২৯ আগস্ট ২০২৫, ১১:৪৩ পিএম
ওভারপ্রতি ৬-এর ওপরে রান দিচ্ছিলেন। তবু শেষ ওভারে অধিনায়ক চরিত আসালাঙ্কা আস্থা রাখলেন তাঁর ওপরে। দিলশান মাদুশাঙ্কাও যেন নিজের সেরাটা জমিয়ে রেখেছিলেন রঙিন শেষের জন্য। শেষ ৬ বলে জিম্বাবুয়ে প্রয়োজন ১০ রান। মাদুশঙ্কা হ্যাটট্রিকের বিপরীতে দিলেন মাত্র ২ রান।
শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে তরী এসে তরি ডুবল জিম্বাবুয়ের। ৭ রানে হেরে দুই ম্যাচের ওয়ানডের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ল তারা
জিম্বাবুয়ের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখা সিকান্দার রাজাকে প্রথম বলে বোল্ড করে সেঞ্চুরি বঞ্চিত করেন মাদুশঙ্কা। পরের দুই বলে ব্র্যাড ইভানস ও রিচার্ড এনগারাভাকে ফেরান গোল্ডেন ডাকে। ২৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৮ উইকেটে ২৯১ রান করতে সক্ষম হয় জিম্বাবুয়ে।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বেন কারান ৭০, শন উইলিয়ামস ৫৭, রাজা ৮৭ বলে ৯২ এবং টনি মুনিওঙ্গা ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন। ৬২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন মাদুশঙ্কা।
আরও পড়ুন
| তামিম-জাওয়াদদের নিয়ে ইংল্যান্ড সফরে শক্তিশালী দল |
|
হারারে স্পোর্টস ক্লাবে টস জিতে লঙ্কানদের আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় স্বাগতিকেরা। পাতুম নিসাঙ্কা, জেনিত লিয়ানাগে ও কামিন্দু মেন্ডিসের ঝোড়ো ফিফটিতে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৯৮ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা।
শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি লঙ্কানদের ৯ রানের হারায় ওপেনার নিশান মাদুশকার উইকেট। প্রথম ৫ ওভার পর্যন্ত এক অঙ্কের ঘরে ছিল তারা। ১৩ বলে ০ রানে ফেরেন মাদুশকা। দ্বিতীয় উইকটে কুশল মেন্ডিস ও নিসাঙ্কার ১০০ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা।
কুশল ৩৮ ও নিসাঙ্কা করেন ৯২ বলে ৭৬ রান। সাদিরা সামারবিক্রমাও (৩৫) থিতু হয়ে ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। ৬ রানে আউট হন চরিত আসালাঙ্কা। ষষ্ঠ উইকটে লিয়ানাগে ও কামিন্দু ৮৩ বলে গড়েন ১৮৭ রানের অসাধারণ এক জুটি। তাতে স্কোরটা প্রায় তিন শ ছুঁই ছুঁই হয়।
লিয়ানাগে ৩ ছক্কা ও ৬টি চারে ৪৭ বলে করেন ৭০ রান। ২ ছক্কা ও ৪টি চারে ৩৬ বলে ৫৭ রান করেছেন কামিন্দু। ৩৪ রান দিয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন এনগারাভা।
No posts available.
