
ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতা চাপ সামলাতে লিগ আঁতে পিএসজি ম্যাচের সূচি বদল- এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল লিগ আয়োজক কর্তৃপক্ষ- এলএফপি।
আগামী ১১ এপ্রিল লিগের ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল পিএসজি ও লেন্সের। কিন্তু সেটি প্রায় এক মাস পিছিয়ে এখন ১৩ মে তারিখে নেওয়া হয়েছে।
এর কারণ মূলত ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুলের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালের দুই লেগের ম্যাচের মাঝে যেন পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় পিএসজি।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সূচি অনুযায়ী, ৮ এপ্রিল প্যারিসে প্রথম লেগে মুখোমুখি হবে পিএসজি ও লিভারপুল। আর ১৪ এপ্রিল অ্যানফিল্ডে হবে ফিরতি লেগ। দুই ম্যাচের মাঝখানেই ছিল পিএসজি ও লেন্সের গুরুত্বপূর্ণ লড়াই।
ওই ম্যাচটি সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। আলোচনার শুরু থেকেই এই ম্যাচ স্থগিতের বিরোধিতা করে আসছিল লেন্স। ক্লাবটি এক বিবৃতিতে জানায়, সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত থাকলেও তারা সেটি মেনে নিচ্ছে ও নিজেদের লক্ষ্য পূরণে লড়াই চালিয়ে যাবে।
লিগ আঁর পয়েন্ট তালিকাতেও এই ম্যাচের গুরুত্ব বেশ। বর্তমানে শীর্ষে থাকা পিএসজির চেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে দুই নম্বরে রয়েছে লেন্স। তবে পিএসজি একটি ম্যাচ কম খেলেছে। তাই ব্যবধান কমাতে লেন্সের জন্য ম্যাচটি ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু এই ম্যাচই নয়, ইউরোপিয় প্রতিযোগিতার কারণে স্ট্রাসবুর্গ ও ব্রেস্টের ম্যাচও পিছিয়ে ১৩ মে নেওয়া হয়েছে। ইউরোপা কনফারেন্স লিগে জার্মান ক্লাবের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনাল খেলবে স্ট্রাসবুর্গ, তাদেরও বিশ্রাম দেওয়ার যুক্তি দেখিয়েছে লিগ কর্তৃপক্ষ।
এলএফপি জানিয়েছে, ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় ফরাসি ক্লাবগুলোর ভালো ফল নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ। তাদের বিশ্বাস, এতে লিগের মর্যাদা বাড়বে ও ভবিষ্যতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চারটি দলের জায়গা ধরে রাখা সহজ হবে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে- কোনো দলের সুবিধার জন্য সূচি বদল কি লিগের প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট করছে? এই বিতর্কের উত্তর মিলবে হয়তো মৌসুমের শেষেই।
No posts available.
২৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৩১ এম
২৭ মার্চ ২০২৬, ৯:১৩ এম

জায়ান্ট দুই ফুটবল দলের ম্যাচ বলে কথা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস, বাঁকে বাঁকে চমক, প্যানডোরার বক্সের উপখ্যান, রেকর্ড; সে সঙ্গে খেরোখাতা উল্টানোর খচখচানি শব্দ —সেসববের কিছু না হলেও ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রাতে ব্রাজিল ও ফ্রান্সের ম্যাচটি কিন্তু কম রোমাঞ্চ ছড়ায়নি।
হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে মোটে তিন গোল হলেও হলুদ কার্ড, লাল কার্ড এবং ফাউলের ঘটনা বেশ নজরে আসে। ম্যাচে মোট ফাউল হয়েছে ২৪ বার। দুই দল ১২টি করে ফাউল করেছে। হলুদ কার্ডের ৪টি ব্রাজিলের, ৩টি ফ্রান্সের। লাল কার্ড দেখেছেন ফরাসি সেন্টারব্যাক দায়োত উমামেকানো। ১০ জলের দলের পরিণত হলেও জয় বঞ্চিত থেকেছে সেলসাওরা। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ১৯৫৮ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের পর জয়বঞ্চিত থাকার ধারাও ভাঙতে পারল না ব্রাজিল।
ম্যাচের শেষে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, ম্যাচ হারলেও বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন তিনি। আনচেলত্তি বলেন, ‘ম্যাচ হারলে কেউই খুশি হয় না। তাই বলতে পারেন, এই ফলে আমি অর্ধেক সন্তুষ্ট। সামনে এখনো দীর্ঘ পথ, তবে ইতিবাচক থাকার মতো কারণও আছে।’
জিলেট স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে বেশ ভুগেছে ব্রাজিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বেশ লড়াই করেছে তারা। বিশেষ করে যোগ করা সময়ে ব্রেহমের ক্রস পা ছোঁয়ালেই সম্মান নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারতো হলুদ জার্সিধারীরা। তারপরও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়াদের পারফরম্যান্স ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন আনচেলত্তি।
ব্রাজিল কোচ বলেন, ‘আমার মনে হয় আজকের ম্যাচটি একটি বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছে—আমরা বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা রাখি। এ নিয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই। আমি বিশ্বাস করি, সবটুকু শক্তি দিয়েই আমরা বিশ্বকাপ জয়ের লড়াই করব।’
ইতালি ম্যাচের আগে নেইমার জুনিয়রের স্কোয়াডে না থাকা ইস্যুতে বেশ আলোচনা জন্ম দেয়। বিশেষ দেশটির সর্বোচ্চ স্কোরারের অনুপস্থিতি অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। যদিও এ নিয়ে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন আনচেলত্তি। জিলেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে এ বিষয়ে আরও একবার প্রশ্নের মুখে পড়েন ব্রাজিল কোচ।
স্টেডিয়ামে ৬৫ হাজারের বেশি দর্শকের মাঝ থেকে ‘নেইমার, নেইমার’ স্লোগান তুলেছিলেন সমর্থকেরা। ম্যাচ শেষে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে আনচেলত্তি বলেন, ‘এখন আমাদের শুধু তাদের নিয়েই কথা বলা উচিত, যারা দলে আছে এবং খেলছে। তাদের অর্জনে আমাদের মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন এবং ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পরের ম্যাচের প্রস্তুতিতে নিতে হবে।’

কি হয় কি হয়, এমন একটা শঙ্কা তাড়া করে বেড়াচ্ছিল জেনারো গাত্তুসোকে। তার দল ইতালি চারবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন। অথচ তৃতীয়বার বিশ্বকাপ বাছাই উৎরানোর শঙ্কায়। যদিও সান্দ্রো টোনালি ও মোইজে কিনরার বদৌলতে এখনও বিশ্বকাপ স্বপ্ন টিকে আছে আজ্জুরিদের।
বৃহস্পতিবার রাতে ঘরের মাঠ স্তাদিও দি বেরগামোতে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের সেমিফাইনালে উত্তর আয়ারল্যান্ডকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে ইতালি। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বের টিকিট পেতে আগামী মঙ্গলবার ফাইনালে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হবে আজ্জুরিরা।
ডু অর ডাই ম্যাচে বল পজিশন শটস, অন টার্গেট শট এবং চান্স তৈরিতে আধিপত্য দেখিয়েছে ইতালি। ম্যাচে প্রায় ৬৩ শতাংশ বল তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৯টি শটের ৮টি ছিল গোলপোস্টে গোলের লক্ষ্যে। দুটি সুযোগ তৈরি এবং একটি বড় সুযোগ মিস করে তারা।
আরও পড়ুন
| ইয়োকেরেসের হ্যাটট্রিক, বিশ্বকাপ আশা জিইয়ে রইল সুইডেনের |
|
টানা দুইবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ওঠতে ব্যর্থ হওয়া ইতালি বলা চলে স্বপ্নের কাছাকাছি। প্রতিপক্ষের ওপর ছড়ি ঘোরালেও ম্যাচটি কঠিন ছিল বলে মনে করেন গাত্তুসো।
ম্যাচ শেষে সম্প্রচার চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ম্যাচটা মোটেও সহজ ছিল না, অনেক লড়াই করতে হয়েছে। তারা আমাদেরও চমক দিয়েছে, ভার্টিকাল পাস খেলতে চেয়েছিল। আমরা আরও ভালো করতে পারতাম।’’
গাত্তুসো আরও বলেন, “ম্যাচের দিকে আমাদের পূর্ণ মনোযোগ ছিল। লোকাতেল্লি অনেক নিচে নেমে খেলেছিল। ফলে খেলা ঠিক মতো সাজাতে পারিনি। তবুও আমরা ভালো খেলেছি এবং এটা সহজভাবে আসে না। বিরতির পরে আমরা বল আরও দ্রুত ঘুরিয়েছি। এখন আমাদের ফাইনাল খেলতে হবে।’’
ম্যাচে একচেটিয়া আধিপত্য থাকলেও গাত্তুসি মনে করেন দুই দলই সমান চাপ অনুভব করেছে। ইতালি কোচ বলেন, “ম্যাচের চাপ আমরা যেমন অনুভব করি, প্রতিপক্ষও ঠিক একই চাপ অনুভব করছে। দু’টি দলের পরিস্থিতি আলাদা, ভিন্ন পরিবেশ আমাদের অপেক্ষা করছে, কিন্তু আমরা এই মুহূর্তটা উপভোগ করতে চাই।”
একটা কঠিন সময় পার করার পর আরধ্যের জয় শেষে সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাতে ভুলেননি গাত্তুসো। ‘‘বেরগামো সমর্থকদের আবারও ধন্যবাদ জানাই, আমি খুব কম প্রতিবাদ শুনেছি। অর্ধ সময়ের বিরতিতে আমরা লকাররুমে যাই, কিন্তু প্রশংসা পেয়েছি। বারগামোর মানুষদের ধন্যবাদ, এখন আমরা সবাই মিলেই ফাইনালে যাচ্ছি।”

দলের বিপর্যয়ে আরও একবার ঢাল হয়ে দাঁড়ালের ভিক্টর ইয়োকেরেস। ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইপর্বে প্লে অফের ডু অর ডাই ম্যাচে দারুণ এক হ্যাটট্রিকে সুইডেনের বিশ্বকাপ আশা জিইয়ে রাখলেন আর্সেনাল স্ট্রাইকার। ইউক্রেইনকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে তারা। প্লে অফের ফাইনালে সুইডেনের প্রতিপক্ষ পোল্যান্ড।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ৪৫ মিনিটে স্পেনের স্তাদিও সিউদাদ দে ভ্যালেনসিয়া স্টেডিয়ামে ম্যাচঘড়ির ষষ্ঠ মিনিটে এগিয়ে যায় সুইডেন। দলকে লিড এনে দেওয়া ইয়োকেরেস বাকি গোল দুটি করেন দ্বিতীয়ার্ধে। ইউক্রেনের সান্ত্বনা গোলটি আসে ৯০ মিনিটে।
