
দীর্ঘ প্রায় চার বছরের অপেক্ষার পর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ দিয়ে মূল জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ পেলেন সাইফ হাসান।
মাঝে ২০২৩ সালে হাংজু এশিয়ান গেমসে তিনটি ম্যাচ অবশ্য খেলেছিলেন সাইফ। সেই ম্যাচগুলোর আন্তর্জাতিক মর্যাদাও ছিল। তবে একই সময়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপ চলায়, ওই আসরে কোনো দেশ তাদের মূল দল পাঠায়নি।
এর আগে ২০২১ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলার পর আর এই ফরম্যাটে জাতীয় দলের হয়ে খেলার ডাক পাননি টপ-অর্ডার ব্যাটার।
তাই প্রায় চার বছরের বিরতি দিয়ে আবার টি-টোয়েন্টি খেলতে নামবেন সাইফ। সব মিলিয়ে আগের পাঁচ ম্যাচে তার সংগ্রহ ৫২ রান। বল হাতে কোনো উইকেট নেই।
এছাড়া বাংলাদেশের একাদশে তিন পেসারের সঙ্গে দুই স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। পেস বিভাগে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে আছেন দুই বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম।
আরও পড়ুন
| ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে যুবাদের ইংল্যান্ড সফর |
|
আর লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের সঙ্গে আছেন অফ স্পিনার শেখ মেহেদি হাসান। দলের প্রয়োজনে সাইফ হাসানকেও অফ স্পিন করতে দেখা যাবে।
বাংলাদেশ একাদশ:
তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক, উইকেটরক্ষক), সাইফ হাসান, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলি অনিক (উইকেটোরক্ষক), শেখ মেহেদি হাসান, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম।
নেদারল্যান্ডস একাদশ:
ম্যাক্স ও’ডাউড, বিক্রমজিত সিং,অনিল নিদামানুরু, স্কট এডওয়ার্ডস (অধিনায়ক, উইকেটরক্ষক), নোয়াহ ক্রোয়েস, কাইল ক্লেইন, আরিয়ান দত্ত, পল ফন মিকেরেন, শরিজ আহমাদ, ড্যানিয়েল ডোরাম, টিম প্রিঙ্গেল।
No posts available.
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৫৩ পিএম
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৩৬ পিএম

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দুর্নীতি দমন ও সুরক্ষা নীতি (এসিএসইউ) বেশ কঠোর। ডাগআউটে বা তার আশেপাশে মুঠোফোন ব্যবহার করা খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য ‘নিষিদ্ধ’ এলাকা। সেই নিয়ম ভেঙেই বড় শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছিলেন রাজস্থান রয়্যালসের দীর্ঘদিনের ম্যানেজার রোমি ভিন্দার। তবে দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও মানবিক দিক বিবেচনা করে বড় কোনো শাস্তি দেয়নি বিসিসিআই।
গত ১০ এপ্রিল গুয়াহাটিতে রাজস্থান রয়্যালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) ম্যাচের সময় ডাগআউটের পাশে বসে মুঠোফোন ব্যবহার করতে দেখা যায় রোমিকে। বিসিসিআইয়ের নিয়ম অনুযায়ী, টিম ম্যানেজাররা ফোন রাখার অনুমতি পেলেও সেটি ব্যবহারের জায়গা শুধুমাত্র ড্রেসিংরুম। মাঠের পাশে ফোনের ব্যবহার অ্যান্টি-করাপশন আইনের পরিপন্থী।
বিষয়টি নজরে আসার পর বিসিসিআইয়ের দুর্নীতি দমন ইউনিট রোমি ভিন্দারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় এবং তদন্ত শুরু করে। তদন্তে দেখা গেছে, রোমি ফোনটি ব্যবহার করলেও তাঁর কোনো ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ ছিল না। মূলত জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতেই তিনি ফোনটি হাতে নিয়েছিলেন।
