
বুড়ো হাড়ের ভেলকি দেখিয়ে নিয়মিতই এখনো দলের জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। গোল-অ্যাসিস্টে ইন্টার মায়ামিকে জেতানো আর্জেন্টাইন মহারতারকা হলেন এমএলএসের (মেজর লিগ সকার) অক্টোবরের সেরা ফুটবলার।
মৌসুমের শেষটায় দুর্দান্ত ছন্দে থাকা মেসি এ নিয়ে এমএলএসের ২০২৫ মৌসুমে তৃতীয়বারের মতো মাস সেরা হলেন। আর মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর পাঁচবার এই স্বাকৃতি পেয়েছেন তিনি।
এমএলএসে সদ্য শেষ হওয়া অক্টোবরে ইন্টার মায়ামির ১০ গোলে অবদান রাখেন মেসি। পাঁচ গোলের সঙ্গে সতীর্থদের দিয়ে করা আরও পাঁচটি গোল। সবশেষ ন্যাশভিল এসসির বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল যেন রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর পুরো মাসের প্রতিচ্ছবি। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেন তিনি।
আরও পড়ুন
| চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোল বৃষ্টির রাতে পিএসজি-আর্সেনাল-ইন্টারের ‘ভূমিধস’ জয় |
|
মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল করে গোল্ডেন বুটও নিজের করে নেন জাদুকরী মেসি। পুরো মৌসুমে ২৮ ম্যাচ খেলে ৪৫টি গোলে অবদান রেখেছেন ৩৮ বছর বয়সী মহাতারকা। ২৯ গোলের সঙ্গে ১৬টি অ্যাসিস্ট করে এমএলএসের ইতিহাসে এক মৌসুমে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলে অবদান রাখার রেকর্ড করেন তিনি।
রেকর্ডকে জীবন সঙ্গী বানিয়ে ফেলা মেসি আরও একগুচ্ছ মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। এমএলসে টানা দুই মৌসুমে ৩৬টির বেশি গোলে অবদান রাখা একমাত্র খেলোয়াড় তিনি। ২০২৪ মৌসুমে ২০ গোল ও ১৬ অ্যাসিস্ট করে তিনি জিতেছিলেন ল্যান্ডন ডোনোভান এমভিপি পুরস্কার।
এবার নিয়মিত মৌসুম শেষ হওয়ার পর এবার মেসিকে হাতছানি দিচ্ছে আরেকটি ইতিহাস। যুক্তরাষ্ট্রের লিগটির ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা দুই মৌসুমে টুর্নামেন্ট সেরা হতে পারেন মেসি।
No posts available.
১৪ মার্চ ২০২৬, ৮:৩৪ পিএম
১৪ মার্চ ২০২৬, ৭:৪৭ পিএম
১৪ মার্চ ২০২৬, ৫:১৭ পিএম

বার্সেলোনা সমর্থকদের জন্য সুখবর। দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার পর অবশেষে কাতালান ক্লাবটির মিডফিল্ডার মাঠে নামার সবুজ সংকেত পেলেন। গত বছরের আগস্টে হাঁটুতে চোট পান স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার। ২০৫ দিন পর আবার আগামীকাল লা লিগায় ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে সেভিয়ার বিপক্ষে দেখা যেতে পারে গাভিকে।
গত বছরের আগস্টের শেষ দিকে হাঁটুর চোটে পড়েন গাভি। সমস্যার সমাধানে আর্থ্রোস্কোপিক অস্ত্রপচার করতে হয়। সার্জারির সময় দেখা যায়, সমস্যা মূলত ধারণার চেয়ে বেশি গুরুতর, যার ফলে মিডফিল্ডারকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। শেষ পর্যন্ত ছয় মাসেরও বেশি সময় মাঠের বাইরে কাটিয়ে এবং পুনর্বাসন ও চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় কঠোর পরিশ্রমের পর, গাভি মাঠে ফিরতে সবুজ সংকেত পেয়েছেন।
গাভির মাঠে ফেরা নিয়ে বার্সেলোনা এক বিবৃতিতে বলেছে,
‘গাভি মেডিকেল অনুমোদন পেয়েছেন এবং আগামীকাল সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে খেলার জন্য প্রস্তুত।’
