১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৩:১৬ পিএম

ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘ দিন রাজশাহী বিভাগের হয়ে খেললেও, সামনের জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞ ব্যাটারকে দেখা যাবে সিলেট দলে। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বগুড়াতেই খেলবে সিলেট। কিন্তু নিজের ঘরের মাঠে মুশফিকের গায়ে থাকবে অন্য দলের জার্সি।
জাতীয় দলের আরেক সাবেক অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ খেলবেন ঢাকা মেট্রোর হয়ে। এনসিএলের জন্য ৮ দলের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘোষণা করেছেন আয়োজকরা। সেখানেও জানানো হয়নি বরিশাল দলের অধিনায়কের নাম।
এর আগে গত রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন বার্তায় টুর্নামেন্টের ৭ দলের অধিনায়কের নাম ঘোষণা করে এনসিএল আয়োজকরা। তখনও বলা হয়নি বরিশাল অধিনায়কের নাম। চার দিন পরও অধিনায়ক ছাড়াই ঘোষণা করা হলো বরিশালের স্কোয়াড।
রাজশাহী ও বগুড়ায় আগামী রোববার মাঠে গড়াবে এনসিএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসর। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ক্রিকেটের প্লেয়ার্স ড্রাফটের আগে স্থানীয় ক্রিকেটের নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় সুযোগ এই টুর্নামেন্ট।
এনসিএল টি-টোয়েন্টির এই আসর দিয়ে প্রায় পাঁচ বছর পর স্বীকৃত ক্রিকেটে ফিরছেন অভিষেক দাস অরণ্য। ২০২০ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার ওই বছরই পড়েন চোটে। এরপর নানান প্রতিকূলতা পেরিয়ে আবার ফিরলেন ক্রিকেটে। খুলনার জার্সিতে দেখা যাবে তাকে।
তারুণ্যের সঙ্গে অভিজ্ঞতার মিশেলে গড়া হয়েছে সব দলের স্কোয়াড। মূল স্কোয়াডে ১৫ জনের বাইরেও স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রাখা হয়েছে আরও ৪ থেকে ৮ জন ক্রিকেটার। জাতীয় দলের সবারও জায়গা হয়েছে মূলত স্ট্যান্ডবাই তালিকাতেই।
লিটন কুমার দাস, তাসকিন আহমেদরা এনসিএল টি-টোয়েন্টি খেলতে পারবেন কিনা, সেটি মূলত নির্ভর করছে এশিয়া কাপের পারফরম্যান্সের ওপর। এশিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ১৬ সেপ্টেম্বর।
শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, হংকংয়ের গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ যদি সুপার ফোরে উঠতে পারে, তাহলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অন্তত ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকতে হবে তাদের। এরপর আবার আমিরাতের মাঠেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলার কথা লিটনদের।
তাই এশিয়া কাপের সুপার ফোরে উঠলে আর দেশে ফিরবেন না জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। একেবারে সিরিজ খেলে তবেই আগামী মাসের মাঝামাঝিতে ফিরবেন তারা। তবে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলে তখন দেশে ফিরে এনসিএলের কিছু ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়ার কথা তাদের।
রাজশাহীতে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে সকালের ম্যাচে স্বাগতিক দলের সঙ্গে খেলবে গতবারের রানার্স-আপ ঢাকা মেট্রো। খেলা শুরু সকাল সাড়ে ৯টায়। বগুড়ার মাঠে একই দিন দুপুর দেড়টায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুরের প্রতিপক্ষ সিলেট।
টুর্নামেন্টের প্রথম ৬ দিনের খেলা হবে রাজশাহী ও বগুড়ায়। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে সিলেট পর্ব। সেখানেই হবে আসরের বাকি সব ম্যাচ।
৮ দল ও ৩২ ম্যাচের টুর্নামেন্টের প্রথম পর্ব শেষ হবে ২৮ সেপ্টেম্বর। পয়েন্ট টেবিলের ৩ ও ৪ নম্বরে থাকা দলকে নিয়ে এলিমিনেটর ম্যাচ হবে ৩০ তারিখ দুপুর সাড়ে ১২টায়। একই দিন শীর্ষ দুই দল প্রথম কোয়ালিফায়ার খেলবে বিকেল ৫টায়।
পরে এলিমিনেটর ম্যাচের জয়ী দল ও প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচের পরাজিত দলের মধ্যে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচটি হবে ১ অক্টোবর বিকেল ৫টায়।
প্রায় তিন সপ্তাহের টুর্নামেন্টের পর্দা নামবে ৩ অক্টোবর। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি মাঠে গড়াবে বিকেল ৫টায়।
রংপুর স্কোয়াড:
অনিক সরকার সেতু, মিম মোসাদ্দেক, তানবীর হায়দার, আকবর আলি (অধিনায়ক), আব্দুল্লাহ আল মামুন, নাসির হোসেন, নাঈম ইসলাম, জাহিদ জাভেদ, মুশফিক হাসান, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, আব্দুল গাফফার সাকলাইন, আবু হাশিম, এনামুল হক আনাম, আলাউদ্দিন বাবু, রাফিউজ্জামান রাফি
স্ট্যান্ডবাই: লিওন ইসলাম, আরিফ রেজা, ইকবাল হোসেন, নজরুল ইসলাম মুন্না, রবিউল হক, লিটন কুমার দাস, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম
ঢাকা মেট্রো স্কোয়াড:
মোহাম্মদ নাঈম শেখ (অধিনায়ক), মাহফিজুল ইসলাম রবিন, আনিসুল ইসলাম ইমন, সাদমান ইসলাম, মার্শাল আইয়ুব, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, শামসুর রহমান শুভ, গাজী তাহজিবুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, রকিবুল হাসান, আরিফ আহমেদ, মাহমুদুল হাসান, আবু হায়দার রনি, মারুফ মৃধা, শহিদুল ইসলাম
স্ট্যান্ডবাই: আরাফাত সানি জুনিয়র, আল আমিন জুনিয়র, আইচ মোল্লা, সালাউদ্দিন সৌরভ, নুহায়েল সান্দিদ, তাসকিন আহমেদ
খুলনা স্কোয়াড:
সৌম্য সরকার, এনামুল হক বিজয়, ইমরানুজ্জামান, মোহাম্মদ মিঠুন (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন ধ্রুব, টিপু সুলতান, মেহেদী হাসান মিরাজ, জিয়াউর রহমান, নাহিদুল ইসলাম, শেখ পারভেজ জীবন, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, অভিষেক দাস অরণ্য, জায়েদ উল্লাহ, আব্দুল হালিম, ইয়াসিন মুন্তাসির
স্ট্যান্ডবাই: শাহরিয়ার সাকিব, মাসুম খান টুটুল, অমিত মজুমদার, রবিউল ইসলাম রবি, তানভীর হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, মুস্তাফিজুর রহমান, শেখ মেহেদি হাসান।
চট্টগ্রাম স্কোয়াড:
সাদিকুর রহমান, মাহমুদুল হাসান জয়, সৈকত আলী, মুমিনুল হক, শাহাদাত হোসেন দিপু, ইয়াসির আলি চৌধুরী (অধিনায়ক), ইরফান শুক্কুর, নাঈম হাসান, হাসান মুরাদ, আশরাফুল হাসান রোহান, হাসান মাহমুদ, আহমেদ শরিফ, মেহেদী হাসান রানা, ফাহাদ হোসেন, রুবেল।
স্ট্যান্ডবাই: জিল্লুর রহমান বিজয়, ইফরান হোসেন, শামীম মিয়া, মেহেদী হাসান, কফিল উদ্দিন।
রাজশাহী স্কোয়াড:
নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), হাবিবুর রহমান সোহান, সাব্বির হোসেন, সাব্বির রহমান, মেহরব হোসেন আহিন, প্রিতম কুমার, শাকির হোসেন শুভ্র, মো. গোলাম কিবরিয়া শাকিল, ওয়াসি সিদ্দিকী, তাইজুল ইসলাম, নিহাদুজ্জামান, মোহর শেখ অন্তর, আসাদুজ্জামান পায়েল, শফিকুল ইসলাম, নাহিদ রানা