তদন্ত শেষে বিসিসিআই রোমির ওপর ১ লাখ রুপি জরিমানা ধার্য করেছে। আইপিএলের প্রথম আসর (২০০৮ সাল) থেকে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করা রোমির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং এটি প্রথম অপরাধ হওয়ায় বিসিসিআই কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছে। তাঁকে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকতে একটি চূড়ান্ত সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানা গেছে, রোমি ভিন্দারের ফুসফুসে গুরুতর সমস্যার ইতিহাস রয়েছে। তিনি সেই জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে ফোনটি ব্যবহার করেছিলেন বলে বিসিসিআইকে আগেই অবহিত করেছিলেন। তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং শারীরিক অসুস্থতার নথিপত্র বিবেচনায় নিয়ে বিসিসিআই বড় কোনো নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটেনি।
ঘটনার সময় রোমি ভিন্দারের পাশেই বসে ছিলেন তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী। তবে এই তদন্ত বা অভিযোগের সঙ্গে বৈভবের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বিসিসিআই।
রাজস্থান রয়্যালসের জন্য এটি স্বস্তির খবর, তাদের বহু বছরের বিশ্বস্ত সঙ্গী রোমি বড় ধরনের জটিলতা থেকে বেঁচে গেলেন। তবে আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টে ডাগআউটে ফোনের ব্যবহার নিয়ে কর্তৃপক্ষ এক বিন্দু ছাড় দিতে রাজি নয়, ১ লাখ রুপির এই জরিমানা সেটিই মনে করিয়ে দিচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ বিধ্বস্ত হওয়ার ক্ষত এখনো দগদগে। যে সিরিজকে পাখির চোখ করে গত তিন বছর ধরে এগোচ্ছিল ইংল্যান্ড, সেখানে এমন ভরাডুবির পর প্রশ্ন উঠেছিল ব্রেন্ডন ম্যাককালাম আর বেন স্টোকসের সেই আক্রমণাত্মক ‘বাজবল’ তত্ত্ব নিয়ে। এবার অধিনায়ক বেন স্টোকসই ইঙ্গিত দিলেন, সামনে ইংল্যান্ডের খেলার ধরনে আসতে যাচ্ছে বড় পরিবর্তন।
ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টোকস জানান, গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে ভক্তরা হয়তো এক ভিন্ন ইংল্যান্ড দলকে দেখতে পাবেন। স্টোকসের এই মন্তব্য ক্রিকেট মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে—তবে কি ‘বাজবল’ যুগের সমাপ্তি ঘটতে চলেছে?
২০২২ সালে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ‘জেতার জন্য খেলো, ড্রয়ের কথা ভাবো না’—এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার পেস ও বাউন্সের সামনে সেই অতি-আক্রমণাত্মক কৌশল মুখ থুবড়ে পড়ে।
স্টোকস বলেন, ‘ব্রেন্ডন (ম্যাককালাম) আর আমার কাজের ধরনে আমি ভীষণ আত্মবিশ্বাসী। তবে গত চার বছর একসঙ্গে কাজ করার পর এখন হয়তো আমাদের পরিচালনার ধরনটা কিছুটা ভিন্ন দেখাবে। আমাদের মূল লক্ষ্য দলকে সেরা অবস্থানে নিয়ে যাওয়া, সেটা একই আছে। তবে জেতার পথটা হয়তো এবার একটু অন্যরকম হবে।’
অ্যাশেজ চলাকালীন গুঞ্জন উঠেছিল, স্টোকস ও ম্যাককালামের মধ্যে কৌশলগত মতের পার্থক্য তৈরি হয়েছে। মাঠের বিপর্যয়ে স্টোকস যখন রক্ষণাত্মক হয়ে লড়াই করতে চেয়েছিলেন, ম্যাককালাম নাকি তখনো আগ্রাসী মেজাজ ধরে রাখার পক্ষে ছিলেন। এ প্রসঙ্গে স্টোকস খোলাখুলিই বললেন, ‘কেউ যদি মনে করে আমরা সব বিষয়ে একমত হবো, তবে সেটা অসম্ভব। সব বিষয়ে 'হ্যাঁ' বলাটা স্পোর্টিং পরিবেশের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। আমাদের মধ্যে বিতর্ক দরকার, আলোচনা দরকার। আমরা ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে একমত থাকি, কিন্তু বাকি ৫ শতাংশে ভিন্নমত থাকতেই পারে।’
