
“সবাই শুধু তোমার রেকর্ড আর মাইলফলকগুলো নিয়েই কথা বলবে - কিন্তু আমি মনে রাখব সেই অশ্রুগুলোর কথা, যা তুমি কখনও কাউকে দেখাওনি; আমি মনে রাখব সেই যুদ্ধগুলো, যা কেউ দেখেনি; আর তোমার সেই নিঃশর্ত ভালোবাসা, যা তুমি এই ফরম্যাটটাকে দিয়েছ। প্রতিটি টেস্ট সিরিজের পর তুমি ফিরে এসেছো আরও একটু বেশি জ্ঞানী হয়ে, একটু বেশি স্থির হয়ে। তোমার এই পুরো যাত্রাটা দেখা ছিল আমার জন্য অনন্য এক সৌভাগ্য। কোনো এক অজানা কারণে আমি সবসময় ভেবেছি তুমি সাদা পোশাকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবে। কিন্তু সবসময়ের মত নিজের হৃদয়ের কথাই শুনেছো।”
- কথাগুলো বিরাট কোহলিকে নিয়ে বলেছেন তার সহধর্মিণী ও বলিউড অভিনেত্রী আনুশকা শর্মা। ক্রিকেটের প্রতি বিরাট কোহলির নিবেদন সবচেয়ে কাছ থেকে যিনি দেখেছেন, তার বলা কথাগুলোই বুঝিয়ে দেয় লাল বলের ক্রিকেটকে কীভাবে ধারণ করতেন ভারতীয় এই ব্যাটিং গ্রেট।
এই করতেন বলার কারণ, গত কয়েকদিনের গুঞ্জনকে সত্যি করে অনেকটা নীরবেই ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছেন কোহলি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে নাকি জোর চেষ্টাই ছিল অত্যন্ত ইংল্যান্ড সফরে তাকে খেলানোর। মাস দুয়েক আগেও ব্যাপারটি নিয়ে যে আলোচনা হতে পারে, সেটাই তো ছিল বিস্ময়কর। কারণ, টেস্টকেই তো সবচেয়ে বেশি লালন করলেন। তবে আনুশকা শর্মা যেমনটা বলেছেন, মনের কথা শুনেছেন আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটার।
আরও পড়ুন
| নাহিদ-তাসকিনদের নতুন বোলিং কোচ টেইট |
|
ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসেও কোহলি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন বর্ণিল এক চরিত্র হিসেবে। শচীন টেন্ডুলকার ভারতের ক্রিকেট ‘ঈশ্বর’, যিনি ছিলেন ব্যক্তি হিসেবে ধীরস্থির, শান্ত আর নিখুঁত ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী। আর কোহলি তার ঠিক বিপরীত। তিনি বুনো চরিত্রের ভীষণ আগ্রাসী একজন ক্রিকেটার, যিনি ব্যাটসম্যানশিপের চূড়ান্ত স্তরে থাকার পাশাপাশি মাঠে প্রতিপক্ষকে একচুল ছাড় দিতে নারাজ। অধিনায়ক ও খেলোয়াড় হিসেবে ভারতকে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে প্রতিকূল পরিবেশে কীভাবে চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে হয়। আর এই বিষয়গুলো অনেক সময়ই আড়াল হয়ে যায় হাজার হাজার রান বা সেঞ্চুরি, ডাবল সেঞ্চুরির স্তুতিগাথায়।
কোহলির অধিনায়কত্বে ভারত প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জেতে ২০১৮-১৯ মৌসুমে। তার সময়েই ভারত একটা লম্বা সময় ধরে থাকে টেস্টের র্যাংকিংয়ে শীর্ষে।
লাল বলের ক্রিকেটে কোহলির অবসরের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় শচীন বলেছেন, ভারতীয় ক্রিকেটের পরের প্রজন্মকে এই ফরম্যাটের প্রতি আগ্রহী করে তোলায় তার উত্তরসূরি রেখেছেন বিশাল এক অবদান। খুব একটা ভুল বলেননি তিনি। তবে টেস্ট ক্রিকেটে যে নিবেদন, আগ্রাসন দেখাতেন কোহলি, তা পুরো বিশ্ব ক্রিকেটেই ছিল উপভোগ্য এক বিষয়।
আর সেই কাজটা করতে গিয়ে অধিনায়ক হিসেবে বড় একটা পরিবর্তন আনেন ভারতীয় ক্রিকেট সংস্কৃতিতে। ফিটনেস ও পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে একটা বিপ্লব এসেছে তার হাত ধরেই। কীভাবে টেস্টের প্রতিটি বলেই সমান একাগ্রতা নিয়ে লড়তে হয়, খাদের কিনারায় থেকেও আশার প্রদীপ জ্বালাতে হয়, সেটা সামনে থেকে দেখিয়েছেন ম্যাচের পর ম্যাচ ধরে।
সবসময়ই স্পিনে শক্তিশালী হওয়ায় ভারতের জন্য দেশের মাটিতে জেতাটা সহজ হলেও বিদেশের মাটিতে টেস্টে বড় সাফল্য পাওয়া ছিল ভীষণ অনিয়মিত ঘটনা। সেটা বুঝতে পেরে কোহলি সবার আগে জোর দেন গতিময়, আগ্রাসী পেসারদের দলে নেওয়ার। সেটার ফলও ভারত পায় হাতেনাতে। ‘সেনা’ দেশগুলোতে তার অধিনায়কত্বেই দলটি পায় নিজেদের ইতিহাসের সেরা সব সাফল্য। এই ফরম্যাটকে বিদায় জানানোর সময় কোহলি যখন দেখছেন দলে পেসারদের আধিপত্য এমনকি ঘরের মাটিতেও, তখন তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতেই পারেন তিনি।
এক নজরে কোহলির টেস্ট ক্যারিয়ার :
• ১২৩টি টেস্ট
• ৯ হাজার ২৮৩ রান
• গড় : ৪৬.৮৫
• শতক : ৩০
• ডাবল সেঞ্চুরি : ৭ (ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ)
• ফিফটি ৩১
• সর্বোচ্চ : ২৫৪*
• অধিনায়ক হিসেবে ৬৮ ম্যাচে, ৪০টি জয় - ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
তবে টেস্টের কোহলিকে স্রেফ রান-সেঞ্চুরি দিয়ে মাপতে গেলে ভুলই করবেন আপনি। যে সময়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জোয়ারে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে পাঁচদিনের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ, সেই সময়েই কোহলি এই ফরম্যাটকে দিয়েছেন সর্বোচ্চ গুরুত্ব। ব্যাটিংয়ে প্রতিটি রানের জন্য তার লড়াই, ফিল্ডিংয়ে প্রতিটি বলেই আগ্রাসন দেখানো, উইকেট পতনে বুনো উল্লাসে মেতে ওঠা, এই জিনিসগুলোর কারণেই তিনি সবার চেয়ে আলাদা হয়ে থাকবেন। এভাবেই এই যুগে এসেও ভারতের তরুণ প্রজন্ম কোহলিকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়, হচ্ছে টেস্ট ক্রিকেট খেলার, রেকর্ড গড়ার, ইতিহাসের অংশ হওয়ার।
আরও পড়ুন
| রোহিতের পর টেস্ট অবসরের পথে কোহলিও? |
|
এই প্রসঙ্গে স্টিভেন স্মিথ একবার বলেছিলেন,
“সে শুধু একজন গ্রেট খেলোয়াড়ই নয়, একজন দুর্দান্ত প্রতিপক্ষও। খেলার মাঠে বিরাট শুধুমাত্র নিজের প্রাণশক্তিই নিয়ে আসে না, পুরো দলের মাঝেও সেটা ছড়িয়ে দেয়।”
খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দর্শকদের কাছেও কোহলি ছিলেন এমন একজন, যিনি টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি তৈরি করতে পেরেছিলেন অন্যরকম এক আবেদন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেমনই একজন যেমনটা বলেছেন,
“আমরা শুধু তাকে খেলতেই দেখতাম না, আমরা তার করা প্রতিটি রান, প্রতিটি চিৎকার, শূন্যে মারা প্রতিটি ঘুষিকেও অনুভব করতাম। সে কেবল ক্রিকেট খেলতই না, সে এটিকে কেন্দ্র করেই চলত।”
একজন স্পোর্টসম্যানের জন্য এরচেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে! কোহলি সেটা করতে পেরেছেন, কারণ টেস্ট ক্রিকেটকে তিনি সত্যিকারের ভালোবাসাই দিয়ে গেছেন শেষ দিন পর্যন্ত। এই কারণেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজের বিদায়ী টেস্ট সিরিজে তিনি সংগ্রাম করে একটা সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন, ছন্দে না থেকেও ছিলেন সিরিজের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। এতোটাই ছিল টেস্ট ক্রিকেটার কোহলির প্রভাব।
হার না মানা মানসিকতার কারণেই কোহলি ২০২০ সালের পর থেকে এই ফরম্যাটে সেরা ছন্দে না থেকেও লড়াই চালিয়ে যেতে পেরেছেন। আসলে ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের সময়টা বাদ দিলে কোহলির টেস্ট গড়টা থাকতে পারত আরও ইর্ষনীয়। এই মাপের একজন ব্যাটার কেন আর কীভাবে এত লম্বা সময় অফ ফর্মে আটকে থাকলেন, সেটা বড় এক রহস্যই থেকে যাবে। তবে ওয়ানডে গ্রেট কোহলিকে এরপরও আপনাকের টেস্টের সেরাদের কাতারের বিবেচনা করতেই হবে।
সেটা কেন, তা নিয়ে চলতে পারে নানা তর্ক। তবে ২০১৪ সালে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে চতুর্থ ইনিংস রান তাড়ায় যে ইনিংসটি খেলেছিলেন, সেটা ক্রিকেটের প্রিয় একজন ছাত্র সহজে ভুলতে পারবেন না। একটা হেরে যাওয়া ম্যাচে একটি সেঞ্চুরি কীভাবে দাগ কেটে যেতে পারে, সেটা অনুভব করতে হলে আপনাকে সেই ম্যাচটি দেখতে হবে বারবার।
প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর ৩৬৪ রানের টার্গেটে নেমে ড্রয়ের আশা বাদ দিয়ে ব্যাট চালান জয়ের লক্ষ্যে, প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যা ছিল অবিশ্বাস্য এক চেষ্টাই। এই দফায়ও সেঞ্চুরি করে ছুটছিলেন জয়ের লক্ষ্যেই। তবে নাথান লায়নের বলে ক্যাচ দিয়ে তার ফেরার পরই পথ হারিয়ে ভারত ম্যাচও হেরে যায়। আউট হওয়ার পর চোখেমুখে যে অবিশ্বাস আর হতাশা ছিল কোহলির, ঠিক সেই কারণেই তিনি টেস্ট গ্রেট হয়ে উঠেছেন। জয়ের জন্য শেষ বিন্দু নিংড়ে দেওয়া কোহলি তাই লাল বলের ক্রিকেটের একজন বড় বিজ্ঞাপন হয়েই প্রাণবন্ত থাকবেন ইতিহাসের পাতায়।
No posts available.

রোদ
ঝলমলে দিনের মাঝে হুট করেই আঁধার নেমে এলো মিরপুরের আকাশে। বৃষ্টির শঙ্কার কারণেই হয়তো নির্ধারিত সময়ের
৩ মিনিট আগে হয়ে গেল টস। যেখানে কয়েনভাগ্য পাশে পেলেন না লিটন কুমার দাস।
টস
জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নিক কেলি।
তাই মেঘাচ্ছন্ন কন্ডিশনে আগে ব্যাট করতে নামবে বাংলাদেশ।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার দুপুর ২টায় শুরু
হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ।
বাংলাদেশ
একাদশে এসেছে একটি পরিবর্তন। পিঠের
চোটের কারণে বাদ পড়েছেন তানজিম হাসান সাকিব। তার জায়গায় একাদশে ফিরেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
নিউ
জিল্যান্ড দলে পরিবর্তন ২টি।
বাদ পড়েছেন ম্যাট ফিশার ও বেন লিস্টার। তাদের জায়গায় একাদশে এসেছেন বেন সিয়ার্স আর
টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়েছে জেডেন লেনক্সের।
বাংলাদেশ
একাদশ
সাইফ
হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, লিটন কুমার দাস, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহিদ হৃদয়, শামীম
হোসেন, রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদি হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, রিপন মন্ডল, শরিফুল ইসলাম
নিউ
জিল্যান্ড একাদশ
টিম
রবিনসন, কেটেন ক্লার্ক, ড্যান ক্লেভার, নিক কেলি, বেভন জ্যাকবস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ
ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ইশ সোধি, বেন সিয়ার্স, জেডেন লেনক্স।

শেষ দুই ওভারে জয়ের সমীকরণ ছিল ২৮ রান। ১৯তম ওভারে ফাহিম আশরাফ ও ক্রিস গ্রিন মিলে ২২ রান তুললে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পায় ইসলামাবাদ ইউনাইটেড। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৬ রান, কিন্তু অবিশ্বাস্য বোলিংয়ে মাত্র ৩ রান খরচ করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হুনাইন শাহ।
পিএসএলের দ্বিতীয় এলিমেনটরে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে ২ রানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে হায়দরাবাদ কিংসম্যান। আগামীকাল রোববার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বাবর আজম-নাহিদ রানার পেশাওয়ার জালমির মুখোমুখি হবে টুর্নামেন্টে প্রথমবার অংশগ্রহণ করা হায়দরাবাদ।
শুক্রবার রাতে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় এলিমিনেটরে প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৮৬ রান সংগ্রহ করে হায়দরাবাদ কিংসম্যান। জবাবে ৭ উইকেটে ১৮৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি ইসলামাবাদ।
আরও পড়ুন
| সিঙ্গেল-লিগ ফরম্যাটেই ডিপিএল |
|
টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় হায়দরাবাদ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই খাতা খোলার আগে ফেরেন ওপেনার মাজ সাদাকাত। দ্বিতীয় উইকেটে সাইম আইয়ুব (৩৮) ও অধিনায়ক মার্নাস লাবুশেন (৪০) ৭০ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেন। মাঝপথে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও লাবুশেন দ্রুত বিদায় নিলে ৮৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে হায়দরাবাদ।
সেখান থেকে দলের হাল ধরেন উসমান খান ও কুশল পেরেরা। পঞ্চম উইকেটে তাদের ৪৬ বলে ১০১ রানের জুটিতে ১৮০ পেরোয় হায়দরাবাদ। উসমান ৩০ বলে ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন, আর পেরেরা করেন ২১ বলে ৩৭ রান। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ১৮৬ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পায় হায়দরাবাদ।
১৮৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ইসলামাবাদের। ১৫ রানেই দুই ব্যাটারকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে তারা। অধিনায়ক শাদাব খান (২২) ও ডেভন কনওয়ে (৩০) মিলে ৪২ রানের জুটি গড়ে ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করেন।
এরপর জয়ের কাজটা সহজ করে দিয়েছিলেন মার্ক চ্যাপম্যান ও হায়দার আলী। চতুর্থ উইকেটে গড়েন ৬৪ রানের জুটি। চ্যাপম্যান ২৬ বলে ৪৩ রানের ইনিংস খেলেন।
এই দুজন ফেরার পর শেষ ২ ওভারে জয়ের জন্য সমীকরণ দাঁড়ায় ২৮ রান। ১৯তম ওভারে মোহাম্মদ আলীর বোলিংয়ে ২২ রান তুলে ম্যাচ প্রায় হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন ফাহিম আশরাফ ও ক্রিস গ্রিন। সেখান থেকে হুনাইন শাহর দুর্দান্ত ডেথ বোলিংয়ে জয় পায় নবাগত হায়দরাবাদ।

প্রথম ম্যাচের কল্যাণে একটা সম্ভাবনা জেগেছিল বৈকি। ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে আরও একবার টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের সেই উচ্চাশা ভিজিয়ে দেয় অগত্যা বৃষ্টি। অবশ্য আশা এখনও মরে যায়নি। শনিবার দুপুর দুইটায় মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ রাঙাতে পারলেই ২০২১ সালের পর আরও একবার কিউইদের টি-টোয়েন্টিতে হারানোর স্বাদ পাবে বাংলাদেশ।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ৬ উইকেটের জয়ে নিউ জিল্যান্ডের সিরিজ জয়ের কোনো সুযোগ নেই। শেষ ম্যাচটি জিতলে অন্তত ড্র করে ফিরতে পারবেন নিক কেলিরা। এক্ষেত্রেও অতিথিদের জন্য বড় প্রতিবন্ধক—অনাহূত বৃষ্টি। সিরিজ বন্দরনগরী চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় ফিরলেও বৃষ্টি হয়ে ওঠেছে শঙ্কার কারণ।
টি-টোয়েন্টিতে র্যাঙ্কিং কিংবা শক্তিমত্তা—সবদিক দিয়েই বাংলাদেশের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে নিউ জিল্যান্ড। মুখোমুখি লড়াইয়ে ২০ ম্যাচের চারটিতে জয় বাংলাদেশের। তবে ঘরের মাঠে সিরিজের প্রথম কুড়ি কুড়িতে লিটন দাসরা যে পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে, তা জুগিয়েছে চোখের শান্তি। অভয়ের কারণ হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টেরও। অন্তত লিটন দাস ব্রিগেড বুঝিয়েছেন, এভাবে খেলবে সিরিজ জেতা কোনো ব্যাপারই না!
সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ছয় ব্যাটারের সবাই দুই অঙ্কের রান স্পর্শ করেছেন। তার মধ্যে তাওহীদ হৃদয়ের ১৮৮.৮৮ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। একই সঙ্গে শেষদিকে শামীম পাটোয়ারীর ক্যামিও ইনিংস বাহবা কুড়িয়েছে বেশ। বল হাতে রিশাদ হোসেন, তানজিম সাকিবরা দেখিয়েছেন মুন্সিয়ানা। এই দলটির ওপরই সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ভরসা টিম ম্যানেজমেন্টের। তাদের চাওয়া— বরং উইনিং কম্বিনেশন নড়চড় নয়।
ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে শামীম পাটোয়ারী এই ইঙ্গিতটাই দিয়েছেন। প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে ঝড় তোলা স্পিন অলরাউন্ডার বলেন, ‘(প্রথম ম্যাচে) আমরা ভালো খেলতে পেরেছি। ইন্টেন্ট দেখাতে পেরেছি। পরের ম্যাচে এটা ধরে রাখতে চাই।’
শুধুই ইন্টেন্ট ধরে রাখা? অবশ্য নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দ্বিতীয় কোনো সিরিজ জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদী তিনি, ‘আমাদের ভালো একটি সুযোগ আছে সিরিজ জয়ের। অবশ্যই চাইব জেতার জন্য খেলার।’
বাংলাদেশের মতো অভিন্ন লক্ষ্য নিউ জিল্যান্ডের। ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অতিথি দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা ডিন ফক্সক্রফট জানিয়েছেন, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তৃতীয় ম্যাচ রাঙাতে চান তারা।
নিউ জিল্যান্ড অলরাউন্ডার বলেন, ‘শেষ ম্যাচটা বৃষ্টির ফলে বাতিল হয়েছে। এখানে এসে সিরিজে সমতায ফেরানোর একটা সুযোগ পেয়েছি। দলের আবহ বেশ ভালো। সবাই ইতিবাচক আছে। প্রথম ম্যাচের পর ভাবার জন্য আমরা কয়েকদিন সময় পেয়েছি। ওই ম্যাচে আমরা অনেক কিছুই ভালো করেছি এবং অবশ্যই কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা বোলিং এবং ব্যাটিংয়ের নানা কিছু ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি।’
মিরপুরের শেষ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে আরও একটি ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের হাতছানি লিটনদের সামনে। তবে বৃষ্টির চোখরাঙানি এড়িয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে এবং আত্মবিশ্বাসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে কিউইদের বিপক্ষে আরও একটি স্মরণীয় জয় উদযাপনের সুযোগ রয়েছে স্বাগতিকদের। এখন শুধু মাঠে নিজেদের মেলে ধরার অপেক্ষা।

৪ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ (ডিপিএল) থেকে সুপার লিগ ও রেলিগেশন বাদ দেওয়া হয়েছে। ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবারের লিগ সিঙ্গেল-লিগ ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হবে।
মিরপুর জাতীয় স্টেডিয়ামসহ ছয় ভেন্যুতে অনুষ্ঠিতব্য ৫০ ওভারের এই টুর্নামেন্ট শেষ হবে ১১ জুন। লিগ কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আসরে মোট ৬৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। কোনো অপ্রত্যাশিত বাধার ক্ষেত্রে ম্যাচ সম্পন্ন করা নিশ্চিত করতে রিজার্ভ ডে রাখা হবে।
পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দলটিকে চ্যাম্পিয়ন এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলটিকে রানার্স-আপ ঘোষণা করা হবে। পয়েন্ট টেবিলের তলানির দুটি দল ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে অবনমিত হবে।
লিগে অংশগ্রহণকারী ১২টি ক্লাব হলো শিরোপাধারী আবাহনী লিমিটেড, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ, গুলশান ক্রিকেট ক্লাব, অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স (ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব), রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব, ব্রাদার্স ইউনিয়ন লিমিটেড, সিটি ক্লাব ও ঢাকা লেপার্ডস।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য অপরিবর্তিত থাকছে বাংলাদেশ দল। শনিবার দুপুর দুইটায় মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে সিরিজ নির্ধারণী এই ম্যাচ।
সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যায়। ফলে তৃতীয় ম্যাচ হয়ে উঠেছে অঘোষিত ফাইনাল। এই ম্যাচ জয়ে রাঙাতে পারলে সিরিজ হবে লিটন দাসদের। আর কিউইরা হারলে পড়তে হবে হোয়াইটওয়াশড লজ্জায়।
বাংলাদেশ দল: লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিদ হাসান, মোহাম্মদ সাইফ হাসান (সহ-অধিনায়ক), শামীম হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব, রিপন মন্ডল, সাইফ উদ্দিন ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন।