
দুই বছর বিরতির পর আরও একটি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে যাচ্ছে। শনিবার পর্দা উঠছে ক্রিকেটের কুড়ি কুড়ি সংস্করণের দশম আসরের। প্রায় দুই মাসব্যাপী এই মহাযজ্ঞ শেষ হবে আগামী ২৬ মার্চ। ২০ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ না থাকায় লাল–সবুজ সমর্থকদের আগ্রহ কিছুটা ম্লান হলেও, বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনার কমতি নেই। বড় পরিসরের এই টুর্নামেন্ট ঘিরে চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে অনলাইন আড্ডা—সবখানেই চলছে হিসাব–নিকাশ, ভবিষ্যদ্বাণী আর দল বিশ্লেষণ।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে নামছে ভারত। ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতে রোহিত শর্মার দল। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের পাশাপাশি শক্তিশালী দল হিসেবে আলোচনায় থাকে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ—দু’দলই দুইবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। একবার করে শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার।
স্বাভাবিকভাবেই ২০ দলের এই টুর্নামেন্টে ফেভারিটের তালিকায় ঘুরেফিরে থাকবে এই দলগুলো। তবে সেমিফাইনালে উঠবে—এমন চারটি দলের নাম আগেভাগেই বলে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক উইকেটকিপার–ব্যাটার এবি ডি ভিলিয়ার্স।
ডি ভিলিয়ার্সের মতে, দশম টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও ভারত।
ভারতকে শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে রাখলেও, স্বাগতিক হওয়ার কারণে তাদের ওপর বাড়তি চাপ থাকবে বলে মনে করেন এই সাবেক প্রোটিয়া তারকা। তাঁর ভাষায়, ভারতের দল ভারসাম্যপূর্ণ ও গভীরতায় ভরপুর, অধিকাংশ ক্রিকেটারই রয়েছেন ভালো ফর্মে। তবে সেই শক্তির সঙ্গেই যুক্ত হচ্ছে প্রত্যাশার চাপ।
ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘ভারতের দলে অসাধারণ গভীরতা আছে। খেলোয়াড়রাও ফর্মে রয়েছে। সবকিছু তাদের পক্ষেই যাচ্ছে। কিন্তু এর সঙ্গে প্রত্যাশাও বাড়ছে। ঘরের মাঠে খেললে দর্শক ও সাধারণ মানুষের চাওয়া অনেক বেশি থাকে, যা বাড়তি চাপ তৈরি করে।’
তাঁর মতে, সেই চাপ সামলিয়েই সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন দলকে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ দিতে হবে।
No posts available.
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:২৫ পিএম
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:০৪ পিএম
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:৩৫ পিএম
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:০৪ পিএম
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০০ এম

৯ ফেব্রুয়ারি, জোন-জোন স্মাটস এমন একটি দেশের হয়ে বিশ্বকাপে খেলবেন, যেখানে তিনি কখনোই পা রাখেননি।
দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণ করা এবং প্রোটিয়াদের হয়ে খেলা স্মাটস ইতালির টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডের অংশ। সেটা কিভাবে? বিয়ে মাধ্যমে পাসপোর্ট পাওয়ার পর। যদিও তিনি কখনো রোম, ফ্লোরেন্স বা ভেনিস দেখেননি, তবু মনে করেন ইতালিয়ান মানসিকতা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা আছে এবং নিজেকে সেখানে মানিয়ে নিতে পারছেন।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারতে দুবাইয়ে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ইতালের দলের সঙ্গে থাকা স্মাটস বলেন, ‘ইতালিয়ানরা খুব আবেগপ্রবণ, তাই আমরা যখন খেলি সবটাই ফুটে ওঠে। আমি আমাদের আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম জয়েরও স্বাক্ষী হয়েছি। এটা স্পষ্টভাবে ইতালির বড় দেশের বিপক্ষে প্রথম জয়। আমরা মনে করি, এমন দলগুলোর সঙ্গে আমরা লড়াই করতে পারি।’