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ২:৩৫ পিএম
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৪ এম

ক্রিকেট সিজনের শেষ দিকে এসে পিচ হয়ে পড়ে ব্যাটিং বান্ধব। এমন পিচ নিউ জিল্যান্ডকে উপহার দিলে তা হবে বুমেরাং। সে কারণেই অতীতের মতো নিজেদের ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে শ্লো পিচ প্রস্তুত রাখার নির্দেশনাই ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের। স্পিনারদের সুবিধার কথা ভেবে তো বটেই, বাংলাদেশের পেস ডিপার্টমেন্টকে এডভান্টেজ দিতে মিরপুরে এমন উইকেটই করা হয়েছে প্রস্তুত। পিচের উপর ছোপ ছোপ সবুজ ঘাস, দূর থেকে দেখে বাউন্সি মনে হলেও পিচটা পুরোপুরি ট্রিপিক্যাল বাংলাদেশী। এমন একটা পিচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে অপেক্ষাকৃত অনভিজ্ঞ নিউ জিল্যান্ড স্কোর টেনে নিয়েছে ২৪৭/৮পর্যন্ত।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে রানের জন্য ধুঁকতে থাকা নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ছিল ৩৮/১। সেখান থেকে ২২০ পর্যন্ত স্কোর টেনে নেয়াটাই তাঁদের জন্য দুরুহ হওয়ার কথা। তবে শেষ পাওয়ার প্লে-তে কিউই ব্যাটাররা যোগ করেছে ৩ উইকেট হারিয়ে ৬৫ রান। তাতেই বাংলাদেশকে ২৪৯ রানের চ্যালেঞ্জ দিতে পেরেছে সফরকারী দল।
এই ম্যাচে অনভিজ্ঞ নিউ জিল্যান্ড দলের দুই ব্যাটার নিকোলাস (৮৩ বলে ৯ বাউন্ডারিতে ৬৮), ফক্সফোর্ট (৫৮ বলে ৯ বাউন্ডারিতে ৫৯) পেয়েছেন ফিফটি। মাত্র ৮ রানে ভেঙ্গে দেয়া যেতো যে জুটি, শরীফুলের বলে উইল ইয়ংয়ের ক্যাচ সাইফ হাসান স্লিপে ফেলে দিলে সেই দ্বিতীয় উইকেট জুটি থেমেছে ৭৩ রানে। ১ রানে জীবন ফিরে পাওয়া উইল ইয়ং ইনিংস টেনে নিয়েছেন ৩০ পর্যন্ত।
এমন একটা ম্যাচে নিয়মিত ৫ বোলারের বাইরে কারো হাতে এক ওভারের জন্যও তুলে দেননি অধিনায়ক বল। পিএসএল মাতিয়ে দেশে ফেরা নাহিদ রানা মিতব্যয়ী বোলিং করতে পারেননি। শ্লো পিচে গতির ঝড় তুলতে যেয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের রানের জন্য সহায়ক পরিস্থিতি তৈরি করে দিয়েছেন নাহিদ রানা (১০-০-৬৫-১)। ২ উইকেটের বিপরীতে তাসকিনের খরচ সেখানে ওভারপ্রতি ৫.০০ রান। তবে ১৬৪টি ডট বলের ইনিংসে বাংলাদেশের তিন পেসার মিলে দিয়েছেন ১০৯টি ডট। তিন পেসারের উইকেটের সমষ্টি ৫। লেগ স্পিনার রিশাদের প্রথম স্পেলটি (৭-০-৩০-২) নিউ জিল্যান্ডের রানের লাগাম টেনে ধরেছে।
এমন একটা ম্যাচে মোস্তাফিজের অভাবটা টের পেয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট, দর্শক। ডেথ ওভারে মিতব্যয়ী বোলিংয়ে পরীক্ষিত বাঁ হাতি কাটার মাস্টারের একাদশে না থাকাটা দুর্ভাগ্যজনক। প্লেয়ার্স লিস্টে একাদশে থাকার কথা ছিল তাঁর। তবে ওয়ার্ম আপের সময় মোস্তাফিজ ডান হাঁটুতে অস্বস্তিবোধ করায় টসের আগে তাঁকে একাদশের বাইরে রাখা হয়। তাঁর জায়গায় নেওয়া হয় আর এক বাঁ হাতি শরীফুল ইসলামকে। এই শরীফুলই ছিলেন সবচেয়ে মিতব্যয়ী (১০-২-২৭-৩)। নতুন বলে তাঁর ২ ওভারের