
ক্রিকেটবিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করা বৈভব সূর্যবংশীর বয়স এখন ১৫ বছর। আর তাতেই ভারতীয় দলে খেলার দরজা খুলে গেল মারকুটে এই ব্যাটারের। ১৫ বছরে পা দেওয়ার পর, সুর্যবংশী এখন ভারতের সিনিয়র দলে খেলার যোগ্য। আইসিসির ন্যূনতম বয়স যোগ্যতার মানদণ্ড অনুযায়ী জাতীয় দলে খেলতে আর কোনো বাধা নেই তাঁর।
২০২০ সালের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ন্যূনতম বয়স নিয়ম চালু করে—‘খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করার’ লক্ষ্যে। অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটেও বার্তা স্পষ্ট ছিল, ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ আন্তর্জাতিক মঞ্চে পা রাখবে না।
এই নিয়েমের আগে ন্যূনতম বয়সের শর্তে পাকিস্তানের হাসান রাজা ১৯৯৬ সালে ১৪ বছর ২২৭ দিনে টেস্টে অভিষেকের মধ্য দিয়ে রেকর্ড গড়েন। রাজার রেকর্ড এখনও অক্ষত থাকলেও, আরেকটি রেকর্ড ভাঙার সুযোগ ভালোভাবেই আছে সূর্যবংশীর। ভারতের ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেক হয় দেশটির কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারের। ১৬ বছর ২০৫ দিনে আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়া টেন্ডুলকারের রেকর্ডটি নিজের করে নেওয়া এখন সুর্যবংশীর জন্য আর অসাধ্য নয়।
২০২৬ সালের আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলতে দেখা যাবে সূর্যবংশীকে। দলটির অধিনায়ক রায়ান পরাগ ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, তরুণ এই ক্রিকেটারকে যেন অপ্রয়োজনীয় চাপ থেকে দূরে রাখা হয়। তার মতে, এত অল্প বয়সে মিডিয়ার বাড়তি মনোযোগ বা চাপ সূর্যবংশীর স্বাভাবিক খেলায় প্রভাব ফেলতে পারে।
পরাগ আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আইপিএল ২০২৬-এ সূর্যবংশীকে ভারতের আরেক ওপেনার জসস্বি জয়সওয়ালের সঙ্গে জুটি বেঁধে খেলতে দেখা যেতে পারে। তিনি বলেন, একজন অধিনায়ক হিসেবে তার বার্তা হবে- মিডিয়া থেকে কিছুটা দূরে থাকা এবং নিজের খেলাটা উপভোগ করা।
ভারতের নির্বাচকেরা সূর্যবংশীকে দলে নিতে খুব একটা বিলম্ব করার কথা নয়। টেন্ডুলকারের পর অনেক তরুণ প্রতিভাই দ্রুত উপরে উঠে এসেছে, কিন্তু এত অল্প বয়সেই এমন ‘অবশ্যম্ভাবী’ উপস্থিতি খুব কমজনই দেখাতে পেরেছে। সুর্যবংশী শুধু সম্ভাবনাময় নন—তাকে দেখলে মনে হয়, ভারতের জার্সির জন্যই যেন তৈরি হয়ে এসেছে।
মজার ব্যাপার হলো ২০২৩ সালে সুর্যবংশীর দ্রুত উত্থানে প্রতিভার পাশাপাশি ভাগ্যেরও বড় ভূমিকা ছিল। চণ্ডীগড়ে ভিনু মানকড় ট্রফির একটি ম্যাচ—যা ছিল বিসিসিআইয়ের অনূর্ধ্ব-১৯ ঘরোয়া প্রতিযোগিতা এবং যেখানে নির্বাচক তিলক নাইডুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল খেলা দেখার জন্য—কিন্তু বৃষ্টিতে ভেসে যায় সেই ম্যাচ।
হাতে সময় থাকায় এবং বিহারের এক প্রতিভাবান ছেলের কথা আগেই শুনে রাখা নাইডু, একই সময়ে পাশেই চলা আরেকটি ম্যাচ দেখতে যান। সেই ‘পথবদল’ই হয়ে ওঠে টার্নিং পয়েন্ট। সেখানে তখনো কিশোর না হওয়া সুর্যবংশী ৭৬ বলে ৮৬ রান করে বিহারকে আসামের বিপক্ষে জেতান। সেই ইনিংসই এতটাই নজরকাড়া ছিল যে, এরপরই তার দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার পথ খুলে যায়।
ধাপে ধাপে এগোতে গিয়ে প্রতিটি স্তরেই নিজের ছন্দ খুঁজে পেয়েছেন সুর্যবংশী। ২০২৩ সালের নভেম্বরে অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যালেঞ্জার ট্রফিতে রানের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন তিনি। সেই ফর্মই ধরে রাখেন একই মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত চার জাতি সিরিজে, যেখানে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেন।
তবে ক্রিকেটবিশ্বকে সূর্যবংশী নিজের আসল চেহারা দেখার এক বছর পর। ২০২৪ সালের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যুব টেস্টে সুযোগ পেয়ে মাত্র ৫৮ বলে সেঞ্চুরি হাঁকান সুর্যবংশী—এক ইনিংসেই নিজেকে আলাদাভাবে ঘোষণা করেন। তখন অনেকেই মনে করেছিলেন, আইপিএল হয়তো এখনও তার জন্য একটু বেশি বড় মঞ্চ। এত অল্প বয়সে বিশ্বের সেরা বোলারদের মোকাবিলা করা তার জন্য ক্ষতির কারণও হতে পারে—এমন শঙ্কাও ছিল।
কিন্তু ২০২৫ মৌসুমেই সুর্যবংশী সেই সব সন্দেহ দূর করে দেন। নিজের খেলা প্রথম বলেই, অভিজ্ঞ শার্দুল ঠাকুরকে ছক্কা হাঁকিয়ে জানান দেন নিজের সামর্থ্য। এর কিছুদিন পরই, মাত্র ১৩ বছর বয়সে রাজস্থান রয়্যালস তার পেছনে যে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছিল, তার যথার্থতা প্রমাণ করেন তিনি। গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে মাত্র ৩৫ বলে ঝড়ো সেঞ্চুরি করে প্রতিযোগিতামূলক সিনিয়র ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বয়সী সেঞ্চুরিয়ান হয়ে ইতিহাস গড়েন সুর্যবংশী। এরপর তো আর পেছন ফেরে তাকাতে হয়নি তাকে। মাঠে নেমেই মুড়ি-মুড়কির মতো রেকর্ড গড়া সূর্যবংশী এখন শুধু অপেক্ষায় ভারতের জার্সি গায়ে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য।
No posts available.

শনিবার শুরু হচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ১৯তম সংস্করণ। বল মাঠে গড়ানোর আগেই বড় ধাক্কা দিল্লি ক্যাপিটালসের। ইংল্যান্ডের ওপেনার বেন ডাকেট নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর বদলি খেলোয়াড় হিসেবে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন আরও দুই ব্রিটিশ তারকা জেমি স্মিথ ও জশ টাং।
গত ডিসেম্বরে নিলামে ২ কোটি রুপিতে ডাকেটকে দলে ভিড়িয়েছিল দিল্লি। টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েক দিন আগে নাম প্রত্যাহার করে নেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ঘরোয়া ক্রিকেট ও ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত হতে নাম সরিয়ে নেন ডাকেট।
ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডাকেটের বিকল্প হিসেবে জেমি স্মিথ ও পেসার জশ টাংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল দিল্লি। কিন্তু দুজনেই ইংল্যান্ডে থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটে সময় দেওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
আইপিএলের মতো জমকালো টুর্নামেন্টে ইংলিশ ক্রিকেটারদের অনীহা এখন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ২৪ জনের স্কোয়াড নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে দিল্লি ক্যাপিটালসকে।
দলে লোকেশ রাহুল ও পাথুম নিশাঙ্কার মতো ওপেনার থাকলেও ডাকেটের মতো বিধ্বংসী একজনের অভাব বোধ করতে পারে দলটি। বুধবার লখনৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের আইপিএল অভিযান শুরু করবে দিল্লি।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেট শুরুর দিনে বড় ধাক্কা খেল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন দল চেন্নাই সুপার কিংস। পায়ের পেশির চোটে অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য ছিটকে গেলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় ধোনির ছিটকে যাওয়ার খবর জানিয়েছে চেন্নাই ফ্র্যাঞ্চাইজি। আপাতত চোটের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সারছেন ৪৪ বছর বয়সী উইকেটকিপার-ব্যাটার।
গুয়াহাটিতে সোমবার রাতে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের আইপিএল শুরু করবে চেন্নাই। এরপর প্রথম দুই সপ্তাহে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে খেলবে রুতুরাজ গাইকোয়াড়ের নেতৃত্বাধীন দল।
ধোনির অনুপস্থিতিতে উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে এবার রাজস্থান থেকে চেন্নাইয়ে যোগ দেওয়া সাঞ্জু স্যামসন। এছাড়া দলে কার্তিক শর্মা ও উরভিল প্যাটেলের মতো কিপার-ব্যাটাররাও আছেন। নিলাম থেকে ১৪ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কার্তিককে নিয়েছে চেন্নাই।
আইপিএলের গত মৌসুমে চেন্নাইয়ের হয়ে সবকটি ম্যাচ খেলেছেন ধোনি। উইকেটকিপিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে শেষের দিকে নেমে ঝড় তোলার কাজটি করেছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার।

পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ক্রিকেটের উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নেমেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান ও পারভেজ হোসেন ইমন। মাঝে দ্বিতীয় দিন ছিল না বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ম্যাচ। তবে শনিবার একসঙ্গে মাঠে নামার অপেক্ষায় বাংলাদেশের ৪ ক্রিকেটার।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় মুখোমুখি হবে পেশাওয়ার জালমি ও রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ। চলতি টুর্নামেন্টে এটিই দুই দলের প্রথম ম্যাচ। এই দুই দলে আছেন বাংলাদেশের মোট ৪ জন ক্রিকেটার।
পেশাওয়ার জালমিতে আছেন বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম, বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম ও তরুণ গতিতারকা নাহিদ রানা। এছাড়া পিএসএলের নতুন দল রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজে যোগ দিয়েছেন তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন।
আরও পড়ুন
| জাতীয় দলে খেলতে আর বাধা নেই সূর্যবংশীর |
|
২০১৭ সালের পর আর পিএসএলে চ্যাম্পিয়ন হয়নি জালমি। দীর্ঘ শিরোপা খরা কাটাতে এবার বোলিংয়ে শক্তি বাড়িয়েছে দলটি। শরিফুল, নাহিদদের দলে নিয়ে বোলিং আক্রমণে সন্তষ্টিও প্রকাশ করেছেন অধিনায়ক বাবর আজম।
শনিবার বিকেলের ম্যাচে বাংলাদেশের দুই পেসারেরই একাদশে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অন্তত একজন যে খেলবেন, তা নিশ্চিতই বলা যায়।
ওপেনিংয়ে তানজিদ তামিমের অবশ্য কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কারণ এই দলে আছেন বাবর, কুশল মেন্ডিস, জেমস ভিন্স, ব্রায়ান বেনেটের মতো টপ-অর্ডার ব্যাটাররা। তাদের সঙ্গে লড়াই করেই একাদশে সুযোগ পেতে হবে তামিমের।
পিন্ডিজ একাদশে রিশাদের উপস্থিতি প্রায় নিশ্চিত। দলটির স্কোয়াডে রিশাদ ছাড়া লেগ স্পিনার আছেন শুধু সাদ মাসুদ। যার আবার অভিজ্ঞতা তেমন বেশি নয়। তাই লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসেবে রিশাদকেই নিতে পারে পিন্ডিজ।
এই ৪ বাংলাদেশির আগে এবারের পিএসএলে মাঠে নেমেছেন মোস্তাফিজ ও ইমন। লাহোর কালান্দার্সের বড় জয়ের ম্যাচে ১৩ বলে ১৪ রান করেছেন ইমন। আর বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজ ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান খরচায় নিয়েছেন ১টি উইকেট।
পিএসএলের সবগুলো ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করছে টি স্পোর্টস।

পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ক্রিকেটের নতুন মৌসুমের শুরু জন্ম নিয়েছে অন্যরকম এক বিতর্ক। তরুণ পেসার নাসিম শাহকে কেন্দ্র করে চলছে নতুন আলোচনা। পাঞ্জাবের মূখ্যমন্ত্রী ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের ভাতিজি মরিয়ম নওয়াজকে আক্রমণ করে দেওয়া পোস্টের জেরে নাসিমকে ‘শোকজ’ নোটিশ দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
পিসিবি জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় চুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে নাসিমের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তার জবাব পাওয়ার পরই পরবর্তী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার সূত্রপাত পিএসএল শুরুর দিন। গ্যালারিতে দর্শক আগমন নিষিদ্ধ থাকলেও লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সেদিন অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব খেলা দেখতে যান। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের মেয়ে ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের ভাতিজি মরিয়ম নওয়াজও। যিনি নিজে আবার পাঞ্জাবের মূখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন
| জাতীয় দলে খেলতে আর বাধা নেই সূর্যবংশীর |
|
সেদিন বিশাল গাড়িবহর নিয়ে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা অবস্থায় মাঠে যান মরিয়ম। পিসিবির আপলোড করা সেই ভিডিও কোট করে নাসিম লিখেছিলেন, ‘তাকে (মরিয়ম) কেন লর্ডসের রাণির মতো আপ্যায়ন করা হচ্ছে?’
তবে কয়েক মিনিটের মধ্যে সেই পোস্ট মুছে ফেলা হয়। পরে ভিন্ন আরেক পোস্টে নাসিম দাবি করেন, তার একাউন্ট ‘হ্যাক’ হয়েছিল। যা তিনি পুনরুদ্ধার করেছেন। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট হয়নি পিসিবি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বোর্ড জানায়, নাসিম কেন্দ্রীয় চুক্তি ও মিডিয়া নীতিমালা ভঙ্গ করেছেন।
পিসিবির আচরণবিধির ধারা অনুযায়ী, বোর্ড, এর কর্মকর্তা, নীতি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা বা ‘অশোভন মন্তব্য’ করা নিষিদ্ধ। নাসিমের পোস্টটি এই ধারার লঙ্ঘন বলেই মনে করছে বোর্ড।
এর আগে রাজনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণের জন্য শাস্তির নজিরও রয়েছে। গত বছর অলরাউন্ডার আমির জামাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থনে স্লোগান প্রদর্শন করায় এক মিলিয়নের বেশি পাকিস্তানি রুপি জরিমানা গুনেছিলেন।
সবকিছুর মাঝেই মাঠের লড়াই থেমে নেই। শনিবার পিএসএলে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামার কথা নাসিমের, যেখানে রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ মুখোমুখি হবে পেশোয়ার জালমির। এখন দেখার বিষয়, মাঠের পারফরম্যান্সের আগে এই বিতর্ক তার ওপর কতটা প্রভাব ফেলে।

গত বছরই খেলোয়াড় হিসেবে আইপিএলের পাঠ চুকিয়েছেন আন্দ্রে রাসেল। ছক্কার ঝড় তুলতে পারদর্শী ক্যারিবিয় এই ব্যাটার অস্ত্র তুলে রাখলেও ট্রেনিং তো আর জমা দেননি। ১১ মৌসুম কলকাতা নাইট রাইডার্সে খেলা রাসেল এবারের আইপিএলেও এই ফ্রাঞ্চাইজিতেই আছেন। এবার তাঁর দায়িত্ব কেকেআরের ব্যাটারদের শেখানো— কিভাবে বল গ্যালারিতে আছড়ে ফেলতে হবে।
নতুন দায়িত্বের প্রথম দিনেই আন্দ্রে রাসেল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ছিলেন, কেকেআরের ব্যাটারদের নেটে অনুশীলন দেখাচ্ছিলেন, কি করতে হবে তা দেখিয়ে দিচ্ছিলেন এবং কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করছিলেন।
কেকেআরের ওপেনিং ব্যাটার টিম সাইফোর্টের ব্যাটিং স্ট্যান্সে থাকা অবস্থায় বাম কাঁধে ট্যাপ করতে দেখা যায় রাসেলকে। এরপর লেগ সাইডে শট খেলায় সিদ্ধহস্ত ক্যামেরন গ্রিনকে বেশ উপভোগ করছিলেন। পরে কেকেআরের অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানের সঙ্গে কথা বলেন।
রামানদীপ সিংহ ও মানীশ পাণ্ডে নেট প্র্যাকটিস করেন রাসেলের তত্ত্বাবধানে। রোভম্যান পাওয়েলকে পুল খেলার সময় পিছনে ফিরে যেতে বলা হয়েছিল। আইপিএলে ঠিক কী করছেন রাসেল রাসেলের কাছে জানতে চাওয়া হলে সাবলীলভাবে উত্তর দিলেন, ‘আমি মানুষকে শেখাই কিভাবে ছয় মারতে হয়।’
মঙ্গলবার কেকেআর রাসেলের অবদানের সম্মানে নং ১২ জার্সি আজীবনের জন্য অবসর পাঠিয়ে দেয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই অলরাউন্ডার কেকেআরের হয়ে ১৩৩ ম্যাচ খেলেছেন এবং দুইবার (২০১৪ ও ২০২৪) তাদের শিরোপাজয়ী দলে ছিলেন।
অবসর নিয়ে কোচিংয়ে যাওয়ার ব্যাপারে রাসেল বলেন, ‘আমার মানসিকতায় বিশেষ প্রভাব পড়েনি। মূল উদ্দেশ্য হলো সব সেই খেলোয়াড়দেরকে কিছু দিয়ে আসা, যাদের সঙ্গে খেলেছি বা যাদের বিপক্ষে খেলেছি।’
আইপিএল থেকে অবসর নিলেও অবশ্য অন্য ফ্রাঞ্চাইজি লিগগুলোতে খেলছেন রাসেল। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইএল টি-টোয়েন্টি এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় এসএ২০-তে খেলেছেন তিনি।
আগামীকাল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে আইপিএল। কেকেআর তাদের আইপিএল ২০২৬ অভিযান শুরু করবে ২৯ মার্চ ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। গত বছরে তারা ১৪ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৫টি জিতে অষ্টম স্থানে থেকে শেষ করেছিল।