৩০ এপ্রিল ২০২৬, ৩:০৮ এম
.jpeg)
আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ, একক নৈপুণ্য; সবই ছিল ম্যাচে। তবে গোলপোস্ট ছিল যেন এক তালাবদ্ধ কপাট। দুই পেনাল্টি থেকে গোল ছাড়া একাধিক চেষ্টাতেও খোলেনি। তাতেই ১-১ গোলের ড্রতে শেষ হলো চ্যাম্পিয়নস লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদ ও আর্সেনালের ফার্স্ট লেগ। আগামী মঙ্গলবার লন্ডনে ফিরতি লেগে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিতের মিশনে নামবে দু’দল।
বুধবার এস্তাদিও মেত্রোপলিতানোতে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া হাইভোল্টেজ ম্যাচে দুই অর্ধে দুটি গোল হয়েছে। আর্সেনানালের হয়ে প্রথমার্ধে গোল করেন ভিক্টর ইয়োকেরেস, দ্বিতীয়ার্ধে হুলিয়ান আলভারেজের দৃষ্টিনন্দন পেনাল্টিতে সমতায় ফেরে আতলেতিকো মাদ্রিদ।
ম্যাচ ঘড়ির সাড়ে পাঁচ মিনেট পর প্রথমবার গোছানো আক্রমণে ওঠে আর্সেনাল। প্রতিপক্ষের ডি বক্সের বাইরে ওয়ান টু পাসে মেতে ওঠে গানাররা। এরপর ডান প্রান্ত থেকে মাদুয়েকের হাওয়ায় ভাসানো শট থেকে উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যর্থ হন জুবিমেন্দি ও ওডেগার্ড। লাফিয়ে ওঠে দুজনেই চেষ্টা করেছিলেন জালে লক্ষ্যভেদ করতে। অবশ্য তা হেলায় নষ্ট হয়।
১৩তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের বুলেট গতির শট রুখে দেন ডেভিড রায়া। ডি বক্সের সামান্য দূর থেকে নেওয়া আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের শট ঝাঁপিয়ে বিপদমুক্ত করেন আর্সেনাল গোলকিপার। অথচ গ্যাব্রিয়েল ও রাইস কড়া পাহারায় রেখেছিলেন আলভারেজকে। তবে তার ক্ষিপ্রতার কাছে হার মানেন তারা।
পরের মিনিটে প্রতি আক্রমণে ওঠে আর্সেনাল। ডি-বক্সে ঢুকে পড়ে আক্রমণে ছুটে আসা ওডেগার্ডের দিকে দারুণ এক বল বাড়ান ভিক্টর ইয়োকেরেস। কিন্তু আর্সেনাল অধিনায়ক বলটি নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে দু-তিনটি বাড়তি টাচ নিয়ে ফেলেন। সেই সুযোগে দ্রুত পজিশন নিয়ে ওডেগার্ডের শট ব্লক করে দেন আতলেতিকো ডিফেন্ডাররা। ওডেগার্ড যদি বলটি পাওয়ার সাথে সাথেই প্রথম প্রচেষ্টায় শট নিতেন, হয়তো গোলটি পেয়ে যেতে পারত গানাররা।
৩০তম মিনিটে একটু জন্য লিড নেওয়া হলো না আর্সেনালের! মাঝমাঠে লুকম্যানের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন রাইস। এরপর ওডেগার্ডের বুদ্ধিদীপ্ত এক টাচে বল পেয়ে যান মাদুয়েকে। ডান প্রান্ত দিয়ে দ্রুত গতিতে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন এই উইঙ্গার। বক্সের প্রান্ত থেকে তার নেওয়া বাঁকানো শটটি ওবলাককে পরাস্ত করলেও দূরের পোস্ট ঘেঁষে মাঠের বাইরে চলে যায়। একটুর জন্য লিড নেওয়া হলো না গানারদের।