প্রথম স্পেলটি ছিল এক কথায় অসাধারন (২-০-২-০)। এন্ড চেঞ্জ করে উইকেটের মুখ দেখেছেন দ্বিতীয় স্পেলে (৩-১-৭-১)। ইনিংসের প্রথম ব্রেক থ্রু-টি তাঁর। শরীফুলের তৃতীয় ডেলিভারিটি ছিল অফ স্ট্যাম্পের উপরে। সেই বলে ক্রস খেলতে যেয়ে সুইংয়ে পরাস্ত হয়ে বোল্ড নিক কেলি (২৩ বলে ৭)। তৃতীয় স্পেলটিও (৩-১-১০-১) বলার মতো। যে স্পেলে মুহাম্মদ আব্বাসকে এক্সট্রা বাউন্সি ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন (৩০ বলে ১৪)।

মোস্তাফিজুর
রহমানের শেষ মুহূর্তে চোটে কপাল খুলল শরিফুল ইসলামের। প্রায় ১৭ মাস তিনি ফিরলেন ওয়ানডে
মাঠে। আর এই সুযোগটি দারুণভাবে কাজে লাগালেন বাঁহাতি পেসার। চমৎকার বোলিংয়ে নিউ জিল্যান্ডকে
আটকে রাখতে বড় ভূমিকা ২৪ বছর বয়সী এই পেসারেরই।
মিরপুর
শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার প্রথম ওয়ানডেতে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৭
রান করেছে কিউইরা। টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে বাংলাদেশের সেরা বোলার শরিফুল। ১০ ওভারে
২ মেডেনসহ মাত্র ২৭ রানে তিনি নিয়েছেন ২ উইকেট। সব মিলিয়ে করেন ৪২টি ডট বল।
অথচ
২০২৪ সালের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচের পর আর ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাননি
শরিফুল। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতেও একাদশে শুরুতে ছিলেন মোস্তাফিজ। কিন্তু
ম্যাচ শুরুর আগে অনুশীলনে মোস্তাফিজ চোট পাওয়ায় সুযোগ পান শরিফুল।
নতুন
বলে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে শুরু করেন বাঁহাতি এই পেসার। পরে সপ্তম ওভারে নিক কেলিকে
বোল্ড করে প্রথম ব্রেক থ্রুও দেন শরিফুল। পাওয়ার প্লেতে ৪ ওভার করে এক মেডেনসহ মাত্র
৮ রান দেন তিনি।
পরে
মাঝের ওভারে ফিরেও কিপটে বোলিং অব্যাহত রাখেন ২৪ বছর বয়সী পেসার। তার বোলিংয়ের কোনো
জবাব দিতে পারেননি হেনরি নিকোলস, টম ল্যাথাম, ডিন ফক্সক্রফটরা। গতির তারতম্য ও চমৎকার
লাইন-লেংথে রান আটকে রাখেন তিনি সুনিপুণ দক্ষতায়।
৩৬তম
ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসকে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন শরিফুল। পরে ডেথ ওভারেও বেশি
রান দেননি তিনি। সব মিলিয়ে নিউ জিল্যান্ডকে আড়াইশ রানের নিচে আটকে রাখার বড় কারিগর
শরিফুল।
কিউইদের পক্ষে ৯ চারে ৮৩ বলে সর্বোচ্চ ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন ওপেনার নিকোলস। এছাড়া ছয় নম্বরে নেমে ৫৮ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন ফক্সক্রফট। প্রায় তিন বছর পর খেলতে নেমে ৮ চারে ইনিংস সাজান তিনি।
শরিফুল
ছাড়াও বাংলাদেশের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও রিশাদ হোসেন।
নিউ
জিল্যান্ডকে ২৪৭ রানে আটকে রাখলেও বাংলাদেশকে জয়ের জন্য দিতে হবে কঠিন পরীক্ষা। এই
মাঠে এখন পর্যন্ত ২৪৬ বা তার বেশি রান তাড়া করতে নেমে ১৬ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২টি জিতেছে