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে গাভিকে নিয়ে হান্সি ফ্লিক বলেন,
‘আমি খুশি যে সে ফিরেছে। আমাদের তার সঙ্গে ধাপে ধাপে এগোতে হবে। আমরা তাকে অনুশীলনে দেখেছি, এবং যা দেখেছি তা ভালো লেগেছে, তবে আমাদের তাকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে হবে… তার মানসিকতা দারুণ, সে নিজের শরীরের উপর বিশ্বাস রাখে, কীভাবে খেলতে পারে তা জানে… আমরা সবাই গাভিকে চিনি, আমি তার উদ্দীপনা পছন্দ করি, যা কিছু সে আমাদের দেয় সবই অনন্য।’
গাভি ইতিমধ্যে সম্প্রতি অ্যাথলেটি ক্লাব এবং নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে গুরুত্বর্পূণ ম্যাচেও দলের সঙ্গে করেছিলেন। মৌসুমের শেষ দিকে ২১ বছর বয়সী লা মাসিয়ান গ্র্যাজুয়েটকে ফিরে পাওয়া ফ্লিকের কাজ অনেকটাই সহজ করে দেবে। সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে অবশ্য তাঁর শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা কমই। তবে ফিটনেস বৃদ্ধির সঙ্গে ধীরে ধীরে ম্যাচে সময় বাড়ানো এবং মূল ভূমিকায় ফিরে আসতে পারবেন গাভি।
চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত লিগ শিরোপা জয়ের দৌড়ে বেশ এগিয়ে আছে বার্সেলোনা। শীর্ষে থাকা ফ্লিকের দলের পয়েন্ট ৬৭। ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে রিয়াল মাদ্রিদ।

লা লিগার রাউন্ড অব এইটিনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শনিবার রাতে এলচের মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ। টাইটেল রেসে নিজেদের জিইয়ে রাখতে মাস্ট উইন এই ম্যাচ। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগ মুহুর্তে জানা গেছে রাউল আসেনসিও চোটের খবর।
আলভারো কারেরাস, ডেভিড আলাবাসহ রিয়ালের নয় জন ফুটবলার চোটে। সেখানে নতুন করে নাম লেখালেন আসেনসিও। দলের এমন অবস্থা নিয়ে বেশ চিন্তিত কোচ আলভারো আরবেলোয়া।
লা লিগায় শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা থেকে ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে রিয়াল। আর চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর সেকেন্ড লেগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে বাঁচা-মরা ম্যাচ—এসবের আগে চোট সমস্যায় নাজেহাল লস ব্লাঙ্কোস শিবির।
একটার পর একটা ধাক্কায় উদ্বেগ বেড়ে গেছে রিয়াল শিবিরে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে কোচিং স্টাফের মধ্যেও দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এখন প্রায় আতঙ্কজনক—কারণ ভুল সিদ্ধান্ত নিলে দল আরও কঠিন অবস্থায় পড়ে যেতে পারে।
এই অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা নেন আরবেলোয়া। শুক্রবার অনুশীলনের সময় ড্রেসিংরুমে থাকা চার ফুটবলার—চুয়ামেনি, রুডিগার, ভালভার্দে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন তিনি।
এই বৈঠকের লক্ষ্য পরিষ্কার— এলচের বিপক্ষে নামানোর আগে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের শারীরিক অবস্থা জানা। আরবেলোয়া জানতে চেয়েছিলেন, রুডিগাররা কতটা ঝুঁকি নিতে পারবেন, নাকি সামনে কঠিন এক সপ্তাহের কথা ভেবে তাদের বিশ্রাম দেওয়াই ভালো হবে। এখন ভুল করার সুযোগ খুবই কম।
ম্যাচের আগে আরবেলোয়া বলেন,
“আমার কাছে এখন শুধু এমন খেলোয়াড়রাই আছে, যারা হাত তুলে বলছে তারা আরও একবার চেষ্টা করতে প্রস্তুত। তারা খুবই নিবেদিত এবং আমরা জানি এই ম্যাচটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।”
ড্রেসিংরুমে কোচ ঠিক এমন মনোভাবই দেখেছেন—সবাই দলকে সাহায্য করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং পরিস্থিতির গুরুত্বও বুঝছে। তবুও উদ্বেগ পুরোপুরি কাটছে না। কারণ আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে—চোটের তালিকা আরও বড় হয়ে যেতে পারে, আর দলে নতুন করে কেউ ছিটকে পড়লে পরিস্থিতি আরও নড়বড়ে হয়ে উঠতে পারে।

‘ট্রুথ সোশ্যালে’ বৃহস্পতিবার দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন,
‘ইরান জাতীয় ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত। কিন্তু তাদের নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করলে সেখানে থাকা তাদের জন্য উপযুক্ত হবে বলে আমি সত্যিই মনে করি না।’
ট্রুথ সোশ্যালে পোস্টের শুরুতে ইরান দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি ট্রাম্প ইরানিদের যুক্তরাষ্ট্রে না আসার পরামর্শ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এমন ব্ক্তব্য নিয়ে তীর্যক মন্তব্য করে ইরান।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় ইরান দল বলেছে,
“কেউ আমাদেরকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিতে পারবে না।”
ইরানের বিশ্বকাপের বয়কটের ডাক আসে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বক্তব্যের পরই। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ফিফা প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের দ্বন্দ্ব থাকলেও বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাধা নেই ইরানের। এরপরই দেশটির ক্রীড়া মন্ত্রী জানায়, ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেবে না ইরান।
ইরানের তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা স্পষ্ট করার পরই ট্রথ সোশ্যালে পোস্ট করেন ট্রাম্প। তার সেই পোস্টের পরই ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র এত বড় আয়োজনে দলগুলোর নিরাপত্তার দিতে সক্ষম নয় বলেও মনে করে তারা।
ইরান জানায়,
“বিশ্বকাপ একটি ঐতিহাসিক ও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট এবং এর নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা-কোনো একটি দেশ নয়। ইরান জাতীয় দল নিজেদের শক্তিমত্তা এবং ইরানের সাহসী সন্তানদের দ্বারা অর্জিত অনেক জয়ের মাধ্যমে বাছাইপর্ব পেরিয়ে প্রথম দলগুলোর একটি হিসেবে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে।”
দেশটি আরও জানায়,
“নিশ্চিতভাবেই কেউ ইরান জাতীয় দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিতে পারে না। একটি দলই কেবল বাদ যেতে পারে, যারা কেবল ‘স্বাগতিক’ এর মর্যাদা নিয়ে আছে, এমনকি এই বৈশ্বিক আসরে দলগুলোর নিরাপত্তা দিতে অপরাগ হওয়া সত্ত্বেও।”
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে হবে ৪৮ দলের এবারের বিশ্বকাপ। তবে, ‘জি’ গ্রুপে ইরানের তিনটি ম্যাচই হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রে।

যৌথভাবে শীর্ষে থেকে আজ বসুন্ধরা কিংস ও ফর্টিস এফসি মাঠে নামে। রোমাঞ্চকর ৫ গোলের লড়াইটা শেষ পর্যন্ত জিতে নেয় মারিও গোমেজের দল। যদিও ফর্টিসের বিপক্ষে জিততে ঘাম ঝরাতে হয়েছে লিগের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের।
দোরিয়েলতন গোমেজ নাসিমেন্তো হ্যাটট্রিক করে দলকে জেতান ৩-২ ব্যবধানে। জয়ের নায়ক ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড হলেও বদলি হিসেবে নামা তপু বর্মণ ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিমই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। প্রথমার্ধ শেষে দুই দল ছিল ১-১ সমতায়। সেখান থেকে ফাহিমের দুটি ক্রসে গোল করেন দোরিয়েলতন। বিশেষ করে ফর্টিস ২-২ সমতায় ফেরার পর ফাহিমের দারুণ এক অ্যাসিস্টে জয়ের মুখ দেখে কিংস।
খেলা শেষে তপু ও ফাহিম দুজনেই স্বীকার করেছেন তাঁরা নামতে যে খেলায় গতি পেয়েছে বসুন্ধরা কিংসের। ফাহিম বলেন,
‘মাঠে নামার আগে ভাই আমাকে বলছে, আমাদের এই ম্যাচ যা করার করতে হবে। আমার উপর ভাইয়ের বিশ্বাস ছিল, আমি ভাইয়ের উপর বিশ্বাস রাখছিলাম। ভাই রক্ষণে সামলেছে, আমি আক্রমণে কাজ করছি।’
ফর্টিসের বিপক্ষে আজকের জয়ে এককভাবে লিগ টেবিলের শীর্ষে এখন বসুন্ধরা কিংস। শিরোপা রেসে এগিয়ে গেল মারিও গোমেজের দল। তবে পথটা এখনো অনেক দূরের মনে করেন তপু,
‘এই ম্যাচটা নিয়ে অনেক একটা ভালো প্রস্তুতি হয়েছে। এই জয়টা বসুন্ধরা কিংসের জন্য খুবই জরুরি ছিল। মনে করি, ৮০ ভাগ আমাদেরকে এগিয়ে রাখবে। কারণ আমরা এখন শীর্ষে আছি এবং আমাদের যে লক্ষ্য এই ম্যাচটা নিয়ে ছিল সেটা আমরা অতিক্রম করেছি। সামনে একটা লং রেস, এই জায়গায় স্টেপ বাই স্টেপ যেতে হয়।’
এই ম্যাচে ফাহিমের পারফরম্যান্স মুগ্ধ করেছে তপুকে। খেলা শেষে সতীর্থকে নিয়ে বলেছেন,
‘ফাহিম দুর্দান্ত ছিল। আসলে যেটা আপনি বললেন সুপার সাব। আমি বলবো ফাহিম নামার পরে আমাদের স্পিড যে লেভেল ছিল সেটা আরেক ধাপ এগিয়ে গেছে। কারণ সে নামার পরে দুইটা অ্যাসিস্ট করেছে। এরকম খেলোয়াড় দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
আন্তর্জাতিক বিরতি এখন আবার লিগে। সোমবার থেকে শুরু জাতীয় দলের ক্যাম্প। সামনে ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রীতি ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই ম্যাচ। দুটি ম্যাচের জন্য প্রাথমিক স্কোয়াডে আছেন ফাহিম। এই দুই ম্যাচে জিততে চান জাতীয় দলের এই উইঙ্গার। বলেছেন,
‘যেহেতু আমাদের এখন এশিয়ান কোয়ালিফাইটা আমাদের হাত থেকে চলে গেছে তাই এখন আমরা চেষ্টা করবো দুইটা ম্যাচ উইন হয়ে যেন আমাদের আত্মবিশ্বাসটা আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারি।’

শীর্ষ দুই দল বসুন্ধরা কিংস ও ফর্টিস এফসির লড়াই। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ, কথার লড়াই, মাঠে যুদ্ধাংদেহী পরিবেশ। মাঠের বাইরে গ্যালারিতে দুই দলের সমর্থকদের চরম উত্তেজনা, হাতাহাতি; শেষ পর্যন্ত ৫ গোলের রোমাঞ্চ জিতল বসুন্ধরা কিংস।
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় শনিবার ফর্টিসকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে রবার্তো মারিও গোমেজের দল। হ্যাটট্রিক করেছেন কিংসের দোরিয়েলতন গোমেজ নাসিমেন্তো। ফর্টিসের হয়ে গোল দুটি করেন ওনিয়েকাচি ওকাফর ও অনন্ত তামাং।
এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে এককভাবে বসুন্ধরা কিংস। ১১ খেলায় এখন ২৪ পয়েন্ট লিগের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের। সমান ম্যাচে ২১ পয়েন্ট পেয়ে দুইয়ে ফর্টিস এফসি।
এদিন ম্যাচেে ১৮ মিনিটে গোলে ভাল চান্স নেয় কিংস। বা পাসের কর্নারের কাছ থেকে বক্সে ক্রস দেন হৃদয়, লাফিয়ে হেড নেন দোরিয়েলতন, কিন্তু বল চলে যায় পোস্টের উপর দিয়ে।
পরের মিনিটে মাঝ মাঠে ইমানুয়েল টনির কাছ থেকে বল কেড়ে নেন, এরপর তিনজনের মধ্য থেকে পেনাল্টি এরিয়ায় থ্রু পাস দেন পা ওর বাবু। ওকাফর কোনো ভুল করেননি, গোলকিপার জিকোর ডান পাস দিয়ে বল ঠেলে দেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড।
পিছিয়ে পড়ার ৪ মিনিট পর সমতায় ফেরার উপলক্ষ্য পেয়ে যায় বসুন্ধরা কিংস। ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকলে রাকিবকে ট্যাকল করতে গিয়ে ফেলে দেন ফর্টিসের ডিফেন্ডার আব্দুল্লাহ ওমর। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ২৭ মিনিটে সফল স্পটকিকে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান দোরিয়েলতন।
৩৩ মিনিটে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করে মাঠে। বসুন্ধরা কিংসে অর্ধে পা ওমর বাবুকে রিমনের ট্যাকল নিয়ে সূত্রপাত। তর্কে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের একাধিক খেলোয়াড়। বেঞ্চে থেকে এতে জড়িয়ে শেষে হলুদ কার্ড দেখেন ফর্টিসের ফাহাদ।
৪৫ মিনিটে চন্দন রায়ের নিচু শট বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে। খানিক পর একই শটের পুনরাবৃত্তি, এবারও চন্দনের শট লক্ষ্যে থাকেনি। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন কিংসের সোহেল রানা। ১-১ গোলেের ড্র মেনে বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর একাধিক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে কিংস। রক্ষণে তপু বর্মনের সঙ্গে লেফট উইংয়ে শুরু করেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। এই উইঙ্গার নামার পর বেশ কয়েকবার আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেন। সফলতা পান ৫২ মিনিটে। তাঁর দারুণ ক্রসেই আনমার্কে থাকা দোরিয়েলতন আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে দেন। ম্যাচে প্রথমবারের মতো লিডে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
৭৫ মিনিটে ম্যাচে ফেরে ফর্টিস। বদলি খেলোয়াড় দাও শেরিংয়ের নেওয়া কর্নার থেকে বক্সে গতিময় শটে জাল কাঁপান অনন্ত তামাং।
তিন মিনিট পরই ফের লিড নেয় বসুন্ধরা কিংস। আবারও গোলে অ্যাসিস্ট করেন ফাহিম। সানডের কাছ থেকে বল নিয়ে উপরে উঠে বক্সে ফাহিমের ক্রসে গোলকিপার সুজন পেরেরার মাথার ওপর দিয়ে জালে বল ঠেলে দেন দোরিয়েলতন। ম্যাচে সেইসঙ্গে হ্যাটট্রিকও পূর্ণ করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
৮৭ মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ হারায় ফর্টিস। গোলকিপার জিকোকে পরাস্ত করলেও শেষে ওকাফরের নিচু শট একটুর জন্য গড়িয়ে গড়িয়ে চলে যায় দূরের পোষ্ট ঘেঁষে। শেষ পর্যন্ত পাঁচ গোলের রোমাঞ্চ জিতল ফেডারেশন কাপের দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা।