
ঘরের মাঠে ফিরতেই ওয়ানডেতেও যেন চেনা রুপে ফিরল বাংলাদেশ। রিশাদ হোসেনের লেগ স্পিনের জাদুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭৫ রানে হারাল তারা।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ৪৯.৪ ওভারে ২০৭ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে বিনা উইকেটে ৫১ রান করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাত্র ১৩৩ রানেই গুটিয়ে যায়।
ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং লাইনআপকে এলোমেলো করে ৩৫ রানে ৬ উইকেট নেন রিশাদ। ওয়ানডেতে ৬ উইকেট নেওয়া বাংলাদেশের চতুর্থ বোলার তিনি।
এর আগে কেনিয়ার বিপক্ষে ২৬ রানে ৬ উইকেট পেয়েছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে রুবেল হোসেনও নিয়েছিলেন ২৬ রানে ৬ উইকেট। এছাড়া ভারতের বিপক্ষে ৪৩ রানে ৬ উইকেট পান মোস্তাফিজুর রহমান।
আরও পড়ুন
| আবু ধাবি টি-টেনে দল পেলেন সাইফ-নাহিদ |
|
অথচ রান তাড়ায় শুরুটা দারুণ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। উদ্বোধনী জুটিতে ৫১ রান যোগ করেন ব্র্যান্ডন কিং ও আলিক আথানেজ।
১২তম ওভারে আক্রমণে এসেই এই জুটি ভাঙেন রিশাদ। এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন ৩৬ বলে ২৭ রান করা আথানেজ।
এরপর দ্বিতীয় উইকেটে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন কিং ও কেসি কার্টি। ২০তম ওভারে ২৮ রানের এই জুটিও ভাঙেন রিশাদ। এরপর ১৩ রানের মধ্যে কিং, শেরফান রাদারফোর্ড ও রস্টোন চেজকে ফিরিয়ে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন তরুণ লেগ স্পিনার।
বিশ্বের মাত্র দ্বিতীয় লেগ স্পিনার হিসেবে কোনো ইনিংসে প্রথম ৫ উইকেট নিলেন বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটার। গত বছরের আগস্টে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ৬ উইকেট একাই নিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার লেগ স্পিনার জেফ্রি ভ্যান্ডারসে।
ক্যারিবিয়ানদের পক্ষে ৬০ বলে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করে ফেরেন কিং। এরপর উইকেট শিকারের উৎসবে যোগ দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১০০ হতেই গুদাকেশ মোতিকে আউট করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
এরপর বাংলাদেশের জয়ের পথে বাধা হয়ে থাকা শাই হোপকে কট বিহাইন্ড করেন তানভির ইসলাম। বাকি কাজ সারতে একদমই সমস্যা হয়নি। নতুন স্পেলে ফিরে ২ উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান।
আর ৩৯তম ওভারের শেষ বলে খ্যারি পিয়েরেকে আউট করে ৬ উইকেট পূর্ণ করেন রিশাদ।
এর আগে ম্যাচের প্রথমভাগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই স্পিনার খ্যারি পিয়েরে ও চেজ করেন দুর্দান্ত বোলিং, পান বড় বড় টার্নের দেখা। নতুন বলে পেসারদের বাউন্সও ছিল চোখে পড়ার মতো।
আরও পড়ুন
| মিরপুরের স্পিন মঞ্চে ব্যাটারদের লড়াই |
|
সব মিলিয়ে ২৯৮ বলের মধ্যে ১৮৩টিই ডট খেলেছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ ৩০ ওভারের বেশি বলে কোনো রান করতে পারেনি তারা। দলকে দুইশ পার করানোর কারিগর তাওহিদ হৃদয় ও অভিষিক্ত মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকারের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শুরুর ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় উইকেটে ১২২ বলে ৭১ রানের জুটি গড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত ও হৃদয়।
৬৩ বলে ৩২ রান করে আউট হন শান্ত। এরপর অঙ্কনকে নিয়ে এগিয়ে যান হৃদয়। ৩০ ওভারে পূর্ণ হয় দলের একশ রান।
ক্যারিয়ারের ১১তম ফিফটি করে আর টিকতে পারেননি মিডল-অর্ডার ব্যাটার। ৯০ বলে ৫১ রান করে কট বিহাইন্ড হন হৃদয়।
অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন অঙ্কন। চেজের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন ১৭ রান করা মিরাজ। চেজের পরের ওভারে বোল্ড হন ৭৬ বলে ৪৬ রান করা অভিষিক্ত মিডল-অর্ডার ব্যাটার অঙ্কন।
ইনিংসের ৪৮তম ওভারে প্রথম ছক্কা মারেন রিশাদ। তার ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে ২৬ রান। এছাড়া ৪ বলে ৯ রান করে দলকে দুইশ পার করান তানভির ইসলাম।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন জেডেন সিলস। তবু খরুচে বোলিং করেন তিনি। খ্যারি পিয়েরে ১০ ওভারে মাত্র ১৯ রানে নেন ১ উইকেট। রস্টোন চেজের শিকার ৩০ রানে ২ উইকেট।
একই মাঠে মঙ্গলবার সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে লড়বে দুই দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৪৯.৪ ওভারে ২০৭ (সাইফ ৩, সৌম্য ৪, শান্ত ৩২, হৃদয় ৫১, অঙ্কন ৪৬, মিরাজ ১৭, সোহান ৯, রিশাদ ২৬, তানভির ৯*, তাসকিন ০, মোস্তাফিজ ১; সিলস ৭-০-৪৮-৩, শেফার্ড ৭.৪-১-৩১-১, পিয়েরে ১০-২-১৯-১, চেজ ১০-০-৩০-২, মোতি ১০-০-৪৪-০, গ্রিভস ৫-০-৩২-২)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৯ ওভারে ১৩৩ (কিং ৪৪, আথানেজ ২৭, কার্টি ৯, হোপ ১৫, রাদারফোর্ড ০, চেজ ৬, মোতি ৩, গ্রিভস ১২, শেফার্ড ১, পিয়েরে ৭*, সিলস ৩; তাসকিন ২-১-১০-০, তানভির ১০-১-৪৬-১, মোস্তাফিজ ৫-০-১৬-২, মিরাজ ১০-৩-১৬-১, রিশাদ ৯-০-৩৫-৬, সাইফ ৩-০-৭-০)
ফল: বাংলাদেশ ৭৪ রানে জয়ী
No posts available.
১১ মার্চ ২০২৬, ৯:৫৭ পিএম

ক্রিকেটে দুর্নীতিবিরোধী বিধি লঙ্ঘনের দায়ে বিম১০ টুর্নামেন্ট সংশ্লিষ্ট তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আইসিসি। অভিযুক্তরা হলেন দুই টিম অফিসিয়াল চিত্রঞ্জন রাঠোড় ও ট্রেভন গ্রিফিথ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার জেভন সার্লেস।
অভিযোগের পর তাদের সবাইকে সাময়িকভাবে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আইসিসির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৩-২৪ মৌসুমের বিম১০ টুর্নামেন্ট ঘিরে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে। টুর্নামেন্টটি ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের (সিডব্লিউআই) অ্যান্টি-করাপশন কোডের আওতায় পড়ে।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপ খেলবে না ইরান, ফিফার সামনে নতুন শঙ্কা |
|
টাইটান্স দলের মালিক রাঠোড়ের বিরুদ্ধে সিডব্লিউআই কোডের তিনটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে ২০১৮ সালের আইপিএল খেলা ক্রিকেটার সার্লেসের বিরুদ্ধে চারটি ও গ্রিফিথের বিরুদ্ধে সিডব্লিউআই কোডের চারটি ধারার পাশাপাশি আইসিসি অ্যান্টি-করাপশন কোডের একটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিনজনের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, বিম১০ টুর্নামেন্টের ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি, ম্যাচের অন্য কোনো দিককে অবৈধভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা বা তাতে জড়িত থাকা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এমন কাজে উৎসাহিত করা ও তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
সার্লেস ও গ্রিফিথের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতির প্রস্তাব বা যোগাযোগের বিষয়টি সিডব্লিউআইকে না জানানোর। গ্রিফিথের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত একটি অভিযোগ হলো, তদন্তের কাজে বাধা দেওয়া। যার মধ্যে প্রাসঙ্গিক তথ্য গোপন বা নষ্ট করার অভিযোগও রয়েছে।
আরও পড়ুন
| ভালভার্দের হ্যাটট্রিকে রিয়ালের দাপুটে জয়, লেভারকুসেনে ড্র নিয়ে ফিরল আর্সেনাল |
|
অভিযোগ গঠনের পর তিনজনকেই অবিলম্বে সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১১ মার্চ ২০২৬ থেকে তাদের হাতে অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য ১৪ দিন সময় রয়েছে।
এই ঘটনা বৃহত্তর এক তদন্তের অংশ। এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটার অ্যারন জোন্সের বিরুদ্ধেও সিডব্লিউআই ও আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধি ভঙ্গের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল।
তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করবে না বলে জানিয়েছে আইসিসি।

বিশ্বের একমাত্র ব্যক্তি গৌতম গম্ভীর, যিনি ক্রিকেটার ও কোচ হিসাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছেন। ভারতের কোচ হিসাবে দু’বছরে দু’টি আইসিসি ট্রফি জেতা ব্যক্তিও তিনি। অথচ সূর্যকুমার যাদবদের কোচ হতে মোটেও আগ্রহী ছিলেন না গম্ভীর। তবে আইসিসির বর্তমান চেয়ারম্যান জয় শাহর অনুরোধে ভারতের দায়িত্ব নেন তিনি।
বিশ্বকাপ জয়ের পর এক সাক্ষাৎকারে গম্ভীর বলেন,
‘‘মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ম্যাচের আগে জয় ভাই আমাকে ফোন করেন। ফোন দিয়ে তিনি আমাকে বলেন, ‘তোমাকে একটা প্রস্তাব দেব, না করতে পারবে না।’ আমি বললাম, ‘কী প্রস্তাব’। জয় ভাই বলল, ‘তোমাকে ভারতীয় দলের প্রধান কোচ হতে হবে।’ সত্যি বলতে, ওই সময় আমি প্রস্তুত ছিলাম না।”
জয় শাহ’র আচমকা প্রস্তাবে দ্বিধায় পড়ে যান গম্ভীর। কিছুটা অবাকও হয়ে যান তিনি। কারণ, বিশ্বকাপজয়ী একটি দলের কোচ হওয়া এতটা সহজ ব্যাপার নয়। বরং এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া।
গম্ভীর বলেন,
‘আমি অবাক হয়েছিলাম। আমার মতে, ভারতীয় দলের কোচ হওয়া সম্মানের। কারণ, কত জন আবার ভারতীয় দলের জার্সি পরে ওই সাজঘরে যাওয়ার সুযোগ পায়। আমাকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছিল।’
কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পুরো কৃতিত্ব জয়কেই দিয়েছেন গম্ভীর। তিনি বলেন,
‘আমাকে বলুন, কত জন সাবেক ক্রিকেটার কোচ হতে পারে। সংখ্যাটা খুবই কম। জয় ভাই বলেছিল, আমি না করতে পারব না। আমি নাতাশার (গম্ভীরের স্ত্রী) সঙ্গে কথা বললাম। কিন্তু জয় ভাইয়ের কথাতেই দায়িত্ব নিয়েছিলাম। সাংবাদিক বৈঠকেও সেটা বলেছি।’

ভারতের ট্রফি অর্জনের মধ্য দিয়ে পর্দা নামল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ২০২৬ কুড়ি কুড়ির টুর্নামেন্টের ঠিক দুই দিন পরই কে কত প্রাইজমানি পাচ্ছে, জানাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা—আইসিসি।
আইসিসি জানিয়েছে, ২০ দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে মোট ১১.২৫ মিলিয়ন ডলার বণ্টন করা হবে। ২০২৪ সালে আইসিসি যে ঘোষণা দিয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে।
নিউ জিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারানোর পর ভারতের পুরস্কার হিসেবে পাচ্ছে ২,৬৩৯,৪২৩ ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩১ কোটি ৬৭ লাখ ৩০ হাজার ৭৬০ টাকা। রানার্সআপ পাচ্ছে ১৪ লাখ ২২ হাজার ৬৯২ ডলার।
সেমি-ফাইনালে ওঠা দক্ষিণ আফ্রিকা ১০ লাখ ৫ হাজার ৫৭৭ ডলার এবং ইংল্যান্ড পাচ্ছে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৩ ডলার।
সুপার এইটে খেলা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫ লাখ ৩৮ হাজার ২৬৯ ডলার, পাকিস্তান ৫ লাখ ২২ হাজার ৬৯২ ডলার, জিম্বাবুয়ে ৪ লাখ ৯১ হাজার ৫৩৮ ডলার এবং সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা পাচ্ছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৬২ ডলার।
গ্রুপ পর্বে ভালো পারফরম্যান্স করা যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং আফগানিস্তান প্রত্যেকেই ৩ লাখ ৯ হাজার ৮০৮ ডলার করে পাবে।
