২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৪:২৭ পিএম

সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের আসর বসেছে শ্রীলঙ্কায়। প্রতিযোগিতার প্রথম সেমিফাইনালে আজ বাংলাদেশকে মোকাবিলা করছে পাকিস্তান। প্রথমার্ধ শেষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গোলাম রব্বানী ছোটনের দল। বাংলাদেশের হয়ে গোল করেছেন অধিনায়ক নাজমুল হুদা ফয়সাল ও অপু রহমান।
এদিন খেলার তৃতীয় মিনিটেই ফয়সালের গোলে লিড নেয় বাংলাদেশ। এই গোলে অবশ্য দ্বায় আছে পাকিস্তান গোলকিপার সামার রাজ্জাকেরও। তার ভুলে বক্সের সামনে বল পান অপু রহমান; পাস বাড়ান ফয়সালের কাছে, গোলরক্ষক এগিয়ে এসে বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগে ডান পায়ের প্লেসিং শটে জালে বল জড়ান বাংলাদেশ অধিনায়ক।
আরও পড়ুন
| আলভারেজকে বহু বছর আতলেতিকোতে দেখতে চান সিমিওনে |
|
পরের মিনিটে লিড দ্বিগুণ করেন অপু। ডান প্রান্ত দিয়ে মোহাম্মদ আরিফের কাছ থেকে বল পেয়ে প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারের মাথার উপর দিয়ে উড়িয়ে মারের সোজা গোলে, গোলকিপার রাজ্জাক লাফিয়েও বলের নাগাল পাননি, উচু কর্নার দিয়ে বল খুজে নেয় জাল।
দশম মিনিটে কর্নার থেকে পাকিন্তানের মুহাম্মদ আবদুল্লাহর হেড বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে। খানিক পর ফয়সাল শট নেন প্রতিপক্ষের গোলকিপার শরীর বরাবর। ১৩ মিনিটে আরেকবার জাল কাঁপান বাংলাদেশ অধিনায়ক; তবে গোলের উল্লাস করার আগেই বাজে অফসাইডের বাশি। একটু পর আব্দুল্লাহর গোলও বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। শেষ পর্যন্ত দুই গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় লাল সবুজের যুবারা।
অপর সেমিফাইনালে রাত ৮টায় ভারতকে মোকাবিলা করবে নেপাল।
No posts available.
১৩ মে ২০২৬, ৯:৪৫ পিএম

ক্লাব বিশ্বকাপে ফুটবলাদের এককভাবে মাঠে প্রবেশের (সিঙ্গেল প্লেয়ার ওয়াকআউট) প্রথা দেখা যাবে না ২০২৬ বিশ্বকাপে। বুধবার এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্পোর্টস লিগের আদলে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপে ‘ওয়াকআউট’ ফরম্যাট পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছিল ফিফা। এই ধারণার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রতিটি খেলোয়াড়কে আলাদাভাবে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা। তবে ফুটবল ঐতিহ্যের সঙ্গে বিষয়টি একদমই খাপ খায়নি। এমনকী এ নিয়ে তৈরি হয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
বিশ্বকাপের ম্যাচ শুরুর আগের প্রটোকলের কথা বিবেচনা করেই একক প্রবেশ প্রথাটি বাদ দেওয়া হচ্ছে। এর পরিবর্তে ফিফা খেলোয়াড়দের মাঠে প্রবেশের জন্য সম্পূর্ণ নতুন কোনো পদ্ধতি বিবেচনা করছে, যা প্রথাগত দলগত প্রবেশের চেয়ে আলাদা হবে।
গত বছরের টুর্নামেন্টে দলগুলো তাদের খেলোয়াড়দের মাঠে প্রবেশের ক্রম ঠিক করার সুযোগ পেয়েছিল। শর্ত ছিল অধিনায়ককে সবার শেষে মাঠে প্রবেশ করতে হবে। তৎকালীন সময়ে চেলসি মিডফিল্ডার রোমিও লাভিয়া এই আয়োজনকে ইতিবাচকভাবে দেখেছিলেন। তিনি এটিকে ফুটবলে কিছুটা 'শোবিজ' বা বিনোদনের ছোঁয়া হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
সাংবাদিকদের লাভিয়া বলেছিলেন,
‘আমি মনে করি এটি আমাদের জন্য নতুন এবং বিশেষ কিছু। আমি এটি উপভোগ করেছি। এটি প্রিমিয়ার লিগেও কেন চালু করা হবে না?’
লাভিয়া মনে করেন, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলো থেকে সবসময়ই নতুন কিছু শেখা যায় এবং এটিই বিশ্বকাপ বা বড় টুর্নামেন্টগুলোকে বিশেষ করে তোলে।

মেয়ের অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব ছাড়ার তিন মাস পর আবারও কুরাসাও জাতীয় দলের কোচের পদে ফিরছেন ডিক অ্যাডভোকেট। আর তাতেই বিশ্বকাপে ইতিহাসে নাম লেখাতে যাচ্ছেন অভিজ্ঞ এই কোচ। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনের রেকর্ড গড়বেন তিনি। ৭৮ বছর বয়সী এই ডাচ কোচ এর আগে দুটি বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করেছেন—১৯৯৪ সালে নেদারল্যান্ডস এবং ২০০৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার হয়ে।
এক বিবৃতিতে আজ অ্যাডভোকেটের ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করা করেছেন কুরাসাও। ক্যারিবীয় সাগরের ছোট্ট দ্বীপ কুরাসাওয়ের জনসংখ্যা মাত্র ১ লক্ষ ৫৫ হাজারের মতো। গত নভেম্বরে অ্যাডভোকেটের অধীনেই তারা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। এই দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় নেদারল্যান্ডসে জন্মগ্রহণ করলেও তারা কুরাসাও বংশোদ্ভূত এবং অনেকেই বয়সভিত্তিক পর্যায়ে নেদারল্যান্ডসের হয়ে খেলেছেন।
জ্যামাইকা, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো এবং বারমুডার সমন্বয়ে গঠিত কনকাকাফ গ্রুপের শীর্ষে থেকে তারা ৪৮ দলের বর্ধিত বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়। বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে স্টিভ ম্যাকলারেনের জ্যামাইকার বিপক্ষে ০-০ ড্র করে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার মাধ্যমে তারা বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া ক্ষুদ্রতম দেশে পরিণত হয়।
তিন মাস পরেই অবশ্য কোচ অ্যাডভোকেট ঘোষণা দেন, অসুস্থ মেয়ের দেখাশোনার জন্য তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তাঁর পরিবর্তে স্থলাভিষিক্ত হন আরেক ডাচ কোচ ফ্রেড রুটেন। রুটেনের অধীনে খেলা দুটি ম্যাচে কুরাসাও বেশ ধুঁকেছে; মার্চে প্রীতি ম্যাচে চীনের কাছে ২-০ এবং অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫-১ ব্যবধানে হারে তারা।
কদিন আগেই পদ থেকে ইস্তফা দেন রুটেন। মঙ্গলবার কুরাসাও ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানায়, স্কোয়াড ও কর্মীদের মধ্যে স্থিতিশীলতা এবং পেশাদার সুসম্পর্ক বজায় রাখতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফেডারেশন তার পেশাদারিত্ব ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেছে। একই বিবৃতিতে রুটেন বলেন, ‘দলের মধ্যে এমন কোনো পরিবেশ থাকা উচিত নয় যা পেশাদার সম্পর্কের ক্ষতি করে। তাই সরে দাঁড়ানোটাই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। হাতে সময় কম এবং কুরাসাওকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে কুরাসাও ফেডারেশনের সভাপতি গিলবার্ট মার্টিনা অ্যাডভোকেটের ফেরার ঘোষণা দিয়ে জানান, খেলোয়াড়দের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ডিক অ্যাডভোকেট আবারও দলের হাল ধরছেন। রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, মার্টিনা জানিয়েছেন, অ্যাডভোকেটের মেয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। বিশ্বকাপের আগে আগামী ৩০ মে হ্যাম্পডেন পার্কে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামবে কুরাসাও।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে কুরাসাও 'ই' গ্রুপে রয়েছে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ জার্মানি, ইকুয়েডর এবং আইভরি কোস্ট। আগামী ১৪ জুন হিউস্টনে জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে।

দেশের ইতিহাসের প্রথম ফুটসাল লিগ শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার। মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে হবে বহুল কাঙ্ক্ষিত এই লিগ। ফুটসাল লিগের খেলাগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস।
১৪ মে শুরু হওয়া ফুটবল লিগ শেষ হবে ২৩ মে। ১০ দিনের এই যাত্রায় নারী ও পুরুষ মিলিয়ে অংশ নিয়েছে ১১টি দল।
ফুটসাল লিগের প্রথম আসরে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলো হলো—বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, আনসার, বিকেএসপি, চাঁদপুর জেলা, ঢাকা অ্যাথলেটিক, ফকির এফসি, আইএম টেন, স্পোর্টস ফিল্ড লজিস্টিকস, টেকভিল ফুটসাল ক্লাব, ওয়ারিয়র স্পোর্টস একাডেমি ও জেনন এফসি।
ফুটবসালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিকাল ৪টা। প্রথম দিনেই মাঠে নামবে তিনটি দল। বিকেল ৫টায় উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিকেএসপির নারী দল। সন্ধ্যা ৭টায় শুরু পুরুষ বিভাগের প্রথম ম্যাচেও খেলবে একই দল দুটি। দিনের শেষ ম্যাচে রাত ৯টায় খেলবে পুরুষ বিভাগের জেনন এফসি ও ঢাকা অ্যাথলেটিক।
ফুটসাল মূলত ফুটবলের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ। যেখানে এক দলে ৫ খেলোয়াড় অংশ নিতে পারে। তবে সর্বোচ্চ ১২ জন ব্যবহার করা যায়। আর বদলি করা যায় যত খুশি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৯৩০ সাল থেকে প্রচলিত থাকলেও বাংলাদেশে এর বড় উদ্যোগে পথচলা শুরু ২০১৮ সালে মেয়েদের এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপের মাধ্যমে।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সৌদি আরবের সেই ঐতিহাসিক জয়টি টুর্নামেন্টের ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে এখনও অমলিন। সেই হারের পর আলবিসেলেস্তারা শেষ ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নই হয়ে যায়। বিপরীতে গ্রুপপর্বে সৌদির একমাত্র জয় নকআউট পর্বে তোলার জন্য যথেষ্ট না হলেও, বিশ্বকে তারা দেখিয়ে দিয়েছিল—এই দলটি বিশ্বের যেকোনো বড় পরাশক্তির সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়াই করার সামর্থ্য রাখে।
সৌদি আরবের ইতিহাসে সেই স্মরণীয় ম্যাচে নজরকাড়া পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন দলটির রাইট-ব্যাক সাউদ আবদুলহামিদ। ২৬ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার এরপর থেকেই ক্লাব এবং জাতীয় দল—নিজের দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন। এই মৌসুমে রোমা থেকে ধারে ফরাসি ক্লাব লেন্স-এর হয়ে খেলছেন। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৯ ম্যাচে ৩টি গোল এবং ৮টি অ্যাসিস্ট করে ছন্দের তুঙ্গে আছেন তিনি।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুন কোচ জর্জিওস ডনিসের অধীনে সৌদি আরবের লক্ষ্য আরও বড়। কাতার বিশ্বকাপের সেই আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে ১৯৯৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পৌঁছাতে মরিয়া গ্রিন ফ্যালকনরা।
এশিয়ার এই জায়ান্টদের গ্রুপ পর্বের বাধা টপকানো বেশ কঠিনই হতে যাচ্ছে। গ্রুপ ‘এইচ’-এ তাদের মোকাবিলা করতে হবে সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে এবং স্পেনের। এরপর হিউস্টনে কেপ ভার্দোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তারা তাদের গ্রুপ পর্বের অভিযান শেষ করবে।
ফিফার সাথে আলাপকালে আবদুলহামিদ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই অবিস্মরণীয় জয়, ইউরোপে খেলার অভিজ্ঞতা এবং আসন্ন টুর্নামেন্ট নিয়ে সৌদি আরবের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন। ২০২২ বিশ্বকাপের সেই মহাকাব্যিক জয় নিয়ে সাউদের স্মৃতিচারণটা এমন,
‘সেই অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। আর্জেন্টিনা ছিল এক শক্তিশালী দল যারা শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতেছিল। তাই আর্জেন্টিনার মতো এত বড় একটা দলকে হারানোর অনুভূতিটা ছিল একদম অন্যরকম, কিছুটা অবিশ্বাস্যও বটে। এটা আমাদের জন্য বিশাল এক প্রাপ্তি ছিল। আমরা তখন এতটাই খুশি ছিলাম যে, আমার মনে হয় না কেউ কোনোদিন সেই মুহূর্তের কথা ভুলতে পারবে।’
সালেম আল দাওসারির সেই জয়সূচক গোলের পর দলের সবার অনুভূতি নিয়ে সাউদ বলের,
‘সালেম যখন গোল করে আমাদের ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নিল, তখন মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবী আমাদের সমর্থন করছে। গ্যালারিতে একজন দর্শককেও বসে থাকতে দেখিনি, সবাই দাঁড়িয়ে চিৎকার করছিল—পুরো পাগলাটে একটা পরিবেশ! আমরা খুশিতে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে দৌড়াচ্ছিলাম। ওইটা এক অসাধারণ অনুভূতি ছিল এবং আমি আশা করি এবারের বিশ্বকাপেও আমরা তেমন কিছুর পুনরাবৃত্তি করতে পারব।’
২০২২ থেকে ২০২৬—এই চার বছরে সৌদি আরব এবং নিজের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের বদল নিয়ে সাউদ বলেন,
‘সত্যি বলতে, এই সময়ে অনেক কিছু বদলে গেছে। সৌদি প্রো লিগে অনেক বিদেশি খেলোয়াড় আসায় লিগের মান অনেক বেড়েছে। আমি নিজেও দেশের বাইরে (ইউরোপে) খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সেখান থেকে যা শিখছি তা মাঠে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। আমার অভিজ্ঞতা হয়তো এখনও খুব বেশি নয়, কিন্তু আমি সতীর্থদের সাহায্য করার চেষ্টা করি। আমরা খেলোয়াড়রা একে অপরকে সাহায্য করি এবং ক্লাবগুলোতে বিদেশি খেলোয়াড়দের অবদান আমাদের জন্য দারুণ ইতিবাচক।’
বিশ্বকাপে এবার কঠিন এক গ্রুপে আছে সৌদি। যে গ্রুপের একটি দল শিরোপার দাবিদারও। উরুগুয়ে, স্পেন এবং কেপ র্ভাদের কঠিন গ্রুপে নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে সাউদ বলেন,
‘আমাদের লক্ষ্য হলো যতটা সম্ভব দূরে যাওয়া। বিশ্বকাপের আগে আমরা নিজেদের সেরা প্রস্তুতি নিতে চাই এবং আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো গ্রুপ পর্ব পার হওয়া। আমরা জানি গ্রুপটা অনেক কঠিন, কিন্তু আমরা আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে লড়াই করব যাতে নকআউট পর্বে পৌঁছাতে পারি।’
আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে সৌদি আরব কোন শক্তিতে ভর করে সফল হতে চায়, এমন প্রশ্নে সাউদের উত্তর, ‘আমার মতে, আমাদের অদম্য ইচ্ছা, দলের একতা এবং আমাদের ওপর কোচ ও সমর্থকদের অগাধ বিশ্বাস—এগুলোই এই দলের মূল শক্তি।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে সেই পেনাল্টি মিসের মুহূর্তটি ছিল হ্যারি কেইনের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় এক ধাক্কা। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও বল গোলপোস্টের ওপরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড। ইংল্যান্ড ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। কিন্তু সেই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাওয়া মুহূর্তটিই এখন কেইনকে মানসিকভাবে আরও ইস্পাত কঠিন করে তুলেছে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আবারও ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত কেইন। ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই যন্ত্রণাদায়ক সময় নিয়ে কেন বলেন,
‘ব্যক্তিগতভাবে ওটা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল। ওই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমাকে মানসিকভাবে প্রচণ্ড শক্তিশালী হতে হয়েছে—এবং আমি তা পেরেছি। আমার মনে হয়, ওই ঘটনা আমাকে দিনশেষে আরও ভালো একজন খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।’
আসলেই তাই। সেই আল বায়ত স্টেডিয়ামের ঘটনার পর কেইন নিজেকে প্রজন্মের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে প্রমাণ করেছেন। বিশ্বকাপের মাত্র তিন মাস পরেই ইতালির বিপক্ষে গোল করে ওয়েইন রুনির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙে দেন বায়ার্ন মিউনিখের তারকা ফরোয়ার্ড। এরপর ইংল্যান্ডের হয়ে গোলসংখ্যাকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেছেন। ক্লাব ফুটবলেও বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চলতি মৌসুমে ৫০-এর বেশি গোল করে তিনি অবিশ্বাস্য ছন্দে আছেন।
আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে কেইন দারুণ আত্মবিশ্বাসী। তিনি বিশ্বাস করেন, এবার ইংল্যান্ডই হবে শেষ হাসি হাসা দল। তরুণ খেলোয়াড়দের উদ্দেশে নিজের মানসিকতা নিয়ে ইংল্যান্ড অধিনায়ক বলেন,
'আসল কথা হলো, শৈশবে আপনি এই দিনটিরই স্বপ্ন দেখেছিলেন। বিশ্বকাপে আসার পর অনেক সময় হারের ভয় বা বড় মঞ্চের চাপ আমাদের গ্রাস করে ফেলে, কিন্তু এটাই জীবনের অংশ। আমরা তো এই মুহূর্তগুলোর জন্যই বেঁচে থাকি। এই সুযোগ পাওয়ার জন্যই তো আমরা প্রতিদিন মাঠে ঘাম ঝরাই।’
কেইন আরও যোগ করেন,
‘বলাটা সহজ হলেও করাটা কঠিন, তবে আমার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা তরুণদের এই ভয় কাটাতে সাহায্য করতে পারে। শেষ পর্যন্ত ফুটবল ক্যারিয়ার খুব ছোট, এবং আপনি খুব বেশি বড় টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ পাবেন না। তাহলে ভয় পেয়ে কেন সেটা নষ্ট করবেন? মাঠে নামুন এবং নিজের সেরাটা উজাড় করে দিন।’
বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টের মাহাত্ম্য প্রসঙ্গে কেইন বলেন,
‘আমার কাছে বিশ্বকাপ একজন পেশাদার ফুটবলারের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ শিখর। এটি হতে যাচ্ছে আমার তৃতীয় বিশ্বকাপ। সত্যি বলতে, এর রোমাঞ্চ দিন দিন আরও বাড়ছে; কারণ আপনি জানেন এর গুরুত্ব কতটা। গ্যালারি ভর্তি সমর্থকদের সামনে ভিন্ন ভিন্ন স্টেডিয়ামে খেলাটা কতটা স্পেশাল, তা এখন আরও বেশি উপলব্ধি করি। আমি আবারও সেই মঞ্চে নামার জন্য মুখিয়ে আছি।’
থ্রি লায়ন্সরা সাম্প্রতিক সময়ে বারবার শিরোপার খুব কাছে গিয়েও ট্রফি ছুঁতে না পারার আক্ষেপে পুড়েছে। হ্যারি কেইনের বিশ্বাস, এই আক্ষেপই ২০২৬ বিশ্বকাপে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হবে। বিশ্বকাপের সেই অধরা স্বপ্ন নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে কেইন বলেন,
‘যখন আপনি শিরোপার একদম খুব কাছ থেকে খালি হাতে ফেরেন, সেই অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন—বড্ড যন্ত্রণাদায়ক। আমি জানি এই ট্রফিটা জেতা আমাদের খেলোয়াড় বা স্টাফদের চেয়েও দেশের সমর্থকদের কাছে কতটা আবেগের। এটি এমন এক স্মৃতি হবে যা মানুষ সারাজীবন মনে রাখবে। আমরা যেহেতু বারবার খুব কাছ থেকে ফিরেছি, সেই জেদটাই আমাকে আবারও সেখানে যাওয়ার এবং শেষ বাধাটা টপকানোর শক্তি যোগায়।’
ইংল্যান্ড বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে একবারই। ইংল্যান্ডকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করে ১৯৬৬ সালের সেই কিংবদন্তিদের কাতারে শামিল হওয়ার স্বপ্ন কেইনের,
‘এটা নিয়ে ভাবাটাও এখন বেশ কঠিন। আমার মনে হয়, সেই সেতুটি পার হওয়ার সময় তখনই আসবে যখন আমরা লক্ষ্যটির খুব কাছে পৌঁছাতে পারব। কারণ এখনো অনেকটা দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। ইংল্যান্ডের শেষ বিশ্বকাপ জয়ের পর অনেক দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেছে এবং আমি জানি প্রতিটি ইংলিশ সমর্থক এখন এই একটি সাফল্যের জন্য কতটা তৃষ্ণার্ত।’
নিজের এবং দলের লক্ষ্য জানিয়ে তিনি আরও বলেন,
“আমরা সবাই সেই সোনালী ইতিহাসের অংশ হতে চাই এবং নিজেদের নাম ইতিহাসের পাতায় অমর করে রাখতে চাই। তবে আমরা এটাও জানি যে, এই সাফল্যের চূড়ায় ওঠা অনেকটা পাহাড় জয়ের মতো কঠিন একটি কাজ। এর জন্য প্রচুর ত্যাগ আর কঠোর পরিশ্রম প্রয়োজন, আর আমরা সেই ত্যাগ স্বীকার করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।’
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো বিশ্বকাপে ‘এল’ গ্রুপে আছে ইংল্যান্ড। এই গ্রুপে ইংল্যান্ডের সঙ্গে আছে ক্রোয়েশিয়া, ঘানা ও পানামা। বাছাইপর্বে শতভাগ জয়ের রেকর্ড (৮ ম্যাচে ৮ জয়) এবং একটি গোলও হজম না করার অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান নিয়ে ইংল্যান্ড এবারের আসরে অন্যতম ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে।