
বন্ধুকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অবশেষে রাখতে পারলেন লিওনেল মেসি। সবাইকে চমকে দিয়ে তিনি হাজির হলেন বুয়েন্স আইরেসের এক থিয়েটারে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উপভোগ করলেন বন্ধু নিকো ভাসকেজের অভিনীত ‘রকি’ নাটক।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে এখন আর্জেন্টিনায় অবস্থান করছেন মেসি। এই সুযোগটিই তিনি বেছে নিয়েছেন বন্ধু ভাসকেজকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য।
মঙ্গলবার জাতীয় দলের অনুশীলন শেষে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বুয়েন্স আইরেসের লোলা মেমব্রিভেস থিয়েটারে হাজির হন মেসি। স্বাভাবিকভাবেই মহাতারকার উপস্থিতিতে বিস্ময়ের সাগরে ভেসেছেন উপস্থিত দর্শকরা। দাঁড়িয়ে মেসিকে অভিবাদন জানিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন
| দুই ওপেনারকে বিশ্রাম দিয়ে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ |
|
পরে নাটক শেষে মেসিকে মঞ্চে ডেকে নেন তার বন্ধু ভাসকেজ। ছোট্ট প্রতিক্রিয়ায় ভালো লাগার কথা বলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর।
“এটা সত্যিই দারুণ ছিল। সবাই অসাধারণ। আমার জন্য এটা এক বিশেষ মুহূর্ত। আমার পুরো পরিবারকে বুয়েনস আইরেসে একসাথে পাওয়ার ঘটনা খুব একটা ঘটে না। কারণ, তারা সাধারণত সবসময় রোসারিওতে থাকে।”
এসময় মেসি জানান, বন্ধুকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতেই তার এমন আকস্মিক আগমন।
“তোমাকে (ভাসকেজ) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে আসব। সৌভাগ্যক্রমে আসতে পেরেছি, পরিবারের সঙ্গও পেয়েছি। এটা দুর্দান্ত রাত। তোমার পাশে থাকা আমার জন্য অনেক কিছু। তুমি দারুণ কাজ করেছ। উপস্থিত থাকতে পেরে, এই সন্ধ্যা সবার সঙ্গে উপভোগ করতে পেরে আমি আনন্দিত। অনেক ধন্যবাদ।”
আরও পড়ুন
| ঝুঁকি নিয়ে হলেও অ্যাশেজে তোপ দাগতে চান কামিন্স |
|
ভাসকেজের অভিনয় দেখতে মেসির থিয়েটারে যাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০১৬ সালে ভাসকেজ অভিনীত 'এল ওত্রো লাদো দে লা কামা' দেখতে অ্যাপোলো থিয়েটারে গিয়েছিলেন মেসি। পরের বছর মেসির বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের একজন ছিলেন ভাসকেজ।
মেসির জন্য এবার আর্জেন্টিনায় ফেরার উপলক্ষ্যটা একইসঙ্গে বিশেষ ও আবেগঘন। বাংলাদেশ সময় আগামী শুক্রবার ভোরে ভেনেজুয়েলার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। আগেই মেসি নিশ্চিত করেছেন, বাছাইপর্বে দেশের মাটিতে এটাই তার শেষ ম্যাচ।
সেদিন গ্যালারিতে উপস্থিত থাকবেন মেসির পরিবারের সদস্যরাও।
No posts available.
১৬ মার্চ ২০২৬, ১০:২৭ এম

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের
হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রভাব বেশ ভালোভাবেই পড়েছে ইরাকের ফুটবলেও।
যুদ্ধাবস্থায় বিমান চলাচল বন্ধসহ খেলোয়াড়দের প্রস্তুতিতেও বিগ্ন ঘটছে। মেক্সিকোর মন্টেরেতে
৩১ মার্চ অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ প্লে-অফ ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার
কাছে আবেদন করেছিল ইরাক। তবে শেষ পর্যন্ত ফিফা জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত সময়েই ম্যাচ
খেলতে মেক্সিকো সফরে যাবে দলটি।
ইউরোপীয় প্লে-অফ থেকে ৪টি
ও আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফ থেকে ২টি দল সুযোগ পাবে বিশ্বকাপে। সেই প্লে–অফের বাধা পেরিয়ে
বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ আছে ইরাকেরও। সূচি অনুযায়ী ইরাক ফুটবল দল আগামী ৩১ মার্চ মেক্সিকোর
মাটিতে সুরিনাম–বলিভিয়া ম্যাচের বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে। সেই ম্যাচ জিততে পারলে ১৯৮৬
সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেবে দেশটি।
তবে ইরাকের প্লে-অফ খেলার
যাত্রায় বাধা হয়ে দাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। এই সমস্যা সমাধানে প্রথমে ফিফা প্রস্তাব
দিয়েছিল—বাগদাদ থেকে ইরাকের উত্তরের পথ ধরে বাসে করে তুরস্কের ইস্তাম্বুল পর্যন্ত প্রায়
২৪ ঘণ্টার যাত্রা করবে ইরাকি দল। ওই অঞ্চলটিতে তখন ইরানের হামলা চলছিল। ইস্তাম্বুলে
