২৫ মার্চ ২০২৬, ৮:৫৭ পিএম

১৯তম আইপিএল শুরুর আগে মালিকানা বদল হলো রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি)। প্রায় ১.৭৮ বিলিয়ন ডলারে (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২১ হাজার ৮৫০ কোটি) আদিত্য বিড়লা গ্রুপের নেতৃত্বে একটি ব্যবসায়ী জোট জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কিনে নিয়েছে।
বুধবার হওয়া এ চুক্তিতে আদিত্য বিড়লা গ্রুপের সঙ্গে রয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া গ্রুপ, বোল্ট ভেঞ্চারস এবং ব্ল্যাকস্টোন। এখন থেকে বেঙ্গালুরুর আইপিএল (পুরুষ) ও ডব্লিউপিএল (নারী)—উভয় দলেরই শতভাগ মালিক হবে এই জোট। জানা গেছে, ফ্র্যাঞ্চাইজিটির নতুন চেয়ারম্যান হবেন আর্যমান বিড়লা।
নতুন মালিকানায় নতুন চেয়ারম্যান পাচ্ছে আরসিবি। তাতে প্রশ্ন উঠেছে কে এই আর্যমান? আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান কুমার মঙ্গলম বিড়লার ছেলে তিনি। তার চেয়েও বড় পরিচয়, তিনি সাবেক ক্রিকেটার। ঘরোয়া ক্রিকেটে মধ্যপ্রদেশের হয়ে খেলেছেন আর্যমান।
আর্যমান একসময় আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদার এবং ভেঙ্কটেশ আইয়ারের মতো খেলোয়াড়ের সঙ্গে ড্রেসিং রুম শেয়ার করেছেন। ২০১৮ সালে আইপিএলের নিলামে রাজস্থান রয়্যালস তাকে ৩০ লাখ টাকায় কিনেছিল। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির হয়ে একটিও ম্যাচ খেলার সুযোগ মেলেনি তার।
বাঁহাতি ব্যাটার আর্যমান মধ্যপ্রদেশের হয়ে নয়টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। ৪১৪ রানও করেছেন, যার মধ্যে ইডেন গার্ডেন্সে বাংলার বিপক্ষে একটি সেঞ্চুরি রয়েছে তাঁর। চারটি লিস্ট-এ ম্যাচে ৩৬ রান করেছেন তিনি।
আইপিএলে দল পাওয়া এবং খেলতে না পারার কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন আর্যমান। এমনকী ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে নেন। সে সময় ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি লিখেন,
‘‘আমার মনে হচ্ছে আমি আটকে পড়েছি। এত দিন পর্যন্ত সমস্ত কষ্টের মধ্যে দিয়ে আমি নিজেকে ঠেলে নিয়ে গিয়েছি। কিন্তু এখন আমার মনে হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতাকে সব কিছুর ঊর্ধ্বে রাখা প্রয়োজন।’’
রাগ ক্ষোভ আর অভিমানে নেওয়া অবসর থেকে আর ক্রিকেটে ফেরেননি আর্যমান। বর্তমানে আদিত্য বিড়লা ম্যানেজমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডের পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। উচ্চশিক্ষার জন্য আর্যমান যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেছেন এবং হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও উচ্চতর ডিগ্রি রয়েছে তার। ক্রিকেটে বিশেষ সাফল্য না মিললেও ব্যবসায়িকভাবে সফল তিনি।
পৈতৃক সূত্রে অঢেল সম্পত্তি আর নিজের ভালো লাগা আর অভিমানের বিদায় নিলেও আবারও আর্যমান ফিরে এলেন বাইশগজে। তবে সেটা ক্রিকেটার হিসেবে নয়, মালিক হয়েই। শোক শক্তিতে রূপ দিয়ে আরসিবির মালিকদের অন্যতম তিনি।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,
“বেঙ্গালুরুর ভবিষ্যৎ গড়ার এই যাত্রায় যুক্ত হতে পেরে আমি গর্বিত। আমরা মাঠে ও মাঠের বাইরে সমর্থকদের জন্য নতুন কিছু করতে চাই।”
No posts available.
