১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ৬:৩৯ পিএম

আবরার আহমেদের বলে সুইপ করে সিঙ্গেল বের করতেই হেলমেট উঁচিয়ে ধরলেন উইল ইয়ং। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিউজিল্যান্ড ব্যাটারের এটি চতুর্থ সেঞ্চুরি, আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথম। তিন অঙ্কের ঘরে পা রেখে এই কিউই ওপেনার নাম লিখিয়েছেন আরেক ‘প্রথমের’ ক্লাবেও। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম সেঞ্চুরিটি এসেছে তার ব্যাট থেকেই।
কাকতালীয়ভাবে এই টুর্নামেন্টের সব প্রথম সেঞ্চুরিই করেছেন ওপেনাররা। সেটাও আবার আসরের প্রথম ম্যাচেই। সেই ধারাটা বজায় রেখে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইয়ং শতক তুলে নিয়েছেন ইনিংসের ৩৫তম ওভারে। এজন্য তিনি বল খেলেন ১০৭টি। ইয়ং শেষ পর্যন্ত থেমেছেন ১০৭ রানে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সব মিলিয়ে এটি নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের মধ্যে চতুর্থ সেঞ্চুরি।
ইয়ংয়ের আগে ওপেনারদের এই টুর্নামেন্টের প্রথম সেঞ্চুরি করার ধারাটা ধরে রাখেন তামিম ইকবাল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জাতীয় দলের সাবেক এই ওপেনার উপহার দেন ১৪২ বলে ১২৮ রানের ইনিংস, যেখানে চারের মার ছিল ১২টি এবং ছক্কা তিনটি। তবে জো রুটের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ওই ম্যাচে পরে ইংল্যান্ড সহজেই জেতে ৮ উইকেটে।
আরও পড়ুন
| নাহিদ রানাকে ঘিরেই সবার বাড়তি কৌতূহল |
|
২০১৩ আসরের প্রথম সেঞ্চুরি করেন শিখর ধাওয়ান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আগে ব্যাট করা ভারত পায় ৩৩১ রানের স্কোর, যেখানে বড় অবদান রাখেন অভিজ্ঞ এই ওপেনার। ৯৪ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ১১৪ রান। ভারত ম্যাচ জেতে ২৬ রানে।
২০০৯ সালেও প্রথম সেঞ্চুরিটি করেন একজন ওপেনারই এবং যথারীতি টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাবেক শ্রীলঙ্কান ব্যাটার তিলাকারত্নে দিলশান খেলেন ৯২ বলে ১০৬ রানের ইনিংস। তার দল ম্যাচটি জেতে ৫৫ রানে।
২০০৬ আসরে প্রথম ম্যাচটি ছিল কোয়ালিফায়ার রাউন্ডে। আর সেখানে বাংলাদেশের বিপক্ষে সাবেক শ্রীলঙ্কা ওপেনার উপুল থারাঙ্গা উপহার দেন ১২৯ বলে ১০৫ রানের ইনিংস। লঙ্কানদের করা ৩০২ রানের জবাবে বাংলাদেশ থামে ২৬৫ রানে। সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন সাকিব আল হাসান।
এর আগের আসর, অর্থাৎ ২০০৪ সালে প্রথম সেঞ্চুরির জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল দ্বিতীয় ম্যাচ পর্যন্ত। সাবেক নিউজিল্যান্ড ওপেনার নাথান অ্যাস্টল চাপের মুখে করেন শতক, শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ১৪৫ রানে। ৩৪৮ রানের টার্গেটে কোনো লড়াই না জমিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচটি হেরে যায় ২১০ রানে।
আরও পড়ুন
| যে কাউকেই হারাতে পারে বাংলাদেশ, দল ভারসাম্যপূর্ণ : শান্ত |
|
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফ্রির প্রথম আসরটি বসেছিল ১৯৯৮ সালে, বাংলাদেশে। তখন অবশ্য নাম ছিল উইলস ইন্টারন্যাশনাল কাপ নামে। আসরের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলের ব্যাট থেকে আসে ঠিক ১০০ রান। সাবেক জিম্বাবুয়ে ওপেনারের শতকের পরও তার দল ম্যাচটি হেরে যায় ৫ উইকেটে।
No posts available.

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বৈরিতার প্রভাব ক্রিকেটেও স্পষ্ট। বাংলাদেশ ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার বড় কারণ ছিল এটি। এর মধ্যে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়ায় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইটরাইডার্সের ছেড়ে দেওয়া।
আইপিএলে দল পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভারতের সংবাদমাধ্যমে মোস্তাফিজকে দলে ভেড়ানোয় কলকাতার ওপর সমালোচনা ও চাপ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত তাঁকে ছেড়ে দেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার।
মোস্তাফিজের মতো এবার আবরার আহমেদকে দলে ভিড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার-মুখে সানরাইজার্স লিডস। দ্য হান্ড্রেডে আইপিএল স্বত্বাধিকারীদের চারটি দল রয়েছে। বেশ কিছু দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল—ভারতীয় মালিকদের এই চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিলামে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের কিনবে না।
এ ব্যাপারে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডও (ইসিবি) স্পষ্ট বার্তায় জানিয়েছিল, দ্য হান্ড্রেডে এমন কোনো কিছু হবে না। সমালোচনা করেছিলেন সাবেক ক্রিকেটাররাও। গতকাল নিলামে পাকিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার আবরারকে ১ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে দলে ভেড়ায় সানরাইজার্স লিডস।
আবরারকে দলে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্রে আক্রোশের মুখে পড়েছে সানরাইজার্স। এনডিটিভির প্রতিবেদন, বিতর্কের মধ্যেই দলটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ডেড দেখায়। বেশ কিছুক্ষণ উধাও হলেও এখন দেখা যাচ্ছে তাদের অ্যাকাউন্ট। তবে অনেক্ষণ ধরে নেই কোনো পোস্ট।
এর মাধ্যমে ভারতীয় মালিকানাধীন কোনো দলের হয়ে এই প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো জায়গা পান পাকিস্তানের কোনো ক্রিকেটার। তবে সিদ্ধান্তটি ভালোভাবে নেননি অনেক ভারতীয় সমর্থক। দুই দেশের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের একজন ক্রিকেটারকে দলে নেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন তাঁরা। দলটির মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের লক্ষ্য করে নানা সমালোচনাও ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় দলটির সহমালিক কাভিয়া মারানকেও কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ আবার ভারতের জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি লিগে একই মালিকানার দল হায়দরাবাদকে বর্জনের ডাকও দেন। বিষয়টি দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়।
এই বিতর্কের মধ্যেই হঠাৎ করে লিডসের সানরাইজার্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট স্থগিত হয়ে যায়। সেখানে প্রবেশ করতে গেলে একটি বার্তা দেখা যায়—নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে হিসাবটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে ঠিক কোন কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কর্তৃপক্ষ।
এদিকে একই নিলামে পাকিস্তানের আরেক রহস্য স্পিনার উসমান তারিককে ১ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ডে দলে নেয় বার্মিংহামের ফিনিক্স। তবে এই দলের সঙ্গে ভারতের কোনো লিগ বা ফ্র্যাঞ্চাইজির সরাসরি সম্পর্ক নেই।
অন্যদিকে পাকিস্তানের কয়েকজন পরিচিত ক্রিকেটার নিলামে কোনো দল পাননি। তাঁদের মধ্যে আছেন পেসার হারিস রউফ, অলরাউন্ডার সাইম আইয়ুব ও লেগ স্পিনার শাদাব খান। পাকিস্তানের অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি অবশ্য নিলামের আগেই নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন।
নারীদের নিলামেও পাকিস্তানের দুই ক্রিকেটার—ফাতিমা সানা ও সাদিয়া ইকবাল—কোনো দল পাননি।
বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ১ লাখ পাউন্ডে দলে নেয় বার্মিংহাম ফিনিক্স। এই নিলামে দিনের সবচেয়ে বড় দর ওঠে সাসেক্সের অলরাউন্ডার জেমস কোলসের জন্য। তাঁকে ৩ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে দলে নেয় লন্ডন স্পিরিট।

ইংল্যান্ডের একশো বলের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট দ্য হান্ড্রেডের নিলামে দল পাওয়ার পরদিনই মুদ্রার উল্টোপিঠ দেখলেন আবরার আহমেদ। বাংলাদেশের বিপক্ষে শুক্রবার দ্বিতীয় ওয়ানডের একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন পাকিস্তানি এই লেগস্পিনার। তাঁর পরিবর্তে দলে ডাক পেয়েছেন পেসার হারিস রউফ।
মিরপুরে প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের কাছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারে পাকিস্তান। সেই ম্যাচে তিন ওভার বল করে ২৫ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি টসের সময় আবরারকে পরিবর্তনের কারণ হিসেবে বিশ্রামের কথা বলেছেন।
হান্ড্রেডের নিলামে বৃহস্পতিবার আবরার আহমেদকে দলে ভিড়ায় সানরাইজার্স লিডস। আইপিএল মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তার জন্য ১ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ড খরচ করে।
আরও পড়ুন
| ৮ রানে ৬ উইকেট, সাকিবের রেকর্ডে ভাগ উসামার |
|
ভারতভিত্তিক মিডিয়া প্রতিষ্ঠান সান টিভি নেটওয়ার্কের মালিকানাধীন সানরাইজার্স লিডস। একই গ্রুপ আইপিএলের সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টি-টোয়েন্টি লিগের সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ দলেরও মালিক।
২০০৯ সালের পর থেকে আইপিএলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ বন্ধ রয়েছে। এরপর আইপিএল মালিকানাধীন বিশ্বের অন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিতেও পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দেখা যায়নি। সেদিক বিবেচনায় ভারতীয় মালিকানাধীন দলে আবরারের অন্তর্ভুক্তি ব্যতিক্রমী ঘটনাই বলা যায়। এই ঘটনার পর ভারতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং সানরাইজার্স লিডসের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
আবরারকে দলে নেওয়ার কারণও জানিয়েছেন লিডসের কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টোরি। তিনি জানিয়েছেন, আদিল রশিদকে না পাওয়ার পর তারা একজন মানসম্পন্ন বিদেশি স্পিনার খুঁজছিলেন। আবরারের বৈচিত্র্য এবং মিডল ওভারে উইকেট নেওয়ার ক্ষমতার জন্য তাকে দলে নিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

পাকিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে সিয়ালকোটের হয়ে খেলছেন উসামা মির। দেশের জার্সিতে এখন পর্যন্ত ১৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই লেগ স্পিনার দারুণ একটি রেকর্ড গড়েছেন সেখানে। দুই ম্যাচে সাত উইকেট নেওয়া উসামার ছয়টিই এসেছে লাহোরের বিপক্ষে।
বৃহস্পতিবার প্রথমে ব্যাট করে চার উইকেটে ২১০ রান করে সিয়ালকোট। ৩১ বলে ৫৭ রান করেন পাকিস্তান দলের ব্যাটার আবদুল্লাহ শফিক। ১৭ বলে অপরাজিত ৪৭ রান করেন আহসান হাফিজ ভাট্টি। তাদের ইনিংসে দল দুই শতাধিক রান তুলতে সক্ষম হয়।
ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় ওভারেই উইকেট হারায় লাহোর। এরপর ওপেনার উমর সিদ্দিক খান ও হামজা জহুর দ্বিতীয় উইকেটে ৫৫ রান যোগ করেন। তবে উমরকে ফিরিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন উসামা।
আরও পড়ুন
| ধর্ষণ মামলা থেকে মুক্তি বাবরের |
|
প্রতিপক্ষের ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামান তিনি। দুই ওভার শেষে তার বোলিং ছিল ৬ রানে ২ উইকেট, যা তৃতীয় ওভার শেষে দাঁড়ায় ৮ রানে ৪ উইকেটে।
শেষ পর্যন্ত লাহোর ১০০ রানে আট উইকেট হারায় এবং ১৪ ওভার ২ বলে সবকটি উইকেট হারিয়ে ফেলে। শেষ দুই উইকেট কোনো রান না দিয়েই উইকেট নেন উসামারা। তার বোলিং বিশ্লেষণ ৮ রানে ৬ উইকেট—যা পাকিস্তানের মাটিতে টি–টোয়েন্টিতে সেরা বোলিং। এর আগে ২০২৩ সালে ১৬ রানে ৬ উইকেট নিয়ে এই রেকর্ড গড়েছিলেন মোহাম্মদ ইমরান।
টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি উসামা মিরের দ্বিতীয়বার ছয় উইকেট নেওয়ার ঘটনা। এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তান সুপার লিগে মুলতানের হয়ে লাহোরের বিপক্ষে ৪০ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
সব মিলিয়ে টি–টোয়েন্টিতে দুইবার ছয় উইকেট নেওয়া বোলারের তালিকায় তিনি এখন চতুর্থ। তার আগে এই কীর্তি গড়েছেন অজন্তা মেন্ডিস, সাকিব আল হাসান ও অর্জন নাগওয়াসওয়ালা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টস জিতল বাংলাদেশ দল। সফরকারীদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
প্রথম ওয়ানডেতে ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। আজ মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজ লক্ষ্যে মাঠে নামছে স্বাগতিকেরা। পাকিস্তানের সুযোগ সিরিজ বাঁচানোর।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একাদশে কোনো পরিবর্তন নেই বাংলাদেশের। ছয় ব্যাটারের সঙ্গে দুই স্পিনার ও তিন পেসার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। পাকিস্তানের একাদশে অবশ্য একটি পরিবর্তন আছে। বাদ পড়েছেন লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ। তাঁর জায়গায় একাদশে ফিরেছেন অভিজ্ঞ পেসার হারিস রউফ।
২০১৫ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশ-পাকিস্তান কোনো দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে খলেছে। নিজেদের মাঠে আবারও সফরকারীদের সিরিজ হারানোর দারুণ সুযোগ তাসকিন-মোস্তাফিজদের।
আরও পড়ুন
| ট্রু উইকেটে বল করা চ্যালেঞ্জিং, বললেন মিরাজ |
|
এই সিরিজে ২-১ বা ৩-০ ব্যবধানে জয় পেলে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে নবম স্থানে উঠে আসবে বাংলাদেশ। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জনের দৌড়ে তাদের অবস্থান আরও সমৃদ্ধ হবে।
বাংলাদেশ একাদশ:
তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাস (উইকেটকিপার), আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), রিশাদ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা।
পাকিস্তান একাদশ:
সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, শামিল হুসাইন, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), সালমান আলী আগা, হুসাইন তালাত, আব্দুল সামাদ, ফাহিম আশরাফ, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র ও শাহিন শাহ আফ্রিদি (অধিনায়ক) ও হারিস রউফ।

লন্ডনের পিকাডিলি লাইটসে তখন বিডিং যুদ্ধ। পাঁচ দলের সেই যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জিতেছে লন্ডন স্পিরিট। সাসেক্সের ২১ বছর বয়সী তরুণ অলরাউন্ডার জেমস কোলস হয়তো ভাবতেও পারেননি তাকে নিয়ে এমন কাড়াকাড়ি হবে। কারণ, ২০২৬ দ্য হানড্রেডের নিলামে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন বিশ্বের বাঘা বাঘা সব নাম।
বৃহস্পতিবারের নিলামে কোলসকে নিয়ে বিডিংয়ের শুরুটা করেছিল সানরাইজার্স লিডস। এরপর যোগ দেয় ট্রেন্ট রকেটস। ৭৫ হাজার পাউন্ড ভিত্তিমূল্যের কোলসকে শেষ পর্যন্ত ৩ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে দলে ভেড়ায় লন্ডন স্পিরিট। সাহসী এই সিদ্ধান্তে নিলাম কক্ষেই উপস্থিত অনেকের প্রশংসা পায় দলটি।
কোলস এর আগে সাদার্ন ব্রেভের হয়ে খেলেছেন। তাকে দলে নিতে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস ও বার্মিংহাম ফিনিক্সও আগ্রহ দেখায়। মোট পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে প্রতিযোগিতা হয় তাকে পাওয়ার জন্য। শেষ পর্যন্ত স্পিরিটই তাকে দলে ভেড়ায়। যদিও মনে হচ্ছিল সানরাইজার্স লিডসই হয়তো তাকে কিনে নেবে।
নিলামে কোলসকে চতুর্থ সর্বোচ্চ দামে কেনা হয়েছে। তার আগে ইংল্যান্ডের জোফরা আর্চার ৪ লাখ পাউন্ডে সাদার্ন ব্রেভে, ফিল সল্ট ৪ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডে ওয়েলশ ফায়ারে এবং হ্যারি ব্রুক ৪ লাখ ৬৫ হাজার পাউন্ডে সানরাইজার্স লিডসে যোগ দেন। এই তিনজনকে অবশ্য নিলামের আগেই দলে নেয় তাদের ক্লাবগুলো।
প্রশ্ন উঠেছে—কেন কোলসকে নিয়ে এত আগ্রহ? আর কেনই বা তার দাম পড়েছে ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ক্রিকেটার জো রুটের চেয়েও প্রায় দেড় লাখ পাউন্ড বেশি?
সাসেক্সের হয়ে মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় কোলসের। ২০২০ সালে তিনি ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী অভিষিক্ত ক্রিকেটার হন।
২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলের সদস্য ছিলেন তিনি। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া সফর করা ইংল্যান্ড ‘লায়ন্স’ দলেও জায়গা পান।
লন্ডন স্পিরিটে তিনি কাজ করবেন ইংল্যান্ডের সাবেক কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের অধীনে। গত অক্টোবরে ট্রেন্ট রকেটস ছেড়ে স্পিরিটের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন ফ্লাওয়ার।
কোলসকে দলে নেওয়ার বিষয়ে ফ্লাওয়ার বলেন, তিনি আগে থেকেই এই ক্রিকেটারকে চেনেন। তার ভাই গ্রান্ট ফ্লাওয়ার সাসেক্সে ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করেন এবং সেখানেই কোলসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতাতেও কোলসের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে তার।
ফ্লাওয়ারের মতে, কোলস একজন অলরাউন্ডার। নিলামে এমন ক্রিকেটারদের দাম সাধারণত বেশি হয়। সব ধরনের ক্রিকেটেই এখন ভালো করছেন তিনি।