
বার্সেলোনাকে যে দলটি সেমিফাইনালে হারের দুয়ার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে হারিয়ে দিতে পারে, ফাইনালে তাদের কাছ থেকে তো প্রত্যাশা বেশিই থাকবে। তবে বিস্ময়করভাবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে মৌসুমে নিজেদের সবচেয়ে বাজে ফুটবল খেলে পিএসজির কাছে স্রেফ উড়ে গেছে ইন্তার। হতাশ কোচ সিমোনে ইনজাগি বললেন, হারলেও খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্ব হচ্ছে তার।
২০২৩ সালেও ফাইনালে খেলেছিল। সেবার মাত্র ১-০ গোলে হেরেছিল ইন্তার, সাথে উপহার দিয়েছিল দারুণ লড়াই। তবে এবারের ফাইনালে পিএসজির সামনে পাত্তাই পায়নি ইতালিয়ান ক্লাবটি। ২০ মিনিটে ২ গোল হজমের পর শেষ পর্যন্ত হেরেছে ৫-০ গোলে। ভাগ্য খারাপ হলে ব্যবধান আরও বড় হতেও পারত।
আরও পড়ুন
| পিএসজির চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পর ফ্রান্সে সহিংসতা, নিহত ২ |
|
ম্যাচের পর ইনজাগির কণ্ঠে ফুটে উঠল সেরা না খেলার আক্ষেপ।
“যোগ্য দল হিসেবেই পিএসজি এই ম্যাচ এবং ট্রফি জিতেছে। আমরা হতাশ, তবে এই পর্যন্ত আসার পথটাও দুর্দান্ত ছিল। আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত। ম্যাচে আমাদের পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। প্যারিস বারবার বলের দখল নিয়েছিল। আমরা কোনো ট্রফি জিতিনি, কিন্তু এই দলের কোচ হতে পেরে আমি গর্বিত।”
ইন্তার এই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৮টি ম্যাচ খেলেছে ইন্তার। সেরি আয় শেষ দিন পর্যন্ত লড়তে হয়েছে সেরা চারে থাকার জন্য। অন্যদিকে পিএসজি অনেক আগেই লিগ ওয়ান জিতে যাওয়ায় নিজেদের শেষের দিকে ম্যাচে খেলোয়াড়দের বাড়তি বিশ্রাম দিতে পেরেছিল।
ইনিজাগি মনে করেন, খেলোয়াড়দের চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না তার দলের।
“আমরা এখানে আসার জন্য যা যা করার দরকার ছিল, তার সবটাই ঢেলে দিয়েছি। আমরা দুঃখিত, হতাশ। তবে খেলোয়াড়রা মাঠে নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছে। আমাদের এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও শক্তভাবে ফিরে আসতে হবে।”
No posts available.
১০ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:৪৮ পিএম
১০ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:৪১ পিএম
১০ জানুয়ারি ২০২৬, ৫:০২ পিএম

নারী ফুটবল লিগে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব। শনিবার দিনের চতুর্থ ম্যাচে সিরাজ স্মৃতি সংসদের বিপক্ষে মাঠে নেমে দাপুটে ফুটবলে ৯-০ গোলের বড় জয় তুলে নেয় ফরাশগঞ্জ। ম্যাচে ৪ গোল করে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন শামসুন্নাহার জুনিয়র।
এই ম্যাচে নিষেধাজ্ঞার কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন শামসুন্নাহারের দুই সতীর্থ তহুরা খাতুন ও মনিকা চাকমা। তাঁদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে নিজের ম্যাচ সেরার পুরস্কার ও গোলগুলো তাঁদের উৎসর্গ করেন এই ফরোয়ার্ড।
খেলা শেষে শামসুন্নাহার জুনিয়র বলেন,
'সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে আজ আমরা ম্যাচটা জিততে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ। পরপর তিনটা ম্যাচ জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ জিততে চেয়েছিলাম, সেটা করতে পারছি। সামনে ম্যাচগুলোতেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই।’
