
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ভূরিভূরি গোল করে ৬টি গোল্ডেন বুট জিতেছেন লিওনেল মেসি। ক্লাব ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতার এই পুরষ্কার আর্জেন্টাইন মহাতারকা কেবল বার্সেলোনার জার্সিতেই অর্জন করেছেন। সোনালি সেই সময়টায় মেসির সঙ্গে গোল্ডেন বুট জেতার লড়াইয়ে ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সাবেক রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ডে ছিলেন মেসির প্রতিদ্বন্দ্বি।
সময় বদলেছে। বদলে গেছে মেসি আর রোনালদোর পথও। তবে বদলায়নি দুই সর্বকালের অন্যতম সেরার গোল্ডেল বুটের ক্ষুধা। সৌদি প্রো লিগে টানা দুই মৌসুম গোল্ডেন বুট জিতেছেন আল নাসর ফরোয়ার্ড রোনালদো। আর এদিকে এমএলএসে (মেজর লিগ সকার) চলতি মৌসুমে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌঁড়ে আছেনে ইন্টার মায়ামি তারকা মেসি।
এমএলএসে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসিকে টেক্কা দিচ্ছেন ন্যাশভিলের ফরোয়ার্ড স্যাম সারিজ। সিনসিন্নাতির বিপক্ষে গতকাল ২-১ গোলে তার ক্লাব ন্যাশভিল হারলেও গোল পান ইংলিশ ক্লাব বোর্নমাউথের সাবেক এই ফুটবলার।
আরও পড়ুন
| তিন জোড়ায় ভ্যালেন্সিয়ার জালে হাফ-ডজন গোল বার্সার |
|
এমএলএসে এ নিয়ে সারিজের মোট গোল এখন ২১। অন্যদিকে দুই কম ১৯ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে দুইয়ে আছেন মেসি। তবে মায়ামির হয়ে আরো আটটি ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী।
এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্স থেকে ক্লাবগুলো ৩৪টি ম্যাচ খেলে। সারিজের ক্লাব ন্যাশভিল ইতোমধ্যে ৩০টি ম্যাচ খেলেছে, যেখানে এখন পর্যন্ত ২৬টি ম্যাচ খেলেছে মেসির মায়ামি। তাতে সর্বজয়ী মেসি ফুটবল ক্যারিয়ারে আরো একটি গোল্ডেন বুট যোগ করার দারুণ সুযোগই পাচ্ছেন।
অবশ্য সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন অনেকে। এর মধ্যে আছেন এলএএফসির দেনিস বুয়াঙ্গা, এখন পর্যন্ত তার গোলসংখ্যা ১৮ গোল। এ ছাড়া ১৭ গোল আছে দু’জনের, ১৬ গোলদাতা তিনজন।
গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসিকে টেক্কা দেওয়া সাবেক ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলের স্ট্রাইকার সারিজ ইংল্যান্ডের একাধিক ক্লাবে খেলে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এসে থিতু হন। সব মিলিয়ে ন্যাশভিল এসসির হয়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩। দুই মৌসুমেই ক্লাবের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে গেছেন তিনি।
No posts available.
১৭ মে ২০২৬, ১০:২৯ এম
১৬ মে ২০২৬, ১০:২০ পিএম

প্রিমিয়ার লিগের গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়নরা এবার যেন ছন্নছাড়া। চলতি মৌসুমে লিগ শিরোপার রেস থেকে অনেক আগেই ছিটকে পড়া লিভারপুলের সামনে এবার শঙ্কা জেগেছে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা না পাওয়ার। দলের এমন বিপর্যস্ত অবস্থায় নিজের তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অলরেডদের মিশরীয় কিংবদন্তি মোহাম্মদ সালাহ।
শুক্রবার রাতে অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে ৪-২ গোলে হেরেছে লিভারপুল। ২০২২-২৩ মৌসুমে সাউদাম্পটনের সঙ্গে ৪-৪ ড্রয়ের পর, এই প্রথম প্রিমিয়ার লিগের কোনো ম্যাচে ৪টি গোল হজম করল তারা। লিগের সবশেষ ৩ ম্যাচের ২ হার, ড্র ১ ম্যাচে। চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ১২ ম্যাচ হেরেছে লিভারপুল, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে হেরেছে ১৯ টি।
লিভারপুলের এমন পারফরম্যান্সে হতাশা প্রকাশ করে ফেসবুকে সালাহ বলেন, ‘চলতি মৌসুমে আরও একটি পরাজয়ের মুখোমুখি হওয়া আমাদের জন্য ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক ছিল। আমাদের সমর্থকরা এটি মোটেও প্রাপ্য নয়।‘
সালাহ লিভারপুলের সোনালী দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে লেখেন, ‘আমি এই ক্লাবটিকে সংশয়বাদীদের দল থেকে বিশ্বাসী এবং বিশ্বাসী থেকে চ্যাম্পিয়ন হতে দেখেছি। এর পেছনে ছিল কঠোর পরিশ্রম এবং ক্লাবকে এই উচ্চতায় পৌঁছাতে আমি সবসময় আমার সর্বোচ্চটা দিয়েছি। এর চেয়ে বড় গর্বের আমার কাছে আর কিছু নেই।‘
অলরেডদের ঐতিহ্যবাহী হেভি মেটাল ফুটবল খেলার দর্শন ও হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার তাগিদ দিয়ে সালাহ বলেন, ‘মাঝেসাঝে দু-একটি ম্যাচ জেতা লিভারপুলের লক্ষ্য হতে পারে না। সব দলই ম্যাচ জেতে। আমি লিভারপুলকে আবারও সেই হেভি মেটাল আক্রমণাত্মক দল হিসেবে দেখতে চাই যাকে প্রতিপক্ষরা ভয় পাবে। আমি দেখতে চাই এই ক্লাব আবারও ট্রফি জিতছে।‘
৩৭ ম্যাচ শেষে ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের পাঁচ নম্বরে লিভারপুল। এক ম্যাচ কম খেলে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে ৬ নম্বরে বোর্নমাউথ। আগামী রোববার ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে আরনে স্লটের দল। চ্যাম্পিয়নস লিগের আগামী মৌসুম নিশ্চিত করতে সেই ম্যাচে জয় চাই অলরেডদের।
রোববারের ম্যাচটি দিয়েই লিভারপুল ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন সালাহ। বিদায়ের আগে ক্লাবকে চ্যাম্পিয়নস লিগে রেখে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করে সালাহ বলেন, ‘আমি চলে যাওয়ার পরও এই ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য দেখতে চাই। আমি সবসময় যেমনটা বলেছি, আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে কোয়ালিফাই করা আমাদের জন্য ন্যূনতম লক্ষ্য এবং এটি নিশ্চিত করতে আমি আমার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সবকিছু করব।‘
শিরোপার অপেক্ষা কোনোভাবেই শেষ হচ্ছে না ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ-২ এর ফাইনালে পুরো ম্যাচ দাপট দেখিয়ে খেলেও শেষ পর্যন্ত জিততে পারল না আল নাসর। ফাইনাল হেরে অপেক্ষা আরও বাড়ল রোনালদোর।
রিয়াদের আলাওল পার্কে শনিবার রাতে এসিএল-২ এর ফাইনালে আল নাসরকে ১-০ গোলে হারিয়েছে জাপানের ক্লাব গাম্বা ওসাকা। ম্যাচের ২৯ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করে ক্লাবকে দ্বিতীয় মহাদেশীয় শিরোপা এনে দেন ডেনিজ হুমেট।
অথচ ম্যাচজুড়ে দাপট ছিল আল নাসরের। ম্যাচে ৬৭ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল আল নাসরের দখলে। গোলের জন্য ১৭টি শট করে ৬টি লক্ষ্য বরাবর রাখেন রোনালদোরা। কিন্তু জালের দেখা পাননি। বিপরীতে ৩ শটের ২টি লক্ষ্যে রেখেই ম্যাচ জিতে নেয় ওসাকা।
ফাইনাল হেরে যাওয়ায় আল নাসরের হয়ে রোনালদোর শিরোপা জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হলো। ২০২৩ সালে ক্লাবটিতে আসার পর এখনও কোনো শিরোপা জেতা হয়নি পর্তুগিজ সুপারস্টারের। তবে সৌদি প্রো লিগে এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশা রয়েছে আল নাসরের।
লিগে এখন পর্যন্ত ৩৩ ম্যাচে ৮৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আল নাসর। সমান ম্যাচে ৮১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে আল হিলাল। শেষ ম্যাচে তাই ড্র করতে পারলেও চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেতে পারে আল নাসর। আর জিতলে কোনো শর্ত ছাড়াই ট্রফি উঠবে রোনালদোদের হাতে।
শিরোপার অপেক্ষা অবশ্য ঘুচতে পারত এসিএল-২ ফাইনালেই। তবে ওসাকার তরুণ গোলরক্ষক রুই আরাকি দেয়াল হয়ে দাঁড়ান। ভাগ্যের সহায়তাও তেমন পায়নি আল নাসর। তাদের একাধিক শট ফিরে আসে পোস্টে লেগে।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটে আব্দুলরহমান ঘারিবের শট পোস্টে প্রতিহত হয়। ১৬ মিনিটে পাশের জালে লাগে সাদিও মানের শট। ম্যাচের বয়স আধঘণ্টা হওয়ার আগে ১৬ গজ দূর থেকে হুমেটের ঠাণ্ডা মাথার শটে এগিয়ে যায় ওসাকা।
বিরতির আগে আবারও জোরাল সম্ভাবনা জাগান আব্দুলরহমান। কিন্তু কাজ হয়নি। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে অল্পের জন্য বাইরে দিয়ে চলে যায় রোনালদোর হেডার। পরে ৭৭ মিনিটে হোয়াও ফেলিক্সের দূরপাল্লার শট লাগে পোস্টে।
ম্যাচের ৬ মিনিট বাকি থাকতে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন ওসাকার ডিফেন্ডার তাকেরু কিশিমোতো। তাই পরাজয়ের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আল নাসর ও রোনালদোর।

চেলসির পরবর্তী প্রধান কোচ হিসেবে চার বছরের চুক্তিতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছেন স্প্যানিশ কোচ জাবি আলোনসো।
রিয়াল মাদ্রিদ এবং বায়ার লেভারকুসেনের সাবেক এই কোচের নিয়োগের বিষয়টি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে বলে খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।
গত মাসে লিয়াম রোসেনিওরকে বরখাস্ত করে চেলসি। তার জায়গায় নতুন প্রধান কোচ খুঁজছিল ক্লাবটি। গত সোমবার বিবিসি স্পোর্টস জানায়, চেলসি তাদের সম্ভাব্য নতুন ম্যানেজারদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। এই তালিকায় আলোনসো ছাড়াও ছিলেন বোর্নমাউথের আন্দোনি ইরাওলা, ফুলহামের মার্কো সিলভা এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের অলিভার গ্লাজনার।
তবে ৪৪ বছর বয়সী আলোনসোকেই চেলসি প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেয়। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে নীতিগতভাবে আলোচনা অনেকটাই এগিয়ে গেছে। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে এফএ কাপ ফাইনাল শেষ হওয়ার আগে এই নিয়োগের বিষয়টি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে চায়নি স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের ক্লাবটি।
সাম্প্রতিক সময়ে লিভারপুলের সম্ভাব্য কোচ হিসেবেও আলোনসোর নাম শোনা যাচ্ছিল, যেখানে তিনি খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচ মৌসুম কাটিয়েছেন। চলতি মৌসুমে আশানুরূপ পারফরম্যান্স না হওয়ায় অল রেডদের বর্তমান কোচ আর্নে স্লটের ওপর সন্তুষ্ট নয় ক্লাব ম্যানেজমেন্ট।
তবে ধারণা করা হচ্ছে, অ্যানফিল্ডের ক্লাবটি আগামী মৌসুমের জন্যও স্লটের ওপরই ভরসা রাখছে। যদি তারা ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হয়, তবে লিভারপুলের এই অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না সেটিই এখন দেখার বিষয়।
গত জানুয়ারিতে মাত্র আট মাসের মাথায় রিয়াল মাদ্রিদের কোচের দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে আলোনসো বর্তমানে কোনো ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত নন। সিনিয়র ক্লাবের ম্যানেজার হিসেবে নিজের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ২০২৩-২৪ মৌসুমে তিনি লেভারকুসেনকে কোনো ম্যাচ না হেরে তাদের ইতিহাসের প্রথম বুন্দেসলিগা শিরোপার পাশাপাশি জার্মান কাপ জিতিয়েছিলেন। এরপর গত গ্রীষ্মে তিনি সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে যোগ দেন। সেখানে অবশ্য জার্মানিতে ফেলা আসা দারুণ সময়টা সঙ্গে করে নিয়ে আসতে পারেননি। ফলাফলস্বরূপ তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
সবশেষ কয়েক মৌসুমে চেলসির অবস্থাও খুব একটা ভাল কাটেনি। পশ্চিম লন্ডনে ফিরে আলোনসো ব্লুজদের চেনা পথে ফেরাতে পারেন কি না সেটিও থাকবে দেখার বিষয়।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে মৌসুমটা ভালো যায়নি চেলসির জন্য। শিরোপা রেসে তারা কখনও তো ছিলই না বরং ইউরোপীয় কোনো প্রতিযোগিতায় আগামী মৌসুমে তারা কোয়ালিফাই করতে পারেনি। ৩৬ ম্যাচ খেলে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ৯-এ অবস্থান দলটির।

গত দুই আসরের ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে হেরে খালি হাতে ফেরার সেই দগদগে ক্ষতে প্রলেপ দিল ম্যানচেস্টার সিটি। ওয়েম্বলির চেনা আঙিনায় পেপ গার্দিওলা যে কোনো নবাগত নন, তা আরও একবার প্রমাণ করল ম্যানচেস্টার সিটি।
এফ এ কাপের ফাইনালে আজ ওয়েম্বলির চেনা মঞ্চে চেলসিকে ১-০ গোলে স্তব্ধ করে রাজত্ব ফিরে পেল ম্যানচেস্টার সিটি। সিটিজেনদের জয়ের নায়ক আন্তনি সেমেনিও। দুর্দান্ত এক গোলে ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেন ঘানার এই উইঙ্গার।
টানা চতুর্থবারের মতো এফএ কাপের ফাইনালে খেলা সিটি এ নিয়ে আটবার এফএ কাপ জিতল। মৌসুমে কারাবাও কাপ জয়ের পর ‘ডাবল’ নিশ্চিত হলো ইতিহাদের ক্লাবটির। বিপরীতে ক্লাব ইতিহাসে এবার নিয়ে ১৭ বারের মতো এফএ কাপের ফাইনালে ওঠা চেলসি সবশেষ সাত আসরে চারবারই রানার্স-আপ হওয়ার ক্ষত নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। মোট ১৭ বারের ফাইনালে আটবার জিতেছে ব্লুজরা, আর রানার্স-আপ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাকি নয়বার।
ফাইনালে বল দখল কিংবা লক্ষ্যে শট রাখ—চেলসির চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিল ম্যান সিটি। ৫৬ শতাংশ বল পজিশনে রেখে মোট ৯টি শট নিয়ে চারটি লক্ষ্যে রাখে গার্দিওলার শিষ্যরা। যেখানে ৬টি শট নিয়ে মাত্র একটি গোলমুখে রাখতে পেরেছে চেলসি।
প্রথমার্ধে কোনো দলই বাড়তি ঝুঁকি নিয়ে গোল হজম করতে চায়নি।ম্যাচের শুরু থেকেই পেপ গার্দিওলার দল স্বভাবসুলভভাবে বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে খেলার ছন্দ খোঁজার চেষ্টা করে। মাঠের সব পজিশনেই সিটিজেনরা আধিপত্য দেখালেও চেলসির ডি-বক্সের ভেতর গিয়ে যেন খেই হারিয়ে ফেলছিল তাদের আক্রমণগুলো। ওয়ান-টু-ওয়ানের পাসে ওমর মারমুশ ও সেমেনিয়ো গোল করার মতো সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। এর মাঝেই চেলসির জালে বল জড়িয়ে উল্লাসে মেতেছিলেন আর্লিং হালান্ড, কিন্তু আক্রমণের শুরুতে অফসাইড থাকায় রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই সেই গোল বাতিল করে দেন।
বিপরীতে চেলসি কোচ অ্যালেন ম্যাকফার্লেনের কৌশল ছিল স্পষ্ট—শুরুতে সিটির চড়াও হওয়া আক্রমণগু সামলে নিয়ে প্রতি-আক্রমণে ওঠা। তবে রক্ষণ থেকে দ্রুত গতিতে ওপরে উঠে আসার ক্ষেত্রে চেলসিকে পুরোপুরি বোতলবন্দী করে রাখেন সিটির দুই ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানভ ও মার্ক গুয়েহি। প্রথমার্ধের শেষের দিকে ব্লুজরা কিছুটা ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও আক্রমণগুলো মূলত ক্রসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও একই ধারায় এগোচ্ছিল। তবে ম্যাচের ভাগ্য বদলে যায় দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে, সেমেনিয়োর সেই জাদুকরী ব্যাকহিল ফিনিশ পুরো গ্যালারিকে স্তব্ধ করে সিটিকে এগিয়ে নেয়। গোল হজম করার পর অবশ্য সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল চেলসি; কিন্তু ডি-বক্সের ভেতর ভারসাম্য হারিয়ে নেওয়া এনজো ফার্নান্দেজের ভলি জালের ঠিকানা খুঁজে পায়নি।

অবশেষে চীনের সঙ্গে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্বের চুক্তি চূড়ান্ত করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র ২৭ দিন আগে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো। তবে ফিফা শুরুতে যে দাম চেয়েছিল, তার চেয়ে অনেক কম মূল্যে চুক্তিটি করতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) সঙ হওয়া এই সামগ্রিক চুক্তির আওতায় ২০৩১ সাল পর্যন্ত আগামী চারটি বিশ্বকাপ—পুরুষ ও নারীদের দুটি করে—অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকায় শুরু হতে যাওয়া ৪৮ দলের ১০৪ ম্যাচের বিশ্বকাপও।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম শুক্রবার জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য ধরা হয়েছে ৬ কোটি ডলার (প্রায় ৭৩২ কোটি টাকা)। তবে চুক্তি করার সময়সীমা যতই ঘনিয়ে আসছিল, ফিফা শুরুতে এই স্বত্বের জন্য ৩০ কোটি ডলার দাবি করেছিল বলে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে খবর প্রকাশ করেছিল চীনা সংবাদমাধ্যমগুলো। অর্থাৎ, নিজেদের চাহিদার চেয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ কম মূল্যে স্বত্ব বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে ফিফা।
এদিকে, ভারতের বাজারে সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি ফিফা। চীনের সঙ্গে এই সমঝোতা নিয়ে ফিফার সাধারণ সম্পাদক মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সিএমজির সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত।’ গ্রাফস্ট্রোম চলতি সপ্তাহেই চীন সফরে ছিলেন, যেখানে চীনা ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো জুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিশ্বকাপের ১৬টি আয়োজক শহরের সঙ্গে বেইজিংয়ের সময়ের ব্যবধান প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত। মূলত এই বিশাল সময়ের পার্থক্যের কারণেই (ম্যাচগুলো চীনের মধ্যরাতে বা ভোরে সম্প্রচারিত হবে বলে) বেইজিংয়ের ওপর ফিফার দর-কষাকষির চাপ বা নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই কম ছিল। তবে তা সত্ত্বেও ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ফিফা যে রেকর্ড ১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর।