিক এ টি এম সাইদুজ্জামান এবং সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি ব্যারিষ্টার সালেহ আকরামকে। নির্বাচনে অনিয়ম, কারসাজি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি অনুমোদন করেছেন বলে বলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন যুবও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়কে জমা দিতে হবে।
তদন্ত কমিটিকে তদন্তকাজে ৬টি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। যার মধ্যে বিসিবির নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, কারসাজি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত প্রাপ্ত অভিযোগসমূহ পর্যালোচনা, অভিযোগে উন্থাপিত বিষয়সমূহের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য, নথিপত্র ও দলিলাদি সংগ্রহ করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য গ্রহন, কাউন্সিলর মনোনয়ন প্রক্রিয়া বিসিবির গঠণতন্তম প্রযোজ্য আইন, বিধি ও প্রচলিত নিয়ম অনুসারে সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ক্লাব/সংস্থা থেকে ব্যাখ্যা গ্রহন করা, অভিযোগসমূহের প্রেক্ষিতে কোনো অনিয়ম বা বিধিবহির্ভুত কার্যক্রম সংঘটিত হয়েছে কি না, তা নিরুপন করা এবং ভবিষ্যতে কাউন্সিলর মনোনয়ন ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাও জবাবহিদিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করা।
এমন একটা সময়ে বিসিবির নির্বাচনে অনিয়ম তদন্তে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারী করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, যখন শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের প্রেসিডেন্ট বক্সে বসে বিসিবি পরিচালকদের সাথে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের প্রথম ওডিআই ম্যাচ দেখছেন যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তার আগে বিসিবির প্রবেশ পথে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করেছেন যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তুলতে জাসপ্রিত বুমরাহর জুড়ি নেই। নিখুঁত ইর্য়কার কিংবা দুর্দান্ত স্লোয়ারে নিয়মতিই ব্যাটারদের জীবন কঠিন করে তুলেন বর্তমান সময়ের সেরা এই পেসার। স্লোয়ার ডেলিভারির দক্ষতা ভারতীয় তারকা এই পেসার নাকি শিখেছিলেন এক পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত পেসারের কাছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে এমনটাই দাবি করেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত সংযুক্ত আরব আমিরাতের পেসার জহুর খান।
শুধু বর্তমান সময় নয়, অনেকের কাছে বুমরাহ সর্বকালের অন্যতম সেরা বোলার। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে তো ৩২ বছর বয়সী ফাস্ট বোলারকে ইতিহাসের সেরা বললেও ভুল হবে না। সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেটা আরও একবার প্রমাণ করে দেখিয়েছেন বুমরাহ। বল হাতে যেকোনো মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামথ্য রাখা বুমরাহ যেন কোনো জাদুর কাঠি।
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ব্যাটারদের জন্য ‘জম’ হয়ে আবির্ভাব ঘটা বুমরাহ ধীরে ধীরে নিজেকে আরও ধারালো, আরো পরিণত করেন। ইর্য়কার, স্লোয়ার, বাউন্সার, ইন সুইং, আউট সুইং—কী নেই বুমরাহও অস্ত্রের ভাণ্ডারে? ভারতীয় পেসারের ৫০০’এর বেশি উইকেট এসেছে স্লোয়ার থেকেই। আর এই কৌশলই নাকি তিনি শিখেছিলেন জহুর খানের কাছ থেকে।
আরও পড়ুন
| প্রতি বছর আইসিসি ইভেন্ট নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সাবেক ভারতীয় ব্যাটার |
|
২০১৯ সালের আইপিএলে আমিরাত পর্বে জহুর খান মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের নেট বোলার ছিলেন। সেখানেই বুমরাহ তার বোলিং কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। জহুর জানান, তখনও বুমরাহ স্লোয়ার বল করতেন, কিন্তু তিনি তাকে তাঁর কৌশল আরও উন্নত করতে সাহায্য করেছিলেন। যদিও এই দাবির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অনেকের মনে করছেন, জহুরের এই দাবি কিছুটা অতিরঞ্জিত হতে পারে।
জহুরের মুখ থেকেই শোনা যাক স্লোয়ার শেখানোর সেই গল্প, ‘আমি আপনাদের একটা গল্প বলি। বুমরাহ আগে থেকেই ধীরগতির বল করতেন, তবে তার সাধারণ বোলিং অ্যাকশনে। এক ম্যাচে আবুধাবিতে তিনি ট্রেন্ট বোল্ট এবং নাথান কোল্টার-নিলে অনেক রান হজম করে। সেই বছর সেপ্টেম্বর মাসে আইপিএল চলছিল। সেপ্টেম্বরের আমিরাতে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি হয়। রাতেও বল ঠিকভাবে ধরা যায় না, কারণ এটি ভিজে যায়।’
জহুর ভিডিওতে বলেন, ‘মুম্বাই ইন্ডিয়ানস আমাকে ডাকে। আমি ছয় দিন কোয়ারেন্টাইন করি, সপ্তম দিনে প্র্যাকটিসে যাই। ওই রাতে আমি দলের সঙ্গে ছিলাম। জাহির খান এবং রবিন সিং আমাকে চেনে, কারণ আমি টি-টেন লিগে একটি মেইডেন ওভার করেছি। আমি প্রথম ওভারে ইয়র্কার মারলাম এবং পরের পাঁচটি ডেলিভারি করলাম স্লোয়ার। আমরা একসঙ্গে বসেছিলাম, বুমরাহ এসে টেবিলের সামনে বসে, রোহিত শর্মা বসেছিলেন, আমি বসে সব দেখছিলাম।’
জহুর আরও বলেন, মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের ম্যানেজমেন্ট তার স্লোয়ার সম্পর্কে জানত টি-টেনে পারফরম্যান্সের কারণে। বুমরাহর সঙ্গে নাকি তাঁর দীর্ঘ আলোচনা হয়েছিল এবং নেট প্র্যাকটিসও করেছিলেন, ‘আমি বললাম, একই অ্যাকশন, একই গ্রিপে। তিনি বললেন, এটা কীভাবে সম্ভব? আমি বললাম, প্র্যাকটিসে দেখাবো। প্র্যাকটিসে আমি বল করছিলাম। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বোলিং কোচ ছিলেন শেন বন্ড এবং নেটের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মাহেল জয়াবর্ধনে। আমি স্লোয়ার বাউন্সার করলাম, ব্যাটার পরাস্ত হলো। শেন বন্ড জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার গ্রিপ কী? তুমি অফ-কাটার বল করো?’ আমি বললাম, না, এটা একই গ্রিপ।’
জহুরের যোগ করেন, ‘আমি দেখালাম, দুই-তিনটি স্লোয়ার করলাম। জয়াবর্ধনে বললেন, “দেখো, একই অ্যাকশন আর আর্ম স্পিডে কত ভালো স্লোয়ার হচ্ছে।” এক-দুই দিনের মধ্যে আমি বুমরাহর সঙ্গে বল করছিলাম। তিনি বললেন, “পাজ্জি, তোমার গ্রিপ কী, দেখাও।” আমি দেখালাম, একই গ্রিপে বল করতে হয়। বুমরাহ বললেন, ‘এটা তো একেবারে অন্য লেভেলের জিনিস’! আমি আমিরাতের খেলোয়াড়, আর তিনি বিশ্বমানের বোলার। কিন্তু তিনি এই কৌশল জানতে চাইলেন, এটা আমার খুব ভালো লেগেছিল।’
জহুর আহমেদ অবশ্য জাতীয় দলে দারুণ সাফল্যই পেয়েছেন। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলা ৩৬ বছর বয়সী পেসার ৬২ ওয়ানডে ও ৫৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। দুই সংস্করণ মিলিয়ে মোট শিকার করেছেন ১৬৫ উইকেট।