
তারকার হাট বসিয়েও বছরের পর বছর যার দেখা পায়নি, দায়িত্ব নিয়ে প্রথম মৌসুমেই পিএসজিকে সেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়েছেন লুইস এনরিকে। একটা তারকাহীন, তরুণ দল নিয়েই তিনি চমক দেখিয়ে করেছেন বাজিমাত। এর রহস্য কী? পিএসজি কোচ জানালেন, ইতিহাস গড়ার বাসনাই তাদের এই জায়গায় নিয়ে এসেছে।
ইন্তার মিলানের সাথে ফাইনালের আগেও অবশ্য ইতিহাস গড়ার কথা বলেছিলেন এনরিকে। কারণ, তিনি আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বাদ পেলেও পিএসজির জন্য তা এতদিন ছিল অধরাই। তবে যাদুর পরশে প্যারিসের ক্লাবটিকে বদলে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের সাথে রেকর্ড গড়েছেন ক্লাবের ইতিহাসে প্রথম ট্রেবল জয়ের মধ্য দিয়েও।
আরও পড়ুন
| আবেগময় ম্যাচে মেয়ের হয়েও শিরোপা জিতলেন এনরিকে |
|
ফাইনালে ৫-০ গোলে জয়ের পর উচ্ছ্বসিত এনরিকে মনে করেন, চাপের মুহূর্তে ভেঙে না পড়াই তার দলের মূল শক্তির জায়গা।
“আমি মনে করি মৌসুমের শুরু থেকেই ইতিহাস গড়াই ছিল আমাদের লক্ষ্য। তখন থেকেই আমি খেলোয়াড় আর সমর্থকদের সাথে একটা গভীর সম্পর্ক অনুভব করেছিলাম। এটা ছিল খুব মজবুত একটা সম্পর্ক, যা পুরো মৌসুমজুড়েই ছিল আমাদের চলার পথের শক্তি। আমরা রোমাঞ্চকর মুহূর্ত এবং চাপকে সবচেয়ে ভালোভাবে সামলাতে পেরেছি বলেই ধরা দিয়েছে এই সাফল্য।”
ফাইনালে ইতিহাস গড়েছেন এনরিকেও। পেপ গার্দিওলার পর মাত্র দ্বিতীয় কোচ হিসেবে দুটি ভিন্ন ভিন্ন ক্লাবের হয়ে ট্রেবল জেতার কীর্তি এখন তার। এর আগে তিনি ২০১৫ সালে বার্সেলোনার হয়ে। আর এবার দায়িত্ব নিয়েই উঠলেন নতুন উচ্চতায়।
তারকা ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমির কাছে এনরিকে তাদের সাফল্যের সবচেয়ে বড় কারিগর।
“আমরা খুবই আনন্দিত। আমরা সবাই মিলে একটা দারুণ পরিবার তৈরি করেছি। লুইস এনরিকে পিএসজিতে সবকিছু রাতারাতি বদলে দিয়েছেন। তিনি আসার পর থেকে আমাদের ফুটবল দেখার দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে গেছে। তিনি একজন বিশ্বস্ত মানুষ, এই সাফল্য তারই সবচেয়ে বেশি প্রাপ্য।”
No posts available.
৩ মার্চ ২০২৬, ৪:২১ পিএম
৩ মার্চ ২০২৬, ২:৫৮ পিএম
৩ মার্চ ২০২৬, ১:৩৭ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপের আর ১০০ দিন বাকি। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বসতে যাওয়া এই টুর্নামেন্ট ঘিরে উত্তেজনা ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। সময় যত এগোচ্ছে, ততই নজর পড়ছে বিশ্বের সেরা তারকাদের দিকে—কারা কেমন ছন্দে আছেন, কারা চোটে ভুগছেন, আবার কারা নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরছেন।
মেসি–রোনালদো: শেষ নাচের অপেক্ষা
৩৮ বছর বয়সী লিওনেল মেসি ও ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো এখনো থামার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছেন না। মেসি যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে নিয়মিত গোল–অ্যাসিস্ট করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে রোনালদো সৌদি আরবের আল-নাসরের জার্সিতে এখনো দলের প্রধান ভরসা।
আরও পড়ুন
| চীনের বিপক্ষে নেই স্বপ্না-তহুরা, অভিষেকের অপেক্ষায় সুইডেনপ্রবাসী আনিকা |
|
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন দেখছে। ১৯৬২ সালের পর আবারও শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি গড়তে চায় তারা। আর পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দলও প্রতিভায় ভরপুর। রোনালদোর বয়স নিয়ে আলোচনা থাকলেও গোল করার ক্ষমতায় এখনো ভাটা পড়েনি। ২০০৬ সালে জার্মানিতে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন দুজন। দুই দশক পরও তাঁদের দ্বৈরথ অটুট। সম্ভাবনা আছে, কোয়ার্টার ফাইনালে আবার দেখা হতে পারে দুই মহাতারকার।
এমবাপে–কেইন: গোলের বন্যা
কিলিয়ান এমবাপে এ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৩৩ ম্যাচে ৩৮ গোল করেছেন। যদিও চোট নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা আছে, তবু ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলর প্রধান ভরসা তিনিই। ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা এই ফরোয়ার্ড এবার বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই নামবেন।
অন্যদিকে হ্যারি কেইন যেন গোলের কারখানা। জার্মানির ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখর হয়ে ৩৭ ম্যাচে ৪৫ গোল করে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলর আক্রমণভাগে তাঁকে ঘিরেই পরিকল্পনা। ২০১৮ সালে গোল্ডেন বুট জেতা কেইন এবারও বড় কিছু করতে মুখিয়ে।
ইয়ামালের উত্থান, ডি ব্রুইনের অপেক্ষা
মাত্র ১৮ বছর বয়সেই নিজেকে বিশ্বসেরাদের কাতারে নিয়ে গেছেন লামিনে ইয়ামাল। বার্সেলোনার হয়ে দারুণ ফর্মে থাকা এই তরুণ ২০২৪ ইউরো জয়ের পর এবার বিশ্বমঞ্চেও নজর কাড়তে প্রস্তুত।
অন্যদিকে ৩৪ বছর বয়সী কেভিন ডি ব্রুইনে চোটে পড়ে কয়েক মাস মাঠের বাইরে। ইতালির ক্লাব নাপোলিতে মৌসুমের শুরুটা ভালো হলেও হ্যামস্ট্রিং চোটে থেমে যান। বেলজিয়াম জাতীয় ফুটবল দলর রূপান্তরের সময়ে তাঁর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
হালান্ড–সালাহ: ছন্দের খোঁজে
আরলিং হালান্ড প্রিমিয়ার লিগে ২২ গোল করলেও পুরো মৌসুমে ধারাবাহিক নন। ইংল্যান্ডের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে চোট সামলে খেলছেন তিনি। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে ওঠা নরওয়ে জাতীয় ফুটবল দলর বড় আশা এই স্ট্রাইকার।
আরও পড়ুন
| চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে বিরতিতে বাংলাদেশ |
|
মোহাম্মদ সালাহর সময়টা আরও কঠিন। ইংল্যান্ডের ক্লাব লিভারপুলর হয়ে এ মৌসুমে লিগে মাত্র চার গোল। গোলখরা চলছে টানা ১০ ম্যাচ। মিসর জাতীয় ফুটবল দল তাঁকে ঘিরেই পরিকল্পনা সাজাচ্ছে, তবে ছন্দে ফেরাটা জরুরি।
স্বাগতিকদের মিশ্র চিত্র
মেক্সিকোর আশা রাউল হিমেনেস। ইংল্যান্ডের ক্লাব ফুলহামর হয়ে ভালো খেলছেন তিনি। ভয়াবহ মাথার চোট কাটিয়ে ফেরার গল্পটি অনুপ্রেরণাদায়ক। মেক্সিকো জাতীয় ফুটবল দলর আক্রমণভাগে অভিজ্ঞতার ভার তাঁর কাঁধে।
যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক ইতালির ক্লাব এসি মিলানে নিয়মিত নন। তবে অনুকূল গ্রুপ পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দল আশাবাদী।
কানাডার সবচেয়ে বড় নাম আলফন্সো ডেভিস। কানাডা জাতীয় ফুটবল দলর এই ডিফেন্ডার আবারও চোটে ভুগছেন। জার্মানির ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখর এই লেফটব্যাক পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে পারলে স্বাগতিকদের শক্তি অনেক বেড়ে যাবে।
অপেক্ষা আর ১০০ দিনের
১০০ দিন পর শুরু হবে ফুটবলের মহাউৎসব। ফর্ম, চোট আর মানসিক প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে এখনই আঁচ করা যাচ্ছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে তারকাদের লড়াইয়ের আরেক মহারণ। কে জ্বলে উঠবেন, কে হতাশ করবেন—তার উত্তর মিলবে মাঠেই।

নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। প্রথমবারের মতো খেলেছে এশিয়ান কাপ ফুটবলে। নিজেদের ইতিহাসের উদ্বোধনী খেলায় বাংলাদেশ পেয়েছে এই প্রতিযোগিতার সবচেয়ে সফল দল চীনকে। তবে শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে মাথা উঁচু করে খেলেছে লাল সবুজের মেয়েরা। যদিও লড়াইয়ের পর হেরেছে পিটার বাটলারের দল।
সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপে চীনের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। দুটি গোলই হয়েছে প্রথমার্ধের শেষ দিকে। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি কোনো দল।
এশিয়ার বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে আজ ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। আক্রমণের গোলা সামলে সুযোগ বুঝে বাংলাদেশও উঠেছে প্রতিপক্ষের সীমানায়। শুরুতেই গোল পেতে পারতেন বাংলাদেশের পোস্টারগার্ল ঋতুপর্ণা চাকমা। নিজেদের সর্বোচ্চটা নিংড়ে দেওয়া বাংলাদেশের মেয়েরা প্রথমার্ধ দারুণ খেলে শেষ দিকের ভুলে গোল হজম করে। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে আরও চমৎকার ফুটবল উপহার দিয়েছেন মনিকা চাকমারা।
আরও পড়ুন
| চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে বিরতিতে বাংলাদেশ |
|
এদিন শুরুতেই মুহুর্মহু আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণে চিড় ধরানোর চেষ্টায় মেতে উঠে চীনের মেয়েরা। ৫ মিনিটের মধ্যে দুই-তিনবার গোলের সুযোগও পেয়ে যায় দলটি। কখনও শট লক্ষ্যে থাকেনি, কখনও ফাঁকা জায়গায় পেয়েও সময় মতো শট নিতে পারেনি তারা। বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা দারুণ ছিলেন এ সময়।
১২ মিনিটে মিলির দারুণ সেভে রক্ষা। বক্সে দুরূহ কোন থেকে জোরালো শট নেন চীনের ওয়াং শুয়াং। বাঁদিকে লাফিয়ে সেভ করেন মিলি। প্রতিপক্ষ মিডফিল্ডারের ফিরতি হেড বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে।
প্রতি আক্রমণে ১৪ মিনিটে ঋতপর্ণাকে গোলবঞ্চিত করেন চীনের গোলকিপার চেন চেন। কর্নার প্রতিহতের পর বাংলাদেশের অর্ধ থেকে ঋতুকে লক্ষ্য করে উড়ন্ত পাস দেন মারিয়া। চীনের ডিফেন্ডার উ হাইয়ানকে গতিতে পরাস্ত করে প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে সরাসরি গোলে শট নেন ঋতুপর্ণা। গোলকিপার টোকায় বল জালের ওপর দিয়ে কর্নার করে দেন।
১৭ মিনিটে গোল হতে হতে বেঁচে গেছে যায় বাংলাদেশ। বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়। তবে তাঁকে গোলে শট নিতে দেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। দারুণ ব্লক করেন তিনি। তিন মিনিট পর পা দিয়ে ঠেকিয়ে জাল অক্ষত রাখেন মিলি।
২৪ মিনিটে হেডে বাংলাদেশের জালে বল ঠেলে দেন ওয়াং শুয়াং। তবে ভিএআর-এ গেলে গোল বাতিল হয়ে অফসাইডের কারণে। পরের ১০ মিনিটে বাংলাদেশও ওপরে উঠে খেলেছে। সমানে সমান লড়াইয়ে এ সময় প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন ঋতুপর্ণা, শামসুন্নাহার জুনিয়ররা।
তবে প্রথমার্ধের শেষ কয়েক মিনিটে যেন খেই হারায় বাংলাদেশ। ৪৩ মিনিটে কোহাতি কিসকুর অবিশ্বাস্য ট্যাকলে গোলে শট নিতে পারেনি চীনের এক ফরোয়ার্ড। ৪৪ মিনিটে বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে টপ কর্নার দিয়ে বাংলাদেশের জাল কাঁপান ওয়াং শুয়াং। গোলকিপার মিলির কিছুই করার ছিল না।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ঝাং রুই। তাঁর নেওয়া রিবাউন্ড শট আফঈদা খন্দকারের পায়ে লেগে আশ্রয় নেয় জালে। ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন
| লাল সবুজের জার্সিতে সুইডেনপ্রবাসী আনিকার অভিষেক |
|
বিরতির পর উমেহ্লা ও শিউলির বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তহুরা খাতুন ও মোসাম্মৎ হালিমা খাতুন। ডিফেন্ডার নবিরনকে তুলে বদলি হিসেবে মিডফিল্ডে স্বপ্না রানীকে মাঠে নামান কোচ বাটলার। প্রথমার্ধের শেষ কয়েক মিনিটের ভুল শুধরে দ্বিতীয়ার্ধে আরও দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ। তিন পরিবর্তনের পর গোলের জন্য চেষ্টা চালায় লাল সবুজের মেয়েরা।
৫৯ মিনিটে আফঈদার ফ্রি কিকে বলে মাথা ছোয়ান শামসুন্নাহার জুনিয়র। তবে বল বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে। দুই মিনিট পর কর্নার থেকে বাংলাদেশের রক্ষণে ভীতি ছড়ায় চীন। ৬৬ মিনিটে ঝাই জংমাইয়ের নিচু শট লক্ষ্যে থাকেনি। ৬৮ মিনিটে মিলির অবিশ্বাস্য সেভ; বক্সের সামনে থেকে চীনা ডিফেন্ডার ঝান শেংঝুর শট লাফিয়ে টোকায় কর্নার করে দেন মিলি।
৭৪ মিনিটে শামসুন্নাহারের ক্রস কর্নার করে দেন চীনের এক ডিফেন্ডার। খানিক পর কয়েকজনকে কাটিয়ে স্বপ্নার নেওয়া শট একটুর জন্য লক্ষ্যে থাকেনি। পরের মিনিটে মারিয়ার নিচু শটও খুঁজে পায়নি জালের দেখা। এ সময়ে বাংলাদেশ মধ্যমাঠে প্রভাব বিস্তার করে খেলে।
৮৬ মিনিটে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলে অভিষেক হয় আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর। শামসুন্নাহার জুনিয়রের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। শেষ দিকে উল্লেখযোগ্য আর কিছু ঘটেনি। ২-০ গোলে পরাজয় মেনে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
‘বি’ গ্রুপের অপর খেলায় সকালে উজবেকিস্তানকে ৩-০ গোলে হারায় উত্তর কোরিয়া। বাংলাদেশের পরের ম্যাচ আগামী ৬ মার্চ, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে।

চীনের বিপক্ষে এশিয়ান কাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে লড়াই করছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ডিফেন্ডারদের ভুলে জোড়া গোল হজম করে বাংলাদেশ। যদিও শুরু থেকে দারুণ খেলেছে বাংলাদেশ। এদিন দ্বিতীয়ার্ধে আরও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে গোল পরিশোধের চেষ্টা চালায় পিটার বাটলারের দল।
এই ম্যাচে আগ্রহ ছিল সুইডেনপ্রবাসী ফুটবলার আনিকাকে দেখার। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে নির্ধারিত সময়ের খেলা ৪ মিনিট বাকি থাকতে। ৮৬ মিনিটে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলে অভিষেক হয় আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর। শামসুন্নাহার জুনিয়রের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। ৯ নম্বর জার্সি পড়ে নামবেন এটা জানাই ছিল। শেষ পর্যন্ত তাই হলো বাংলাদেশ দলে ৯ নম্বর জার্সি পেলেন এই উইঙ্গার।
এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপে আনিকা যখন মাঠে নামেন তখন হারের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। জোড়া গোলে পিছিয়ে থাকার পর তাকে মাঠে নামান কোচ বাটলার।

এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল খেলছে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম ম্যাচ। সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষ ৯বারের এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন। প্রতিযোগিতার সবচেয়ে সফল দলটিকে প্রথমার্ধে প্রায় আটকেই রেখেছিল বাংলাদেশ। তবে শেষ দিকে খেই হারিয়ে জোড়া গোল হজম করে বিরতিতে গেছে পিটার বাটলারের দল।
প্রতিযোগিতার সবচেয়ে সফল দলটির বিপক্ষে সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে আজ ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। আক্রমণের গোলা সামলে সুযোগ বুঝে বাংলাদেশও উঠেছে প্রতিপক্ষের সীমানায়। গোল পেতে পারতেন বাংলাদেশের পোস্টার গার্ল ঋতুপর্ণা চাকমা। নিজেদের সর্বোচ্চটা নিংড়ে দেওয়া বাংলাদেশের মেয়েরা প্রথমার্ধ দারুণ খেলেছে।
শুরুতেই মুহুর্মহু আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণে চিড় ধরানোর চেষ্টায় মেতে উঠে চীনের মেয়েরা। ৫ মিনিটের মধ্যে দুই-তিনবার গোলের সুযোগও পেয়ে যায় দলটি। কখনও শট লক্ষ্যে থাকেনি, কখনও ফাঁকা জায়গায় পেয়েও সময় মতো শট নিতে পারেনি তারা। বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা দারুণ ছিলেন এ সময়। বিশেষকরে নবিরন খাতুন, কোহাতি কিসকুরা।
আরও পড়ুন
| চীনের বিপক্ষে নেই স্বপ্না-তহুরা, অভিষেকের অপেক্ষায় সুইডেনপ্রবাসী আনিকা |
|
১২ মিনিটে মিলির দারুণ সেভে রক্ষা। বক্সে দুরুহ কোন থেকে জোরালো শট নেন চীনের ওয়াং শুয়াং। বাঁ দিকে লাফিয়ে সেভ করেন মিলি। প্রতিপক্ষ মিডফিল্ডারের ফিরতি হেড বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে।
প্রতি আক্রমণে ১৪ মিনিটে ঋতপর্ণাকে গোলবঞ্চিত করেন চীনের গোলকিপার চেন চেন। কর্নার প্রতিহতের পর বাংলাদেশের অর্ধ থেকে ঋতুকে লক্ষ্য করে উড়ন্ত পাস দেন মারিয়া। চীনের ডিফেন্ডার উ হাইয়ানকে গতিতে পরাস্ত করে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন ঋতু। এরপর প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে সরাসরি গোলে শট নেন তিনি। গোলকিপার টোকায় বল জালের ওপর দিয়ে কর্নার করে দেন।
১৭ মিনিটে গোল হতে হতে বেঁচে গেছে যায় বাংলাদেশ। বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়। তবে তাঁকে গোলে শট নিতে দেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। দারুণ ব্লক করেন তিনি। তিন মিনিট পর পা দিয়ে ঠেকিয়ে জাল অক্ষত রাখেন মিলি।
২৪ মিনিটে হেডে বাংলাদেশের জালে বল ঠেলে দেন ওয়াং শুয়াং। তবে ভিএআরএ গেলে গোল বাতিল হয়ে অফসাইডের কারণে। পরের ১৫-১৭ মিনিটে বাংলাদেশও ওপরে উঠে খেলেছে। সমানে সমান লড়াইয়ে এ সময় প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন ঋতুপর্ণা, শামসুন্নাহার জুনিয়ররা।
তবে প্রথমার্ধের শেষ কয়েক মিনিটে খেই হারায় বাংলাদেশ। ৪৩ মিনিটে কোহাতি কিসকুর অবিশ্বাস্য ট্যাকলে গোলে শট নিতে পারেনি চীন। ৪৪ মিনিটে বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে টপ কর্নার দিয়ে বাংলাদেশের জাল কাঁপান ওয়াং শুয়াং। গোলকিপার মিলির কিছুই করার ছিল না।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ঝাং রুই। তাঁর নেওয়া রিবাউন্ড শট আফঈদা খন্দকারের পায়ে লেগে আশ্রয় নেয় জালে।

এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দুপুর ২টায় চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এশিয়ার সেরা এই আসরে অভিষেক হবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের। শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে মূল একাদশে তিন পরিবর্তন এনেছেন বাংলাদেশ কোচ কোচ পিটার বাটলার।
সর্বশেষ আজারবাইজান ম্যাচের একাদশে ছিলেন তহুরা খাতুন, স্বপ্না রানী ও রুপনা চাকমা। আজ তাঁদের জায়গায় খেলছেন উমেহ্লা মারমা, কোহাতি কিসকু ও মিলি আক্তার।
বাংলাদেশের দুটি সাফজেতা দলের প্রথম গোলকিপার ছিলেন রুপনা। শিরোপা জয়ের অন্যতম নায়কও তিনি। দক্ষিণ এশিয়ার সেরা গোলকিপার আজ জায়গা পাচ্ছেন না চীনের বিপক্ষে। তাঁর বদলি হিসেবে গোলবারের সামনে দেখা যাবে মিলি আক্তারকে।
আরও পড়ুন
| গ্যালারিতে নাৎসি স্যালুট: টটেনহামকে জরিমানা |
|
এর আগে নভেম্বর-ডিসেম্বরে হওয়া ট্রাই-নেশনস সিরিজের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে একাদশে ছিলেন না তহুরা খাতুন। পরের ম্যাচ আজারাবাইজানের বিপক্ষে ফিরলেও আজ আবার জায়গা হারিয়েছেন। সেখানে তাঁর জায়গায় খেলছেন উমেহ্লা মারমা।
মিডফিল্ডে স্বপ্না রানী খেলেছেন সর্বশেষ আজারবাইজানের বিপক্ষে ম্যাচে। আজ তিনি বাদ পড়েছেন তিনি। বাংলাদেশ ৫জন ডিফেন্ডার নিয়ে মাঠে নামছে। যে কারণে কোহাতি কিসকুকে জায়গা ছেড়ে দিতে হয়েছে স্বপ্নাকে।
বাংলাদেশ দলে অভিষেকের অপেক্ষায় আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। সুইডেনপ্রবাসী এই মিডফিল্ডার মূল একাদশে জায়গা পাননি। তবে বদলি হিসেবে আজ তাঁর অভিষেক হয়ে যেতে পারে।
চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের একাদশ: শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু, মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দা, ঋতুপর্ণা চাকমা, শামসুন্নাহার জুনিয়র, নবিরন খাতুন, উমেহ্লা মারমা, মিলি আক্তার।