২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম

আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) ফুটবলে কয়েকটি নিয়ম অনুমোদন করেছে। আসন্ন বিশ্বকাপ থেকেই কার্যকর করা হবে এসব নিয়ম।
ম্যাচের গতি বাধাগ্রস্ত করা কৌশল প্রতিরোধের জন্য কিছু নতুন ব্যবস্থা অনুমোদন করা হয়েছে। ম্যাচের গতি কমে যাওয়া এবং সময় নষ্ট হওয়া রোধ করতে নতুন কিছু ব্যবস্থা চালু করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে গোল-কিক, থ্রো-ইন এবং সাবস্টিটিউশনের জন্য নতুন কাউন্টডাউন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে ভিডিও সহায়ক রেফারি (ভিএআর)-এর আওতায় কর্নার এবং দ্বিতীয় হলুদ কার্ড যুক্ত করা হবে।
আইএফএবি শনিবার ওয়েলসের হেনসোল ক্যাসলে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় এই প্রস্তাবগুলো অনুমোদন করেছে। এই পরিবর্তনগুলো ১ জুন থেকে কার্যকর হবে এবং ২০২৬-২৭ মৌসুমে প্রয়োগ করা হবে।
আইএফএবি আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে অফসাইডে সম্ভাব্য পরিবর্তনের জন্য পরীক্ষা চালানো এবং খেলোয়াড়রা যখন প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি হয় তখন মুখ ঢেকে রাখার ঘটনা প্রতিরোধে পরামর্শ নেওয়া। বেনফিকার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির বিরুদ্ধে মুখ ঢেকে বর্ণবাদী গালি দেওয়ার অভিযোগোর পর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। রিয়াল মাদ্রিদের তারকা উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে উদ্দেশ্য করে মুখ ঢেকে ‘বানর’ বলার অভিযোগে শাস্তিও পেয়েছেন আর্জেন্টাইন উইঙ্গার। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউয়েফা তাঁকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে।
আইএফএবি আরও পরীক্ষা চালাবে গোলকিপারের মাঠে চিকিৎসার সময় উদ্ভূত ‘কৌশলগত টাইমআউট’ প্রতিরোধের উপায় খুঁজে বের করার জন্য।
নতুন অনুমোদিত নিয়মগুলো হলো:
রেফারিরা থ্রো-ইন এবং ডেড-বল গোলকিকের জন্য পাঁচ-সেকেন্ড কাউন্টডাউন শুরু করতে পারবেন যদি মনে হয় খেলোয়াড়রা সময় নষ্ট করছে।
খেলোয়াড় বদলি সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ড পাবে দলগুলো। না হলে সেই খেলোয়াড়কে অন্তত এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে।
যেকোনো খেলোয়াড়ের চোটের কারণে যদি খেলায় বিরতি হয়, তাকে অন্তত এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে।
এই নিয়মগুলোর লক্ষ্য হলো ম্যাচের গতি বজায় রাখা এবং বিরতির জন্য অতিরিক্ত সময় কমানো, যা খেলোয়াড়দের কল্যাণ, দর্শক এবং সম্প্রচার সংস্থার সময়সূচির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আইএফএবি আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে গোলকিপারের কৌশলগত চোটের বিলম্ব নিয়ে পরীক্ষা চালানো হবে এবং এই আচরণ কমানোর জন্য সম্ভাব্য উপায় প্রস্তাব করা হবে।
নিয়ম অনুযায়ী:
ফুটবলে ভিএআর-এর ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি ঐচ্ছিক থাকবে। কর্নারের সময় ভিএআর ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু কিক নেওয়ার সময় কোনও বিলম্ব হবে না। এটি মূলত স্পষ্ট ভুল শনাক্তের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে এবং কোনো লিগ বা টুর্নামেন্ট কতৃপক্ষ চাইলে ব্যবহার করতে পারবে, না চাইলে ব্যবহার করা হবে না।
আর ভিএআর শুধু ভুলভাবে দেওয়া দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পরীক্ষা করবে। যদি রেফারি মাঠে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড না দেখান, ভিএআর কখনও নতুন কার্ড দেওয়ার পরামর্শ দেবে না। অর্থাৎ ভিএআর কেবল ভুল ঠিক করার জন্য ব্যবহৃত হবে, নতুন করে কার্ড দেওয়ার জন্য নয়।
এছাড়া আইএফএবি রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ হিসেবে খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়ে, বা যেখানে টিম কর্মকর্তা এমন আচরণ উস্কে দেয়, এবং যেখানে খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার সময় মুখ ঢেকে রাখার মতো বিষয় নিয়ে নতুন আইন আনার প্রক্রিয়া আছে।
No posts available.
১৩ মে ২০২৬, ২:৫২ পিএম

পরের সপ্তাহেই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আর সেই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুরো রিও ডি জেনিরোর বাতাসে এখন একটিই প্রশ্ন—নেইমার কি থাকছেন, নাকি থাকছেন না? ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও চোট আর পড়তি ফর্ম তাঁকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
রিওতে অবস্থিত ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের সদর দপ্তরে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি নিজের দ্বিধার কথা লুকাননি, ‘সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেও সহজ নয়। নেইমার এই দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। কিন্তু তার চোটের ইতিহাস আমাদের ভাবাচ্ছে। যদিও ইদানীং সে নিয়মিত খেলছে এবং ফিটনেসে উন্নতি করেছে, তবুও আমাদের সব দিক খতিয়ে দেখতে হবে।’
ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের মধ্যে এখন দুই পক্ষ। এক পক্ষ চায় অভিজ্ঞ নেইমারকে শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে দেখতে, অন্য পক্ষ তরুণ এবং ফিট খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা রাখতে আগ্রহী। আনচেলত্তি স্বীকার করেছেন, দলের ফুটবলাররা নেইমারকে স্কোয়াডে চান। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো চাপের মুখে তিনি নতি স্বীকার করবেন না।
আরও পড়ুন
| নেইমারকে নিয়ে আনচেলত্তির সিদ্ধান্তে তোলপাড় ব্রাজিল ফুটবলে |
|
আনচেলত্তির ভাষায়, ‘খেলোয়াড়রা তাদের মতামত জানাতেই পারে, আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল আমার। নেইমারকে দলে নিলে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নষ্ট হবে না, সেটা আমি জানি। তবে মাঠের বাইরের আলোচনা আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।’
আনচেলত্তির বর্তমান কৌশলে এমন ফরোয়ার্ড প্রয়োজন যারা পুরো ম্যাচ জুড়ে দৌড়াতে পারবেন এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে পারবেন। নেইমারের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সেই উচ্চ-তীব্রতার ফুটবলের সঙ্গে কতটা মানানসই, সেটিই এখন বড় বিবেচ্য বিষয়।
ব্রাজিল কোচ বললেন, ‘আমি কোনো নিখুঁত দল বানাতে পারব না, কিন্তু এমন একটি দল গড়তে চাই যেখানে ভুলের পরিমাণ হবে সর্বনিম্ন। নেইমারকে নেওয়া বা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে শতভাগ পেশাদার। এখানে আবেগের কোনো জায়গা নেই।’
সান্তোসের হয়ে খেলা নেইমার এখন কেবল আনচেলত্তির একটি ফোনের অপেক্ষায়। আগামী সপ্তাহের সেই মাহেন্দ্রক্ষণেই জানা যাবে, ব্রাজিলের সোনালী স্বপ্নে নেইমারের তুলির আঁচড় আর থাকবে কি না।

বিশ্বকাপে নেইমার জুনিয়র কি খেলবেন? এই একটি প্রশ্ন এখন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) অন্দরমহলে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। তবে খবর হচ্ছে, কোচ কার্লো আনচেলত্তি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। নেইমারকে বিশ্বকাপে দেখা যাবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে! কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত তিনি এতটাই গোপন রেখেছেন, সিবিএফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশও এখনো অন্ধকারে।
লন্ডনে ব্রাজিল ফুটবল দলের সমন্বয়ক রদ্রিগো কায়েতানোর সঙ্গে কোচ আনচেলত্তির সাম্প্রতিক আলাপচারিতার পর থেকেই গুঞ্জন ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। পুরো ব্রাজিল জুড়ে সাধারণ মানুষ যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে, সেই একই প্রশ্ন দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের অনেক কর্মকর্তারও!
নির্ভরযোগ্য সূত্রে গ্লোবর প্রতিবেদন, আনচেলত্তি তাঁর এই বড় সিদ্ধান্তের কথা মাত্র হাতেগোনা কয়েকজনকে জানিয়েছেন। সিবিএফের কর্মকর্তাদের মধ্যে শুধুমাত্র জাতীয় দলের সমন্বয়ক এবং কোচের অতি বিশ্বস্ত রদ্রিগো কায়েতানোই জানেন আসল সত্য। এর বাইরে ইতালিয়ান কোচের নিজস্ব কোচিং স্টাফের নির্দিষ্ট সদস্যরাই কেবল এই আলোচনার অংশ হতে পারছেন।
আরও পড়ুন
| পদত্যাগ নয়, আবার রিয়ালের প্রেসিডেন্ট হতে চান পেরেজ |
|
আশ্চর্যের বিষয় হলো, সিবিএফ সভাপতি সামির শাউদ কিংবা পরিচালনা পর্ষদের কাউকেই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে জানা গেছে, বোর্ড থেকেও এই মুহূর্তে কোচের ওপর কোনো ধরনের বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে না।
ভেতরের পরিবেশ শান্ত দেখানোর চেষ্টা করা হলেও বাইরের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ব্রাজিলের বর্তমান ও সাবেক ফুটবলাররা, যাদের সঙ্গে আনচেলত্তির সুসম্পর্ক রয়েছে, তাঁরা নেইমারের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য করে চলেছেন। অনেকে চাইছেন দলের সেরা তারকাকে যেন শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে সুযোগ দেওয়া হয়।
তবে আনচেলত্তি তাঁর পেশাদারিত্বের জন্য বেশ সুপরিচিত। ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, আবেগ নয় বরং নেইমারের শারীরিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত উপযোগিতা বিচার করেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সেই রহস্যের চাবিকাঠি আনচেলত্তি এবং কায়েতানোর পকেটেই থাকছে।
নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই লুকোচুরি ভক্তদের মনে যেমন শঙ্কা বাড়াচ্ছে, তেমনি বাড়িয়ে দিচ্ছে রোমাঞ্চ। শেষ পর্যন্ত কি ‘১০ নম্বর’ জার্সিধারীকে দেখা যাবে বিশ্বজয়ের মিশনে, নাকি নতুন কোনো অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছেন আনচেলত্তি? উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ কে হবেন এ নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই। তবে হুট করেই দৃশ্যপটে এল নতুন মোড়। গায়ানা জাতীয় দলের কোচের পদ থেকে আকস্মিক পদত্যাগ করেছেন বাফুফের (বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন) সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা টমাস ডুলি।
ডুলির পদত্যাগ ঘিরেই জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে, তবে কি হাভিয়ের কাবরেরার উত্তরসূরি হিসেবে বাংলাদেশের ডাগআউটে দেখা যাবে এই হাই-প্রোফাইল জার্মান-মার্কিন কোচকে?
বাফুফে ইতিমধ্যে নতুন কোচের জন্য ১১ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা (শর্টলিস্ট) চূড়ান্ত করেছে এবং আগামী ১৫ মে নতুন কোচের নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে। ঠিক তিন দিন আগে ১২ মে ডুলির পদত্যাগ করার বিষয়টি কোনো সাধারণ কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে না। ৯ মাস গায়ানার দায়িত্বে থেকে অপরাজিত রেকর্ড গড়ার পরও 'নতুন চ্যালেঞ্জ' গ্রহণের কারণ দেখিয়ে তাঁর বিদায় নেওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাংলাদেশের প্রস্তাবটি হয়তো তাঁর কাছে এখন অনেক বেশি বাস্তবসম্মত।
যদিও বাফুফে থেকে নতুন কোচের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম হিলটন বলেছেন, 'টমাস ডুলি আমাদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন। এখন কোচ নিয়োগের বিষয়টি পুরোপুরি সভাপতি (তাবিথ আউয়াল) নিজেই দেখছেন। উনি ১৫ মে ঘোষণা দেবেন বলে জানি।'
৬৪ বছর বয়সী ডুলি খেলোয়াড় হিসেবে যেমন বুন্দেসলিগা ও ইউয়েফা কাপ জয়ী। কোচ হিসেবেও তাঁর প্রোফাইল বেশ ভারী। ছিলেন জার্মান কিংবদন্তি ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানের সহকারীও। বিশেষ করে ফিলিপাইন জাতীয় দলকে সাফল্য এনে দেওয়া এবং প্রথমবার এশিয়ান কাপের মূল পর্বে কোয়ালিফাই করানোর অভিজ্ঞতা তাঁকে বাফুফের তালিকার শীর্ষে রাখার বড় কারণ হতে পারে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বর্তমানে এমন একজন অভিজ্ঞ কোচ খুঁজছে যিনি এশিয়ান ফুটবল সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখেন।
তবে ডুলির কোচিং ক্যারিয়ারে শৃঙ্খলার বিষয়টি যেমন প্রশংসিত, তেমনি গায়ানায় স্থানীয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব কিছুটা বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছিল। বাফুফের শর্টলিস্টে থাকা অন্য ১০ জন প্রার্থীর নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, ডুলির পদত্যাগের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন শুধুই তিনি।
টমাস ডুলিই কি তবে বাংলাদেশের পরবর্তী হেড কোচ হতে যাচ্ছেন? নাকি শেষ মুহূর্তে আসবে অন্য কোনো চমক?

মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) আয়ের সব রেকর্ড ভেঙে নিজের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন লিওনেল মেসি। মঙ্গলবার এমএলএস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত সর্বশেষ বেতন তালিকা অনুযায়ী, ইন্টার মায়ামির এই মহাতারকার বার্ষিক মূল বেতন এখন ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
গত অক্টোবরে মায়ামির সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তি সই করেন মেসি। নতুন এই চুক্তিতে তাঁর মূল বেতন দ্বিগুণ হয়েছে। সব মিলিয়ে গ্যারান্টিড ক্ষতিপূরণসহ তাঁর বার্ষিক আয় দাঁড়াবে ২ কোটি ৮৩ লাখ ডলারে। এই হিসেবে মেসির বিভিন্ন বিজ্ঞাপন বা এনডোর্সমেন্ট চুক্তির আয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
আরও পড়ুন
| গোলকিপারের অবিশ্বাস্য ভুলে শিরোপার অপেক্ষা বাড়ল রোনালদোর |
|
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সন হিউং-মিন। গত আগস্টে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসিতে যোগ দেন দক্ষিণ কোরিয়ার এই তারকা। সনের বার্ষিক মূল বেতন ১ কোটি ৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার।
৯৭ লাখ ডলার নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে আছেন মেসির মায়ামি ও আর্জেন্টিনা সতীর্থ রদ্রিগো ডি পল। মেক্সিকোর হার্ভিং লোসানো ৯৩ লাখ ডলার আয় নিয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। আর পঞ্চম স্থানে থাকা আতলান্তার মিগুয়েল আলমিরনের আয় ৭৯ লাখ ডলার।
২০২৩ সালে এমএলএসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মাঠ এবং মাঠের বাইরে লিগটিকে বদলে দিয়েছেন মেসি। মায়ামির হয়ে ৬৪ ম্যাচে তাঁর গোল সংখ্যা ৫৯।
গত বছর নিয়মিত মৌসুমে ২৯ গোল করে দলকে এমএলএস কাপ জেতানোর পাশাপাশি টানা দ্বিতীয়বারের মতো লিগের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন মেসি। আগামী মাসে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনে মাঠে নামবেন এই ফুটবল জাদুকর।

শিরোপাহীন মৌসুম আর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে টালমাটাল রিয়াল মাদ্রিদ; চারপাশ থেকে ধেয়ে আসছে সমালোচনার তির, উঠছে পদত্যাগের দাবি। তবে চরম এই সংকটেও দমে যাওয়ার পাত্র নন ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। পদত্যাগের গুঞ্জন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে উল্টো নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করতে ক্লাবে আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন ৭৯ বছর বয়সী এই ফুটবল সংগঠক।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনরায় নির্বাচিত হওয়া পেরেজ মঙ্গলবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘দুঃখিত, আমি পদত্যাগ করছি না। বরং আমি নির্বাচনের ডাক দিচ্ছি। নির্বাচক কমিটিকে বোর্ড অফ ডিরেক্টরস নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছি, যেখানে বর্তমান বোর্ড আবারও প্রার্থী হিসেবে লড়বে।‘
স্প্যানিশ মিডিয়ার একটি অংশের প্রতি ক্ষোভ ঝেড়ে পেরেজ অভিযোগ করেন, তাঁর এবং রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে। শারীরিক অবস্থা নিয়ে ছড়ানো গুজব প্রসঙ্গে পেরেজ বলেন, ‘অনেকে রটাচ্ছে আমার নাকি মরণব্যাধি ক্যান্সার হয়েছে। আমি জানাতে চাই, আমার স্বাস্থ্য ঠিক আছে। যদি আমার ক্যান্সার হতো তবে কি আমি বিশ্বজুড়ে সংবাদ শিরোনাম হতাম না?’
আরও পড়ুন
| গোলকিপারের অবিশ্বাস্য ভুলে শিরোপার অপেক্ষা বাড়ল রোনালদোর |
|
রোববার বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোতে ২-০ গোলে হেরেছে লস ব্লাঙ্কোসরা। মাঝ মৌসুমে জাবি আলোনসোকে বরখাস্ত করে আলভারো আরবেলোয়াকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিলেও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। শিরোপাহীন মৌসুম কাটাতে হচ্ছে আবারও।
রিয়ালের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়েও বিতর্ক কম নয়। বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে অনুশীলনে ফেদেরিকো ভালভার্দে ও অরেলিয়ে চুয়ামেনির মধ্যে হাতাহাতির খবর সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়। এই ঘটনায় দুই ফুটবলারকেই ৫ লাখ ইউরো করে জরিমানা করেছে ক্লাব।
বিবাদের খবর ফাঁস হওয়া নিয়ে পেরেজ বলেন, ‘আমি খেলোয়াড়দের নিয়ে কথা বলব না। তবে আমার সময়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি এই প্রথম নয়, কিন্তু এবারই প্রথম এটি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হলো।‘
২০০৯ সাল থেকে টানা সভাপতির দায়িত্ব পালন করা পেরেজ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘যারা নির্বাচন করতে চান, তাদের স্বাগত। আমি সদস্যদের স্বার্থ রক্ষায় লড়ব। কোনো হুমকি আমাকে দমাতে পারবে না, বরং এটি আমাকে আরও শক্তি জোগাচ্ছে।‘
পেরেজ তাঁর সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, ‘আমি সবকিছু জিততে চাই। আমার সভাপতিত্বে আমরা ফুটবল ও বাস্কেটবল মিলিয়ে যথাক্রমে ৩৭টি ও ২৯টি শিরোপা জিতেছে।‘