
ক্লাব ক্যারিয়ারের বিচারে অনেকেই আঁতোয়ান গ্রিজমানকে অভাগা বলেন। বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি তারকা ফরোয়ার্ড দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কখনও লিগ শিরোপা জয়ের স্বাক্ষী হতে পারেননি। ক্লাব পাল্টেও ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে পারেননি। ইউরোপীয় ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে থাকা গ্রিজমান এখন শেষটা রাঙানোর অপেক্ষায় আছেন। আর শেষ অংশে এসে তাঁর সামনে সাবেক ক্লাব বার্সেলোনা।
চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে আজ বার্সেলোনার বিপক্ষে মাঠে নামছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। ইউরোপ সেরার মুকুট কখনও পায়নি আতলেতিকো, একইসঙ্গে এই শিরোপা জেতা হয়নি গ্রিজমানেরও। মৌসুম শেষেই ইউরোপ ছেড়ে এমএলএসের দল অরলান্ডো সিটিতে পাড়ি জমাবেন তিনি। তাতে ক্লাব এবং নিজের জন্য প্রথমবার এই শিরোপা জেতার অভিজ্ঞতা নিতে শেষবারের জন্যই হয়তো দেখা যাবে গ্রিজমানকে।
আরও পড়ুন
| পিএসজি ম্যাচেই ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যেতে পারে স্লটের |
|
ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যূতে বার্সার সবচেয়ে বড় শক্তি লামিনে ইয়ামালই। কাতালান ক্লাবটির আক্রমণভাগে রাফিনিয়ার অনুপস্থিতি স্প্যানিশ উইঙ্গারের দায়িত্ব দ্বিগুণ করেছে। দায়িত্বের ভারে অবশ্য মোটেও টলতে দেখা যায় না ইয়ামালকে। তিনদিন আগেই আতলেতিকোকে তাদেরই মাঠে নাচিয়ে ছেড়েছেন। গোল-অ্যাসিস্ট না পেলেও একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার। এবার ঘরের মাঠে দিয়েগো সিমিওনের দলের বিপক্ষে আরও আগ্রাসী ইয়ামালকেই হয়তো দেখতে চাইবেন সমর্থকরা।
সাম্প্রতিক ছন্দ দুর্দান্ত হলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে আতলেতিকোর সঙ্গে স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস আছে বার্সেলোনার। এই প্রতিযোগিতায় দুটি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বার্সাকে বিদায় করেছে আতলেতিকো। ২০১৩-১৪ মৌসুমে শেষ আটে ন্যু ক্যাম্পের দল ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল, এবং ২০১৫-১৬ মৌসুমে ৩-২ ব্যবধানে।
সব মিলিয়ে বার্সা তাদের শেষ চারটি ইউরোপীয় ম্যাচের মধ্যে আতলেতিকোর বিপক্ষে মাত্র একটি জয় পেয়েছে, মাত্র তিনটি গোল করেছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে অবশ্য সবশেষ ছয় ম্যাচের পাঁচটিই জিতেছে বার্সেলোনা।
চলতি মৌসুমে এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে বার্সা-আতলেতিকো। লিগে দু’বার কোপা দেল’রেতে দুইবারের পর এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে। তাতে হান্সি ফ্লিকের বার্সার দূর্বল জায়গা ভালো করেই জানা আছে সিমিওনের। বার্সাকে কিভাবে আঘাত করতে হয় সেটা নাকি ভালো করেই জানা আছে আতলেতিকো মাদ্রিদ কোচের।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে সিমিওনে বলেন, ‘তারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। আমরা তাদের সক্ষমতা জানি, আর ২৩ ম্যাচের মধ্যে তারা মাত্র একটি হেরেছে। আমরা এখানে লড়াই করার জন্য এসেছি, এবং এমন আমরা এমন জায়গায় টেনে নিয়ে যাব, যেখানে আমরা আঘাত করতে পারি।’
আরও পড়ুন
| কাই হাভার্টজের গোলে মান বাঁচাল আর্সেনাল |
|
বার্সেলোনার দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি আমরা তা আগামীকাল সকাল দেখাতে পারব, আর মাঠে তা দৃশ্যমান হবে। আমরা জানি আমাদের বিপরীতে কে আছে। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, আর কে আমাদের পথে দাঁড়াচ্ছে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়।’
ম্যাচের আগে সিমিওনের সঙ্গে কথার লড়াইয়ে জড়াতে আপত্তি ফ্লিকের। কেবল নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিতে চান জার্মান এই কোচ, ‘একমাত্র যে ব্যাপারটায় আমাদের মনোযোগ দেওয়া দরকার তা হলো, আমরা মাঠে কী অর্জন করতে পারি। নিজেরা যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব, এর বাইরের কোনো বিষয় নিয়ে আমি ভাবতে চাই না।’
No posts available.
৮ এপ্রিল ২০২৬, ৬:০৫ পিএম
৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫:২৫ পিএম

২০২৫-২৬ মৌসুমে দু’বার করে লা লিগা ও কোপা দেল’রেতে মুখোমুখি হওয়ার পর এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদের প্রতিপক্ষ হচ্ছে বার্সেলোনা। বুধবার ক্যাম্প ন্যুয়ে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে দিয়েগো সিমিওনের দলকে আতিথ্য দিচ্ছে বার্সেলোনা।
সব মিলিয়ে বার্সা তাদের শেষ চারটি ইউরোপীয় ম্যাচের মধ্যে আতলেতিকোর বিপক্ষে মাত্র একটি জয় পেয়েছে। তবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে অবশ্য সবশেষ ছয় ম্যাচের পাঁচটিই জিতেছে বার্সেলোনা। তবে হাই ভোল্টেজ এই ম্যাচের আগে কিছুটা চিন্তিত ও দ্বিধাগ্রস্ত হান্সি ফ্লিক।
ফ্লিক আগে থেকেই জানতেন আতলেতিকোর বিপক্ষে আন্দ্রিয়াস ক্রিস্টেনসেন, ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং ও রাফিনিয়াকে পাওয়া যাবে না। এখন মার্ক বার্নালের উপস্থিতি নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শনিবার লা লিগার ম্যাচে আতলেতিকোর বিপক্ষে খেলার সময় অ্যাঙ্কেলে চোট পান বার্নাল। রোনালদ আরাউহোকে নিয়েও চিন্তা বাড়ে। আশার কথা উরুগুয়ান ডিফেন্ডারকে দেখা যাবে শুরুর একাদশে।
দলে চোট সমস্যা থাকলেও ফ্লিক মনেকরেন, তাদের মনোযোগ থাকবে ম্যাচের দিকে। জার্মানির এই কোচ বলেন, ‘একমাত্র যে ব্যাপারটায় আমাদের মনোযোগ দেওয়া দরকার তা হলো, আমরা মাঠে কী অর্জন করতে পারি। নিজেরা যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব, এর বাইরের কোনো বিষয় নিয়ে আমি ভাবতে চাই না।’
বার্সেলোনার চূড়ান্ত স্কোয়াড:
জোয়াও কানসেলো, আলেহান্দ্রো বালদে, রোনালদ আরাউহো, পাও কুবার্সি, গাভি, ফেরান তোরেস, পেদ্রি, রবার্ট লেভানডফস্কি, লামিন ইয়ামাল, জোয়ান গার্সিয়া, মার্কাস রাশফোর্ড, ফেরমিন লোপেজ, মার্ক কাসাদো, জেরার্দ মার্তিন, রুনি বারদগজি, দানি ওলমো, জুলস কুন্দে, এরিক গার্সিয়া, ভইচেখ শেজনি, দিয়েগো, কোর্তেস, জাভি এসপার্ট ও টমি।

চ্যাম্পিয়নস লিগের মঙ্গলবার রাতটি রিয়াল মাদ্রিদের জন্য সুখকর ছিল না। ইউরোপের সর্বোচ্চ ১৫ বার চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ ২০২৫-২৬ মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ১-২ গোল ব্যবধানে হেরেছে। পিছিয়ে থেকেই আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যরা দ্বিতীয় লেগে আলিয়াঞ্জ এরেনায় খেলতে যাবে।
ব্যর্থতার ম্যাচে রিয়ালের বড় সান্ত্বনা কিলিয়ান এমবাপের গোল। মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রায় ৬ ম্যাচ গোলহীন থাকলেও, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এমবাপে শূন্যতা ভাঙেন। চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০ ম্যাচে ১৪ গোল করে অসাধারণ মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।
ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় এক মৌসুমে ১৪ বা তার বেশি গোল করা সাতজন ফুটবলারদের একজন এখন এমবাপে। চ্যাম্পিয়নস লিগের এক মৌসুমে এখন পর্যন্ত হোসে আলতাফিনি, রুড ভ্যান নিস্টলরয়, লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, রবার্ট লেভানডফস্কি, করিম বেনজেমা এক মৌসুমে ১৪ বা তার চেয়ে বেশি গোল করেছেন।
রিয়াল মাদ্রিদের তৃতীয় তারকা হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন এমবাপে। আল নাসর তারকা রোনালদো এক মৌসুমে ১৪ বা তার বেশি গোল করেছেন তিনবার। ২০১৩-১৪ মৌসুমে রিয়ালের জার্সিতে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ১৭ গোল করেন সিআরসেভেন।
বায়ার্নকে হারিয়ে রিয়াল যদি সেমিফাইনাল পা রাখে এবং ফাইনালে পৌঁছে, তবে আরও চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন এমবাপে। ম্যাচগুলোতে গোল দেখা পেলে পর্তুগিজ সুপারস্টার রোনালদোকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন তিনি। আর মাত্র তিনটি গোল হলেই চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলস্কোরের নামটি হবে এমবাপের।

প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি) ম্যানেজার লুইস এনরিক বলেছেন, চ্যাম্পিয়নস লিগে তার দলকে ফেভারিট হিসেবেই দেখছেন অনেকেই—এটা মোটেও উচিত নয়। বুধবার পার্ক দ্য প্রিন্সেসে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে লিভারপুলের মুখোমুখির আগে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
২০২৪-২৫ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল। অথচ এবার তারা টাইটেল রেসে পিছিয়ে। লিগে অল রেডসদের অবস্থান পঞ্চম স্থানে। আর চ্যাম্পিয়নস লিগেও খুঁড়াতে খুঁড়াতে উঠেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। মৌসুমে সব প্রতিযোগিতায় মোট ১৫ বার হেরেছে আর্নে স্লটের দল। এক মৌসুমে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরাজয় এটি। এর আগে ২০১৪-১৫ মৌসুমে ১৮ ম্যাচ হেরেছিল লিভারপুল।
লিভারপুলের বর্তমান অবস্থানের কারণেই পিএসজিকেই এগিয়ে রাখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। তবে লুইস এনরিকে মনে করেন, আজকের প্রতিযোগীতা কঠিনই হতে যাচ্ছে। ম্যাচ পূববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “লিভারপুলের মতো দলের সঙ্গে খেলা সবসময় সেমিফাইনালে পৌঁছাতে চাই; আমরা জানি এটি কতটা কঠিন হবে, তবে আমরা খুব উৎসাহী।”
এই ম্যাচটি গত মৌসুমের রাউন্ড-অফ-১৬-এর পুনরাবৃত্তি। সে সময় লিভারপুলকে পেনাল্টিতে হারিয়ে পরের রাউন্ডে উঠেছিল পিএসজি। স্প্যানিশ কোচ বলেন, “গত বছর সবাই বলেছিল লিভারপুল ফেভারিট, কিন্তু পিএসজি এগিয়ে গেল।’’
স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইজ সোমবার ইনজুরির কারণে দলের সঙ্গে অনুশীলনে অংশ নেননি। তবে ফরাসি উইঙ্গার ব্র্যাডলি বারকোলা চোখে আঙুলে সমস্যা কাটিয়ে অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন।

চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ২-১ গোলে হেরে বেশ অস্বস্তি রিয়াল মাদ্রিদ। কারণ দ্বিতীয় লেগে বাভারিয়ানদের দূর্গ আলিয়াঞ্জ এরেনায় ফেরার কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হবে লস ব্লাঙ্কোসদের।
১৯৭০-৭১ মৌসুমের পর কখনোই নিজেদের মাঠে নকআউট পর্বের প্রথম লেগ হেরে পরের রাউন্ডে যেতে পারেনি রিয়াল। বায়ার্নের বিপক্ষে ম্যাচ জিততে হলে আলভারো আরবেলোয়ার দলকে ফেরাতে হবে প্রায় ৫৬ বছর আগের স্মৃতি।
১৯৭০ সালের অক্টোবরে সবশেষ ইউরোপিয়ান কাপ উইনার্স কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে অস্ট্রিয়ান ক্লাব ওয়াকার ইনসব্রুকের কাছে ঘরের মাঠে ১-০ গোলে হেরেছিল রিয়াল। ফিরতি লেগের ম্যাচে ২-০ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখায় লস ব্লাঙ্কোসরা।
আরও পড়ুন
| চল্লিশেও চালশে নয়্যার, জানালেন পারফরম্যান্সের ‘সিক্রেট’ |
|
এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ছয়বার বার্নাব্যুতে প্রথম লেগে হারের মুখ দেখেছে রিয়াল। কোনোবারই ঘুরে দাঁড়িয়ে পরের রাউন্ডে যেতে পারেনি তারা। সবশেষ ২০১৯-২০ চ্যাম্পিয়নস লিগ মৌসুমে ঘরের মাঠে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ১-২ গোলে হারে লিগে ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা। দুই লেগ মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত সিটি ৪-২ ব্যবধানে জয়ী হয়।
রিয়ালকে সরাসরি সেমিফাইনালে যেতে হলে ফিরতি লেগে অন্তত ২ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে। তবে বায়ার্নের মাঠের পরিসংখ্যান কথা বলছেনা আরবেলোয়ার দলের পক্ষে। ২০২৪ সালের মার্চের পর থেকে নিজেদের মাঠে দুই গোলের ব্যবধানে হারেনি ভিনসেন্ট কোম্পানির দল।
চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো বড় মঞ্চে অসম্ভবকে সম্ভব করার খ্যাতি রিয়ালের বরাবরের মতোই আছে, তবুও পরিসংখ্যান বলছে কাজটা মোটেও সহজ হবে না। আগামী বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায় ফিরতি লেগে আলিয়াঞ্জ এরেনায় রিয়াল মাদ্রিদকে আতিথ্য দেবে বায়ার্ন।

বয়স তো কম হলো না। জাতীয় দলকে তো বিদায়ই বলে দিয়েছেন। তবে ৪০ বছর বয়সেও এতটুকু ধার কমেনি ম্যানুয়েল নয়্যারের। গোলপোস্টের নিচে এখনও একের পর এক সেভ করাটা যেন দুধভাত বায়ার্ন মিউনিখের গোলকিপারের কাছে। গতকাল চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে আরও একবার চোখধাঁধানো নয়্যারকেই দেখা গেল।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়ালের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয় পাওয়া ম্যাচে নয়্যার পুরো ক্যারিয়ারের যা করে আসছেন, সেটারই যেন পুনরাবৃত্তি করলেন। স্বাগতিক রিয়ালের নেওয়া ৯টি শট সেভ করেছেন বায়ার্নের কিংবদন্তি গোলকিপার। যে বয়সে অধিকাংশ খেলোয়াড় অবসরের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে, আর নয়্যার কিনা এখনও ক্যারিয়ারের চূড়ায় থাকা একজনের মতোই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে যাচ্ছেন। কিভাবে পারেন নয়্যার? কী সেই বিশেষ মন্ত্র?
আরও পড়ুন
| ফুরফুরে আরতেতা, আক্ষেপ বোরগেসের |
|
৪০ বছর বয়সেও মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাওয়া নয়্যার জানালেন নিজের পারফরম্যান্সের ‘সিক্রেট’। খুব বেশি কিছু নয়, প্রতিদিন তাড়িত করা এক অদম্য আবেগই তার এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের মূল শক্তি।
ম্যাচের পর নয়্যার বলেন, ‘এটা খুব ভালো একটি ম্যাচ ছিল। ভালো সুযোগ তৈরি হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ গোলও হয়েছে—সবার মাথায় আছে যে ফিরতি লেগটা আরও কঠিন হবে। এই পর্যায়ে পারফর্ম করার আমার রহস্য? এটা আমার খেলা, আমি এই খেলাকে ভালোবাসি। অনুশীলন করতে ভালো লাগে, আর এই দলের সঙ্গে আমি ভীষণ উপভোগ করি। এটা একটা আবেগ- আর সেটাই আমার “সিক্রেট”।’
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গত পাঁচ মৌসুমের মধ্যে এক ম্যাচে এটাই নয়্যারের সর্বোচ্চ সেভসংখ্যা। চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউটে নয়্যার এক ম্যাচে এর চেয়ে সর্বোচ্চসংখ্যক সেভ করেছিলেন ২০১৭ সালের এপ্রিলে- ১০টি সেভ, সেটা এই রিয়ালের বিপক্ষেই!
আরেকটি অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে বায়ার্ন মিউনিখকে জেতানো নয়্যারের প্রশংসা পঞ্চমুখ জার্মান জায়ান্টদের কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানিও, ‘সবারই নিজস্ব পছন্দ থাকতে পারে। তবে ম্যানু (নয়্যার) দীর্ঘ সময় ধরে নিজের সেরা ফর্ম ধরে রেখেছে। খুব কম গোলকিপারই এটা করতে পারেন। আমি প্রতিদিন অনুশীলনে ওকে দেখি এবং এখনো সমানভাবে মুগ্ধ হই। এটি প্রমাণ করে যে বিশ্বসেরা গোলরক্ষকদের একজন হয়ে থাকার সামর্থ্য তার কতটা প্রবল...সে যদি সেরা খেলোয়াড় হয়, তবে আমি খুশি এতে কোনো সমস্যা নেই। এই পর্যায়ের ম্যাচে এমন বড় পারফরম্যান্সেরই প্রয়োজন হয়।’
আরও পড়ুন
| গ্রিজমানের ‘লাস্ট ডান্স’ নাকি আবারও ইয়ামাল শো |
|
যদি এই মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখ চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে, তবে চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে ইকার ক্যাসিয়াস, নেভাস ও ভিক্টর ভালদেসের পর কেবল চতুর্থ গোলকিপার হিসেবে ইউরোপ সেরার এই ট্রফি তিনবার তুলে ধরার কীর্তি গড়বেন নয়্যার।
বুদাপেস্টে ৩০ মে ফাইনালে নয়্যারের বয়স হবে ৪০ বছর ৯৩ দিন। তাতে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলকিপার হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী ফুটবলার হবেন তিনি। এখন পর্যন্ত এই রেকর্ডের মালিক এডভিন ভ্যান দের সার। ২০০৮ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-এর হয়ে যখন চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিলেন, তার বয়স ছিল তখন ৩৭ বছর ২০৫ দিন।
এই মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে আছে বায়ার্ন, আর নয়্যারের তর্কাতিকভাবে সর্বকালের সেরা গোলকিপারের ছন্দ নিয়ে তো কোনো প্রশ্নই নেই। তাতে বয়সকে সংখ্যা বানিয়ে ফেলা সাবেক জার্মান গোলকিপারের এই কীর্তিতে নাম লেখাতেই পারেন।