৩০ নভেম্বর ২০২৫, ৯:১১ এম

সব জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে সকল অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে হতে চলেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ক্রিকেটের দ্বাদশ আসরের নিলাম। যেখান থেকে দর কষাকষি করে অংশগ্রহণকারী ছয়টি দল গুছিয়ে নেবে নিজেদের স্কোয়াড।
নিলামের আগে এক নজরে দেখে নিন প্রয়োজনীয় সব তথ্য
এক যুগ পর
বিপিএলের প্রথম দুই আসর অর্থাৎ ২০১২ ও ২০১৩ সালে হয়েছিল ক্রিকেটারদের নিলাম। এরপর প্লেয়ার্স ড্রাফট পদ্ধতিতে ঢুকে যায় বিসিবি। প্রায় ১২ বছর অর্থাৎ এক যুগ পর আবার হবে নিলাম।
কোথায় ও কখন
রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেল র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে বিকেল ৪টায় শুরু হবে নিলাম।
নিলামে কত ক্রিকেটার
দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে চারশর বেশি ক্রিকেটারের নাম আছে এবারের নিলামের তালিকায়। ছয়টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে ১৫৮ জন দেশি ক্রিকেটারকে। আর বিদেশিদের জন্য করা হয়েছে পাঁচটি ভিন্ন ক্যাটাগরি। যেখানে আছে ২৬৭ জন ক্রিকেটারের নাম।
স্কোয়াডের আকার
নিলাম থেকে কমপক্ষে ১২ জন ও সর্বোচ্চ ১৪ জন দেশি ক্রিকেটার নিতে পারবে দলগুলো। আর বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য কোনো সীমা নেই। নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে যত খুশি ক্রিকেটার নিবন্ধন করান যাবে। ম্যাচে অন্তত ২ জন ও সর্বোচ্চ ৪ জন বিদেশি খেলাতে পারবে দলগুলো।
নিলামের আগে
বিপিএল নিলামের আগে প্রতিটি দলের সামনে ছিল সর্বোচ্চ দুজন করে দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটার দলে নেওয়ার সুযোগ। চট্টগ্রাম রয়্যালস শুধু একজন বিদেশি ক্রিকেটার নিয়েছে। বাকি সবাই দুজন করে মোট ৪ জন ক্রিকেটারের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করেছে।
সরাসরি চুক্তির তালিকা
রংপুর রাইডার্স: নুরুল হাসান সোহান, মোস্তাফিজুর রহমান, খাজা নাফি, সুফিয়ান মুকিম
ঢাকা ক্যাপিটালস: তাসকিন আহমেদ, সাইফ হাসান, উসমান খান, অ্যালেক্স হেলস
সিলেট টাইটান্স: নাসুম আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, সাইম আইয়ুব, মোহাম্মদ আমির
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান তামিম, সাহিবজাদা ফারহান, মোহাম্মদ নওয়াজ
চট্টগ্রাম রয়্যালস: শেখ মেহেদি হাসান, তানভির ইসলাম, আবরার আহমেদ
নোয়াখালী এক্সপ্রেস: হাসান মাহমুদ, সৌম্য সরকার, জনসন চার্লস, কুশল মেন্ডিস
আলো থাকবে কাদের ওপর
কোনো দলের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করেননি লিটন কুমার দাস। নিলামে হয়তো তাকে নিয়েই কাড়াকাড়ি হবে সবচেয়ে বেশি। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কিংবা তরুণ পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিম হাসান সাকিবদের নিয়েও দেখা যেতে পারে বাড়তি আগ্রহ।
এছাড়া চমক হতে পারেন সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স টুর্নামেন্টে আলো ছড়ানো হাবিবুর রহমান সোহান, রিপন মন্ডলরা।
বিদেশি তারা কারা
বিপিএলের ছয়টি দলে ১১ জন বিদেশি ক্রিকেটার সরাসরি চুক্তি করেছেন। এর বাইরে নিলামের তালিকায় আছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার অনেক ক্রিকেটারের নাম। যুক্তরাজ্য, জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড থেকেও আছেন অনেকে। ভারতের বিশ্বকাপজয়ী লেগ স্পিনার পিয়ুশ চাওলাও নাম দিয়েছেন এই নিলামে।
নিলামের বাজেট
দেশি ক্রিকেটার কেনার জন্য নিলামে সব মিলিয়ে সাড়ে ৪ কোটি টাকা খরচ করতে পারবে দলগুলো। এই বাজেটের মধ্যেই নিলামের সব নিয়ম মেনে স্কোয়াডে সাজাতে হবে তাদের। আর বিদেশি ক্রিকেটার কেনার জন্য নিলাম ও নিলামের বাইরে- সব মিলিয়ে তারা খরচ করতে পারবে সাড়ে ৩ লাখ ডলার বা সোয়া ৪ কোটি টাকা।
ভিত্তিমূল্য
দেশি ক্রিকেটারদের 'এ' ক্যাটাগরির ভিত্তিমূল্য সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া 'বি' ৩৫ লাখ, 'সি' ২২ লাখ, 'ডি' ১৮ লাখ, 'ই' ১৪ লাখ ও 'এফ' ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে ১১ লাখ টাকা।
দলগুলোকে 'এ' ও 'বি' মিলিয়ে অন্তত দুই জন, 'সি' ও 'ডি' মিলিয়ে অন্তত ৬ জন এবং 'ই' ও 'এফ' মিলিয়ে অন্তত ৪ জন ক্রিকেটার দলে নিতে হবে।
প্রতিটি স্কোয়াডে অন্তত ১৪ জন ও সর্বোচ্চ ১৬ জন দেশি ক্রিকেটার রাখা যাবে।
বিদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে 'এ' ক্যাটাগরির ভিত্তিমূল্য ৩৫ হাজার ডলার। এরপর যথাক্রমে 'ই' পর্যন্ত ভিত্তিমূল্য ২৫ হাজার, ২০ হাজার, ১৫ হাজার ও ১০ হাজার ডলার।
নিলামের পর আলাদা নিলাম
দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারদের নিলাম শেষ হয়ে যাওয়ার পর অবিক্রিত দেশি ক্রিকেটাদের নিয়ে হবে নতুন নিলাম। যেখানে অবিক্রিত ক্রিকেটাররা সবাই নিজ নিজ ক্যাটাগরি থেকে এক ধাপ নিচে নেমে যাবেন। অপরিবর্তিত থাকবেন 'এফ' ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা।
ক্রিকেটার রিটেনশন
এবার প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে পাঁচ বছরের জন্য দেওয়া হয়েছে বিপিএল দলের মালিকানা। ১৩তম আসর থেকে ১৬তম আসর পর্যন্ত প্রতি মৌসুমের আগে দুজন করে দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটার ধরে রাখতে পারবে দলগুলো। কোনো মৌসুমে নতুন দল এলে তাদের সামনে থাকবে নিলামের আগে দুজন করে দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করার সুযোগ।
পারিশ্রমিক বণ্টন
সর্বোচ্চ তিন কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক। ক্রিকেটারের সঙ্গে চুক্তি করার সময় পারিশ্রমিকের ২৫ শতাংশ। টুর্নামেন্টে লিগ পর্বের ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে ৫০ শতাংশ এবং টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার ৩০ দিনের বাকি ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে হবে।
বিপিএল কবে
সব ঠিক থাকলে সিলেটে আগামী ২৬ ডিসেম্বর শুরু হবে বিপিএলের দ্বাদশ আসর। সেখানে ১২ ম্যাচের পর টুর্নামেন্ট চলে যাবে চট্টগ্রামে। সেখানেও হবে ১২ ম্যাচ। এরপর বাকি ১০ ম্যাচের জন্য ঢাকায় ফিরবে বিপিএল। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামেই হবে ফাইনালসহ প্লে-অফের সব খেলা।
No posts available.
৬ এপ্রিল ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
৬ এপ্রিল ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৪ এম

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ। ব্র্যান্ড ভেল্যু, তারকা ক্রিকেটারদের উপস্থিতি এবং সম্প্রচারের দিক থেকে ভারতের ঘরোয়া এই লিগের ধারে কাছে নেই পিএসএল, এসএ টি-টোয়েন্টি ও লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভির বিশ্বাস, শিগগিরই আইপিএলকে ছাড়িয়ে যাবে পিএসএল।
সোমবার লাহোরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড অব গভর্নরসের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নকভি বলেন, বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহই পিএসএলের দ্রুত অগ্রগতির প্রমাণ। তার মতে, এই লিগ এখন বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে এবং খুব শিগগিরই বিশ্বসেরার কাতারে উঠে আসবে।
তিনি বলেন, “পিএসএল এখন বিনিয়োগের জন্য সেরা বাজার। খুব বেশি দেরি নেই, যখন এটি বিশ্বের এক নম্বর লিগ হবে।”
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপ জিতিয়ে মার্চের সেরার লড়াইয়ে ভারতের দুই তারকা |
|
লিগের সম্প্রসারণের পাশাপাশি বোর্ড ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনও অনুমোদন দিয়েছে, যা মাঠের বাইরেও স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়। ফ্র্যাঞ্চাইজি নিলামেও ছিল ব্যাপক সাড়া। ৬ দল থেকে বেড়ে ৮ দলে উন্নীত হয়েছে পিএসএল, নতুন করে যুক্ত হয়েছে সিয়ালকোট ও হায়দরাবাদ।
১.৮৫ বিলিয়ন রুপিতে সিয়ালকোট ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনেছে ওজেড ডেভেলপারস দলটির নাম দিয়েছে সিয়ালকোট স্ট্যালিয়নজ। এফকেএস গ্রুপ ১.৭৫ বিলিয়ন রুপিতে হায়দরাবাদ দল কিনে নাম রেখেছে হায়দরাবাদ কিংসমেন।
এত কিছুর পরও কিছু চ্যালেঞ্জ কিন্তু রয়ে গেছে। মাত্র দুই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পিএসএল। জ্বালানি সংকটের কারণে ম্যাচগুলো দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে হচ্ছে। অন্যদিকে আইপিএল একাধিক শহরে পূর্ণ গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে এর বিশাল দর্শক রয়েছে। ২০০৮ সালে শুরু হয় আইপিএল। আর ২০১৬ সালে শুরু হয় পিএসএল।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের টানতেও কিছুটা সমস্যায় পড়ে পিএসএল। অনেক সময় আইপিএলে সুযোগ না পাওয়া ক্রিকেটাররা পিএসএলে খেলেন। পরে আইপিএল দলগুলো তাদের বদলি হিসেবে দলে ভেড়ায়—মাঝ মৌসুমেই তাদের ছাড়তে হয় পিএসএল। আর্থিক দিক থেকেও আইপিএল অনেক এগিয়ে; অনেক ক্ষেত্রে আইপিএলের একজন ক্রিকেটারের চুক্তির খরচ পিএসএলে একটি দলের বাজেটের সমান।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের চাকরি ছেড়ে যাওয়ার আগে 'স্পিন বোলিং মেশিনের' গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছিলেন নিক পোথাস। তার বিদায়ের পর তাৎক্ষণিকভাবে না হলেও, অবশেষে সেই স্পিন বোলিং মেশিন এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যার নাম মার্লিন বাই বোলা।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সাদা বলের দুই সিরিজ শুরুর আগে চলমান অনুশীলন ক্যাম্পে সোমবার প্রথম এই স্পিন বোলিং মেশিন ব্যবহার করা হয়। যা দিয়ে নিজেদের পছন্দমতো অফ স্পিন, লেগ স্পিন বা স্ট্রেইট ডেলিভারির অনুশীলন করতে পেরেছেন ব্যাটাররা।
এর আগে শুধু এনালগ বোলিং মেশিনের ব্যবহার ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটে। যা দিয়ে গতি বাড়ানো বা কমানো ও বাউন্সের তারতম্যের অনুশীলন করা যেত। এখন নতুন করে মার্লিন বাই বোলা নিয়ে আসায় স্পিনের বিপক্ষেও নিজেদের ঝালাই করতে পারবেন ব্যাটাররা।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জাতীয় একাডেমি মাঠে সোমবার সকালেই যেমন সাইফ হাসান, জাকের আলি অনিকরা ব্যাটিং করেছেন এই মেশিনের সামনে। এটি দিয়ে চাইলে সময় ঠিক করে দিয়ে একসঙ্গে ৩০টি বলও খেলা যাবে।
আরও পড়ুন
| প্রধানমন্ত্রীর হাতে ট্রফি তুলে দিতে চান সাফজয়ী অধিনায়ক |
|
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই মেশিনের ব্যাপারে ধারণা দেন বোর্ডের ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস।
“এই বোলিং মেশিনের নাম মার্লিন বাই বোলা। এটা নিয়ে অনেকদিন ধরেই কথা হচ্ছিল। কিছুদিন আগেই অর্ডার করা হয়। মেশিনটা অনেক ভারী হওয়ায় ফ্লাইটের মাধ্যমে না এনে জাহাজের মাধ্যমে আনা হয়েছে।”
“এটা দিয়ে অফ স্পিন, লেগ স্পিন এবং আর্মার- তিন ধরনের বল খেলা যায়। বলের লেন্থ পরিবর্তন করা যায়, পেস বাড়ানো-কমানো যায়। ম্যানুয়ালি বা অটোমেটিক, দুই মোডেই চালানো যায়। অটোমেটিক মোডে একসঙ্গে ২৫-৩০টা বল খেলা যায়।”
জানা গেছে, মেশিনটি কিনতে বিসিবির খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড বা ১৬ লাখ টাকা।

ভারতকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতানোর পথে বড় অবদান রেখে এবার আরেকটি স্বীকৃতির সম্ভাবনা জাগিয়েছেন সাঞ্জু স্যামসন ও জাসপ্রিত বুমরাহ। মার্চ মাসের আইসিসি প্লেয়ার অব দা মান্থ পুরস্কারে মনোনীত হয়েছেন ভারতের এই দুই তারকা।
স্যামসন ও বুমরাহ ছাড়াও পুরুষ ক্যাটাগরিতে মাসসেরার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার উদীয়মান তারকা কনর এস্থেইজেন। আর নারী ক্রিকেটে মনোনয়ন পেয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের অ্যামিলিয়া কার, অস্ট্রেলিয়ার বেথ মুনি ও দক্ষিণ আফ্রিকা আয়াবোঙ্গা খাকা।
আরও পড়ুন
| বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে স্টেডিয়ামের বাইরে পাঠিয়ে মজা পেয়েছেন ডেভিড |
|
ঘরের মাঠে হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুরুর দিকে তেমন সুযোগ পাননি স্যামসন। তবে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে তিনিই হয়ে ওঠেন দলের বড় ভরসা। সব মিলিয়ে মার্চ মাসে খেলা তিন ম্যাচে ২৭৫ রান করেন স্যামসন। সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ৮৯ রানের ইনিংস।
ওই তিন ম্যাচে বল হাতে আলো ছড়ান বুমরাহ। ওভারপ্রতি মাত্র ৭ রান খরচ করে ১২ গড়ে ৭টি উইকেট নিয়েছিলেন ভারতের এই তারকা পেসার। শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১৫ রানে নেন ৪ উইকেট।
বিশ্বকাপের পরপর নিউ জিল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন এস্থেইজেন। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৫০ গড় ও ১৪৫.৯৮ স্ট্রাইক রেটে ২০০ রান করেছিলেন ২৪ বছর বয়সী ব্যাটার।
মার্চ মাসে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি' দুই সংস্করণেই দারুণ ছন্দে ছিলেন অ্যামিলিয়া কার। গত মাসে খেলা ৪ ওয়ানডে ১৭৬ রানের পাশাপাশি বল হাতে ১৮ উইকেট নেন হোয়াইট ফার্ন অধিনায়ক। এছাড়া ৬ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২৭৬ রানের সঙ্গে ৬ উইকেট নেন তিনি।
আরও পড়ুন
| কাঁথা-বালিশ নিয়ে ‘মাঠেই ঘুমাতে চান’ মুলতান অধিনায়ক |
|
মার্চে খেলা দুই ওয়ানডেতে ১৭১ রান করেন বেথ মুনি। এর মধ্যে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ১০৬ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেন ৬৫ রান। এছাড়া ৩ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১২৮.৯১ স্ট্রাইক রেটে তিনি করেন ১০৭ রান।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ৪ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার ছিলেন আয়াবোঙ্গা খাকা। পরে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ৫৬ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন অভিজ্ঞ পেসার।

চেন্নাই সুপার কিংসের বোলারদের তখন রীতিমতো কচুকাটা করছেন টিম ডেভিড। একের পর এক ছক্কা মারছেন অবলীলায়। এর মাঝেই জেমি ওভারটনের বলে একটি শট সোজা গেল স্টেডিয়ামের গ্যালারির ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে। সেই ছক্কাটি মেরেই মজা পেয়েছেন ডেভিড।
চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে রোববার রাতে ডেভিডের আগুনে ব্যাটিংয়ে পুড়েছে চেন্নাই। ১৫তম ওভারে ক্রিজে গিয়ে ৩ চারের সঙ্গে ৮টি বিশাল ছক্কা মেরে মাত্র ২৫ বলে ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ান এই মারকুটে ব্যাটার।
তার বিধ্বংসী ইনিংসে চলতি আইপিএলের সর্বোচ্চ ২৫০ রানের পুঁজি পায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। পরে ৪৩ রানে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে তারা। অসাধারণ এই ইনিংসে বেশ কিছু রেকর্ডও ৩০ বছর বয়সী মিডল-অর্ডার ব্যাটার।
ডেথ ওভার তথা শেষের চার ওভার থেকেই ৬৮ রান করেছেন ডেভিড। আইপিএলে শেষ চার ওভারে কোনো ব্যাটারের এটিই সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এছাড়া ১৫তম ওভারে ক্রিজে গিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে তার চেয়ে বেশি রান আছে শুধু ড্যানিয়েল স্যামসের, ২৪ বলে ৭১।
খুনে ব্যাটিংয়ের এই ইনিংসে ডেভিডের সবচেয়ে ভালো লেগেছে ১৯তম ওভারের চতুর্থ ও শেষ ছক্কাটি। জেমি ওভারটনের ওই ওভারে মোট ৩০ রান নেন ডেভিড। এর মধ্যে শেষ ছক্কাটির দূরত্ব ছিল ১০৬ মিটার। যা কিনা গ্যালারি পেরিয়ে চলে যায় মাঠের বাইরে।
বেঙ্গালুরুকে জিতিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পাওয়ার পর ওই ছক্কার কথা বলেন ডেভিড।
“(অনুশীলনে) আমরা ছাদের ওপরে বল পাঠানোর প্রতিযোগিতা করে থাকি। তখন অবশ্য এক প্রান্তের উইকেটগুলোতে খেলে থাকি আমরা। ম্যাচের সময় মাঝ উইকেট থেকে এরকম কিছু করতে পারা তাই সত্যিই সন্তুষ্টির।”
“জেমি (ওভারটন) তখন বেশ দ্রুতগতিতে বল করছিল। বল ছাদের ওপরে পাঠাতে এটাও সহায়তা করেছে। বেশ মজা পেয়েছি।”

রোববারের ম্যাচ শেষ করার ২০ ঘণ্টার মধ্যে নামতে হবে পরের খেলায়। কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সকে হারানোর পর এবার মুলতান সুলতান্সের সামনে রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ। ব্যস্ত এই সূচিতে তাই কিছুটা মজাই করে নিলেন মুলতান অধিনায়ক অ্যাশটন টার্নার।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে রোববার রাতের ম্যাচে কোয়েটার বিপক্ষে ৭ উইকেটে জিতেছে মুলতান। এই জয়ের পর কোনো ফুরসৎ নেই তাদের। সোমবার রাতেই পিন্ডিজের বিপক্ষে লড়তে হবে তাদের।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই ম্যাচ। পরদিন বিকেলে আবার মাঠে যেতে হবে, তাই মাঠ ছেড়ে যেন টিম হোটেলে যেতেই চান না টার্নার। বরং কাঁথা-বালিশ নিয়ে মাঠেই ঘুমিয়ে পড়া ভালো মনে করেন অস্ট্রেলিয়ান এই অধিনায়ক।
“দুই ম্যাচের মাঝে এত কম সময়। হয়তো আজ রাতে এখানেই কাঁথা-বালিশ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়তে হবে! তবে এটাই পেশাদার ক্রিকেটের বাস্তবতা। আমরা জানি, সূচি এমনই হয়।আমরা পরের ম্যাচে নতুন সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় আছি।”
কোয়েটার বিপক্ষে দাপুটে জয়ই পেয়েছে মুলতান। আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৬৬ রানের বেশি করতে পারেনি কোয়েটা। জবাবে সাহিবজাদা ফারহান, স্টিভেন স্মিথের ঝড়ে ১৫ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে যায় মুলতান।
দলের এমন পারফরম্যান্সে তৃপ্ত অধিনায়ক টার্নার।
“গত দুই ম্যাচের তুলনায় আজকের কন্ডিশন কিছুটা ভিন্ন ছিল। তবে আমরা এমন একটি পারফরম্যান্স খুঁজছিলাম যেখানে খেলার দুই দিকই একসঙ্গে ঠিকভাবে করতে পারি। আমার মনে হয়, আজ আমরা তিনটি বিভাগেই সেটা করতে পেরেছি-যা সত্যিই তৃপ্তিদায়ক।”
পাকিস্তান সুপার লিগে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচের তিনটি জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে মুলতান।