বাংলাদেশ। তাই এবার কঠিন চ্যালেঞ্জ সামনেই লিড নিতে হবে সিরিজে।

দীর্ঘ
বিরতির দিয়ে আবার বাংলাদেশের মাঠে ওয়ানডে খেলতে আসছে অস্ট্রেলিয়া। আগামী জুনে ফিফা
ফুটবল বিশ্বকাপের ডামাডোলের মাঝে সাদা বলের দুই সিরিজ খেলতে আসবে বিশ্ব ক্রিকেটের শক্তিশালী
দলটি।
২০১১
সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশের মাঠে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলবে তারা। ক্রিকেট
অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) ওয়েবসাইট ক্রিকেট ডটকম ডট এইউতে শুক্রবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে
ঘোষণা করা হয়েছে তাদের বাংলাদেশ সফরের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের পূর্ণাঙ্গ সূচি।
মিরপুর
শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী ৯, ১১ ও ১৪ জুন হবে ওয়ানডে সিরিজের তিন
ম্যাচ। এরপর চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি
ম্যাচ যথাক্রমে ১৭, ১৯ ও ২১ জুন।
ওয়ানডে
সিরিজের সবগুলো ম্যাচ শুরু হবে দুপুর ২টায়। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ শুরু
হবে সন্ধ্যা ৬টায়। আর শেষেরটি মাঠে গড়াবে দুপুর ২টায়।
বছরের
শুরুতে বিসিবির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছিল, এই দুই সিরিজের সূচি। তবে তখন ওয়ানডে তিনটি
ছিল ৫, ৮ ও ১১ জুন। আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো ছিল ১৫, ১৮ ও ২০ জুন। দুই সিরিজের সূচিতেই
এসেছে পরিবর্তন।
বাংলাদেশে
২০১১ সালের বিশ্বকাপের পর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলে গিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। পরে আর
ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হয়নি দুই দল। আর ২০২১ সালের বিশ্বকাপের আগে সবশেষ টি-টোয়েন্টি
সিরিজে লড়েছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া।
ঘরের
মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই দুই সিরিজ খেলার পর আবার অগাস্টে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ
খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় যাবে বাংলাদেশ। ডারউইন ও ম্যাকাইতে হবে ওই দুই টেস্ট। ২০০৩ সালের
পর সেটিই হতে চলেছে অস্ট্রেলিয়ার
মাঠে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সিরিজ।

ভাবুন তো, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৪৯৫ ম্যাচে ১৩৪৭ উইকেট। স্পিন কিংবদন্তী মুত্তিয়া মুরালীধরন নিজেকে এতোটা উচ্চতায় তুলেছেন,যে উচ্চতায় তাঁর ধারে কাছে নেই কেউ। নিকট ভবিষ্যতেও এমন কৃতি গড়ার কথা কল্পনায়ও কেউ ভাবছেন না। আশ্চর্য হলেও সত্য, তার ৪টি মাইলস্টোনের সঙ্গে জুড়ে আছে বাংলাদেশের নাম। ২০০১ সালে আশরাফুল টেস্ট অভিষেকে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ানের রেকর্ড করেছেন, সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে আশরাফুলের সেই রেকর্ডময় টেস্টে মুরালীধরন টেস্টে ৩৫০ উইকেটের মাইলস্টোন ছুঁয়েছেন। ৬৬ তম টেস্টে ৩৫০ উইকেটে এই মাইলস্টোনে দ্রুততম মুরালীধরন।
