
রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগের মধ্যমণি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটিতে গত আট মৌসুমে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে এই ব্রাজিলিয়ান হয়ে উঠেছেন ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা। রিয়ালের দীর্ঘমেয়াদি ‘প্রজেক্টে’ ভিনিই যে প্রাণভোমরা সেটা সবারই জানা। অথচ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবটির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার হয়েই নাকি এতদিন মাঠ মাতানোর কথা ছিল ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গাররের।
বার্সেলোনার সাবেক সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ এক বিস্ফোরক তথ্যে জানিয়েছেন, রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার আগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে বার্সার একটি প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল। ভিনিসিয়ুস যখন ব্রাজিলে খেলছিলেন, তখনই কাতালান ক্লাবটি তাঁর পরিবার এবং প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে এই চুক্তিতে পৌঁছায়। বার্সা এই ব্রাজিলীয় তরুণকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা উদীয়মান প্রতিভা হিসেবে বিবেচনা করেছিল এবং খুব দ্রুতই তাঁর স্বাক্ষর নিশ্চিত করতে চেয়েছিল।
তবে শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তি আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। বার্সেলোনার সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতা থাকলেও রিয়াল মাদ্রিদ অনেক বেশি শক্তিশালী এবং আকর্ষণীয় আর্থিক প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়। মূলত রিয়ালের সেই লোভনীয় প্রস্তাবের কারণেই ভিনিসিয়ুস ন্যু ক্যাম্পে না গিয়ে শেষ মুহূর্তে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুকেই নিজের নতুন ঠিকানা হিসেবে বেছে নেন।
রিয়াল মাদ্রিদ কীভাবে এই দৌড়ে জয়ী হলো, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন বার্তোমেউ। ২০১৭ সালের মে’তে রিয়াল এবং ফ্লামেঙ্গোর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করে তৎকালীন ১৬ বছর বয়সী ভিনিকে দলে ভেড়ানোর জন্য। নিয়ম অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে তাঁর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর এই দলবদল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়। বার্তোমেউ নিশ্চিত করেছেন, ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে রিয়ালের চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে বার্সেলোনা তাঁর সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছিল।
ইএসপিএন দেপোর্তেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্তোমেউ বলেন,
‘ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আমাদের (বার্সেলোনা) পছন্দের তালিকায় ছিলেন। আমরা তাঁর পরিবার এবং এজেন্টদের সাথে কথা বলেছিলাম এবং প্রকৃতপক্ষে একটি প্রাথমিক সমঝোতাও হয়ে গিয়েছিল। তবে রিয়াল মাদ্রিদ সম্ভবত বার্সেলোনার চেয়ে আরও ভালো প্রস্তাব দিয়েছিল এবং ভিনিসিয়ুসকে লুফে নিয়েছিল।’
সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার রূপই বদলে গেল। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকে ভিনিসিয়ুস ‘লস ব্লাঙ্কোসদের’ হয়ে নিজের আট মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৭২টি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন, যেখানে তাঁর গোলসংখ্যা ১২৭টি এবং অ্যাসিস্ট ১০০টি। রিয়ালের লা লিগা এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে পালন করেছেন মুখ্য ভূমিকা; যার মধ্যে ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে লিভারপুলের বিপক্ষে করা জয়সূচক গোলটি স্বরণীয় হয়ে থাকবে।
No posts available.
১০ মে ২০২৬, ৯:৩৫ এম
১০ মে ২০২৬, ৯:২০ এম

লিওনেল মেসি যেখানে যান, রেকর্ড যেন সেখানে তাঁর ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকে। শনিবার রাতে কানাডার টরন্টোতে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
টরন্টো এফসির বিপক্ষে মায়ামির ৪-২ ব্যবধানে জয়ের রাতে লিগের দ্রুততম খেলোয়াড় হিসেবে ১০০ গোল কন্ট্রিবিউশনের (গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে) রেকর্ড গড়েন মেসি।
এমএলএস-এর নিয়মিত মৌসুমে মাত্র ৬৪ ম্যাচে ১০০ গোল কন্ট্রিবিউশন পূর্ণ করেন মেসি। এর মাধ্যমে তিনি সেবাস্তিয়ান জিওভিনকোর করা রেকর্ডটি ভেঙে দিলেন।
টরন্টোর বিপক্ষে ম্যাচে একটি গোল এবং দুটি অ্যাসিস্টের মাধ্যমে এই রেকর্ড গড়েছেন মেসি। জিওভিনকোর যেখানে ১০০ গোল কন্ট্রিবিউশনে লেগেছিল ৯৫ ম্যাচ, মেসি সেখানে ৩১ ম্যাচ আগেই সেই শিখরে পৌঁছালেন।
ম্যাচের ৪৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো ভলিতে ইন্টার মায়ামিকে লিড এনে দেন রদ্রিগো ডি পল। চলতি মৌসুমে এটি তাঁর তৃতীয় গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে ৫৬ মিনিটে মেসির নিখুঁত পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লুইস সুয়ারেজ। এরপর ৭৩ মিনিটে মেসির দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট থেকে মায়ামির হয়ে নিজের প্রথম গোলটি করেন সার্জিও রেগিলন।
ম্যাচের ৭৫ মিনিটে ডি পলের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু-ওয়ান খেলে দলের চতুর্থ গোল করেন অধিনায়ক মেসি নিজে। চলতি মৌসুমে এটি তাঁর নবম গোল। শেষ দিকে টরন্টো দুই গোল শোধ করে ব্যবধান কমালেও মায়ামির জয় নিশ্চিত ছিল।
এই জয়ের ফলে অ্যাওয়ে ম্যাচে চলতি মৌসুমে নিজেদের সেরা ফর্ম ধরে রাখল ইন্টার মায়ামি। এখন পর্যন্ত প্রতিপক্ষের মাঠে ১৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে তারা। ১২ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে লিগে তিন নম্বরে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
আগামী বুধবার এফসি সিনসিনাটির বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামবে ইন্টার মায়ামি।

‘রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি সাদা, এটি ঘাম, কাদা এমনকি রক্তে রঞ্জিত হতে পারে—কিন্তু কখনো অপমানে কালিমালিপ্ত হতে পারে না।’ যুগের পর যুগ ধরে এই মন্ত্রটিই মাদ্রিদিস্তাদের শ্রেষ্ঠত্বের দম্ভ দিয়ে এসেছে। মাদ্রিদ মানেই হার না মানা মানসিকতা, যেখানে জার্সি ময়লা হওয়া মানে হলো মাঠের লড়াইয়ে সর্বোচ্চ নিবেদন। তারা গর্ব করে বলে, পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, এই সাদা জার্সির মর্যাদা তারা ধুলোয় মিশতে দেবে না। কিন্তু এবারের এল ক্লাসিকোর আগে সেই গর্বের জায়গায় কি কোথাও ফাটল ধরল? যে ড্রেসিংরুমকে তারা নিজেদের দুর্গ মনে করে, সেখানে আজ অন্তকোন্দলের বিষবাষ্প। ‘গৃহযুদ্ধে’ লস ব্লাঙ্কোসরা রীতিমতো কোনঠাসা।
আজ বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ক্যাম্প ন্যূতে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে যেখানে লস ব্লাঙ্কোসরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিপরীত মেরুতে হ্যান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা শিবিরে এখন শুধুই উৎসবের আমেজ। রিয়ালের এই ভঙ্গুর মানসিক অবস্থার সুযোগ নিয়ে ঘরের মাঠে কেবল জয় নয়, কাতালানরা লক্ষ্য স্থির করেছে লা লিগায় ইতিহাস গড়ার।
আজ একটি জয়—কিংবা স্রেফ ড্র-ও বার্সার টানা দ্বিতীয় লা লিগা শিরোপা নিশ্চিত করে দেবে; যা হবে ঘরোয়া ফুটবলে তাদের একাধিপত্যের এক দারুণ সমাপ্তি। এক জায়গায় এই ম্যাচ আগের সব ক্লাসিকোকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ঘরের মাঠে বার্সা যদি হার এড়াতে পারে, তবে প্রায় ১০০ বছর পর—সেই ১৯৩২ সালের পর—এই প্রথম কোনো ক্লাসিকো গাণিতিকভাবে লিগ শিরোপার ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে।
আরও পড়ুন
| মোহামেডান, ব্রাদার্সের সহজ জয় |
|
পিছনে তাকালে দেখা যায়, ১৯৩১-৩২ মৌসুমের শেষ দিনে বার্সেলোনার মাঠে ২-২ গোলে ড্র করে লিগ জয় নিশ্চিত করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। সেই ড্রয়ের ফলেই অ্যাথলেটিক ক্লাবকে পেছনে ফেলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম লিগ শিরোপা জিতেছিল লস ব্লাঙ্কোসরা। ৩৬টি লিগ শিরোপার মালিক রিয়ালের সেই জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঠ থেকেই। আজ বার্সার সামনে সুযোগ ঘরের মাঠে সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটানো, তবে এবার মঞ্চটা তাদের নিজেদের উদযাপনের।
মৌসুমের প্রথম ক্লাসিকোতে চিত্রটা অবশ্য একদম ভিন্ন ছিল। গত অক্টোবরে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল রিয়াল। তখন শিরোপার লড়াই ছিল উন্মুক্ত, রিয়ালের ডাগআউটে ছিলেন জাবি আলোনসো এবং আজকের মতো গৃহবিবাদের আঁচ তখনো লাগেনি।
তবে এবারের লড়াইয়ের সমীকরণ একদম পরিষ্কার। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে নিজেদের মাঠে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সুযোগ বার্সেলোনার সামনে, আর রিয়াল মাদ্রিদ লড়ছে কেবল অনিবার্য সেই পরাজয়কে কিছুটা বিলম্বিত করতে।
এল ক্লাসিকোর আগে রিয়াল মাদ্রিদের সংবাদ সম্মেলনের পুরোটা জুড়েই ছিল দলের ড্রেসিংরুমের অস্থিরতা নিয়ে আলোচনা। ফেদেরিকো ভালভার্দে ও অঁরেলিয়ে চুয়ামেনির হাতাহাতি, একজনের হাসপাতালে ভর্তি আর দুজনের লাখ ইউরো জরিমানা—গত কদিন অবিশ্বাস্য সব ঘটনার সাক্ষী হয়েছে ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাবটি। একে তো টানা দুই মৌসুম ট্রফিশূন্য থাকার হতাশা এরমধ্যে দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে রেষারেষিতে আরবেলোয়ার দল পরিচালনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ড্রেসিংরুমের অনাকাঙ্ক্ষিত এই সংঘাতকে ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষণীয় এক পাঠ হিসেবে উল্লেখ করে আরবেলোয়া সকলকে মাঠের ফুটবলে ফেরার তাগিদ দেন, ‘এটি মোটেও কোনো সুখকর পরিস্থিতি নয়। এটি সবার জন্য একটি উদাহরণ হিসেবে থাকা উচিত এবং ব্যস, এটুকুই। আমাদের এখন এই অধ্যায় পেছনে ফেলে সামনে তাকাতে হবে, এটি থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং ভুলে গেলে চলবে না যে আগামীকাল বার্সেলোনা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচ রয়েছে।’
আরও পড়ুন
| জনসমক্ষে শিষ্যদের ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলাতে চান না রিয়াল কোচ |
|
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের এমন দুর্বিষহ দিনে বেশ আনন্দেই থাকার কথা বার্সেলোনার। সংবাদ সম্মেলনে একের পর এক প্রশ্ন হলো রিয়ালের অস্থির ড্রেসিংরুম নিয়ে। তবে সব প্রশ্নেই বিতর্ক এড়িয়ে সাদামাটা উত্তরই দিলেন বার্সা কোচ ফ্লিক। বার্সার নিজের প্রথম মৌসুমে ঘরোয়া ‘ট্রেবল’ জয়ের পর দ্বিতীয় মৌসুমে দুটি শিরোপা জয়ের পথে জার্মান এই কোচ নিজেদের খেলাতেই মনোযোগ দিতে চান।
ফ্লিক বলেন, ‘আমাদের মূল কাজ হলো খেলা এবং মাঠের পরিকল্পনায় স্থির থাকা। আমরা দারুণ একটা মৌসুম কাটাচ্ছি এবং কালও সেটার প্রতিফলন দেখতে চাই। আমি চাই দল হিসেবে খেলতে, অন্য কিছু নিয়ে ভাবার সময় আমার নেই।’

প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াইয়ে টিকে থাকতে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না ম্যানচেস্টার সিটির। সোমবার এভারটনের সঙ্গে ড্র করে পয়েন্ট হারানো পেপ গার্দিওলার দল এবার আর ভুল করেনি।
শনিবার রাতে ঘরের মাঠে ব্রেন্টফোর্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। এই জয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে ২ পয়েন্টে নামিয়ে এনেছে সিটি।
ইতিহাদ স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে ব্রেন্টফোর্ডের রক্ষণ ভাঙতে রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হয়েছে সিটিকে। গোলকিপার কাওমিন কেলেহারের বীরত্বে বারবার হতাশ হতে হয় আর্লিং হালান্ড ও জেরেমি ডোকুদের।
আরও পড়ুন
| ভিনিসিয়ুসকে দলে ভেড়ানোর প্রাথমিক চুক্তি করেছিল বার্সা |
|
দ্বিতীয়ার্ধের ৬০ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ডোকু। বক্সের ভেতর চমৎকারভাবে ঢুকে দারুণ এক কার্লিং শটে বল জালে জড়ান। সোমবার এভারটনের বিপক্ষেও শেষ মুহূর্তে গোল করে দলকে হার থেকে বাঁচিয়েছিলেন এই বেলজিয়ান উইঙ্গার।
ম্যাচের ৭৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নরওয়েজীয় গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। জটলার মধ্য থেকে বল জালে পাঠিয়ে সিটির ডাগআউটে স্বস্তি ফেরান। ম্যাচের শেষ দিকে বদলি হিসেবে নামা ওমর মারমুশ গোল করে ব্রেন্টফোর্ডের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন।
এই জয়ে আর্সেনালের ওপর চাপ বাড়াল ম্যানচেস্টার সিটি। ৩৫ ম্যাচ শেষে ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নম্বরে রয়েছে সিটি। সমান ম্যাচে ২ পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল।
লিগের শেষ তিন ম্যাচে সিটির প্রতিপক্ষ ক্রিস্টাল প্যালেস, বোর্নমাউথ এবং অ্যাস্টন ভিলা। শিরোপা ধরে রাখতে গার্দিওলার দলকে এখন নিজেদের জয়ের পাশাপাশি আর্সেনালের হোঁচট খাওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হবে।

ব্যর্থতার চোরাবালিতে ঘুরপাক খাওয়া মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিগে পরপর দুই ম্যাচে ফকিরেরপুল এবং পিডব্লিউডিকে হারায়। এরপর বসুন্ধরা কিংসের কাছে আগের ম্যাচে হার। আজ সহজ জয়ে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘকে হারিয়ে ফের জয়ে ফিরলো সাদা-কালোরা। সৌরভ দেওয়ান এবং রহিম উদ্দিনের গোলে পাওয়া এই জয়ে লিগ টেবিলে নিজেদের অবস্থান একটু উঁচুতে তুললো মতিঝিল পাড়ার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।
মানিকগঞ্জের শহীদ মিরাজ-তপন স্টেডিয়ামে শনিবার বাংলাদেশ ফুটবল লিগে দ্বিতীয় লেগের দেখায় আরামবাগকে ২-০ গোলে হারিয়েছে মোহামেডান। দুই দলের প্রথম লেগের ম্যাচটি ড্র হয়েছিল ১-১ গোলে। এই জয়ে ১৬ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে এক ধাপ এগিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠেছে মোহামেডান। ১৬ রাউন্ড শেষে শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংসের চেয়ে ১৫ পয়েন্ট এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা আবাহনীর চেয়ে ১৪ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে তারা।
এদিন শুরুতেই এগিয়ে যেতে পারত মোহামেডান। অষ্টম মিনিটে বাম দিকের বাইলাইনের উপর থেকে জুয়েল মিয়ার বাড়ানো পাসে টোকা দিয়েছিলেন স্যামুয়েল বোয়াটেং, কিন্তু বল পোস্টে লেগে ফিরে। ১৮ মিনিটে বক্সের ভেতরে বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লড়াইয়ে ঘানার ল্যানটেই মিলসের বুক অবদি পা তুলে দেন মোহামেডানের মিনহাজ রাকিব, ব্যথায় মাটিতে শুয়ে পড়েন তিনি, এরপর কিছুক্ষণ চিকিৎসা নিয়ে মাঠ ছাড়েন মিলস। ফাউলের বাঁশি বাজাননি রেফারি।
৪০মিনিটে শান্তর থ্রু পাস ধরতে সৌরভ ছুটেছিলেন বক্সে, কিন্তু তিনি পৌঁছানোর আগেই দারুণ ক্ষিপ্রতায় পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে বিপদমুক্ত করেন আজাদ। একটু পর আরিফের শটও ঝাঁপিয়ে আটকান তিনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে মিলসের ক্রসে বক্সে ফাঁকায় থাকা কুয়ামে কিজিতো হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। বলের অবস্থানের তুলনায় একটু বেশি লাফিয়ে ওঠায় ঘানার এই ফরোয়ার্ডের হেডে বল নিচে ড্রপ খেয়ে ক্রসবারের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট হয় আরামবাগের।
৫০ মিনিটে মোহামেডানকে আবারও হতাশ করেন আজাদ। তবে, পরের মিনিটে আর পারেননি। সাইফুলের পাসের নাগাল বোয়াটেং পাননি, পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসা আজাদও ক্লিয়ার করতে পারেননি। আলগা বল অনায়াসে জালে জড়িয়ে দেন সৌরভ। গোলের অপেক্ষা ফুরায় শিরোপাধারী মোহামেডানের।
৭৫ মিনিটে মোহামেডানের ব্যবধান হয় দ্বিগুণ। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে আরিফের কাটব্যাকে বদলি নামা রহিম নিখুঁত প্লেসিং শটে জাল খুঁজে নেন। বাকি সময় নির্বিঘ্নে পার করে, পঞ্চম জয় তুলে নেয় আব্দুল কাইয়ুম সেন্টুর দল।
দিনের অন্য ম্যাচে মুন্সীগঞ্জে পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড শায়েক দোস্তের জোড়া গোলে ৩-১ ব্যবধানে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটিকে হারিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। এই হারে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে এক ধাপ পিছিয়ে ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেছে রহমতগঞ্জ। ১৭ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে আছে ব্রাদার্স। মোহামেডানের বিপক্ষে হারের পর ১৪ পয়েন্ট নিয়ে অবনমন অঞ্চলের ঠিক উপরে আছে আরামবাগ, দশ দলের মধ্যে অষ্টম।

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দ্বৈরথ ‘এল ক্লাসিকো’র আগে সব আলোচনা হওয়ার কথা ছিল মাঠের কৌশল আর রণপরিকল্পনা নিয়ে। তবে রিয়াল মাদ্রিদের সময়টা চলছে এখন ‘কালবৈশাখী ঝড়’। মাঠের ফুটবলের চেয়েও এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে ড্রেসিংরুমের অস্থিরতা। লস ব্লাঙ্কোসদের ঘরে অনেক দিন ধরে চলা অসন্তোষ বিস্ফোরিত হয় অনুশীলনে ভালভার্দে ও চুয়ামেনির হাতাহাতির পর। স্বাভাবিকভাবেই মাঠের বাইরের সেই উত্তাপ সরাসরি এসে লেগেছে কোচের সংবাদ সম্মেলনেও।
প্রিয় শিষ্যদের নিয়ে একের পর এক অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আলভারো আরবেলোয়াকে। চরম কঠিন এই সময়ে রিয়ালের খেলোয়াড়দের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে তাদের প্রতি নিজের অকুণ্ঠ সমর্থন প্রকাশ করলেন আরবেলোয়া।
লা লিগার চলতি মৌসুমে দ্বিতীয় ‘এল ক্লাসিকো’তে আগামীকাল স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যু-তে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার মুখোমুখি হবে রিয়াল। এই মহারণ ছাপিয়ে গত কয়েক দিনে ঠিক কী ঘটেছিল, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আরবেলোয়া বলেন,
‘আমার দুটি কথা বলার আছে। প্রথমত, ক্লাবের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা, ক্ষিপ্রতা এবং স্বচ্ছতার জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত। দ্বিতীয়ত, খেলোয়াড়রা তাদের ভুল স্বীকার করেছে, অনুশোচনা প্রকাশ করেছে এবং ক্ষমা চেয়েছে। আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট।’
আরবলোয়া আরও যোগ করেন,
‘আমি যা করব না তা হলো—তাদের জনসমক্ষে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানো, কারণ তারা এর যোগ্য নয়। বিশেষ করে গত চার মাস বা বিগত কয়েক বছরে তারা আমাকে যা দেখিয়েছে, তারপরে তো নয়ই। তারা প্রমাণ করেছে যে রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড় হওয়ার অর্থ কী, এবং আমি সেটা ভুলে যাব না।’
সাবেক রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি হুয়ানিটোর উদাহরণ টেনে আরবেলোয়া বলেন,
‘আমি সবসময় একটি উদাহরণ দেই। আমার কাছে একজন খেলোয়াড় আছেন যিনি রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড়ের প্রকৃত আদর্শ, আর তিনি হলেন হুয়ানিটো। এখন প্রশ্ন হলো, হুয়ানিটো কি কখনো ভুল করেননি?’
চলতি সপ্তাহের শুরুতে অনুশীলনের সময় ফেদেরিকো ভালভার্দে এবং অরেঁলিয়ে চুয়ামেনির মধ্যে এক হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যার ফলে ভালভার্দে ১০ থেকে ১৪ দিনের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন। এই দুই তারকাকে নিয়ে আরবেলোয়া বলেন,
‘ভালভার্দে এবং চুয়ামেনি আমাদের কাছ থেকে এটুকু প্রাপ্য যে—আমরা যেন এই ঘটনা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাই এবং এই ক্লাবের হয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিই। আমি তাদের নিয়ে গর্বিত। এই ঘটনাকে পুঁজি করে কেউ তাদের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলবে, তা আমি হতে দেব না।’
রিয়াল কোচ কড়া ভাষায় আরও বলেন,
‘তারা পেশাদার নয় কিংবা তারা আমাকে অসম্মান করেছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ঠিক যেমন এটিও একটি মিথ্যা যে, আমার সঙ্গে সমস্যার কারণে কেউ কেউ একাদশে সুযোগ পাচ্ছে না; যারা এসব ছড়ায়, তাদের উচিত রিয়াল মাদ্রিদের বাইরে গিয়ে নিজের চরকায় তেল দেওয়া।’
গুঞ্জন আছে রিয়াল মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড় ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁস করছেন। অজ্ঞাত এই ‘গুপ্তচরকে’ হুঁশিয়ারি দিয়ে আরবেলোয়া বলেন, ‘ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আরবেলোয়া বলেন,
‘আমি আবারও বলছি, কারণ হয়তো আমি পরিষ্কার করে বলতে পারিনি: ড্রেসিংরুমের ভেতরকার খবর বাইরে ফাঁস করা রিয়াল মাদ্রিদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। এটি এই লোগো বা ব্যাজের অবমাননা।’
ড্রেসিংরুমের অনাকাঙ্ক্ষিত এই সংঘাতকে ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষণীয় এক পাঠ হিসেবে উল্লেখ করে আরবেলোয়া সকলকে মাঠের ফুটবলে ফেরার তাগিদ দেন,
‘এটি মোটেও কোনো সুখকর পরিস্থিতি নয়। এটি সবার জন্য একটি উদাহরণ হিসেবে থাকা উচিত এবং ব্যস, এটুকুই। আমাদের এখন এই অধ্যায় পেছনে ফেলে সামনে তাকাতে হবে, এটি থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং ভুলে গেলে চলবে না যে আগামীকাল বার্সেলোনা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচ রয়েছে।’