
অবশেষে স্বস্তির খবর প্যাট কামিন্স ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের জন্য। সর্বশেষ পিঠের স্ক্যানের পর ফিটনেস ক্লিয়ারেন্স পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। আর সব ঠিক থাকলে আইপিএলে তিনি ফিরবেন এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে।
সিডনিতে করানো পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ভোগানো তার লাম্বার স্ট্রেস ইনজুরি পুরোপুরি সেরে গেছে। এর আগে ইনজুরির কারণে গত জুলাইয়ের পর থেকে মাত্র একটি ম্যাচ খেলতে পেরেছিলেন কামিন্স।
ফলে আইপিএলের শুরুতে দলের সঙ্গে থাকলেও পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য দেশে ফিরে যেতে হয়েছিল তাকে।
নিজের এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কামিন্স জানিয়েছেন, শুক্রবারই ভারতের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন, লক্ষ্য আগামী ২৫ এপ্রিল জয়পুরে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে মাঠে নামা।
আরও পড়ুন
| এক ভেন্যুতে রানের রাজত্ব কোহলির, সেরা পাঁচে মুশফিক ও তামিম |
|
এই ইনজুরির শুরুটা গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের সময়, যদিও বিষয়টি গুরুতর আকার নেয় আগস্টে। পরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাডিলেড টেস্টে একমাত্র ম্যাচ খেলেই ছয় উইকেট নিয়ে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন, যা অ্যাশেজ ধরে রাখতে সাহায্য করে অস্ট্রেলিয়াকে।
শুরুর দিকে আশা ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দেখা যাবে তাকে, এমনকি প্রাথমিক দলেও নাম ছিল। কিন্তু বাস্তবে সময়টা হয়ে ওঠেনি অনুকূল- আইপিএলের শুরুটাও তাই মিস করতে হয়েছে।
কামিন্সের অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ইশান কিশান। প্রধান কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টোরি জানিয়েছেন, দলের সঙ্গে থেকে অধিনায়কত্ব নিয়ে ইশানের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করেছেন কামিন্স- যা দলকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করেছে।
বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থ স্থানে রয়েছে হায়দরাবাদ, পাঁচ ম্যাচে দুটি জয় নিয়ে।
No posts available.
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩:৪২ পিএম
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২:৫০ পিএম
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১২ এম

গত বছরের অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পুরোপুরি স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনায় পরিণত হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সবশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেই সেই পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়িয়ে ভালো উইকেটে খেলেছিল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
সেই ধারাবাহিকতাই এবার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ধরে রাখতে চান বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। কিউইদের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগের দিন মিরাজ বলেছে, এই সিরিজটিও ভালো উইকেটে খেলার চেষ্টা করবেন তারা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে গত মাসের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। স্পোর্টিং উইকেট বানিয়ে ওই সিরিজে ছিল ব্যাটে-বলে দারুণ লড়াই। প্রথম ম্যাচে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। পরেরটিতে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ১১৪ রানে।
আর শেষ ম্যাচে ২৯০ রান করে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর পাকিস্তানকে ২৭৯ রানে থামিয়ে সিরিজ জিতে নেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। ভালো উইকেটে ব্যাটিং বিপর্যয়ের শঙ্কা থাকলেও নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে একই পথে হাঁটার কথা বলেছেন মিরাজ।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার বেলা ১১টায় শুরু হবে প্রথম ওয়ানডে। এর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে উইকেট সম্পর্কে ধারণা দেন মিরাজ।
“পাকিস্তান সিরিজে আমরা খুব ভালো উইকেটে ক্রিকেট খেলেছি। আমরা চেষ্টা করব এই সিরিজটাও ভালো উইকেটে খেলার জন্য। সব কিছু মূলত আপনার পারফরম্যান্সের ওপর। আমরা ট্রু উইকেটে কিন্তু দেখেন (পাকিস্তানের বিপক্ষে) দ্বিতীয় ম্যাচে দ্রুত অল আউট হয়ে গেছি।তবে উইকেট তো ট্রু ছিল। পাকিস্তান প্রথম ম্যাচে ১১৪ রানে অল আউট হয়ে গেছে তবে ট্রু উইকেট ছিল।”
“ক্রিকেটাররা যদি সবাই পারফর্ম করতে পারে... উইকেটটা অনেক সময় মানিয়ে নিয়ে খেলতে হয়। তো আমার কাছে মনে হয়, এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ মেন্টালিটির ওপরে যে কে কীভাবে অনুশীলন করছে।”

গত
দুই বছরের মধ্যে চারবার রদবদল হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি)। এই সময়ে ভিন্ন
তিন সাবেক অধিনায়ক এসেছেন বোর্ড প্রধানের চেয়ারে। সবশেষ পরিবর্তনের পর এখন বিসিবির
বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবাল।
বারবার
এই পরিবর্তনে ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রভাব পড়লেও সেটি খুব অবাক করার কিছু নয়। তবে এই
বিষয়ে ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছেন, বাইরের এসব পরিবর্তন নিয়ে চিন্তা
করেন না ক্রিকেটাররা।
গত
সপ্তাহে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড ভেঙে বিসিবিতে গঠন করা হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক
কমিটি। যার প্রধান হিসেবে আছেন তামিম। তার বোর্ডের প্রথম সিরিজ নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে
ওয়ানডের লড়াই।
সিরিজ
শুরুর আগে বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের
প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কিছু দিন পরপর বোর্ডে পরিবর্তন দলের
ওপর কোনো প্রভাব ফেলে কিনা। এই প্রশ্নের উত্তর ক্রিকেটারদের কাছ থেকে জানতে বলেছিলেন
বাংলাদেশ কোচ।
পরদিন
অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এলেন অধিনায়ক মিরাজ। তার কাছে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস
করা হলে, কোনোরকম প্রভাবের কথা উড়িয়ে দেন তিনি।
“আমরা তো অনুশীলন করেছি। গত তিন সপ্তাহ আমরা খুবই ভালো অনুশীলন করেছি। আর পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের আসলে বাইরে কী হয়, সেটা এটা আমাদের ওরকম মাথায় তেমন প্রভাব ফেলে না।”
“আমাদের কাজ হলো পারফর্ম করা। আমার মনে হয়, গত তিন সপ্তাহ যেভাবে অনুশীলন হয়েছে এটা আমার কাছে মনে হয়, অনেক ভালো অনুশীলন আমরা করেছি। আর বাইরে কী হয়েছে এটা আমরা কখনও চিন্তা করিনি।”
মিরপুর
শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার বেলা ১১টায় শুরু হবে তিন ম্যাচ সিরিজের
প্রথম ওয়ানডে। আগামী বছরের বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত করতে এই সিরিজটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের জন্য।
তবে
এখনই পুরো সিরিজ নিয়ে না ভেবে, জয় দিয়ে প্রথম ম্যাচটি শুরু করতে চান মিরাজ।
“দেখেন
শুরুটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ওভাবে লক্ষ্য ঠিক করা উচিত না। যেহেতু আমাদের তিনটা ম্যাচ
