২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ৩:৫৮ পিএম

ফরম্যাটের কারণেই একটা দল প্রথম ম্যাচ হারলেই চলে যায় বাদ পড়ার কাছাকাছি অবস্থায়। ভারতের কাছে হেরে যাওয়ায় নিউজিল্যান্ড ম্যাচ তাই বাংলাদেশের জন্য হয়ে দাঁড়িয়েছে টিকে থাকার লড়াইয়ে। স্বস্তির খবর, সব ঠিক থাকলে এই ম্যাচ দিয়ে ফিরছেন মাহমুদউল্লাহ। আর এই কারণেই কিউইদের বিপক্ষে একাদশ সাজানোটা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের জন্য।
এই ধরনের সমস্যা দলের জন্য মধুরই। কাকে রেখে কাকে বাদ দেবেন, এই অনিশ্চয়তা একটা দলের শক্তিমত্তারই পরিচয় দেয়। তবে মাহমুদউল্লাহ যদি ফিরতে পারেন পরের ম্যাচে, তাহলে ব্যাটিং অর্ডার বা দলের ফরমেশনেই যে আনতে হবে বড় বদল। হয় একজন ব্যাটার বাদ দিতে হবে, আর নাহয় একজন বোলার কম নিয়ে খেলতে হবে। প্রথম ম্যাচের ব্যাটিং ব্যর্থতার পর এই বিভাগে কাউকে বাদ দেওয়াটা হয়েছে আরেক মাথাব্যথার বিষয়।
আরও পড়ুন
| বোলিং অ্যাকশন শুধরে ডিপিএল খেলবেন সাকিব, আশায় রূপগঞ্জ |
|
সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান তামিমকে এই টুর্নামেন্টেও ওপেনিং জুটি হিসেবে ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। একজন ২১ করলেও ভারত ম্যাচে আরেকজন ডাক মেরেছেন। তবে স্রেফ এক ম্যাচ বাদেই তাদের মধ্যে একজনকে যদি বাদ দেওয়া হয়, তাহলে সেটা খুব ভালো একটা বার্তা দেবে না। কারণ, সেক্ষেত্রে মাহমুদউল্লাহকে একাদশে এনে মেহেদি হাসান মিরাজকে পাঠানো হবে ওপেনে।
সেক্ষেত্রে পারভেজ হোসেন ইমন নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন, তাকে যে দলে রাখাই হয়েছে ব্যাকআপ হিসেবে। তবে মিরাজ অলরাউন্ডার এবং ওপেনে ভালো রেকর্ড থাকায় বিবেচনায় তিনিই এগিয়ে থাকবেন নিশ্চিতভাবেই।
চোটের কারণে মাহমুদউল্লাহ আগের ম্যাচ না খেললে বাদ পড়তে পারতেন তাওহীদ হৃদয় বা জাকের আলি অনিক। তবে দুজন যথাক্রমে সেঞ্চুরি ও ফিফটি করায় তাদের বাইরে রাখার সুযোগ নেই বললেই চলে। ফলে মিরাজ যদি ওপেন না করেন, তাহলে তাকে ব্যাট করতে হবে নিচের দিকে। আর সেটা করতে হলে বাদ দিতে হবে একজন বোলারকে, যা পাঁচ বোলার কম্বিনেশন সাজাতে আরও সমস্যায় ফেলে দেবে দলকে।
অনেকটা সময় ধরেই ওয়ানডে রানের মধ্যে নেই মুশফিকুর রহিম। ভারত ম্যাচে পেয়েছেন গোল্ডেন ডাকের তেতো অভিজ্ঞতা। তবে কিপিংয়ের দায়িত্বটা তিনি সামলাচ্ছেন, পাশাপাশি দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটারও। ফর্মে না থাকলেও তাই তাকে সরিয়ে মাহমুদউল্লাহকে খেলানো।
আরও পড়ুন
| ডিপিএলে খেলবেন সাকিব? |
|
এছাড়া আরেকটি উপায় আছে বাংলাদেশের সামনে। তা হলে চার স্পেশালিষ্ট বোলারের একজনকে বসিয়ে দেওয়া। তাতে মিরাজ নেমে যাবেন আটে। আর পঞ্চম বোলারের কাজটা ভাগাভাগি করতে হবে সৌম্য ও মাহমুদউল্লাহকে। তবে দুই অনিয়মিত বোলার দিয়ে ১০ ওভার করানোটা বুমেরাং হতে পারে, বিশেষ করে ফর্মে থাকা নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের বিপক্ষে।
সার্বিক বিবেচনায় মাহমুদউল্লাহ ফিট হলে তাকে একাদশে ফেরানোর কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশের। আর সেটা করতে গেলে সম্ভাব্য সেরা সমাধান ওপেনিং পজিশনে পরিবর্তন আনা। নাজমুল হোসেন শান্তর দল কি সেদিকেই হাঁটবে? উত্তর জানতে আগামী সোমবার দুপুর ৩টায় চোখ রাখুন টি স্পোর্টসের পর্দায়।
No posts available.