এই ম্যাচে চার গোলসহ লিগে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৪-তে পৌঁছালেও ব্যক্তিগত অর্জনকে বড় করে দেখছেন না ছোট শামসুন্নাহার,
'আসলে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই যে এত গোল করতে হবে বা এমন কিছু। আমি শুধু আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি। ম্যাচে সুযোগ আসলে অবশ্যই কাজে লাগাবো। বাকিটা আল্লাহর হাতে।’
দলের বেঞ্চ শক্তি নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি। নিষেধাজ্ঞার কারণে তহুরা ও মনিকা মাঠের বাইরে থাকায় ফরাশগঞ্জের একাদশে একাধিক পরিবর্তন আসে। এ প্রসঙ্গে শামসুন্নাহার জুনিয়র বলেন,
'আজকের ম্যাচটা আমাদের জন্য বেঞ্চ পরীক্ষা করার একটা দিন ছিল। অনেক নতুন খেলোয়াড় সুযোগ পেয়েছে। অভিজ্ঞতা কম থাকলেও তারা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আমার মনে হয় তারা ভালোই করেছে। আজকের ম্যাচ সেরার পুরস্কারটা আমি তহুরা আর মনিকার জন্য উৎসর্গ করছি।’
ফরাশগঞ্জের হয়ে এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন মারিয়া মান্দা। একটি করে গোল করেন নেপালের ফুটবলার পুজা রানা এবং শামসুন্নাহার সিনিয়র। তিন ম্যাচে টানা জয়ের মাধ্যমে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।
দিনের প্রথম ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে আনসার ও ভিডিপি। আসরের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন নাসরিন স্পোর্টস একাডেমিকে ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারায় তারা। ম্যাচে উজ্জ্বল ছিলেন উমেহ্লা মারমা। একাই পাঁচ গোল করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। আনসারের অন্য দুটি গোল আসে মামনি চাকমা ও সুইচিং মারমার পা থেকে। নাসরিনের হয়ে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন পপি রানী।
পরের ম্যাচে গোল উৎসবে মেতে ওঠে বাংলাদেশ আর্মি ফুটবল ক্লাব। জামালপুর কাচারিপাড়া একাদশের বিপক্ষে তারা ১৮-০ গোলের বিশাল জয় তুলে নেয়। ম্যাচে ৬ গোল করেন উন্নতি খাতুন। মোসাম্মত সুলতানা করেন ৪ গোল। তনিমা বিশ্বাস হ্যাটট্রিক করেন এবং অর্পিতা বিশ্বাসের সঙ্গে যৌথভাবে দুটি করে গোল করেন। বাকি একটি গোল আসে হালিমার পা থেকে। একতরফা এই ম্যাচে আর্মি দলের আধিপত্য শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল।
দিনের আরেক ম্যাচে সদ্য পুস্করনী ক্লাব ঢাকা রেঞ্জার্সকে ৭-০ গোলে হারায়। ম্যাচে জান্নাতুল ফেরদৌস ঝিনুক ৪ গোল করে ম্যাচসেরা হন। অন্য তিনটি গোল করেন শিলা আক্তার, অনন্যা খানম এবং সিনহা আয়াত।

অনেক দিন ধরেই অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছেন। সামাজিক মাধ্যমে ইনস্টাগ্রামে দিলেন হুদয়স্পর্শী এক বার্তা। যে বার্তা কেঁপে উঠেছে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়। দুরারগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত চেলসির সাবেক ফুটবলার লামিশা মুসোন্ডা আর বেঁচে থাকার আশা খুঁজে পাচ্ছেন না।
সামাজিক মাধ্যমে মুসোন্ডা লিখেছেন,
‘যখন আমি বুঝতে পারি যে হয়তো আমার বেঁচে থাকার সময় আর মাত্র কয়েক দিন, তখন এটাও বুঝতে পারি যে আমার পাশে কত মানুষ ছিল, এবং সেই স্মৃতিগুলো আমি চিরকাল লালন করব। জীবন কঠিন, কিন্তু একই সঙ্গে তা মহিমান্বিতও। জীবন উত্থান-পতনে ভরা, আর একজন মানুষ যে ব্যথা অনুভব করে, তা সত্যিকার অর্থে কেউ পুরোপুরি বুঝতে পারে না। গত দুই বছর আমার জন্য বিশেষভাবে কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং ছিল। গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমি আমার সুস্থতা ফিরে পাওয়ার জন্য লড়াই করছি।’
৩৩ বছর বয়সী মুসোন্ডা ২০১২ সালে আন্দারলেখ্ট থেকে চেলসিতে যোগ দেন। যদিও ইংলিশ ক্লাবটির মূল দলে সুযোগ পাননি। দুই বছর চেলসির একাডেমির যুব দলের জন্য খেলেছেন এবং পরে বেলজিয়ামে ফিরে মেচেলেনের হয়ে খেলা শুরু করেন। ২০২০ সালে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেন। তার ভাই চার্লি মুসোন্ডাও চেলসির একাডেমি থেকে উঠে এসে লা লিগায় রিয়াল বেতিস ও লেভান্তে ইউডির হয়ে খেলেছেন।
গত পাঁচ বছর আড়ালে থাকার পর প্রকাশ করেন তীব্র জীবন-সংগ্রামে মধ্য দিয়ে যাচ্ছেনএবং তার বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ‘সংকটজনক’। মুসোন্ডা লিখেছেন,
‘অসুস্থতার কারণেই আমি এতদিন সামাজিক মাধ্যমে অনুপস্থিত ছিলাম। আমাকে বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে—আমার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক, এবং আমি এখন বেঁচে থাকার জন্য লড়ছি। এই সময়ে আপনাদের সমর্থন ও প্রার্থনা আমার কাছে অনেক মূল্যবান। আমার পরিবার ও আমি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি, এবং শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমি হাল ছাড়ব না। আমি সৌভাগ্যবান ছিলাম একটি সুন্দর শৈশব পাওয়ার জন্য, এবং আমার এখনও অনেক কিছু দেওয়ার আছে। কিন্তু এমন অনেক অসাধারণ মানুষ আছেন, যাদের আমি সরাসরি ধন্যবাদ জানাতে চেয়েছিলাম—এবং হয়তো সেই সুযোগ আর পাব না, এই ভাবনাটা আমাকে গভীরভাবে কষ্ট দেয়।’
হঠাৎ এমন খবরের পর, বহু চেলসি সমর্থক ও সাবেক খেলোয়াড় মুসোন্ডার প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রাক্তন চেলসি স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু লিখেছেন, ‘ধৈর্য রাখো, লামিশা। আমরা তোমার সঙ্গে আছি।’

টানা ম্যাচ খেলার ধকল শেষ পর্যন্ত আর নিতে পারেনি কিলিয়ান এমবাপের পা। শেষ কয়েকটি ম্যাচ খেলেছিলেন হাঁটুর চোট নিয়েই। বাঁ হাঁটু মঁচকে যাওয়ায় অন্তত একাধিক সপ্তাহ ছিটকে পড়ার খবর আসে। সবশেষ স্প্যানিশ সুপার কাপের সেমিফাইনালে মাদ্রিদ ডার্বিতে ফরাসি ফরোয়ার্ডকে ছাড়াই মাঠে নেমে জয় পায় রিয়াল মাদ্রিদ। এবার ফাইনালে দলের প্রধান তারকাকে পাওয়া নিয়েই যত সংশয়।
আগামীকাল বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ফাইনালে বার্সেলোনার মুখোমুখি হবে রিয়াল। এল ক্লাসিকোর আগে সৌদিতে ইতিমধ্যেই দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন এমবাপে। সেমি ফাইনালে ম্যাচের পরও ফাইনালে এমবাপেকে পাওয়া নিয়ে আশার কথা শোনান রিয়াল কোচ জাবি আলোনসো। তবে লস ব্লাঙ্কোসদের জন্য দুশ্চিন্তার বিষয় এখনও পুরোপুরি ফিট নন দলটির তারকা ফরোয়ার্ড।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল দীর্ঘ সময়ের জন্য বাইরে থাকবেন এমবাপে। তবে এল ক্লাসিকো খেলতে দ্রুতই মাঠে ফিরতে ঝুঁকি নেওয়ার কথা ভাবছেন ২৭ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে’কিপের একটি প্রতিবেদন জানিয়েছে,বার্সার বিপক্ষে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে এমবাপেকে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিদের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে ব্যথানাশক ইনজেকশেন দিয়েও নাকি তাকে মাঠে নামানো হতে পারে।
ফাইনালের আগে স্বাভাবিকভাবেই রিয়ালের সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে এমবাপের এল ক্লাসিকো খেলার বিষয়। বার্সাকে এই ম্যাচে হারাতে পারলেই রিয়ালের হয়ে প্রথম ট্রফি জয়ের স্বাদ পাবেন কোচ আলোনসো। বিপরীতে এই ম্যাচে ব্যর্থ হলে আরও চাপ বাড়বে তাঁর ওপর।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দলের সেরা খেলোয়াড়কে মাঠে দেখতে চাইবেন জাবি আলোনসো। শেষ মুহূর্ত এমবাপেকে পেতে অপেক্ষ করবেন রিয়াল কোচ। দলের প্রধান ফরোয়ার্ডকে শুরুর একাদশে রাখার ঝুঁকি নেওয়া উচিত হবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,
‘আজ তার অনুশীলন শেষে আমরা ঠিক জানতে পারব সে পুরো সময় খেলতে পারবে কি না নাকি কিছুটা কম সময় খেলবে। ঝুঁকি ও সুযোগ দুইটাই বিবেচনা করতে হবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা অযৌক্তিক ঝুঁকি নিই না—সব কিছু নিয়ন্ত্রিতভাবে করা হয়।’
স্প্যানিশ সুপার কাপের আগের আসরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিদের বিপক্ষে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয় রিয়াল মাদ্রিদ। গত মৌসুমে ফাইনালে ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাবটিকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দেয় হান্সি ফ্লিকের বার্সা। কাতালান ক্লাবটি দারুণ ছন্দে আছে এখন। সেমিতে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে তারা। উড়তে থাকা বার্সার বিপক্ষে এমবাপেহীন রিয়াল বেশ ব্যাকফুটেই থাকবে সেটা সবারই জানা। বার্সেলোনার বিপক্ষে যে সবশেষ চারটি ম্যাচের সবক’টিতেই বল জালে পাঠিয়েছিলেন এমবাপে।

২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মধ্যেই দলের অবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনের (এএফএ) নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম এএফএ স্টুডিওতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি লিওনেল মেসির সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠক, থিয়াগো আলমাদার ক্লাব–ভবিষ্যৎ এবং বিশ্বকাপ দল গঠনের ভাবনা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
ছুটির পর রোজারিওর কাছে ফুনেসে মেসির সঙ্গে দেখা হয়েছিল স্কালোনির। সেই বৈঠক প্রসঙ্গে আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, ‘আমরা কাছাকাছিই ছিলাম, তাই দেখা করে কফি খেয়েছি। যারা মেসিকে চেনে, তারা জানে-সে কখনোই ঢিলেঢালা থাকে না। সে জন্মগত প্রতিযোগী। সব সময় দলে থাকতে চায়, মাঠে নামতে চায়। একজন অধিনায়কের এমন মানসিকতা দলের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। সে সব সময় খেলতে আসে—এটাই তার উত্তরাধিকার। যারা তার পর আসবে, তাদের সেটাই বহন করতে হবে।’
তবে সেই বৈঠকে মেসির বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে কোনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি বলে জানান স্কালোনি। তাঁর ভাষায়, ‘বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা কথা বলিনি। সময় আছে, দেখা যাবে। যেমনটা মেসি নিজেও বলে, তাকে চাপ দেওয়া ঠিক নয়। বিষয়টা তার ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত।’
বিশ্বকাপ দল গঠন প্রসঙ্গে স্কালোনি জানান, আপাতত তাঁর কাছে প্রায় ৫০ জন খেলোয়াড়ের একটি প্রাথমিক তালিকা আছে। তিনি বলেন, ‘গত বিশ্বকাপে আমরা দেখেছি, একদম শেষ মুহূর্তে এসে কয়েকজন খেলোয়াড় চোটে পড়ে গিয়েছিল। তাই কাউকেই এখনই বাদ দেওয়া যাচ্ছে না। সে কারণেই তালিকাটা বড় রাখা হয়েছে।’
থিয়াগো আলমাদার প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ। আতলেতিকো মাদ্রিদ ছাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়া এই মিডফিল্ডারকে নিয়ে পালমেইরাসের আগ্রহের খবর চলছে। স্কালোনি বলেন, ‘আমরা কখনোই এসব সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করি না। সে যেটা ঠিক করবে, সেটার পর আমরা শুধু তার পারফরম্যান্স বিচার করব। আলমাদার ক্ষেত্রেও তাই। সে কোথায় খেলছে, কোন লিগে খেলছে—সেটা মুখ্য নয়। আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সে কেমন খেলছে। শেষ পর্যন্ত পারফরম্যান্সই সিদ্ধান্ত নেবে।’
স্কালোনি বলেন, ‘থিয়াগো আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। সে যে সিদ্ধান্তই নিক, আমরা সেটাকে সম্মান করব এবং মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই তাকে মূল্যায়ন করব।’
ভ্যালেন্তিন কার্বোনির প্রসঙ্গেও একই সুরে কথা বলেছেন স্কালোনি। রেসিং ক্লাবে যোগ দেওয়া এই তরুণকে নিয়ে বলেন, ‘সে আমাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেনি, তবে সব সময়ই আমাদের নজরে ছিল। আগে সে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাচ্ছিল না। এখন খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা ভালো হয়েছে। আমরা চাই খেলোয়াড়রা খেলুক। কোন লিগ বা দেশে খেলছে, সেটা বড় বিষয় নয়। অবশ্য আর্জেন্টিনায় খেললে আমাদের জন্য তাকে কাছ থেকে দেখা সহজ হয়। আমি খুশি, সে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
বিশ্বকাপ গ্রুপপর্বের প্রতিপক্ষ নিয়েও কথা বলেছেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘আলজেরিয়া খুবই কঠিন প্রতিপক্ষ, যাদের দারুণ কোচ আছে এবং আফ্রিকান কাপেও তারা ভালো করেছে।’ জর্ডানের প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘দলটি এশিয়ান কাপে দারুণ খেলেছে।’ আর অস্ট্রিয়া সম্পর্কে স্কালোনির মন্তব্য, ‘তারা যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং তাদের কোচের প্রেসিং কৌশল খুব কার্যকর।’
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে স্কালোনি বলেন, আর্জেন্টিনা দলের মূল কাঠামো আপাতত অপরিবর্তিতই থাকছে। তাঁর ভাষায়, ‘এই দলটা আমাদের বদলানোর কোনো কারণ দেয়নি। তারা সেটা অর্জন করেছে। ম্যাচ যত এগোবে, তাদের ফর্ম তত গুরুত্বপূর্ণ হবে। এখনই সবকিছু চূড়ান্ত নয়। মার্চের পর থেকে আসল চ্যালেঞ্জ শুরু হবে। তখন সেরা অবস্থায় পৌঁছাতে হলে ভাগ্যও কিছুটা সহায় হতে হবে।’

ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে থাকা বার্সেলোনা অধিনায়ক মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেন জিরোনায় যাওয়ার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। স্প্যানিশ দৈনিক স্পোর্টের প্রতিবেদনে, চলতি ট্রান্সফার উইন্ডোতেই বার্সেলোনা ছাড়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিচ্ছেন জার্মান এই গোলরক্ষক।
বার্সেলোনায় টের স্টেগেনের ভূমিকা ধীরে ধীরে কমে এসেছে। নতুন কোচ হান্সি ফ্লিক লা লিগা, চ্যাম্পিয়নস লিগ ও সুপার কাপ—সব প্রতিযোগিতায়ই হোয়ান গার্সিয়াকে নিজের এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ফলে প্রথম একাদশে টের স্টেগেনের জায়গা কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমনকি গত মৌসুমেও ফিট থাকা অবস্থায় তিনি পোলিশ গোলরক্ষক ভয়চেখ শেজনির পেছনে চলে গিয়েছিলেন, যা তাঁর অবস্থান বদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে স্পোর্ট জানিয়েছে, টের স্টেগেন এখন ক্লাব ছাড়ার ব্যাপারে উন্মুক্ত এবং গিরোনায় যোগ দিতে রাজি। তাঁর এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত খেলোয়াড়ি কারণই কাজ করছে। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে নিয়মিত খেলার সুযোগ চান তিনি। সামনে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে জার্মান জাতীয় দলে আবারও এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই তাঁর লক্ষ্য। মিচেলের অধীনে গিরোনায় খেলা হলে নিয়মিত উচ্চমানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন—এটিও তাঁর কাছে ইতিবাচক বলে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে এই সম্ভাব্য লেনদেন সহজ নয়। টের স্টেগেন যেকোনো শর্তে বার্সেলোনা ছাড়তে রাজি নন এবং নিজের বেতনের কোনো অংশ ছাড়তেও অনিচ্ছুক। অন্যদিকে বার্সেলোনার দাবি, টের স্টেগেনের চুক্তির বাকি সময়ের বেতনের অন্তত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ জিরোনাকে বহন করতে হবে।
এই অঙ্ক আপাতত জিরোনার জন্য কঠিন। বিশেষ করে লিভাকোভিচ চলে যাওয়ার পর ক্লাবটির সর্বোচ্চ বেতনও ছিল বছরে সামান্য বেশি ৩ লাখ ইউরো। তারপরও টের স্টেগেন জিরোনাকে বিভিন্ন সমাধান খুঁজে দেখতে অনুরোধ করেছেন, যাতে বার্সেলোনা এই স্থানান্তরে সম্মতি দেয়।
বার্সেলোনার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, খেলোয়াড়ি দিক থেকে টের স্টেগেনের বিদায় যৌক্তিক বলেই মনে করছে ক্লাবটি। ফ্লিক চাইলে তাঁকে কিছু ম্যাচে খেলাতে পারেন, তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ও বড় প্রতিযোগিতায় হায়ারার্কি স্পষ্ট—হোয়ান গার্সিয়াই প্রথম পছন্দ। বার্সেলোনায় থেকে গেলে কোপা দেল রের শেষ ষোলো থেকে পরের রাউন্ডগুলোই টের স্টেগেনের নিয়মিত খেলার সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সুযোগ হতে পারে।
আর্থিক দিক থেকেও ধারে (লোনে) পাঠানো বার্সেলোনার জন্য খুব লাভজনক নয়, কারণ তাতে গোলরক্ষকের বড় অংশের বেতন ক্লাবকেই বহন করতে হবে। তবু ড্রেসিংরুমের সংবেদনশীল পরিস্থিতি সামাল দিতে বার্সেলোনা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, টের স্টেগেন বার্সেলোনার অধিনায়ক এবং ক্লাবের এক সময়ের প্রতীকী খেলোয়াড়। ক্লাব তাঁর মর্যাদা বজায় রাখতে চায়। জার্মান গোলরক্ষক যদি সত্যিই গিরোনায় খেলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন, তাহলে যৌক্তিক সীমার মধ্যে থেকে এই স্থানান্তর সহজ করে দিতে প্রস্তুত বার্সেলোনা—যদিও এতে আর্থিকভাবে বড় কোনো লাভ হবে না।
এ মুহূর্তে চূড়ান্ত ফলাফল অনিশ্চিতই রয়ে গেছে। ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগে গিরোনা বার্সেলোনার শর্ত পূরণে কোনো কার্যকর সমাধান বের করতে পারে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে টের স্টেগেনের ভবিষ্যৎ—বিশেষ করে সামনে বিশ্বকাপ যত এগিয়ে আসছে।