১৭ জুন ২০২৫, ৭:৫২ পিএম

এক যুগ আগে গল থেকে হাত ভর্তি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে রেকর্ড ৬৩৮, মুশফিকুর রহিমের ডাবল, ৫ম উইকেট জুটিতে মুশফিক-আশরাফুলের ২৬৭, জয়ের সমান ড্র। ১২ বছর পর সেই গল টেস্টের সুখস্মৃতিই যেনো ফিরে পাচ্ছে বাংলাদেশ দল। প্রথম দিন শেষে স্কোর ৩ উইকেটে ২৯২। নাজমুল হোসেন শান্ত'র ১৩৬-এর পাশে মুশফিকুর রহিমের ১০৫, অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেট জুটিতে তাদের সংগ্রহ ২৪৭ আরেকটি বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। জোড়া সেঞ্চুরির দিনটিতে শান্ত পৌছে গেছেন টেস্টে দুই হাজারী ক্লাবে। শান্ত-মুশফিকের অবিচ্ছিন্ন জুটি দ্বিতীয় দিনে রেকর্ড পার্টনারশিপের আবহ দিচ্ছে। আর মাত্র ২০ রান যোগ করতে পারলেই চতুর্থ উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের পার্টনারশিপের রেকর্ডটা দেখবে বিশ্ব।
ঐতিহ্যগতভাবে গল-এর উইকেটকে নিকট অতীতে যেভাবে দেখেছে বিশ্ব, তার ব্যতিক্রম দেখা যায়নি মঙ্গলবারও। শুরুতে কিছুক্ষণ উইকেটে পেসার আসিথা এবং অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার থারিন্দু আতঙ্ক ছড়ালেও দিনের শেষ দুটি সেশনে শ্রীলঙ্কার কোনো বোলারকে সমীহ করেননি শান্ত-মুশফিক। টেস্টে সেশন বাই সেশন খেলার পরিকল্পনায় এদিন বেশ সফল বাংলাদেশ। প্রথম সেশনে স্কোরশিটে ৯০ রান উঠতে ৩ উইকেট হারিয়েও হতোদ্যম হয়নি মিডল অর্ডাররা। পরের দুই সেশনে উইকেটহীন রান উঠেছে যথাক্রমে ৯২ ও ১১০।
আরও পড়ুন
| শান্ত-মুশফিকের জোড়া সেঞ্চুরিতে প্রথম দিন বাংলাদেশের |
|
নিজের ক্যারিয়ারের প্রথমই শুধু নয়, বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ানও মুশফিকুর। ২০১৩ সালে সেই ইতিহাসগড়া ডাবল সেঞ্চুরিটি পেয়েছেন তিনি গল-এ। সে কারণেই গল-এ যতোবার পা রেখেছেন, ততোবারই স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছেন টেস্টে বাংলাদেশের একমাত্র ৬ হাজারী ক্লাবের এই সদস্য।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম দেখাতে নাজমুল হোসেন শান্ত পেয়েছেন সেঞ্চুরি। এবং জাত চেনানো ওই সেঞ্চুরিটি পেয়েছেন তিনি ৪ বছর আগে পাল্লেকেলেতে। ১৬৩ রানের সেই ইনিংস থেকে টনিক নিয়ে এবার গল টেস্টে নেমেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
দু'জনের ওই দুটি সুখস্মৃতি একসঙ্গে নতুন করে রোমন্থনের মঞ্চ এবার তৈরি করে দিয়েছে শ্রীলঙ্কার সুদৃশ্য টেস্ট ভেন্যু গল। ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ কোল ঘেষেঁ দাঁড়িয়ে থাকা ভেন্যুতে মহাসাগরের গর্জনকে ছাপিয়ে গেছে এই দুই বাংলাদেশ ব্যাটারের ব্যাটের গর্জন।
পাল্লেকেলেতে ৪ বছর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অভিষেক ইনিংসে সেঞ্চুরির (১৩৬) পর ঝিমিয়ে পড়েছিলেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পরের ১০টি ইনিংস ছিল হতাশার। ২টি 'ডাক' সিঙ্গল ডিজিট ৬টিতে! এই প্রথম গল-এ নেমে পাল্লেকেলের উত্তাপ পেয়েছেন। থারিন্দু রত্নায়েককে পর পর দুই বলে ডাউন দ্য উইকেটে ছক্কা এবং কভার ড্রাইভে বাউন্ডারি শটে নিজের চাঙ্গাভাব করেছিলেন প্রকাশ শান্ত। প্রবথ জয়াসুরিয়াকে সুইপ শটে ফাইন লেগ দিয়ে ২ রান নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি উদযাপন করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ২০২৩ সালে ২ টেস্টে ৩ সেঞ্চুরিতে নিজেকে অন্যভাবে চেনানো শান্ত'কে পরবর্তী সেঞ্চুরির জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৯ মাস!
প্রিয় প্রতিপক্ষ পেলে হাতটা একটু বেশি নিশপিশ করে মুশফিকুর রহিমের। এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ৫৩.৮৪ গড়ে ১৩৪৬ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে তা আর একবার জানিয়ে দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম।
৯৯ রানে এসে কিছুক্ষণ আটকে থাকার পর আড়মোড়া ভেঙ্গেছেন। পেসার আসিথা ফার্নান্ডোর করা বলে ইনসাইড এজ হয়েও ঝুঁকিপূর্ণ সিঙ্গল নিতে পেরেছেন নন স্ট্রাইক ব্যাটার শান্ত'র সিগন্যালে। ওই রানের সঙ্গে পূর্ণ হয়েছে তার টেস্টে দ্বাদশ এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪র্থ সেঞ্চুরি।
এক যুগ আগে মুশফিকুরের ডাবল সেঞ্চুরির ম্যাচে অভিষিক্ত এনামুল হক বিজয় অভিষেক ইনিংসে ফিরেছিলেন আনলাকি থারটিনে। থেমে থেমে এক যুগে মাত্র টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছেন এবার নিয়ে ৭টি। আগের ৬টিতে ছিল না ফিফটি, এবার তো আরও করুণ দশা। ৯টি ডট করেও পাননি আত্মবিশ্বাস। আসিথা ফার্নান্দোর অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে যেয়ে বিপদ ডেকে এনেছেন, স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ০ রানে। আর এক ওপেনার সাদমান ইসলাম অনীকও করেছেন ভুল। বাঁ হাতি স্পিনার থারিন্দুকে অভিষেক উইকেট উপহার দিয়েছেন তিনি। লো বাউন্সি বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তিনি ১৪ রানের মাথায়।
আরও পড়ুন
| জয় দিয়েই নতুন চক্র শুরু করতে চান শান্ত |
|
মুমিনুল এদিন স্ট্রাইক রেটে মনযোগ দিয়ে ব্যাট করেও ইনিংসটাকে বড় করতে পারেননি। থারিন্দুকে ব্যাকফুটে কাট করতে যেয়ে স্লিপে দিয়েছেন ক্যাচ (২৯)।
তারপরও প্রথম দিন থেকে উজ্জীবনী টনিক নিয়ে আর একটি ভাল দিন উপহার দিক ক্রিকেট দল, সে দিকেই তাকিয়ে এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা।
No posts available.
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ৮:১৭ পিএম
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৪৫ পিএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বশেষ আসর কী বাজেভাবেই না কেটেছে বাবর আজমের ? সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটের মেগা আসরে ৪ ইনিংসে রানের সমষ্টি মাত্র ৯১। পাকিস্তান সেনসেশনের নামের সঙ্গে বড়ই বেমানান। গত ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই বাজে পারফরমেন্সের বিরূপ প্রভাব পড়েছে তার ক্যারিয়ারে। পরের মাসে বাংলাদেশ সফরে ওয়ানডে স্কোয়াডে বিবেচ্য হননি বাবর আজম।
পিএসএলের দশম সংস্করনেও নিজেকে চেনাতে পারেননি (২৮৮ রান)। তবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বাধিক রানের মালিকের (১৪৫ ম্যাচে ৩ সেঞ্চুরি, ৩৯ ফিফটিতে ৪৩৮০ রান) কদর অবশ্য কমেনি পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল)। প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে ৭ কোটি রুপিতে (বাংলাদেশী মুদ্রায় ৩ কোটি ৮ লাখ ১৫ হাজার ১৮৬ টাকা) পেশোয়ার জালমিতে ডাইরেক্ট সাইনিংয়ে থেকে গেছেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দুঃসময়ে পিএসএল ফ্রাঞ্চাইজি পেশোয়ার জালমির কদর তাকে করেছে পারফরমেন্সে উদ্বুদ্ধ। পিএসএলের ১১তম সংস্করণে চেনা বাবর আজম ছড়াচ্ছেন দ্যুতি। পিএসএলে চলমান আসরে বাবর আজমের পারফরমেন্স অতীতের সব রেকর্ডকে গেছে ছাড়িয়ে।
২০২১, ২০২৩, ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত পিএসএলে সর্বাধিক রানের মালিক এক আসরে করেছেন সর্বাধিক ৫৬৯ রান। চলমান আসরে ফাইনালের আগেই ছাড়িয়ে গেছেন সেই রেকর্ড। ইতোমধ্যে পেশোয়ার জালমির সুপার স্টার বাবর আজম ১০ ইনিংসে ৮৪.০০ গড়ে করেছেন ৫৮৮ রান। ২ সেঞ্চুরি, ৩ ফিফটিতে তার স্ট্রাইক রেট ১৪৬.২৬ প্রশংসনীয়। ৬০টি বাউন্ডারির পাশে ১৫টি ছক্কায়ও নিজেকে নতুনভাবে চিনিয়েছেন বাবর আজম এই আসরে। পিএসএলএর ১১টি সংস্করণের মধ্যে এর আগে ফখর জামান এক আসরে (২০২২) করেছেন ৫৮৮ রান। কোয়ালিফাইয়ারে এসে ফখর জামানকে ছুঁয়ে এখন পিএসএলে এক আসরে সর্বাধিক রানের রেকর্ডে চোখ বাবর আজমের।
পিএসএলের চলমান আসরে ৯ দিনের ব্যবধানে করেছেন ২টি সেঞ্চুরি, ১৯ এপ্রিল কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সের বিপক্ষে ৫২ বলে ১০০*-এর পর ২৮ এপ্রিল কোয়ালিয়াইয়ার ম্যাচে লাহোর কালান্দার্সের বিপক্ষে ৫৯ বলে ১০৩। তাঁর এই ইনিংসেই পেশোয়ার জালমি উঠেছে ফাইনালে।
পিএসএলে রানের ধারাবাহিকতায় টি-২০ ক্রিকেটে ২টি মাইলস্টোন পূর্ণ করেছেন বাবর আজম। শোয়েব মালিকের পর দ্বিতীয় পাকিস্তানী হিসেবে ১২ হাজার রানের মাইলফলকে রেখেছেন পা। অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার (১২৮) এবং ভারতের বিরাট কোহলির (১০৮) পর তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে টি-২০ ক্রিকেটে ফিফটির সেঞ্চুরি উদযাপন করেছেন (১০১টি)।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৫ হাজার রানের দিকে ধাবিত বাবর আজম এখন সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটে আছেন ফর্মের তুঙ্গে। এক সময়ে তিন সংস্করণের ক্রিকেটে ৫০-এর আশেপাশে গড় রানে ভারত সেনসেশন বিরাট কোহলিকে ছুঁড়েছিলেন চ্যালেঞ্জ। কিছুদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অধারাবাহিক বাবর সেই চেনারূপে ফেরার আভাস দিচ্ছেন।

বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটিং দেখে অতিমানবীয় ব্যাটিং দেখে কারও মনে কৌতূহল জাগতেই পারে—১৫ বছর বয়সী এই বালকের মধ্যে কী এমন বিশেষ কিছু আছে? কিভাবে এমন অবলীলায় বিশ্বের সেরা সব বোলারদের পাড়ার বোলার বানিয়ে ছাড়েন ভারতীয় এই ব্যাটার? কোনো ছলছাতুরির আশ্রয় নিচ্ছেন কি না সূর্যবংশী, এমন সন্দেহেরও উদ্রেক হচ্ছে অনেকের মনে।
এবারের আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটার সূর্যবংশীর ব্যাটিং দেখে সামাজিক মাধ্যমে তো রীতিমতো গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে—তাঁর ব্যাটের ভেতর কি কোনো 'এআই চিপ' লুকানো আছে? প্রশ্নটা প্রযুক্তির চেয়েও বেশি ছিল বিস্ময়ের। সূর্যবংশীর ব্যাটিং দেখে অনেকেরই মনে হচ্ছিল, সাধারণ ব্যাটে এমন শট খেলা তো অসম্ভব!
রাজস্থান রয়্যালস তাদের সামাজিক মাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেছে, যেখানে বৈভবকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হয়, ‘তোমার ব্যাটে কি এআই চিপ আছে?’ এমন অদ্ভুত প্রশ্নের জবাবে কোনো নাটকীয়তা নয়, বরং একগাল হাসি আর কিশোরসুলভ সারল্য নিয়ে বৈভব কাঁধ ঝাঁকিয়ে যে উত্তরটা দিয়েছে, তা হয়তো তাঁর মারা ছক্কাগুলোর মতোই অনেক দূর যাবে। আসলে মানুষের এই অবিশ্বাসটাই বুঝিয়ে দিচ্ছে বৈভবের ব্যাটিং কতটা অবিশ্বাস্য পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মানুষ এখন অলৌকিক বা অবাস্তব ব্যাখ্যা খুঁজতে শুরু করেছে।
বৈভব হেসেই উত্তর দিল, ‘ঈশ্বর লাগিয়ে দিয়েছেন। ওপর থেকেই বলে দিয়েছিলেন যে, তোমার ব্যাটে আমি কিছু একটা লাগিয়ে দিচ্ছি। আমি শুধু সেটারই ব্যবহার করছি।’
সূর্যবংশীর এই জবাবের পেছনে অবশ্য একটা প্রেক্ষাপট আছেও। পাকিস্তানের ক্রিকেট বিশ্লেষক ডক্টর নোমান নিয়াজ বৈভবের ব্যাটিং দেখে অনেকটা নাটকীয় ঢঙেই রসিকতা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বৈভবের ব্যাট পরীক্ষা করা উচিত এবং তাকে ল্যাবে পাঠানো দরকার—ঠিক যেভাবে ওয়াদা ডোপ টেস্ট করে। তিনি আরও যোগ করেছিলেন, বৈভবের ব্যাটে সম্ভবত কোনো ‘এআই চিপ’ আছে, কারণ তার ব্যাটিংটা একদমই ‘অবাস্তব’ মনে হচ্ছিল।
নোমান নিয়াজের এই মন্তব্যটি সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। বৈভবের ব্যাটিংয়ের ধার এখন এতটাই যে, তা ক্রিকেটের সাধারণ ব্যাকরণকেও যেন হার মানাচ্ছে। সূর্যবংশী কিন্তু নিজের ব্যাটের গুণগান গায়নি, নিজের টেকনিক নিয়েও কথা বলেনি, এমনকি সে অপমানিতও বোধ করেনি। খুব সহজভাবে আলোচনার মোড় প্রযুক্তি থেকে বিশ্বাসে, অভিযোগ থেকে রসবোধে এবং ল্যাব টেস্ট থেকে ঈশ্বরের উপহারে সরিয়ে নিয়েছেন।
মাঠে নামলেই রেকর্ড উৎসব করা সূর্যবংশী আইপিএলের চলতি আসরে ৯ ইনিংসে দুই ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরি ৪০০ রান করে সবার ওপরে আছেন। চোখ কপালে তোলা ২৩৮ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করা সূর্যবংশীর গড় ৪৪.৪৪।

দেশের মাঠে সাকিব আল হাসানকে বিদায় দেওয়া নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ক্রিকেটার একাধিকবার ঘরের মাঠে অবসর নেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক। এবার আরও একবার অধরা স্বপ্ন পূরণের কথা বললেন সাকিব।
মুম্বাইয়ে ইইউ টি২০ বেলজিয়াম ইভেন্টে জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাকিব। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসময় নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার, বাংলাদেশের ক্রিকেটের বর্তমান-ভবিষ্যত সহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন এই অলরাউন্ডার। দেশে ফিরে একটি টেস্ট খেলে বিদায় নিতে চান কি না এমন প্রশ্নে সাকিব সবকিছু ছেড়ে দেন সময়ের কাছেই।
সাকিব বলেন, ‘সেটা না হয় পরে দেখা যাবে। তবে আমি বিশ্বাস করি, আজ হোক বা কাল পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। সময়ের সঙ্গে সবকিছুই ঠিক হয়ে যায়। আমি আশাবাদী, আমি যা চাই (সম্মানজনক বিদায়), তা পাবো।’
এর আগেও তিন সংস্করণেই বাংলাদেশের জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামার স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন সাকিব। ৩৯ বছর বয়সী ক্রিকেটারকে ফেরানোর কথা বলেছিলেন সদ্য ভেঙে যাওয়া বিসিবির পরিচালক আসিফ আকবরও। তবে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন জটিলতায় সাকিবের ফেরা বারবার অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
২০২৪ সালে ভারত সফরের পর থেকেই জাতীয় দলের বাইরে সাকিব। তবে বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিয়মিতই খেলে বেড়াচ্ছেন সাকিব। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা সাকিব দেশকে মিস করা নিয়ে বলেন, ‘আমি তো দেশের জন্য অনেক খেলেছি। এখন তরুণদের সুযোগ দেওয়ার সময়।’
বাংলাদেশ দলের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ তারকাদের নিয়েও আশার কথা শোনান সাকিব। তাঁর মতে বাংলাদেশ আর আগের মতো নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং দল হয়ে খেলা শিখেছেন লিটন দাস-মেহেদী হাসান মিরাজরা, ‘একটা সময় বাংলাদেশ দল ব্যক্তি-নির্ভর ছিল, কিন্তু এখন দল হিসেবে তারা দারুণ খেলছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জয়ই তার প্রমাণ। এখন আর আগের মতো ব্যক্তি-কেন্দ্রিক খেলা নেই, বরং পুরো দল মিলে পারফর্ম করছে—এটাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার সঠিক পথ।’
তরুণ তুর্কি নাহিদ রানা প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, ‘নাহিদ রানাকে আমাদের খুব যত্ন করে গড়ে তুলতে হবে। সে এখনো অনেক তরুণ। ওর প্রতিভা আর মানসিকতা অসাধারণ, তবে সঠিক নির্দেশনার প্রয়োজন আছে। যদি তাকে ঠিকভাবে পরিচালনা করা যায়, তবে সে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বড় সম্পদে পরিণত হবে।’

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নতুন বিতর্ক রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক রিয়ান পরাগকে নিয়ে। পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন দলের ড্রেসিংরুমে বসে তাঁকে ইলেকট্রনিক সিগারেট বা ভেপ ব্যবহার করতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নড়েচড়ে বসেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। বিষয়টি নিয়ে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।
গতকাল মুল্লানপুরে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে রাজস্থানের ম্যাচ চলাকালীন এই অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্যটি সরাসরি সম্প্রচারের সময় ধরা পড়ে। রাজস্থান যখন ২২৩ রান তাড়া করছিল, ঠিক সেই সময় আউট হয়ে সাজঘরে ফেরার পর পরাগকে এমন অপেশাদার আচরণ করতে দেখা যায়। এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরপরই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন, বিসিসিআইয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বোর্ড বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এই ইস্যুতে রিয়ানের কাছে ব্যাখ্যা চাইব। ড্রেসিংরুমে বা মাঠের ভেতরে এ ধরনের কার্যকলাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তার ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আইপিএল কর্তৃপক্ষ।’
চলতি আসরে রাজস্থান রয়্যালস দলের ভেতরে এটি দ্বিতীয় দফার শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা। এর আগে গুয়াহাটিতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন দলের ম্যানেজার রভিন্দর ভিন্ডারকে মুঠোফোন ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছিল। সেই ঘটনায় তাঁকে সতর্ক করার পাশাপাশি ১ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছিল। এবার খোদ অধিনায়কের বিরুদ্ধেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠল।
২৪ বছর বয়সী রিয়ান পরাগ এবার রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সঞ্জু স্যামসন দল পরিবর্তন করে চেন্নাই সুপার কিংসে যোগ দেওয়ায় পরাগের ওপর নেতৃত্বের ভার তুলে দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে নেতৃত্বের পাশাপাশি ব্যাটে হাতেও তিনি চূড়ান্ত ব্যর্থ। এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে করেছেন ১১৭ রান, গড় ১৪.৬৩।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে। শুক্রবার জয়পুরে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামবে রাজস্থান। সেই ম্যাচের আগে বিসিসিআইয়ের এই কড়া অবস্থানে পরাগের অধিনায়কত্ব বা দলে তাঁর অবস্থান ঝুঁকির মুখে পড়ে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের আচরণবিধি এবং শৃঙ্খলার বিষয়ে বোর্ড সবসময়ই আপসহীন অবস্থানে থাকে।

শেষমেশ জিতল বৃষ্টি। নিষ্ফলা অপেক্ষার পর খেলা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা। টানা বৃষ্টির কারণে ম্যাচে টসও করা যায়নি।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার দুপুর ২টায় দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ ও নিউ জিল্যান্ডের।
সে লক্ষ্যে যথাসময়েই মাঠে চলে আসে দুই দল। কিন্তু বৃষ্টি না থামায় ড্রেসিং রুম থেকে বের হতে পারেননি ক্রিকেটাররা। প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর বিকেল সোয়া ৪টায় বাতিল ঘোষণা করা হয় ম্যাচ।
একই মাঠে প্রথম ম্যাচে কিউইদের বিপক্ষে ৬ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজে এখন তাই ১-০তে এগিয়ে স্বাগতিকরা।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী শনিবার তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে দুই দল।