
আকাশি-সাদা জার্সিতে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরার খেলা দেখতে সবসময়ই মুখিয়ে থাকে ভক্ত-সমর্থকেরা। তবে বয়স তো কম হলো না, ক্যারিয়ারের অন্তিম লগ্নে এসে লিওনেল মেসি এখন ম্যাচ খেলছেন বেছে বেছে।
বুয়েনস এইরেসে আগামী পরশু এস্তাদিও মনুমেন্তালে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ঘরের মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। জাতীয় দলের জার্সিতে চিরচেনা উঠোনে যে এটিই তাঁর শেষ ম্যাচ হতে পারে, সে কথা নিজেই এরই মধ্যে জানিয়েছেন মেসি।
‘বিশেষ’ এই ম্যাচটি ঘিরে আছে নানান পরিকল্পনাও। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনার সবশেষ ম্যাচটিতে মেসিকে ছাড়াই মাঠে নামতে পারে লিওনেল স্কালোনির দল। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম মুন্দো আলবিসেলেস্তা জানিয়েছে, ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচে অনিশ্চিত মেসি।
আরও পড়ুন
| মেসি-রোনালদো কেন সবার চেয়ে আলাদা, বললেন স্কালোনি |
|
নিজেদের মাঠে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচের পর ১০ সেপ্টেম্বর ইকুয়েডরের মাঠে খেলবে আর্জেন্টিনা। লাতিন আমেরিকা অঞ্চল থেকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপের মূলপর্বের টিকিট এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ম্যাচটির বিশেষ গুরুত্ব থাকলেও ইকুয়েডরের মাঠে ম্যাচটি নিয়ে কম আগ্রহই থাকবে সমর্থকদের।
তুলনামূলক গুরুত্বহীন ইকুয়েডর ম্যাচটিতে তাই মেসির খেলার সম্ভাবনা কমই বলা যায়। গুঞ্জন আছে চোট থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতেও এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন মেসি। সম্প্রতি ৩৮ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন মহাতারকার হাঁটুর চোট প্রায়ই মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
মেসির ক্লাব ইন্টার মায়ামিও মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে। মেজার লিগ সকারে (এমএলএস) ইস্টার্ন কনফারেন্স থেকে পয়েন্ট টেবিলের ছয়ে আছে মেসির ক্লাব। ২৫ ম্যাচে মায়ামির অর্জন ৪৬ পয়েন্ট। মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এসে নিজেকে ফিট রাখতেই ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারেন রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। এ ছাড়া বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে দলের নিয়মিত সদস্যদের বিশ্রামে রেখে তরুণদের বাজিয়ে দেখতে পারেন কোচ স্কালোনি।
দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ১৬ ম্যাচে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে আর্জেন্টিনা। সমান ম্যাচ খেলে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ইকুয়েডর। আর্জেন্টিনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলও ২৫ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে টেবিলের তিন নম্বরে রয়েছে।
No posts available.
২০ মে ২০২৬, ১১:৩২ এম
১৯ মে ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
১৯ মে ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

চলতি মৌসুমে গুরুতর হাঁটুর চোটের কারণে এক ঘণ্টাও মাঠে থাকার সুযোগ পাননি জ্যাকি আমদুনি। এই ফরোয়ার্ডকে নিয়েই মঙ্গলবার ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে সুইজারল্যান্ড।
গত বছরের জুলাইয়ে এসিএল ছিঁড়ে যাওয়ার পর ১০ মাস মাঠের বাইরের ছিলেন আমদুনি। দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার পর চলতি মাসে মাঠে ফেরেন ২৫ বছর বয়সী এই তরুণ। তবে পুরো ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি তিনি।
তিন ম্যাচে বদলি নেমে মোট ৪৫ মিনিট মাঠে ছিলেন বার্নলিতে খেলা আমদুনি। জাতীয় দলের হয়ে ২৭ ম্যাচে ১১ গোল করার দারুণ রেকর্ডই শেষ পর্যন্ত তাঁকে মুরাত ইয়াকিনের দলে জায়গা করে দিয়েছে।
আরও পড়ুন
| পাকিস্তানকে আবার হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশের ইতিহাস |
|
৩৩ বছর বয়সী গ্রানিত জাকা এবারও সুইসদের আর্মব্যান্ড পরবেন। বর্তমানে সান্ডারল্যান্ডে খেলা এই মিডফিল্ডার জাতীয় দলের হয়ে নিজের রেকর্ড ১৪৪ ম্যাচের সংখ্যাকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে উত্তর আমেরিকায় পা রাখবেন। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপটি হতে যাচ্ছে জাকার ক্যারিয়ারের টানা চতুর্থ বিশ্বকাপ।
সুইজারল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশন এবার বেশ ভিন্নধর্মী উপায়ে তাদের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেছে। দুই দিন ধরে চলা একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ক্যাম্পেইনে সাধারণ সুইস নাগরিকদের কর্মক্ষেত্রের ছবির ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ২৬ জন খেলোয়াড়দের নাম, যা সমর্থকদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানানো হয়।
দল নির্বাচনে বেশ কিছু চমক দেখিয়েছেন কোচ ইয়াকিন। ২০২৩ সালের পর জাতীয় দলের জার্সিতে খুব একটা দেখা না গেলেও আক্রমণভাগে ক্রিশ্চিয়ান ফাসনাখট এবং সেড্রিক ইটেনকে দলে ডেকেছেন তিনি। এর মধ্যে চলতি মৌসুমে ঘরোয়া লিগে ১৮ গোল করা ফাসনাখট এবং তাঁর ইয়াং বয়েজ সতীর্থ গোলকিপার মারভিন কেলারই কেবল সুইজারল্যান্ডের লিগ থেকে দলে জায়গা পেয়েছেন। লিগ চ্যাম্পিয়ন থুনের কোনো খেলোয়াড় স্কোয়াডে জায়গা পাননি।
ইন্টার মিলানের হয়ে সিরি-আ জেতা ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকানজি জায়গা পেয়েছেন দলে। আজ অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ইউরোপা লিগের ফাইনাল খেলতে যাওয়া ফ্রাইবুর্গের ২০ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি জোহান মানজাম্বিও আছেন এই স্কোয়াডে। গত বছর মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফর্ম করে নজর কেড়েছিলেন মানজাম্বি।
১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘বি’ তে সুইজারল্যান্ড। ১৩ জুন কাতারর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে সুইসরা। গ্রুপে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ কানাডা এবং বসনিয়া ও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।
সুইজারল্যান্ডের বিশ্বকাপ দল:
গোলকিপার: গ্রেগর কোবেল (বরুশিয়া ডর্টমুন্ড), ইভন এমভোগো (লরিয়েন্ট), মারভিন কেলার (ইয়াং বয়েজ)।
রক্ষণভাগ: ম্যানুয়েল আকাঞ্জি (ইন্টার মিলান), নিকো এলভেদি (বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখ), রিকার্ডো রদ্রিগেজ (রিয়াল বেতিস), সিলভান উইডমার (মাইনজ), মিরো মুহাইম (হামবুর্গার এসভি), অরেল আমেন্দা (আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট), এরায় কোমার্ট (ভ্যালেন্সিয়া), লুকা জাকুয়েজ (স্টুটগার্ট)।
মাঝমাঠ: গ্রানিত জাকা (সান্ডারল্যান্ড), জোহান মানজাম্বি (ফ্রাইবুর্গ), রেমো ফ্রয়লার (বলোনিয়া), ডেনিস জাকারিয়া (মোনাকো), আরডন জাশারি (এসি মিলান), জিবরিল সো (সেভিলা), ক্রিশ্চিয়ান ফাসনাখট (ইয়াং বয়েজ), মিশেল এবিশার (পিসা), ফ্যাবিয়ান রিডার (অগসবার্গ), রুবেন ভার্গাস (সেভিলা)।
আক্রমণভাগ: ব্রেল এমবোলো (রেনস), নোয়াহ ওকাফোর (লিডস), ড্যান এনদোয়ে (নটিংহ্যাম ফরেস্ট), জেকি আমদুনি (বার্নলি), সেড্রিক ইটেন (ফরচুনা ডুসেলডর্ফ)।

প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াইয়ের রোমাঞ্চকর নাটকের অবসান ঘটল বোর্নমাউথের ভাইটালিটি স্টেডিয়ামে। মঙ্গলবার রাতে স্বাগতিকদের সঙ্গে ড্র করে শিরোপার রেস থেকে ছিটকে গেছে ম্যানচেস্টার সিটি। শেষ রাউন্ডের খেলার আগেই লিগ শিরোপা নিশ্চিত হলো আর্সেনালের।
প্রতিপক্ষের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। এই হারে চলতি মৌসুমে পেপ গার্দিওলাকে এফএ কাপ এবং কারাবাও কাপের ডাবল নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।
সিটির হোঁচটের দিনে প্রিমিয়ার লিগে ৮,০৬০ দিনের ট্রফির খড়া ভেঙ্গেছে আর্সেনাল। এর আগে সবশেষ ২০০৩-০৪ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা ঘরে তুলেছিল আর্সেনাল। বছরের হিসেবে দীর্ঘ ২২ বছর পর আবারও শিরোপা নিশ্চিত করল গানাররা।
আরও পড়ুন
| আর্জেন্টিনাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, হুঙ্কার অস্ট্রিয়ান স্ট্রাইকারের |
|
লিগ শিরোপা রেসে টিকে থাকতে এদিন জয়ের কোন বিকল্প ছিল না ম্যানচেস্টার সিটির। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে উল্টো পিছিয়ে পড়ে তারা। বোর্নমাউথের ফরাসি ফরোয়ার্ড জুনিয়র ক্রুপির বাঁকানো শটের চমৎকার গোলে স্তব্ধ হয়ে যায় সিটি।
এরপর ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ম্যান সিটি। কাঙ্খিত সেই গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয় ম্যাচের ইনজুরি টাইম পর্যন্ত। ৯০+৫ মিনিটে আর্লিং হালান্ড সমতাসূচক গোল করলেও তা কেবল সিটির পরাজয় এড়াতে পেরেছে, প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি নয়।
৩৭ ম্যাচ শেষে ৮২ পয়েন্ট নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শিরোপা নিশ্চিত হলো আর্সেনালের। সমান ম্যাচে ৭৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে সিটি। ৩৭ ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে ৬ নম্বরে বোর্নমাউথ।
ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে রোববারের ম্যাচটি এখন মিকেল আরতেতা ও তাঁর শিষ্যদের জন্য কেবলই এক রাজকীয় উৎসবের মঞ্চ। দীর্ঘ ২২ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে গানাররা এখন প্রস্তুত প্রিমিয়ার লিগের রাজমুকুট মাথায় পরার জন্য।
সিটির সঙ্গে এই ১ পয়েন্ট অর্জনের মাধ্যমে আগামী মৌসুমে ইউরোপা লিগে খেলা নিশ্চিত হয়েছে বোর্নমাউথ। চলতি মৌসুমে আন্দোনি ইরাওলাওয়ের অধীনে টানা ১৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার অনন্য রেকর্ড গড়ল ক্লাবটি।

ফ্রেইবুর্গ এবং অ্যাস্টন ভিলা—ইউরোপীয় ফুটবলে দল দুটির দুঃখ প্রায় একই সমানুপাতিক। মাঠের ফুটবল দিয়ে প্রতিনিয়ত নজর কাড়লেও বড় কোনো সাফল্য না পাওয়ার আক্ষেপে পুড়ছে তারা। ১৯০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর শীর্ষ স্তরের কোনো মেজর শিরোপা জেতেনি জার্মান ক্লাব ফ্রেইবুর্গ। ভিলা পার্কের ক্লাব অ্যাস্টন ভিলা সেদিক থেকে এগিয়ে থাকলেও তাদের ট্রফি কেবিনেটে ধুলো জমেছে।
১৯৮২ সালে ইউরোপিয়ান কাপ (বর্তমান চ্যাম্পিয়নস লিগ) এবং ১৯৯৬ সালে লিগ কাপ জেতার পর, দীর্ঘ ৩০টি মৌসুম ধরে মেজর শিরোপা ঘরে তুলতে পারেনি ইংলিশ ক্লাবটি। এবার ইউয়েফা ইউরোপা লিগের ট্রফি জয়ই পারে দুই দলের দীর্ঘদিনের এই শিরোপা খরা ও আক্ষেপের অবসান ঘটাতে।
বুধবার ইস্তাম্বুলের তুপরাস স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ইউরোপা লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে অ্যাস্টন ভিলা ও ফ্রেইবুর্গ। এই ম্যাচটি মূলত দুই দলের জন্যই ইতিহাস গড়ার এবং ট্রফি খরা কাটানোর এক মহা চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন
| আর্জেন্টিনাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, হুঙ্কার অস্ট্রিয়ান স্ট্রাইকারের |
|
টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে নটিংহাম ফরেস্টকে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে ফাইনালে পা রাখে অ্যাস্টন ভিলা। সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ব্রাগার মাঠে ২-১ গোলে হারের পর দ্বিতীয় লেগে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ফ্রেইবুর্গ। লুকাস কুবলারের গোল এবং ইয়োহান মানজাম্বির জোড়া স্ট্রাইকে পর্তুজাল প্রতিপক্ষকে ৪-৩ অ্যাগ্রিগেটে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম কোনো ইউরোপীয় ফাইনালে ওঠে জার্মান ক্লাবটি।
অ্যাস্টন ভিলা এবারই প্রথম ইউরোপা লিগের ফাইনাল খেললেও তাদের ডাগআউটে আছেন এই প্রতিযোগিতার সফলতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ কোচ উনাই এমেরি। এটি এমেরির ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ইউরোপা লিগ ফাইনাল। স্প্যানিশ এই কোচ সেভিয়ার হয়ে তিনবার এবং ভিয়ারিয়ালের হয়ে একবার এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছেন। মর্গান রজার্সের মতো তরুণদের সৃজনশীলতা এবং ওলি ওয়াটকিন্সের দুর্দান্ত ফর্মের ওপর ভর করেই ১৯৮২ সালের পর প্রথম কোনো ইউরোপীয় ফাইনালে উঠেছে ভিলা। তার মধ্যে গত শুক্রবার লিভারপুলকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগ টেবিল থেকে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিশ্চিত করেছে এমেরির দল।
ফাইনাল প্রসঙ্গে এমেরি বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতায় আমার আগের অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক লড়াই। ফুটবলে অতীতে আপনি যা করেছেন, তা যতই চমৎকার হোক না কেন, তা অতীত। এখন এটি একটি নতুন অধ্যায় এবং আমি এখানে নতুন ইতিহাস লিখতে চাই।’
নিজেদের ক্লাব ইতিহাসে প্রথম কোনো ইউরোপীয় ফাইনাল খেলতে নামলেও, দারুণ সুখস্মৃতি ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে ফ্রেইবুর্গ। গত শনিবার বুন্দেসলিগার ম্যাচে আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে টেবিলের সপ্তম স্থান নিশ্চিত করেছে তারা, যা তাদের আগামী মৌসুমের কনফারেন্স লিগ নিশ্চিত করেছে। তবে কোচ জুলিয়ান শুস্টারের দল খুব ভালো করেই জানে, ফাইনালে জয় পেলে তারা এর চেয়েও বড় কিছু অর্জন করতে পারবে। এই ম্যাচে জয়ী হলে বুন্দেসলিগার কম বাজেটের এই ক্লাবটি সরাসরি আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার সুযোগ পাবে। যা ক্লাবটির জন্য আরও কয়েক মিলিয়ন ইউরোর অতিরিক্ত আয়ের পথ খুলে দেবে।
শিরোপা জিততে হলে ফ্রেইবুর্গকে সব সমীকরণ উল্টে দিতে হবে, কারণ কাগজের কলমে অ্যাস্টন ভিলাই স্পষ্ট ফেবারিট। ফ্রেইবুর্গের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ম্যাথিয়াস গিন্টার বলেন, ‘এটি ফুটবল, এখানে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে, বিশেষ করে যখন ম্যাচটি ফাইনাল। তাই মাঝে মাঝে আন্ডারডগ বা পিছিয়ে থাকা দলও ফেবারিটদের হারিয়ে দেয়।’
ক্লাবের সাবেক খেলোয়াড় শুস্টারের অধীনে প্রধান কোচ হিসেবে তার দ্বিতীয় মৌসুমেই দলটি সব প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৪ সালে কোচিং লাইসেন্স পাওয়া শুস্টার, ক্লাবের দীর্ঘ ১২ বছরেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করা ক্রিশ্চিয়ান স্ট্রেইচের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। চাপ সামলানো প্রসঙ্গে শুস্টার বলেন, ‘আমি চাপকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখি। কারণ এটি আমাকে অনুপ্রাণিত করে এবং যেকোনো কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করার অনুপ্রেরণা জোগায়।’

বিশ্বকাপে ‘জে’ গ্রুপে অস্ট্রিয়া। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টে ফেরা দলটির গ্রুপে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ছাড়াও রয়েছে আলজেরিয়া ও জর্ডান। বলা চলে, বেশ কঠিন গ্রুপেই পড়েছে ইউরোপের এই দলটি। গ্রুপে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাকলেও দৃঢ় মনোবল অস্ট্রিয়ান স্ট্রাইকার সাসা কালাইচিচের। ২৮ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার সাফ জানিয়ে রাখলেন, আর্জেন্টিনার মতো প্রতিপক্ষ দেখে মাঠের লড়াইয়ের আগেই কুঁকড়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই তাদের।
কালাইচিচ বলেন,
‘আমার মতে, কোনো প্রতিপক্ষকে ভয় পাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে এই দল নিয়ে তো নয়ই। আমাদের দলে কিছু অবিশ্বাস্য ব্যক্তিগত নৈপুণ্যনির্ভর মেধাবী খেলোয়াড় আছে; কিন্তু একতা, দলীয় চেতনা, দৃঢ়তা ও তাড়নাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’
তিনি আরও যোগ করেন,
‘এটা স্রেফ এক ঐক্যবদ্ধ শক্তি এবং ছেলেরা অবিশ্বাস্য কাজ করেছে। তারা বাছাইপর্বে গ্রুপ সেরা হয়ে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে, যা দীর্ঘদিন ধরে সম্ভব হয়নি। আপনি এখন সারা দেশের সেই উচ্ছ্বাস অনুভব করতে পারবেন এবং অস্ট্রিয়ার প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে প্রত্যেকেই অবিশ্বাস্যভাবে গর্বিত।’
আগামী সোমবার বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করে অস্ট্রিয়া। রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবা ছাড়াও দলটিতে রয়েছেন টটেনহ্যাম ডিফেন্ডার কেভিন ডানসো, বায়ার্ন মিউনিখ মিডফিল্ডার কনরাড লাইমার, বরুসিয়া ডর্টমুন্ড মিডফিল্ডার মার্সেল সাবিতজার ও আরবি লাইপজিগ মিডফিল্ডার ক্রিস্টোফ বাউমগার্টনার। চেনা তারকাদের নিয়ে গড়া এই স্কোয়াডের কারণেই উচ্চাশার কমতি নেই কালাইচিচের।
দলের শক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,
‘অস্ট্রিয়া সবসময় আগ্রাসী ঘরানার ফুটবল খেলে এবং আমাদের দলে সেই ধরনের ফুটবল খেলার মতো উপযুক্ত খেলোয়াড় আছে। আপনি যখন মাঠে তীব্রতা আর পূর্ণ নিবেদন নিয়ে খেলবেন, তখন তা প্রতিপক্ষের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলবে। আমরা আসলে খেলোয়াড়, কোচ, স্টাফ ও সমর্থকদের নিয়ে খুব ঘনিষ্ঠ একটি দল—পুরো দেশটাই এখন এক সুতোয় গাঁথা।’
প্রায় তিন দশক পর বিশ্বকাপে ফিরে গ্রুপ পর্বেই বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে অস্ট্রিয়াকে। আগামী ২২ জুন টেক্সাসে অনুষ্ঠিত হবে হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি। তবে তার আগে ১৭ জুন ‘জে’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে নবাগত জর্ডানের মুখোমুখি হবে তারা। আর ২৭ জুন গ্রুপের শেষ ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে অস্ট্রিয়ানরা।
তিনি বলেন,
“এটা স্রেফ এক ঐক্যবদ্ধ শক্তি এবং ছেলেরা অবিশ্বাস্য কাজ করেছে। তারা বাছাইয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে, দীর্ঘদিন যা হয়নি। আপনি এখন সারা দেশের সেই উচ্ছ্বাস অনুভব করতে পারবেন এবং অস্ট্রিয়ার প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে প্রত্যেকেই অবিশ্বাস্যভাবে গর্বিত।”

মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে নারী ফুটসাল লিগে খেলা দেখতে আজ উপস্থিত ছিলেন ৭-৮শ' দর্শক। এক একটা গোলের পর উল্লাসে ফেটে পড়েছেন তারা, স্লোগান দিচ্ছিলেন সাবিনা, মাসুরা, সুমাইয়াদের নিয়ে। দর্শকদের সেই উল্লাস শুরু থেকে চললো ম্যাচ শেষ পর্যন্ত। মঙ্গলবার চাঁদপুর এফসিকে যে সাবিনাদের দল আইএম টেন এফসি উড়িয়ে দিয়েছে ১৮-০ গোলে।
খেলা শেষে দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার মাসুরা পারভীনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় ভক্ত, দর্শকদের এই আনন্দটুকু দিতে পারাটাই তাঁদের সবচেয়ে বড় পাওয়া। তেমনি মাসুরা নিজেও কিন্তু ফুটবলে পার ভক্ত ব্রাজিলের। গত রাতে বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড দিয়েছেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
অনেক জল্পনার পর আনচেলত্তির দলে জায়গা পেয়েছেন নেইমার জুনিয়র। ব্রাজিলের সাপোর্টার হিসেবে নেইমারকে দলে নেওয়ায় বেজায় খুশি মাসুরা। পাশাপাশি একটু অখুশি নিজের আইডল থিয়াগো সিলভা না থাকাতে। তবুও জানালেন কেউ না থাকলেন তিনি ব্রাজিলের সাপোর্ট করবেন। বলেন,
'ব্রাজিল দলে নেইমার আছে, দেখার পর খুবই ভালো লাগছে। আর কেউ থাকুক বা না থাকুক, ব্রাজিল সাপোর্ট করি আমি, সব সময় সাপোর্ট করব।'
সবশেষ ২০০২ সালের বিশ্বকাপে পঞ্চমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। হেক্সা মিশন তাদের আর সফল হয়নি। দলের সাপোর্টার হিসেবে এবার সেই কাঙ্খিত আশা পুরণ হবে বলে মনে করেন মাসুরা,
'ব্রাজিল ভালো খেলবে, ভালোর চেষ্টা করবে। তারপর কাপের ইচ্ছা তো সবারই থাকে, তো ব্রাজিলেরও থাকবে (চ্যাম্পিয়ন হওয়ার)। আশা করতে সমস্যা আছে কী।'
দেশের নারী ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার মাসুরা পারভীন। ২০২২ ও ২০২৪ সালে বাংলাদেশের জেতা সাফ দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। এরপর ফুটসালেও প্রথমবারের মতো গত বছর সাফ জিতেছেন সাতক্ষীরা থেকে উঠে আসা এই তারকা।
এখন ফুটসালের সঙ্গেই আছেন বাফুফের চুক্তিবদ্ধ এই ফুটবলার। যখন আবার ফুটবলের দায়িত্ব পাবেন তখন নিজেকে সেখানেই মানিয়ে নেবেন, এ নিয়ে কোনো হতাশা কিংবা ক্ষোভ নেই তাঁর।আপাতত ফুটসাল উপভোগ করছেন বলে জানালেন। লিগে তাঁর দলও উড়ছে। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিচ্ছে আইএম টেন এফসি। তবু প্রতিটি দলতে সমীহ করছেন তিনি।
মাসুরা বলেন,
'প্রত্যেকটা ম্যাচই আমরা চ্যালেঞ্জিং হিসেবে নেই। সে ভালো খেলুক আর না খেলুক, প্রতিপক্ষ সবসময় শক্তিশালীই হয়। তো আজ ওদের গোলকিপার অনেক ভালো খেলছে।'
আজকের ম্যাচে প্রায় পুরোটা সময় গ্যালারি থেকে সাবিনা-মাসুরা-কৃষ্ণাদের উৎসাহ জুগিয়েছেন সমর্থকেরা। ম্যাচ শেষে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মাসুরা বলেন,
'জিতলে তো সব সময় ভালো লাগা কাজ করে। আর আমরা মাঠে নামি একটা ভালো ম্যাচ খেলার জন্য, দলের জন্য, দর্শকদের জন্য। তো আমাদের জয়ে তারা (দর্শক) অনেক খুশি হয়েছে, এটাই আমাদের পাওয়া। আমরা সবসময় চেষ্টা করি আমাদের ভালো, ভালো পারফরমেন্সটা দেওয়ার।'
মাসুরা পারভীনরা এভাবেই সব সময় দর্শকদের আনন্দের কারণ হয়েছেন। সেটা যখন ফুটবল মাঠে ছিলেন তখন যেমন করেছেন, এখন দায়িত্ব যখন ফুটসাল কোর্টে, চিরচেনা সেই মাসুরার দেখাই মিলছে।