১০০তম টেস্ট খেলেছেন তিনি চট্টগ্রামে, ২০০৬ সালে, বাংলাদেশের বিপক্ষে। সেই মাইলস্টোন টেস্টে আর একটি রেকর্ড করেছেন তিনি। বিশ্বের প্রথম বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১০০০তম উইকেটের মালিকানা পেয়েছেন। বগুড়ায় পরের টেস্টটিও তাঁর রেকর্ডময়। ১০১ তম টেস্টে প্রথম বোলার হিসেবে ৬০০ উইকেটের মাইলস্টোন ছুঁয়েছেন। এক বছর পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্যান্ডি টেস্টটিও তার মাইলস্টোনের। প্রথম বোলার হিসেবে টেস্টে ৭০০তম উইকেট শিকার করেছেন। ২০১০ সালে গল-এ ভারতের বিপক্ষে ফেয়ারওয়েল টেস্টটি স্মরণীয় করে রেখেছেন। বিশ্বের প্রথম বোলার হিসেবে টেস্টে ৮০০ উইকেটের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেছেন।
এমন এক বিস্ময় বোলারের ৩টি মাইলস্টোনের প্রত্যক্ষদর্শী আমি। দেখেছি টেস্টে ৩৫০ উইকেট ক্লাবে তার দ্রুততম রেকর্ড। দেখেছি টেস্টে ৬০০ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর হাজারতম উইকেট। এই তিনটি মাইলস্টোনের ম্যাচ রিপোর্ট এবং তার কৃতির কথা লিখেছি বড় করে। দৈনিক ইনকিলাবে ছাপা হয়েছে তা। ৩৫০তম উইকেটে ক্লাবে দ্রুততম রেকর্ডের পর মুরালীধরনের ইন্টারভিউ নিয়েছি। সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সেই ইন্টারভিউটি নিয়েছি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের মিডিয়া ম্যানেজারের সহায়তায়। শ্রীলঙ্কার তখন হেড কোচ ডেভ হোয়াটমোরের পাশে বসে ড্রেসিং রুমে সেই ইন্টারভিউ নেয়ার সময় সেখানে ছিলেন আর একজন সাংবাদিক, ভোরের কাগজের স্পোর্টস এডিটর প্রয়াত অঘোর মন্ডল। তখন প্লেয়ার্স ড্রেসিং রুমে অনুমতি নিয়ে ঢোকা যেতো বলে তা সম্ভব হয়েছে। ডেভ হোয়াটমোরের শর্ত ছিল একটাই, মুরালীধরনের বোলিং অ্যাকশনে ত্রুটি নিয়ে আইসিসির নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না। ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম বোলার হিসেবে হাজারতম উইকেটের মাইলস্টোনে মুরালীধরন পা রাখার পর বিসিবির তৎকালীন কার্যনির্বাহী সদস্য সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর সেই টেস্ট কাভার করতে আসা সংবাদকর্মীদের সবাইকে দিয়েছিলেন মুরালীধরনের অটোগ্রাফ সম্বলিত একটি করে টি-শার্ট।
২০১৩ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের শ্রীলঙ্কা সফরটি ছিল গল-এ। টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর, প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে মুশফিকুর রহিমের ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ডের গল্প লিখেছি। ইনিংস ব্রেকের সময়ে গিয়েছিলাম গল এর মিউজিয়ামে। মিউজিয়ামটির তখন সংস্কার চলছে। টেবিলের উপর পড়ে আছে টেস্টে মুরালীধরনের ৮০০তম উইকেটের বল। সেই বলটি হাতে নিয়ে ছবি তোলার সে কি আনন্দ ?