৪৪তম মিনিটে ইয়োকেরেস গোলে লিড আদায় করে আর্সেনাল। আলভারেজের একটি দুর্বল হেডার সরাসরি চলে যায় জুবিমেন্দিকে কাছে। ওডেগার্ডের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে তিনি বল বাড়িয়েছিলেন ইয়োকেরেসের দিকে। কিন্তু ডি-বক্সের ভেতর তাকে ফাউল করে বসেন হাঙ্কো। রেফারি এক মুহূর্ত দেরি না করে বাঁশি বাজিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। আতলেতিকোর খেলোয়াড়রা এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও, হাঙ্কোর চ্যালেঞ্জটি যে ফাউল ছিল তা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ খুব কমই আছে। এই গোলের সুবাধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় আর্সেনাল।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল নেশায় হন্যি হয়ে ছুটতে থাকে আতলেতিকো। ৫৭তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কর্ণার থেকে উড়ে আসা বলে লরেন্তের নেওয়া ভলি বেন হোয়াইটের হাতে লাগলে জোরালো দাবি তোলে স্বাগতিকরা। মুহূর্তেই মেত্রোপলিতানোর গ্যালারি উত্তাল হয়ে ওঠে। পেনাল্টির জোরালো আপিল নাকচ করলেও মাঠের রেফারি বর্তমানে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিআর) সঙ্গে কথা বলেন। শেষ পর্যন্ত রায় আতলেতিকোর পক্ষেই যায়।
আতলেতিকোর হয়ে পেনাল্টি শট নেন আরভারেজ। ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত প্লেসিংয়ে রায়ার ডান দিক দিয়ে বল জালে জড়ান আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তার দশম গোল। তবে গোলের সংখ্যার চেয়েও বড় কথা—ম্যাচে সমতায় ফিরল ‘লস রোহিব্লাঙ্কোস’রা।
৬৩তম মিনিটে লিড নিতে পারতো আতলেতিকো। ভাগ্যের নিদারুণ পরিহাসে গোলবঞ্চিত হন গ্রিজমান। লুকম্যানের স্কয়ার পাস থেকে বল পেয়েই চতুরতার সাথে চিপ করেছিলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষক রায়া পরাস্ত হলেও বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে গ্রিজমানের ভলি রক্ষণভাগে বাধা পেয়ে কর্নারের বিনিময়ে মাঠের বাইরে চলে যায়।
৭৫তম মিনিটে আবারও পেনাল্টি পায় আর্সেনাল। প্রথমার্ধে পেনাল্টি হজম করা সেই হাঙ্কোই আবারও খলনায়ক হিসেবে ধরা দেয়।বুকোয়া সাকার ক্রস রিসিভের আগেই এজেকে ফেলে দেন হাঙ্কো। রেফারি এক মুহূর্ত দেরি না করে সরাসরি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। তবে ভিএআর চেকে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। তাতেই বড় বাঁচা বেঁচে যায় আতলেতিকো। শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় শেষ হয় ফার্স্ট লেগ।
ম্যাচে ৫২ শতাংশ বল আতলেতিকো দখলে ছিল। যদিও প্রথমার্ধে তারা পিছিয়ে ছিল। ১৮টি শট নিয়ে ৪টি লক্ষ্যে তারা সিমিওনের শিষ্যরা। ১১টি শট নিয়ে ২টি লক্ষ্যে রাখে গানাররা।
No posts available.
১৫ মে ২০২৬, ১০:৪৩ এম
বার্সেলোনার তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালের ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানো নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তপ্ত বিতর্ক। স্প্যানিশ লিগ জয়ের উদযাপনে ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন করায় এই ফুটবলারের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। তাঁর মতে, ইয়ামালের এই কাজ ‘ঘৃণা ছড়ানোর' শামিল।
গত সোমবার লিগ জয় উপলক্ষে বার্সেলোনা শহরজুড়ে একটি ছাদখোলা বাস প্যারেডের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষের সেই ভিড়ে ১৮ বছর বয়সী ইয়ামালকে একটি বড় আকারের ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়াতে দেখা যায়। পরে মুসলিম এই ফুটবলার নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও সেই ছবি পোস্ট করেন।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্সে’ (সাবেক টুইটার) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ লেখেন,
'লামিন ইয়ামাল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন। যখন আমাদের সৈন্যরা হামাসের মতো সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে—যারা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইহুদি শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের ওপর গণহত্যা ও নির্যাতন চালিয়েছে।'
ইসরায়েলি মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর চুপ থাকেনি স্পেন সরকারও। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইয়ামালের এই কাজকে সমর্থন জানিয়ে পাল্টা বার্তা দিয়েছেন। সানচেজ বলেন, ইয়ামাল কেবল সেই সংহতিই প্রকাশ করেছেন যা লাখ লাখ স্প্যানিশ নাগরিক ফিলিস্তিনের প্রতি অনুভব করেন।
ইসরায়েল কাটজের নাম উল্লেখ না করে সানচেজ লেখেন,
'যারা মনে করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের পতাকা ওড়ানো মানেই ঘৃণা ছড়ানো, তারা হয় কাণ্ডজ্ঞান হারিয়েছে নতুবা নিজেদের হীনমন্যতায় অন্ধ হয়ে গেছে।'
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহতের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে যে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে, তার প্রভাব এখন স্পষ্ট ক্রীড়া ও সংস্কৃতি অঙ্গনেও। স্পেনের সরকার এবং সাধারণ মানুষ প্রথম থেকেই ইসরায়েলের এই অভিযানের কড়া সমালোচক।
বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক এ বিষয়ে সরাসরি তর্কে না জড়িয়ে জানিয়েছেন, পতাকা ওড়ানোর বিষয়টি ইয়ামালের একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল।
আগামী মাসে উত্তর আমেরিকায় বিশ্বকাপে স্পেনের অন্যতম প্রধান ভরসা হিসেবে মাঠে নামবেন ইয়ামাল। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের এই রাজনৈতিক ইস্যু নতুন করে উত্তেজনা বাড়ালো।
চলতি মৌসুমে ৪২ ম্যাচে ৪১ গোল-একজন ফরোয়ার্ডের জন্য এর চেয়ে ভালো পরিসংখ্যান আর কী হতে পারে? কিন্তু পরিসংখ্যান দিয়ে যে মাদ্রিদিস্তাদের মন জয় করা যাচ্ছে না, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন কিলিয়ান এমবাপে। বৃহস্পতিবার রিয়াল ওভিয়েদোর বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামার সময় নিজের ক্লাবের সমর্থকদের কাছ থেকেই দুয়ো শুনতে হয়েছে ২৭ বছর বয়সী এই তারকাকে।
ম্যাচের ৬৯ মিনিটে এমবাপে যখন বদলি হিসেবে মাঠে নামছিলেন, গ্যালারি থেকে ধেয়ে আসে কানফাটানো বিদ্রুপ আর শিস। ক্লাবের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিতর্কেরই যেন বহিঃপ্রকাশ ঘটল এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায়।
এমবাপে আউট শিরোনামে সম্প্রতি একটি অনলাইন পিটিশনে কোটি কোটি সমর্থক স্বাক্ষর করেছেন। চোট থেকে সেরে ওঠার ছুটিতে যখন রিয়াল মাদ্রিদ এস্পানিওলের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলছিল, তখন এমবাপের সার্ডিনিয়া দ্বীপে ইয়টে সময় কাটানোর ছবি ভাইরাল হয়। সমর্থকদের অভিযোগ, দলের দুঃসময়ে এমবাপের দায়বদ্ধতার অভাব রয়েছে।
এমবাপে অবশ্য এই বিদ্রূপ হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন,
‘শিস বা দুয়ো... এটাই জীবন। মানুষ যখন রেগে থাকে, আপনি তাদের মতামত বদলাতে পারবেন না। রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে এবং আমার মতো বিখ্যাত খেলোয়াড়দের জীবনে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক। ফুটবলারদের সবকিছু বুঝলে চলে না, তাদের পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিয়ে সামনে তাকাতে হয়।‘
মাঠের পরিবেশ কেবল এমবাপের বিরুদ্ধেই ছিল না। রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের বিরুদ্ধেও ‘পেরেজ এখনই বিদায় হও’ লেখা ব্যানার দেখা গেছে গ্যালারিতে। পরে অবশ্য নিরাপত্তারক্ষীরা সরিয়ে সেগুলো সরিয়ে ফেলেন। চলতি সপ্তাহে পেরেজ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন, ক্লাবের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করতে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালাচ্ছে।
মাঠের বাইরের উত্তাপ থাকলেও ওভিয়েদোর বিপক্ষে জয় তুলে নিতে ভুল করেনি রিয়াল। প্রথমার্ধের ঠিক আগে গঞ্জালো গার্সিয়ার গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ম্যাচের ৮০ মিনিটে এমবাপের অ্যাসিস্ট থেকে জুড বেলিংহ্যাম দ্বিতীয় গোল করে ২-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।
দেড় দশক পর বিশ্বফুটবলের মহোৎসবে ফিরছে নিউ জিল্যান্ড। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন দলটির প্রধান কোচ ড্যারেন বেজলি। প্রত্যাশিতভাবেই এই অভিযাত্রায় ‘অল হোয়াইটস’দের নেতৃত্ব দেবেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার ক্রিস উড।
দল ঘোষণার মধ্যমে দিয়ে নিউ জিল্যান্ড ফুটবলে এক নতুন ইতিহাস রচিত হচ্ছে। অধিনায়ক ক্রিস উড ও রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী টমি স্মিথ হতে যাচ্ছেন দেশটির প্রথম ফুটবলার, যারা দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করবেন। এর আগে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে এই দুজন নিউ জিল্যান্ড দলের সদস্য ছিলেন।
কোচ বেজলির ঘোষিত এই দলে অভিজ্ঞতার প্রাধান্য স্পষ্ট। দলের অর্ধেকের বেশি সদস্যের ঝুলিতে রয়েছে অন্তত ২৫টি বা তাঁর বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। মাত্র পাঁচজন ফুটবলার এমন আছেন যাদের আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা ১০ এর নিচে।
দল নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে কোচ ড্যারেন বেজলি বলেন,
'গত তিন বছর ধরে আমরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৫০ জন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করেছি। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে আমরা এই ২৬ জনকে বেছে নিয়েছি। সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া সহজ ছিল না, বিশেষ করে যারা সুযোগ পাননি তাদের বাদ দেওয়াটা ছিল অত্যন্ত কঠিন।'
বেজলি বলেন,
'এটি অত্যন্ত প্রতিভাবান এবং ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল। আমি আত্মবিশ্বাসী যে এই দল নিউজিল্যান্ডবাসীকে গর্বিত করবে এবং বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবে।'
নিউ জিল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্রিস উড দলকে নেতৃত্ব দিতে পেরে রোমাঞ্চ অনুভব করছেন। স্টিভ সামনার এবং রায়ান নেলসনের পর তৃতীয় অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের আর্মব্যান্ড পরবেন তিনি। উড বলেন,
'১৬ বছর পর আমরা বিশ্বকাপে ফিরেছি। অধিনায়ক হিসেবে দলকে মাঠে নামানো আমার জন্য এক বিশাল সম্মানের বিষয়। আমরা বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে চাই নিউ জিল্যান্ড ফুটবল কী করতে সক্ষম।'
