
সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনে ব্যাট-বলের লড়াইয়ের পাশাপাশি কথার লড়াই জমেছে বেশ। উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটার লিটন দাস ও পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ান। চতুর্থ দিনে রিজওয়ানকে ঘিরে মাঠের পরিস্থিতি কিছুটা ঘোলাটে হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে রিজওয়ানের সঙ্গে কথার লড়াইয়ে মাতেন লিটন। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও।
সালমান আলী আগার সঙ্গে ব্যাটিংয়ের সময় প্রায় প্রতি বলের আগেই খেলা থামিয়ে কিছু না কিছু আপত্তি তুলছিলেন রিজওয়ান। কখনও সাইট স্ক্রিন, কখনওবা অন্য কোনো বিষয়ে আম্পায়ারকে অভিযোগ জানাচ্ছিলেন তিনি। এতে বিরক্ত হয়ে একপর্যায়ে লিটন বলে ওঠেন, ‘বারবার খেলা থামিয়ে দিচ্ছো কেন?’ জবাবে রিজওয়ানও বলেন, ‘এটা কী তোমার কাজ! এটা তো আম্পায়ারের কাজ।’
তর্কাতকির পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে থাকে। পালাক্রমে বাড়তে থাকে কথার যুদ্ধ। এক পর্যায়ে উইকেটের পেছন থেকে লিটনকে বলতে শোনা যায়, ‘কিছু রান করে ফেলেছে, এবার শুরু হবে অভিনয়। ভালোই অভিনয় করছে সে। এসব সবাই জানে এখন!’ আবার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত একই ভাষায় বলেন, ‘অতিরিক্ত অভিনয়ের জন্য ৫০ পয়সা কাটা হবে!’
ম্যাচ শেষে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ শন টেইটকে। মাঠে লিটন-রিজওয়ানের কথোপকথনের অর্থ বুঝতে পারেননি তিনি।
তিনি বলেন,
“কী বলাবলি হচ্ছিল, জানি না। কিন্তু আমি এটা উপভোগ করেছি। মানে… আমি তো অস্ট্রেলিয়ান, তাই না? এতেই হয়তো সবটা বোঝা যায়। আমরা এসব পছন্দ করি। আমার মনে হয়, কিছুটা তর্কাতর্কি থাকা দরকার আছে। সবসময় অবশ্যই নয়। সীমা অতিক্রম করা কাম্য নয়। সীমা না ছাড়ানো এবং এই ধরনের ব্যাপার নিয়ে আমরা কথা বলি। কিন্তু কিছুটা আগ্রাসন তো থাকতেই হবে।”
টেইট আরও যোগ করেন,
“এটা তো টেস্ট ম্যাচ…পাকিস্তান-বাংলাদেশ লড়াই। আমার মনে হয়, ভক্তদের জন্য, আমাদের সবার জন্যই, খেলায় খেলোয়াড়রা কিছুটা প্যাশন দেখাতে চায় এবং লড়াইয়ের মধ্যে চায় পরস্পরকে আউট করতে। সবাই চায় লড়াইয়ে টিকে থাকতে। আমার তো এসব ভালো লাগে।”
No posts available.
২০ মে ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
২০ মে ২০২৬, ১১:১৯ এম
১৯ মে ২০২৬, ৮:৪৩ পিএম

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতে আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়েও বড় লাফ দিলো বাংলাদেশ। পরপর দুই টেস্ট জিতে র্যাঙ্কিংয়ে দুই ধাপ লাফিয়ে ৭ নম্বরে উঠে গেছে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দল।
বুধবার নিজেদের ওয়েবসাইটে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের সবশেষ হালনাগাদ প্রকাশ করেছে আইসিসি। যেখানে ৭৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।
সিরিজ শুরুর আগে ৬৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ৯ নম্বরে ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন কুমার দাসরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্টই জেতায় ১১ রেটিং যুক্ত হয়েছে তাদের।
যার ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৬৮) ও পাকিস্তানকে (৭৫) টপকে গেছে বাংলাদেশ।
র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের নামের পাশে আছে ১৩১ রেটিং পয়েন্ট। দুই নম্বরে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার রেটিং ১১৯ পয়েন্ট।
তালিকার পরের নামগুলো ভারত (১০৪), ইংল্যান্ড (১০২), নিউ জিল্যান্ড (১০১), শ্রীলঙ্কা (৮৬)। এছাড়া ১০ রেটিং নিয়ে ১০ নম্বরে রয়েছে জিম্বাবুয়ে।
পর্যাপ্ত ম্যাচ না খেলায় আপাতত র্যাঙ্কিংয়ের বাইরে আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তান।

প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জেতায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সিলেটে আজ দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। এর আগে মিরপুরে প্রথম টেস্টে ১০৪ রানে জিতেছিল শান্ত-লিটনরা।
২-০ ব্যবধানের এই জয়ে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় ভারতকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। ৫৮.৩৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে তারা। ৪৮.১৫ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে রয়েছে ভারত।
আরও পড়ুন
| পাকিস্তানকে গুড়িয়ে ভারতকে টপকাল বাংলাদেশ |
|
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের এমন সাফল্য অব্যাহত থাকবে এবং এই অর্জন তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আরও অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দলীয় ঐক্য, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভবিষ্যতে বিশ্বমঞ্চে আরও এগিয়ে যাবে। তিনি খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান।
বাংলাদেশের সাফল্যে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হকও। অভিনন্দন বার্তায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন: ‘সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ৭৮ রানের এই দুর্দান্ত জয় আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। শক্তিশালী পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চার টেস্ট ম্যাচ জিতে আমাদের বাঘেরা প্রমাণ করেছে, টেস্ট ক্রিকেটেও বাংলাদেশ এখন যেকোনো দলের জন্য এক বড় শক্তির নাম। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে কোনো দলের বিপক্ষে টানা এত ম্যাচ জেতার রেকর্ড এবারই প্রথম, যা পুরো জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের।‘
প্রতিমন্ত্রী ম্যাচজুড়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য খেলোয়াড়, কোচ ও ক্রিকেট বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সাফল্যের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আগামীতেও দেশের জন্য আরও বড় বড় গৌরব ও সম্মান বয়ে আনবে।

মিরপুরে প্রথম টেস্ট জিতেই সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার সিলেটেও পাকিস্তানকে হারিয়ে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে ভারতকে টপকে গেল বাংলাদেশ।
সিলেটে বুধবার সকালে শেষ হওয়া দ্বিতীয় পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। এর সৌজন্যে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে পাঁচ নম্বরে উঠে গেছে তারা।
প্রথম ম্যাচ শেষে তিন ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট (৪৪.৪৪ শতাংশ) নিয়ে টেবিলের ৬ নম্বরে ছিল বাংলাদেশ। এবারের সিলেট টেস্ট জিতে এখন ২৮ পয়েন্ট নিয়ে (৫৮.৩৩ শতাংশ) ৫ নম্বরে উঠে গেছে তারা। আর ছয়ে নেমে গেছে ভারত।
আরও পড়ুন
| লিটন-রিজওয়ানের স্লেজিং, মন্দ লাগেনি টেইটের |
|
এখন পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নশিপে দুই সিরিজে চার ম্যাচ খেলে ২টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের সঙ্গে এই দুই জয়ে তারা পেয়েছে ২৪ পয়েন্ট। এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে একটি ম্যাচ ড্র করায় নামের পাশে যোগ হয়েছিল ৪ পয়েন্ট।
সব মিলিয়ে মোট ৪৮ পয়েন্টের মধ্যে ২৮ তথা ৫৮.৩৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে এখন পাঁচ নম্বরে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ৯ ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট (৪৮.১৫ শতাংশ) নিয়ে ছয় নম্বরে নেমেছে ভারত।
সবার ওপরে আছে অস্ট্রেলিয়া। ৮ ম্যাচে ৭ জয়ে মোট ৮৪ পয়েন্ট (৮৭.৫০ শতাংশ) তাদের। এছাড়া দুই নম্বরে আছে নিউ জিল্যান্ড, ৭৭.৭৮ শতাংশ পয়েন্ট।
তালিকার পরের নামগুলো যথাক্রমে দক্ষিণ আফ্রিকা (৭৫.০০ শতাংশ), শ্রীলঙ্কা (৬৬.৬৭ শতাংশ), বাংলাদেশ (৫৮.৩৩ শতাংশ), ভারত (৪৮.১৫ শতাংশ), ইংল্যান্ড (৩১.৬৭ শতাংশ), পাকিস্তান (৮.৩৩ শতাংশ) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৪.১৭ শতাংশ)।

বিদেশের পর এবার ঘরের মাঠেও পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের রাজত্ব৷ দাপুটে পারফরম্যান্সে আরও একবার পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল তারা। একইসঙ্গে গড়ল টানা ৪ টেস্ট জয়ের ইতিহাস।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পঞ্চম দিনে রোমাঞ্চ ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত কিছু করতে পারেনি পাকিস্তান। ৪৩৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা দলটিকে ৩৫৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৭৮ রানের জয় পেল বাংলাদেশ।
ম্যাচের শেষ দিনে পাকিস্তানের বাকি থাকা ৩ উইকেট নিতে ৬৫ মিনিটের বেশি লাগে বাংলাদেশের। এ নিয়ে বাংলাদেশের কাছে পরপর দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশড হলো পাকিস্তান।
টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা ৪ ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ। এর আগে চারবার টানা ৩ ম্যাচ জিতেছিল তারা। এবার গত নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের পর পাকিস্তানের বিপক্ষেও জিতল দুই ম্যাচ।
পাকিস্তানকে গুড়িয়ে দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন তাইজুল ইসলাম। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার ১৮তম ৫ উইকেট। তবে প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও পরেরটিতে ফিফটি করে লিটন কুমার দাস জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের এটি চার ম্যাচে দ্বিতীয় জয়। সব মিলিয়ে ২৮ পয়েন্ট (৫৮.৩৩ শতাংশ) নিয়ে টেবিলের পাঁচ নম্বরে উঠে এলো তারা।
৭ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে শেষ দিনের খেলা শুরু করে পাকিস্তান। বৃষ্টির কারণে শুরুতে বিলম্ব হয় ১৫ মিনিট। পরে প্রথম ওভারেই বাংলাদেশ পেতে পারত উইকেট। তবে নাহিদ রানার বলে গালিতে ক্যাচ ছাড়েন মেহেদী হাসান মিরাজ।
পরে সাজিদ খানকে নিয়ে বাংলাদেশের চিন্তা কিছুটা বাড়ান মোহাম্মদ রিজওয়ান। দুজন মিলে ওয়ানডে স্টাইলে রান তুলতে থাকলে একপর্যায়ে লক্ষ্যমাত্রা নেমে আসে ৭৯ রানে। সাজিদ ও রিজওয়ানের জুটি ততক্ষণে ৫৪ রানের।
তখন পেশিতে টান লাগে মিরাজের। ফলে বিরতি আসে খেলায়। তাতেই যেন বাংলাদেশের বাজিমাত। খেলা শুরু হলে তাইজুলের দ্বিতীয় বলেই স্লিপে ক্যাচ দেন ২৮ রান করা সাজিদ।
পরের ওভারে শরিফুল ইসলামের প্রথম বলে গালিতেই ক্যাচ দেন রিজওয়ান। ৯৪ রান করে তার বিদায়ে একরকম নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের জয়। পরে খুররাম শাহজাদকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে আনন্দে ভাসান তাইজুল।

ব্যাট হাতে ক্রিজে নামলেই যিনি প্রতিপক্ষের বোলিং লাইন-আপকে গুঁড়িয়ে দিতে পারেন, যেকোনো বোলারের জন্যই এক জীবন্ত যমদূতও বলা যায় যাকে। ২২ গজে তাঁর ইস্পাতকঠিন মানসিকতা, অনবদ্য ফিটনেস এবং রানের জন্য চির ক্ষুধার্ত আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে বিশ্বের বাঘা বাঘা সব বোলিং আক্রমণ। কিন্তু নিখুঁত ক্রিকেটীয় ব্যাকরণের এই মায়াজাল বিছানো ব্যাটিং মায়েস্ত্রোর ক্যারিয়ারেও এমন কিছু বোলার ত্রাস হয়ে এসেছিলেন। ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরানো এই কিংবদন্তি ব্যাটারকেও কখনও কখনও চরম পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে।
সম্প্রতি 'আরসিবি ইনোভেশন ল্যাব'-এর একটি অনুষ্ঠানে মুখোমুখি হয়ে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার কোহলি জানিয়েছেন তিন ফরম্যাটে তাঁর মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে কঠিন বোলারদের নাম। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে আইপিএলের ২০২৬ মৌসুমে বর্তমানে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা কোহলিই এখন পর্যন্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
সেই অনুষ্ঠানে কোহলির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল—টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি, এই তিন ফরম্যাটে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ কে কে ছিলেন? জবাবে ওয়ানডেতে তিনি বেছে নিয়েছেন ইংল্যান্ডের লেগ-স্পিনার আদিল রশিদকে, টেস্টের জন্য ইংলিশ কন্ডিশনে কিংবদন্তি পেসার জেমস অ্যান্ডারসনকে এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তাঁর চোখে সবচেয়ে কঠিন বোলার হলেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের রহস্য স্পিনার সুনীল নারাইন।
বিরাট কোহলির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ওয়ানডে ফরম্যাটে তাঁর খেলা অন্যতম কঠিন বোলার হলেন আদিল রশিদ। ইংল্যান্ডের এই লেগ-স্পিনার ১৬১ ম্যাচে ২৪২টি উইকেট শিকার করেছেন, যার মধ্যে ১০ বার চার উইকেট এবং দুবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি রয়েছে। ওয়ানডেতে রশিদের মুখোমুখি হয়ে ১০টি ইনিংসে ব্যাটিং করেছেন কোহলি, যার মধ্যে পাঁচবারই কোহলিকে সাজঘরের পথ দেখিয়েছেন এই স্পিনার। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, তাঁদের মধ্যে লড়াইটা কতটা জমজমাট ও চ্যালেঞ্জিং ছিল।
টেস্ট ক্রিকেটে ইংলিশ কন্ডিশনে কোহলির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা নিয়েছেন জেমস অ্যান্ডারসন। ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার হিসেবে বিবেচিত অ্যান্ডারসন ১৮৮ টেস্টে শিকার করেছেন রেকর্ড ৭০৪টি উইকেট। ক্রিকেটের এই দুই কিংবদন্তি টেস্টে ৩৬টি ইনিংসে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে অ্যান্ডারসন সাতবার কোহলির উইকেট তুলে নিয়েছেন। অবশ্য এই ইংলিশ পেসারের বিপক্ষে কোহলির সাফল্যও কম নয়; অ্যান্ডারসনের বিপক্ষে ৪৩.৫৭-এর চমৎকার গড়ে রান তুলেছেন এই ভারতীয় ব্যাটিং মায়েস্ত্রো।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে কোহলির বেছে নেওয়া কঠিন বোলার হলেন সুনীল নারাইন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৫২টি উইকেট নিলেও সব ধরনের টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ৫৯৪ ম্যাচে অবিশ্বাস্য ৬২৬টি উইকেট শিকার করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই মিস্ট্রি স্পিনার। নারাইনের বিপক্ষে ২২টি টি-টোয়েন্টি ইনিংসে ব্যাটিং করে চারবার আউট হয়েছেন কোহলি।
দারুণ সব বোলারদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও বিরাট কোহলি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে। ৩৭ বছর বয়সী তারকা ব্যাটারে ঝুলিতে রয়েছে টেস্টে ৯,২৩০ রান, ওয়ানডেতে ১৪,৭৯৭ রান, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৪,১৮৮ রান এবং আইপিএলে রেকর্ড ৯,২০৩ রান।