
লা লিগায় ঘরের মাঠে অপ্রতিরোধ্য বার্সেলোনা। শনিবার রাতে মায়োর্কাকে হারিয়ে চলতি মৌসুমে নিজেদের ডেরায় ১১ ম্যাচের সবগুলোতেই জয় পেল হানসি ফ্লিকের দল।
ন্যু ক্যাম্পে মায়োর্কার বিপক্ষে বার্সেলোনার জয় ৩-০ গোলের। গোল করেছেন রবার্ট লেভানডফস্কি, লামিনে ইয়ামাল ও মার্ক বার্নাল।
প্রথমার্ধে অবশ্য কিছুটা ভুগেছে স্বাগতিকদের রক্ষণ। মায়োর্কার জান ভারজিলি একাধিকবার কুন্দের বিপক্ষে জায়গা করে নিলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি সফরকারীরা।
আরও পড়ুন
| ফুটবলারদের বিবৃতির পর হঠাৎ স্থগিত লা লিগার ম্যাচ |
|
২৯ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ক্লিয়ার করতে পারেননি, দানি ওলমোর পায়ে লেগে পেয়ে যান লেভানডফস্কি। নিখুঁত শটে দলকে এগিয়ে নেন পোলিশ স্ট্রাইকার।
দ্বিতীয়ার্ধে ছন্দ পুরোপুরি হারায় মায়োর্কা। ৬১ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান ইয়ামাল। ২৫ গজ দূর থেকে জায়গা করে নেওয়া দুর্দান্ত শট সরাসরি জালে পাঠান ১৮ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। মায়োর্কার বিপক্ষে শেষ ৬ ম্যাচে এটি তাঁর তৃতীয় গোল।
শেষ দিকে প্রতি আক্রমণ থেকে স্কোরলাইন আরও বড় করে বার্সেলোনা। ৮৩ মিনিটে বক্সে ঢুকে ডিফ্লেকশনের সহায়তায় নিজের প্রথম লা লিগা গোলটি করেন মার্ক বার্নাল।
এই জয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের থেকে চার পয়েন্টে এগিয়ে বার্সেলোনা। ২৩ ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট বার্সেলোনার। এক ম্যাচ কম খেলে দুইয়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ৫৪। আজ রাতে ভ্যালেন্সিয়ার মুখোমুখি হবে লস ব্লাঙ্কোসরা।
No posts available.
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:০৮ পিএম
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৪২ পিএম

ঘরের মাঠের লিভারপুলের বিপক্ষে শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ম্যানচেস্টার সিটি। আক্রমণ, প্রতি আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। তবে প্রথমার্ধের ১০ শটের তিনটি অন টার্গেটে রেখেও গোল আদায় করতে পারেনি আকাশি-নীলরা। দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় এগিয়ে যায় লিভারপুল। লিডও নেয় তারা। কিন্তু শেষ দিকের রোমাঞ্চে পিছিয়ে পড়েও দারুণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পেপ গার্দিওলার দল।
প্রিমিয়ার লিগে এ সপ্তাহের শেষ খেলায় রোববার রাতে অ্যানফিল্ডে আতিথেয়তা নেয় ম্যান সিটি। যেখানে ২-১ গোলে ম্যাচ জেতে অতিথিরা। লিভারপুলের ডোমিনিক সোবোজলাইয়ের গোলের পর ম্যান সিটির হয়ে সমতায় ফেরানো গোল করেন বের্নার্দো সিলভা। আর শেষ মুহূর্তে আর্লিং হলান্ডের পেনাল্টি গোলে জয় পায় গার্দিওলার দল।
এই জয়ে শিরোপা রেসে দারুণভাবে টিকে রইলো ম্যানচেস্টার সিটি। ২৫ ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট ৫০। টেবিলের দুইয়ে অবস্থান করছে তারা। যেখানে শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান এখনো ছয়। সমান ম্যাচে ৩৯ পয়েন্ট পেয়ে তালিকার ছয়ে অবস্থান করছে আর্নে স্লটের দল।
এদিন দ্বিতীয় মিনিটেই ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন হলান্ড। বের্নার্দো সিলভার স্লাইডে বক্সে বিপদজনক জায়গায় বল পেয়ে যান ম্যান সিটি স্ট্রাইকার। তবে লিভারপুল গোলকিপার অ্যালিসন বেকার কিছুটা উপরে উঠে এসে শট নেওয়ার আগেই বিপদমুক্ত করেন।
১৪ মিনিটে প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে রদ্রির শট হলান্ডের শরীরে লেগে বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে। লিভারপুলের রক্ষণে চাপ ধরে রাখে অতিথিরা। ২২ মিনিটে ওমর মারমুশের শট লক্ষ্যে থাকেনি। খানিক পর ম্যানসিটির বক্সে ভালো জায়গায় বল পেয়েও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের বাধার মুখে জোরালো শট নিতে পারেননি মোহাম্মদ সালাহ।
৩১ মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে দারুণ পাসে ম্যান সিটির রক্ষণ গলে বল বের করেন ফ্লোরিয়ান রিটজ। একিতিকে সেই বলের লাইনে দৌড়ালেও পেছন থেকে শেষ মুহূর্তে তাঁকে আটকে রাখেন মার্ক গিউয়েহি। তিন মিনিট পর অ্যালিসনের শরীর বরাবর শট নেন হলান্ড। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতি থেকে ফিরে ম্যান সিটির রক্ষণে চাপ বাড়ায় লিভারপুল। গোলের জন্য মরিয়া অল রেডরা এই অর্ধের প্রথম ১০ মিনিটে একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে। ৫২ মিনিটে সোবোজলাইয়ের নিচু শট সহজেই তালুবন্দি করেন সিটি গোলকিপার। পরের মিনিটে মধ্য মাঠে রদ্রির কাছ থেকে বল আদায় করে বক্সে রিটজকে দেন সালাহ। ছোট পাসে বক্সের বা পাশের কোনা থেকে পোস্টে শট নেন সোবোজলাই। পোস্টের অন্য পাশে থাকা দোন্নারুমার তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছু করার ছিল না। যদিও বল যায় বারের সামান্য উপর দিয়ে।
৫৬ মিনিটে সিমিয়নের শট ছিল অ্যালিসনের শরীর বরাবরা। প্রতি আক্রমণে ওঠেন সালাহ। বক্সে ঢুকে ক্রস দেন একিতিকের কাছে। কিন্তু ফ্রান্স ফরোয়ার্ডের হেডে বল বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট ঘেঁষে।
জোড়া পরিবর্তনে আক্রমণের গোলার মুখে ঘুরে দাঁড়ায় ম্যান সিটি। তবে ৭৪ মিনিটে লিভারপুলের হয়ে ম্যাচের ডেডলক ভাঙেন দারুণ ছন্দে থাকা সোবোজলাই। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে ফ্রি কিক পেয়ে রকেট গতির শটে লক্ষ্যভেদ করেন হাঙ্গেরিয়ান তারকা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১৬ মিনিট বাকি থাকতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় লিভারপুল।
পিছিয়ে পরার পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ম্যান সিটি। গোল হজমের ১০ মিনিট পর ম্যাচেও ফেরে অতিথিরা। শেরকির কাছ থেকে বল পেয়ে ফ্লিক করেন হলান্ড। গোলমুখের সামনে কোনো ভুল করেননি সিলভা। ম্যাচে তখন ১-১ গোলে সমতা।
এরপর যোগ করা সময়ের তিন মিনিটের মাথায় হলান্ডের পেনাল্টি গোলে লিড নেয় সিটিজেনরা। বাইলাইনের কাছে ম্যাথিউস নুনেসকে লিভারপুল গোলকিপার অ্যালিসন ধাক্কা দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সফল স্পট কিকে লিভারপুলের কাছ থেকে তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে আনেন হলান্ড।
গত নভেম্বরে লিগে এই দলের প্রথম দেখায় ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ৩-০ গোলে জয় পেয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি।

নেগ্রেইরা কেসের উত্তাপ যেন থামছেই না। সময়ের ব্যবধানে কিংবা বড় কোনো ম্যাচের আগে ইস্যুটি নতুন করে আলোচনায় ফিরে আসে। বছরের পর বছর ধরে এই বিষয়টি নিয়ে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যে যুক্তি–পাল্টা যুক্তির লড়াই চলছে।
নেগ্রেইরা কেসকে স্পেনের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি বলে অভিহিত করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আলভারো আরবেলোয়া।
লা লিগায় শিরোপা দৌড়ে টিকে থাকতে আগামীকাল ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে রিয়াল মাদ্রিদ। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে নেগ্রেইরা কেস নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন আরবেলোয়া।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন,
“নেগ্রেইরা কেস নিয়ে কথা বলতে গেলে… আমার মনে হয় আজ পর্যন্ত কেউই বুঝতে পারছে না, কীভাবে স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারিটি এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। আমার কাছে এটিই এমন বিষয়, যা অনেকের জন্য গভীর উদ্বেগের হওয়া উচিত।”
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০০১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বার্সেলোনা রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের রেফারিজ টেকনিক্যাল কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি হোসে মারিয়া এনরিকে নেগ্রেইরাকে মোট ৮৪ লাখ ইউরো (প্রায় ৭ মিলিয়ন পাউন্ড) পরিশোধ করেছে।
বার্সেলোনার দাবি, নেগ্রেইরাকে তারা পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। তার কাজ ছিল রেফারিং–সংক্রান্ত কারিগরি ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন দেওয়া। নেগ্রেইরাও বারবার অস্বীকার করেছেন যে ম্যাচে কোনো সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তাকে অর্থ দেওয়া হয়েছিল।
২০২৪ সালের মে মাসে স্পেনের একটি আদালত ঘুষের অভিযোগ খারিজ করে দেয়। যদিও ‘ক্রীড়া দুর্নীতি’র অভিযোগে তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।

শনিবার লা লিগায় মায়োর্কাকে ৩–০ ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা। এই জয়ে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ব্যবধান চার পয়েন্টে বাড়িয়েছে। লা লিগায় ২৩ ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের পয়েন্ট ৫৮। লস ব্লাঙ্কোসদের ২২ ম্যাচে ৫৪।
বার্সেলোনার জয়ে ম্যাচে একটি গোল করেছেন ১৮ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল। ম্যাচের ৬১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত এক শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।
মায়োর্কার বিপক্ষে একটি গোলের মাধ্যমে ইয়ামাল একেবারে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। একবিংশ শতাব্দীতে ১৯ বছর বা তার কম বয়সি ফরোয়ার্ডদের মধ্যে তাঁর গোলই সর্বোচ্চ। এছাড়া, বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সে ৪০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।
বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ লিগ মিলিয়ে ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডদের মধ্যে ইয়ামাল ২৪টি গোল পূর্ণ করে অতীতের রেকর্ড ভেঙে দিলেন। আগের রেকর্ডটি কিলিয়ান এমবাপের, যিনি ১৯ বছর বয়সে ২৩ গোল করেছিলেন।
আরেকটি নজরকাড়া কীর্তি হলো—১৮ বছর ৬ মাস ২৫ দিনে বার্সেলোনার হয়ে ৪০ গোল পূর্ণ করা। তুলনামূলকভাবে, লিওনেল মেসি এই চক্রটি পৌঁছেছিলেন ২১ বছর ৪ মাস ১১ দিনে। যদিও ক্লাবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল এখনো মেসির নামে।

সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩–০ ব্যবধানে জয়ের পর প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল আর্সেনাল। এই জয়ের ফলে মিকেল আরতেতার দল ৯ পয়েন্টে এগিয়ে গেল দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি ও অ্যাস্টন ভিলার থেকে। চতুর্থ স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের চেয়ে আর্সেনাল ১২ পয়েন্টে এগিয়ে।
২০২৫–২৬ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগের দুই-তৃতীয়াংশ ম্যাচ শেষের পথে। ৩৮ ম্যাচের লিগে বেশিরভাগ দল ২৫টি ম্যাচ খেলেছে, তবে ২৪টি ম্যাচ খেলেছে ম্যানসিটি, লিভারপুল, ব্রাইটন ও ক্রিস্টাল প্যালেস। আজ রাতে মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার সিটি-লিভারপুল এবং ব্রাইটন-ক্রিস্টাল প্যালেস।
বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে দশটায় অ্যানফিল্ডে অতিথি হবে ম্যানচেস্টার সিটি। শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে টাইটেল রেসে লড়ছে সিটিজেনরা। তবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলের অবস্থান একটু পেছনেই। ২৪ ম্যাচে লিভারপুলের সংগ্রহ ৩৯ পয়েন্ট, আর ম্যানসিটির ২৪ ম্যাচে পয়েন্ট ৪৭।
আজ অ্যানফিল্ড থেকে জয় পেলে পেপ গার্দিওলার দলের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৫০, যা আর্সেনালের থেকে কেবল ৬ পয়েন্ট দূরত্বে হবে। রেস আরও জমে যাবে। অন্যদিকে আর্নে স্লটের দলও জিতলে আক্ষেপের সঙ্গে বাস্তবতায় ফিরে আসবে। অ্যানফিল্ড সবসময়ই অলরেডসদের জন্য কঠিন, আর মাঠের ইতিহাসও সেটাই বলে।
ইতিহাস বলছে, লিভারপুলের হোম গ্রাউন্ডে সিটির জন্য সবচেয়ে প্রতিকূল। অ্যানফিল্ডে লিভারপুল গার্দিওলার দলের কাছে তাদের শেষ ২২ লিগ ম্যাচের মাত্র একটিতে হেরেছে। জিতেছে ১৪টি, ড্র বাকি ৭টিতে। সবশেষ ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অ্যানফিল্ডে সিটি জয় পেয়েছিল।
ম্যাচে সিটির সামনে এবার বিরল সুযোগের হাতছানি। নভেম্বরে ইতিহাদে প্রথম লেগে ৩–০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল তারা। আজ জিতলে ১৯৩৬–৩৭ মৌসুমের পর প্রথমবার একই মৌসুমে লিভারপুলের বিপক্ষে দুই লেগে জয় (ডাবল) নিশ্চিত হবে।
লিভারপুলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়—আলেকজান্ডার ইসাক, জিওভান্নি লেওনি ও কনর ব্রাডলি ম্যাচটিতে অনুপস্থিত থাকবেন। ডিফেন্সিভ বিভাগে শূন্যতা তৈরি হবে অ্যানফিল্ডের দলের। কারণ জো গোমেজ ও জেরেমি ফ্রিম্পংও খেলতে পারবেন না এই ম্যাচে। ফলে ডমিনিক সবোসলাইকে আবারও রাইট ব্যাকে ফিরতে হতে পারে।
ম্যানচেস্টার সিটির দিকেও চ্যালেঞ্জ আছে। জেরেমি ডোকু ও সাভিনহো অনুপস্থিত থাকলেও, সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে বার্নার্ডো সিলভার। এই পর্তুগিজ মিডফিল্ডার শতভাগ ফিট নন। এছাড়া মাতেও কোভাচিচ, জন স্টোনস ও যশকো গভার্ডিওলও চোটে খেলতে পারবেন না।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হওয়ার পর সমালোচনার মুখে পড়েছেন বাবর আজম। ১৮ বলে মাত্র ১৫ রান করে আউট হন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক। ১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানকে পড়তে হয় কঠিন চাপে, আর বাবরের মন্থর ইনিংস সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।
এই পারফরম্যান্সের পর পাকিস্তানের সাবেক ব্যাটার বাসিত আলী প্রশ্ন তুলেছেন বাবর আজমের টি-টোয়েন্টি যোগ্যতা নিয়ে। ইউটিউবে ‘শো দ্য গেম প্ল্যানে’ কথা বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, পরের ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে একাদশে বাবর আজমকে নাও দেখা যেতে পারে।
মাইক হেসনের চেহরার ভঙ্গি দেখে বাসিতের অনুমান, ‘আমার মনে হয়, পাকিস্তানের পরের ম্যাচে বাবর আজম খেলবে না। কোচ মাইক হেসনের মুখে যে রাগ দেখেছি, তাতে মনে হয়নি পরের ম্যাচে আবার চার নম্বরে বাবরকে খেলানো হবে।’
বাবরের ‘সুপারস্টার’ তকমা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন বাসিত। তাঁর ভাষায়, ‘ওয়ানডে বা টেস্টে যদি বাবর আজমকে সুপারস্টার বলা হয়, আমি হয়তো মানতে পারি। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে? কোথা থেকে সে সুপারস্টার? যে ব্যাটার নিজের নিয়মিত ব্যাটিং পজিশন ছেড়ে চার নম্বরে নেমে ব্যাট করে, অথচ ম্যানেজমেন্টকে এটুকুও বলতে পারে না যে সে চার নম্বরের ব্যাটার নয়—এটা কেমন কথা? বাবর কি এটা নিজেই বোঝে না?’
বাসিত আলি আরও দাবি করেন, পাকিস্তান দলে বাবরের চেয়ে টি-টোয়েন্টিতে ভালো বিকল্প ব্যাটারন রয়েছেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে যে কেউ বলবে—শাদাব খান, উসমান খান, মোহাম্মদ নওয়াজ, ফাহিম আশরাফ এরা সবাই এই ফরম্যাটে বাবরের চেয়ে কার্যকর।’
এমনকি সাহিবজাদা ফারহান ও সাইম আইয়ুবকেও বাবরের চেয়ে ভালো টি-টোয়েন্টি ব্যাটার বলে মন্তব্য করেন বাসিত আলি। তাঁর মতে, ‘সাহিবজাদা ফারহান আর সাইম আইয়ুব দুজনই টি-টোয়েন্টিতে বাবরের চেয়ে ভালো খেলোয়াড়। সালমান আলী আগাও দেখিয়েছে যে তিন নম্বরে সে বাবরের চেয়ে বেশি মানানসই।’
বিগ ব্যাশ লিগে বাবর আজমের পারফরম্যান্সের কথাও তুলে ধরেন বাসিত, ‘স্টিভ স্মিথ বিগ ব্যাশে বাবরের সঙ্গে যা করেছে, তারপরও মানুষ শিক্ষা নেয়নি। স্মিথ ইচ্ছে করে সিঙ্গেল নেয়নি, শুধু বাবরকে স্ট্রাইকে আসতে না দেওয়ার জন্য। এটা প্রমাণ করে, বাবরের খেলা টি-টোয়েন্টির জন্য মানানসই নয়।’
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে ফাহিম আশরাফের শেষ দিকের ঝোড়ো ইনিংস না থাকলে পাকিস্তানের হার এড়ানো কঠিন হয়ে যেত বলেও মনে করেন বাসিত। এই পরিস্থিতিতে বাবর আজমের টি-টোয়েন্টি দলে ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হলো।