গত ১৯ বছর ধরে স্মাটস দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্রিকেট খেলছেন। ৩৭ বছর বয়সী এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার তাঁর নিজ অঞ্চলের ইউনিয়ন ইস্টার্ন কেপ (এবং ওয়ারিয়ার্স ফ্র্যাঞ্চাইজ) এবং সম্প্রতি ডারবানের ডলফিনসের হয়ে। টপ অর্ডারে ধারাবাহিক, সাবলীল ব্যাটিং এবং বাঁ হাতের স্পিনের জন্য পরিচিত তিনি। ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলের অংশ ছিলেন সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য।
অবশ্য স্মাটস কখনো জাতীয়তা পরিবর্তন করে নতুন ক্যারিয়ার গড়ার বড় পরিকল্পনা করেননি; তার স্ত্রী জুদি পুরো পরিবারের জন্য ইতালিয়ান পাসপোর্টের ব্যবস্থা করার যাতে চেষ্টা করেন, যাতে ভ্রমণ সহজ হয় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগানো যায়। প্রায় চার বছর আগে স্মাটস তাঁর সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেয়েছিলেন।
তবুও, ৩৭ বছরে পৌঁছে তিনি কল্পনাও করেননি যে বিশ্বকাপের জন্য তাঁর ডাক আসবে। বিশেষ করে বিশ্বমঞ্চে একটি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার মতো গুরুদায়িত্বের জন্য। তিনি বলেন,
‘আমি কখনো ভাবিনি যে বিশ্বকাপ খেলব, তবে আমি সবসময় আন্তর্জাতিক মানের অনুশীলন করতে চেষ্টা করেছি, যাতে প্রয়োজন হলে খেলায় তীব্রতা বাড়াতে পারি। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে আমি খুব বেশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলিনি, কিন্তু যথেষ্ট খেলে বুঝেছি বিষয়টা কেমন। আমার শেষ কয়েকটি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে আমি ভালো করেছি, তাই সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই ইতালির হয়ে খেলতে এলাম, জানি আন্তর্জাতিক মঞ্চের চ্যালেঞ্জ কী। আমি জানি এটা কত কঠিন হতে পারে, তবে জানি আমি এখনও এখানে অবদান রাখতে এবং ভালো পারফর্ম করতে পারি।’
স্মাটস ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৬টি ওয়ানডে এবং ১৬টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। করোনা মহামারির আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি ওয়ানডে-তে তার ৮৪ রানের ব্যাটিং এবং ২ উইকেট নেওয়া পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। তারপর দীর্ঘ বিরতি, দক্ষিণ আফ্রিকার দলীয় কাঠামোর বিপুল সমস্যা এবং দলে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে তিনি স্থায়ী জায়গা ধরে রাখতে পারেননি। তবে তিনি কোনও আফসোস করেননি। ডানহাতি ব্যাটার বলেন,
‘প্রতিটি খেলোয়াড়ই সবসময় মনে করে আরও দীর্ঘ সময় খেলতে পারত, কিন্তু আমি জানি দক্ষিণ আফ্রিকায় ভালো ক্রিকেটার তৈরি করার দীর্ঘ ইতিহাস আছে। আমিও ক্যারিয়ারটা আরও দীর্ঘ হোক, তবে আমাদের এখানে বিশ্বমানের কিছু সুপারস্টার আছে। দক্ষিণ আফ্রিকার দল সবসময় প্রতিযোগিতামূলক, তাই কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পারা সহজ, তবে তার পরে আবার ছিটকেও যেতে হয়।’
এর পরিবর্তে দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা নিয়ে খেলোয়াড়দের জন্য একজন দূত হিসেবে কাজ করার পন্থা বেছে নেন স্মাটস। স্মাটস তাঁর পুরো ক্যারিয়ার টাইপ ১ ডায়াবেটিস নিয়ে খেলেছেন। তিনি দিনে ‘ছয় থেকে আট বার’ আঙুলের ছোট পরীক্ষা করে রক্তে শর্করা যাচাই করেন এবং দিনে কমপক্ষে চারবার ইনসুলিন নিজেই নেন।
অসুস্থতার সঙ্গে লড়ায়ের গল্প নিয়ে স্মাটস বলেন, ‘ক্রিকেট খেলা মানসিক চাপ, অ্যাড্রেনালিন, ওঠানামা—সব মিলিয়ে খুব কঠিন। তবে আমি নিয়মিত আমার ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি, যিনি সব বুঝতে পারছেন। এটি এমন এক বিষয় যা আমি মোকাবিলা করেছি, তবে ক্যারিয়ারের পুরো অংশেই আমি এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি।’
ঘরোয়া ক্রিকেটেও ধারাবাহিকভাবে অসাধারণ খেলছেন স্মাটস। এমনকি ৩০-এর পরে। গত গ্রীষ্মে, স্মাটস দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া টুর্নামেন্ট ওয়ান-ডে চ্যালেঞ্জে রান তালিকার শীর্ষে ছিলেন। ডিউওয়াল্ড ব্রেভিস এবং লুয়ান-ড্রে প্রেটোরিয়াসকে পেছনে ফেলেছেন এবং ৯ ইনিংসে ৬টি ফিফটি করে ডলফিনসকে কাপ জেতাতে সাহায্য করেছেন। এমন অভিজ্ঞ এক ক্রিকেটারকেই পেল ইতালি।
ইতালির বিশ্বকাপ স্কোয়াডের সবচেয়ে অভিজ্ঞ স্মাটস ২৩০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। স্কোয়াডের মধ্যে তাঁর চেয়ে বেশি উইকেট নেই আর কারওেই—১৩৩টি উইকেট নিয়ে এ তালিকাতেও শীর্ষে তিনি। সর্বোচ্চ রানের তালিকায় স্মাটসের (৫০০৬) চেয়ে এগিয়ে শুধু ওয়েইন ম্যাডসনের (৫৫১৬)।
নিজের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার নিয়ে স্মাটস বলেন, আমি একমাত্র খেলোয়াড় যার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা আছে, আর সবচেয়ে দারুণ বিষয় হলো আমি কত ভালোভাবে দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পেরেছি এবং তারা আমাকে গ্রহণ করেছে। তারা অনেক প্রশ্ন করে, আপনার মতামত জানতে চায়, অন্য খেলোয়াড়দের সাহায্য চায়, এবং শুধু নিজের মতো থাকা চায়—আমি মনে করি এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
বিশ্বকাপে বাস্তাবতাও ভালোভাবেই জানা আছে স্মাটসের। তিনি জানেন, গ্রুপ ‘সি’তে ইতালির কাজ সহজ হবে না—যেখানে তারা পরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বী স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে, এছাড়া আছে নেপাল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ইংল্যান্ডও। এরপরও দল নিয়ে আশাবাদী স্মাটস, ‘খেলার ইতিহাস দেখিয়েছে, বিস্ময়কর ফলাফল সম্ভব। আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই মানসিকতায় থাকা, যেখানে আমরা বড় দলগুলোর সঙ্গে লড়াই করতে প্রস্তুত। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মজা হলো, একজনের এক মুহূর্তের দারুণ পারফরম্যান্স পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এটা খুব রোমাঞ্চকর, কারণ আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বীদের দেখাতে চাই, ইতালিয়ান ক্রিকেট আসলে কেমন।’
ইতালিতে ক্রিকেট এখনও তুলনামূলকভাবে ছোট, এবং ফুটবলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন মনে হলেও স্মাটস দেখাচ্ছেন কিভাবে অন্যান্য খেলাও এগিয়ে আসতে পারে। উদাহরণ হিসেবে রাগবি—২০০৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ নিক ম্যালেটের নেতৃত্বে রাগবি অনেক জনপ্রিয় হয়েছে। ইতালির রাগবি দল বর্তমানে বিশ্বে দশম স্থানে, ওয়েলস, জাপান ও উরুগুয়ের মতো দেশের উপরে।
স্মাটস আশা করেন ক্রিকেটও এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। তিনি বলেন, ‘ইতালিতে আগে রাগবি তেমন জনপ্রিয় ছিল না, তবে উন্নতি দেখা দারুণ। ইতালির স্বপ্ন হলো ক্রিকেটেও এমন পরিবর্তন আনা, যাতে দ্রুত পরিচিতি পাওয়া যায়। এই বিশ্বকাপ সেই ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে, কারণ আমরা এখন বিশ্ব মঞ্চে খেলতে পারছি।’
যে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলছেন, সেই ইতালিতে কখনো নিজ চোখে দেখেননি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই যাব। ইতালির পরবর্তী কয়েক বছরের ক্রিকেট পরিকল্পনার সঙ্গে এটা যুক্ত। তারা এই গ্রীষ্মে একটি সুবিধাজনক স্থান তৈরি এবং একাধিক উইকেট সহ টার্ফ উইকেট নির্মাণের পরিকল্পনা করছে, যাতে রোমে ম্যাচ আয়োজন করা যায়। ইতালি আরও পেশাদার হওয়ার চেষ্টা করছে, ভবিষ্যতের ক্রিকেটারদের জন্য।’

আগামী শনিবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অভিযানে নামবে পাকিস্তান। গ্রুপপর্বে যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচের পর ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা সালমান আলী আগাদের। তবে হাইভোল্টেজ ম্যাচটি যে মাঠে গড়াচ্ছে না, তা অনেকটাই নিশ্চিত। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ না থাকায় মন পুড়ছে পাকিস্তানের অধিনায়কের।
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কায় নির্ধারিত ভারতের বিপক্ষে সম্ভাব্য ম্যাচ ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা নিয়ে কথা বলেছেন পাকিস্তানের টি–টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমান আলি আগা। বিশ্বকাপের ম্যাচের আগে সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনে এই টপ-অর্ডার ব্যাটার বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের ওপরই নির্ভর করছে এবং সরকার যে নির্দেশ দেবে, দল সেটিই মেনে চলবে।
বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপে না থাকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে আগা বলেন, ‘ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত সরকারকেই নিতে হবে। ম্যাচটি হবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত, তবে সরকার যা সিদ্ধান্ত নেবে আমরা সেটিই অনুসরণ করব।’
আরও পড়ুন
| ‘বাংলাদেশি ভাই’ মোস্তাফিজকে সরাসরি দলে নিলো লাহোর |
|
পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স অনুযায়ী আশাবাদি আগা।গত ছয় মাসে এবং এশিয়া কাপের পর থেকে দলের উন্নতির দিকটি তুলে ধরেন তিনি, ‘আগের টুর্নামেন্টগুলোতে আমরা সমর্থকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারিনি। এবার দল ভালো খেলছে, গত ছয় মাস ধরে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলছি এবং এশিয়া কাপের পর থেকেও ধারাবাহিকভাবে ভালো করছি। আশা করি এবার ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে পারব।’
ডানহাতি ব্যাটার আগা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দেবেন। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে নিজের উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করেন তিনি, ‘অধিনায়ক হিসেবে এটি আমার প্রথম বিশ্বকাপ এবং আমি খুবই উচ্ছ্বসিত। আশা করি আমার নেতৃত্বে দল ভালো পারফরম্যান্স করবে।’
নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা না করে প্রস্তুতি ও ইতিবাচক মানসিকতায় মনোযোগ দেওয়ার ব্যাপারেও জোর দেওয়ার কথা বলেন আগা, ‘আমরা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বিষয়গুলো নিয়ে বেশি ভাবছি না। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই এবং অন্য দলগুলোর বিপক্ষে ভালো লড়াই দেখতে চাই। বিশ্বকাপে কোনো দলই ছোট নয়, আর আমরা নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে টক অব দ্যা ওয়ার্ল্ডে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কট ইস্যু। মোস্তাফিজুর রহমান ও বাংলাদেশ ইস্যুতে আইসিসির নিরপেক্ষতা নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থার ‘দ্বৈত নীতি’ নিয়ে এবার প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক নাসের হুসেইন।
১৬ ডিসেম্বর আইপিএল নিলামে মোস্তাফিজকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে ভিড়ায় কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। এরপর ৩ জানুয়ারি বিসিসিআইয়ের নির্দেশে বাংলাদেশের পেসারকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মোস্তাফিজ ইস্যু ও নিরপত্তা শঙ্কা সামনে এনে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ জানায় বিসিবি। আইসিসি সেই অনুরোধ না মানায় বিশ্বকাপ বয়কট করে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ২৪ জানুয়ারি লাল সবুজ দলের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি।
বুধবার স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেট পডকাস্টে নাসের হুসেইন বলেন, ‘যদি এমন পরিস্থিতিতে ভারত পড়ত, তাহলে আইসিসি কি একই রকম কঠোর সিদ্ধান্ত নিত? আসল প্রশ্ন হলো ধারাবাহিকতা। বাংলাদেশ, পাকিস্তান আর ভারতের ক্ষেত্রে আইসিসি কি একই মানদণ্ড অনুসরণ করছে?’
ভারতের বেলায় আইসিসি কঠোর হতে পারবে কি না সেই প্রশ্ন তুলেছেন নাসের হুসেইন, ‘ভবিষ্যতে যদি কোনো বিশ্বকাপের আগে ভারত সরকার দলকে কোনো দেশে খেলতে যেতে না দেয়, তখনও কি আইসিসি একইভাবে কঠোর হবে?’
আইসিসিতে ভারতের আধিপত্য এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। নাসের হুসেইন বলেন ‘বারবার অন্য দলগুলোকে কোণঠাসা করলে তাদের ক্রিকেট দুর্বল হবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতার মানও কমে যাবে।’
বিশ্বকাপে ভারতের ম্যাচ বয়কট করেছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি দেখাতেই ভারত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সমর্থন করেন নাসের হুসেইনও ‘বাংলাদেশকে নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানটা বুঝতে পারি, এমনকি সমর্থনও করি।’
আইপিএলে দীর্ঘদীন ধরে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নিষিদ্ব। ইংল্যান্ডের ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট দ্য হান্ড্রেডে বর্তমানে ভারতের চারটি দলের মালিকানা রয়েছে। নাসের হুসেইন বলেন, ‘আইপিএল মালিকানাধীন দলগুলো ভবিষ্যতে পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নেবে কি না, সেটিও এখন নজরে রাখছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড।’

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে অনৈতিকভাবে বাদ দেওয়া হলেও, আইপিএল চলাকালে বসে থাকতে হবে না মোস্তাফিজুর রহমানের। কারণ একই সময় চলা পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) দল পেয়ে গেলেন বাংলাদেশ অভিজ্ঞ পেসার।
নিলামের আগে সরাসরি চুক্তিতে মোস্তাফিজকে দলে নিয়েছে লাহোর কালান্দার্স। পিএসএলের সবশেষ আসরে একই দলে খেলেছিলেন রিশাদ হোসেন। তরুণ লেগ স্পিনারকে ছেড়ে দিলেও মোস্তাফিজকে দলে নিয়েছে লাহোর।
কাটার মাস্টারকে দলভুক্ত করার জন্য ৬ কোটি ৪৪ লাখ রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৮১ লাখ টাকা) খরচ করতে হয়েছে লাহোরের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বার্তায় মোস্তাফিজকে নেওয়ার খবর জানিয়েছে দলটি।
“ফিজ! আমাদের বাংলাদেশি ভাই, মোস্তাফিজুর রহমান। ২০১৬ ও ২০১৮ সালে দলে ছিলেন আর এবার আমাদের সরাসরি চুক্তি হিসেবে খেলবেন। অবশেষে পরিবারের ফিরলেন। ওয়ান্স আ কালান্ডার, অলওয়েজ আ কালান্দার।”
https://x.com/lahoreqalandars/status/2019313875754332331?s=20
লাহোরের মালিক সামিন রানাও মোস্তাফিজকে ভাই হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
“ওয়ান্স আ কালান্দার, অলওয়েজ আ কালান্দার। মোস্তাফিজ শুধু একজন ক্রিকেটার নয়, সে আমাদের ভাই। আমাদের পরিবারের অংশ, যে আমাদের কখনও ছেড়ে যায়নি। তাকে ড্রেসিং রুমে ফেরত পেয়ে আমরা আনন্দিত। তার অভিজ্ঞতা, প্রতিভা ও নিবেদন আমাদের শিরোপা জয়ের জন্য বড় নিয়ামক।”
এর আগে ২০১৬ ও ২০১৮ সালেও মোস্তাফিজকে দলে নিয়েছিল লাহোর। তবে শুধু ২০১৮ সালে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছিলেন বাঁহাতি পেসার। সেবার ৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এবার সব ঠিক থাকলে প্রায় ৮ বছর পর আবার পিএসএলে দেখা যাবে কাটার মাস্টারকে।
মোস্তাফিজের আগে শাহিন শাহ আফ্রিদি, আব্দুল্লাহ শফিক, সিকান্দার রাজা ও মোহাম্মদ নাঈমকে দলে নিয়েছে লাহোর।
আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি হবে পিএসএলের নিলাম। আর ২৬ মার্চ থেকে শুরু হবে পিএসএলের ১১তম সংস্করণ।

নানা নাটকীয়তার পর গত রোববার পাকিস্তান বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। তবে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করার ঘোষণা দেয় দেশটি। এই ইস্যুতে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মুখ খুলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। জানান, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি ও সমর্থন জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার পাকিস্তানের মন্ত্রিসভার বৈঠকে শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমরা খুব পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছি যে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না। খেলাধুলার মাঠে রাজনীতি থাকা উচিত নয়।’
বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘আমরা ভেবেচিন্তেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাংলাদেশের পাশে পুরোপুরি দাঁড়ানো উচিত বলে মনে করি, আর এটা খুবই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।’
এর আগে রোববার সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পাকিস্তান সরকার জানায়, বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচ খেলবে না তাঁরা। তবে তখন কোনো কারণ জানানো হয়নি।
বিশ্বকাপে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে দল পাঠাতে রাজি ছিল না বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কায় ভেন্যু স্থানান্তর করার অনুরোধ জানালেও সেটি আমলে না নিয়ে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। সে সময় আইসিসির ‘দ্বৈত নীতির’কড়া সমালোচনা করেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। বাংলাদেশের দাবি মেনে বিশ্বকাপ খেলতে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের বিষয়ে আইসিসি জানিয়েছে, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে এবং তাঁরা পিসিবির কাছ থেকে সমাধানের পথ খোঁজার আশা করছে।
তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বক্তব্যে স্পষ্ট, বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে অনড় থাকবে তারা।