প্রিমিয়ার লিগে দল পার করছে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম বাজে সময়। টটেনহ্যাম হটস্পারকে ইউরোপা লিগের ফাইনালে নিয়ে গেলেও তাই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে কোচ আগ্নে পোস্তেকোগলুর ভবিষ্যৎ নিয়ে। এসব নিয়ে বেশ বিরক্তই তিনি। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, চাকরি নিয়ে চিন্তা নেই তার।
স্পার্স বস জোর দিয়ে বলেন, বুধবার রাতে প্রিমিয়ার লিগের আরেক দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ইউরোপা লিগ ফাইনালের মাঠে নামবে স্পার্স-রা। এই ম্যাচ জিতলে সেটা হবে ক্লাবটির ৪১ বছর পর প্রথম ইউরোপিয়ান শিরোপা, আর সব মিলিয়ে ২০০৮ সালের পর প্রথম। তাছাড়া ইউরোপা লিগ জিতলে টটেনহ্যাম নিশ্চিত করবে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলা।
আরও পড়ুন
| ব্রাজিলকে পথে ফেরাবেন আনচেলত্তি, দৃঢ় বিশ্বাস ভারানের |
|
এত বড় একটা ম্যাচের আগে নিজের চাকরি নিয়ে চারদিকে ফিসফাস তাই একেবারেই ভালো লাগছে না পোস্তেকোগলু, সংবাদ সম্মেলনে বললেন সেটাই।
“আমি ক্লাউন নই। আমি যতদিন এই পেশায় থাকব, শিরোপা জিতেই যাব। সেটা যতদিন পর্যন্তই হোক না কেন। আর শুনুন ভাই, ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি চিন্তিত নই। চাকরি বদলানো কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা না। আমার একটা সুন্দর পরিবার আছে, দারুণ একটা জীবন আছে। আমার তাই চাকরি নিয়ে এক মিনিটও চিন্তা করে ঘুম হারানোর সময় নেই।”
ক্লাবে নিজের ভবিষ্যৎ নিতে ক্রমাগত প্রশ্নের জবাবে পোস্তেকোগলু জানান, তিনি খেলোয়াড়দের সাথে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আলোচনাই করেননি। তবে একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান, যেখানে যেখানে বলা হয়েছিল যে তিনি ইউরোপা লিগের ফাইনালের পর হয় নায়ক হবেন, নাহয় ‘ক্লাউন’ হবেন।
আরও পড়ুন
| শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে নিষেধাজ্ঞায় নাপোলি-ইন্তার মিলান কোচ |
|
টটেনহ্যাম তাদের শেষ ইউরোপিয়ান শিরোপা জিতেছিল সেই ১৯৮৪ সালে, ইউয়েফা কাপে। আর ঘরোয়াতে শেষবার ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল ২০০৮ সালে, লিগ কাপে। এবারের ইউরোপা লিগ জয় তাই কোচ ও ক্লাব উভয়ের জন্যই বেশ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রিমিয়ার লিগে অবস্থান খুব শোচনীয় (১৭তম)।
No posts available.
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২১ এম

বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ৯ গোলের অবিশ্বাস্য লড়াই শেষে পিএসজির কোচ লুইস এনরিকে যেন ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। রেকর্ড ৫-৪ ব্যবধানের জয়কে কোচিং ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচ হিসেবে অভিহিত করেছেন স্প্যানিশ এই মাস্টারমাইন্ড।
বার্সেলোনার হয়ে লিওনেল মেসি-নেইমার জুনিয়র-লুইস সুয়ারেজদের নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বাদ পাওয়া এনরিকে মঙ্গলবার রাতের ম্যাচের তীব্রতায় অভিভূত। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি আমার জীবনে এত তীব্র গতির ম্যাচ আর দেখিনি। আমি তো এক কিলোমিটারও দৌড়াইনি, তবুও আমি ভীষণ পরিশ্রান্ত। জানি না খেলোয়াড়দের মনের অবস্থা এখন কী!’
আরও পড়ুন
| গ্রিজম্যানের রাজকীয় বিদায়ের লক্ষ্যেই লড়বে আতলেতিকো |
|
৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও ৪ গোল হজম করা নিয়ে সাধারণত কোচরা চিন্তিত থাকেন, কিন্তু এনরিকে সেসব নিয়ে ভাবছেন না। তিনি বলেন, ‘আজকে দলের কোনো খুঁত বা ভুল ধরার সময় নয়। আজ কেবল সবাইকে অভিনন্দন জানানোর দিন। আমরা যেমন জেতার দাবিদার ছিলাম, তেমনি ড্র করা কিংবা হারার সম্ভাবনাও ছিল। কোনো সন্দেহ নেই, এটিই আমার দেখা সেরা ম্যাচ।‘
আগামী সপ্তাহে ফিরতি লেগে বায়ার্নের মাঠে খেলতে হবে পিএসজিকে। প্রথম লেগ শেষে এগিয়ে থাকলেও কাজটা যে সহজ হবে না তা বেশ ভালো করেই জানেন এনরিকে। তাইতো ম্যাচ শেষে ছক কষা শুরু করে দিয়েছেন অভিজ্ঞ এই কোচ ‘স্টাফদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'আমাদের জেতার জন্য কয়টি গোল করতে হবে বলে মনে করো?' তারা বলেছে, 'ন্যূনতম তিনটি।' বায়ার্ন মিউনিখ তাদের নিজেদের মাঠে আরও বেশি শক্তিশালী, তবে আমরা একই মানসিকতা নিয়ে খেলার চেষ্টা করব।‘
মঙ্গলবার রাতের এই ৫-৪ গোলের জয় চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছে। ফিরতি লেগেও যে রোমাঞ্চ ছড়াবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এক গোলের ব্যবধান নিয়ে এগিয়ে থাকা প্যারিসিয়ানদের চোখ এখন সেই ম্যাচ জিতে টানা দ্বিতীয় বারের মতো ইউরোপ সেরার ট্রফি উচিয়ে ধরার আরও কাছে যাওয়া।

পার্ক দে প্রাঁসে গোল উৎসব হবে সেটা সহজ অনুমেয় ছিল। পরিসংখ্যান বলছিল, চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফার্স্ট লেগের আগে মৌসুমে পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখ ৩৮টি করে গোল প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়েছে। এবার তারা একে অন্যের বিপক্ষে গোল করেছে ৯টি। যার পাঁচটি পিএসজির, চারটি বায়ার্নের।
প্যারিসে গোল উৎসবের রাতে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্নের বিপক্ষে ৫-৪ ব্যবধানে জিতে ফিরতি লেগের জন্য প্রস্তুতিটা ভালোভাবেই সারল লুইস এনরিকের দল। তাছাড়া টানা পাঁচ ম্যাচ হারের পর বাভারিয়ানদের বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল ফরাসি ক্লাবটি।
মঙ্গলবারের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে বিরতির আগেই ৫টা গোল হয়। যার দুটি গেল পিএসজির জালে, তিনটা হজম করল বাভারিয়ানরা। বিরতির পর তাই দুই পাশের জালে ঢুকল আরও দুটি করে গোল। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে গোলপ্রসবা সেমিফাইনালের রেকর্ড গড়া ম্যাচে পিএসজি জিতল ৫-৪ গোলে।
কিক অফ থেকে ম্যাচের দশম মিনিট পর্যন্ত অনেকটা নিষ্প্রভ ছিল ম্যাচ। এরপর আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। ১৬তম মিনিটে ডেভিসের দুর্দান্ত হেডে ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে বায়ার্ন মিউনিখ দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে। ওলিসের বাড়ানো বলে লুইস দিয়াজ শট নিতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ঠিক তখনই পাচোর চ্যালেঞ্জে তিনি পড়ে যান এবং রেফারির বাঁশি সঙ্গে সঙ্গে।