আছে, তো সিরিজ হিসেবে আমাদের প্রথম ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চেষ্টা করব ভালো
ক্রিকেট খেলে প্রথম ম্যাচটা জেতার।”

রানের ফোয়ারায় আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করলেন বাবর আজম ব্যাট। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার গতকাল পিএসএলে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরসের বিপক্ষে পেশোয়ার জালমির হয়ে অনন্য ইতিহাস গড়লেন। বিরাট কোহলির দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে ১০০টি হাফ-সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এই পাকিস্তানি তারকা। বিশ্বের চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তার ফিফটির সেঞ্চুরি হয়ে গেল।
করাচির ন্যাশনাল ব্যাংক স্টেডিয়ামে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বিপক্ষে পেশোয়ার জালমির ৮ উইকেটের জয়ে ৫১ বলে অপরাজিত ৭১ রানের ইনিংস খেলেন বাবর। আর এই ইনিংসেই বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে আরও একটি রেকর্ডে নাম লেখান ৩১ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটার। টি-টোয়েন্টিতে ৩৪১ ইনিংসে ফিফটির সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন তিনি। একই উচ্চতায় পৌঁছাতে ভারতের কিংবদন্তি বিরাট কোহলি খেলেছিলেন ৪০১ ইনিংস। অর্থাৎ কোহলির চেয়ে ৬০ ইনিংস কম খেলেই বাবর এই মাইলফলক ছুঁয়ে ফেললেন।
আরও পড়ুন
| আইপিএল খেলতে আর বাধা নেই কামিন্সের |
|
কোহলি ছাড়া বাবরের আগে কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে ১০০তম ফিফটি করার কীর্তিতে নাম লিখিয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার এবং জস বাটলার। আর প্রথম পাকিস্তানি ব্যাটার হিসেবে বাবর এই তালিকায় উঠল বাবরের নাম।
শুধু রেকর্ডই নয়, চাপের মুখে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন জালমি অধিনায়ক। ১৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বাবর ৫১ বলে ৭১ রানের এক শান্ত ও গোছানো ইনিংস খেলেন। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে ১০টি নান্দনিক বাউন্ডারিতে সাজানো এই ইনিংসটি যেন ব্যাটিং দক্ষতার নিখুঁত প্রদর্শনী। মোহাম্মদ হারিসের (৩৫) সঙ্গে মিলে উদ্বোধনী জুটিতেই তিনি ৭৫ রান তুলে জয়ের ভিত গড়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটের বড় জয় নিয়ে ৯ বল বাকি থাকতেই মাঠ ছাড়ে পেশোয়ার জালমি।
চলতি পিএসএলে ছন্দের তুঙ্গে আছেন বাবর। ৬ ম্যাচে ৭৫.২৫ গড়ে তিনি ইতোমধ্যে ৩০১ রান সংগ্রহ করেছেন। কদিন আগেই তিনি ক্রিস গেইল ও বিরাট কোহলিকে ছাড়িয়ে দ্রুততম ১২,০০০ টি-টোয়েন্টি রানের রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছিলেন। গত শনিবার লাহোর কালান্দার্সের বিপক্ষে ম্যাচে পিএসএলের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৪ হাজার রানেরও দেখা পান বাবর।
বাবরের দূত্যি ছড়ানো পিএসএলর এবারের আসরে উড়ছে তাঁর দল পেশোয়ার জালমিও। ৭ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে তারা তালিকার শীর্ষে। দ্বিতীয় মুলতান সুলতানসের সংগ্রহ ৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় ইসলামাবাদ ইউনাইটেড।

পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলে বড় পরিবর্তন আনল করাচি কিংস। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপেনার মুহাম্মদ ওয়াসিমের পরিবর্তে ইংল্যান্ডের বিধ্বংসী ব্যাটার জেসন রয়কে দলে ভেড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
নেপালে আইসিসি মেনস ক্রিকেট বিশ্বকাপ লিগ-২ খেলতে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ায় ওয়াসিম ও খুজাইমা বিন তানভিরকে ছাড়তে হয়েছে কিংসকে। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই অভিজ্ঞ রয়কে দলে টানা হয়েছে।
করাচি কিংস এক বিবৃতিতে জানায়, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আগ্রাসী ব্যাটিং ও বিশাল অভিজ্ঞতার জন্য পরিচিত রয় পিএসএলে সবসময়ই ভয়ঙ্কর বিদেশি ব্যাটারদের একজন। টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার অন্তর্ভুক্তি দলের টপ অর্ডারকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই বিশ্বাস তাদের।
আরও পড়ুন
| আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন রুবেল |
|
পিএসএলে রয় নতুন কেউ নন। ২০১৬ সালে টুর্নামেন্টের প্রথম আসরে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে যাত্রা শুরু। এরপর দীর্ঘ সময় খেলেছেন কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে। এখন পর্যন্ত ৬ আসরে ১ হাজার ২৬০ রান করেছেন ১৪৬.৫১ স্ট্রাইক রেটে। যেখানে রয়েছে ২টি সেঞ্চুরি ও ৮টি ফিফটি।
তার পিএসএল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত ইনিংসটি আসে ২০২৩ সালের আসরে। পেশাওয়ার জালমর বিপক্ষে ৬৩ বলে অপরাজিত ১৪৫ রান করে গড়েন পিএসএলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড।
চলতি আসরে দারুণ শুরু করেও ছন্দ হারিয়েছে করাচি কিংস। টানা তিন জয়ের পর শেষ দুই ম্যাচে হেরেছে তারা। বিশেষ করে ওপেনিং জুটির ব্যর্থতা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়াসিম পাঁচ ম্যাচে করেছেন মাত্র ৮৬ রান, আর তার সঙ্গী ডেভিড ওয়ার্নার চার ইনিংসে করেছেন ৯৩ রান। যার অর্ধেকই এসেছে এক ম্যাচে।
বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বরে থাকা করাচি কিংস আগামী ১৬ এপ্রিল তাদের পরবর্তী ম্যাচে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের।

করোনা মহামারীর ঠিক আগে (২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান সফরে রুবেল হোসেন খেলেছেন শেষ টেস্ট। রাওয়ালপিণ্ডিতে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টে খালি হাতে থাকেননি। পেয়েছেন ৩ উইকেট (৩/১১৩)। এরপর পেস বোলার রুবেল হোসেন টেস্টে হয়ে যান ব্রাত্য। এরপরেও ১৪ মাস খেলেছেন সাদা বলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। ২০২১ সালের মহান স্বাধীনতা দিবসে ওয়েলিংটনে প্রিয় প্রতিপক্ষ নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ উইকেট পেলেও অমিতব্যয়ী বোলিংয়ের অপবাদে ( ১০-০-৭০-৩) থেমে যায় ওডিআই ক্যারিয়ার। ওই সফরে অকল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচেও খরুচে বোলিংয়ের অপবাদ (২-০-৩৩-০)। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার স্থায়ীভাবে থেমে যায় সেখানেই।
ক্যারিয়ারের শুরুতে চিনিয়েছিলেন গতি দিয়ে। স্পোর্টিং উইকেট পেলে ঘন্টায় ১৪০ থেকে ১৪৬ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারতেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারটা তার এক যুগের, ২০০৯ থেকে ২০২১। ২৭ টেস্টে ৩৬ উইকেট, ১০৪ ওয়ানডেতে ১২৯ উইকেট, আর ২৮ টি-টোয়েন্টিতে ২৮ উইকেট। সব মিলে ১৯৩ আন্তর্জাতিক উইকেটের মালিক রুবেল হোসেন ঘরোয়া ক্রিকেটেও গিয়েছিলেন হারিয়ে।
২০২০ সালের পর আর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেননি। খেলেননি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সর্বশেষ আসরেও। এর আগের বছর প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ছয় ম্যাচ খেলে পেয়েছিলেন ৮ উইকেট।
সর্বশেষ বিপিএলের নিলামে রুবেলকে নেয়নি কোনো দল। তবে স্বীকৃত ক্রিকেটে সর্বশেষ ম্যাচ তিনি খেলেছেন তার আগের ২০২৫ সালের বিপিএলে। খুলনা টাইগার্সের হয়ে দুর্বার রাজশাহীর বিপক্ষে ওই ম্যাচ কাটিয়েছেন উইকেটহীন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পথটা যখন কঠিন, তাসকিন, মোস্তাফিজ, নাহিদ রানা, শরিফুল, তানজিম হাসান সাকিব, ইবাদত, খালেদদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় কুলিয়ে ওঠা যখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে, তখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই বলাটাই শ্রেয়।
মাঠে নিতে পারেননি ফেয়ারওয়েল। সেই আক্ষেপটা কিছুটা লাঘব করেছেন বুধবার (১৫ এপ্রিল) ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অবসরের ঘোষণায়। ৩৭-এ দাঁড়িয়ে এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘জাতীয় দল আমার আবেগ। কিন্তু একটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতেই হতো। সেই চিন্তা করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানালাম। তবে ঘরোয়া আসরের ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তদের ধন্যবাদ। বাকি সময়টাতেও এভাবেই আমাকে আপনাদের পাশে রাখবেন এটা আমার বিশ্বাস।’
এক যুগের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মনে রাখার মতো অনেক কিছু করেছেন রুবেল। গ্রামীণফোন পেসার হান্টের আবিস্কার রুবেলের অ্যাকশন অনেকটা শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গার মতো। এই পরিচয়েই তাকে নিয়ে ক্লাব ক্রিকেটে টাগ অব ওয়্যার দেখেছি। ২০০৯ সালে মিরপুরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিষেকেই নিজেকে চিনিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার বোলিংয়ে (৫.৩-০-৩৩-৪) বাংলাদেশ জিতেছে ৫ উইকেটে। পুরনো বলে কারিশমা দেখিয়েছেন, শেষ ৯ বলের স্পেলে ১১ রান খরচায় তুষারা, কুলাসাকেরা, অজন্থা মেন্ডিজকে ফিরিয়ে দিয়ে মিরপুরে ক্রিকেট ভক্তদের উৎসবের উপলক্ষ্য এনে দিয়েছেন।
নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ যখন ওডিআই সিরিজে অবতীর্ন, তার দুই দিন আগে রুবেল হোসেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমর্থকদের পেছনে ফিরে তাকানোর বার্তা দিয়ে গেছেন। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই ক্রিকেটে ২টি জয়ে রেখেছেন অবদান। ২০১০ সালে মিরপুরে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৩ উইকেটে জয়েও নায়ক রুবেল হোসেন (৯.৩-১-২৫-৪)। ২০১৩ সালে সেই প্রিয় ভেন্যুতে করেছেন ক্যারিয়ারসেরা বোলিং (৫.৫-০-২৬-৬)। ওডিআই ক্রিকেটে মাশরাফির সঙ্গে যৌথভাবে সেরা বোলিং ইনিংসে বসিয়েছেন রুবেল ভাগ।
২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে সামনে রেখে হ্যাপি নামের এক নায়িকা রুবেলের প্রাণ অতিষ্ঠ করে ফেলেছিল। ওই নায়িকার মামলায় রুবেলকে কারাবাস পর্যন্ত বরণ করতে হয়েছে। বাংলাদেশ দলের টাম্পকার্ডকে ছাড়া বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল যাবে কিভাবে ? এই শঙ্কা কাটাতে বিসিবি এবং তৎকালীন সরকারের রুবেলকে দিয়েছে আইনী সহায়তা। তাতেই রুবেল জামিনে জেল থেকে বেরিয়ে এসে বিশ্বকাপে করেছেন বাজিমাত। অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫ রানে জিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে বাংলাদেশ পেয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট। ম্যাচটা যখন হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম, তখন স্টুয়ার্ট ব্রড এবং এন্ডারসনকে ইয়র্কারে রুবেল হোসেনের বোল্ড আউটের দশ্য দেখে অ্যাডিলেডের প্রেস বক্স থেকে দেখেছি বাংলাদেশ দলের উচ্ছ্বাস! দেখেছি পতাকা হাতে ল্যাপ অব অনার। ক্রিকেটের বৈশ্বিক কোনো আসরে বাংলাদেশের সেরা উৎসবের বিজ্ঞাপন হয়ে থাকবে রুবেল হোসেনের ওই দুটি ডেলিভারি।