একটি ম্যাচ জেতা স্কটল্যান্ড পাচ্ছে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৬৫৪ ডলার এবং আয়ারল্যান্ড পাবে ২ লাখ ৭১ হাজার ৭৩১ ডলার। বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়ে জয় পাওয়া ইতালি পেয়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ১৫৪ ডলার। একই অঙ্ক পেয়েছে নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নেপাল। অন্যদিকে কানাডা, নামিবিয়া ও ওমান—এই তিন দল প্রত্যেকে ২ লাখ ২৫ হাজার ডলার করে পাচ্ছে । যা ছিল অংশগ্রহণের ভিত্তি পুরস্কার।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার খুব একটা বড় নয় শন টেইটের। তবে অজি লিজেন্ডারি পেসার জেফ থমসনের স্টাইলে বোলিং করতেন। অনবরত ঘন্টায় ১৫৫ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারতেন। স্পিড গান-এ ২০১০ সালে একটি আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচে ঘন্টায় ১৬০.৭ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন শন টেইট। ২০২৫ সালের মে মাসে শন টেইটকে ২ বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দিয়ে বাংলাদেশের পেসারদের গতিকে সমীহ করার পর্যায়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন বিসিবির তৎকালীন সভাপতি ফারুক আহমেদ। এক সময়ে ব্রেট লি'র গতির সঙ্গে তুলনা করা হতো যাকে, সেই শন টেইটকে পেয়ে তরুণ পেসার নাহিদ রানা অনেক বেশি ভয়ংকর রূপ ছড়াচ্ছেন।
এই অজি বোলার কোচ হয়েও বন্ধুর মতো, সবসময়ে উদ্বুদ্ধকরণ কথা বলেন। বুধবার পাকিস্তানের বিপক্ষে সেরা বোলিং করে (৫/২৪) সংবাদ সম্মেলনে তেমনটাই বলেছেন নাহিদ রানা-
‘কোচ হিসেবে উনি আউটস্যান্ডিং। উনি কোচ হয়েও ফ্রেন্ডের মতো বিহ্যাব করেন। যখন যে জিনিসটা দরকার, সেই জিনিসটা দেন। উনি বলেন, তোমরা তোমাদের স্ট্রেন্থ অনুযায়ী খেলো। তোমরা খেলবে মাঠে, আমি তোমাদেরকে প্লান দিব। তোমরা শুধু মাঠে করে দেখিও। উনি সব সময়ে উদ্বুদ্ধকরণ কথা বলেন।’
দলে মোস্তাফিজ-তাসকিনের মতো অভিজ্ঞ এবং বিশ্বমানের পেসার আছেন বলেই তাদের ছায়ায় পরিণত হতে চাইছেন নাহিদ রানা। বুধবার এই দুই সিনিয়রের টিপস কাজে লাগিয়েছেন বলে জানিয়েছেন নাহিদ রানা-
তাসকিন ভাই, ফিজ ভাই-এর সাথে কথা বলছিলাম, উনারা বলছিলেন বল উইকেটে জায়গামত হিট করতে। সেটাই করেছি। আমি যখন উইকেট পাচ্ছিলাম, আমার বল খেলতে সমস্যা হচ্ছিল, তাই লম্বা সময় বল করেছি। ক্যাপ্টেন, শান্ত ভাইয়ের প্লান ছিল, মাঠের মধ্যে তাদের হেল্প নিয়েছি।’
মাঠে এবং মাঠের বাইরে বাংলাদেশ দলের সবাই ভাই-ব্রাদার, একটা পরিবারের মতো। তেমনটাই জানিয়েছেন নাহিদ রানা-
‘আসলে আমরা ভাই-ব্রাদার, অন দ্য ফিল্ড যতোটা হাসিখুশি থাকি, অফ দ্য ফিল্ড আরও বেশি হাসিখুশি থাকি।’

শুরুর আগে আরও একবার বদলে নারী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (ডব্লিউবিপিএল) ক্রিকেটের সূচি। তিন মাস পিছিয়ে আগামী জুলাইয়ে হবে প্রথম নারী বিপিএল। নতুন ভেন্যু হিসেবে যুক্ত হয়েছে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার রাতে এই খবর জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। প্রাথমিকভাবে আগামী ৪ এপ্রিল শুরু করে ১৪ এপ্রিল ফাইনাল ম্যাচের সূচি ঘোষণা করেছিল বোর্ড। তবে এখন সেই ভাবনা সরে এসেছে তারা।
বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সম্ভাব্য ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শের পর, দলগুলোর প্রস্তুতির সময় দেওয়া যেমন স্কোয়াড গঠন, বিদেশি ক্রিকেটার আনা ও পরিকল্পনা সাজাতে সুবিধার জন্য টুর্নামেন্টটি জুলাই মাসে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিবর্তিত এই সূচি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যালেন্ডারের সঙ্গেও ভালোভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে চলতি বছরের জুনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর নারী বিপিএলে বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বাড়বে।
নতুন পরিকল্পনা অনুয়ায়ী, ডব্লিউবিপিএলের প্রথম আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও ঢাকাতেও ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ ২১ জুলাই ঢাকার শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
টুর্নামেন্টের ফ্র্যাঞ্চাইজি, খেলোয়াড় তালিকা ও স্পন্সরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে।