২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ৩:৫৮ পিএম

ফরম্যাটের কারণেই একটা দল প্রথম ম্যাচ হারলেই চলে যায় বাদ পড়ার কাছাকাছি অবস্থায়। ভারতের কাছে হেরে যাওয়ায় নিউজিল্যান্ড ম্যাচ তাই বাংলাদেশের জন্য হয়ে দাঁড়িয়েছে টিকে থাকার লড়াইয়ে। স্বস্তির খবর, সব ঠিক থাকলে এই ম্যাচ দিয়ে ফিরছেন মাহমুদউল্লাহ। আর এই কারণেই কিউইদের বিপক্ষে একাদশ সাজানোটা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের জন্য।
এই ধরনের সমস্যা দলের জন্য মধুরই। কাকে রেখে কাকে বাদ দেবেন, এই অনিশ্চয়তা একটা দলের শক্তিমত্তারই পরিচয় দেয়। তবে মাহমুদউল্লাহ যদি ফিরতে পারেন পরের ম্যাচে, তাহলে ব্যাটিং অর্ডার বা দলের ফরমেশনেই যে আনতে হবে বড় বদল। হয় একজন ব্যাটার বাদ দিতে হবে, আর নাহয় একজন বোলার কম নিয়ে খেলতে হবে। প্রথম ম্যাচের ব্যাটিং ব্যর্থতার পর এই বিভাগে কাউকে বাদ দেওয়াটা হয়েছে আরেক মাথাব্যথার বিষয়।
আরও পড়ুন
| বোলিং অ্যাকশন শুধরে ডিপিএল খেলবেন সাকিব, আশায় রূপগঞ্জ |
|
সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান তামিমকে এই টুর্নামেন্টেও ওপেনিং জুটি হিসেবে ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। একজন ২১ করলেও ভারত ম্যাচে আরেকজন ডাক মেরেছেন। তবে স্রেফ এক ম্যাচ বাদেই তাদের মধ্যে একজনকে যদি বাদ দেওয়া হয়, তাহলে সেটা খুব ভালো একটা বার্তা দেবে না। কারণ, সেক্ষেত্রে মাহমুদউল্লাহকে একাদশে এনে মেহেদি হাসান মিরাজকে পাঠানো হবে ওপেনে।
সেক্ষেত্রে পারভেজ হোসেন ইমন নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন, তাকে যে দলে রাখাই হয়েছে ব্যাকআপ হিসেবে। তবে মিরাজ অলরাউন্ডার এবং ওপেনে ভালো রেকর্ড থাকায় বিবেচনায় তিনিই এগিয়ে থাকবেন নিশ্চিতভাবেই।
চোটের কারণে মাহমুদউল্লাহ আগের ম্যাচ না খেললে বাদ পড়তে পারতেন তাওহীদ হৃদয় বা জাকের আলি অনিক। তবে দুজন যথাক্রমে সেঞ্চুরি ও ফিফটি করায় তাদের বাইরে রাখার সুযোগ নেই বললেই চলে। ফলে মিরাজ যদি ওপেন না করেন, তাহলে তাকে ব্যাট করতে হবে নিচের দিকে। আর সেটা করতে হলে বাদ দিতে হবে একজন বোলারকে, যা পাঁচ বোলার কম্বিনেশন সাজাতে আরও সমস্যায় ফেলে দেবে দলকে।
অনেকটা সময় ধরেই ওয়ানডে রানের মধ্যে নেই মুশফিকুর রহিম। ভারত ম্যাচে পেয়েছেন গোল্ডেন ডাকের তেতো অভিজ্ঞতা। তবে কিপিংয়ের দায়িত্বটা তিনি সামলাচ্ছেন, পাশাপাশি দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটারও। ফর্মে না থাকলেও তাই তাকে সরিয়ে মাহমুদউল্লাহকে খেলানো।
আরও পড়ুন
| ডিপিএলে খেলবেন সাকিব? |
|
এছাড়া আরেকটি উপায় আছে বাংলাদেশের সামনে। তা হলে চার স্পেশালিষ্ট বোলারের একজনকে বসিয়ে দেওয়া। তাতে মিরাজ নেমে যাবেন আটে। আর পঞ্চম বোলারের কাজটা ভাগাভাগি করতে হবে সৌম্য ও মাহমুদউল্লাহকে। তবে দুই অনিয়মিত বোলার দিয়ে ১০ ওভার করানোটা বুমেরাং হতে পারে, বিশেষ করে ফর্মে থাকা নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের বিপক্ষে।
সার্বিক বিবেচনায় মাহমুদউল্লাহ ফিট হলে তাকে একাদশে ফেরানোর কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশের। আর সেটা করতে গেলে সম্ভাব্য সেরা সমাধান ওপেনিং পজিশনে পরিবর্তন আনা। নাজমুল হোসেন শান্তর দল কি সেদিকেই হাঁটবে? উত্তর জানতে আগামী সোমবার দুপুর ৩টায় চোখ রাখুন টি স্পোর্টসের পর্দায়।
No posts available.
