২০ আগস্ট ২০২৫, ৬:৪০ এম

হামজা চৌধুরী, ফাহমিদুল ইসলাম, শমিত সোমদের পর আরেক প্রবাসী ফুটবলার নিয়ে এখন আলোচনা দেশের ফুটবল অঙ্গনে। ইংল্যান্ডের ক্লাব সান্ডারল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দলে থাকতেই শুরু হয় তাকে নিয়ে আলোচনা। সবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সেই কিউবা মিচেল নাম লেখান বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসে।
জায়ান্ট ক্লাবটির জার্সিতে অভিষেক এবং কাতার থেকে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রিলিমিনারি ম্যাচ জিতে এই মিডফিল্ডার এখন বাংলাদেশে। কিউবা মিচেল এখন পুরোপুরি বাংলাদেশের। দেশে এসে টি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাঠ ও মাঠের বাইরের নানা কিছু নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন কিউবা।
টি-স্পোর্টস: এই প্রথম বাংলাদেশে এলেন, কেমন লাগছে এখানে?
কিউবা: ভালোই লাগছে। ভিন্ন অভিজ্ঞতা, ইংল্যান্ড থেকে অনেকটাই আলাদা। তবে আমি চেষ্টা করছি এখানকার সংস্কৃতি উপভোগ করতে। এখন পর্যন্ত বেশ ভালোই লাগছে।
টি-স্পোর্টস: আবহাওয়া কেমন লাগছে? খুব গরম আর আর্দ্র, তাই না? অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিংও নিশ্চয়ই…
কিউবা: না, আসলে ইংল্যান্ডে গ্রীষ্মে যে রকম গরম পড়ে, প্রায় একই রকম। মানিয়ে নিতে খুব একটা অসুবিধা হচ্ছে না। তাছাড়া আমি তো কাতারে দলের সঙ্গে গিয়েছিলাম, সেখানে আরও বেশি গরম ছিল। ওটা আমাকে এই আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।

টি-স্পোর্টস: কাতার সফর শেষে এখন চারদিন হলো বাংলাদেশে আছেন। কোনো বাংলাদেশি খাবারের স্বাদ নিয়েছেন?
কিউবা: হ্যাঁ খেয়েছি। ক্লাব (বসুন্ধরা কিংস) থেকে আমাকে অনেক রকম রান্না খাওয়ানো হয়েছে- মাছ, মুরগি। বেশ উপভোগ করেছি। আমার মা বাসায় প্রায়ই বাংলাদেশি খাবার রান্না করেন, তাই এটা আমার জন্য নতুন কিছু না। তবে এখানকার খাবারগুলো বেশ আলাদা করে ভালো লেগেছে আমার।
টি-স্পোর্টস: এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে সেরা অভিজ্ঞতা কী?
কিউবা: প্রথম অনুশীলনের দিনটা। একাডেমির খেলোয়াড়রা অনুশীলন করছিল, ছবি তুলতে এসেছিল। এটা আমাকে ভীষণভাবে ছুঁয়ে গেছে। কারণ আমি নিজেও একসময় একাডেমির খেলোয়াড় ছিলাম। তাদের মধ্যে একজন আমাকে তার আদর্শ ও রোল মডেল হিসেবে দেখে বলেছিল, তো এটা ভালো লেগেছে।
টি-স্পোর্টস: জ্যামাইকার বদলে বাংলাদেশ কেন বেছে নিলেন? বাবার দিক থেকে তো আপনার জ্যামাইকার যোগসূত্র আছে।
কিউবা: আসলে যখন হামজা (চৌধুরি) বাংলাদেশ দলে যোগ দিল, তখন অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় এটা নিয়ে ভাবতে শুরু করে। আমিও ছিলাম তাদের মতো একজন। তারপর যখন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং ভক্তদের কাছ থেকেও অসংখ্য বার্তা পাই, তখন ওদের ভালোবাসাটা আমাকে আলাদা করে ছুঁয়ে যায়। মনে হলো, ওদের কিছু একটা ফেরত দেওয়া উচিত। জাতীয় দলে খেলে এবং পারফর্ম করেই সেটা করতে পারব ভেবেছিলাম।
টি-স্পোর্টস: এই সিদ্ধান্তের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সবখানে নিজের নাম দেখে আপনার কেমন লেগেছিল?