সেখান থেকে পেনাল্টি আদায় করেন হ্যারি কেইন। প্রথমে দৌড়ে এসে কিছু থামেন ইংলিশ স্ট্রাইকার। এরপর তার ডান পায়ের নিচু শট কাঁপান জাল। কিছু করার উপায়ও ছিল না সাফনভের।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কেইন তার ৫৪ নম্বর গোলটি পূর্ণ করেন দলকে লিড এনে দেওয়ার সময়। লিগে বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় হিসেবে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে গোল করার রেকর্ডে এখন তিনি রবার্ট লেভানডভস্কির কাতারে। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে লেভানডভস্কি টানা ৫ ম্যাচে গোল করেছিলেন। আজ কেইনও সেই মাইলফলক ছুঁলেন। একইসঙ্গে লিগের নকআউট পর্বে নিজের খেলা শেষ ৫টি ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন কেইন।
ঠিক এক মিনিট পরই বড় ঝুঁকি এড়ান সাফনভ। কেইনের ক্রস কাজে লাগিয়ে বক্সে থাকা মাইকেল ওলিসে গোলবারে শট নেন। কিন্তু রাশিয়ান গোলকিপার তার সেই শট রুখে দেন।
২২তম মিনেট উসমান দেম্বেলে যে সহজ সুযোগ মিস করলেন, এর জন্য বহুদিন তাকে হতাশায় পুড়তেও হতে পারে। ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে কেবল তিনি পান বায়ার্ন গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যারকে। অথচ বারের বাইর দিয়ে শট নিয়ে নেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
সমতায় ফিরতি বেশি সময় নেননি খিচা কাভারাস্কাইয়া। বাঁ-পাশ থেকে একাই আক্রমণে ওঠেন জর্জিয়ান উইঙ্গার। ড্রিবলিং করে ডুকে পড়েন ডি বক্সে। এরপর স্তানিসিচকে বডি ডসে ঘায়েল করে বাঁকানো শটে কাঁপান জাল।
নিজেদের মাঠে ৩২তম মিনিটে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফরাসি জায়ান্টরা। বাঁ-পাশের কর্নার থেকে দেম্বেলের হাওয়ায় ভাসানো শট দারুণ টাইমিংয়ে লাফিয়ে উঠে বলের দিশা বদলে দেন জোয়াও নেভেস। যা সরাসরি জালে আশ্রয় নেয়। লিগে এটি তাঁর দ্বিতীয় গোল।
পিএসজিকে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে দিল না বাভারিয়ানরা। বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে স্কোরলাইন ২-২ করে ম্যাচে ফিরে অতিথিরা। আলেকজান্ডার পাভলোভিচের ছোট পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের প্রান্ত পর্যন্ত এগিয়ে যান মাইকেল ওলিসে। এরপর চমৎকার এক বাঁকানো শটে বল জালে পাঠিয়ে সাফোনভকে হতাশ করেন তিনি। বায়ার্নের দারুণ এক আক্রমণে ম্যাচে ফিরে সমতা।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সময়ের দেম্বেলের কর্নার থেকে নেওয়া লো-ক্রস ব্লক করতে যান আলফোনসো ডেভিস। কিন্তু বলটি তার হাতে লাগে। এরপর পেনাল্টির জোরালো আবেদন করে পিএসজি। মুহূর্তে ভিএআরের সাহায্য নেন রেফারি। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের পক্ষে যায় সিদ্ধান্ত। সেখান থেকে গোল আদায় করেন দেম্বেলে। সবমিলিয়ে ৩-২ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধের ম্যাচের ৫৫ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় পিএসজি। মাঝমাঠ থেকে ভিতিনিয়ার বাড়ানো লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন আশরাফ হাকিমি। বক্সে তার পাঠানো বিপজ্জনক নিচু ক্রসটি উসমান দেম্বেলে বুদ্ধিদীপ্তভাবে ছেড়ে দিলে বল পান খিচা কাভারাস্কাইয়া। কোনো ভুল না করে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি পূর্ণ করেন এই জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড।
পরের মিনিটে ব্যবধান ৫-২ করে ফেলে লুইস এনরিকের শিষ্যরা। বাঁ প্রান্ত থেকে দুয়ের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন উসমান ডেম্বেলে। উপামেকানোর পায়ের ফাঁক দিয়ে নেওয়া তার নিখুঁত নিচু শটটি বাম দিকের পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। বায়ার্নের কিংবদন্তি গোলরক্ষক নয়্যার কেবল চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। পিএসজির গোল উৎসব এখন পূর্ণতা পেল।
৬৪তম মিনিটে সেটপিস থেকে ব্যবধান কমাতে সাহায্যে করেন উপকোমানো। জশুয়া কিমিখের বুলেট গতির শট কেবল মাথা ছুঁইয়ে লক্ষ্যবেদ করেন ফরাসি সেন্টারব্যাক। পরের মিনিটে আরও একটি গোল করেন লুইস দিয়াজ। নিজেদের অর্ধ থেকে কেইনের লং রেঞ্জের শট নিয়ন্ত্রনে নিয়ে বক্সে ডুকে পড়েন কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড। পরবর্তীতে ডান পায়ের কৌশলী শটে আদায় করেন গোল। সে সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগের টানা চার ম্যাচে জালের দেখা পেয়ে পেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৫-৪ শেষ হয় ম্যাচ।
ফার্স্ট রেগে পিএসজি এগিয়ে থাকলেও অতিথি বায়ার্ন মাঠের দখলে এগিয়ে ছিঝল। প্রায় ৫৭ শতাংশ বল তাদের দখলে ছিল। ১২টি শট নিয়ে ৫টি লক্ষ্যে রাখে স্বাগতিকরা। ১০টি শট নিয়ে ৮টি লক্ষ্যে রাখে বায়ার্ন।

পার্ক দে প্রাঁসে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগের প্রথম গোলটি আসে হ্যারি কেইনের পা থেকে। ম্যাচের প্রথমার্ধে ৫১ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে পিছিয়ে বিরতিতে যায় বায়ার্ন মিউনিখ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে উসমান দেম্বেলের গোলে লিড নেয় পিএসজি।
এদিন ম্যাচের ১৬তম মিনিটে আলফোনসো ডেভিসের দুর্দান্ত হেডে ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে বায়ার্ন মিউনিখ। মাইকেল ওলিসের বাড়ানো বলে লুইস দিয়াজ শট নিতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই উইলিয়ান পাচোর চ্যালেঞ্জে তিনি পড়ে গেলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে বাভারিয়ানদের লিড এনে দেন কেইন।
পেনাল্টি নেওয়ার সময় দৌড়ে এসে সামান্য থেমে গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। এরপর তার ডান পায়ের নিচু শট জাল কাঁপায়। গোলরক্ষক সাফোনভের কিছু করার ছিল না।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কেইন আজ ৫৪ নম্বর গোলটি করেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় হিসেবে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে গোল করার রেকর্ডে এখন রবার্ট লেভানডভস্কির সমান্তরালে তিনি। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে লেভানডভস্কি টানা ৫ ম্যাচে গোল করেছিলেন, আজ কেইনও সেই মাইলফলক ছুঁলেন। একইসঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে নিজের খেলা শেষ ৫টি ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন হ্যারি কেইন।

জমেও যেন জমছিল না। গুমোট এক আবহাওয়া আর একরাশ বিরক্তি ভর করেছিল পার্ক দে প্রাঁসে। প্রায় ৪৮ হাজার দর্শকের কম্পন তোলা মুহূর্তেও কাঙ্ক্ষিত গোল ছিল যেন হাওয়াই মিঠাই। প্রথম ১০ মিনিট আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ ছাড়া কেটে যাওয়া পিএসজি-বায়ার্ন ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল হয়েছে মোট পাঁচটি। যার তিনটি পিএসজির আর দুটি বায়ার্নের।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন লিগের সেমিফাইনালের ফার্স্ট লেগের প্রথমার্ধে যেন আগুন নিয়ে খেলেছে বায়ার্ন-পিএসজি। ম্যাচে ৪৯ শতাংশ বল দখলে ছিল পিএসজির, ৫১ শতাংশ বায়ার্নের। ৯টি শট নিয়ে তিনটি লক্ষ্যে রাখে ফরাসি জায়ান্টরা। সমান সংখ্যক বল লক্ষ্যে রাখে অতিথিরাও। দুটি করে বড় সুযোগ তৈরি করে দুদল। ক্লিয়ারেন্সে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন দু’দলের গোলকিপার। ১১টি ক্লিয়ারেন্স ছিল সাফনভের, ছয়টি নয়্যারের।
কিক অফ থেকে ম্যাচের দশম মিনিট পর্যন্ত অনেকটা নিষ্প্রভ ছিল ম্যাচ। এরপর আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। ১৬তম মিনিটে ডেভিসের দুর্দান্ত হেডে ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে বায়ার্ন মিউনিখ দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে। ওলিসের বাড়ানো বলে লুইস দিয়াজ শট নিতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ঠিক তখনই পাচোর চ্যালেঞ্জে তিনি পড়ে যান এবং রেফারির বাঁশি সঙ্গে সঙ্গে।
সেখান থেকে পেনাল্টি আদায় করেন হ্যারি কেইন। প্রথমে দৌড়ে এসে কিছু থামেন ইংলিশ স্ট্রাইকার। এরপর তার ডান পায়ের নিচু শট কাপান জাল। কিছু করার উপায়ও ছিল না সাফনভের।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কেইন তার ৫৪ নম্বর গোলটি পূর্ণ করেন দলকে লিড এনে দেওয়ার সময়। লিগে বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় হিসেবে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে গোল করার রেকর্ডে এখন তিনি রবার্ট লেভানডভস্কির কাতারে। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে লেভানডভস্কি টানা ৫ ম্যাচে গোল করেছিলেন। আজ কেইনও সেই মাইলফলক ছুঁলেন। একইসঙ্গে লিগের নকআউট পর্বে নিজের খেলা শেষ ৫টি ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন কেইন।
ঠিক এক মিনিট পরই বড় ঝুঁকি এড়ান সাফনভ। কেইনের ক্রস কাজে লাগিয়ে বক্সে থাকা মাইকেল ওলিসে গোলবারে শট নেন। কিন্তু রাশিয়ান গোলকিপার তার সেই শট রুখে দেন।
২২তম মিনেট উসমান দেম্বেলে যে সহজ সুযোগ মিস করলেন, এর জন্য বহুদিন তাকে হতাশায় পুড়তেও হতে পারে। ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে কেবল তিনি পান বায়ার্ন গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যারকে। অথচ বারের বাইর দিয়ে শট নিয়ে নেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
সমতায় ফিরতি বেশি সময় নেননি খিচা কাভারাস্কাইয়া। বাঁ-পাশ থেকে একাই আক্রমণে ওঠেন জর্জিয়ান উইঙ্গার। ড্রিবলিং করে ডুকে পড়েন ডি বক্সে। এরপর স্তানিসিচকে বডি ডসে ঘায়েল করে বাঁকানো শটে কাঁপান জাল।
নিজেদের মাঠে ৩২তম মিনিটে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফরাসি জায়ান্টরা। বাঁ-পাশের কর্নার থেকে দেম্বেলের হাওয়ায় ভাসানো শট দারুণ টাইমিংয়ে লাফিয়ে উঠে বলের দিশা বদলে দেন জোয়াও নেভেস। যা সরাসরি জালে আশ্রয় নেয়। লিগে এটি তাঁর দ্বিতীয় গোল।
পিএসজিকে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে দিল না বাভারিয়ানরা। বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে স্কোরলাইন ২-২ করে ম্যাচে ফিরে অতিথিরা। আলেকজান্ডার পাভলোভিচের ছোট পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের প্রান্ত পর্যন্ত এগিয়ে যান মাইকেল ওলিসে। এরপর চমৎকার এক বাঁকানো শটে বল জালে পাঠিয়ে সাফোনভকে হতাশ করেন তিনি। বায়ার্নের দারুণ এক আক্রমণে ম্যাচে ফিরে সমতা।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সময়ের দেম্বেলের কর্নার থেকে নেওয়া লো-ক্রস ব্লক করতে যান আলফোনসো ডেভিস। কিন্তু বলটি তার হাতে লাগে। এরপর পেনাল্টির জোরালো আবেদন করে পিএসজি। মুহূর্তে ভিএআরের সাহায্য নেন রেফারি। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের পক্ষে যায় সিদ্ধান্ত। সেখান থেকে গোল আদায় করেন দেম্বেলে। সবমিলিয়ে ৩-২ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের (ফার্স্ট লেগ) মহারণে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ও বায়ার্ন মিউনিখের শুরুর একাদশে বড় পরিবর্তন লক্ষণীয়। দুই দল ৮টি করে পরির্তন এনেছে।
মঙ্গলবার প্যারিসের পার্ক দে প্রাঁসে বাংলাদেশ সময় রাত একটা শুরু হবে শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াই। তার আগে ভিনসেন্ট কোম্পনি তার শুরুর একাদশে কোয়ার্টার ফাইনালের থ্রিলারে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে আসা সেই একাদশ থেকে দুটি পরিবর্তন এনেছেন। তবে গত শনিবার বুন্দেসলিগায় মাইনজের বিপক্ষে খেলা একাদশের তুলনায় আজ পরিবর্তন এসেছে আটটি।
ইনজুরিতে পড়া সার্জ গ্র্যানব্রির পরিবর্তে আজ শুরুর একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ তুর্কি জামাল মুসিয়ালা। অন্যদিকে কোনরাড লাইমারের জায়গায় রক্ষণ সামলানোর দায়িত্ব পেয়েছেন আলফোনসো ডেভিস।
গত ম্যাচে বুন্দেসলিগায় শুরুর একাদশে না থাকা হ্যারি কেইন, মাইকেল ওলিসে এবং স্তানিসিচ আজ আবারও মূল একাদশে ফিরেছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে বায়ার্নের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেবেন কেইন-মুসিয়ালা জুটি।
আর লিভারপুলের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের জয়ী একাদশটিই অপরিবর্তিত রেখেছেন লুইস এনরিকের পিএসজি। তবে গত উইকএন্ডে লিগ ওয়ানে অঁজের বিপক্ষে জয় পাওয়া দলটির তুলনায় আজ আটটি পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আজ পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই মাঠে নামছে পিএসজি। যেখানে ফুল-ব্যাক পজিশনে ফিরেছেন নুনো মেন্দেস ও আশরাফ হাকিমি। অন্যদিকে দেজিরে দুয়ে, খিচা এবং উসমান দেম্বেলেকে নিয়ে গড়া হয়েছে এক ভয়ঙ্কর আক্রমণভাগ।
বায়ার্ন মিউনিখের শুরুর একাদশ: ম্যানুয়েল নয়্যার, আলফোনসো ডেভিস, জোনাথন তাহ, দায়ো উপামেকানো, ইয়োসিপ স্তানিসিচ, আলেকজান্ডার পাভলোভিচ, জশুয়া কিমিচ, লুইস দিয়াজ, জামাল মুসিয়ালা, মাইকেল ওলিসে ও হ্যারি কেন।
পিএসজির শুরুর একাদশ: সাফনভ, নুনো মেন্দেস, উইলিয়াম পাচো, মার্কিনিয়োস, আশরাফ হাকিমি, জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া, এমরি, খিচা কাভারাস্কাইয়া, উসমান দেম্বেলে, দেজিরে দুয়ে।