মজার ব্যাপার, গত মাসে ইংল্যান্ড ক্রিকেটের পরিচালক রবিন কি জানিয়েছিলেন, দলের দর্শনে বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না। তিনি বলেছিলেন, ম্যাককালামকে তাঁর সহজাত স্টাইলের বাইরে গিয়ে কাজ করতে বলা হবে না। কিন্তু স্টোকসের সাম্প্রতিক বক্তব্য বলছে ভিন্ন কথা। অধিনায়ক যখন বলছেন ‘জিনিসগুলো এখন আলাদা দেখাবে’, তখন ভক্ত-সমর্থকেরা দ্বিধায় পড়তেই পারেন।
২০১৫ সালের পর থেকে অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার করতে পারেনি ইংল্যান্ড। আগামী বছর ঘরের মাঠে আবারও অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নিজেকে এবং দলকে নতুন করে সাজাতে চান স্টোকস। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার অঙ্গীকার করে বলেন, ‘আমরা ভুল করেছি এবং সেই ভুল থেকে শিখেছি। আমি অধিনায়কত্ব করতে ভালোবাসি, এই দলটাকে ভালোবাসি। ২০২৭ সাল পর্যন্ত আমরা এভাবেই সফল হতে চাই।’
নিউ জিল্যান্ড ও পাকিস্তান সিরিজে ইংলিশদের রণকৌশল কেমন হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। শেষ পর্যন্ত মাঠের পারফরম্যান্সই বলে দেবে—বাজবল কি সত্যিই মরে গেছে, নাকি নতুন কোনো রূপে পুনর্জন্ম নিতে যাচ্ছে।

নানান অনিশ্চয়তা ও জটিলতা পেরিয়ে আলোর মুখ দেখছে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের নতুন সংস্করণ। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হবে এবারের লিগ। এর আগে শনি ও রোববার (১৮-১৯ এপ্রিল) হবে দলবদল।
আনুষ্ঠানিক চুক্তি সাক্ষরের আগে এরই মধ্যে নিজেদের দল গুছিয়ে নিয়েছে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের দুই ঐতিহ্যবাহী দল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড ও আবাহনী লিমিটেড।
জাতীয় দল ও আশপাশের প্রায় সব তারকাকে দলে নিয়ে শক্তিশালী দল সাজিয়েছে মোহামেডান। কম যায়নি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনীও। গত আসরের শিরোপাজয়ী দলের ৮ ক্রিকেটারকে এবারও ধরে রাখছে তারা। নতুন যোগ দিচ্ছেন আরও ১০ ক্রিকেটার।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সিসিডিএম (ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস) অফিসে শনিবার সকাল থেকে চলবে দলবদলের প্রক্রিয়া।
গত প্রিমিয়ার লিগের তিন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এনামুল হক বিজয় (গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স থেকে), পারভেজ হোসেন ইমন (আবাহনী থেকে) ও মোহাম্মদ নাঈম শেখকে (প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব থেকে) এই দলবদলে নিজেদের শিবিরে টানছে মোহামেডান।
সব ঠিক থাকলে নতুন করে ক্লাবটিতে যোগ দিচ্ছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব, ইয়াসির আলি রাব্বি, রিশাদ হোসেন, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরি, তানভির ইসলামরা।
গত আসরে মোহামেডানে খেলা তাওহিদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, রনি তালুকদার, আনিসুল ইসলাম ইমন, তাইজুল ইসলাম, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন চৌধুরিরা এবারও থাকছেন পুরোনো দলে।
অন্য দিকে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে নাজমুল হোসেন শান্ত, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, জিসান আলম, রকিবুল হাসান, মাহফুজুর রহমান রাব্বিদের এবারও দলে পাচ্ছে আবাহনী। এছাড়া নতুন করে দলে নিচ্ছে সৌম্য সরকার, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, সাব্বির রহমান, জাকের আলি অনিকদের।
এছাড়া গতবার তারকাবহুল দল গড়া লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ এবার তেমন শক্ত দল বানাচ্ছে না। হাবিবুর রহমান সোহান, সাইফ হাসান, ইরফান শুক্কুর, শেখ মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, সামিউন বশির রাতুলদের দেখা যেতে পারে দলটিতে।
আবাহনী লিমিটেডের সম্ভাব্য স্কোয়াড
নাজমুল হোসেন শান্ত, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, জিসান আলম, এসএম মেহেরব হোসেন, রকিবুল হাসান, মাহফুজুর রহমান রাব্বি, শামসুল ইসলাম অনিক, নাইমুর রহমান নয়ন, সৌম্য সরকার, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, জাকের আলি অনিক, সাব্বির রহমান, সাব্বির হোসেন, অনিক সরকার সেতু, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, ইকবাল হোসেন ইমন, মারুফ মৃধা, রোহানাতদৌল্লাহ বর্ষণ
মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সম্ভাব্য স্কোয়াড
এনামুল হক বিজয়, মোহাম্মদ নাঈম শেখ, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহিদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, আফিফ হোসেন ধ্রুব, ইয়াসির আলি রাব্বি, রনি তালুকদার, আনিসুল ইসলাম ইমন, রিশাদ হোসেন, তাইবুর পারভেজ, তানভির ইসলাম, তাইজুল ইসলাম, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, রিপন মন্ডল, মুশফিক হাসান, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরি, ইবাদত হোসেন, তাসকিন আহমেদ, নাঈম আহমেদ

নারী ক্রিকেটের বিশ্বায়নে
এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে রুয়ান্ডায়। আগামীকাল থেকে কিগালিতে শুরু হচ্ছে
আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ ট্রফির উদ্বোধনী সংস্করণ। সহযোগী দেশগুলোর নারী
দলকে আরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিতেই আইসিসি এই টুর্নামেন্টের আয়োজন
করেছে।
উদ্বোধনী এই টুর্নামেন্টে
অংশ নিচ্ছে পাঁচটি দেশ। স্বাগতিক রুয়ান্ডা ছাড়াও খেলবে নেপাল, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি
ও ভানুয়াতু। আইসিসির পাঁচটি ভিন্ন অঞ্চল থেকে সেরা অবস্থানকারী (যারা ইমার্জিং নেশনস
ট্রফিতে খেলার সুযোগ পায়নি) দলগুলো এই টুর্নামেন্টে কোয়ালিফাই করেছে।
টুর্নামেন্টের প্রথম দিনেই
মাঠে নামছে চারটি দল। কিগালির গাহাঙ্গা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রধান মাঠে উদ্বোধনী
ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক রুয়ান্ডা ও ইতালি। একই ভেন্যুতে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে
লড়বে নেপাল ও যুক্তরাষ্ট্র। পঞ্চম দল ভানুয়াতু তাদের অভিযান শুরু করবে ১৯ এপ্রিল
স্বাগতিকদের বিপক্ষে ম্যাচের মাধ্যমে।
পুরো টুর্নামেন্টটি হবে
ডাবল রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে। প্রতিটি দল একে অপরের মুখোমুখি হবে দুবার করে। ১৮ এপ্রিল
শুরু হয়ে টুর্নামেন্টটি চলবে ১ মে পর্যন্ত। কিগালির অত্যাধুনিক গাহাঙ্গা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের
দুটি আলাদা গ্রাউন্ডে (মেইন ওভাল ও ওভাল বি) সব ম্যাচ হবে।
আইসিসি র্যাঙ্কিং এবং
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিচেনায় টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ভাবা হচ্ছে নেপালকে।
বর্তমানে র্যাঙ্কিংয়ের ২১ নম্বর স্থানে থাকা নেপাল এই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী
দল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও রুয়ান্ডাও ঘরের মাঠে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের জানান
দিতে প্রস্তুত। ইউরোপ থেকে প্রথমবার মহাদেশের বাইরে কোনো আইসিসি ইভেন্টে খেলতে আসা
ইতালি এবং চমক দেখানো ভানুয়াতুকেও খাটো করে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।
আইসিসি জানিয়েছে, ২০২৬
সালে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ১২-তে উন্নীত করার যে পরিকল্পনা রয়েছে,
চ্যালেঞ্জ ট্রফির মতো টুর্নামেন্টগুলো সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
টুর্নামেন্টের সবগুলো ম্যাচ আইসিসি টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
নারী ক্রিকেটের প্রসারে
আইসিসির নতুন উদ্যোগ ‘নারী টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ ট্রফি’।

ক্রিকেট সিজনের শেষ দিকে এসে পিচ হয়ে পড়ে ব্যাটিং বান্ধব। এমন পিচ নিউ জিল্যান্ডকে উপহার দিলে তা হবে বুমেরাং। সে কারণেই অতীতের মতো নিজেদের ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে শ্লো পিচ প্রস্তুত রাখার নির্দেশনাই ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের। স্পিনারদের সুবিধার কথা ভেবে তো বটেই, বাংলাদেশের পেস ডিপার্টমেন্টকে এডভান্টেজ দিতে মিরপুরে এমন উইকেটই করা হয়েছে প্রস্তুত। পিচের উপর ছোপ ছোপ সবুজ ঘাস, দূর থেকে দেখে বাউন্সি মনে হলেও পিচটা পুরোপুরি ট্রিপিক্যাল বাংলাদেশী। এমন একটা পিচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে অপেক্ষাকৃত অনভিজ্ঞ নিউ জিল্যান্ড স্কোর টেনে নিয়েছে ২৪৭/৮পর্যন্ত।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে রানের জন্য ধুঁকতে থাকা নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ছিল ৩৮/১। সেখান থেকে ২২০ পর্যন্ত স্কোর টেনে নেয়াটাই তাঁদের জন্য দুরুহ হওয়ার কথা। তবে শেষ পাওয়ার প্লে-তে কিউই ব্যাটাররা যোগ করেছে ৩ উইকেট হারিয়ে ৬৫ রান। তাতেই বাংলাদেশকে ২৪৯ রানের চ্যালেঞ্জ দিতে পেরেছে সফরকারী দল।
এই ম্যাচে অনভিজ্ঞ নিউ জিল্যান্ড দলের দুই ব্যাটার নিকোলাস (৮৩ বলে ৯ বাউন্ডারিতে ৬৮), ফক্সফোর্ট (৫৮ বলে ৯ বাউন্ডারিতে ৫৯) পেয়েছেন ফিফটি। মাত্র ৮ রানে ভেঙ্গে দেয়া যেতো যে জুটি, শরীফুলের বলে উইল ইয়ংয়ের ক্যাচ সাইফ হাসান স্লিপে ফেলে দিলে সেই দ্বিতীয় উইকেট জুটি থেমেছে ৭৩ রানে। ১ রানে জীবন ফিরে পাওয়া উইল ইয়ং ইনিংস টেনে নিয়েছেন ৩০ পর্যন্ত।
এমন একটা ম্যাচে নিয়মিত ৫ বোলারের বাইরে কারো হাতে এক ওভারের জন্যও তুলে দেননি অধিনায়ক বল। পিএসএল মাতিয়ে দেশে ফেরা নাহিদ রানা মিতব্যয়ী বোলিং করতে পারেননি। শ্লো পিচে গতির ঝড় তুলতে যেয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের রানের জন্য সহায়ক পরিস্থিতি তৈরি করে দিয়েছেন নাহিদ রানা (১০-০-৬৫-১)। ২ উইকেটের বিপরীতে তাসকিনের খরচ সেখানে ওভারপ্রতি ৫.০০ রান। তবে ১৬৪টি ডট বলের ইনিংসে বাংলাদেশের তিন পেসার মিলে দিয়েছেন ১০৯টি ডট। তিন পেসারের উইকেটের সমষ্টি ৫। লেগ স্পিনার রিশাদের প্রথম স্পেলটি (৭-০-৩০-২) নিউ জিল্যান্ডের রানের লাগাম টেনে ধরেছে।
এমন একটা ম্যাচে মোস্তাফিজের অভাবটা টের পেয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট, দর্শক। ডেথ ওভারে মিতব্যয়ী বোলিংয়ে পরীক্ষিত বাঁ হাতি কাটার মাস্টারের একাদশে না থাকাটা দুর্ভাগ্যজনক। প্লেয়ার্স লিস্টে একাদশে থাকার কথা ছিল তাঁর। তবে ওয়ার্ম আপের সময় মোস্তাফিজ ডান হাঁটুতে অস্বস্তিবোধ করায় টসের আগে তাঁকে একাদশের বাইরে রাখা হয়। তাঁর জায়গায় নেওয়া হয় আর এক বাঁ হাতি শরীফুল ইসলামকে। এই শরীফুলই ছিলেন সবচেয়ে মিতব্যয়ী (১০-২-২৭-৩)। নতুন বলে তাঁর ২ ওভারের প্রথম স্পেলটি ছিল এক কথায় অসাধারন (২-০-২-০)। এন্ড চেঞ্জ করে উইকেটের মুখ দেখেছেন দ্বিতীয় স্পেলে (৩-১-৭-১)। ইনিংসের প্রথম ব্রেক থ্রু-টি তাঁর। শরীফুলের তৃতীয় ডেলিভারিটি ছিল অফ স্ট্যাম্পের উপরে। সেই বলে ক্রস খেলতে যেয়ে সুইংয়ে পরাস্ত হয়ে বোল্ড নিক কেলি (২৩ বলে ৭)। তৃতীয় স্পেলটিও (৩-১-১০-১) বলার মতো। যে স্পেলে মুহাম্মদ আব্বাসকে এক্সট্রা বাউন্সি ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন (৩০ বলে ১৪)।