কিউবা: পাগলাটে! একদম মাথা খারাপ করে দেওয়ার মতো ছিলো। এটা সত্যিই ভীষণ উচ্ছ্বাসের। এর আগে কখনও আমার এমন অভিজ্ঞতা হয়নি। প্রথমবার এমন হলো।
টি-স্পোর্টস: আপনি বসুন্ধরা কিংসের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর অনেকে বলেছে, আপনি আপনার লেভেল কমিয়ে ফেলছেন। তখন কী ভেবেছিলেন?
কিউবা: সান্ডারল্যান্ড ছাড়ার পর সময়টা কঠিন ছিল। ফ্রি এজেন্ট হয়ে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ছিল। ইংল্যান্ডের কয়েকটা ক্লাবে গিয়েছিলাম, কিন্তু কোথাও ঠিক মানিয়ে নিতে পারছিলাম না। বসুন্ধরা কিংস যখন আমাকে তাদের পরিকল্পনার কথা বলল, একজন তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে তারা আমাকে কীভাবে ব্যবহার করবে, সেটা আমাকে ভীষণভাবে টেনেছিল। এটাই ছিল সিদ্ধান্তের মূল কারণ।
হ্যাঁ, অনেকেই ইতিবাচকভাবে নেয়নি (কিংসের সঙ্গে চুক্তি)। কিন্তু মানুষের সবকিছু তো সামনে আসে না। অনেক কিছু আছে যেগুলো মিডিয়ায় আসে না। আমার মনে হয় এটি তাদের বোঝা উচিত। স্পষ্টতই তারা আমার প্রতি যে সমর্থন এবং আবেগ দেখিয়েছেন তা ইতিবাচক ছিল, এমনকি এই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়টাতেও। আমি মনে করি একজন খেলোয়াড় হিসেবে এটি আমাকে উন্নতি করতে সাহায্য করবে, যদি তারা আমার পাশে থাকে।
টি-স্পোর্টস: ইংল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে আসার যাত্রাটা কেমন লাগছে?
কিউবা: ভাষার একটা সমস্যা আছে, কারণ মা বাসায় খুব একটা বাংলায় কথা বলতেন না। কয়েকজন সতীর্থ ছাড়া অনেকে ইংরেজি বলে না। তবে আস্তে আস্তে মানিয়ে নিচ্ছি। সংস্কৃতিও আলাদা, তবে আমি গ্রহণ করার চেষ্টা করছি।
টি-স্পোর্টস: বসুন্ধরা কিংসকে পেশাদার ক্লাব হিসেবে কেমন মনে হয়েছে?
কিউবা: দারুণ। আমি ভেবেছিলাম এখানে হয়তো সুযোগ-সুবিধা কম থাকবে, কিন্তু একেবারেই তা নয়। অনুশীলনের মাঠ, নিজস্ব স্পোর্টস কমপ্লেক্স- সবকিছু আন্তর্জাতিক মানের।
টি-স্পোর্টস: প্রথম জয়ে কেমন অনুভূতি হয়েছিল?
কিউবা: অসাধারণ! অভিষেক ম্যাচ, জয়, আর সমর্থকদের আনন্দ- সব মিলিয়ে এটা ছিল জীবনের সেরা মুহূর্তগুলোর একটি।
টি-স্পোর্টস: বসুন্ধরা কিংস তো এখন এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে খেলছে। আপনি কি ‘ম্যাজিক ম্যান’ হতে পারবেন?
কিউবা: আশা করি তাই হবো। আসলে এশিয়ান টুর্নামেন্টগুলোতেও খেলার সুযোগ পাবো ভেবে এই দলে যোগ দিয়েছি। দলকে এগিয়ে নিতে চাই, জেতাতে চাই।
টি-স্পোর্টস: আপনার ব্যক্তিগত লক্ষ্য কী?
কিউবা: এ মৌসুমে লিগ জেতা আর এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে যতদূর সম্ভব এগোনোই মূল লক্ষ্য।

টি-স্পোর্টস: ক’দিন আগে কিংসে আপনার সতীর্থ রাকিব হোসেন বলেছেন কিউবা অনেক ভালো খেলোয়াড় এবং ভালো মানুষ। সতীর্থের কাছ থেকে এমন প্রশংসা পেয়ে কেমন লাগছে?
কিউবা: এটা আমাকে ভালো একটা অনুভূতি দিচ্ছে। অবশ্যই এমনটাই আমি। আমি চাই সবাই এটা জানুক। ফুটবলে আমি যেখানেই যাই, যত নাম বা খ্যাতিই আসুক না কেন, সবসময় স্বাভাবিক আর ভালো মানুষ হিসেবেই থাকতে চাই। তাই হ্যাঁ, ওর (রাকিব) ক্ষেত্রেও একই কথা বলব, আসলে পুরো টিমের খেলোয়াড়দের নিয়েই তাই মনে হয়। তো, এটা আসলেই দারুণ একটা ব্যাপার ছিল। জানানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
টি-স্পোর্টস: আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
কিউবা: কোনো নির্দিষ্ট ক্লাবের কথা বলতে পারছি না। তবে আমি উন্নতি করতে চাই, থেমে থাকতে চাই না। জাতীয় দল হোক বা ক্লাব- যতটা উচ্চ পর্যায়ে খেলা যায়, খেলতে চাই।
টি-স্পোর্টস: জাতীয় দল নিয়ে স্বপ্ন কী?
কিউবা: বিশ্বকাপে খেলা। কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। আমাদের দলটা গড়ে উঠছে, একসঙ্গে থাকলে সব সম্ভব।
টি-স্পোর্টস: ভক্তদের জন্য কোনো বার্তা দেবেন?
কিউবা: আপনাদের সমর্থন আর ভালোবাসা বিশেষ কিছু। আমি চাই এটা যেন সবসময় থাকে।
No posts available.
২৭ মার্চ ২০২৬, ৪:৫১ পিএম
২৭ মার্চ ২০২৬, ৪:৪৭ পিএম
২৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৩১ এম

দলটি সবশেষ প্রতিযোগিতামূলক কোনো ম্যাচ খেলেছিল ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও নেই তাদের উপস্থিতি। দীর্ঘ ৭ বছরের বিরবির পর অবশেষে মাঠে ফিরেছে তারা। বলা হচ্ছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়ার কথা। বুধবার রাতে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের বাছাইপর্বে তারা মুখোমুখি হয় এসওয়াতিনি (সাবেক সোয়াজিল্যান্ড)-এর। আর এই ম্যাচটিই হয়ে থাকল ঐতিহাসিক।
নামিবিয়ার বিপক্ষে ইরিত্রিয়ার ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের ওই ম্যাচটি ছিল ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের। দুই লেগ মিলিয়ে নামিবিয়ার কাছে হেরে যায় তারা। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইসহ বিভিন্ন প্রীতি ম্যাচ থেকেও সরে দাঁড়ায় দেশটি। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিয়মিত এই সরে দাঁড়ানোর পেছনে বড় কারণ হলো—দেশটির খেলোয়াড়রা বিদেশে খেলতে গেলে রাজনৈতিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) চেয়ে বসতে পারেন, এমন আশঙ্কা।
জাতিসংঘের হিসেবে, ২০০৭ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ জন খেলোয়াড় ও কোচ দেশত্যাগ করেছেন। ১৯৯৩ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট ইসাইয়াস আফওয়ারকির শাসনে রয়েছে দেশটি।
তবে ২০২৫ সালের মে’তে নীরবে ফেরার সূচনা করে ইরিত্রিয়া। সে সময় ১৯৯৩ সালে ইথিওপিয়া থেকে স্বাধীনতা লাভের স্মরণে নাইজারের বিপক্ষে কয়েক দিনের ব্যবধানে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল তারা।
নাইজারের পূর্ণ শক্তির আন্তর্জাতিক দল না খেলায় ম্যাচটি ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের হিসেবে ধরা হয়নি। তবে ইরিত্রিয়া দারুণভাবে ফিরে আসে—এসওয়াতিনিকে ২-০ গোলে হারিয়ে। ম্যাচের শেষ দিকে গোল করেন ১৮ বছর বয়সী অভিষিক্ত খেলোয়াড় সিয়েম আইয়োব-আব্রাহা (শেফিল্ড ইউনাইটেড) এবং মিশরে খেলা আলি সুলেইমান। এটি ছিল ২০০৮ সালের পর আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের বাছাইপর্বে ইরিত্রিয়ার প্রথম অংশগ্রহণ। ৩১ মার্চ এসওয়াতিনির মাঠে দ্বিতীয় লেগ খেলবে তারা।
প্রথম লেগটি অনুষ্ঠিত হয় মরক্কোর মেকনেসে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে, কারণ ইরিত্রিয়ার নিজস্ব কোনো উপযুক্ত স্টেডিয়াম নেই।
আরও পাঁচটি দলের সঙ্গে এই প্রাথমিক পর্বের জয়ীরা পরবর্তী ধাপে উঠবে, যেখানে ১২টি চার-দলের গ্রুপে বিভক্ত হয়ে লিগ পদ্ধতিতে খেলা হবে। র্যাঙ্কিংয়ে ১ থেকে ৪২ নম্বরে থাকা দলগুলো সরাসরি গ্রুপ পর্বে সুযোগ পেয়েছে, আর ৪৩ থেকে ৫৪ নম্বর দলগুলোকে এই প্রাথমিক পর্ব খেলতে হচ্ছে। কেনিয়া, উগান্ডা ও তানজানিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আফকনের ৭০তম আসরকে সামনে রেখে এই বাছাই প্রক্রিয়া চলছে।
ইরিত্রিয়া কখনোই বিশ্বকাপ বা আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে খেলেনি। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকায় ফিফার ২১১টি দেশের মধ্যে বর্তমানে একমাত্র র্যাঙ্কবিহীন দল তারা, এবং র্যাঙ্কিংয়ে তাদের জন্য আলাদা একটি বিভাগ রাখা আছে।
আগামী ৬ এপ্রিল ফিফার পরবর্তী র্যাঙ্কিং হালনাগাদ প্রকাশিত হবে। সেখানে ‘রেড সি ক্যামেলস’ নামে পরিচিত ইরিত্রিয়া ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো আবার র্যাঙ্কিংয়ে ফিরতে পারে—সর্বশেষ তখন তাদের অবস্থান ছিল ২০০।

ফ্রান্সের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ছুঁতে আর মাত্র এক গোল দূরে আছেন কিলিয়ান এমবাপে। গতরাতে ব্রাজিলের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের জিলেট স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করেই এমন রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ফ্রান্স ফরোয়ার্ড।
এই গোল নিয়ে ক্যারিয়ারে ৫৬তম গোল পেলেন এমবাপে। এর জন্য তাঁকে খেলতে হয়েছে ৯৪ ম্যাচ। এমবাপের সামনে কেবল অলিভার জিরুদ। দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৭ গোল করেছেন জিরুদ। এই গোল করতে ১৩৭ ম্যাচ খেলেছেন বর্তমানে লিলের হয়ে খেলা বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড।
এদিন ম্যাচের ৬৬ মিনিটে মার্কাস থুরামের বদলি হিসেবে তুলে নেওয়া হয় ২৭ বছর বয়সী এমবাপেকে। এরপর আরও বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ মিস করে ফ্রান্স। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা মাঠে থাকলে হয়ত রেকর্ডটা এদিনই স্পর্শ করা হয়ে যেতো তাঁর।
এর আগে বেশ কিছুদিন ধরে ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করছিলেন এমবাপে। অবশেষে গত ২২ ফেব্রুয়ারি রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে মাঠের লড়াইয়ে ফেরেন তিনি। এরপর জাতীয় দলের হয়ে ছন্দ ফিরে পেয়েছেন ২০১৭ সালে ফ্রান্সের হয়ে অভিষেক হওয়া এই তারকা।
ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ ৮ গোলদাতা:
অলিভার জিরুদ - ১৩৭ ম্যাচে ৫৭ গোল।
কিলিয়ান এমবাপে - ৯৪ ম্যাচে ৫৬ গোল।
থিয়েরি হেনরি - ১২৩ ম্যাচে ৫১ গোল।
আতোয়ান গ্রিজম্যান - ১৩৭ ম্যাচে ৪৪ গোল।
মিচেল প্লাতিনি - ৭২ ম্যাচে ৪১ গোল।
কারিম বেনজেমা - ৯৭ ম্যাচে ৩৭ গোল।
ডেভিড রেজেগুয়েট - ৭১ ম্যাচে ৩৪ গোল।
জিনেদিন জিদান - ১০৬ ম্যাচে ৩১ গোল।

১১ জুন থেকে শুরু ফিফা বিশ্বকাপ। গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারছে অংশগ্রহণকারী দলগুলো। তবে ইউরোপীয় ও আন্তমহাদেশীয় অঞ্চলের এখনও ৬ দল অপেক্ষায় চূড়ান্ত টিকিটের জন্য। বাদবাকি ৪২ দলের বেশিরভাগই ফ্রেন্ডলি ম্যাচে ব্যস্ত সময় পার করছে।
বিশ্বকাপে গ্রুপ জে-তে আর্জেন্টিনা। তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এখন ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ নিয়েই ব্যস্ত। মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত দুইটায় মুখোমুখি হবে আলবেসেলেস্তারা। আর এই ম্যাচের আগে দলের তিন প্লেয়ার— নিকোলাস ওতামেন্দি, জোয়াকিন পানিচেল্লি, রদ্রিগো দি পলকে নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ।
ফরাসি ক্লাব স্টার্সবুর্গের জোয়াকিন পানিচেল্লির অবস্থা একটু বেশিই গুরুতর। অনুশীলনের সময় হাঁটুতে চোট পেয়েছেন আর্জেন্টিনার ২৩ বছর বয়সী তরুণ স্ট্রাইকার। ফলে মৌসুম থেকেই ছিটকে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
লিগ ওয়ানে ১৬ গোল করে শীর্ষে পানিচেল্লি। শুক্রবার মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে নামার কথা থাকলেও চোটের কারণে সেটা সম্ভব হবে না।
ইতালির ক্রীড়া সাংবাদিক ও ফুটবল বিশ্লেষক ফ্যাব্রিজিও রোমানো সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছেন, পানিচেল্লির হাঁটুর চোট গুরুতর। তার চোটের বিষয়টি ইতোমধ্যে ক্লাবকে জানানো হয়েছে।
পানিচেল্লির চোটের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন কিংবা স্টার্সবুর্গ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি। ফলে জানা যায়নি তার চোট কতটা গুরুতর কিংবা কতদিন মাঠের বাইরে থাকবেন তিনি।

এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে আগামী মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। আজ ভিয়েতনাম থেকে সরাসরি দেশটিতে পৌঁছেছেন জামাল ভূঁইয়ারা।
গতকাল ভিয়েতনামের বিপক্ষে একমাত্র প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। যেখানে ৩-০ ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়ে হাভিয়ের কাবরেরার দল। সিঙ্গাপুরকে মোকাবিলার আগে পরাজয় সঙ্গী হলেও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে শেষটা জয় দিয়ে রাঙাতে চায় লাল সবুজের দল। যদিও গত ১০ জুন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হোম ম্যাচে ১-২ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ।
এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে এটিই বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ। ‘সি’ গ্রুপ থেকে ৫ ম্যাচ খেলে একটিতে জয়, দুটি করে পরাজয় এবং ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট বাংলাদেশের। টেবিলের তিনে বাংলাদেশ। এই গ্রুপ থেকে ২০২৭ সালের এশিয়ান কাপের মূলপর্ব নিশ্চিত করেছে সিঙ্গাপুর।
একই দিনে গ্রুপের তলানীতে থাকা ভারত মোকাবিলা করবে টেবিলের তিনে থাকা হংকংকে। প্রতিযোগিতায় দুই দলের প্রথম সাক্ষাতে ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল হংকং।

জায়ান্ট দুই ফুটবল দলের ম্যাচ বলে কথা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস, বাঁকে বাঁকে চমক, প্যানডোরার বক্সের উপখ্যান, রেকর্ড; সে সঙ্গে খেরোখাতা উল্টানোর খচখচানি শব্দ —সেসববের কিছু না হলেও ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রাতে ব্রাজিল ও ফ্রান্সের ম্যাচটি কিন্তু কম রোমাঞ্চ ছড়ায়নি।
হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে মোটে তিন গোল হলেও হলুদ কার্ড, লাল কার্ড এবং ফাউলের ঘটনা বেশ নজরে আসে। ম্যাচে মোট ফাউল হয়েছে ২৪ বার। দুই দল ১২টি করে ফাউল করেছে। হলুদ কার্ডের ৪টি ব্রাজিলের, ৩টি ফ্রান্সের। লাল কার্ড দেখেছেন ফরাসি সেন্টারব্যাক দায়োত উমামেকানো। ১০ জলের দলের পরিণত হলেও জয় বঞ্চিত থেকেছে সেলসাওরা। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ১৯৫৮ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের পর জয়বঞ্চিত থাকার ধারাও ভাঙতে পারল না ব্রাজিল।
ম্যাচের শেষে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, ম্যাচ হারলেও বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন তিনি। আনচেলত্তি বলেন, ‘ম্যাচ হারলে কেউই খুশি হয় না। তাই বলতে পারেন, এই ফলে আমি অর্ধেক সন্তুষ্ট। সামনে এখনো দীর্ঘ পথ, তবে ইতিবাচক থাকার মতো কারণও আছে।’
জিলেট স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে বেশ ভুগেছে ব্রাজিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বেশ লড়াই করেছে তারা। বিশেষ করে যোগ করা সময়ে ব্রেহমের ক্রস পা ছোঁয়ালেই সম্মান নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারতো হলুদ জার্সিধারীরা। তারপরও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়াদের পারফরম্যান্স ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন আনচেলত্তি।
ব্রাজিল কোচ বলেন, ‘আমার মনে হয় আজকের ম্যাচটি একটি বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছে—আমরা বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা রাখি। এ নিয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই। আমি বিশ্বাস করি, সবটুকু শক্তি দিয়েই আমরা বিশ্বকাপ জয়ের লড়াই করব।’
ইতালি ম্যাচের আগে নেইমার জুনিয়রের স্কোয়াডে না থাকা ইস্যুতে বেশ আলোচনা জন্ম দেয়। বিশেষ দেশটির সর্বোচ্চ স্কোরারের অনুপস্থিতি অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। যদিও এ নিয়ে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন আনচেলত্তি। জিলেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে এ বিষয়ে আরও একবার প্রশ্নের মুখে পড়েন ব্রাজিল কোচ।
স্টেডিয়ামে ৬৫ হাজারের বেশি দর্শকের মাঝ থেকে ‘নেইমার, নেইমার’ স্লোগান তুলেছিলেন সমর্থকেরা। ম্যাচ শেষে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে আনচেলত্তি বলেন, ‘এখন আমাদের শুধু তাদের নিয়েই কথা বলা উচিত, যারা দলে আছে এবং খেলছে। তাদের অর্জনে আমাদের মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন এবং ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পরের ম্যাচের প্রস্তুতিতে নিতে হবে।’