ওশেনিয়া মহাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে লড়বে নিউ জিল্যান্ড। ‘জি’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে ইরান, মিশর ও শক্তিশালী বেলজিয়াম।
নিউ জিল্যান্ডের বিশ্বকাপ সূচি:
১৫ জুন: ইরান (লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম)
২১ জুন: মিশর (বিসি প্লেস ভ্যাঙ্কুভার)
২৬ জুন: বেলজিয়াম (বিসি প্লেস ভ্যাঙ্কুভার)
নিউ জিল্যান্ডের চূড়ান্ত স্কোয়াড
গোলকিপার:
ম্যাক্স ক্রোকোম্ব, অ্যালেক্স পলসেন, মাইকেল উড।
ডিফেন্ডার:
টাইলার বিন্ডন, মাইকেল বক্সাল, লিবারেটো কাকাস, ফ্রান্সিস ডি ভ্রিস, ক্যালান এলিয়ট, টিম পেইন, নান্দো পিজনেকার, টমি স্মিথ, ফিন সারম্যান।
মিডফিল্ডার:
লাচলান বেলিস, জো বেল, ম্যাট গারবেট, এলি জাস্ট, ক্যালাম ম্যাককওয়াট, বেন ওল্ড, অ্যালেক্স রুফার, মার্কো স্ট্যামেনিক, সারপ্রীত সিং, রায়ান থমাস।
ফরোয়ার্ড:
কোস্টা বারবারুসেস, জেসি র্যান্ডাল, বেন ওয়েন, ক্রিস উড।
২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ফ্রান্সের ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন দিদিয়ের দেশম। সবাইকে চমকে দিয়ে দেশমের চূড়ান্ত এই স্কোয়াডে জায়গা পাননি বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্যারিসে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফএফ) সদর দফতরে দেশম স্কোয়াড ঘোষণা করেন। বাদ পড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদে খেলা অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা।
সবচেয়ে বড় চমক ছিল কামাভিঙ্গার বাদ পড়া। স্কোয়াড ঘোষণার আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল যে ২৩ বছর বয়সী এই তারকা থাকছেন না, আর শেষ পর্যন্ত সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো।
আবার ক্রিস্টাল প্যালেসের স্ট্রাইকার জিন ফিলিপ মাতেতা তাঁর ক্যারিয়ারের মাত্র তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়েই বিশ্বকাপের দলে ডাক পেয়েছেন। অন্যদিকে টটেনহ্যামে ধারে খেলতে গিয়ে বাজে মৌসুম কাটানো পিএসজি ফরোয়ার্ড কোলো মুয়ানি দল থেকে বাদ পড়েছেন।
স্কোয়াডে কিলিয়ান এমবাপে যথারীতি মূল ভরসা হিসেবে থাকছেন। তবে তাঁর পাশাপাশি মাইকেল অলিসে, দেজিরে দুয়ে এবং ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রায়ান শেরকি এবার ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে নতুন ধার দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এন'গোলো কান্তে বর্তমানে তুরস্কের ক্লাবে খেললেও নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলার জন্য ডাক পেয়েছেন অভিজ্ঞতার বিচারে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে হতে যাওয়া বিশ্বকাপের পরই ফ্রান্সের কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন দেশম। টানা তৃতীয়বারের মতো ফ্রান্সকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আগামী ১৬ জুন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেনেগালের বিপক্ষে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ২০১৮ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপ 'আই'-তে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ ইরাক এবং নরওয়ে।
২০২৬ বিশ্বকাপের ২৬ সদস্যের ফরাসি স্কোয়াড:
গোলকিপার: মাইক মাইনান (এসি মিলান), রবিন রিসার (লেন্স), ব্রাইস সাম্বা (রেন)।
রক্ষণভাগ: লুকা দিনিয়ে (অ্যাস্টন ভিলা), মালো গুস্তো (চেলসি), লুকা হার্নান্দেজ (পিএসজি), থিও হার্নান্দেজ (আল-হিলাল), ইব্রাহিম কোনাতে (লিভারপুল), জুলেস কুন্দে (বার্সেলোনা), ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রোয়া (ক্রিস্টাল প্যালেস), উইলিয়াম সালিবা (আর্সেনাল), দায়ো উপামেকানো (বায়ার্ন মিউনিখ)।
মধ্যমাঠ: এন'গোলো কান্তে (ফেনারবাচে), মানু কোনে (এএস রোমা), আদ্রিয়েন রাবিয়ত (এসি মিলান), অরেলিয়েঁ চুয়ামেনি (রিয়াল মাদ্রিদ), ওয়ারেন জাইরি এমেরি (পিএসজি)।
আক্রমণভাগ: মাগনেস আকলিউশ (মোনাকো), ব্র্যাডলি বারকোলা (পিএসজি), রায়ান শেরকি (ম্যানচেস্টার সিটি), উসমান দেম্বেলে (পিএসজি), দেজিরে দুয়ে (পিএসজি), ফিলিপ মাতেতা (ক্রিস্টাল প্যালেস), কিলিয়ান এমবাপে (রিয়াল মাদ্রিদ), মাইকেল অলিসে (বায়ার্ন মিউনিখ), মার্কাস থুরাম (ইন্টার মিলান)।

বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের এমন কিছু অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছে, যা কেবল ম্যাচের ফল নির্ধারণ করেনি, স্থান করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই অবিশ্বাস্য 'সোলো রান' থেকে শুরু করে ব্রাজিলের মাঠে হামেস রদ্রিগেসের সেই চোখধাঁধানো ভলি—এই গোলগুলো ফুটবলপ্রেমীদের প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আজও সমানভাবে রোমাঞ্চিত করে। দেখে নেওয়া যাক ইতিহাসের সেরা ১০টি জাদুকরী।
১. ডিয়েগো ম্যারাডোনা বনাম ইংল্যান্ড (১৯৮৬)
বিশ্বকাপের সেরা গোলের তালিকা করলে সবার আগেই আসবে এই গোলটির নাম। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নিজের অর্ধে বল পেয়েছিলেন ম্যারাডোনা; এরপর শুরু হয় ফুটবল ইতিহাসের সেই অবিস্মরণীয় 'সোলো রান'। মাত্র ১১ সেকেন্ডের জাদুকরী ছন্দে ইংল্যান্ডের পাঁচজন ডিফেন্ডার এবং গোলকিপারকে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। ফুটবল ইতিহাসে এই গোলটি 'গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি' বা শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃত, যা আজও ম্যারাডোনার ফুটবলীয় মস্তিস্ক ও শ্রেষ্ঠত্বের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
২. কার্লোস আলবার্তো বনাম ইতালি (১৯৭০)
ম্যারাডোনার গোলটি যদি হয় একক নৈপুণ্যের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ, তবে ১৯৭০-এর ফাইনালে কার্লোস আলবার্তোর করা এই গোলটি ছিল দলগত ফুটবলের এক অনন্য মহাকাব্য। ব্রাজিলের সেই কিংবদন্তি দলটি পুরো মাঠজুড়ে অসাধারণ পাসিং ফুটবলের পসরা সাজিয়েছিল, যার শেষ প্রান্তে পেলের বাড়ানো এক মাপা পাস খুঁজে নেয় আলবার্তোকে। ব্রাজিলের অধিনায়ক বুলেট গতির এক শটে বল জালে জড়ান, যা ইতালির বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচটির ইতি টানে। আজও ফুটবল বিশ্বের অনেকে এটিকে ইতিহাসের সেরা ‘দলগত গোল’ হিসেবে বিবেচনা করেন।
৩. হামেস রদ্রিগেস বনাম উরুগুয়ে (২০১৪)
২০১৪ বিশ্বকাপে উরুগুয়ের বিপক্ষে এই চোখধাঁধানো ভলি দিয়েই বিশ্বমঞ্চে নিজের রাজকীয় আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন হামেস রদ্রিগেস। পেনাল্টি বক্সের বাইরে বুক দিয়ে বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই বাঁ-পায়ে এক দুর্দান্ত শট নেন এই কলম্বিয়ান তারকা; বলটি ক্রসবারে লেগে সজোরে জালে আছড়ে পড়ে। নিখুঁত ফিনিশিংয়ের অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকা এই গোলটি পরবর্তীতে ফিফা পুসকাস অ্যাওয়ার্ড জয় করে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি আজও অন্যতম নান্দনিক গোল হিসেবে স্বীকৃত।
৪. পেলে বনাম সুইডেন (১৯৫৮)
মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৯৫৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে পেলে এমন এক কীর্তি গড়েছিলেন, যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক মুহূর্ত হয়ে আছে। ডি-বক্সের ভেতর এক ডিফেন্ডারের মাথার ওপর দিয়ে বলটি আলতো করে তুলে দিয়ে , অসামান্য ক্ষিপ্রতায় এবং শান্ত মাথায় ভলিতে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন এই ব্রাজিলিয়ান ‘কালো মানিক’। সেই মুহূর্তেই ফুটবলবিশ্ব বুঝতে পেরেছিল, তারা যুগের সেরা এক মহাতারকার জন্ম হতে দেখল।
৫. রবিন ফন পার্সি বনাম স্পেন (২০১৪)
২০১৪ বিশ্বকাপের অন্যতম আইকনিক দৃশ্য হয়ে আছে রবিন ফন পার্সির সেই 'ফ্লাইং ডাচম্যান' গোলটি। ডেলি ব্লিন্ডের লম্বা পাস যখন স্পেনের বক্সের দিকে আসছিল, ফন পার্সি নিজেকে শূন্যে ভাসিয়ে এক অবিশ্বাস্য ডাইভিং হেডে বলটি গোলকিপার ইকার ক্যাসিয়াসের মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠিয়ে দেন। সেই ম্যাচে তৎকালীন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল নেদারল্যান্ডস, তবে ফন পার্সির সেই উড়ন্ত ফিনিশিংটিই পুরো ম্যাচের সব আলো কেড়ে নিয়েছিল।
৬. সাঈদ আল-ওয়াইরান বনাম বেলজিয়াম (১৯৯৪)
বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো আন্ডারডগ বা কম শক্তির দলের অবিস্মরণীয় মুহূর্তগুলোর কথা বললে সাঈদ আল-ওয়াইরানের এই গোলটি সবার উপরে থাকবে। নিজেদের সীমানার অনেক ভেতর থেকে বল পেয়ে তিনি বেলজিয়ান ডিফেন্সকে তছনছ করে এক জাদুকরী 'সোলো রান' শুরু করেন এবং শেষ পর্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ফিনিশ করেন। এই অসাধারণ গোলটি সৌদি আরবকে নকআউট পর্বে পৌঁছাতে সাহায্য করেছিল এবং এর শৈল্পিকতা ম্যারাডোনার ৮৬-র সেই বিখ্যাত গোলের সঙ্গে তুলনা কুড়িয়েছিল।
৭. ডিয়েগো ম্যারাডোনা বনাম বেলজিয়াম (১৯৮৬)
সেরা গোলের তালিকায় ম্যারাডোনার নাম দুইবার থাকাই স্বাভাবিক। বেলজিয়ামের বিপক্ষে সেমিফাইনালের এই গোলটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর সেই মহাকাব্যিক গোলের ছায়ায় ঢাকা পড়ে গেলেও, এটি ছিল ভারসাম্যের এক অবিশ্বাস্য প্রদর্শনী। চারজন ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিংয়ের ছন্দে নাচিয়ে ম্যারাডোনা নিজের ট্রেডমার্ক ভঙ্গিতে বলটি গোলকিপারের পাশ দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন।
৮. রবার্তো ব্যাজিও বনাম চেকোস্লোভাকিয়া (১৯৯০)
১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালিয়ান কিংবদন্তি রবার্তো বাজ্জিওর ফুটবলীয় প্রতিভা বিশ্বমঞ্চে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে দারুণ ড্রিবলিং আর গতির ঝড়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে এলোমেলো করে তিনি এগিয়ে যান। ডি-বক্সের ভেতর আঁকাবাঁকা পথে ঢুকে পড়ার পর অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তিনি আক্রমণটির ইতি টানেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি আজও অন্যতম নান্দনিক ‘সোলো গোল’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
৯. ডেনিস বার্গক্যাম্প বনাম আর্জেন্টিনা (১৯৯৮)
নিখুঁত কারিগরি দক্ষতার এক অসাধারণ নিদর্শন হয়ে আছে এই গোল। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের একদম শেষ মুহূর্তে ফ্রাঙ্ক ডি বোয়ারের বাড়ানো একটি লম্বা ডায়াগোনাল পাস খুঁজে নেয় ডেনিস বার্গক্যাম্পকে। ডাচ এই জাদুকর প্রথম স্পর্শেই বলটি অবিশ্বাস্যভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন, দ্বিতীয় টাচে ডিফেন্ডার রবার্তো আয়ালাকে ছিটকে দেন এবং তৃতীয় টাচে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ভলিতে গোল করেন। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের এই শৈল্পিক গোল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক দৃশ্য হয়ে আছে।
১০. বেঞ্জামিন পাভার্ড বনাম আর্জেন্টিনা (২০১৮)
২০১৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বেঞ্জামিন পাভার্ডের সেই সমতাসূচক গোলটি মুহূর্তেই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দৃশ্যে পরিণত হয়। বক্সের বাইরে থেকে আসা একটি বাউন্সিং বলকে ফরাসি এই ডিফেন্ডার নিখুঁত এক হাফ-ভলিতে বাঁক খাইয়ে পোস্টের ওপরের কোণা দিয়ে জালে পাঠিয়ে দেন। সাত গোলের সেই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ফ্রান্স ৪-৩ ব্যবধানে জিতে এবং শেষ পর্যন্ত সেবার তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নই হয়।