৩০ নভেম্বর ২০২৫, ৯:১১ এম

সব জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে সকল অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে হতে চলেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ক্রিকেটের দ্বাদশ আসরের নিলাম। যেখান থেকে দর কষাকষি করে অংশগ্রহণকারী ছয়টি দল গুছিয়ে নেবে নিজেদের স্কোয়াড।
নিলামের আগে এক নজরে দেখে নিন প্রয়োজনীয় সব তথ্য
এক যুগ পর
বিপিএলের প্রথম দুই আসর অর্থাৎ ২০১২ ও ২০১৩ সালে হয়েছিল ক্রিকেটারদের নিলাম। এরপর প্লেয়ার্স ড্রাফট পদ্ধতিতে ঢুকে যায় বিসিবি। প্রায় ১২ বছর অর্থাৎ এক যুগ পর আবার হবে নিলাম।
কোথায় ও কখন
রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেল র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে বিকেল ৪টায় শুরু হবে নিলাম।
নিলামে কত ক্রিকেটার
দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে চারশর বেশি ক্রিকেটারের নাম আছে এবারের নিলামের তালিকায়। ছয়টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে ১৫৮ জন দেশি ক্রিকেটারকে। আর বিদেশিদের জন্য করা হয়েছে পাঁচটি ভিন্ন ক্যাটাগরি। যেখানে আছে ২৬৭ জন ক্রিকেটারের নাম।
স্কোয়াডের আকার
নিলাম থেকে কমপক্ষে ১২ জন ও সর্বোচ্চ ১৪ জন দেশি ক্রিকেটার নিতে পারবে দলগুলো। আর বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য কোনো সীমা নেই। নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে যত খুশি ক্রিকেটার নিবন্ধন করান যাবে। ম্যাচে অন্তত ২ জন ও সর্বোচ্চ ৪ জন বিদেশি খেলাতে পারবে দলগুলো।
নিলামের আগে
বিপিএল নিলামের আগে প্রতিটি দলের সামনে ছিল সর্বোচ্চ দুজন করে দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটার দলে নেওয়ার সুযোগ। চট্টগ্রাম রয়্যালস শুধু একজন বিদেশি ক্রিকেটার নিয়েছে। বাকি সবাই দুজন করে মোট ৪ জন ক্রিকেটারের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করেছে।
সরাসরি চুক্তির তালিকা
রংপুর রাইডার্স: নুরুল হাসান সোহান, মোস্তাফিজুর রহমান, খাজা নাফি, সুফিয়ান মুকিম
ঢাকা ক্যাপিটালস: তাসকিন আহমেদ, সাইফ হাসান, উসমান খান, অ্যালেক্স হেলস
সিলেট টাইটান্স: নাসুম আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, সাইম আইয়ুব, মোহাম্মদ আমির
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান তামিম, সাহিবজাদা ফারহান, মোহাম্মদ নওয়াজ
চট্টগ্রাম রয়্যালস: শেখ মেহেদি হাসান, তানভির ইসলাম, আবরার আহমেদ
নোয়াখালী এক্সপ্রেস: হাসান মাহমুদ, সৌম্য সরকার, জনসন চার্লস, কুশল মেন্ডিস
আলো থাকবে কাদের ওপর
কোনো দলের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করেননি লিটন কুমার দাস। নিলামে হয়তো তাকে নিয়েই কাড়াকাড়ি হবে সবচেয়ে বেশি। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কিংবা তরুণ পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিম হাসান সাকিবদের নিয়েও দেখা যেতে পারে বাড়তি আগ্রহ।
এছাড়া চমক হতে পারেন সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স টুর্নামেন্টে আলো ছড়ানো হাবিবুর রহমান সোহান, রিপন মন্ডলরা।
বিদেশি তারা কারা
বিপিএলের ছয়টি দলে ১১ জন বিদেশি ক্রিকেটার সরাসরি চুক্তি করেছেন। এর বাইরে নিলামের তালিকায় আছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার অনেক ক্রিকেটারের নাম। যুক্তরাজ্য, জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড থেকেও আছেন অনেকে। ভারতের বিশ্বকাপজয়ী লেগ স্পিনার পিয়ুশ চাওলাও নাম দিয়েছেন এই নিলামে।
নিলামের বাজেট
দেশি ক্রিকেটার কেনার জন্য নিলামে সব মিলিয়ে সাড়ে ৪ কোটি টাকা খরচ করতে পারবে দলগুলো। এই বাজেটের মধ্যেই নিলামের সব নিয়ম মেনে স্কোয়াডে সাজাতে হবে তাদের। আর বিদেশি ক্রিকেটার কেনার জন্য নিলাম ও নিলামের বাইরে- সব মিলিয়ে তারা খরচ করতে পারবে সাড়ে ৩ লাখ ডলার বা সোয়া ৪ কোটি টাকা।
ভিত্তিমূল্য
দেশি ক্রিকেটারদের 'এ' ক্যাটাগরির ভিত্তিমূল্য সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া 'বি' ৩৫ লাখ, 'সি' ২২ লাখ, 'ডি' ১৮ লাখ, 'ই' ১৪ লাখ ও 'এফ' ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে ১১ লাখ টাকা।
দলগুলোকে 'এ' ও 'বি' মিলিয়ে অন্তত দুই জন, 'সি' ও 'ডি' মিলিয়ে অন্তত ৬ জন এবং 'ই' ও 'এফ' মিলিয়ে অন্তত ৪ জন ক্রিকেটার দলে নিতে হবে।
প্রতিটি স্কোয়াডে অন্তত ১৪ জন ও সর্বোচ্চ ১৬ জন দেশি ক্রিকেটার রাখা যাবে।
বিদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে 'এ' ক্যাটাগরির ভিত্তিমূল্য ৩৫ হাজার ডলার। এরপর যথাক্রমে 'ই' পর্যন্ত ভিত্তিমূল্য ২৫ হাজার, ২০ হাজার, ১৫ হাজার ও ১০ হাজার ডলার।
নিলামের পর আলাদা নিলাম
দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারদের নিলাম শেষ হয়ে যাওয়ার পর অবিক্রিত দেশি ক্রিকেটাদের নিয়ে হবে নতুন নিলাম। যেখানে অবিক্রিত ক্রিকেটাররা সবাই নিজ নিজ ক্যাটাগরি থেকে এক ধাপ নিচে নেমে যাবেন। অপরিবর্তিত থাকবেন 'এফ' ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা।
ক্রিকেটার রিটেনশন
এবার প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে পাঁচ বছরের জন্য দেওয়া হয়েছে বিপিএল দলের মালিকানা। ১৩তম আসর থেকে ১৬তম আসর পর্যন্ত প্রতি মৌসুমের আগে দুজন করে দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটার ধরে রাখতে পারবে দলগুলো। কোনো মৌসুমে নতুন দল এলে তাদের সামনে থাকবে নিলামের আগে দুজন করে দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করার সুযোগ।
পারিশ্রমিক বণ্টন
সর্বোচ্চ তিন কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক। ক্রিকেটারের সঙ্গে চুক্তি করার সময় পারিশ্রমিকের ২৫ শতাংশ। টুর্নামেন্টে লিগ পর্বের ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে ৫০ শতাংশ এবং টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার ৩০ দিনের বাকি ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে হবে।
বিপিএল কবে
সব ঠিক থাকলে সিলেটে আগামী ২৬ ডিসেম্বর শুরু হবে বিপিএলের দ্বাদশ আসর। সেখানে ১২ ম্যাচের পর টুর্নামেন্ট চলে যাবে চট্টগ্রামে। সেখানেও হবে ১২ ম্যাচ। এরপর বাকি ১০ ম্যাচের জন্য ঢাকায় ফিরবে বিপিএল। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামেই হবে ফাইনালসহ প্লে-অফের সব খেলা।
No posts available.
৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৪৯ এম

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে শামীম হোসেন পাটোয়ারীর দলে থাকা না নিয়ে অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ও প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে গরম হয়েছিল দেশের ক্রীড়াঙ্গন।
এবার সিরিজের শেষ ম্যাচের আগে ফেরানো হলো শামীমকে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাঁহাতি ব্যাটারকে তৃতীয় টি-টোয়েন্টির দলে অন্তর্ভুক্ত করার খবর জানিয়েছে বিসিবি। তবে দল থেকে বাদ পড়েননি কেউ। আগের দলের সঙ্গে শুধু যোগ দেবেন শামীম।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ শেষে সিরিজে এখন ১-১ সমতা। একই মাঠে মঙ্গলবার হবে সিরিজের শেষ ম্যাচ। সেদিনই নির্ধারিত হবে কোন দলের হাতে উঠবে সিরিজের ট্রফি।
বাঁচা-মরার এই লড়াইয়ের আগে স্কোয়াডে ফিরে সরাসরি একাদশেও জায়গা পেয়ে যেতে পারেন শামীম। কারণ দুই বাঁহাতি ওপেনারের পর বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন-আপে আর বাঁহাতি ব্যাটার নেই। তাই ডানহাতি-বাঁহাতি সমন্বয়ের জন্য একাদশে সুযোগ পেতে পারেন শামীম।
বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড
লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), সাইফ হাসান (সহ-অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলি অনিক, নুরুল হাসান সোহান, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, শেখ মেহেদি হাসান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, শরিফুল ইসলাম, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, শামীম হোসেন।

কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে দীর্ঘ পথচলার ইতি টানলেন আন্দ্রে রাসেল। ক্রিকেটার হিসেবে আর আইপিএলের সফল ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলতে দেখা যাবে না ক্যারিবিয়ান মারকুটে অলরাউন্ডারকে। তবে দল পুরোপুরি ছাড়েননি। উল্টো নিয়েছেন নতুন পরিচয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে এক ভিডিওবার্তায় আইপিএল থেকে অবসর নেওয়ার এই খবর জানিয়েছেন রাসেল। নতুন পরিচয়ে এবার কেকেআরের পাওয়ার কোচ হিসেবে কাজ করবেন ৩৭ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার।
এছাড়া আইপিএলের বাইরে বিশ্বের অন্যান্য সব লিগেও খেলবেন রাসেল। এমনকি অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নাইট রাইডার্সের দলগুলোতেও দেখা যাবে তাকে। শুধু আইপিএলের ১৩ বছরের অধ্যায়ের ইতি টেনেছেন তিনি।
“আমি আইপিএল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখনও বিশ্বের বিভিন্ন লিগে, কেকেআরের অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজিতে সক্রিয় থাকব। আমি দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছি, অসাধারণ স্মৃতি রয়েছে। ছক্কা মারা, ম্যাচ জেতানো, এমভিপি হওয়া- সবকিছু। তবে কখনও কখনও আপনাকে বুঝতে হয় কখন জুতো জোড়া খুলে রাখার সময় এসেছে।”
“যখন আমি এই সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি অনুভব করলাম ‘হ্যাঁ, এটাই সেরা সিদ্ধান্ত’। আমি ফিকে হয়ে যেতে চাই না। আমি একটি লেগেসি রেখে যেতে চাই। এটা ভালো যে যখন আপনি অবসর নেন তখন ভক্তরা যেন বলে ‘কেন, তোমার এখনও অনেক কিছু বাকি, তুমি আরও কিছু দিন খেলতে পারতে’।”
আইপিএলের সামনের মৌসুমে কলকাতার ধরে রাখা ক্রিকেটারদের তালিকায় ছিল না রাসেলের নাম। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই রাসেলের নতুন দল নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। সেসব দেখেও অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হয়েছে তার।
আরও পড়ুন
| ১২ বলে ফিফটি, ৩২ বলে সেঞ্চুরি করে রেকর্ড বইয়ে অভিষেক |
|
“আমরা ইনস্টাগ্রামের দুনিয়ার অংশ। যখন আপনি আপনার ফিড স্ক্রল করেন, তখন নিজেকে বিভিন্ন জার্সিতে দেখতে থাকেন... বন্ধুরা, সতীর্থরা বিভিন্ন ছবি পাঠিয়ে বলে ‘এই জার্সিতে তুমি দারুণ লাগছো, কী মনে হয়?’ আর আমি ভাবি, ‘ওই জার্সিতে আমি অদ্ভুত দেখাচ্ছি’। আর এই চিন্তাগুলোই মাথার মধ্যে ঘুরছিল।”
“কয়েকটা নির্ঘুম রাত কেটেছে। অনেক আলোচনা হয়েছে আমার ও ভেঙ্কি মাইসোর স্যারের মধ্যে, আর শাহরুখ খানের সঙ্গেও- আইপিএল যাত্রার আরেক অধ্যায় নিয়ে। তারা আমাকে সম্মান ও ভালোবাসা দেখিয়েছে এবং মাঠে আমি যা করেছি তার মূল্যায়ন করেছে। এমন একটি সেট-আপে থাকা যেখানে আমি পরিচিত- এটা আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।”
২০১২ সালে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে আইপিএল যাত্রা শুরু করেন রাসেল। পরের বছরও তিনি ছিলেন দিল্লিতে। এরপর টানা ১১ মৌসুমে কলকাতার জার্সিতেই খেলেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কলকাতার ঘরের ছেলেই হয়ে ওঠেন তিনি।
আইপিএলে কলকাতার হয়ে দুইটি শিরোপা জিতেছেন রাসেল। একবার জিতেছেন টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার। সব মিলিয়ে কলকাতার হয়ে ১৩৯ ম্যাচে ২৮.৫৮ গড় ও ১৭৫.০৬ স্ট্রাইক রেটে ২ হাজার ৬৫৮ রান করেছেন রাসেল। এছাড়া বল হাতে নিয়েছেন ১২৪ উইকেট।

মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টির (আইএলটি২০) চতুর্থ মৌসুম। আমিরাতের টুর্নামেন্টে এমআই এমিরেটসের হয়ে খেলবেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
দলের অধিনায়ক হিসেবে কাইরন পোলার্ডের নাম ঘোষণা করেছে ফ্রাঞ্চাইজিটি। গত মৌসুমে এমআই এমিরেটসে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন পোলার্ডের স্বদেশী নিকোলাস পুরান।
তবে আইএল টি২০ চলাকালেই দক্ষিণ আফ্রিকার এসএটোয়েন্টিতে শেষদিকে এমআই কেপটাউনে দেখা যেতে পারে পুরানকে। তাই দলের অধিনায়ক পরিবর্তন করেছে এমআই এমিরেটস।
আরও পড়ুন
| ১২ বলে ফিফটি, ৩২ বলে সেঞ্চুরি করে রেকর্ড বইয়ে অভিষেক |
|
টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ৭২০টি ম্যাচ খেলেছেন পোলার্ড, ব্যাট হাতে তিনি করেছেন ১৪ হাজার ২৩৭ রান। রান সংগ্রাহকের তালিকায় সবার ওপরে থাকা ক্রিস গেইলের রেকর্ড ভাঙতে আর ৩২৬ রান দরকার পোলার্ডের।
গত মাসে আইএলটি২০র নিলামে শেষ মুহূর্তে সাকিবকে ৪০ হাজার ডলারের বিনিময়ে কিনেছে এমআই এমিরেটস।
দলটিতে সতীর্থ হিসেবে সাকিব পাচ্ছেন আন্দ্রে ফ্লেচার, কাইরন পোলার্ড, নিকোলাস পুরান, ফজল হক ফারুকি, টম ব্যানটন, রোমারিও শেফার্ড, জনি বেয়ারস্টোর মতো টি-টোয়েন্টির পরিচতি মুখদের।
আগামী ৪ ডিসেম্বর গালফ জায়ান্টসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের মৌসুম শুরু করবে এমআই এমিরেটস।

বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে এরই মধ্যে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছেন অভিষেক শর্মা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাঘা বাঘা বোলারদের বেধড়ক পিটিয়ে তিনি গড়েছেন বেশ কিছু রেকর্ড। এবার তার ব্যাটের আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে বেঙ্গলের বোলাররা।
হায়দরাবাদে সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফির ম্যাচে বেঙ্গলের বিপক্ষে মাত্র ১২ বলে ফিফটি করেন পাঞ্জাবের হয়ে খেলতে নামা বাঁহাতি ওপেনার। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে এটি তৃতীয় দ্রুততম ফিফটি। আর ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে দ্বিতীয় দ্রুততম।
মোহাম্মদ শামি, আকাশ দিপদের নিয়ে গড়া বোলিং লাইন আপের বিপক্ষে ফিফটি করেই থেমে যাননি ২৫ বছর বয়সী ওপেনার। তাণ্ডব জারি রেখে মাত্র ৩২ বলে তিনি পূর্ণ করেছেন স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে নিজের অষ্টম সেঞ্চুরি। ভারতের ব্যাটারদের মধ্যে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
শুরু থেকেই বিধ্বংসী ব্যাটিং করে ৫টি করে চার-ছক্কায় মাত্র ১২ বলে ফিফটি করেন অভিষেক। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ৯ বলে ফিফটি করে দ্রুততম ফিফটি বিশ্ব রেকর্ড নেপালের দিপেন্দ্র সিং আইরির। এছাড়া ১১ বলে ফিফটি আছে ভারতের আশুতোষ শর্মার।
আরও পড়ুন
| দেশি বাজেট সাড়ে ৪, বিদেশিদের জন্য সোয়া ৪ কোটি- জেনে নিন নিলামের আরও খুঁটিনাটি |
|
অভিষেকসহ এখন পাঁচজন ব্যাটারের নামের পাশে আছে ১২ বলে ফিফটি। সবার আগে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন ভারতের যুবরাজ সিং। পরে এই তালিকায় যুক্ত হন ক্রিস গেইল, হযরতউল্লাহ জাজাই ও এস্তোনিয়ার সাহিল চৌহান।
গত বছর সাইপ্রাসের বিপক্ষে ১২ বলে ফিফটি করার দিন আবার মাত্র ২৭ বলে সেঞ্চুরি করেন সাহিল। যা এখনও দ্রুততম সেঞ্চুরির বিশ্ব রেকর্ড। গত বছরই ২৮ বলে সেঞ্চুরি করে এই তালিকার দুই নম্বরে অভিষেক ও উর্ভিল প্যাটেল।
চলতি বছরের সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে ৩১ বলে আরেকটি সেঞ্চুরি করেছেন উর্ভিল। এছাড়া ২৯ ও ৩০ বলে সেঞ্চুরি আছে যথাক্রমে মোহাম্মদ ফাহাদ ও গেইলের। অভিষেকের সমান ৩২ বলে সেঞ্চুরির কীর্তি আছে আরও দুই ভারতীয় রিশাভ পান্ত ও বৈভব সূর্যবংশীর।
রোববারের ম্যাচে মাত্র ১২ বলে ফিফটি করার পর ২০ বলে আরও ২ চারের সঙ্গে ৬টি ছক্কা মেরে ৩২ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন অভিষেক। এই সেঞ্চুরিতে রোহিত শর্মার পাশে বসেছেন অভিষেক।
ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ৪৫০ ইনিংসে করেছেন ৮টি সেঞ্চুরি। মাত্র ১৫৭ ইনিংসেই তাকে ছুঁয়ে ফেলেছেন ২৫ বছর বয়সী ওপেনার।
ভারতের ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিক বিরাট কোহলি। ৩৯৭ ইনিংসে তিনি করেছেন ৯টি সেঞ্চুরি। অচিরেই হয়তো তাকে ছুঁয়ে ফেলবেন, এমনকি ছাড়িয়েও যেতে পারেন অভিষেক।
স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ২২টি সেঞ্চুরি করে সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে ক্রিস গেইল।

সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আইরিশদের ১৮২ রানের চ্যালেঞ্জ নিতে পারেনি বাংলাদেশ। টপ অর্ডার এবং মিডল অর্ডারেদের ব্যর্থতায় ৩৯ রানে হেরেছে লিটন দাসের দল সেই ম্যাচে। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ১৭১ রানের চ্যালেঞ্জটাও এক পর্যায়ে কঠিন মনে হয়েছে। তবে এই ম্যাচে দুই অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী এবং সাইফউদ্দিনের প্রত্যাবর্তনের সুফল পেয়েছে বাংলাদেশ দল।
ইনিংসের প্রথম ওভারে টিম টেক্টরের হাতে ৩টি বাউন্ডারি খেয়ে খেই হারানোর কথা অফ স্পিনার শেখ মেহেদীর। অথচ, প্রথম ওভারে ১২ রান খরচ করা সেই শেখ মেহেদী দ্বিতীয় স্পেলে (৩-০-১৩-৩) আইরিশদের বড় স্কোরের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন। ইনিংসের শেষ ওভারের চতুর্থ বলে জস লিটলকে এক্সট্রা কভার দিয়ে বাউন্ডারি শটে বাংলাদেশ দলকে সিরিজে ফিরিয়েছেন সেই শেখ মেহেদী।
প্রথম স্পেলে (২-০-২২-০) মার খেয়ে শেষ পাওয়ার প্লে-তে ২ ওভারের স্পেলে (২-০-১৮-১) ছন্দে ফিরেছেন পেস বোলার সাইফউদ্দিন। ১৯ তম ওভারের দ্বিতীয় বলে সোহান (৭ বলে ৫) প্লেড অন যখন হয়েছেন, তখন ১০ বলে বাংলাদেশ দলের টার্গেট ১৬ কঠিনই মনে হচ্ছিল। তবে এডেইরের ওই ওভারের ৪র্থ বলে লং অনের উপর দিয়ে ছক্কা এবং ৬ষ্ঠ বলে স্কোয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারিতে শেষ ওভার থ্রিলারে বাংলাদেশকে পড়তে দেননি সাইফউদ্দিন। শেষ ওভারে ৩ রানের সহজ টার্গেট ২ বল এবং ৫ উইকেট হাতে রেখে পাড়ি দিয়েছে বাংলাদেশ।
এই ম্যাচে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে দুদলের টপ অর্ডারদের ব্যাটিংয়ে দর্শকদের পয়সা উশুল হয়েছে। টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রথম ৬ ওভারের ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে আইরিশ ওপেনার পল স্টালিং এবং টিম টেক্টরের ব্যাটিং ঝড় দেখেছে চট্টগ্রামের দর্শক। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে আয়ারল্যান্ডের স্কোর ৭৫/১ ছিল দুর্ভাবনার কারন।
বাংলাদেশ টপ অর্ডার পারভেজ ইমন-লিটনের চওড়া ব্যাটে সেখানে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে স্কোর উঠেছে ৬৬/১। পার্থক্যটা তৈরি করেছে বাংলাদেশ দল দ্বিতীয় পাওয়ার প্লে-তে। ৭ম থেকে ১৫তম, এই ৯ ওভারে আয়ারল্যান্ড যেখানে ৩ উইকেট হারিয়ে করেছে ৫৩, সেখানে বাংলাদেশ ২ উইকেট হারিয়ে করেছে ৭১।
ব্যবধান তৈরি হয়েছে ডট বল এবং ছক্কার সংখ্যায়ও। আয়ারল্যান্ড যেখানে ডট করেছে ৪৫টি বল, সেখানে বাংলাদেশের ইনিংসে ডট বলের সংখ্যা ৩৮টি। কাকতালীয়ভাবে দুদল মেরেছে ১৩টি করে বাউন্ডারি। তবে আয়ারল্যান্ড ব্যাটারদের ছক্কার সমষ্টি যেখানে ৫টি, সেখানে বাংলাদেশের ছক্কার সংখ্যা ৭টি।
৯ম ওভারের ১ম বলে টিম টেক্টরকে (২৫ বলে ৪ চার, ২ ছক্কায় ৩৮) স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে দিয়ে এবং ৫ম বলে হ্যারি টেক্টরকে (১১ বলে ১১) বোল্ড আউটে ফিরিয়ে দিয়ে আয়ারল্যান্ডের ২শ'র স্বপ্নভঙ্গ করেছেন অফ স্পিনার শেখ মেহেদী।
বাকি দায়িত্বটা পালন করেছেন দুই টপ অর্ডার পারভেজ ইমন-লিটন দাস। ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ ২ বলে হামফ্রিসকে পয়েন্ট দিয়ে বাউন্ডারি এবং সুইপ শটে ছক্কা মেরে পারভেজ ইমন দিয়েছিলেন ম্যাচে অক্সিজেনের যোগান। ডিলানিকে রিভার্স সুইপ করতে যেয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে রানিং ক্যাচে পরিনত হয়ে পারভেজ হোসেন ইমন (২৮ বলে ৫ চার, ২ ছক্কায় ৪৩) অবধারিত ফিফটি হাতছাড়া করেছেন। তবে জস লিটলকে ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগের উপর দিয়ে ছক্কায় ছন্দ ফিরে পাওয়া লিটন দাস টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ১৬তম ফিফটি উদাযাপন করেছেন। ৭ ম্যাচ পর ৩৪ বলে ফিফটি উদযাপন করা লিটন এডেইরকে অন ড্রাইভ করতে যেয়ে এলবিডাব্লুউতে থেমেছেন (৩৭ বলে ৩ চার, ৩ ছক্কায় ৫৭) ঠিকই, তবে তার আগে শেষ পাওয়ার প্লে'র টার্গেটটা দিয়েছেন সহজ করে। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে পারভেজ ইমনকে নিয়ে ৪৩ বলে ৬০ এবং তৃতীয় উইকেট জুটিতে সাইফ হাসানকে সঙ্গে নিয়ে ৩১ বলে ৫২ রানের দুটি পার্টনারশিপে দিয়েছেন লিটন নেতৃত্ব।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে যেখানে স্কোরশিটে ১৮ উঠতে হারিয়েছে বাংলাদেশ ৪ উইকেট, তাতেই সেই ম্যাচে করতে হয়েছে আত্মসমর্পন। দ্বিতীয় ম্যাচে টপ অর্ডার ব্যাটারদের গায়ে লাগেনি অপবাদ। টি-টোয়েন্টিতে জেনুইন অলরাউন্ডােরদের সমাবেশের সুফলটাও আজ জেনেছে টিম ম্যানেজমেন্ট।