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:০৭ পিএম
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:৫৪ পিএম

ক্রিকেট ব্যাট তৈরির নিয়মে বড় পরিবর্তন আনছে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। আগে যেসব ব্যাটকে ‘অবৈধ’ হিসেবে গণ্য করা হতো, এবার সেগুলোকেও নির্দিষ্ট শর্তে বৈধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেটের আইনপ্রণেতা সংস্থাটি।
ইংলিশ উইলোর (কাঠ) দাম বেড়ে যাওয়ায় অপেশাদার ও বিনোদনমূলক ক্রিকেটে ব্যাট কেনা দিন দিন ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। খেলাটিকে সবার জন্য আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এমসিসি।
এমসিসি ঘোষণা দিয়েছে, ক্রিকেট আইনের নতুন সংস্করণে মোট ৭৩টি পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা কার্যকর হবে আগামী চলতি বছরের ১ অক্টোবর থেকে।
এবার ওপেন এজ ক্রিকেটেও ব্যবহার করা যাবে ল্যামিনেটেড ব্যাট। আইন ৫.৮–এর অধীনে ‘ব্যাটের ধরন’ সংক্রান্ত সংশোধনে এমসিসি জানিয়েছে, এখন থেকে ওপেন এজ বিনোদনমূলক ক্রিকেটে ব্যবহার করা যাবে ল্যামিনেটেড ব্যাট, যেগুলোকে বলা হয় টাইপ ডি ব্যাট।
এই ব্যাট সর্বোচ্চ তিনটি কাঠের অংশ দিয়ে তৈরি হতে পারে। এর আগে টাইপ ডি ব্যাট শুধু জুনিয়র ক্রিকেটে অনুমোদিত ছিল। কিন্তু ব্যাটের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার বড়দের ক্রিকেটেও এটি বৈধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ল্যামিনেশনের ক্ষেত্রে সাধারণত ব্যাটের সামনে থাকে ইংলিশ উইলো, আর পেছনে যুক্ত করা হয় তুলনামূলক সস্তা ও কম মানের কাঠ, যেমন কাশ্মীরি উইলো।
টাইপ এ, বি ও সি ব্যাট এক টুকরো উইলো কাঠ দিয়ে তৈরি হয় এবং পেশাদার ক্রিকেটে এগুলোই বহাল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উইলোর বাইরে অন্য কাঠও ব্যবহার করা যাবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাটের মুখের পেছনের অংশে উইলোর পরিবর্তে অন্য কাঠ ব্যবহারেরও অনুমতি দেওয়া হবে।
এমসিসির আইন ব্যবস্থাপক ফ্রেজার স্টুয়ার্ট জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন,‘টাইপ ডি ব্যাটের পারফরম্যান্স সুবিধা খুবই সামান্য। নিচের স্তরের ক্রিকেটকে সাশ্রয়ী করতে যদি আমরা কিছু করতে পারি, অথচ খেলাটির স্বাভাবিক গতি ও ভারসাম্য নষ্ট না হয়, তাহলে সেটি যুক্তিসংগত পদক্ষেপ।’
এমসিসির মতে, ইংলিশ উইলোর প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাটের দাম দ্রুত বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে চাহিদা বাড়ায় বিশ্ববাজারে ব্যাটের দাম নাকি প্রায় তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। অনেক শীর্ষ মানের ব্যাটের দাম পৌঁছেছে প্রায় ১ হাজার পাউন্ডে।
স্টুয়ার্ট বলেন, ‘পর্যাপ্ত উইলো আর পাওয়া যাচ্ছে না। তাই টেকসইভাবে যতটা সম্ভব গাছের কাঠ ব্যবহার করতে হবে।’
বিবিসি স্পোর্টস জানিয়েছে, এমসিসি বিকল্প উপকরণ দিয়েও ব্যাট তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। তবে খেলাটির ভারসাম্য নষ্ট হওয়া বা ইনজুরির ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা আগে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, উইলোর বদলে বাঁশ ব্যবহার করা যেতে পারে।
গ্রাফাইট-ব্যাকড ব্যাটও একসময় আলোচনায় ছিল, যদিও তা ২০০৬ সালে নিষিদ্ধ হয়েছিল। নতুন সংস্করণে আরও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন থাকছে। যেমন—বহুদিবসীয় ম্যাচে দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লেও ওভার শেষ না হওয়া পর্যন্ত খেলা চলবে। বাউন্ডারির বাইরে থেকে লাফিয়ে ধরা ক্যাচের ক্ষেত্রে ‘বানি হপ’ কৌশল সীমিত করা হয়েছে।
উইকেটকিপারের গ্লাভস বল ছাড়ার আগে স্টাম্পের সামনে থাকলেও, বল ছাড়ার সময় অবশ্যই পেছনে থাকতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে শর্ট রান করলে ফিল্ডিং দল শাস্তিস্বরূপ পরবর্তী ব্যাটার নির্ধারণ করতে পারবে।
এ ছাড়া ক্রিকেট আইনের ভাষা আরও সহজ করা এবং লিঙ্গভিত্তিক শব্দ বাদ দেওয়ার কাজও সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এমসিসি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে পিসিবিকে সরে না আসার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার কামরান আকমাল। একই সঙ্গে এই ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অবস্থান নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।
বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর পর পাকিস্তানও একই ধরনের অবস্থান নেয়। তারপর আইসিসি পিসিবিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানায়।
তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে বয়কটের বিষয়ে কোনো লিখিত বার্তা দেয়নি। এই পরিস্থিতিতে কামরান বলেছেন, পিসিবির উচিত শক্ত অবস্থানে থাকা। ইউটিউব চ্যানেল গেম প্ল্যানে বলেন, ‘পিসিবির পিছু হটা উচিত নয়। আইসিসি বলছে ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে। কিন্তু এশিয়া কাপ যখন হাইব্রিড মডেলে হলো, তখন কি আইসিসি ঘুমাচ্ছিল? যখন ভারত বলেছিল পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলবে না, শুধু নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলবে—তখন কি আইসিসি ঘুমাচ্ছিল?’
আকমাল আরও প্রশ্ন তুলেছেন, উত্তেজনার মধ্যেও পাকিস্তান অতীতে একাধিকবার ভারতে গিয়ে খেলেছে, ‘কতবার পাকিস্তান দল ভারতে খেলতে গেছে। আমি নিজেও গিয়েছি। আইসিসির এসব বিষয় তিন বছর আগেই ভাবা উচিত ছিল।’
ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ না হওয়াকেও রাজনৈতিক প্রভাবের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আকমাল,‘দুই দেশ বহু বছর দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলছে না। সেটাও কি রাজনীতি নয়? তখন কি আইসিসির মনে হয়নি রাজনীতি বন্ধ করা দরকার?’
এশিয়া কাপে ভারতীয় দলের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আকমল। তাঁর দাবি, ‘এশিয়া কাপে তারা আমাদের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাতে চায়নি, এমনকি ট্রফিও গ্রহণ করেনি। তারা আমাদের অসম্মান করেছে।’
পাকিস্তান সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়কটের ঘোষণা দেওয়ার পর আইসিসি এক বিবৃতিতে জানায়, তারা এখনো পিসিবির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো যোগাযোগ পায়নি।
আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়, আইসিসি পিসিবির আনুষ্ঠানিক বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে সূচি অনুযায়ী সব দলকে সমান শর্তে অংশ নিতে হয়। নির্বাচিতভাবে অংশগ্রহণ বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের মৌলিক ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আইসিসি আরও আশা প্রকাশ করেছে, পিসিবি যেন দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ খুঁজে বের করে।

ব্যাট হাতে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেতে সময় লাগল না সোবহানা মোস্তারি, নিগার সুলতানা জ্যোতি, দিলারা আক্তার দোলাদের। বোলিংয়েও ভালো করে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে সুখবর পেলেন মারুফা আক্তার, নাহিদা আক্তাররা।
মেয়েদের ক্রিকেটের র্যাঙ্কিংয়ের সবশেষ হালনাগাদ মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে আইসিসি। সবচেয়ে বড় লাফটা দিয়েছেন বাংলাদেশের তারকা পেসার মারুফা আক্তার। র্যাঙ্কিংয়ে বাইরে থেকে ২০৬ ধাপ লাফিয়ে সেরা একশতে প্রবেশ করেছেন তরুণ পেসার।
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করার পথে ৫ ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়েছেন মারুফা। এক লাফে ২০৬ ধাপ এগিয়ে ৩৬৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ৯২ নম্বরে অবস্থান করছেন ২১ বছর বয়সী পেসার।
টুর্নামেন্টে ১৫৪ রান করে তিন ধাপ এগিয়েছেন জ্যোতি। বর্তমানে তার অবস্থান ১৯তম। বাছাইয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৬২ রান করা সোবহানা মোস্তারি ১৬ ধাপ এগিয়ে এখন ৩৬ নম্বরে উঠেছেন। আর পাঁচ ধাপ লাফিয়ে ৬৫ নম্বরে আছেন দিলারা।
বাছাইপর্বে ১৯৫ রান করলেও বড় ধাক্কাই খেয়েছেন শারমিন আক্তার সুপ্তা। ১৩ ধাপ পিছিয়ে ৪৮ নম্বরে নেমে গেছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার।
বোলারদের মধ্যে মারুফা ছাড়াও এগিয়েছেন নাহিদা। ৮ ধাপ এগিয়ে ২৮ নম্বরে উঠেছেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার। এছাড়া তরুণ অলরাউন্ডার স্বর্ণা আক্তার ৪৩ ধাপ লাফিয়ে ৭৪ নম্বরে উঠেছেন।

মাঠের সময়টা ভালো যাচ্ছে না মোহাম্মদ রিজওয়ানের। পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে জায়গা হয়নি; দীর্ঘদিন পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে হলেন ব্যর্থ। প্রেসিডেন্টস ট্রফিতে সুই নর্দানের হয়ে অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নেমে প্রথম ইনিংসে মাত্র ২২ রান করে আউট হন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।
অয়েল অ্যান্ড গ্যাসের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে সুই নর্দান গুটিয়ে যায় ১৮২ রানে। রিজওয়ান ব্যাট করতে নামেন ৫০ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর। চতুর্থ উইকেটে ৪২ রানের জুটি গড়ে ইনিংস কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও বড় ইনিংস গড়তে ব্যর্থ হন তিনি। ৪১ বল খেলে ২২ রান করে বাঁহাতি স্পিনার দানিশ আজিজের বলে আউট হন রিজওয়ান।
এই ইনিংসের মাধ্যমে ছয় বছর পর পাকিস্তানের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফিরলেন রিজওয়ান। সর্বশেষ ২০১৯ সালের অক্টোবরে কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে খাইবার পাখতুনখোয়ার হয়ে সেন্ট্রাল পাঞ্জাবের বিপক্ষে খেলেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ১২৮ রান করেছিলেন রিজওয়ান। ওই পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই তিন বছর পর টেস্ট দলে ডাক পান।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানের জার্সিতে টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন রিজওয়ান। বিশ্বকাপের দলে ফিরতে দরকার ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশে অসাধারণ কিছু করে দেখানোর। তবে সেখানেও কিছু করতে পারেননি। মেলবোর্ন রেনেগেডসের হয়ে ১০ ম্যাচে মাত্র ১৮৭ রান করেন রিজওয়ান, স্ট্রাইক রেট ছিল হতাশাজনক ১০২.৭৪। সর্বোচ্চ ইনিংস ৪১ রান।

চোটের কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরুতে খেলতে পারবেন না অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ পেসার জশ হ্যাজলউড। হ্যামস্ট্রিং ও অ্যাকিলিস (গোড়ালির হাড় সংযোগকারী) চোটে ভুগছেন তিনি। টুর্নামেন্টের শুরুর কয়েকটি ম্যাচে তাঁকে পাচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া দল।
৩৫ বছর বয়সী হ্যাজলউড গত নভেম্বরের পর থেকে আর কোনো ক্রিকেট খেলেননি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজেও পুরোটা সময় মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। পাকিস্তান সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এএফপির প্রতিবেদন, বিশ্বকাপের আগে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হ্যাজলউড শ্রীলঙ্কায় দলের সঙ্গে না গিয়ে সিডনিতেই থাকবেন।
অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক টনি ডোডেমেইড এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জশের জন্য ঘরের পরিচিত পরিবেশে পুনর্বাসন চালিয়ে যাওয়া বেশি বাস্তবসম্মত ও উপকারী হবে। পরে তিনি দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।’
হ্যাজলউড কবে ফিরবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। হ্যাজলউডের বদলে সফরকারী রিজার্ভ হিসেবে দলে রাখা হয়েছে পেসার শন অ্যাবটকে। নির্বাচক ডোডেমেইড বলেন,‘শন একজন অভিজ্ঞ ও মাল্টি সংস্করণের অভ্যস্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। একাধিক বিশ্বকাপ অভিযানের অভিজ্ঞতা আছে তার। পাকিস্তান সফরের পর তাকে দলের সঙ্গে রাখাটা যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে।’
বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তুতিও ভালো নয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি সিরিজে তারা ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই হয়েছে। সব মিলিয়ে শেষ পাঁচটি টি-টোয়েন্টিতে তারা জয় পায়নি।
এর মধ্যে আরও বড় এসেছে অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে নিয়ে। লোয়ার ব্যাক (পিঠের নিজের অংশে) চোটে কারণে পুরো বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেছেন তিনি। তার বদলে দলে জায়গা পেয়েছেন বেন ডোয়ারশুইস।
এ ছাড়া পাকিস্তান সিরিজে না থাকা নাথান এলিস, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও টিম ডেভিড আজ দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে আয়োজিত এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ হবে শ্রীলঙ্কায়। তারা ১১ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে। গ্রুপে তাদের অন্য প্রতিপক্ষ স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা, ওমান ও জিম্বাবুয়ে।