২৩ জানুয়ারি ২০২৫, ৮:১৮ পিএম

একটা দল যখন ম্যাচের পর ম্যাচ জিততেই থাকে, তখন আড়ালে চলে যায় ছোট ছোট ভুলত্রুটিও। চলতি বিপিএলে টানা ৮ ম্যাচে রংপুর রাইডার্স যেভাবে ছুটছিল, তাতে মনে হচ্ছিল তারা হারতেই হয়ত ভুলে গেছে। সেই ধারার ইতি টেনে দিয়েছে দুর্বার রাজশাহী। ব্যাটে-বলে লড়াই জমাতে ব্যর্থ হয়েছে রংপুর। প্লে-অফ আগেই নিশ্চিত হয়ে গেলেও, এই পরাজয়কে সতর্কতা হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান।
আসরের অন্যতম শক্তিশালী দল রংপুর আসরের শুরু থেকেই খেলছে গোছানো ক্রিকেট। বিদেশী ক্রিকেটারদের নিয়ে খুব বেশি বদল আনেনি দলটি। দেশীদের মধ্যেও রাখা হচ্ছে ধারাবাহিকতা। সাথে সোহানের দুর্দান্ত নেতৃতে দেখা মেলে একের পর এক জয়ের। রাজশাহীর বিপক্ষে তাই ফেভারিট হিসেবেই নেমেছিল একবারের বিপিএল চ্যাম্পিয়নরা। তবে হারতে হয়েছে ২৪ রানে, যেখানে ফুটে উঠেছে কিছু দুর্বলতার জায়গা।
আরও পড়ুন
| রংপুরকে ভুলতে বসা হারের স্বাদ দিল রাজশাহী |
|
সোহান তাই এই ম্যাচকে দেখছেন শিক্ষা নেওয়ার ভালো একটি উপলক্ষ্য হিসেবেই। “পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই আমরা ভালো খেলেছি। এই হারটা আমাদের জন্য একটা সতর্কবার্তা। সবার সবার জায়গা থেকে এটা নিয়ে চিন্তা করতে পারবে। আমার কাছে মনে হয় ক্রিকেট জিনিসটাই এমন, ভালো ক্রিকেট খেলেই জিততে হবে। আপনি মাঠে নামবেন আর জিতবেন, এটা আশা করা যায় না। আপনি যেদিন ভালো খেলবেন, সেদিনই জিতবেন। আমরা কোথায় ভুল করেছি, আমার কাছে মনে হয় এখান থেকে শক্তিশালীভাবে ফিরে আসা যায়, এসব নিয়ে সবাই চিন্তা করবে।”
ম্যাচে বল হাতে রংপুর পারেনি শুরুর দিকে রাজশাহীর ব্যাটারদের দ্রুত রান তোলার গতিতে লাগাম দিতে। এনামুল হক বিজয় কিছুটা ধীরলয়ে ব্যাটিং করলেও সাব্বির হোসেনের ৩৯ রানের ক্যামিওতে পাওয়ার প্লেতে ভালো শুরু পায় দলটি। ইয়াসির আলির ফিফটির পর শেষ পাঁচ ওভারে ঘুরে দাঁড়ালেও টার্গেট দাঁড়ায় ১৭১। ব্যাট হাতেও প্রথম ছয় ওভারে সেভাবে রান করতে পারেনি রংপুর, যা চাপ বাড়ায় পরের দিকে।
দুই পাওয়ার প্লেতে ভালো না করাই হারের কারণ বলে মনে করেন সোহান।
“আমার কাছে মনে হয় পাওয়ার প্লেতে আমাদের শুরুটা ভালো হয়নি। উইকেট একটু ট্রিকি ছিল। তারপরও, আমরা কিছু রান বেশি দিয়ে দিয়েছি। হয়ত ১৫ ওভারের পর আমরা কামব্যাক করেছি, তবে রান কিছু বেশি হয়ে গেছে। একইসাথে, ব্যাটিংয়েও পাওয়ার প্লে আমাদের ভালো যায়নি। টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং বলেন বা বোলিং, পাওয়ার প্লে খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর এই দুইটাই আমাদের বিপক্ষে গেছে।”
No posts available.
২৩ মার্চ ২০২৬, ৪:৫০ পিএম
২২ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম

আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডসের (ডব্লিউসিএল) তৃতীয় সংস্করণে অংশ নিতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস’ দল। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, নতুন মৌসুমে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে টুর্নামেন্টের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
ডব্লিউসিএলের তৃতীয় সংস্করণে বাংলাদেশ যোগ দেওয়ায় এখন প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে সাতটি দেশের দল। এর আগে থেকেই এই টুর্নামেন্টে খেলছে ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। আয়োজকদের মতে, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি ২০২৬ মৌসুমকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
অবসরপ্রাপ্ত তারকা ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজিত এই লিগ এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। টুর্নামেন্টটিতে খেলেছেন যুবরাজ সিং, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ব্রেট লি, মঈন আলি, মোহাম্মদ হাফিজ ও ক্রিস গেইলসহ ক্রিকেটের অনেক কিংবদন্তি।
ডব্লিউসিএলকে আয়োজকেরা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক দর্শকপ্রিয় ক্রিকেট লিগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রথম আসরে ৩২ কোটি ৫০ লাখের বেশি দর্শক খেলা উপভোগ করেন। দ্বিতীয় আসরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ কোটি ৩১ লাখে, যা লিগটির বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার দ্রুত বিস্তারের প্রমাণ।
ডব্লিউসিএলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হর্ষিত তোমর বলেন, গত দুই বছরে সমর্থকদের ধারাবাহিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বাংলাদেশ দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নসের পক্ষে জেসিইউকে স্পোর্টস লিমিটেডের পরিচালক ইউনুস হাসান এই উদ্যোগকে দেশের ভক্তদের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা সমর্থকদের সঙ্গে ক্রিকেটের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে এই অংশগ্রহণ।
বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস দলের অংশীদার ইশতিয়াক সাদেক বলেন,
‘ডব্লিউসিএলে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নসের অংশ হতে পারা আমাদের জন্য গর্বের। এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে, কারণ এই প্রতিযোগিতাকে কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমরা বাংলাদেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের নিয়ে একটি শক্তিশালী স্কোয়াড গঠন করব।‘
বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে ডব্লিউসিএলের তৃতীয় আসর আরো প্রতিযোগিতাপূর্ণ সংস্করণ হতে পারে।
সবশেষ ২০২৫ ডব্লিউসিএলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা চ্যাম্পিয়নস দল। ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে হওয়া ফাইনালে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নসকে ৯ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে এবি ডি ভিলিয়ার্সের নেতৃত্বাধীন দলটি।

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) এবারের আসর শুরু হবে আগামী ২৬ মার্চ থেকে। যেখানে দল পেয়েছেন বাংলাদেশের ৬ ক্রিকেটার। তাদের মধ্যে আজ সকালে চারজন দেশ ছেড়েছেন। তারা হলেন— মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, পারভেজ হোসেন ইমন ও নাহিদ রানা। রিশাদ হোসেন ও তানজিদ তামিম যাবেন পরে।
এবার সরাসরি চুক্তিতে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে ভিড়িয়েছিল লাহোর কালান্দার্স। এরপর নিলামে দল পান রিশাদ, নাহিদ ও ইমন।
পরবর্তীতে শরিফুল এবং তামিমও প্রথমবারের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটিতে ডাক পেয়েছেন। সব ঠিক থাকলে নাহিদের সঙ্গে পেশোয়ার জালমিতে দেখা যাবে শরিফুল এবং তামিমকে। এ ছাড়া মুস্তাফিজ ও ইমন লাহোর কালান্দার্সে; আর রিশাদ খেলবেন রাওয়ালপিন্ডির হয়ে।
এবার পিএসএলের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবগুলো ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল টি-স্পোর্টস।

১৯ বছর ৫ দিন আগের কথা। ২০০৭ বিশ্বকাপে ত্রিনিদাদে ভারত বধ কাব্য যেদিন (১৭ মার্চ) রচনা করেছে বাংলাদেশ, তার পরের দিন (১৮ মার্চ) ত্রিনিদাদের হোটেলে ঘুম থেকে উঠে পেয়েছি এক দুঃসংবাদ। জ্যামাইকার পেগাসাস হোটেল রুমে পাওয়া গেছে পাকিস্তানের হেড কোচ বব উলমারের মৃতদেহ। ত্রিনিদাদ থেকে জ্যামাইকা আইল্যান্ডের দূরত্ব আকাশপথে ১৯৫০ কিলোমিটার। আকাশপথে এই পথ পাড়ি দিতে লেগে যায় প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা। দৈনিক ইনকিলাব থেকে বিশ্বকাপ ক্রিকেট কভার করতে গিয়েছিলাম। অফিস থেকে টেলিফোন করে বব উলমারের আকষ্মিক মৃত্যুর আপডেট সংবাদ পাঠানোর জন্য বলা হয়েছিল। ক্যারিবিয়ান সব আইল্যান্ডে বিশ্বকাপ কভার করতে ক্যারিকম স্টিকার ভিসা পাসপোর্টে লাগিয়েছিলাম। চাইলেই ভিসা না নিয়ে ত্রিনিদাদ থেকে জ্যামাইকা যেতে পারতাম। কিন্তু ত্রিনিদাদে ২১ মার্চ বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, তাই যেতে পারিনি।
বব উলমারকে কাছ থেকে প্রথম দেখেছি ১৯৯৮ সালে, ঢাকায়। আইসিসি নক আউট বিশ্বকাপে ( পরবর্তীতে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হিসেবে স্বীকৃত) দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলকে নিয়ে তার কোচিং দেখেছি। ম্যাচ চলাকালে ঢাকা স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমের বাইরে বসে সারাক্ষণ ল্যাপটপ সামনে রেখে দুই চোখ মাঠ এবং ল্যাপটপে রেখেছেন, তা খুব কাছ থেকে দেখেছি। ক্রিকেট কোচিংয়ে কম্পিউটার এনালিস্টের প্রয়োগ কতোটা জরুরি, তা দেখিয়েছেন বব উলমার। দক্ষিণ আফ্রিকার সে সময়ের অধিনায়ক হ্যানসি ক্রোনিয়ের সঙ্গে তাঁর ছিল দারুণ সম্পর্ক। এই জুটিই দক্ষিণ আফ্রিকাকে উপহার দিয়েছে আইসিসির মেগা কোনো ইভেন্টের (আইসিসি নক আউট বিশ্বকাপ) প্রথম ট্রফি।
কোচিংয়ে শুধু ল্যাপটপের ব্যবহারই নয়, কিংবা কম্পিউটার এনালিস্টের প্রয়োগই নয়, ব্যাটিংয়ে রিভার্স সুইপের কৌশলটাও শিখিয়েছেন তিনি। উইকেট কিপারকে ক্ষীপ্র করে তুলতে ফুটবলের গোলকিপিং আইডিয়াও প্রয়োগ করেছেন। ইংলিশ হয়েও বাবা ক্লারেন্স উলমার অবিভক্ত বৃটিশ ভারতের রনজি ট্রফিতে খেলেছেন উত্তর প্রদেশের হয়ে। বাবাকে দেখে শৈশবে ক্রিকেট ব্যাট-বল নিয়ে নেমে খেলেছেন ৩৫০টি প্রথম শ্রেনির ম্যাচ, ১৯ টেস্ট, ৬ ওডিআই।
কানপুরে ১৯৪৮ সালে জন্ম নেয়া বব উলমার মাত্র ১০ বছর বয়সে দেখেছেন প্রথম শ্রেনির ক্রিকেটে হানিফ মোহাম্মদের ৪৯৯। ৩৫ বছর পর ওয়ারউইকশায়ারের কোচ হয়ে ড্রেসিংরুমে বসে দেখেছেন ডারহামের বিপক্ষে প্রিয় শিষ্য ব্রায়ান লারার হার না মানা ৫০১।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কোচিংয়ের শুরুটা তাঁর দক্ষিণ আফ্রিকায়, ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯। এই সময়ে আইসিসি নক আউট বিশ্বকাপ ছাড়াও দ্বি-পাক্ষিক সিরিজগুলোতে ছিল তার বলার মতো সাফল্য। টানা ১৫টি টেস্ট সিরিজের মধ্যে ১০টিতে জয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে উঠিয়ে এনেছিলেন অন্য উচ্চতায়। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের হয়ে কোচিংয়ে ৫ বছরের সফল অধ্যায় শেষে পেয়েছিলেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলের কোচের অফার। তবে সে অফার গ্রহন না করে কিছুদিন বিশ্রাম নিয়ে যোগ দিয়েছিলেন আইসিসিতে, উন্নয়নশীল ক্রিকেট দেশসমূহের উন্নয়নে করেছেন কাজ। ২০০৪ সালে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের হেড কোচের পদ থেকে জাভেদ মিয়াঁদাদ চাকুরিচ্যুত হলে তার স্থলে বব উলমারকে দেয়া হয় কোচের দায়িত্ব। প্রথম তিন বছর সেই দায়িত্বে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে দিয়েছেন একটার পর একটা সাফল্য। তবে বিশ্বকাপে এসে পাকিস্তান হয়ে গেছে এলোমেলো। ইনজামাম উল হক-এর নেতৃত্বে পাকিস্তান বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৫৪ রানে হেরে। পরের ম্যাচটি ছিল গ্রুপ রাউন্ডের বাধা পেরোনোর জন্য ডু অর ডাই। অথচ, পুঁচকে আয়ারল্যান্ডের কাছে আপসেটের শিকার হতে হলো পাকিস্তানকে। ৩ উইকেটে হেরে গেল পাকিস্তান। ত্রিনিদাদে বসে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় দেখেছি যেদিন, সেদিনই আয়ারল্যান্ডের কাছে পাকিস্তানের অঘটনের খবর পেলাম। বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানের বিদায় হয়ে গেছে। ৪দিন পর আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার ম্যাচে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের এমন বিপর্যয় মেনে নিতে পারেননি বব উলমার। ম্যাচে হেরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ল্যাপটপে দিয়েছিলেন প্রচণ্ড এক চাপড়। ম্যাচ হারের পর পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের ঝাঁঝালো মন্তব্য কোচ বব উলমারকে তুলেছে অতিষ্ঠ করে। পাকিস্তানের কোচের দায়িত্বে আর রাখা হবে না, তা আঁচ করতে পেরেছেন সেদিনই। ব্যর্থতা এবং অপবাদ নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের কোচিং অধ্যায় শেষ করতে হবে, তা মানতে পারছিলেন না। চারপাশের এতোসব ঘটনায় এতোটাই ভেঙ্গে পড়েছিলেন যে, উলমার সেই চাপটা নিতে পারেননি। টিম হোটেলে ঘুমের ঘোরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন ক্রিকেটে আধুনিক কোচিং পদ্ধতির প্রবর্তক বব উলমার। সকালে ব্রেকফাস্ট টেবিলে কোচকে যায়নি দেখা। সকাল ১১টায় হাউজকিপিংয়ের কর্মীরা রুম পরিষ্কার করতে গিয়ে রুম লকড দেখে দরজার তালা ভেঙ্গে দেখেছেন বিছানায় বব উলমারের নিথর দেহ। জ্যামাইকা থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিকসমূহে বব উলমারের এই মৃত্যুকে বলা হয়েছে অস্বাভাবিক। মৃত্যু না হত্যা, এমন প্রশ্নও উঠেছে মিডিয়ায়। ত্রিনিদাদের ইংরেজি দৈনিকের স্পোর্টস পেজে গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়েছে সেসব নিউজ।
তাঁর মৃত্যুর চারদিন পর জ্যামাইকার পুলিশ নিশ্চিত তদন্তে নামে। ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মার্ক শিল্ডস এই তদন্তের নেতৃত্ব দেন।প্যাথলজিস্ট এরে সেশাইয়ার একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়, যেখানে বলা হয়েছিল যে উলমারকে হাত দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
বব উলমারের মৃত্যু রহস্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে প্রায় তিন মাস। ২০০৭ সালের ১২ জুন, জ্যামাইকা কনস্ট্যাবুলারি ফোর্সের কমিশনার লুসিয়াস থমাস উলমার স্বাভাবিক কারণে মারা গেছেন বলে রিপোর্ট দিলে গবেষণা থেমে যায়।
বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নয়নে কাজ করেছেন বব উলমার। আইসিসির হাই পারফরমেন্স ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন ৩ বছর (২০০১-৩)। ওই সময়ে দুবার বাংলাদেশ সফরে এসেছেন আইসিসির বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে। কোনোবারই এক সপ্তাহের বেশি থাকেননি ঢাকায়। সে কারণেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের বন্ধু বব উলমারকে নিয়ে স্মৃতিচারণ জানতে ত্রিনিদাদে অবস্থানরত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন এবং ওপেনার শাহরিয়ার নাফিসের ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম। দুজনেই কাছ থেকে দেখা উলমার সম্পর্কে অনেক কিছু বলেছেন। উলমারের কোচিং দর্শন-নুতন নুতন টেকনিকের উদ্ভাবন। তা বলেছেন দুজনই। শাহরিয়ার নাফিসের ব্যাটিংয়ের বেসিক টেকনিকে চেঞ্জ এনেছেন, তাতে শাহরিয়ার নাফিস হয়েছেন উপকৃত। উলমারকে স্মরণ করতে যেয়ে এমনটাই বলেছেন এই বাঁ হাতি ওপেনার। বব উলমারকে নিয়ে হাবিবুল বাশার সুমন এবং শাহরিয়ার নাফিসের বক্তব্য নিয়ে একটা রিপোর্ট দাঁড় করেছিলাম। ২০০০৭ সালের ২০ মার্চ দৈনিক ইনকিলাবের স্পোর্টস পেজে ‘একজন বন্ধু হারালো বাংলাদেশ’-এই শিরোনামে ত্রিনিদাদ থেকে আমার প্রেরিত নিউজটি ছাপা হয়েছিল।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দর্শকবিহীন গ্যালারিতে শুরু হতে যাচ্ছে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ১১তম সংস্করণ। আজ এ তথ্য জানিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি।
পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী এবারের আসরের সব ম্যাচ হবে শুধু দুই শহর—করাচি ও লাহোরে। শুরুতে ছয়টি ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কমিয়ে আনা হয়েছে। তবে আগামী সংস্করণে পেশোয়ারে আরও ম্যাচ আয়োজনের আশা প্রকাশ করেছেন নাকভি।
আগামী ২৬ মার্চ শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টে অংশ নেবে আটটি দল, ম্যাচ হবে মোট ৪৪টি। শুরুতে করাচি, লাহোর, রাওয়ালপিন্ডি, মুলতান, পেশোয়ার ও ফয়সালাবাদ—এই ছয় শহরে ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল।
নাকভি জানান, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পরামর্শের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি কত দিন স্থায়ী হবে, তা অনিশ্চিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, দর্শক মাঠে না থাকলে বিভিন্ন শহরে ম্যাচ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
এদিকে আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত স্টেডিয়ামে দর্শক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও নিশ্চিত করেছেন পিসিবি চেয়ারম্যান।
দর্শক না থাকায় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেবে পিসিবি। ইতিমধ্যে যারা টিকিট কিনেছেন, তাঁদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন নাকভি।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও দর্শকদের জন্য গ্যালারি খুলে দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়রা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পাকিস্তানে আসতে শুরু করবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সংকোচনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। তবে নকভির দাবি, পাকিস্তানে সরাসরি কোনো নিরাপত্তা সংকট নেই; এটি আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রভাব।
পিসিবি আরও জানিয়েছে, যারা চুক্তি ভেঙে অন্য লিগে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বোর্ডের খণ্ডকালীন কর্মীদের অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তার মাঝেই দর্শকশূন্য গ্যালারিতে মাঠে গড়াচ্ছে পাকিস্তানের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগের নতুন আসর।

সিরিজে টিকে থাকতে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না দক্ষিণ আফ্রিকার। এমন সমীকরণে মাঠে নেমে আজ নিউ জিল্যান্ডকে ১৯ রানে হারিয়েছে প্রোটিয়ারা। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এখন ২-২ সমতা।
দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ১৬৫ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে ১৮.৫ ওভারে ১৪৫ রানেই গুটিয়ে যায় কিউইদের ইনিংস।
ওয়েলিংটনের স্কাই স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন প্রোটিয়া অধিনায়ক মহারাজ। শুরুতে উইয়ান মুল্ডারের (০) দ্রুত বিদায়ে বিপাকে পড়ে সফরকারীরা। আরেক ওপেনার টনি ডি জর্জিকে নিয়ে ৫৬ বলে ৮১ রানের জুটি গড়েন তিনে নামা কনর এস্টারহুইজেন। জর্জি ২৩ রানে ফিরলেও ৩৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন এস্টারহুইজেন। তাঁর ৩৬ বলে ৫৭ রানের ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও তিনটি ছক্কা।
দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮ রান আসে রুবিন হারম্যানের ব্যাট থেকে। শেষ দিকে হারম্যান ও জর্জ লিন্ডের ১৮ রানের জুটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৬৪ রান।
নিউ জিল্যান্ডের হয়ে কাইল জেমিসন ২৯ রানে ২ উইকেট নেন। বেন সিয়ার্স, জাক ফাউলকস ও কোল ম্যাককনচির শিকার ১টি করে উইকেট।
জবাব দিতে নেমে ৯ রান করে ফিরে যান ডেভন কনওয়ের পরিবর্তে কিউই জার্সিতে প্রথমবারের মতো খেলতে নামা ক্যাটেন ক্লার্ক। আরেক ওপেনার টিম রবিনসন শুরুটা দারুণ করেছিলেন। তাঁর ৩২ রানে বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা।
ড্যান ক্লেভার (২৬) ও নিক কেলি (১৯) চেষ্টা করলেও দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে কিউই মিডল অর্ডার। শেষ দিকে কাইল জেমিসন ও জশ ক্লার্কসন চেষ্টা করলেও কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।
জেরাল্ড কোয়েটজি ৩১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে কিউইদের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। ওটনিয়েল বার্টম্যান, প্রেনেলান সুব্রায়েন ও মহারাজ ২ টি করে উইকেট তুলে নেন।
হাফ সেঞ্চুরি ও ২ টি ক্যাচ ধরে ম্যাচসেরা প্রোটিয়া উইকেট কিপার ব্যাটার এস্টারহুইজেন। ক্রাইস্টচার্চে বুধবার সিরিজ নির্ধারণী পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে লড়বে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউ জিল্যান্ড।