২৫ মার্চ ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
২৫ মার্চ ২০২৬, ৩:৪৫ পিএম

মঙ্গলবার আইপিএলের দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বিক্রি মিলিয়ে মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩.৪১ বিলিয়ন ডলার—যা ২০০৮ সালে লিগের আটটি প্রতিষ্ঠাতা ফ্র্যাঞ্চাইজি মিলে যে ৭২৩.৫৯ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিল, তার প্রায় পাঁচ গুণ।
মনোজ বাদালের নেতৃত্বাধীন এমার্জিং মিডিয়া কনসোর্টিয়াম রাজস্থান ফ্র্যাঞ্চাইজিতে তাদের শেয়ার বিক্রি করে চমকপ্রদ ২,৩৩৩ শতাংশ মুনাফা করেছে। তারা ৬৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে সেটি বিক্রি করেছে ১.৬৩ বিলিয়ন ডলারে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই নিশ্চিত হয়, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুও নতুন মালিক পেয়েছে, যার মূল্য দাঁড়িয়েছে ১.৭৮ বিলিয়ন ডলার।
এই বিপুল মূল্যবৃদ্ধির পেছনে একটি বড় কারণ স্পষ্ট—আমেরিকান বিনিয়োগ। রাজস্থানের নতুন মালিকানায় আছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উদ্যোক্তা কাল সোমানি, ওয়ালমার্টের উত্তরাধিকারী রব ওয়ালটন—যিনি এনএফএল দল ডেনভার ব্রঙ্কোসের মালিকও—এবং ডেট্রয়েট লায়ন্সের মালিক হ্যাম পরিবার।
আরও পড়ুন
| উসমান তারিককে নকলের চেষ্টা লঙ্কান বোলারের, বাধা আম্পায়ারের |
|
অন্যদিকে আরসিবি কিনেছে আদিত্য বিড়লা গ্রুপ ও টাইমস গ্রুপ। তাদের সঙ্গে আছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বোল্ট ভেঞ্চারস ও ব্ল্যাকস্টোন। বোল্ট ভেঞ্চারসের নেতৃত্বে আছেন খ্যাতনামা ক্রীড়া বিনিয়োগকারী ডেভিড ব্লিটজার, যার বিনিয়োগ ছড়িয়ে আছে বিশ্বের বিভিন্ন লিগে—এনবিএর ফিলাডেলফিয়া, এনএইচএলের নিউ জার্সি ডেভিলস, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্রিস্টাল প্যালেস থেকে শুরু করে এমএলএসের রিয়াল সল্ট লেক পর্যন্ত।
গত এক দশকে আমেরিকান বিনিয়োগকারীরা ক্রমেই বৈশ্বিক ক্রীড়াক্ষেত্রে, বিশেষ করে ইউরোপিয়ান ফুটবল ও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে, বড় আকারে বিনিয়োগ করছে। এখন সেই ধারা ছড়িয়ে পড়ছে ক্রিকেটেও।
এমলিয়ন বিজনেস স্কুলের আফ্রো-ইউরেশিয়ান স্পোর্টস অধ্যাপক সাইমন চ্যাডউইকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটে আগ্রহের এই বৃদ্ধি কয়েকটি কারণে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তর আমেরিকার ভারতীয় বংশোদ্ভূত সম্প্রদায়ের দ্রুত বৃদ্ধি, ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে ক্রিকেটের অন্তর্ভুক্তি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খেলাটির বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ। চ্যাডউইক বলেছেন,
‘উত্তর আমেরিকার ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা দ্রুত ক্রিকেটের আসন্ন বৈশ্বিক বিপ্লবের প্রাণস্পন্দনে পরিণত হয়েছে এবং তারা ক্রিকেটের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করছে।’
আরও পড়ুন
| সুযোগ হয়নি খেলোয়াড় হিসেবে, ক্ষোভে কিনেই নিলেন আরসিবি |
|
সাইমন আরও বলেন,
‘গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই-এর মতো ব্যক্তিরা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে খেলাটিকে প্রচার করার মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছেন। তারা বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিত করেছেন যে ক্রিকেটে বিনিয়োগের শক্তিশালী বাণিজ্যিক কারণ রয়েছে। ভারতীয় বাজারের আকার বিশাল, অলিম্পিকের মাধ্যমে খেলাটির বৈশ্বিক পরিচিতি আরও বাড়বে, পাশাপাশি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারের বিনিয়োগ আগ্রহও এটিকে আরও শক্তিশালী করছে।’
অর্থনৈতিক দিক থেকেও ক্রিকেট তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। এনএফএলের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির গড় মূল্য $৫.১ বিলিয়ন এবং এনবিএর $৩.৯ বিলিয়ন। এই প্রেক্ষাপটে আইপিএল দলের মূল্য তুলনামূলকভাবে কমই।
ডি অ্যান্ড পি অ্যাডভাইজরির ম্যানেজিং পার্টনার সন্তোষ এন জানান, হয়তো আমেরিকান বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিচ্ছেন না। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেছেন, ২০২১ সালে ৫,৬২৫ কোটি রুপিতে গুজরাট টাইটানসের ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনে ২০২৫ সালে টরেন্ট গ্রুপকে ৬৭ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে সিভিসি ক্যাপিটাল প্রায় ৫,০২৫ কোটি রুপির লাভ করেছে। এভাবে তারা প্রাথমিক বিনিয়োগের বড় অংশ পুনরুদ্ধার করে ৩৩ শতাংশ শেয়ার নিজের কাছে রেখেছে। সন্তোষ বলেন,
‘এরা সাধারণত বলেন, ঠিক আছে, আমি ৫-৮ বছর ধরে ধরে রাখব… যদি বছরে ৩০ শতাংশ রিটার্ন পাই, তবে আমি বিক্রি করে বের হয়ে যাব এবং লাভ করব।’
আরও পড়ুন
| আরও কিছু ল্যান্ডমার্কের সামনে দাঁড়িয়ে মুশফিকুর রহিম |
|
ভারতীয় সংস্থার জন্য ‘ট্রফি অ্যাসেট’
যদি আইপিএলে বিনিয়োগ আমেরিকানদের জন্য দ্রুত লাভের উপায় হয়, তবে ভারতীয় মালিকদের জন্য এগুলো ‘ট্রফি অ্যাসেট’, বলছেন সন্তোষ। উচ্চ মূল্য নির্ধারণ মূলত চাহিদা-সরবরাহের বৈষম্যের ফল। তিনি বলেন,
“এটা মর্যাদার বিষয়। আমি চাই এটা। এটা আমাকে সন্তুষ্টি দেয়। এগুলো এমন সম্পদ যা আপনার অহংকে তৃপ্ত করে। সবাই জানে, দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের সম্পদ সবসময় লাভজনক নয়। কিন্তু ধনীদের কাছে এগুলো থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও যোগ করেন,
‘আইপিএলে প্রবেশের সুযোগ ভারতীয় বিলিওনিয়ারদের জন্য সীমিত, কারণ মাত্র ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি আছে এবং তার অর্ধেকই এমন সংস্থার হাতে যা বিক্রি করার সম্ভাবনা কম। এতগুলো বিলিওনিয়ার একটি দল কিনতে আগ্রহী, কিন্তু মাত্র দুই-তিনটি দলই কেনার জন্য উন্মুক্ত। ফলে বাজারে এটির জন্য বড় ধরনের অতিরিক্ত মূল্য রয়েছে।’

অদ্ভুত বোলিং অ্যাকশনের কারণে আলোচনায় আসেন পাকিস্তানের স্পিনার উসমান তারিক। অনন্য বোলিং স্টাইলের কারণে নজর কেড়েছেন তিনি। এই স্পিনারের বোলিংয়ে রয়েছে নানান বৈচিত্র্য, কিন্তু তাঁর ডেলিভারির ধরণই সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয়। উসমান তাঁর সাইড-আর্ম অ্যাকশনে মাঝে হঠাৎ থামেন, তারপর বল ছাড়েন। এমন বোলিং অ্যাকশন ব্যাটারদের জন্য রীতিমতো গোলকধাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে।
অন্যরকম এই বোলিংয়ে বেশ সাফল্যও পাচ্ছেন উসমান তারিক। আর তাই তো অনেক স্পিনারই এটিকে নকল করার চেষ্টাও করছেন। এমনই একটি ঘটনা দেখা গেল শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ম্যাচে। উসমানের এই অ্যাকশনকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) দুইবার বৈধ হিসেবে অনুমোদন দিলেও পার পেলেন না শ্রীলঙ্কান ওই স্পিনার। কিন্তু আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত সবাইকে চমকে দিয়েছে।
ঘটনা শ্রীলঙ্কার ‘লাভার্স কোয়ারেল’ প্রতিযোগিতায়। যখন রিচমন্ড কলেজ ও মহিন্দা কলেজ একে অপরের বিপক্ষে খেলছিল। রিচমন্ডের হয়ে খেলা লেফট-আর্ম স্পিনার নেথুজা বাসিথা উসমান তারিকের স্টাইল অনুকরণ করার চেষ্টা করেছিলেন। বল ছাড়ার আগমুহূর্তে একমুহূর্ত থেমে যাওয়ার পর বল ছুঁড়লেন তিনি। তবে দুঃখের বিষয় আম্পায়ার সেটিকে ‘ডেড বল’ ঘোষণা করেন।
মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের ৪১.১ ধারা অনুযায়ী, কোনও বোলার যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাটারকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন, তখন আম্পায়ার ‘ডেড বল’ ঘোষণা করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বাসিথার বল করতে করতে থেমে যাওয়া, স্বাভাবিক বোলিং অ্যাকশনের অংশ নয় বলেই মনে করেছেন আম্পায়ার। এটাকে ইচ্ছাকৃত গণ্য করা হয়েছে। এখানেই তারিকের বোলিং অ্যাকশনের সঙ্গে পার্থক্য। পাক স্পিনারের বোলিং অ্যাকশনে এই থেমে যাওয়া একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত অংশ, তাই বৈধ বলে ধরা হয়।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের জন্য আতঙ্ক হয়ে উঠবে বলে আশা করা হয়েছিল, কিন্তু পাকিস্তান স্পিনার মূলত শান্তভাবেই টুর্নামেন্টটি পার করেছেন। দল সুপার এইটের পর সেমিফাইনালে যেতে না পারলেও তিনি ছয় ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন, ইকোনমি রেট ৭.২৩।
টুর্নামেন্ট চলাকালীন তারিক বলেন,
‘আমি আশা করিনি যে এতটা প্রশংসা পাবো, কিংবদন্তির কাছ থেকেও এবং আপনাদের (ধারাভাষ্যকর) কাছ থেকেও। প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি এবং আমার পারফরম্যান্স উপভোগ করছি।’
উসমান জানান, তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে টেনিস বল দিয়ে খেলার সময় থেকেই অনন্য এই বোলিং অ্যাকশন রপ্ত করেছিলেন তিনি, যা তার খেলার শুরু থেকেই ছিল এবং এখনও তাকে সাফল্য এনে দিচ্ছে,
‘হ্যাঁ, এই অ্যাকশনও শুরু থেকেই তৈরি করা হয়েছিল যখন আমি টেনিস বল দিয়ে বোলিং করতাম। যদি ধীর গতিতে আমার অ্যাকশন দেখেন, আপনি দেখবেন টাইমিং এখনও আছে, তবে আমি ধীরে ধীরে মুভ করছি। আমি শুধু বোলিং অ্যাকশনের ক্ষুদ্র ফ্র্যাকশনগুলো ভাঙার চেষ্টা করি। এভাবেই এটি আমার জন্য কাজ করছে।’

বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে সাকিব-তামিমের সঙ্গে শুরু করেছেন মুশফিকুর রহিম। নেতৃত্বগুনও তার ছিল দারুণ। বিকেএসপি থেকে বেড়ে ওঠা মুশফিকুর রহিমের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে সাকিব-তামিমের আগে। তবে ক্যারিয়ারজুড়ে সাকিব-তামিমের তারকাদ্যুতির কাছে ছিলেন না মুশফিকুর রহিম কোনো দিন। তবে সাকিব-তামিমের চেয়েও নিজের প্রোফাইলটা নিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিম ডাবলের সংখ্যার দিক থেকেও সবার উপরে (৩টি)।বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সবার আগে আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন মুশফিকুর রহিম।
মাত্র ১৭ বছর বয়সে টেস্ট ম্যাচের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে মুশফিকুর রহিম। ২১ বছর পেরিয়েও টেস্টে টিকে আছেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের মধ্যে সবার আগে টেস্ট ম্যাচের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন মুশফিকুর রহিম। প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে আরও বেশ কিছু মাইলস্টোনের সামনে দাঁড়িয়ে এই ক্রিকেটার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রানের মালিক ( ১৫৮০৫ রান) মুশফিকুর রহিমের সামনে এখন হাতছানি দিচ্ছে ১৬ হাজার রানের রানের মাইলফলক স্পর্শ করা। আর মাত্র ১৯৫ রান করলে মুশফিকুর রহিম এই মাইলস্টোনে পা রাখবেন।
আরও পড়ুন
| নিউ জিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার হ্যাটট্রিক |
|
টেস্টে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ৬ হাজার রান স্পর্শ করেছেন মুশফিকুর রহিম। সবার আগে টেস্টে ৭ হাজার রান পূর্ণ করার হাতছানিও দিচ্ছে মুশফিকুর রহিমের সামনে। টেস্টে আর ৪৯০ রান হলেই এই গর্বিত ল্যান্ডমার্কে পা রাখবেন মুশফিকুর রহিম।
গত নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের শততম টেস্টে সেঞ্চুরিতে ইতিহাস রচনার পর পরবর্তী টেস্টের জন্য মুশফিককে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ৬ মাস। আগামী মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ দিয়ে শুরু হবে মুশফিকুর রহিমের নুতন মিশন। তবে পরের টেস্ট সিরিজগুলোতে অপেক্ষার প্রহর বাড়ছে না। এ বছরে এখনও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে খেলতে হবে ৮টি টেস্ট। সেকারণেই টেস্টে অপরিহার্য মুশফিকুর রহিমের এই ল্যান্ডমার্কে পা দেয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
২১ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ইনজুরি খুব একটা ভোগায়নি মুশফিকুর রহিমকে। মিরপুরে ব্যাটিং রাজ মুশফিকুর রহিম ইতোমধ্যে ছাড়িয়ে গেছেন সবাইকে। ইতোমধ্যে তিন ফরম্যাট মিলে মোট প্রিয় ভেন্যুতে ১৫৬ ম্যাচে ৫১০৯ রানে আছেন সবার উপরে। ওডিআই, টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানিয়ে এখন শুধু টিকে আছেন টেস্টে। তারপরও ২ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের একটি যেহেতু মিরপুর বছরের পর বছর বরাদ্দ পেয়ে আসছে, তাই শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে মুশফিকুর রহিমের ল্যান্ডমার্কটা হতে যাচ্ছে আরও বড়। এই ভেন্যুতে ৬ হাজার রানে চোখ রেখেছেন মুশফিকুর রহিম।
আরও পড়ুন
| টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে নিউ জিল্যান্ড পেসারদের জয়জয়কার |
|
ওডিআই ক্রিকেটে আর মাত্র ২০৫ রান করতে পারলে তামিম ইকবালের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে ৮ হাজার রান পূর্ণ করতে পারতেন মুশফিকুর রহিম। তবে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে থেমেছেন মুশফিকুর রহিম। রাওয়ালপিণ্ডিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে ওডিআই ক্রিকেটকে গুডবাই জানিয়ে প্রিয় এই ফরম্যাটকে জানিয়েছেন বিদায়।
আক্ষেপ আছে তাঁর আরও। উইকেট কিপার কাম ব্যাটারের পরিচয় থেকে টেস্টে উইকেট কিপিং গ্লোভস খুলে ফেলতে হয়েছে নানামুখী পার্শ্বচাপে। এবং সেই চাপটা দিয়েছিলেন বিসিবির সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ২০১৭ সালে ভারতের হায়দারাবাদ টেস্ট চলাকালে সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাতকারে মুশফিকুর রহিমকে কিপিং গ্লোভস খুলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের পর সাদা জার্সি-লাল বলের ক্রিকেটে কিপিং গ্লোভস হাতে উঠেছে কদাচিৎ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫০০ ডিসমিসালের স্বপ্ন তার পূর্ণ হয়নি। ২৮টি ডিসমিসালের আক্ষেপ নিয়ে উইকেট কিপিং গ্লোভস খুলে ফেলতে হয়েছে মুশফিকুর রহিমকে।
আরও পড়ুন
| স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে লাল-সবুজের লড়াই |
|
৫০০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের মাইলস্টোন পূর্ণ করাও তার জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ৩৮ বছর ৩২০ দিন বয়সে দাঁড়িয়ে ক্রিকেট ক্যারিয়ারকে কতোটাইবা বড় করার কথা ভাবছেন। চল্লিশ বছর পেরিয়েও কী টিকে থাকতে পারবেন টেস্টে ? আন্তর্জাতিক ম্যাচের ৫০০ পূর্ণ করতে এখনও যে তার বাকি ২৪টি ম্যাচ। একাধিক ফরম্যাটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকলে হয়তবা প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ৫০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাইলস্টোন থাকতো না অপূর্ণ। তবে যেখানে বাংলাদেশ বছরে গড়পড়তা ৮টির বেশি টেস্ট খেলেনি অতীতে, সেই হিসেবে অবশিষ্ট ২৪টি ম্যাচ খেলতে মুশফিকুর রহিমকে অপেক্ষা করতে হবে আরও অন্তত ৩ বছর। সে পর্যন্ত নিজেকে ফিট রেখে সমালোচকদের মুখ থামিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে মুশফিকুর রহিমের টিকে থাকাটা ভবিষ্যতের উপর ছেড়ে দিতে হচ্ছে। ৫০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড আছে ১১ কিংবদন্তি ক্রিকেটারের। যে রেকর্ডে উইকেটবিপার-কাম ব্যাটারের সংখ্যা দুজন-সাঙ্গাকারা এবং ধোনি। মাত্র ১ ম্যাচের জন্য ৫০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচের এলিট লিস্টে নাম ওঠাতে পারেননি পাকিস্তান লিজেন্ডারি ইনজামাম উল হক। খুব কাছে যেয়ে থেমে যাওয়ার শঙ্কাও তাই দেখছেন মুশফিক ভক্তরা।

পরপর দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে আলো ছড়ালেন কনর এস্তেহেইজেন। তরুণ ব্যাটারের চমৎকার ব্যাটিংয়ে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর দারুণ গল্প লিখল দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ দুই ম্যাচ জিতে কিউইদের মাঠে টানা তিন সিরিজ জিতল প্রোটিয়ারা।
ক্রাইস্টচার্চের হাগলি ওভালে বুধবার সিরিজ নির্ধারণী পঞ্চম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৩৩ রানে জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আগে ব্যাট করে এস্তেহেইজেনের ঝড়ে ১৮৭ রানের পুঁজি পায় সফরকারীরা। জবাবে ৮ উইকেটে ১৫৪ রানের বেশি করতে পারেনি কিউইরা।
এই জয়ে পাঁচ ম্যাচ সিরিজটি ৩-২ ব্যবধানে জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা। অথচ প্রথম তিন ম্যাচের দুটি জিতে ভালো অবস্থানেই ছিল নিউ জিল্যান্ড। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে পরপর দুই ম্যাচ জিতে সিরিজটি নিজেদের করল প্রোটিয়ারা।
এ নিয়ে নিউ জিল্যান্ডের মাঠে খেলা তিন টি-টোয়েন্টি সিরিজের সবকটিই জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা। সব মিলিয়ে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা ছয় সিরিজে অপরাজিত তারা।
শেষ ম্যাচে ৫ চারের সঙ্গে ৬টি ছক্কা মেরে মাত্র ৩৩ বলে ৭৫ রানের ইনিংস খেলেছেন এস্তেহেইজেন। তার হাতেই উঠেছে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। একইসঙ্গে সব মিলিয়ে ২০০ রান করে সিরিজ সেরার পুরস্কারও জিতেছেন ২৪ বছর বয়সী ব্যাটার।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে এস্তেহেইজেনের ব্যাটেই বড় পুঁজি পায় প্রোটিয়ারা। একাদশ ওভারের প্রথম বলে দ্বিতীয় উইকেট পড়ার পর ক্রিজে যান তিনি। তখন স্কোরবোর্ডে মাত্র ৭৬ রান। সেখান থেকে শেষের ৫৯ বলে এস্তেহেইজেনের সৌজন্যেই ১০৮ রান করতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা।
আরও পড়ুন
| টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে নিউ জিল্যান্ড পেসারদের জয়জয়কার |
|
তাণ্ডব চালিয়ে মাত্র ২৫ বলে পাঁচ ম্যাচের ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ফিফটি করেন এস্তেহেইজেন। একই ছন্দে এগিয়ে পরের ৭ বলে নেন আরও ২৫ রান। ইনিংসের শেষ ওভারে বড় শটের খোজেই ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন তরুণ এই ব্যাটার।
দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন রুবিন হারমান (৩১ বলে)। এছাড়া ভিয়ান মুল্ডার ২৯ বলে খেলেন ৩১ রানের ইনিংস।
নিউ জিল্যান্ডের পক্ষে ৩৭ রানে ২ উইকেট নেন বেন সিয়ার্স।
বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় একবারের জন্যও তেমন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারেনি নিউ জিল্যান্ড। পাঁচ নম্বরে নেমে বেভন জ্যাকবস ২ চার ও ৩ ছক্কায় খেলেন ১৯ বলে ৩৬ রানের ইনিংস। আর কেউ ত্রিশ রানও করতে পারেননি।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ২টি করে উইকেট নেন জেরাল্ড কুটসিয়া, ভিয়ান মুল্ডার ও ওটনিল বার্টম্যান।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেল নিউ জিল্যান্ডের পেসাররা। আজ আইসিসির সবশেষ হালনাগাদকৃত টি-টোয়েন্টি বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ের বড় লাফ দিয়েছেন লকি ফার্গুসনসহ চার কিউই পেসার।
পাঁচ ম্যাচের সিরিজের প্রথম চার ম্যাচ শেষে দুই দলের বেশ কিছু ক্রিকেটার র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে গেছেন। অকল্যান্ডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে মাত্র ৯ রান খরচায় ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হওয়া ফার্গুসন ১২ ধাপ এগিয়ে ৩৯তম স্থানে উঠে এসেছেন।
নিউ জিল্যান্ডের পেসারদের মধ্যে বেন সিয়ার্স ২০ ধাপ এগিয়ে ৫৯তম, কাইল জেমিসন ৫ ধাপ এগিয়ে ৭৬তম এবং জ্যাক ফোকস ৮ ধাপ এগিয়ে ৮১তম স্থানে উঠে এসেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক কেশব মহারাজ ৫ ধাপ এগিয়ে ৪৭তম স্থানে রয়েছেন। প্রোটিয়া বোলারদের মধ্যে ওটনিল বার্টম্যান (৬৬তম) ও জেরাল্ড কোয়েটজি ৪৬ ধাপ এগিয়ে ৮৮তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন। অলরাউন্ডারদের তালিকায় দক্ষিণ আফ্রিকার জর্জ লিন্ডে এক ধাপ এগিয়ে ২২ নম্বরে উঠে এসেছেন।
ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব দুই ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছেন। ভারতের বাঁহাতি ওপেনার অভিষেক শর্মা শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন, দুই নম্বরে আছেন ঈশান কিশান।
চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ৩২ রানের ইনিংসের সুবাদে দুই ধাপ এগিয়ে ৩৪তম স্থানে উঠে এসেছেন কিউই ওপেনার টিম রবিনসন। সিরিজে না খেলায় টিম সেইফার্ট (এক ধাপ নেমে অষ্টম) ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের (দুই ধাপ পিছিয়ে দশম) র্যাঙ্কিংয়ে অবনতি হয়েছে।
টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডারদের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন জিম্বাবুয়ের তারকা সিকান্দার রাজা। বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে যথারীতি শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন রশিদ খান।