৪ মে ২০২৬, ৫:৪০ পিএম
৪ মে ২০২৬, ৩:০১ পিএম

আবাহনী ক্রিকেট টিমের অর্থায়ন করে থাকেন যারা, তাদের কেউ কারাগারে, কেউ কেউ ছেড়েছেন দেশ। এমন একটা সংকটজনক অবস্থায় পড়েও গত বছর সমর্থকদের দিয়েছে সুখবর। অর্থ সংকটে মিডিওকার টিম বানিয়েও জিতেছে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের ট্রফি। এবারও গত বছরের ফর্মূলা প্রয়োগে বিলম্বে দল গঠন করে বাজিমাত করতে চেয়েছে আবাহনী। তবে মিডিওকার টিম গঠনের ধাক্কাটা খেয়েছে আবাহনী শুরুতেই। প্রিমিয়ার ডিভিশনের নবাগত ঢাকা লিওপার্ডের কাছে ৫ উইকেটে হেরে লিগ শুরু করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আবাহনী।
বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে লিস্ট 'এ' ক্রিকেট ম্যাচের অভিষেকে আবাহনী ধাক্কা খেয়েছে শুরুতেই। বৃষ্টির কারণে দুই এন্ডের বোলিং রান আপ এবং পাশের পিচ ভেজা থাকায় নির্ধারিত সময়ের সাড়ে ৩ ঘন্টা পর শুরু হয়েছে উদ্বোধনী ম্যাচ। এমন একটা ভেজা মাঠে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েই আবাহনীকে ব্যাকফুটে নামিয়ে এনেছে ঢাকা লিওপার্ড। ৩০ ওভারের ম্যাচে ওভারপ্রতি ৬-এর উপরে স্কোর করেছে আবাহনী (১৮১/৮)। তবে রোদ্রজ্জ্বল আবহওয়ায় পিচ শুকিয়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাভাবিক ব্যাটিং করতে পেরেছে ঢাকা লিওপার্ডস। প্রথম উইকেট জুটির ৩৩ বলে ৩৪, দ্বিতীয় উইকেট জুটির ৪৭ বলে ৫০ এবং তৃতীয় উইকেট জুুটির ৬৭ বলে ৭৩ রানে ৫ বল হাতে রেখে আবাহনীকে ৫উইকেটে হারিয়ে ফ্লাইং স্টার্ট করেছে প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের নবাগত ক্লাব ঢাকা লিওপার্ডস।
ঢাকা লিওপার্ডসের পেসার মঈন খান ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-এর ৬ ওভারে দিয়েছেন ঝাঁকুনি। ইনিংসেরর ৪র্থ বলে জিসান আলমকে (৪ বলে ৬) লফটেড শটে প্রলুব্ধ করে মিড উইকেটে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন মঈন খান। পরের ওভারে মঈন খানের শিকার সৌম্য সরকার (৬ বলে ০) থেমেছেন বোল্ড আউটে। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৩ ওভারের স্পেলটি ছিল মঈন খানের ৩-০-১২-২। ইনিংসে তার শিকার সংখ্যা ৩টি (৬-০-২১-৩)।
আবাহনীর সঙ্গে এক যুগেরও বেশি সময় কাটিয়ে দেওয়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত প্রথম ম্যাচে হতাশ করেছেন। আল ফাহাদের বলে তুলে খেলতে যেয়ে লং অনে দিয়েছেন ক্যাচ (৩৩ বলে ১১)। অঙ্কন-মেহরব তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৬৬ বলে ৬১ রান যোগ করে দলকে চ্যালেঞ্জিং স্কোরের পথ দেখিয়েছেন। ৭ম উইকেট জুটিতে সাব্বির রহমান রুম্মান-মাহফুজুর রহমান বাপ্পী ২৩ বলে ৪৪ রান যোগ করলে ৩০ ওভারে নির্ধারিত ম্যাচে আবাহনীর স্কোর দাঁড়ায় ১৮১/৮।