স্ট্যান্ডবাই: রহিম আহমেদ, সুজন হাওলাদার, নাঈম ইসলাম, মিজানুর রহমান, সানজামুল ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, তাওহিদ হৃদয়।
ঢাকা স্কোয়াড:
রনি তালুকদার, জিসান আলম, আব্দুল মজিদ, আরিফুল ইসলাম, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (অধিনায়ক), শুভাগত হোম, তাইবুর পারভেজ, মাহফুজুর রহমান রাব্বি, রায়ান রাফসান রহমান, সুমন খান, রিপন মন্ডল, এনামুল হক, নাজমুল ইসলাম অপু, সালাউদ্দিন শাকিল
স্ট্যান্ডবাই: ফয়সাল আহমেদ রায়হান, আশিকুর রহমান শিবলি, মেহেদি হাসান সোহাগ, নিলয় মাহমুদ, তৌফিক আহমেদ, সাইফ হাসান
সিলেট স্কোয়াড:
জাকির হাসান (অধিনায়ক), মিজানুর রহমান সায়েম, অমিত হাসান, মুশফিকুর রহিম, আসাদুল্লাহ আল গালিব, তৌহিদুল ইসলাম ফেরদৌস, মুবিন আহমেদ দিশান, রাহাতুল ফেরদৌস জাভেদ, নাবিল সামাদ, নাঈম হোসেন সাকিব, আবু জায়েদ রাহি, শাহানুর রহমান, ইবাদত হোসেন চৌধুরি, রেজাউর রহমান রাজা, সৈয়দ খালেদ আহমেদ
স্ট্যান্ডবাই: তৌফিক খান তুষার, মাজহারুল ইসলাম মাজেদ, আশরাফুল হাসান রিহাদ, ওয়াসিফ আকবর, মহিউদ্দিন তারেক, তানজিম হাসান সাকিব, জাকের আলি অনিক, নাসুম আহমেদ
বরিশাল স্কোয়াড:
ইফতেখার হোসেন ইফতি, রাফসান আল মাহমুদ, জাহিদুজ্জামান সাগর, ফজলে মাহমুদ রাব্বি, সালমান হোসেন ইমন, মইন খান, শামসুল ইসলাম অনিক, সোহাগ গাজী, শেখ অন্ত, তানভির ইসলাম, ইয়াসিন আরাফাত মিশু, জেহাদুল হক জেহাদ, রুয়েল মিয়া, মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম, মেহেদি হাসান
স্ট্যান্ডবাই: সাইফুল ইসলাম মোহিন, ইসলামুল আহসান আবির, মোহাম্মদ মানিক, হাফিজুর রহমান
No posts available.
৬ এপ্রিল ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
৬ এপ্রিল ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৪ এম

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ। ব্র্যান্ড ভেল্যু, তারকা ক্রিকেটারদের উপস্থিতি এবং সম্প্রচারের দিক থেকে ভারতের ঘরোয়া এই লিগের ধারে কাছে নেই পিএসএল, এসএ টি-টোয়েন্টি ও লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভির বিশ্বাস, শিগগিরই আইপিএলকে ছাড়িয়ে যাবে পিএসএল।
সোমবার লাহোরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড অব গভর্নরসের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নকভি বলেন, বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহই পিএসএলের দ্রুত অগ্রগতির প্রমাণ। তার মতে, এই লিগ এখন বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে এবং খুব শিগগিরই বিশ্বসেরার কাতারে উঠে আসবে।
তিনি বলেন, “পিএসএল এখন বিনিয়োগের জন্য সেরা বাজার। খুব বেশি দেরি নেই, যখন এটি বিশ্বের এক নম্বর লিগ হবে।”
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপ জিতিয়ে মার্চের সেরার লড়াইয়ে ভারতের দুই তারকা |
|
লিগের সম্প্রসারণের পাশাপাশি বোর্ড ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনও অনুমোদন দিয়েছে, যা মাঠের বাইরেও স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়। ফ্র্যাঞ্চাইজি নিলামেও ছিল ব্যাপক সাড়া। ৬ দল থেকে বেড়ে ৮ দলে উন্নীত হয়েছে পিএসএল, নতুন করে যুক্ত হয়েছে সিয়ালকোট ও হায়দরাবাদ।
১.৮৫ বিলিয়ন রুপিতে সিয়ালকোট ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনেছে ওজেড ডেভেলপারস দলটির নাম দিয়েছে সিয়ালকোট স্ট্যালিয়নজ। এফকেএস গ্রুপ ১.৭৫ বিলিয়ন রুপিতে হায়দরাবাদ দল কিনে নাম রেখেছে হায়দরাবাদ কিংসমেন।
এত কিছুর পরও কিছু চ্যালেঞ্জ কিন্তু রয়ে গেছে। মাত্র দুই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পিএসএল। জ্বালানি সংকটের কারণে ম্যাচগুলো দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে হচ্ছে। অন্যদিকে আইপিএল একাধিক শহরে পূর্ণ গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে এর বিশাল দর্শক রয়েছে। ২০০৮ সালে শুরু হয় আইপিএল। আর ২০১৬ সালে শুরু হয় পিএসএল।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের টানতেও কিছুটা সমস্যায় পড়ে পিএসএল। অনেক সময় আইপিএলে সুযোগ না পাওয়া ক্রিকেটাররা পিএসএলে খেলেন। পরে আইপিএল দলগুলো তাদের বদলি হিসেবে দলে ভেড়ায়—মাঝ মৌসুমেই তাদের ছাড়তে হয় পিএসএল। আর্থিক দিক থেকেও আইপিএল অনেক এগিয়ে; অনেক ক্ষেত্রে আইপিএলের একজন ক্রিকেটারের চুক্তির খরচ পিএসএলে একটি দলের বাজেটের সমান।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের চাকরি ছেড়ে যাওয়ার আগে 'স্পিন বোলিং মেশিনের' গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছিলেন নিক পোথাস। তার বিদায়ের পর তাৎক্ষণিকভাবে না হলেও, অবশেষে সেই স্পিন বোলিং মেশিন এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যার নাম মার্লিন বাই বোলা।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সাদা বলের দুই সিরিজ শুরুর আগে চলমান অনুশীলন ক্যাম্পে সোমবার প্রথম এই স্পিন বোলিং মেশিন ব্যবহার করা হয়। যা দিয়ে নিজেদের পছন্দমতো অফ স্পিন, লেগ স্পিন বা স্ট্রেইট ডেলিভারির অনুশীলন করতে পেরেছেন ব্যাটাররা।
এর আগে শুধু এনালগ বোলিং মেশিনের ব্যবহার ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটে। যা দিয়ে গতি বাড়ানো বা কমানো ও বাউন্সের তারতম্যের অনুশীলন করা যেত। এখন নতুন করে মার্লিন বাই বোলা নিয়ে আসায় স্পিনের বিপক্ষেও নিজেদের ঝালাই করতে পারবেন ব্যাটাররা।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জাতীয় একাডেমি মাঠে সোমবার সকালেই যেমন সাইফ হাসান, জাকের আলি অনিকরা ব্যাটিং করেছেন এই মেশিনের সামনে। এটি দিয়ে চাইলে সময় ঠিক করে দিয়ে একসঙ্গে ৩০টি বলও খেলা যাবে।
আরও পড়ুন
| প্রধানমন্ত্রীর হাতে ট্রফি তুলে দিতে চান সাফজয়ী অধিনায়ক |
|
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই মেশিনের ব্যাপারে ধারণা দেন বোর্ডের ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস।
“এই বোলিং মেশিনের নাম মার্লিন বাই বোলা। এটা নিয়ে অনেকদিন ধরেই কথা হচ্ছিল। কিছুদিন আগেই অর্ডার করা হয়। মেশিনটা অনেক ভারী হওয়ায় ফ্লাইটের মাধ্যমে না এনে জাহাজের মাধ্যমে আনা হয়েছে।”
“এটা দিয়ে অফ স্পিন, লেগ স্পিন এবং আর্মার- তিন ধরনের বল খেলা যায়। বলের লেন্থ পরিবর্তন করা যায়, পেস বাড়ানো-কমানো যায়। ম্যানুয়ালি বা অটোমেটিক, দুই মোডেই চালানো যায়। অটোমেটিক মোডে একসঙ্গে ২৫-৩০টা বল খেলা যায়।”
জানা গেছে, মেশিনটি কিনতে বিসিবির খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড বা ১৬ লাখ টাকা।

ভারতকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতানোর পথে বড় অবদান রেখে এবার আরেকটি স্বীকৃতির সম্ভাবনা জাগিয়েছেন সাঞ্জু স্যামসন ও জাসপ্রিত বুমরাহ। মার্চ মাসের আইসিসি প্লেয়ার অব দা মান্থ পুরস্কারে মনোনীত হয়েছেন ভারতের এই দুই তারকা।
স্যামসন ও বুমরাহ ছাড়াও পুরুষ ক্যাটাগরিতে মাসসেরার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার উদীয়মান তারকা কনর এস্থেইজেন। আর নারী ক্রিকেটে মনোনয়ন পেয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের অ্যামিলিয়া কার, অস্ট্রেলিয়ার বেথ মুনি ও দক্ষিণ আফ্রিকা আয়াবোঙ্গা খাকা।
আরও পড়ুন
| বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে স্টেডিয়ামের বাইরে পাঠিয়ে মজা পেয়েছেন ডেভিড |
|
ঘরের মাঠে হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুরুর দিকে তেমন সুযোগ পাননি স্যামসন। তবে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে তিনিই হয়ে ওঠেন দলের বড় ভরসা। সব মিলিয়ে মার্চ মাসে খেলা তিন ম্যাচে ২৭৫ রান করেন স্যামসন। সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ৮৯ রানের ইনিংস।
ওই তিন ম্যাচে বল হাতে আলো ছড়ান বুমরাহ। ওভারপ্রতি মাত্র ৭ রান খরচ করে ১২ গড়ে ৭টি উইকেট নিয়েছিলেন ভারতের এই তারকা পেসার। শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১৫ রানে নেন ৪ উইকেট।
বিশ্বকাপের পরপর নিউ জিল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন এস্থেইজেন। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৫০ গড় ও ১৪৫.৯৮ স্ট্রাইক রেটে ২০০ রান করেছিলেন ২৪ বছর বয়সী ব্যাটার।
মার্চ মাসে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি' দুই সংস্করণেই দারুণ ছন্দে ছিলেন অ্যামিলিয়া কার। গত মাসে খেলা ৪ ওয়ানডে ১৭৬ রানের পাশাপাশি বল হাতে ১৮ উইকেট নেন হোয়াইট ফার্ন অধিনায়ক। এছাড়া ৬ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২৭৬ রানের সঙ্গে ৬ উইকেট নেন তিনি।
আরও পড়ুন
| কাঁথা-বালিশ নিয়ে ‘মাঠেই ঘুমাতে চান’ মুলতান অধিনায়ক |
|
মার্চে খেলা দুই ওয়ানডেতে ১৭১ রান করেন বেথ মুনি। এর মধ্যে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ১০৬ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেন ৬৫ রান। এছাড়া ৩ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১২৮.৯১ স্ট্রাইক রেটে তিনি করেন ১০৭ রান।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ৪ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার ছিলেন আয়াবোঙ্গা খাকা। পরে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ৫৬ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন অভিজ্ঞ পেসার।

চেন্নাই সুপার কিংসের বোলারদের তখন রীতিমতো কচুকাটা করছেন টিম ডেভিড। একের পর এক ছক্কা মারছেন অবলীলায়। এর মাঝেই জেমি ওভারটনের বলে একটি শট সোজা গেল স্টেডিয়ামের গ্যালারির ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে। সেই ছক্কাটি মেরেই মজা পেয়েছেন ডেভিড।
চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে রোববার রাতে ডেভিডের আগুনে ব্যাটিংয়ে পুড়েছে চেন্নাই। ১৫তম ওভারে ক্রিজে গিয়ে ৩ চারের সঙ্গে ৮টি বিশাল ছক্কা মেরে মাত্র ২৫ বলে ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ান এই মারকুটে ব্যাটার।
তার বিধ্বংসী ইনিংসে চলতি আইপিএলের সর্বোচ্চ ২৫০ রানের পুঁজি পায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। পরে ৪৩ রানে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে তারা। অসাধারণ এই ইনিংসে বেশ কিছু রেকর্ডও ৩০ বছর বয়সী মিডল-অর্ডার ব্যাটার।
ডেথ ওভার তথা শেষের চার ওভার থেকেই ৬৮ রান করেছেন ডেভিড। আইপিএলে শেষ চার ওভারে কোনো ব্যাটারের এটিই সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এছাড়া ১৫তম ওভারে ক্রিজে গিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে তার চেয়ে বেশি রান আছে শুধু ড্যানিয়েল স্যামসের, ২৪ বলে ৭১।
খুনে ব্যাটিংয়ের এই ইনিংসে ডেভিডের সবচেয়ে ভালো লেগেছে ১৯তম ওভারের চতুর্থ ও শেষ ছক্কাটি। জেমি ওভারটনের ওই ওভারে মোট ৩০ রান নেন ডেভিড। এর মধ্যে শেষ ছক্কাটির দূরত্ব ছিল ১০৬ মিটার। যা কিনা গ্যালারি পেরিয়ে চলে যায় মাঠের বাইরে।
বেঙ্গালুরুকে জিতিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পাওয়ার পর ওই ছক্কার কথা বলেন ডেভিড।
“(অনুশীলনে) আমরা ছাদের ওপরে বল পাঠানোর প্রতিযোগিতা করে থাকি। তখন অবশ্য এক প্রান্তের উইকেটগুলোতে খেলে থাকি আমরা। ম্যাচের সময় মাঝ উইকেট থেকে এরকম কিছু করতে পারা তাই সত্যিই সন্তুষ্টির।”
“জেমি (ওভারটন) তখন বেশ দ্রুতগতিতে বল করছিল। বল ছাদের ওপরে পাঠাতে এটাও সহায়তা করেছে। বেশ মজা পেয়েছি।”

রোববারের ম্যাচ শেষ করার ২০ ঘণ্টার মধ্যে নামতে হবে পরের খেলায়। কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সকে হারানোর পর এবার মুলতান সুলতান্সের সামনে রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ। ব্যস্ত এই সূচিতে তাই কিছুটা মজাই করে নিলেন মুলতান অধিনায়ক অ্যাশটন টার্নার।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে রোববার রাতের ম্যাচে কোয়েটার বিপক্ষে ৭ উইকেটে জিতেছে মুলতান। এই জয়ের পর কোনো ফুরসৎ নেই তাদের। সোমবার রাতেই পিন্ডিজের বিপক্ষে লড়তে হবে তাদের।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই ম্যাচ। পরদিন বিকেলে আবার মাঠে যেতে হবে, তাই মাঠ ছেড়ে যেন টিম হোটেলে যেতেই চান না টার্নার। বরং কাঁথা-বালিশ নিয়ে মাঠেই ঘুমিয়ে পড়া ভালো মনে করেন অস্ট্রেলিয়ান এই অধিনায়ক।
“দুই ম্যাচের মাঝে এত কম সময়। হয়তো আজ রাতে এখানেই কাঁথা-বালিশ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়তে হবে! তবে এটাই পেশাদার ক্রিকেটের বাস্তবতা। আমরা জানি, সূচি এমনই হয়।আমরা পরের ম্যাচে নতুন সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় আছি।”
কোয়েটার বিপক্ষে দাপুটে জয়ই পেয়েছে মুলতান। আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৬৬ রানের বেশি করতে পারেনি কোয়েটা। জবাবে সাহিবজাদা ফারহান, স্টিভেন স্মিথের ঝড়ে ১৫ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে যায় মুলতান।
দলের এমন পারফরম্যান্সে তৃপ্ত অধিনায়ক টার্নার।
“গত দুই ম্যাচের তুলনায় আজকের কন্ডিশন কিছুটা ভিন্ন ছিল। তবে আমরা এমন একটি পারফরম্যান্স খুঁজছিলাম যেখানে খেলার দুই দিকই একসঙ্গে ঠিকভাবে করতে পারি। আমার মনে হয়, আজ আমরা তিনটি বিভাগেই সেটা করতে পেরেছি-যা সত্যিই তৃপ্তিদায়ক।”
পাকিস্তান সুপার লিগে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচের তিনটি জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে মুলতান।