পৌঁছে সেখান থেকে বিমানে মেক্সিকো যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
কিন্তু ইরাকি ফুটবল ফেডারেশন
জানায়, বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে এই যাত্রা বাস্তবসম্মত নয়। এত দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ
ভ্রমণ শেষে মাঠে নেমে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পারফরম্যান্স করা কঠিন হবে বলেও তারা মনে
করে।
পরে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর
হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি বদলায়। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে, ইরাকি দল চার্টার্ড
বা ব্যক্তিগত বিমানে সরাসরি মেক্সিকো যাবে।
ইরাকি সংবাদ সংস্থা প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি আদনান দিরজাল জানান, চার্টার্ড বিমানে করেই মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা দেবে জাতীয় দল। তাঁর ভাষায়,
‘জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ফিফার মহাসচিব মাত্তিয়াস গ্রাফস্ট্রোমকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে আমাদের জাতীয় দলকে মেক্সিকো পাঠাতে সব ধরনের জটিলতা দূর করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হয়।’
মাত্তিয়াস আরও বলেন,
‘সপ্তাহের শেষ দিকে ব্যক্তিগত বিমানে করে জাতীয় দল মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা দেবে। সবাইকে আমার বার্তা—এখন আমাদের পুরো মনোযোগ ম্যাচের প্রস্তুতিতে দিতে হবে। আমাদের একটাই লক্ষ্য, বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া।’
এর আগে ইরাক দলের কোচ আরনল্ড বিশ্বকাপ প্লে অফ ম্যাচের সূচি পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন,
‘এই মুহূর্তে খেলোয়াড়দের ইরাকের বাইরে নিয়ে যাওয়া সবচেয়ে বড় সমস্যা। ফিফা যদি ম্যাচের সূচি পিছিয়ে দেয়, তাহলে আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতির সময় পাব। সুরিনাম ও বলিভিয়া তাদের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী খেলবে। আমাদের জন্য ভালো বিকল্প হয় বিশ্বকাপের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ম্যাচটি খেলা।’
বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে নিজেদের স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে আরনল্ড আরও বলেন,
‘ইরাকের মানুষের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা কল্পনারও বাইরে। ৪০ বছর পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠার সুযোগ পেতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।’

সামনের ফিফা বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে ইরান- এমন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনও পায়নি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। এশিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানের ফুটবল ফেডারেশন বিশ্বকাপ খেলার সিদ্ধান্তেই অটল রয়েছে।
এএফসির সাধারণ সম্পাদক উইন্ডসোর জন সোমবার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে সংবাদমাধ্যমকে বলেন,
“এখন অনেক আবেগঘন পরিস্থিতি চলছে। সবাই অনেক কথা বলছে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে ফেডারেশনই। আজ পর্যন্ত তারা আমাদের জানিয়েছে, তারা বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে।”
আগামী ফিফা বিশ্বকাপটি অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। যেখানে ৪৮টি দল অংশ নেবে। টুর্নামেন্ট শুরু হবে ১১ জুন, চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এরই মধ্যে এই আসরে জায়গা নিশ্চিত করেছে ইরান।
সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে ইরানের দুটি ম্যাচ হওয়ার কথা লস অ্যাঞ্জেলসে আর অন্যটি সিয়াটলে।
তবে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে তেহরানে বিমান হামলা চালানোর পর দেশটির খেলোয়াড়দের জন্য বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেন, ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিতে চাইলে তাদের স্বাগত জানানো হবে। তবে তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে “তাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্যই সেখানে থাকা ঠিক হবে না।”
এএফসির ভাষ্য, ইরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তাই সংস্থাটি আশা করছে, পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দলটি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলতে পারবে।
ইরান যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তা হলে আধুনিক যুগে প্রথমবার কোনো দল স্বেচ্ছায় এই আসর থেকে সরে দাঁড়াবে। সে ক্ষেত্রে বিকল্প দল খুঁজে বের করার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

নতুন মেয়াদে আরও একবার বার্সেলোনার সভাপতির দায়িত্ব পেলেন হুয়ান লাপোর্তা। রোববার স্প্যানিশ ক্লাবটির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেলেন ৬৩ বছর বয়সী এই সংগঠক।
এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ও সব মিলিয়ে চতুর্থ মেয়াদে বার্সেলোনার সভাপতি হলেন লাপোর্তা। নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন ৩২ হাজার ৯৩৪ ভোট। যা মোট ভোটে ৬৮.১৮ শতাংশ।
সভাপতি পদে লাপোর্তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ভিক্টর ফন্ট। যিনি লাপোর্তার অর্ধেক ভোটও পাননি। ফন্ট পেয়েছেন ১৪ হাজার ৩৮৫ ভোট (২৯.৭৮ শতাংশ)।
এর আগে ২০২১ সালে ৩০ হাজার ১৮৪ ভোট (৫৪.২৮%) পেয়ে তৃতীয় মেয়াদে সভাপতি হয়েছিলেন লাপোর্তা। আর প্রথম দফায় ২০০৩ থেকে ২০১০ পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন তিনি।
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বার্সেলোনার নতুন সভাপতি।
“এটি সত্যিই এক জোরালো ফলাফল, যা আমাদের ভীষণ শক্তি জোগায়। এটি আমাদেরকে অপ্রতিরোধ্য করে তোলে। কেউ আমাদের থামাতে পারবে না। সামনে অপেক্ষা করছে রোমাঞ্চকর কিছু বছর- যা হবে আমাদের জীবনের সেরা সময়।”
“এটি একটি অসাধারণ ক্লাব, যেখানে সদস্যরাই তাদের সভাপতি এবং পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন করেন। পৃথিবীতে এমন অনন্য ও সত্যিই ব্যতিক্রমী ক্লাব খুব কমই আছে।”
“যেসব সদস্য ভোট দিতে এসেছেন, তাদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আজকের দিনটি ছিল গণতন্ত্র ও নাগরিক চেতনার এক উৎসব। একই সঙ্গে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমাদের কর্মকর্তারা ও কর্মীরা যে চমৎকার কাজ করেছেন, সেটিও আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই।”

প্রথমার্ধেই দুটি পেনাল্টি পেয়ে গেল বার্সেলোনা। নিখুঁত স্পট কিকে জোড়া গোল করলেন রাফিনিয়া। পরে আরও একবার জাল খুঁজে নিয়ে পূরণ করলেন হ্যাটট্রিক। সঙ্গে সতীর্থদের আরও দুই গোলে বড় ব্যবধানে জয় পেল কাতালান ক্লাবটি।
স্প্যানিশ লা লিগার ম্যাচে রোববার রাতে ন্যু ক্যাম্পে সেভিয়াকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা। রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিক ছাড়া বাকি দুই গোল করেছেন দানি ওলমো ও হোয়াও কান্সেলো। সেভিয়ার হয়ে দুই গোল শোধ দেন ওসো ও জিব্রিল সো।
সেভিয়ার বিপক্ষে গত অক্টোবরের ম্যাচে ৪-১ গোলে হেরেছিল বার্সেলোনা। এবার ফিরতি দেখায় তাদের ৫ গোল দিয়ে প্রতিশোধ নিল দলটি। এ নিয়ে ঘরের মাঠে লিগের টানা ১৪টি ম্যাচ জিতল তারা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের পর এটিই সর্বোচ্চ।
এই জয়ে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ৪ পয়েন্টের ব্যবধান ধরে রাখল বার্সেলোনা। ২৮ ম্যাচে ২৩ জয়, ১ ড্রয়ে তাদের ঝুলিতে এখন ৭০ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে রিয়ালের সংগ্রহ ৬৬ পয়েন্ট। মাত্র ৩১ পয়েন্ট নিয়ে ১৪ নম্বরে সেভিয়া।
ম্যাচের শুরুতে ডি-বক্সের মধ্যে কান্সেলো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। নবম মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন রাফিনিয়া।
পরে ২১ মিনিটে কান্সেলোর শট ডি-বক্সের মধ্যে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের হাতে লাগলে আবার পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। এবারও স্পট কিক থেকে বল জালে জড়াতে ভুল হয়নি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের।
ম্যাচের ৩৮ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করে দেন ওলমো। বিরতিতে যাওয়ার আগে যোগ করা সময়ে সেভিয়ার হয়ে একটি গোল শোধ করেন ওসো।
দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে ৬ মিনিটের মধ্যে আরও একবার জাল কাঁপান রাফিনিয়া। চলতি লিগে এটিই তার প্রথম হ্যাটট্রিক। চলতি লিগ হয়ে গেল ১১টি।
এরপর ৬০ মিনিটে স্কোরলাইন ৫-১ করেন কান্সেলো। আর অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে জিব্রিল সোর গোলে পরাজয়ের ব্যবধান কমায় সেভিয়া।

প্রিমিয়ার লিগ রেস থেকে অনেক আগেই ছিটকে পড়েছে ম্যানচেস্টার ইউইনাটেড। যদি-কিন্তুর অপেক্ষা, সে সঙ্গে শীর্ষ দলের টানা হার এবং নিজেদের একচেটিয়া জয়ে একটা ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হতেও পারতো লিগের সবচেয়ে সফল দলটির। হয়নি, কারণ টালমাটাল একটা অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে ম্যান ইউনাইটেডকে।
সোমবার ওল্ড ট্রাফোর্ডে বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় মাইকেল ক্যারিকের শিষ্যরা যখন খেলতে নামে, তখন শীর্ষে থাকা আর্সেনাল থেকে টেবিলে তাদের পয়েন্ট দূরত্ব ১৯ পয়েন্ট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে দূরে ১০ পয়েন্ট। আর যাদের বিপক্ষে ম্যাচ অর্থাৎ অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে সমান— ৫১।
অর্থ— প্রিমিয়ার লিগে ম্যান ইউনাইটেডের টাইটেল চুমু আঁকার চেয়েও বড় লড়াই আোতত ভিলা পার্কের দল থেকে এগিয়ে থাকা এবং ম্যানসিটিকে টপকানো। এ যাত্রায় অবশ্য রেড ডেভিলসদের হাতে অবশিষ্ট ৭টি ম্যাচ। যার একটিতে আজ ভিলার বিপক্ষে জয়ে রাঙিয়েছে। অতিথিদের জালে ৩ বার জড়িয়েছে তারা। বিপরীতে একটি হজম করেছে।
টাইটেল রেসে অবস্থান আরও পোক্ত করার ম্যাচে ম্যান ইউনাইটেডের হয়ে গোল করেন কাসেমিরো, মাতেউস কুনিয়া ও বেঞ্জামিন সেসকো। ভিলার একমাত্র গোলটি করেন রস বার্কলি।
ম্যাচে ডেডলক ভাঙে ৫৩ মিনিটে। দুরুহ কোণ থেকে ব্রুনো ফার্নান্দেসের সুইং শট বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নিখুঁত হেডারে জালে জড়ান কাসেমিরো। এ নিয়ে টানা দুই ম্যাচে দুই গোল পেলেন ব্রাজিল ফরোয়ার্ড। মাঠে বোঝাপড়া, দক্ষতা এবং বলের নিয়ন্ত্রণে অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এর আগে ব্রায়ান এমবেউমোর শট রুখে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ফার্নান্দেস থেকে বল পেয়ে আক্রমণে ওঠেন ক্যামেরুণ ফরোয়ার্ড। কিন্তু তার বাঁ পায়ের শট সেটি সেভ করেন আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী গোলকিপার!
শোধ করতে বেশি সময় নেয়নি ভিলা পার্কের দল। ডি বক্সের জটলায় সংঘবদ্ধ আক্রমণে ওঠে তারা। ছোট ছোট পাস ম্যান ইউনাইটেডের রক্ষণ চিড় ধরিয়ে ৬৪তম মিনিটে অতিথিদের সমতায় ফেরান রস বার্কলি।
গোল পরিশোধের পরও স্বস্তিতে থাকতে পারেনি অ্যাস্টন ভিলা। বার্কলি বাঁ পায়ের বুলেট গতির শট যখন ম্যান ইউনাইটেডের জাল কাঁপায়, তা নিজেদের এক সতীর্থের শরীর স্পর্শ করে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছিল বলটি হাত স্পর্শ করেছে। পরে ভিএআর চেকে দেখা যায়, কেবল শরীর স্পর্শ করেছে তা।
৭ মিনিট পর লিড পুনরুদ্ধার করে মাইকেল ক্যারিকের দল। অ্যাস্টন ভিলা আক্রমণ করতে গিয়ে খেই হারিয়ে বসে, সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাল্টা আক্রমণ শানায় ম্যান ইউনাইটেড। মাঠের বা প্রান্তে থাকা ফার্নান্দেস সময় নষ্ট না করে রক্ষণভাগ চিরে বল বাড়িয়ে দেন। সেই পাস থেকে বল পেয়ে কুনিয়া দ্রুতগতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন এবং মার্তিনেজকে পরাস্ত করেন। ইউনাইটেডের ঘুরে দাঁড়ানোর মূলে আবারও সেই ফার্নান্দেস!
৮১তম মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য প্রায় নিশ্চিত করে ফেলে ম্যান ইউনাইটেড। বাঁ দিক দিয়ে দারুণ গতিতে বোগার্ডেকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যান কুনিয়া এবং ভিলার গোলপোস্ট থেকে ছয় গজ ভেতরে নিচু একটি ক্রস পাঠান। সেখানে একজনের গায়ে লেগে আবারও বিপজ্জনক জায়গায় ফিরে আসে বল।
বল পেয়ে যান সেসকো। এরপর ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্রুত শট নেন। ভিড়ের মধ্য দিয়ে বল সোজা জালে জড়িয়ে যায়। মার্তিনেজ আবারও পরাস্ত হন। এই গোলে স্বাগতিকরা ব্যবধান বাড়িয়ে করে ৩–১। শেষ পর্যন্ত এই স্কোরলাইন ছিল।