আবাহনী ১৮১ পর্যন্ত স্কোর টেনে নিতে পেরেছে সাব্বির রহমান রুম্মানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের কারণে। ২০২২-এর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকা সাব্বিরের প্রয়োজন ফুরিয়েছে বিপিএলেও। সর্বশেষ বিপিএলে খেলার সুযোগই পাননি এক সময়ে জাতীয় দলের এই লোয়ার মিডল অর্ডার। সোমবার প্রিমিয়ার ডিভিশনের প্রথম ম্যাচে ইনিংসের শেষ বলে আল ফাহাদকে লং অনের উপর দিয়ে ছক্কায় পূর্ণ করেছেন ফিফটি (২৯ বলে ২ চার, ৫ ছক্কায় ৫১*)। টি-২০ মেজাজে ব্যাটিংয়ে ৫টি ছক্কার ৩ টি মেরেছেন আলাউদ্দিন বাবুকে। তাঁর ব্যাটিং ঝড়ে শেষ ৪ ওভারে আবাহনী যোগ করেছে ২ উইকেট হারিয়ে ৫১।
খালেদ-রাকিবুল-সৈকত-মাহফুজুর রাব্বী, এমন বোলিং কম্বিনেশন নিয়েও ঢাকা লিওপার্ডকে চাপে ফেলতে পারেনি আবাহনী। ওপেনিং জুটিতে জাকির-জাওয়াদ আবরারের ৩৩ বলে ৩৪, দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে জাকির-সৈকত আলীর ৪৭ বলে ৫০ এবং চতুর্থ উইকেট জুটিতে জাকির-মিঠুনের ৬৭ বলে ৭৩ রান ঢাকা লিওপার্ডের সহজ জয়ের পথ মসৃন করেছে। লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে ৩ হাজারী ক্লাবের সদস্যপদ প্রাপ্তির ম্যাচে ওপেনার জাকির ৪৮ বলে পূর্ণ করেছেন ফিফটি। তবে ফিনিশ করে আসতে পারেননি। মাহফুজুর রহমান রাব্বীর বলে লং অনে ক্যাচ দিয়ে থেমেছেন (৬৬ বলে ৬ চার, ৩ ছক্কায় ৭৪)। জয় থেকে ঢাকা লিওপার্ড যখন মাত্র ৮ রান দূরে, তখন মিঠুন ফিরেছেন জিসানের বলে এলবিডাব্লুউতে কাটা পড়ে (৪০ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৩৭)।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) ক্রিকেটের নতুন মৌসুমে উড়ন্ত সূচনা পেল বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। গুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে ২৬ রানে হারিয়েছে তারা।
পিকেএসপির ২ নম্বর মাঠে ডিপিএলের উদ্বোধনী দিনে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২৮০ রান করে বসুন্ধরা। জবাবে ২৫৪ রানে গুটিয়ে যায় গুলশান।
বসুন্ধরার জয়ের নায়ক সাইফ হাসান। অল্পের জন সেঞ্চুরি না পেলেও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ১২৬ বলে ৯৬ রান করে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন জাতীয় দলের ওপেনার।
ম্যাচে রান তাড়ায় শুরু থেকে নিয়মিত উইকেট হারায় গুলশান। চার নম্বরে নামা শাহরিয়ার সাকিব ৪৭ রানের ইনিংসে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তাকে এলবিডব্লিউ করে থামান সাইফ।
পরে শাহাদাত হোসেন সবুজও চেষ্টা করেন দলকে এগিয়ে নিতে। কিন্তু ৫৪ বলে ৩৯ রানের বেশি করতে পারেননি। একপর্যায়ে ১৯৪ রানে ৯ উইকেট নিয়ে বড় জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে বসুন্ধরা।
দশম উইকেটে জুবায়ের হোসেন ও আব্দুর রহিম ৪৪ বলে ৬০ রানের জুটি গড়ে গুলশানের পরাজয়ের ব্যবধান কমান। ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৯ বলে ৭৩ রান করে আউট হন জুবায়ের। ২৬ বলে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন রহিম।
বসুন্ধরার পক্ষে ৩টি করে উইকেট নেন রুয়েল মিয়া ও নাহিদুল ইসলাম।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৫৬ রান যোগ করেন ইমরানউজ্জামান ও সাইফ। ৮ চারে ৫৬ বলে ৩০ রান করে আউট হন ইমরানউজ্জামান। এরপর ম্যারাথন জুটি গড়েন সাইফ ও ফজলে রাব্বি।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে দুজন মিলে যোগ করেন ১৩৩ রান। ২টি করে চার-ছক্কা মারলেও মন্থর ব্যাটিংয়ে পঞ্চাশ করতে ৮৪ বল খেলে ফেলেন সাইফ। অন্য দিকে ফজলে রাব্বি ১ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৩ বলে করেন ফিফটি।
দলকে দুইশর কাছে রেখে আউট হন ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৯ বলে ৭২ রান করা ফজলে রাব্বি। এরপর দলের হাল ধরেন সাইফ ও সোহান। দুজন মিলে ৬৭ বলে গড়েন ৭১ রানের জুটি।
ইনিংসের ৪৯তম ওভারে বাঁহাতি স্পিনার তানভিরের শর্ট বল পুল করে দেন সোহান। ডিপ মিড উইকেটে লাফিয়ে ক্যাচ নেন রাফিউজ্জামান রাফি। তবে ভারসাম্য হারিয়ে তিনি চলে যান সীমানার ওপারে। এর আগে অবশ্য বল হাওয়ায় ভাসিয়ে দেন।
পরে সীমানার ভেতরে ঢোকার আগেই বাউন্ডারির বাইরে মাটিতে পা থাকা অবস্থায় ক্যাচ নেন রাফি। এর সঙ্গে সঙ্গেই আউটের উদযাপন শুরু করেন তিনি। তবে সংশয় থাকায় মাঠ ছেড়ে যাননি সোহান। বরং আম্পায়ারদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে থাকেন তিনি।
ততক্ষণে রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা যায়, দ্বিতীয়বার ক্যাচ নেওয়ার সময় বাউন্ডারির বাইরে মাটিতে ছিল রাফির পা। তাই নিয়ম অনুযায়ী, ছক্কাই পাওয়ার কথা সোহানের।
তবে টুর্নামেন্টে কোনো থার্ড আম্পায়ারের সুযোগ না থাকায় ফিল্ডারের কথার ওপরেই ভরসা রাখতে হয় মাঠের দুই আম্পায়ারের। আর রাফি বারবার আউটের কথা বলায় আউট ঘোষণা করা হয় সোহানকে।
২ চার ও ১ ছক্কায় ৪১ বলে ৪৩ রান করে ফিরতে হয় বসুন্ধরা অধিনায়কের।
এক বল পরে লং অফের দিকে খেলে ২ রান নেওয়ার চেষ্টায় শেষ দিকে খানিক ধীর হয়ে যান সাইফ। তাতেই ঘটে বিপদ। বেলস ফেলে তাকে সেঞ্চুরি মিসের হতাশায় ডোবান উইকেটরক্ষক ফারজান আহমেদ আলিফ।
৩টি করে চার-ছক্কা মেরে ১২৬ বলে ৯৬ রান করেন সাইফ।
গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন আব্দুর রহিম ও তানভির।
ব্রাদার্সকে উড়িয়ে দিল গাজী গ্রুপ
ইউল্যাব ক্রিকেট মাঠে দিনের অন্য ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়ন লিমিটেডকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতার কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয় খেলা। ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ৩৬ ওভারে।
আগে ব্যাট করে ২৯.৪ ওভারে মাত্র ৮২ রানে গুটিয়ে যায় ব্রাদার্স। জবাবে ১ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৪.৩ ওভারে ম্যাচ জিতে নেয় গাজী গ্রুপ।
জয়ের নায়ক গাজী গ্রুপের রহস্য স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল। ৮ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ১৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে বিপিএল জেতা স্পিনার।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে একদমই সুবিধা করতে পারেনি ব্রাদার্স। শাহরিয়ার কমল (৪১ বলে ২৬) ও ফয়সাল আহমেদ রায়হান (৪৩ বলে ২১) ছাড়া আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।
রুবেল ছাড়াও গাজী গ্রুপের আরেক স্পিনার লিওন ২০ রানে নেন ৩ উইকেট। বাঁহাতি স্পিনার আরিদুল ইসলাম আকাশ ৭ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ৯ রানে নেন ১ উইকেট।
পরে রান তাড়ায় অল্পেই ফিরে যান মুনিম শাহরিয়ার (১৬ বলে ১১)। এরপর আর উইকেট পড়তে দেননি নাঈম আহমেদ (৪৯ বলে ৪৮) ও রুবেল মিয়া (২২ বলে ১৮)।
১৫ ওভারের মধ্যে ৮ জন বোলার ব্যবহার করে ব্রাদার্স।

৬ বলে প্রয়োজন ১৪ রান। বড় শটের খোঁজে ক্যাচ আউট হয়ে গেলেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। ড্রেসিং রুমে ফেরার আগে হতাশায় ব্যাট দিয়ে আঘাত করলেন মাটিতে। সেটিই কাল হয়ে দাঁড়াল বাংলাদেশ অধিনায়কের জন্য। মেজাজ হারানোয় ভর্ৎসনা শুনতে হয়েছে তার।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা আইসিসি জানিয়েছে, আউট হয়ে মাঠে মেজাজ হারানোয় আনুষ্ঠানিক তিরস্কার করা হয়েছে জ্যোতিকে। এছাড়া তার নামের পাশে যুক্ত হয়েছে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট।
আরও পড়ুন
| অনুশীলনে নেইমার ও রবিনহোর ছেলের হাতাহাতি |
|
সিলেটে শনিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে জয়ের জন্য শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ১৪ রান। চামারি আতাপাত্তুর প্রথম বলেই বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন জ্যোতি। পরে হতাশায় ব্যাট দিয়ে মাটিতে সজোরে আঘাত করেন তিনি।
যা ভালোভাবে নেননি মাঠের দুই আম্পায়ার ইলোইস শেরিডান ও সাথিরা জাকির জেসি। এছাড়া থার্ড আম্পায়ার রোকেয়া সুলতানা ও ফোর্থ আম্পায়ার চম্পা চাকমার সঙ্গে পরামর্শ করে জ্যোতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তারা।
পরে ম্যাচ রেফারি সুপ্রিয়া রাণী দাস আনুষ্ঠানিক তিরস্কারের পাশাপাশি একটি ডিমেরিট পয়েন্টের শাস্তি দেন। জ্যোতি নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ায় আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।

বাংলাদেশ
ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অভ্যন্তরে দুর্নীতির ধরন দেখে অবাক অ্যাড-হক কমিটির প্রধান ও জাতীয়
দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। নারী ক্লিনারদের (পরিচ্ছনকর্মী) জন্য বোর্ডের বরাদ্দ
৬৫০ টাকা হলেও, ক্লিনাররা পাচ্ছেন মাত্র ৩০০ টাকা করে। এরই মধ্যে এই দশা বদলানোর পদক্ষেপ
নিয়েছেন তামিম।
দর্শকদের
অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টির সময় মিরপুর শের-ই
বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্যালারির ওয়াশরুম পরিদর্শন করতে যান তামিম। এসময়
কয়েকজন ক্লিনার তাকে জানান, পারিশ্রমিক হিসেবে দৈনিক মাত্র ৩০০ টাকা পান তারা।
খোঁজ
নিয়ে তামিম দেখতে পান, প্রতি ক্লিনারের জন্য বিসিবির বিল ৬৫০ টাকা করে। কিন্তু এই অর্থের
অর্ধেকেরও কম পান ক্লিনাররা। পরে আরও যাচাই করে তামিমের সামনে উঠে আসে বোর্ডের অভ্যন্তণে
এক মধ্যস্বত্বভোগীর দুর্নীতির বিষয়টি।
বসুন্ধরা
স্পোর্টস সিটি কমপ্লেক্সে সোমবার
ওয়ালটন স্মার্ট ফ্রিজ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ পাওয়ার্ড বাই বসুন্ধরা সিমেন্ট-র উদ্বোধন
করতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে এই বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন তামিম। তিনি আশ্বাস
দেন, সামনের সিরিজ থেকে আরও বেশি টাকা পাবেন ক্লিনাররা।
"এটা (ক্লিনারদের পারিশ্রমিক) শুনে আমি খুব অবাক হয়েছি। যেদিন গ্যালারিতে গেলাম, ফিনল্যান্ড থেকে সেদিন একজন মহিলা সকালেই এসে সোজা মাঠে খেলা দেখতে আসে। তিনি আমাকে খুব সুন্দর করে এসে বললেন যে, ভাইয়া যদি একটু ওয়াশরুমগুলো ঠিক করা যায়। হয়তো শুনে অবাকই হবেন যে স্টেডিয়াম যখন নির্মাণ হয়েছিল, তারপর থেকে আর বাথরুম নিয়ে কোনো সংস্কার হয়নি। যা একদমই ঠিক হয়নি।"
"তো সেদিন আমি যাওয়ার সময় ওখানে বাথরুমটা পরিষ্কার রাখার দায়িত্বে থাকা একজন... আমি তাকে খালাম্মা ডাকি... তিনি বলেছিলেন, আমাদের দিনে ৩০০ টাকা করে দেওয়া হয়। ভিডিওতে অনেকেই হয়তো দেখেছেন। তো খালাম্মা আমাকে বললেন, এই জিনিসটা যেন আমি একটু দেখি।"
সেই
নারী ক্লিনারের আবদারের পর বোর্ডে গিয়ে খোঁজখবর নেন তামিম। সেখানে জানতে পারেন, থার্ড
পার্টি ক্লিনিং সার্ভিসের মাধ্যমে একেকজন ক্লিনারের জন্য ৬৫০ টাকা করে দেয় বিসিবি।
তাই সেই থার্ড পার্টি ক্লিনিং সার্ভিসকে ডেকে কথা বলেন বিসিবির অ্যাডহক-কমিটির প্রধান।
তখন
জানা যায়, আনুসঙ্গিক খরচ ও লাভের অংশ বাদ দিয়ে একেকজন ক্লিনারের জন্য ৫০০ টাকা করে
বরাদ্দ রাখে ওই ক্লিনিং সার্ভিস কোম্পানি। কিন্তু বোর্ডের ভেতর থেকেই একজন মধ্যস্বত্বভোগী
জনপ্রতি ২০০ টাকা করে নিজের কাছে রেখে দিয়ে ক্লিনারদের দেন ৩০০ টাকা করে।
সামনের
সিরিজ থেকে এটি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন তামিম। প্রত্যেক ক্লিনারকে ম্যাচ প্রতি ৫০০
টাকা করে দেওয়া নিশ্চিত করতে চান বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক। তাই প্রত্যেক ক্লিনারকে
সরাসরি তাদের ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
শুধু
তাই নয়, ক্লিনারদের ওভারটাইমের ক্ষেত্রেও স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির ছাপ দেখেছেন তামিম।
এসব বন্ধ করার জন্যও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন তামিম।

অল্পের
জন্য ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) ক্রিকেটের নতুন মৌসুমের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হতে পারলেন
না সাইফ হাসান। সম্ভাবনা জাগিয়েও ৯৬ রানে রানআউটে কাটা পড়লেন বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের
ওপেনার। আর দারুণ খেলতে খেলতে ভুল আউটের শিকার হলেন দলটির অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান।
পিকেএসপিতে
সোমবার ওয়ালটন স্মার্ট ফ্রিজ ডিপিএল পাওয়ার্ড বাই বসুন্ধরা সিমেন্ট-র উদ্বোধনী দিনে
গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের মুখোমুখি হয়েছে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। সাইফ হাসান ও ফজলে মাহমুদ
রাব্বির ফিফটিতে ৫ উইকেটে ২৮০ রানের সংগ্রহ পেয়েছে তারা।
সেঞ্চুরি
পেয়ে যেতে পারতেন সাইফ। কিন্তু শেষ দিকে গিয়ে আয়েশি ভঙ্গিতে রান নিতে গিয়ে কপাল পোড়ে
বসুন্ধরার ওপেনারের। একই ওভারে আম্পায়ারদের ভুল সিদ্ধান্তে ছক্কার বদলে আউট হয়ে ফিরতে
হয় সোহানের।
টস
হেরে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৫৬ রান যোগ করেন ইমরানউজ্জামান ও সাইফ। ৮ চারে
৫৬ বলে ৩০ রান করে আউট হন ইমরানউজ্জামান। এরপর ম্যারাথন জুটি গড়েন সাইফ ও ফজলে রাব্বি।
তৃতীয়
উইকেট জুটিতে দুজন মিলে যোগ করেন ১৩৩ রান। ২টি করে চার-ছক্কা মারলেও মন্থর ব্যাটিংয়ে
পঞ্চাশ করতে ৮৪ বল খেলে ফেলেন সাইফ। অন্য দিকে ফজলে রাব্বি ১ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৩ বলে
করেন ফিফটি।
দলকে
দুইশর কাছে রেখে আউট হন ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৯ বলে ৭২ রান
করা ফজলে রাব্বি। এরপর দলের হাল ধরেন সাইফ ও সোহান। দুজন মিলে ৬৭ বলে গড়েন ৭১ রানের
জুটি।
ইনিংসের
৪৯তম ওভারে বাঁহাতি স্পিনার তানভিরের শর্ট বল পুল করে দেন সোহান। ডিপ মিড উইকেটে লাফিয়ে
ক্যাচ নেন রাফিউজ্জামান রাফি। তবে ভারসাম্য হারিয়ে তিনি চলে যান সীমানার ওপারে। এর
আগে অবশ্য বল হাওয়ায় ভাসিয়ে দেন।
পরে
সীমানার ভেতরে ঢোকার আগেই বাউন্ডারির বাইরে মাটিতে পা থাকা অবস্থায় ক্যাচ নেন রাফি।
এর সঙ্গে সঙ্গেই আউটের উদযাপন শুরু করেন তিনি। তবে সংশয় থাকায় মাঠ ছেড়ে যাননি সোহান।
বরং আম্পায়ারদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে থাকেন তিনি।
ততক্ষণে
রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা যায়, দ্বিতীয়বার ক্যাচ নেওয়ার সময় বাউন্ডারির বাইরে মাটিতে ছিল
রাফির পা। তাই নিয়ম অনুযায়ী, ছক্কাই পাওয়ার কথা সোহানের।
তবে
টুর্নামেন্টে কোনো থার্ড আম্পায়ারের সুযোগ না থাকায় ফিল্ডারের কথার ওপরেই ভরসা রাখতে
হয় মাঠের দুই আম্পায়ারের। আর রাফি বারবার আউটের কথা বলায় আউট ঘোষণা করা হয় সোহানকে।
২
চার ও ১ ছক্কায় ৪১ বলে ৪৩ রান করে ফিরতে হয় বসুন্ধরা অধিনায়কের।
এক
বল পরে লং অফের দিকে খেলে ২ রান নেওয়ার চেষ্টায় শেষ দিকে খানিক ধীর হয়ে যান সাইফ। তাতেই
ঘটে বিপদ। বেলস ফেলে তাকে সেঞ্চুরি মিসের হতাশায় ডোবান উইকেটরক্ষক ফারজান আহমেদ আলিদ।
৩টি
করে চার-ছক্কা মেরে ১২৬ বলে ৯৬ রান করেন সাইফ।
গুলশান
ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন আব্দুর রহিম ও তানভির।