আজ এই স্পিন জাদুকরের ৫৩তম জন্মবার্ষিকী। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১১ টেস্টে ৮৯ উইকেট, চার-চারটি মাইলস্টোন যার, জন্মদিনে তাঁর রেকর্ড গড়া বলটি ছুঁয়ে দেখার আনন্দটা মনে করিয়ে দিয়েছে আর একবার।

কানাডা ক্রিকেটের জন্য এক বড়সড় ধাক্কা হিসেবে সামনে এসেছে আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটের (এসিইউ) তদন্ত। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কানাডার একটি ম্যাচসহ দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে এসিইউ।
ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদন, বর্তমানে এসিইউ-এর দুটি সক্রিয় তদন্ত চলছে। যার মধ্যে ক্রিকেট কানাডার প্রশাসনিক পর্যায়ের দুর্নীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী কোড বা নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগও রয়েছে।
কানাডার একটি অনুসন্ধানী তথ্যচিত্র বিষয়ক প্রোগ্রাম 'দ্য ফিফথ এস্টেট'-এর নির্মিত 'করাপশন, ক্রাইম অ্যান্ড ক্রিকেট' নামক একটি তথ্যচিত্রে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগগুলো সামনে আসে। গত শুক্রবার দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসি-তে ৪৩ মিনিটের এই তথ্যচিত্রটি প্রচারিত হয়। সেখানে কানাডা ক্রিকেটের সুশাসন ও দুর্নীতির নানা দিক নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এই তথ্যচিত্র অনুযায়ী, বিশ্বকাপে দুর্নীতির অভিযোগটি মূলত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কানাডার ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে। আইসিসির আতশি কাঁচের নিচে রয়েছে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের পঞ্চম ওভারটি, যখন কানাডার অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়া বল করতে আসেন। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে ২২ বছর বয়সী বাজওয়াকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
ব্যাটিং অলরাউন্ডার বাজওয়া যখন বল হাতে নেন, তখন নিউজিল্যান্ডের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৩৫ রান। কানাডার পেসার জাসকারান সিং এবং ডিলন হেইলিগার শুরুটা বেশ বাজে করেছিলেন, তারা যথাক্রমে ১৫ ও ১৪ রান খরচ করেন। পরিস্থিতির চাপে কানাডা ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই স্পিন আক্রমণ আনে এবং সাদ বিন জাফর একটি 'উইকেট মেইডেন' ওভার করেন। পরের ওভারে হেইলিগার একটি উইকেট শিকার করেন—আর ঠিক তখনই বাজওয়া বোলিংয়ে আসেন। ওভারের শুরুতেই তিনি একটি নো-বল করেন, এরপর লেগ সাইডে একটি ওয়াইড দেন এবং শেষ পর্যন্ত ওই এক ওভারেই ১৫ রান দিয়ে বসেন।
আইসিসির অপর তদন্তটি শুরু হয়েছে কানাডার তৎকালীন কোচ খুররম চৌহানের একটি টেলিফোন কল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে। সেখানে চৌহান দাবি করেন যে, ক্রিকেট কানাডার তৎকালীন সিনিয়র বোর্ড সদস্যরা জাতীয় দলে নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তাঁর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। গত বছর এই অডিওটি ফাঁস হয় এবং তখন থেকেই এটি এসিইউ-এর তদন্তাধীন রয়েছে। ওই রেকর্ডিংয়ে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের চেষ্টার কথাও উল্লেখ আছে, যদিও সেগুলোর স্বপক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার মতো অকাট্য প্রমাণ জোগাড় করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইসিসির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের অন্তর্বর্তীকালীন জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন,
‘সিবিসি প্রচারিত প্রোগ্রামটি সম্পর্কে এসিইউ অবগত রয়েছে। তবে সংস্থাটির প্রচলিত কার্যপ্রণালী অনুযায়ী, এই তথ্যচিত্রে থাকা কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে এই মুহূর্তে এসিইউ কোনো মন্তব্য করতে পারবে না।’
এই তথ্যচিত্রে কানাডার আরও একজন সাবেক কোচ পুবুদু দাসানায়েকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। তিনিও দলে খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর ওপর অনুচিত প্রভাব খাটানোর একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাঁর ক্ষেত্রে ঘটনাটি ছিল ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়। 'দ্য ফিফথ এস্টেট' জানায়, বোর্ড দাসা নায়েককে নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড় নির্বাচনে ‘বাধ্য করার’ চেষ্টা করেছিল এবং যখন তিনি তা মানতে রাজি হননি, তখন তাকে জানানো হয় যে তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ করে দেওয়া হবে (বরখাস্ত করা হবে)। দাসা নায়েক বর্তমানে এই 'অন্যায় বরখাস্তের' বিরুদ্ধে ক্রিকেট কানাডার নামে মামলা লড়ছেন।