ম্যাচ শুরুর মাত্র ছয় মিনিটে কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ইয়োকেরেস। বিরতির পরও একই ছন্দ ধরে রাখেন আর্সেনাল ফরোয়ার্ড। দ্বিতীয় গোলটি (৫১ মিনিট) করেন দারুণ দক্ষতায়। এরপর ৭৩তম মিনিটে নিজেই পেনাল্টি আদায় করে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। ফলে মাতিভি পনমারনেকোর শেষ দিকের গোলটি শুধুই সান্ত্বনা হয়ে থাকে ইউক্রেনের জন্য।
আরও পড়ুন
| সুযোগ নষ্টের খেসারত, ১০ জনের ফ্রান্সের কাছে হার ব্রাজিল |
|
এই জয় সুইডেনের জন্য অনেকটা স্বস্তির। বাছাইপর্বের শুরুটা ভালো না হওয়ায় চাপে ছিলেন কোচ গ্রাহাম পটার। এখন সেখান থেকে মুক্তি পেলেন ইয়োকেরেসের কারণে। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘‘গোলের বাইরে, হ্যাটট্রিক করা আলাদা কথা, আমি মনে করি পুরো ম্যাচে তার বল ধরে রাখার খেলা এবং দলের জন্য প্রতিরক্ষার দায়িত্বও অসাধারণ ছিল।”
ম্যাচের আগের ঘটনা বর্ণানা করতে গিয়ে পটার বলেন, “আমি শুধু বলেছিলাম—যাও এবং হ্যাটট্রিক কর। কিন্তু না, জয়ের সুন্দর দিকটা হলো সবাই একসঙ্গে ছিল। দলের মানসিকতা চমৎকার ছিল।”
ইউক্রেনের জন্য এটি আরেকটি হতাশার ম্যাচ। দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের মাঠে খেলতে না পারায় তারা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই রয়েছে। দেশের মানুষকে আনন্দ দেওয়ার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু তা আর পূরণ হলো না। ২০০৬ সালের পর আবার বিশ্বকাপে খেলার আশা ছিল তাদের, সেটিও ভেঙে গেল। এদিন অবশ্য বেশ দাপটের সঙ্গেই খেলেছে ইউক্রেন ৬৮ শতাংশ বল তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
সুইডেন এই যাত্রায় পাস করলেও স্টকহোমে তাদের সামনে কঠিন প্রতিপক্ষ পোলান্ড। আলবেনিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ধাপে পৌঁছে রবের্ত লেভানডভস্কিরা। ১ এপ্রিল যে দল জিতবে তারাই যাবে ২০২৬ বিশ্বকাপে।

যোগ করা সময়ে ব্রেহমেহের শটে একটু খানি পায়ের ছোঁয়ায় হয়তো বদলে যেত ম্যাচের ফল। হয়নি, ভাগ্যের লিখন হয়তো খণ্ডন হয়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। প্রথমার্ধে নিষ্প্রভ হয়ে থাকা সেলসাওরা অন্তিম মুহুর্তে প্রাণপন লড়াই করেও সমতায় ফিরতে পারেনি। তাতেই ফিফা প্রীতি ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের ফক্সবরোতে ৪০ মিনিটেরও বেশি ১০ জন নিয়ে খেলেছে ফ্রান্স। ৫৫ মিনিটে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন ফরাসি সেন্টারব্যাক দায়োত উমামেকানো। লম্বা সময় ধরে বড় সুযোগের পরও প্রতিপক্ষ থেকে সুবিধা আদায় করতে পারেনি ব্রাজিল।
বস্টনে প্রথমার্ধে কিলিয়ান এমবাপে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ান হুগো একিটিকে। ব্রাজিলের হয়ে জালের দেখা পান ডিফেন্ডার ব্রেহমেহ।
আরও পড়ুন
| পিএসজিকে বাড়তি সুবিধা দিয়ে লিগের ম্যাচ স্থগিত |
|
ম্যাচের ৩২ মিনিটে উসমান দেম্বেলের দুর্দান্ত এক থ্রু বল ধরে আগুয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে ফ্রান্সকে ১–০ গোলে এগিয়ে দেন এমবাপে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ডের ৫৬তম গোল। ৫৭ গোল নিয়ে চূড়ায় তার এক সময়ের সতীর্থ অলিভিয়ে জিরু।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ১০ জলের দলে পরিণত হয় ফ্রান্স। ৫৫ মিনিটে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন দায়োত উপামেকানো। ১০ জন হয়ে যাওয়া ফ্রান্সের বিপক্ষে সুযোগটা নিতে পারেনি ব্রাজিল। উল্টো ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হুগো। ৬৫তম মিনিটে দলের স্কোরলাইন ২-০ করতে সাহায্য করেন লিভারপুল ফরোয়ার্ড।
৭৮তম মিনিটে ব্যবধান কমান ব্রেহমেহ। সতীর্থের ফ্রি কিক বাইলাইন থেকে কাটব্যাক করেন কাসেমিরো। বল পেয়েই গোলের জন্য শট নেন লুইস এইহিক। মাঝ পথে পা বাড়িয়ে দিক পাল্টে ঠিকানা খুঁজে নেন ব্রেহমেহ। ব্রাজিলের হয়ে জুভেন্টাস ডিফেন্ডারের এটাই প্রথম গোল।
ম্যাচে ৫৪ শতাংশ বল দখলে রেখেছে ফ্রান্স। গোলের লক্ষ্যে তাদের শট ছিল৭টি। ব্রাজিলের ৪টি। তারা চান্স তৈরি করতে পেরেছে তিনটি। একটি কম ফরাসিদের।
রবিববার কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ফ্রান্স। মঙ্গলবার ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।

সব সমীকরণের একটাই ফয়সালা—জয়। হ্যাঁ, বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারের স্বপ্ন জিইয়ে রাখতে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালির। সে যাত্রায় আপাতত পাশ জেনারো গাত্তুসোর দল। বৃহস্পতিবার রাতে বাছাই পর্বের সেমি-ফাইনালের বাঁচা-মরা ম্যাচে আইরিশদের স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে ইতালি।
ঘরের মাঠ স্তাদিও দি বেরগামোতে ২-০ গোলে জিতেছে ইতালি। আজ্জুরিদের হয়ে গোল দুটি করেন সান্দ্রো টোনালি ও মোইজে কিনরা।
বৃহস্পতিবার রাতে পাথ ‘এ’র অন্য সেমিফাইনালে ওয়েলসকে টাইব্রেকারে ৪–২ গোলে হারিয়েছে খেলা বসনিয়া। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১–১ গোলে ড্র ছিল ম্যাচটি। ফলে চূড়ান্ত পর্বের টিকিট পেতে আগামী মঙ্গলবার প্লে অফ ফাইনালে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হবে ইতালি।
টানা দুবার বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব পেরোতে না পারা ইতালি এদিন বল পজিশন শটস, অন টার্গেট শট এবং চান্স তৈরিতে আধিপত্য দেখিয়েছে। ম্যাচে প্রায় ৬৩ শতাংশ বল তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৯টি শটের ৮টি ছিল গোলপোস্টে গোলের লক্ষ্যে। দুটি সুযোগ তৈরি এবং একটি বড় সুযোগ মিস করে তারা।
প্রথমার্ধে ৭১ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে অন-টার্গেট দুটি শট নিয়েও গোল আদায় করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ৫৬ মিনিটে আসে আরধ্যের গোল। পেনাল্টি বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দারুণ এক শটে গোল করে ইতালিয়ানদের এগিয়ে দেন সান্দ্রো তোনালি। ৭৪ মিনিটে মোয়জে কিনের গোল নিশ্চিত করে দেয় এবার আর প্লে–অফের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিচ্ছে না ইতালি।
ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইপর্বে প্লে অফের আরেক ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে আলবেনিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ধাপে পৌঁছে গেছে রবের্ত লেভানডভস্কির পোল্যান্ড। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ সুইডেনের। যারা ৩-১ গোলে হারিয়েছে ইউক্রেইনকে। স্লোভাকিয়াকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে কসোভো। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ তুরস্ক।
নর্থ মেসিডোনিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া ডেনমার্ক ফাইনালে খেলবে চেক রিপাবলিক অথবা রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।