
আক্রমণে এসে প্রথম বলেই সাফল্য পেলেন তাসকিন আহমেদ। ঝড় তোলার আভাস দেওয়া ম্যাক্স ও'ডাউডকে ফিরিয়ে দিলেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ পেসার।
তাসকিনের স্টাম্পের ওপর করা ডেলিভারি অন সাইডে খেলার চেষ্টায় লিডিং এজ হয় ও'ডাউডের। শর্ট কাভারে সহজ ক্যাচ নেন জাকের আলি অনিক। উল্লাসে ফেটে পড়েন তাসকিন।
৩ চার ও ১ ছক্কায় ১৫ বলে ২৩ রান করে ফেরেন ও'ডাউড। ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান অনিল তেজা নিদামানুরু। আরেক ওপেনার বিক্রমজিত সিং ৪ বলে ২ রানে অপরাজিত।
আরও পড়ুন
| চার বছর পর সুযোগ পেলেন সাইফ |
|
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শেখ মেহেদি হাসানের প্রথম ওভারে ৩ রানের বেশি নিতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। পরের ওভারে শরিফুল ইসলামের ওপর ঝড় তোলেন ও'ডাউড। দারুণ ব্যাটিংয়ে তিনটি চার মারেন ডাচ ওপেনার।
মেহেদির পরের ওভারে ম্যাচের প্রথম ছক্কা মেরে দেন ও'ডাউড। তবে তাকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি তাসকিন।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩.৩ ওভারে নেদারল্যান্ডসের সংগ্রহ ১ উইকেটে ২৫ রান।
No posts available.
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ২:৩৫ পিএম

নারী ক্রিকেটের বিশ্বায়নে
এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে রুয়ান্ডায়। আগামীকাল থেকে কিগালিতে শুরু হচ্ছে
আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ ট্রফির উদ্বোধনী সংস্করণ। সহযোগী দেশগুলোর নারী
দলকে আরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিতেই আইসিসি এই টুর্নামেন্টের আয়োজন
করেছে।
উদ্বোধনী এই টুর্নামেন্টে
অংশ নিচ্ছে পাঁচটি দেশ। স্বাগতিক রুয়ান্ডা ছাড়াও খেলবে নেপাল, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি
ও ভানুয়াতু। আইসিসির পাঁচটি ভিন্ন অঞ্চল থেকে সেরা অবস্থানকারী (যারা ইমার্জিং নেশনস
ট্রফিতে খেলার সুযোগ পায়নি) দলগুলো এই টুর্নামেন্টে কোয়ালিফাই করেছে।
টুর্নামেন্টের প্রথম দিনেই
মাঠে নামছে চারটি দল। কিগালির গাহাঙ্গা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রধান মাঠে উদ্বোধনী
ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক রুয়ান্ডা ও ইতালি। একই ভেন্যুতে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে
লড়বে নেপাল ও যুক্তরাষ্ট্র। পঞ্চম দল ভানুয়াতু তাদের অভিযান শুরু করবে ১৯ এপ্রিল
স্বাগতিকদের বিপক্ষে ম্যাচের মাধ্যমে।
পুরো টুর্নামেন্টটি হবে
ডাবল রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে। প্রতিটি দল একে অপরের মুখোমুখি হবে দুবার করে। ১৮ এপ্রিল
শুরু হয়ে টুর্নামেন্টটি চলবে ১ মে পর্যন্ত। কিগালির অত্যাধুনিক গাহাঙ্গা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের
দুটি আলাদা গ্রাউন্ডে (মেইন ওভাল ও ওভাল বি) সব ম্যাচ হবে।
আইসিসি র্যাঙ্কিং এবং
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিচেনায় টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ভাবা হচ্ছে নেপালকে।
বর্তমানে র্যাঙ্কিংয়ের ২১ নম্বর স্থানে থাকা নেপাল এই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী
দল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও রুয়ান্ডাও ঘরের মাঠে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের জানান
দিতে প্রস্তুত। ইউরোপ থেকে প্রথমবার মহাদেশের বাইরে কোনো আইসিসি ইভেন্টে খেলতে আসা
ইতালি এবং চমক দেখানো ভানুয়াতুকেও খাটো করে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।
আইসিসি জানিয়েছে, ২০২৬
সালে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ১২-তে উন্নীত করার যে পরিকল্পনা রয়েছে,
চ্যালেঞ্জ ট্রফির মতো টুর্নামেন্টগুলো সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
টুর্নামেন্টের সবগুলো ম্যাচ আইসিসি টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
নারী ক্রিকেটের প্রসারে
আইসিসির নতুন উদ্যোগ ‘নারী টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ ট্রফি’।

ক্রিকেট সিজনের শেষ দিকে এসে পিচ হয়ে পড়ে ব্যাটিং বান্ধব। এমন পিচ নিউ জিল্যান্ডকে উপহার দিলে তা হবে বুমেরাং। সে কারণেই অতীতের মতো নিজেদের ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে শ্লো পিচ প্রস্তুত রাখার নির্দেশনাই ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের। স্পিনারদের সুবিধার কথা ভেবে তো বটেই, বাংলাদেশের পেস ডিপার্টমেন্টকে এডভান্টেজ দিতে মিরপুরে এমন উইকেটই করা হয়েছে প্রস্তুত। পিচের উপর ছোপ ছোপ সবুজ ঘাস, দূর থেকে দেখে বাউন্সি মনে হলেও পিচটা পুরোপুরি ট্রিপিক্যাল বাংলাদেশী। এমন একটা পিচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে অপেক্ষাকৃত অনভিজ্ঞ নিউ জিল্যান্ড স্কোর টেনে নিয়েছে ২৪৭/৮পর্যন্ত।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে রানের জন্য ধুঁকতে থাকা নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ছিল ৩৮/১। সেখান থেকে ২২০ পর্যন্ত স্কোর টেনে নেয়াটাই তাঁদের জন্য দুরুহ হওয়ার কথা। তবে শেষ পাওয়ার প্লে-তে কিউই ব্যাটাররা যোগ করেছে ৩ উইকেট হারিয়ে ৬৫ রান। তাতেই বাংলাদেশকে ২৪৯ রানের চ্যালেঞ্জ দিতে পেরেছে সফরকারী দল।
এই ম্যাচে অনভিজ্ঞ নিউ জিল্যান্ড দলের দুই ব্যাটার নিকোলাস (৮৩ বলে ৯ বাউন্ডারিতে ৬৮), ফক্সফোর্ট (৫৮ বলে ৯ বাউন্ডারিতে ৫৯) পেয়েছেন ফিফটি। মাত্র ৮ রানে ভেঙ্গে দেয়া যেতো যে জুটি, শরীফুলের বলে উইল ইয়ংয়ের ক্যাচ সাইফ হাসান স্লিপে ফেলে দিলে সেই দ্বিতীয় উইকেট জুটি থেমেছে ৭৩ রানে। ১ রানে জীবন ফিরে পাওয়া উইল ইয়ং ইনিংস টেনে নিয়েছেন ৩০ পর্যন্ত।
এমন একটা ম্যাচে নিয়মিত ৫ বোলারের বাইরে কারো হাতে এক ওভারের জন্যও তুলে দেননি অধিনায়ক বল। পিএসএল মাতিয়ে দেশে ফেরা নাহিদ রানা মিতব্যয়ী বোলিং করতে পারেননি। শ্লো পিচে গতির ঝড় তুলতে যেয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের রানের জন্য সহায়ক পরিস্থিতি তৈরি করে দিয়েছেন নাহিদ রানা (১০-০-৬৫-১)। ২ উইকেটের বিপরীতে তাসকিনের খরচ সেখানে ওভারপ্রতি ৫.০০ রান। তবে ১৬৪টি ডট বলের ইনিংসে বাংলাদেশের তিন পেসার মিলে দিয়েছেন ১০৯টি ডট। তিন পেসারের উইকেটের সমষ্টি ৫। লেগ স্পিনার রিশাদের প্রথম স্পেলটি (৭-০-৩০-২) নিউ জিল্যান্ডের রানের লাগাম টেনে ধরেছে।
এমন একটা ম্যাচে মোস্তাফিজের অভাবটা টের পেয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট, দর্শক। ডেথ ওভারে মিতব্যয়ী বোলিংয়ে পরীক্ষিত বাঁ হাতি কাটার মাস্টারের একাদশে না থাকাটা দুর্ভাগ্যজনক। প্লেয়ার্স লিস্টে একাদশে থাকার কথা ছিল তাঁর। তবে ওয়ার্ম আপের সময় মোস্তাফিজ ডান হাঁটুতে অস্বস্তিবোধ করায় টসের আগে তাঁকে একাদশের বাইরে রাখা হয়। তাঁর জায়গায় নেওয়া হয় আর এক বাঁ হাতি শরীফুল ইসলামকে। এই শরীফুলই ছিলেন সবচেয়ে মিতব্যয়ী (১০-২-২৭-৩)। নতুন বলে তাঁর ২ ওভারের প্রথম স্পেলটি ছিল এক কথায় অসাধারন (২-০-২-০)। এন্ড চেঞ্জ করে উইকেটের মুখ দেখেছেন দ্বিতীয় স্পেলে (৩-১-৭-১)। ইনিংসের প্রথম ব্রেক থ্রু-টি তাঁর। শরীফুলের তৃতীয় ডেলিভারিটি ছিল অফ স্ট্যাম্পের উপরে। সেই বলে ক্রস খেলতে যেয়ে সুইংয়ে পরাস্ত হয়ে বোল্ড নিক কেলি (২৩ বলে ৭)। তৃতীয় স্পেলটিও (৩-১-১০-১) বলার মতো। যে স্পেলে মুহাম্মদ আব্বাসকে এক্সট্রা বাউন্সি ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন (৩০ বলে ১৪)।

মোস্তাফিজুর
রহমানের শেষ মুহূর্তে চোটে কপাল খুলল শরিফুল ইসলামের। প্রায় ১৭ মাস তিনি ফিরলেন ওয়ানডে
মাঠে। আর এই সুযোগটি দারুণভাবে কাজে লাগালেন বাঁহাতি পেসার। চমৎকার বোলিংয়ে নিউ জিল্যান্ডকে
আটকে রাখতে বড় ভূমিকা ২৪ বছর বয়সী এই পেসারেরই।
মিরপুর
শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার প্রথম ওয়ানডেতে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৭
রান করেছে কিউইরা। টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে বাংলাদেশের সেরা বোলার শরিফুল। ১০ ওভারে
২ মেডেনসহ মাত্র ২৭ রানে তিনি নিয়েছেন ২ উইকেট। সব মিলিয়ে করেন ৪২টি ডট বল।
অথচ
২০২৪ সালের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচের পর আর ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাননি
শরিফুল। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতেও একাদশে শুরুতে ছিলেন মোস্তাফিজ। কিন্তু
ম্যাচ শুরুর আগে অনুশীলনে মোস্তাফিজ চোট পাওয়ায় সুযোগ পান শরিফুল।
নতুন
বলে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে শুরু করেন বাঁহাতি এই পেসার। পরে সপ্তম ওভারে নিক কেলিকে
বোল্ড করে প্রথম ব্রেক থ্রুও দেন শরিফুল। পাওয়ার প্লেতে ৪ ওভার করে এক মেডেনসহ মাত্র
৮ রান দেন তিনি।
পরে
মাঝের ওভারে ফিরেও কিপটে বোলিং অব্যাহত রাখেন ২৪ বছর বয়সী পেসার। তার বোলিংয়ের কোনো
জবাব দিতে পারেননি হেনরি নিকোলস, টম ল্যাথাম, ডিন ফক্সক্রফটরা। গতির তারতম্য ও চমৎকার
লাইন-লেংথে রান আটকে রাখেন তিনি সুনিপুণ দক্ষতায়।
৩৬তম
ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসকে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন শরিফুল। পরে ডেথ ওভারেও বেশি
রান দেননি তিনি। সব মিলিয়ে নিউ জিল্যান্ডকে আড়াইশ রানের নিচে আটকে রাখার বড় কারিগর
শরিফুল।
কিউইদের পক্ষে ৯ চারে ৮৩ বলে সর্বোচ্চ ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন ওপেনার নিকোলস। এছাড়া ছয় নম্বরে নেমে ৫৮ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন ফক্সক্রফট। প্রায় তিন বছর পর খেলতে নেমে ৮ চারে ইনিংস সাজান তিনি।
শরিফুল
ছাড়াও বাংলাদেশের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও রিশাদ হোসেন।
নিউ
জিল্যান্ডকে ২৪৭ রানে আটকে রাখলেও বাংলাদেশকে জয়ের জন্য দিতে হবে কঠিন পরীক্ষা। এই
মাঠে এখন পর্যন্ত ২৪৬ বা তার বেশি রান তাড়া করতে নেমে ১৬ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২টি জিতেছে
বাংলাদেশ। তাই এবার কঠিন চ্যালেঞ্জ সামনেই লিড নিতে হবে সিরিজে।

দীর্ঘ
বিরতির দিয়ে আবার বাংলাদেশের মাঠে ওয়ানডে খেলতে আসছে অস্ট্রেলিয়া। আগামী জুনে ফিফা
ফুটবল বিশ্বকাপের ডামাডোলের মাঝে সাদা বলের দুই সিরিজ খেলতে আসবে বিশ্ব ক্রিকেটের শক্তিশালী
দলটি।
২০১১
সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশের মাঠে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলবে তারা। ক্রিকেট
অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) ওয়েবসাইট ক্রিকেট ডটকম ডট এইউতে শুক্রবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে
ঘোষণা করা হয়েছে তাদের বাংলাদেশ সফরের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের পূর্ণাঙ্গ সূচি।
মিরপুর
শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী ৯, ১১ ও ১৪ জুন হবে ওয়ানডে সিরিজের তিন
ম্যাচ। এরপর চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি
ম্যাচ যথাক্রমে ১৭, ১৯ ও ২১ জুন।
ওয়ানডে
সিরিজের সবগুলো ম্যাচ শুরু হবে দুপুর ২টায়। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ শুরু
হবে সন্ধ্যা ৬টায়। আর শেষেরটি মাঠে গড়াবে দুপুর ২টায়।
বছরের
শুরুতে বিসিবির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছিল, এই দুই সিরিজের সূচি। তবে তখন ওয়ানডে তিনটি
ছিল ৫, ৮ ও ১১ জুন। আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো ছিল ১৫, ১৮ ও ২০ জুন। দুই সিরিজের সূচিতেই
এসেছে পরিবর্তন।
বাংলাদেশে
২০১১ সালের বিশ্বকাপের পর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলে গিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। পরে আর
ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হয়নি দুই দল। আর ২০২১ সালের বিশ্বকাপের আগে সবশেষ টি-টোয়েন্টি
সিরিজে লড়েছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া।
ঘরের
মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই দুই সিরিজ খেলার পর আবার অগাস্টে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ
খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় যাবে বাংলাদেশ। ডারউইন ও ম্যাকাইতে হবে ওই দুই টেস্ট। ২০০৩ সালের
পর সেটিই হতে চলেছে অস্ট্রেলিয়ার
মাঠে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সিরিজ।

ভাবুন তো, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৪৯৫ ম্যাচে ১৩৪৭ উইকেট। স্পিন কিংবদন্তী মুত্তিয়া মুরালীধরন নিজেকে এতোটা উচ্চতায় তুলেছেন,যে উচ্চতায় তাঁর ধারে কাছে নেই কেউ। নিকট ভবিষ্যতেও এমন কৃতি গড়ার কথা কল্পনায়ও কেউ ভাবছেন না। আশ্চর্য হলেও সত্য, তার ৪টি মাইলস্টোনের সঙ্গে জুড়ে আছে বাংলাদেশের নাম। ২০০১ সালে আশরাফুল টেস্ট অভিষেকে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ানের রেকর্ড করেছেন, সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে আশরাফুলের সেই রেকর্ডময় টেস্টে মুরালীধরন টেস্টে ৩৫০ উইকেটের মাইলস্টোন ছুঁয়েছেন। ৬৬ তম টেস্টে ৩৫০ উইকেটে এই মাইলস্টোনে দ্রুততম মুরালীধরন।
১০০তম টেস্ট খেলেছেন তিনি চট্টগ্রামে, ২০০৬ সালে, বাংলাদেশের বিপক্ষে। সেই মাইলস্টোন টেস্টে আর একটি রেকর্ড করেছেন তিনি। বিশ্বের প্রথম বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১০০০তম উইকেটের মালিকানা পেয়েছেন। বগুড়ায় পরের টেস্টটিও তাঁর রেকর্ডময়। ১০১ তম টেস্টে প্রথম বোলার হিসেবে ৬০০ উইকেটের মাইলস্টোন ছুঁয়েছেন। এক বছর পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্যান্ডি টেস্টটিও তার মাইলস্টোনের। প্রথম বোলার হিসেবে টেস্টে ৭০০তম উইকেট শিকার করেছেন। ২০১০ সালে গল-এ ভারতের বিপক্ষে ফেয়ারওয়েল টেস্টটি স্মরণীয় করে রেখেছেন। বিশ্বের প্রথম বোলার হিসেবে টেস্টে ৮০০ উইকেটের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেছেন।
এমন এক বিস্ময় বোলারের ৩টি মাইলস্টোনের প্রত্যক্ষদর্শী আমি। দেখেছি টেস্টে ৩৫০ উইকেট ক্লাবে তার দ্রুততম রেকর্ড। দেখেছি টেস্টে ৬০০ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর হাজারতম উইকেট। এই তিনটি মাইলস্টোনের ম্যাচ রিপোর্ট এবং তার কৃতির কথা লিখেছি বড় করে। দৈনিক ইনকিলাবে ছাপা হয়েছে তা। ৩৫০তম উইকেটে ক্লাবে দ্রুততম রেকর্ডের পর মুরালীধরনের ইন্টারভিউ নিয়েছি। সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সেই ইন্টারভিউটি নিয়েছি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের মিডিয়া ম্যানেজারের সহায়তায়। শ্রীলঙ্কার তখন হেড কোচ ডেভ হোয়াটমোরের পাশে বসে ড্রেসিং রুমে সেই ইন্টারভিউ নেয়ার সময় সেখানে ছিলেন আর একজন সাংবাদিক, ভোরের কাগজের স্পোর্টস এডিটর প্রয়াত অঘোর মন্ডল। তখন প্লেয়ার্স ড্রেসিং রুমে অনুমতি নিয়ে ঢোকা যেতো বলে তা সম্ভব হয়েছে। ডেভ হোয়াটমোরের শর্ত ছিল একটাই, মুরালীধরনের বোলিং অ্যাকশনে ত্রুটি নিয়ে আইসিসির নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না। ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম বোলার হিসেবে হাজারতম উইকেটের মাইলস্টোনে মুরালীধরন পা রাখার পর বিসিবির তৎকালীন কার্যনির্বাহী সদস্য সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর সেই টেস্ট কাভার করতে আসা সংবাদকর্মীদের সবাইকে দিয়েছিলেন মুরালীধরনের অটোগ্রাফ সম্বলিত একটি করে টি-শার্ট।
২০১৩ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের শ্রীলঙ্কা সফরটি ছিল গল-এ। টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর, প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে মুশফিকুর রহিমের ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ডের গল্প লিখেছি। ইনিংস ব্রেকের সময়ে গিয়েছিলাম গল এর মিউজিয়ামে। মিউজিয়ামটির তখন সংস্কার চলছে। টেবিলের উপর পড়ে আছে টেস্টে মুরালীধরনের ৮০০তম উইকেটের বল। সেই বলটি হাতে নিয়ে ছবি তোলার সে কি আনন্দ ?
আজ এই স্পিন জাদুকরের ৫৩তম জন্মবার্ষিকী। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১১ টেস্টে ৮৯ উইকেট, চার-চারটি মাইলস্টোন যার, জন্মদিনে তাঁর রেকর্ড গড়া বলটি ছুঁয়ে দেখার আনন্দটা মনে করিয়ে দিয়েছে আর একবার।