২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০০ পিএম

টানা তিনবার হারের পর ক্রিস্টল প্যালেস ‘জুজু’ থেকে মুক্তি মিলেছে লিভারপুলের। টানা তৃতীয় জয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের চতুর্থ স্থানেও উঠে এসেছে অল রেডরা। তবে এই জয়ের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে দলের প্রাণভোমরা মোহাম্মদ সালাহর চোটে। এই মৌসুমে যে ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে তিন তিনবার হারতে হয়েছিল, সেই 'অভিশাপ’ কাটলেও হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে সালাহকে হারানোটা আর্নে স্লটের দলের জন্য বড় ধাক্কা।
প্রিমিয়ার লিগে ক্রিস্টল প্যালেসের বিপক্ষে আজ লিভারপুলের ৩-১ গোলের জয়ে বল জালে পাঠিয়েছেন আলেক্সান্দ্রো ইসাক, আন্ড্রু রবার্টসন ও ফ্লোরিয়ান ভিৎস। এই জয়ে ৩৪ ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে উঠে এলো লিভারপুল। সমান ম্যাচ খেলে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে পাঁচে আজ ফুলহামের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়া অ্যাস্টন ভিলা। ৩৩ ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পয়েন্টও সমান ৫৮।
প্যালেসের বিপক্ষে আগের চারবারের দেখায় একটিও জয় ছিল না লিভারপুলের। গত সেপ্টেম্বরে লিগের প্রথম দেখায় ২-১ গোলে এবং পরের মাসে লিগ কাপে ৩-০ ব্যবধানে। এই দুই ম্যাচের আগে, গত অগাস্টে কমিউনিটি শিল্ড কাপেও প্যালেসের বিপক্ষে ২-২ ড্রয়ের পর, টাইব্রেকারে হেরেছিল স্লটের দল। শেষ পর্যন্ত ক্রিস্টল প্যালেস নামক ‘গেরো’ ভেঙেছে লিভারপুল।
ঘরের মাঠ অ্যান ফিল্ডে ম্যাচের শুরুতে সালাহকে বক্সে ফাউল করেন ক্রিস্টল প্যালেসের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ব্রেনান জনসন। রেফারি প্রথমে পেনাল্টির বাঁশি বাজলেও ভিএআর তা বাতিল করে দেয়। ৩৫ মিনিটে ইসাকের গোলে লিড নেয় স্বাগতিকরা। এরপর লিভারপুল তাদের চিরচেনা দাপুটে কাউন্টার অ্যাটাকের ঝলক দেখায়। অ্যান্ডি রবার্টসনের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।
এরপরই নামে বিষাদের ছায়া। হ্যামস্ট্রিং চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন সালাহ। প্যালেস ডি-বক্সের ঠিক বাইরে খুব সাধারণ এক চ্যালেঞ্জের মুখে সালাহ যখন তাঁর বাঁ পায়ের পেছনের অংশ (হ্যামস্ট্রিং) চেপে ধরে মাঠে শুয়ে পড়লেন, তখনই অ্যান ফিল্ডের উৎসবের আমেজ বিষাদে রূপ নেয়। রেফারি অবশ্য ফাউলের হালকা আবেদন নাকচ করে দেন, কিন্তু সালাহ তখনই ডাগ-আউটের দিকে ইশারায় বদলি নামানোর সংকেত দেন।
মেডিকেল টিম দ্রুত মাঠে ছুটে আসে। প্রাথমিক পরীক্ষার পর সালাহ যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, পুরো অ্যানফিল্ড দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে তাঁকে সম্মান জানায়। ৩৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন জেরেমি ফ্রিম্পং। মৌসুমের আর মাত্র চারটি ম্যাচ বাকি থাকতে এই চোট নতুন এক শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। চলতি গ্রীষ্মেই ক্লাব ছাড়ার কথা রয়েছে সালাহর, তাই সমর্থকদের ভয়—লিভারপুলের জার্সিতে এটাই হয়তো প্রিয় তারকার শেষ ম্যাচ হয়ে থাকল।
এরপরই ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা। লিভারপুল গোলরক্ষক ফ্রেডি উডম্যান চোট পেয়ে পড়ে থাকলেও খেলা চালিয়ে যায় প্যালেস। দানিয়েল মুনোজের বিতর্কিত চিপে একটি গোল শোধ করে সফরকারীরা। ম্যাচের শেষ দিকে লিভারপুল সমর্থকদের বেশ খানিকটা স্নায়ুচাপের মুহূর্ত পার করতে হয়েছে। তবে ইনজুরি টাইমের ষষ্ঠ মিনিটে ভিৎসের এক দুর্দান্ত গোল সব শঙ্কার অবসান ঘটায়।
No posts available.
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৮ এম

লিভারপুলে ৯ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন মোহামেদ সালাহ। প্রিমিয়ার লিগে অল রেডদের বাকি ছিল আর চারটি ম্যাচ। লিভারপুল সমর্থকরা যখন সালাহর বর্ণিল বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই চোট যেন এক বিষাদময় সমাপ্তি নিয়ে এল।
শনিবার রাতে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং চোটে পড়ে মৌসুমের বাকি অংশ থেকে ছিটকে গেছেন সালাহ। মিশর জাতীয় দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসান শনিবার নিশ্চিত করেছেন, ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড লিভারপুলের জার্সিতে তার শেষ ম্যাচটি খেলে ফেলেছেন।
লিভারপুলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না এলেও ইব্রাহিম হাসান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন এই খবর।
"সালাহ হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তার সুস্থ হতে অন্তত চার সপ্তাহ সময় লাগবে।"
আরও পড়ুন
| ঘুরে দাঁড়ানো জয়ে ফাইনালে উঠে ম্যান সিটির রেকর্ড |
|
ফলে আগামী ২৪ মে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে মৌসুমের শেষ ম্যাচটি ক্লাবের জার্সিতে খেলে নয়, মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে সমর্থকদের কাছ থেকে বিদায় নিতে হবে লিভারপুলের এই কিংবদন্তিকে।
২০১৭ সালে যোগ দেওয়ার পর লিভারপুলের হয়ে সম্ভাব্য সব শিরোপা জিতেছেন সালাহ। ক্লাবটির ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে চলতি মৌসুমে করেছেন ১২ গোল ও সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৯টি।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি এবং অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে সালাহর অনুপস্থিতি লিভারপুলের জন্য বড় এক ধাক্কা।
মিশরীয় সমর্থকদের জন্য আপাতত স্বস্তির খবর, ২০২৬ বিশ্বকাপের আগেই সালাহ ফিট হয়ে উঠবেন বলে জানিয়েছেন হাসান।
আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকায় শুরু হতে যাওয়া এই মহাযজ্ঞে গ্রুপ 'জি'-তে মিশর মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড এবং ইরানের।

প্রিমিয়ার লিগে টানা দুই হারের পর অবশেষে জয়ের দেখা পেল আর্সেনাল। শনিবার রাতে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে হারিয়ে আবারও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ফিরেছে উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি।
ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্সেনালের জয় ১-০ গোলে। দলের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেছেন এবেরেচি এজে।
ম্যাচের ৯ মিনিটে কর্নার কিক থেকে অসাধারণ ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন এজে। কর্নার থেকে নোনি মাদুয়েকে পাস দেন কাই হাভার্টজের দিকে। হাভার্টজ বলটি বক্সের ঠিক বাইরে অবস্থান করা এজের দিকে ঠেলে দেন। বল রিসিভ করে দারুণ কার্লিং শটে গোল করেন এজে।
এই গোলের মাধ্যমে অনন্য রেকর্ড গড়েছে মিকেল আরতেতার দল। চলতি মৌসুমে কর্নার থেকে ১৭টি গোল করল তারা। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এক মৌসুমে কর্নার থেকে করা সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এটি।
আরও পড়ুন
| ঘুরে দাঁড়ানো জয়ে ফাইনালে উঠে ম্যান সিটির রেকর্ড |
|
গোল খেয়ে ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল নিউক্যাসল। ৩০ মিনিটে সান্দ্রো তোনালির দূরপাল্লার শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন আর্সেনাল গোলকিপার ডেভিড রায়া। জো উইলকের একটি প্রচেষ্টাও সরাসরি তার হাতে জমা পড়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা ইয়োনে উইসা অ্যাক্রোবেটিক শট নিলেও তা পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়।
পুরো ম্যাচে লড়াই করলেও কাজের কাজ গোলটি আর পাওয়া হয়নি এডি হাউয়ের শিষ্যদের। পুরো ম্যাচের বল দখলে নিউক্যাসল এগিয়ে থাকলেও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্সেনাল।
এই জয়ের পর শিরোপা লড়াইয়ে ভালোভাবেই টিকে রইল গানার্সরা। ৩৪ ম্যাচ শেষে আর্সেনালের সংগ্রহ ৭৩ পয়েন্ট। এক ম্যাচ কম খেলা ম্যানচেস্টার সিটি ৭০ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে দুইয়ে।

গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর হঠাৎই গোল করে এগিয়ে গেল সাউদাম্পটন। তবে খেলার ধারার বিপরীতে গোল হজম করে খেই হারাল না ম্যানচেস্টার সিটি। বরং দ্রুতই ২ গোল করে ম্যাচের ফল নিজেদের কাছে এনে ফাইনালের টিকিট কাটল তারা।
লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে এফএ কাপের সেমি-ফাইনালে সাউদাম্পটনকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ম্যান সিটি। ফিন অ্যাজাজের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর জেরেমি ডকু ও নিকো গনজালেজের গোলে জয় নিশ্চিত করে তারা।
এই জয়ে প্রথম ক্লাব হিসেবে টানা ৪ বছর এফএ কাপের ফাইনালে ওঠার রেকর্ড গড়ল ম্যান সিটি। তবে গত দুই আসরে শিরোপা জিততে পারেনি তারা। এবার অষ্টম শিরোপার খোঁজে নামবে পেপ গার্দিওলার দল।
আরও পড়ুন
| লিভারপুলের হয়ে কি শেষ ম্যাচ খেললেন চোটাক্রান্ত সালাহ |
|
নিয়মিত একাদশের বেশিরভাগ ফুটবলারকে বিশ্রাম দিয়ে এদিন শুরুর একাদশ সাজান গার্দিওলা। ফলে শুরুতে গুছিয়ে নিতে কিছুটা সমস্যা হয় সিটির। তবু সব মিলিয়ে দাপুটে ফুটবল খেলতে ভুল হয়নি ইংলিশ জায়ান্ট ক্লাবটির।
ম্যাচে প্রায় ৭০ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে গোলের জন্য ২৪টি শট করে ম্যান সিটি। এর মধ্যে ৬টি ছিল লক্ষ্য বরাবর। বিপরীতে সাউদাম্পটনের ৪ শটের ৩টি ছিল লক্ষ্যে।
তবু প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি দুই দল। বেশ কয়েকবার জোরাল আক্রমণ করেও হতাশা সঙ্গী হয় ম্যান সিটির। বিরতির পর আক্রমণের জোর বাড়ায় তারা। তবু মিলছিল না কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা।
ম্যাচের ৭৯ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে ম্যান সিটিকে হকচকিয়ে দেন ফিন অ্যাজাজ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে চমৎকার শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন ইংলিশ মিডফিল্ডার।
পিছিয়ে পড়ে দ্রুতই জবাব দেয় ম্যান সিটি। ৮২ মিনিটে গোল শোধ করেন ডকু। ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার জোরালো শট এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পাল্টে জড়িয়ে যায় জালে। পাঁচ মিনিট পর এবার নিকো গনজালেজের আরেকটি জোরালো শটে লিড পেয়ে যায় ম্যান সিটি।
পরে ব্যবধান বাড়তে পারত আরও। কিন্তু দারুণ সুযোগ নষ্ট করেন ডকু। তাই ২-১ গোলের জয়েই মাঠ ছাড়তে হয় সিটিজেনদের।
দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে রোববার রাতে মুখোমুখি হবে চেলসি ও লিডস। এই ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে নামবে ম্যান সিটি।

লিগের শেষ এল ক্লাসিকো হতে পারত বেশ রোমাঞ্চকর। তবে বার্সেলোনার যেন একটু বেশিই তাড়া। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি হওয়ার আগেই যেন লা লিগা জেতার মিশনে আছে কাতালান ক্লাবটি। আগের দিন রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট হারানোর পর আজ পুরো তিন পয়েন্ট পাওয়া বার্সার লিগ জয়টা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
লা লিগায় আজ গেতাফের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা। প্রথামার্ধের শেষ দিকে ফেরমিন লোপেজের পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুন করা গোলটি করেন মার্কাস রাশফোর্ড।
এই জয়ে ৩৩ ম্যাচে বার্সার পয়েন্ট দাড়াল ৮৫। পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ১১ পয়েন্ট এগিয়ে গেল হান্সি ফ্লিকের দল। আগামী ৩ মে’তে ওসাসুনা বিপক্ষে জয়ের পর এল ক্লাসিকোতে ড্র করলেই টানা দ্বিতীয়বার লা লিগা চ্যাম্পিয়ন হবে বার্সা।
গেহাফের মাঠে জয় পাওয়াটা বার্সার জন্য কখনোই সহজ ছিল না। ২০১৯ সালের পর এই প্রতিপক্ষের ডেরা থেকে জয় নিয়ে ফিরতে পারেনি নূ ক্যাম্পের ক্লাবটি। ২০২৫-২৬ মৌসুমেও গেতাফের রক্ষণ ছিল ইস্পাত কঠিন। এই মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের পর লিগে সবচেয়ে কম (৩৪) গোল হজম করেছে তারা।
আজও প্রথামার্ধে আক্রমণেভাগের দুই কান্ডারি লামিনে ইয়ামাল-রাফিনিয়া বিহীন বার্সাকে বেশ ভুগিয়েছে গেতাফে। স্বাগতিকদের টানা প্রেসিংয়ের কারণে বার্সার স্বাভাবিক পাসিং গেম বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গেতাফের রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হচ্ছিল ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার একটি দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করে ফ্লিকের দল। জুলস কুন্দের পাস থেকে পাওয়া বল রুনি বার্দঘি পোস্টের বাইরে মারেন।
গোলশূন্য থেকেই বিরতিতে যাওয়ার পথে ছিল দুই দল। কিন্তু প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে ডেডলক ভাঙে সফরকারী বার্সা। পেদ্রির চমৎকার এক জাদুকরী পাস থেকে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন ফেরমিন লোপেজ। এটিই ছিল পুরো প্রথমার্ধে বার্সার নেওয়া লক্ষ্যে প্রথম শট।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বার্সেলোনা । ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় তারা। ব্যবধান দ্বিগুণ হয় এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে। ৭৪ মিনিটে রবার্ট লেভানডফস্কির রক্ষণচেরা পাস থেকে বল পেয়ে বদলি হিসেবে নামা র্যাশফোর্ড চমৎকার গোলে জয় নিশ্চিত করেন। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে কাসাদোর সামনে সুযোগ এসেছিল ব্যবধান ৩-০ করার। কিন্তু গোলপোস্টের খুব কাছ থেকেও এই মিডফিল্ডার বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন।
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪৬ পিএম

এইতো আর কদিন পরই হয়তো ছেলের সঙ্গে খেলতে দেখা যেতে পারে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে। ৪১ বছর বয়সেও ‘সিআর সেভেন’ যেভাবে নিজেকে ফিট রেখেছেন, তাতে সেই অসম্ভব স্বপ্নই এখন বাস্তব হওয়ার পথে। যে বয়সে অধিকাংশ খেলোয়াড় বুট তুলে রেখে অবসরের দিন গুনেন, রোনালদো তখনো মাঠ কাঁপাচ্ছেন সমান তালে। আল নাসরের পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডের এই চিরযৌবনের চাবিকাঠি কোনো রকেট সায়েন্স নয়; কঠোর শৃঙ্খলা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসই রোনালদোকে এখনও ২০ বছরের তরুণের ক্ষিপ্রতা দিচ্ছে।
২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত রোনালদোর ব্যক্তিগত শেফ হিসেবে কাজ করা জর্জিও বারোন সম্প্রতি রোনালদোর খাদ্যাভ্যাসের কিছু চমকপ্রদ তথ্য ফাঁস করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম শোবিজ চিট শিট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোনালদোর ডায়েটের অন্যতম প্রধান নিয়ম হলো দুধ পুরোপুরি বর্জন করা।
বারোনের মতে, মানুষই একমাত্র প্রাণী যারা অন্য প্রাণীর দুধ খায়। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য প্রাণীরা জন্মের তিন মাস পর আর দুধ পান করে না। অথচ মানুষ ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত দুধ খেয়ে যায়, যা আমার মতে একেবারেই অস্বাভাবিক।’ দুধের বদলে রোনালদো চিনি ছাড়া কড়া লিকার কফি পান করেন। স্বাদে তেতো হলেও প্রয়োজনে তিনি এতে অ্যালমন্ড, ওটস বা চালের দুধ মিশিয়ে নেন, কিন্তু গরুর দুধ কখনোই নয়।
খাবার সাধারণ কিন্তু নিয়ম কঠোর
রোনালদোর খাবারের তালিকা ছিল এক কথায়—সাধারণ কিন্তু শতভাগ অর্গানিক। সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারের ডায়েটে মূলত থাকে প্রচুর সবজি, মুরগির মাংস, অ্যাভোকাডো এবং লাল ফলমূল। ভাতের ক্ষেত্রেও তিনি বেশ খুঁতখুঁতে; সাধারণ সাদা চালের বদলে তিনি ব্ল্যাক রাইস (কালো চাল) বা রেড রাইস (লাল চাল) বেছে নেন। কারণ এই চালে সাধারণ চালের তুলনায় শর্করা বা স্টার্চ অনেক কম থাকে। এমনকি ছুটির দিনেও তিনি কখনো জাঙ্ক ফুড বা বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার স্পর্শ করেন না।
চিনি মানেই বিষ
রোনালদোর কাছে ‘চিনি’ মানেই হলো শরীরের জন্য বিষ। তাই তাঁর কোনো খাবারে বা কফিতে চিনির কোনো অস্তিত্ব থাকে না। দিন শুরু করেন চিনি ছাড়া ডিম, অ্যাভোকাডো, হোল-গ্রেইন ব্রেড আর কফি দিয়ে। চর্বি বেশি থাকায় শুকরের মাংসও তিনি সচরাচর খান না; খেলেও বড়জোর সপ্তাহে একদিন।
রোনালদোর ডায়েটে ফাইবার এবং ভিটামিনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। শেফ বারোন জানান, ‘ফাইবার এমন একটি পুষ্টি উপাদান যা প্রতিদিনের খাবারে থাকতেই হবে। আমি সবজি ছাড়া তাঁর জন্য কখনোই কোনো খাবার তৈরি করিনি। এছাড়া তিনি ভিটামিন ডি-এর মতো প্রয়োজনীয় ভিটামিন গ্রহণের ওপরও বিশেষ জোর দেন।’
খাবার এবং ব্যায়ামের ভারসাম্য নিয়ে বারোনের দর্শন খুব পরিষ্কার, ‘সাফল্যের ৬০ শতাংশ নির্ভর করে ডায়েটের ওপর আর ৪০ শতাংশ ব্যায়ামের ওপর। মানুষের শরীর অনেকটা গাড়ির ইঞ্জিনের মতো। আপনার কাছে বিশ্বের সেরা গাড়িটি থাকলেও তাতে যদি ভুল জ্বালানি ব্যবহার করেন, তবে সেটি কখনোই ঠিকঠাক চলবে না।’ স্পেন, আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বারোন জানান, সবার ক্ষেত্রেই সঠিক খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব একই।
অমানুষিক পরিশ্রম ও রিকভারি
রোনালদোর কঠোর আত্ম-নিয়ন্ত্রণ বিশ্বজুড়ে পরিচিত। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই ফরোয়ার্ড প্রায় চার ঘণ্টা ব্যক্তিগতভাবে কঠোর পরিশ্রম করেন এবং সারাদিন অল্প অল্প করে কয়েকবার প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান। দলের সঙ্গে অনুশীলনের বাইরেও তিনি নিয়মিত পাইলেটস, সাঁতার, ওয়েট ট্রেনিং এবং হাই-ইনটেনসিটি স্প্রিন্ট করেন। মাংসপেশির ক্লান্তি দূর করতে রোনালদো নিয়মিত আইস বাথ ব্যবহার করেন।
ফলাফল যখন বিস্ময়কর
এই অমানুষিক পরিশ্রম আর কঠোর নিয়মের সুফল হাতেনাতেই পাচ্ছেন রোনালদো। যেখানে প্রিমিয়ার লিগের একজন সাধারণ ফুটবলারের শরীরে ফ্যাটের পরিমাণ থাকে গড়ে ৮-১২ শতাংশ, সেখানে ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর শরীরে ফ্যাটের পরিমাণ মাত্র ৭ শতাংশ!