১ জুন ২০২৫, ৪:২৪ পিএম

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ইন্তার মিলানের বিপক্ষে পিএসজির জয় নিশ্চিতের আগে থেকেই ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়েছিল সহিংসতা। প্রথমবারের মত এই শিরোপা জয়ে আনন্দ উদযাপন এক পর্যায়ে দেশটিতে সীমা ছাড়িয়ে গেছে। উদযাপনের এই আবহে দেশজুড়ে অস্থিরতা দেখা দিলে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে দুজন নিহত হওয়ার খবর এসেছে।
আর নাশকতার দায়ে ৫৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে ইন্তারকে ৫-০ গোলে হারিয়ে ইউরোপ সেরা হয়েছে পিএসজি। সেটা উদযাপন করতে গিয়ে প্যারিস সহ পুরো ফ্রান্সেই আতশবাজি, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থির হয়ে যায়। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভিন্ন ভিন্ন দাঙ্গায় ২০০টিরও বেশি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
| আমাদের লক্ষ্য ছিল ইতিহাস গড়ার : এনরিকে |
|
দক্ষিণ ফ্রান্সের দেক্স শহরে ছুরিকাঘাতে ১৭ বছর বয়সী একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শহর গ্রেনোবলে মধ্যরাতের পর উদযাপনের সময় একটি পরিবারের চারজন সদস্য গুরুতর আহত হন। তারা সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মিউনিখের অ্যালিয়ান্জ অ্যারেনায় ফাইনাল শেষ হতেই রাজধানী প্যারিসের কেন্দ্রস্থলসহ বিভিন্ন শহরে উল্লাস করতে জনতা রাস্তায় নেমে আসে। উদযাপনের শুরুতে আতশবাজি ফুটিয়ে উল্লাস করা হলেও দ্রুতই তা রূপ নেয় বিশৃঙ্খলায়। বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
পিএসজির ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে ম্যাচের পর ভক্তদের প্রতি জানান আকুতি।
“আমাদের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় অবশ্যই প্যারিসের জন্য একটা বিশেষ মুহূর্ত। তবে আমি বলতে চাই, আমরা উদযাপন করি, তবে প্যারিসকে যেন ধ্বংস না করি।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, রাস্তার মাঝে ফেলে রাখা অসংখ্য বাইকে আগুন জ্বলছে, আবার আতশবাজি ছোঁড়া হচ্ছে ভীড়ের মাঝখানেই। এছাড়া প্যারিসের রিং রোডের সামনে পুলিশের সঙ্গে ভক্তদের সংঘর্ষের ঘটনাও ভিডিওতে ধরা পড়েছে।
আরও পড়ুন
| হারলেও ইন্তারের নিবেদন নিয়ে গর্বিত ইনজাগি |
|
ফ্রান্স সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্যারিস জুড়ে প্রায় ৫ হাজার ৪০০ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোতায়েন করেছে। দেশটির প্রশাসন সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং উদযাপনের নামে সব ধরণের সহিংসতা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেছে।
No posts available.
১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
১০ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:৪৮ পিএম

ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে প্যারাগুয়েতে ঢোকায় ২০২০ সালের মার্চে রোনালদিনহোকে আটক করেছিল সে দেশের পুলিশ। ৪০ বছর বয়সী এ ব্রাজিলিয়ান তারকা ও তাঁর ভাই জাল পাসপোর্ট তৈরি করেছিলেন। যে কারণে প্যারাগুয়ের আদালত তাদের ছয় মাস জেলে থাকার শাস্তি দেয়। তবে ৩২ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর জামিন পান ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি রোনালদিনহো।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে কারাগারে কাটানো সেই সময় নিয়ে মুখ খুললেন রোনালদিনহো। কারাগারে কাটানোর সময় যেভাবে কাটতো এবং সে সময় কিভাবে ফুটবল খেলতেন এবং ভক্তদের স্বাক্ষর দিতেন সে সব নিয়ে এক স্বাক্ষাৎকারে বিস্তারিত বলেন ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলার।
জেলে ভয়ংকর কিছুই আশা করছিলেন রোনালদিনহো। তবে ব্রাজিলিয়ান তারকাকে অবাক করে দিয়ে আয়োজন করা হয় ফুটবল ম্যাচের। রোনাদিনহোর ভাষায়, ‘আমি ভেবেছিলাম তারা আমাকে মারবে এবং জেলখানায় সাধারণত যেসব ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে, সেগুলো করবে। কিন্তু এর বদলে, তারা প্রহরীদের ডেকে ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করল এবং আমাকে কিছু কৌশল দেখাতে বলল যেন সবাই বিনোদন পায়।
ভয়ংকর কোনো অভিজ্ঞতা নয় বরং ওই সময়টা দারুণই কেটেছিল বললেন রোনালদিনহো,
‘গ্রেফতারের পর পরের সকালে আমাদের পাঁচজনের টিম নিয়ে খেলার জন্য বের করা হয়। প্রহরীরা এবং কিছু কারারক্ষী কর্মকর্তা ক্যামেরা নিয়ে খেলা দেখার জন্য এসেছিলেন; দিনটা সবার জন্য আনন্দময় হয়ে ওঠল। আমি বলতে পারি, সেখানে কাটানো সময়টা ভালোই ছিল।’
প্যারাগুয়ের একটি ক্যাসিনো মালিক নেলসন বেলোত্তির আমন্ত্রণে রোনালদিনহো ও তার ভাই দেশটিতে যান। একটি দাতব্য সংস্থার শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় তাদের। বিশ্বকাপজয়ী এই তারকার কাছে ব্রাজিলের পাসপোর্টও ছিল না। বছর দুই আগে তার পাসপোর্ট জব্দ করে ব্রাজিলিয়ান সরকার। লেক গুয়াইবাতে অনুমোদন না নিয়ে একটি চিনির কল বানানোয় তাকে ২৩ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। জরিমানার অর্থ দিতে না পারায় পাসপোর্ট জব্দ করা হয় রোনালদিনহোর।

আক্রমণ, প্রতি আক্রমণে শুরু হওয়া ম্যাচের ৪ মিনিটের (৮-১২) মধ্যে জোড়া গোল করে পুলিশের মনোবল ভেঙে দেন ঋতুপর্ণা চাকমা। প্রথমার্ধে এরপর আর কোনো গোল পায়নি রাজশাহী। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আরও ৫ গোল হজম করে পুলিশ। ঋতুপর্ণার দারুণ পারফরম্যান্সে বড় জয়ই তুলে নিলো রাজশাহী স্টার্স।
নারী ফুটবল লিগের চতুর্থ রাউন্ডে শনিবার দিনের শেষ খেলায় পুলিশ এফসিকে ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে রাজশাহী স্টার্স। জোড়া গোলে ম্যাচসেরা হয়েছেন ঋতুপর্ণা।
একবার করে জালের দেখা পেয়েছেন নেপালের দিপা শাহী ও বিমলা, শাহেদা আক্তার রিপা এবং আলপি আক্তার।
এ নিয়ে চলতি লিগে টানা তিন ম্যাচ জিতে নিলো রাজশাহী স্টার্স। প্রতিযোগিতায় তিন ম্যাচে শতভাগ জয় আছে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবেরও। তবে চার ম্যাচ খেলে ১২ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে বাংলাদেশ আর্মি স্পোর্টিং ক্লাব।
নারী লিগে প্রথমবার এসেই তারকাসমৃদ্ধ দল গড়েছে রাজশাহী। দলে আছেন ঋতুপর্ণা, আফঈদা খন্দকার, শিউলি আজিমদের মতো পরীক্ষীত ফুটবলাররা। পুলিশেও আছেন মোসাম্মত সাগরিকা, সুরমা জান্নাত এবং জাতীয় দলের বাইরে থাকা সানজিদা আক্তারের মতো তারকা ফুটবলার। তবে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি পুলিশের মেয়েরা।
চার ম্যাচ খেলে সমান দুটি করে জয়-পরাজয়ে ৬ পয়েন্ট পুলিশের।

রেফারির ম্যাচ শেষে বাঁশি বাজার পর ক্লাবটির সমর্থকদের চোখভরা ছিল অবিশ্বাস। মাত্রই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় অঘটনের স্বাক্ষীই যে হলো তারা। ১১৭ ধাপ এগিয়ে থাকা ক্লাবের বিপক্ষে জয়ের উদযাপন ছিল বাঁধনহারা।
এফ এ কাপে আজ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ক্রিস্টল প্যালকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস লিখেছেন ইংলিশ লিগে ষষ্ঠ সারির ক্লাব ম্যাকলেসফিল্ড এফসি। এফএ কাপের দীর্ঘ ইতিহাসে এত বড় ব্যবধানে থাকা কোনো দলের বিপক্ষে জয়ের প্রথম ঘটনা এটি। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের বিদায় করে দেওয়া এই জয়ে ক্লাবটি পৌঁছে গেছে এফ এ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে।
স্বরণীয় এই জয়ের পরপরই অভিনন্দনের বার্তায় ভরে যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। প্যালেসের চেয়ে ১১৭ ধাপ নিচে থাকা ম্যাকলেসফিল্ড এফসি নিজেদের পোস্টে লিখেছে,
`সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজ ডেভিড হারাল গলিয়াথকে! টাউন কাউন্সিল আরও যোগ করেছে, `এখনো কি বিশ্বাস হচ্ছে না? পুরো দল আর প্রতিটি স্টাফ সদস্যকে অভিনন্দন—দারুণ!’
ম্যাকলেসফিল্ডের উচ্ছসিত এক সমর্থক বলেন,
‘স্বপ্ন দেখতে আর বিশ্বাস করতে কখনো ভয় পেয়ো না। কী ফল, কী দল! গর্বে বুক ভরে গেছে, আবেগ সামলাতে পারছি না।’
কঠিন এক সময়েই নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই জয় পেয়েছে ম্যাকলেসফিল্ড। কদিন আগেই ক্লাবটির ফরোয়ার্ড ইউয়ান ম্যাকলিওড না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। মাত্র ২১ বছর বয়সে, ম্যাচ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক সড়ক দুর্ঘটনায় এক মাসেরও কম সময় আগে প্রাণ হারান তিনি।
ডিসেম্বরে বেডফোর্ড টাউনের বিপক্ষে ন্যাশনাল লিগ নর্থের ম্যাচ খেলে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ফরোয়ার্ড ইথান ম্যাকলিওডকে স্মরণ করে একজন লেখেন, ‘এই জয়টা ইথানের জন্য—অভিনন্দন।’
NON-LEAGUE MACCLESFIELD HAVE KNOCKED OUT THE REIGNING FA CUP CHAMPIONS CRYSTAL PALACE 😱
— ESPN FC (@ESPNFC) January 10, 2026
THE MAGIC OF THE CUP 🍿 pic.twitter.com/ItyLhjAaNz
ঘরের মাঠ ন্যাশনাল লিগ নর্থে খেলা ‘দ্য সিল্কম্যান’রা তাদের ৫,৩০০ ধারণক্ষমতার মাঠ মস রোজে পল ডসন ও আইজ্যাক বাকলি-রিকেটসের গোলে বিদায় করে দেয় শিরোপাধারীদের। সমর্থকদের উল্লাসে ভাসিয়ে ৪৩ মিনিটে ম্যাকলেসফিল্ডকে লিড এনে দেন মিডফিল্ডার পল ডসন। ক্রিস্টল প্যালেসের ডিফেন্ডার জেডি ক্যানভটের সঙ্গে সংঘর্ষে মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধেও নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠান তিনি।
ম্যাচের মোড় ঘোরাতে বিরতিতে তিনটি পরিবর্তন আনেন প্যালেস কোচ অলিভার গ্লাসনার। জানুয়ারির নতুন সাইনিং ব্রেনান জনসন, মিডফিল্ডার উইল হিউজ ও ডিফেন্ডার টাইরিক মিচেল মাঠে নামেন। কিন্তু এই পরিবর্তনেও প্রাণ ফেরেনি নিষ্প্রভ সফরকারীদের খেলায়।
বরং ম্যাকলেসফিল্ডই ব্যবধান বাড়ানোর আরও কাছে পৌঁছে যায়। যখন জেমস এডমন্ডসনের জোরালো শট ঠেকাতে দারুণ সেভ করতে হয় প্যালেস গোলরক্ষক ওয়াল্টার বেনিতেজকে।
এর আগে টানা আট ম্যাচ জয়হীন থাকা স্বাগতিকরা ৬০ মিনিটে যেন স্বপ্নের জগতে পৌঁছে যায়। ফরোয়ার্ড আইজ্যাক বাকলি-রিকেটস দুর্দান্ত এক শটে ব্যবধান ২-০ করেন। ম্যাচের শেষদিকে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া প্যালেস লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করে। ৯০ মিনিটে ইয়েরেমি পিনোর নেওয়া অসাধারণ ফ্রি-কিক গোলরক্ষক ম্যাক্স ডিয়ার্নলিকে পরাস্ত করলে উত্তেজনাপূর্ণ সমাপ্তির ইঙ্গিত মেলে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত দৃঢ়তা দেখিয়ে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে ম্যাকলেসফিল্ড। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই সমর্থকরা মাঠে ঢুকে পড়েন আনন্দে, আর গ্যালারিতে উপস্থিত ওয়েন রুনি চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি—তার ভাই জন রুনির কোচিংয়েই এফএ কাপের ইতিহাসে সম্ভবত সর্বকালের সেরা অঘটনের একটি রচিত হয়।
ম্যাকলেসফিল্ড এফসিকে একটি ফিনিক্স ক্লাবও বলা যায়। এর পূর্বসূরি ম্যাকলেসফিল্ড টাউন এফসি ১৮৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন ইংলিশ ফুটবলের নিচের স্তরগুলোতে খেলেছে। তবে গুরুতর আর্থিক সংকট, খেলোয়াড় ও স্টাফদের বকেয়া বেতন এবং কর সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ক্লাবটি ২০২০ সালে ইংল্যান্ডের হাইকোর্টের আদেশে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
ঠিক সেই শূন্যতা থেকেই একই বছর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমর্থকদের উদ্যোগে ম্যাকলেসফিল্ড এফসি গঠিত হয়। নতুন ক্লাবটি সম্পূর্ণ আলাদা আইনি সত্তা হলেও শহরের ফুটবল ঐতিহ্য ধরে রাখার লক্ষ্যে আগের মাঠ মস রোজ এই খেলতে শুরু করে। তারা একেবারে নিচের স্তর, নর্থ ওয়েস্ট কাউন্টিজ লিগ থেকে যাত্রা শুরু করে এবং অল্প সময়ের ন্যাশনাল লিগ নর্থে উঠে আসে। ঘুরে দাড়ানোর এই গল্পে ক্লাবটি পূর্ণতা দিল ঐতিহাসিক এক জয়ে।

লেস্টার সিটির হয়ে মাঝমাঠে খেলা হয়না বললেই চলে হামজা চৌধুরীর। কখনও লেফট ব্যাক কখনও রাইট ব্যাক পজিশনে দেখা যায় বাংলাদেশি তারকা এই ফুটবলারকে। আজ এফ এ কাপে অনেকদিন পর খেললেন ডিফেন্সিভ মিডে। আর মাঝমাঠে ফিরেই দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিলেন। জয় পেয়েছে তাঁর দল লেস্টারও।
আজ এফ এ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে শেল্টনহাম টাউনের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতে চতুর্থ রাউন্ড নিশ্চিত করেছে লেস্টার সিটি। ২৩ মিনিটে জাম্বিয়ার ফরোয়ার্ড প্যাটসন ডাকার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ৪৫ মিনিটে স্টেফি মাভিডিডির গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে লেস্টার।
প্রতিপক্ষের মাঠে শুরুর একাদশে মাঠে নেমে শেষ বাঁশি পর্যন্ত ছিলেন হামজা চৌধুরী। ‘ফুটমুব’ অ্যাপ অনুযায়ী ৭.৫ রেটিং পেয়েছেন তিনি। ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার গোলের লক্ষ্যে দুটি শট নিয়েছেন। ম্যাচে মোট বল স্পর্শ করেছেন ৯৫বার, প্রতিপক্ষের বক্সে বল পাঠিয়েছেন ১১বার।
আক্রমণের কাজটা হামজার জন্য অনেকটা ঐচ্ছিকই। মূলত ডিফেন্স সামলানোই তাঁর মূল দায়িত্ব। আর সেটা শেল্টনহামের বিপক্ষে করেছেন দারুণভাবেই। প্রতিপক্ষের একটি শট ব্লক করেছেন, ট্যাকল করেছেন তিনবার ও রিকোভারি দু’টি। এছাড়া দু’বার ড্রিবল করেও সফল হয়েছেন হামজা। ম্যাচে সবচেয়ে বেশি তিনবার ফাউলের শিকারও হয়েছেন তিনি।
এফ এ কাপে জয় পেলেও চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো অবস্থানে নেই লেস্টার সিটি। লিগে সবশেষ ১০ ম্যাচের পাঁচটিতেই হেরেছে হামজার দল। পয়েন্ট টেবিলে তাদের অবস্থান ১২ নম্বর। আগামী শনিবার পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা কভেন্ট্রির মুখোমুখি হবে লেস্টার সিটি।

নারী ফুটবল লিগে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব। শনিবার দিনের চতুর্থ ম্যাচে সিরাজ স্মৃতি সংসদের বিপক্ষে মাঠে নেমে দাপুটে ফুটবলে ৯-০ গোলের বড় জয় তুলে নেয় ফরাশগঞ্জ। ম্যাচে ৪ গোল করে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন শামসুন্নাহার জুনিয়র।
এই ম্যাচে নিষেধাজ্ঞার কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন শামসুন্নাহারের দুই সতীর্থ তহুরা খাতুন ও মনিকা চাকমা। তাঁদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে নিজের ম্যাচ সেরার পুরস্কার ও গোলগুলো তাঁদের উৎসর্গ করেন এই ফরোয়ার্ড।
খেলা শেষে শামসুন্নাহার জুনিয়র বলেন,
'সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে আজ আমরা ম্যাচটা জিততে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ। পরপর তিনটা ম্যাচ জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ জিততে চেয়েছিলাম, সেটা করতে পারছি। সামনে ম্যাচগুলোতেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই।’
এই ম্যাচে চার গোলসহ লিগে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৪-তে পৌঁছালেও ব্যক্তিগত অর্জনকে বড় করে দেখছেন না ছোট শামসুন্নাহার,
'আসলে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই যে এত গোল করতে হবে বা এমন কিছু। আমি শুধু আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি। ম্যাচে সুযোগ আসলে অবশ্যই কাজে লাগাবো। বাকিটা আল্লাহর হাতে।’
দলের বেঞ্চ শক্তি নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি। নিষেধাজ্ঞার কারণে তহুরা ও মনিকা মাঠের বাইরে থাকায় ফরাশগঞ্জের একাদশে একাধিক পরিবর্তন আসে। এ প্রসঙ্গে শামসুন্নাহার জুনিয়র বলেন,
'আজকের ম্যাচটা আমাদের জন্য বেঞ্চ পরীক্ষা করার একটা দিন ছিল। অনেক নতুন খেলোয়াড় সুযোগ পেয়েছে। অভিজ্ঞতা কম থাকলেও তারা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আমার মনে হয় তারা ভালোই করেছে। আজকের ম্যাচ সেরার পুরস্কারটা আমি তহুরা আর মনিকার জন্য উৎসর্গ করছি।’
ফরাশগঞ্জের হয়ে এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন মারিয়া মান্দা। একটি করে গোল করেন নেপালের ফুটবলার পুজা রানা এবং শামসুন্নাহার সিনিয়র। তিন ম্যাচে টানা জয়ের মাধ্যমে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।
দিনের প্রথম ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে আনসার ও ভিডিপি। আসরের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন নাসরিন স্পোর্টস একাডেমিকে ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারায় তারা। ম্যাচে উজ্জ্বল ছিলেন উমেহ্লা মারমা। একাই পাঁচ গোল করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। আনসারের অন্য দুটি গোল আসে মামনি চাকমা ও সুইচিং মারমার পা থেকে। নাসরিনের হয়ে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন পপি রানী।
পরের ম্যাচে গোল উৎসবে মেতে ওঠে বাংলাদেশ আর্মি ফুটবল ক্লাব। জামালপুর কাচারিপাড়া একাদশের বিপক্ষে তারা ১৮-০ গোলের বিশাল জয় তুলে নেয়। ম্যাচে ৬ গোল করেন উন্নতি খাতুন। মোসাম্মত সুলতানা করেন ৪ গোল। তনিমা বিশ্বাস হ্যাটট্রিক করেন এবং অর্পিতা বিশ্বাসের সঙ্গে যৌথভাবে দুটি করে গোল করেন। বাকি একটি গোল আসে হালিমার পা থেকে। একতরফা এই ম্যাচে আর্মি দলের আধিপত্য শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল।
দিনের আরেক ম্যাচে সদ্য পুস্করনী ক্লাব ঢাকা রেঞ্জার্সকে ৭-০ গোলে হারায়। ম্যাচে জান্নাতুল ফেরদৌস ঝিনুক ৪ গোল করে ম্যাচসেরা হন। অন্য তিনটি গোল করেন শিলা আক্তার, অনন্যা খানম এবং সিনহা আয়াত।