
সৌম্য সরকার বাদ পড়ায় ধারণা করা হচ্ছিল, মেহেদি হাসান মিরাজই হয়ত ওপেন করবেন। তবে কিছুটা চমকে দিয়ে ওপেন করতে নেমে যান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, যিনি তিন নম্বরে একটা লম্বা সময় ধরে ব্যাটিং করে আসছিলেন। দলের কম্বিনেশনের সুবিধা করে দিতে পজিশন বদলে খুব একটা খারাপ করেননি এই বাঁহাতি ব্যাটার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান ম্যাচে এরই মধ্যে করে ফেলেছেন ফিফটি।
এর আগে শান্ত শেষবার ওয়ানডেতে ওপেন করেন সেই ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। ভারতের বিপক্ষে সেই ম্যাচটা অবশ্য তিনি ভুলে যেতে চাইবেন। রাহুল চাহারের বলে আউট হন ইনিংসের প্রথম বলেই। এরপর থেকে তিন নম্বরেই থিতু হয়ে যান শান্ত, যে পজিশনে তিনি ওয়ানডেতে খেলেছেন সবচেয়ে বেশি ম্যাচ। দীর্ঘ বিরতির পর ওপেনে ফিরে খেললেন গুরুত্বপূর্ণ এক ইনিংস।
আরও পড়ুন
| কোহলি মাস্টারক্লাসে উড়ে গেল পাকিস্তান |
|
যদিও ইনিংসের শুরুর দিকে ভারত ম্যাচের মতই ব্যাটে ছিল জড়তা। নিউজিল্যান্ডের গতিময় পেসারদের বিপক্ষ সেভাবে রান বের করতে পারছিলেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক। প্রথম ১১ বলে করতে পারেন মাত্র ৩ রান। এরপর ম্যাট হেনরিকে মিড অন দিয়ে হাঁকান প্রথম বাউন্ডারি।
তবে এরপর কাইল জ্যামিসনকে মেডেন দিয়ে নিজের ওপর চাপ বাড়িয়ে ফেলেন শান্ত। এরই মাঝে অন্যপ্রান্তে আউট হন দারুণ ছন্দে থাকা তানজিদ হাসান তামিম। তিনে নামা মিরাজও সুবিধা করতে পারেননি।
তবে ইনিংস যত এগিয়েছে, ততোই শান্ত নিজেকে ফিরে পান। উইলিয়াম ও’রউর্কের করা এক ওভারেই মারেন দুটি চার। ইনিংসের ২৪তম ওভারে শান্ত দেখা পান তার ওয়ানডের দশম ফিফটির। বল খেলেন ৭১টি।
আরও পড়ুন
| কেমন হবে রাওয়ালপিণ্ডির উইকেট, কি অপেক্ষায় টাইগারদের জন্য? |
|
শান্ত রানে ফিরলেও তার দল এই নেই খুব একটা ভালো অবস্থানে। এই প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত ২৩.১ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৪ উইকেটে ১০৭। শান্তর সাথে ক্রিজে আছেন অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ।
No posts available.

চোট যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না রিশাভ পান্তের। চোটের কারণে একদম শেষ মুহূর্তে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ থেকে ছিটকেই গেছেন ভারতের এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। তার বদলি হিসেবে দলে নেওয়া হয়েছে ধ্রুব জুরেলকে।
বারোডা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে স্টেডিয়ামে অনুশীলনে ব্যাটিং করতে গিয়ে অস্বস্তি অনুভব করেন পান্ত। পরে এমআরআই করানো হলে তার সাইড স্ট্রেইন ধরা পড়ে বলে জানিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।
চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের পর পান্তকে পুরো ওয়ানডে সিরিজ থেকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পান্ত ভালো ফর্মে ছিলেন। বিজয় হাজারে ট্রফিতে দিল্লির অধিনায়কত্ব করেন এবং ছয় ইনিংসে দুটি ফিফটিও করেন।
পান্তের জায়গায় দলে ডাক পাওয়া ধ্রুব জুরেল এখনও ওয়ানডে অভিষেকের অপেক্ষায়। সাম্প্রতিক সময়ে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্স করেছেন তিনি। শেষ সাত ইনিংসে ছয়বারই পঞ্চাশের বেশি রান করেছেন, যার মধ্যে দুটি ছিল শতক।
রোববার দুপুর দুইটায় নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামবে ভারত।

বেলজিয়ামভিত্তিক ইউরোপীয় টি–টোয়েন্টি লিগে (ইইউটি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম) নাম লিখিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ ব্যাটার রাসি ফন ডার ডুসেন। ২০২৬ সালে শুরু হতে যাওয়া এই লিগের জন্য নিবন্ধন করা প্রথম বড় তারকাই তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই ইউরোপের নতুন এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিজের আগ্রহের কথা জানান ফন ডার ডুসেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা ইইউটি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম লিগের প্রথম আসর হওয়ার কথা আগামী বছরের মে–জুনে। ছয়টি দল নিয়ে আয়োজন করা হবে এই টুর্নামেন্ট, যেখানে অংশ নেবে অ্যান্টওয়ার্প, ব্রুজ, লুভেন, লিয়েজ, গেন্ট ও ব্রাসেলস শহরের প্রতিনিধিরা। লিগটির অ্যাম্বাসাডর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মরগান।
বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এসএ-টোয়েন্টিতে এমআই কেপটাউনের হয়ে খেলছেন ডুসেন। গত বছরের মেগা নিলামে তাঁকে আবার দলে ফেরায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। চলতি মৌসুমে পাঁচ ইনিংসে ১৩৮ রান করে তিনি এখন পর্যন্ত সপ্তম সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৩৩.৯৮, যা শীর্ষ দশ রানসংগ্রাহকের মধ্যে সবচেয়ে কম।
এর আগে ২০২৫–২৬ মৌসুমের সিএসএ টি–টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জেও ব্যাট হাতে ধারাবাহিক ছিলেন ডুসেন। ছয় ইনিংসে ২৭৫ রান করে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হন তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডুসেনের সবশেষ উপস্থিতি ছিল ২০২৫ সালের আগস্টে। অস্ট্রেলিয়া সফরে দক্ষিণ আফ্রিকার সাদা বলের দলে ছিলেন তিনি এবং তিনটি টি–টোয়েন্টির মধ্যে দুটিতে খেলেন। ওয়ানডেতে তাঁর শেষ ম্যাচ ছিল ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। আর টেস্ট ক্রিকেটে ২০২২ সালের পর আর দেখা যায়নি তাঁকে।
২০২২ সালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ওয়ানডে ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে ক্যারিয়ার–সেরা দুই নম্বরে উঠেছিলেন ডুসেন। সে বছর নয় ম্যাচে ৪৭৬ রান করেছিলেন, গড় ছিল ৭৯.৩৩ এবং স্ট্রাইক রেট ১০০.৪২। করেছিলেন দুটি করে সেঞ্চুরি ও ফিফটি।

এবারের বিপিএলে দারুণ ছন্দে আছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। আর পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা এই ফ্রাঞ্চাইজিটির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছিলেন অ্যাডাম রসিংটন। তবে চট্টগ্রামের জন্য বড় দুঃসংবাদ, দলটির ইংলিশ এই ব্যাটার চোটে পড়ে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছেন।
গতকাল সিলেটে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ের সময় ওই চোট পান রসিংটন। বিনুরা ফার্নান্দোর খানিকটা লাফিয়ে ওঠা বল আঘাত করে অ্যাডাম রসিংটনের আঙুলে, ব্যাথায় কাতর হয়ে ওঠা এই ব্যাটার মাঠে শুশ্রূষার পর আবার ব্যাটিং চালিয়ে গেছেন যান। তবে খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। পুরোনো চোটের জায়গাতেই নাকি আবার আঘাত পেয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
বিপিএলের এবারের আসরে আর খেলার সুযোগ না থাকায় নিজ দেশের ফিরছেন রসিংটন এক ভিডিওবার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের টিম ম্যানেজার নাফিস ইকবাল খান। নাফিস জানান,
‘রসিংটনের যে আঙুলে চোট লেগেছে সেখানে আগেও চোট ছিল তার। গতকাল ইনজুরির পর আঙুলের স্ক্যান করানো হয়। তাকে ২ সপ্তাহ বিশ্রামের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। আর সে কারণেই এবার দেশে ফিরে যাচ্ছেন তিনি। নাফিস জানিয়েছেন, রসিংটনের জায়গায় বিকল্প ব্যাটারের সন্ধান শুরু করে দিয়েছে চট্টগ্রাম।’
বিপিএলে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান করেছেন রসিংটন। প্রথমবার বিপিএল খেলতে এসে ৬৫.৫০ গড় ও ১৩৯.৪৫ স্ট্রাইক রেটে ২৫৮ রান করেছেন তিনি। মোহাম্মদ নাঈম শেখের সঙ্গে বেশ কার্যকর উদ্বোধনী জুটি গড়ে তুলেছিলেন রসিংটন। এছাড়া উইকেটের পেছনেও অসাধারণ ৩২ বছর বয়সী ক্রিকেটার। এক ম্যাচে চার স্টাম্পিংয়ের রেকর্ডও করেছেন।
এবারের বিপিএল শুরুর আগে মালিকানা নিয়ে জটিলতা দেখা গেলেও টুর্নামেন্ট শুরুর পর সবাইকে চমকে দিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচ খেলে ৫ জয় নিয়ে টেবিলের শীর্ষে আছে ফ্রাঞ্চাজিটি। এরমধ্যেই সেরা তারকাকে হারানো বড় ধাক্কাই দলটির জন্য। চট্টগ্রামের পরের ম্যাচ আগামী বৃহস্পতিবার মিরপুরে নোয়াখালীর বিপক্ষে।

দুইদিন আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলেছিলেন উসমান খাজা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেও ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান এই ব্যাটার। অবসরের দু’দিন পর বিগ ব্যাশে মাঠে নেমেই ম্যাচসেরা হলেন খাজা।
ব্রিসবেনে আজ প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ডেভিড ওয়ার্নারের ৮২ রানের ইনিংসে ভর করে ৬ উইকেটে ১৮০ রান তোলে সিডনি থান্ডার। জবাবে উসমান খাজার ৪৮ বলে ৭৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের নৈপুণ্যে ২২ বল আর ৭ উইকেট হাতে রেখে জয় পায় ব্রিসবেন হিট।
রান তাড়ায় ম্যাট রেনশোর সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৯৩ রানের জুটি গড়েন খাজা। ম্যাচে ৩০ বলে ফিফটি তুলে নেন তিনি। খাজার ৭৮ রানের ইনিংসে ছিল ৭ টি চার ও ৩ টি ছক্কা।
জয় থেকে মাত্র ৫ রান দূরে থাকতে আউট হন ব্রিসবেন হিট অধিনায়ক খাজা। সাজঘরে ফেরার সময় দর্শকরা দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান সদ্য বিদায়ী ওপেনারকে।
গত ২ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধ্যায়ের ইতি টানার ঘোষণা দেন খাজা। সিডনিতে অ্যাশেজের পঞ্চম টেস্ট খেলার মধ্য দিয়ে ঘরের মাঠ থেকে ৮ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন তিনি।
টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে ৮৮ ম্যাচে ৬,২২৯ রান করেছেন খাজা। ওয়ানডেতে ৪০ ম্যাচে করেছেন ১৫৫৪ রান, টি-টোয়েন্টিতে ৯ ম্যাচে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই বাঁহাতি ওপেনার করেছেন ২৪১ রান।
বিগ ব্যাশে ৮ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার পাঁচ নম্বরে ব্রিসবেন হিট। ১৪ জানুয়ারি হোবার্ট হারিকেন্সের বিপক্ষে মাঠে নামবে উসমান খাজার ব্রিসবেন হিট।

ক্রিকেট খেলতে খেলতেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ভারতের ক্রিকেটার খাওলহরিং লালরেমরুয়াতা। বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি ক্রিকেট ম্যাচ খেলার সময় হঠাৎ মাঠে লুটিয়ে পড়েন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৩৮ বছর।
রাইডার্স ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খালেদ মেমোরিয়াল দ্বিতীয় বিভাগ স্ক্রিনিং টুর্নামেন্টে খেলছিলেন লালরেমরুয়াতা ভেঙনুয়াই। সাইরাং রেলস্টেশনের কাছে সুয়াকা ক্রিকেট মাঠে ম্যাচ চলাকালে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।
মিজোরাম ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (সিএএম) জানিয়েছে, ম্যাচ চলাকালীন লালরেমরুয়াতা স্ট্রোক করেন। দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
উইকেটকিপার হিসেবে খেলা লালরেমরুয়াতা মিজোরামের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে দুটি ও সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে সাত ম্যাচ খেলেছেন। ২০১৮ সালে মেঘালয়ের বিপক্ষে তাঁর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয়। সবশেষ ২০২২ সালে নাগাল্যান্ডের বিপক্ষে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি।
স্থানীয় পর্যায়েও পরিচিত মুখ ছিলেন লালরেমরুয়াতা। বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলার পাশাপাশি মিজোরামের সিনিয়র টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় লালরেমরুয়াতার পরিবার ও মিজোরাম ক্রিকেট মহলের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন মিজোরামের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণমন্ত্রী লালনঘিংলোভা হামারও।