
পিএসজির দায়িত্ব নিয়ে শুনিয়েছিলেন শহর হিসেবে প্যারিসের প্রতি ভালোবাসা আর আবেগের কথা। যেখানে লুইস এনরিক স্মরণ করেন তার প্রয়াত কন্যা এক্সানার কথা, যিনি মাত্র ৯ বছর বয়সে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। মেয়ের জন্য তাই পিএসজিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতাতে চেয়েছিলেন স্প্যানিশ এই কোচ। শেষ পর্যন্ত প্রথম মৌসুমেই সেটা অর্জন করেছেন এনরিকে, যা তার পাশাপাশি পুরো মিউনিখের অ্যালিয়ান্জ অ্যারেনায় তৈরি করে অন্যরকম আক আবহ।
ঘটনাটির প্রেক্ষাপট জানতে ফিরে যেতে হবে ২০১৫ সালে। সেবার বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় এনরিকে তার মেয়ে এক্সানাকে নিয়ে মাঠে উদযাপন করেছিলেন। সেখানে এক পর্যায়ে এক্সানা মাঠে বার্সেলোনা পতাকা গেঁথে দেন, যা পরে হয়ে ওঠে ফুটবলের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত।
আরও পড়ুন
| আমাদের লক্ষ্য ছিল ইতিহাস গড়ার : এনরিকে |
|
কারণ, এর চার বছর পর ২০১৯ সালে ৯ বছর বয়সে এক্সানা হাড়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। কন্যার মৃত্যুর শোকে এনরিকে ছেড়ে দেন স্পেন জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব থেকে সরে আসেন।
বিরতি কাটিয়ে আবার কোচিংয়ে ফেরা এনরিকে এই মৌসুমে নেন পিএসজির দায়িত্ব। ইন্তার মিলানের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের আগে বলেন,
“আমার কাছে ২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে বার্লিনে তার (এক্সানা) অসাধারণ একটা ছবি আছে, যেখানে সে বার্সেলোনা পতাকা গেঁথে দিচ্ছে। আমি আশা করি পিএসজির হয়েও আমি সেই কাজটা করতে পারব। শারীরিকভাবে সে মাঠে না থাকলেও মিশে থাকবে আমার আত্মায়।”
কথা রাখেন এনরিকে। ফাইনালে ইন্তারকে ৫-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে পিএসজি। ম্যাচের পর এনরিকে তার প্রয়াত মেয়ের স্মরণে একটি বিশেষ টি-শার্ট পরেন, যেখানে ২০১৫ সালের এক্সানার সেই বার্সেলোনার পতাকা গেঁথে দেওয়ার ছবি ছিল।
পিএসজির সমর্থকরাও ধারণ করেন এক্সানাকে। স্টেডিয়ামের একটা অংশে তারা তুলে ধরে এনরিকে ও এক্সানার ২০১৫ সালের ফাইনালের সে ছবিটির বিশাল এক পোস্টার, যা সামাজিক যোগাযোগধ্যমে প্রশংসা কুড়াচ্ছে বেশ।
No posts available.

গ্রীষ্মকালীন দলবদলে মিডফিল্ডে শক্তি বাড়াতে অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির দিকে নজর দিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। গত বছর আক্রমণভাগ এবং গোলকিপার পজিশনে নজর দেওয়ার পর এবার মিডফিল্ড পুনর্গঠনকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাব।
ইউনাইটেডের সংক্ষিপ্ত তালিকায় নটিংহাম ফরেস্টের এলিয়ট অ্যান্ডারসন, ব্রাইটনের কার্লোস বালেবা এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের অ্যাডাম ওয়ার্টনের নাম নিয়মিত শোনা যাচ্ছে। ম্যাথিউস কুনিয়া এবং ব্রায়ান এমবিউমোর মতো প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড়রা এ মৌসুমে সফল হওয়ায় এই তিনজনের প্রতি ক্লাবের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।
ম্যান ইউনাইটেডের বড় সিদ্ধান্ত রিয়াল মাদ্রিদের ২৬ বছর বয়সী চুয়ামেনিকে নিয়ে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবে তার চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত এবং স্প্যানিশ ক্লাবটি তা আরও বাড়াতে আগ্রহী। তবে বার্নাব্যুতে কোনো ট্রফিহীন এই হতাশাজনক মৌসুম শেষ হওয়ার পর বড় কোনো পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আকর্ষণীয় প্রস্তাব পেলে রিয়াল তাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতে পারে। ২০২২ সালে মোনাকো ছাড়ার সময়ও চুয়ামেনিকে নিতে চেয়েছিল ইউনাইটেড। তখন রিয়ালকেই বেছে নিয়েছিলেন ফরাসি অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার।
চেলসির অপ্রত্যাশিত পতনে মাইকেল ক্যারিকের দল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিশ্চিত করার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। সোমবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ব্রেন্টফোর্ডকে হারাতে পারলে পরবর্তী চার ম্যাচ থেকে মাত্র একটি ইতিবাচক ফলাফল পেলেই দুই বছর পর ইউরোপসেরা টুর্নামেন্টে ফিরবে রেড ডেভিলরা।
চুয়েমেনির দলবদলের ব্যাপারটা কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। ক্যাসেমিরো এবং জেডন সানচোর মতো উচ্চ বেতনভোগী দুই খেলোয়াড়ের ক্লাব ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ইউনাইটেডের বেতন কাঠামোতে বড় জায়গা তৈরি হবে। পাশাপাশি ১৫ জুনের ডেডলাইনের আগে বার্সেলোনা ৩ কোটি ইউরোর বিনিময়ে মার্কাস রাশফোর্ডকে কেনার সুযোগ নেয় কি না, তার ওপরও ক্লাবের পরবর্তী পরিকল্পনা নির্ভর করছে।

চ্যাম্পিয়নশিপে হাল সিটির বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করায় লিগ ওয়ানে অবনমন নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত হামজা চৌধুরীর ক্লাব লেস্টার সিটির। ২৪ দলের চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে ৪৪ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে ২৩তম লেস্টার। তাদের হাতে আর দুই ম্যাচ। অবনমন অঞ্চল থেকে বাঁচতে ৭ পয়েন্টের দূরত্বে রয়েছে ক্লাবটি। বাকি দুই ম্যাচ জিতলেও লেস্টারের পক্ষে এই ব্যবধান কাটিয়ে ওঠা সম্ভব না।
লেস্টার সিটির অবনমন নিশ্চিত হওয়ার ভীষণ চাপে কোচ গ্যারি রোয়েট। সামাজিক মাধ্যম এবং মাঠেই তাকে অপসারণের ডাক ওঠে। রোয়েট অবশ্য নিজেও বেশ হতাশ। ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্টস ফুটবলে নিজের চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
রোয়েট বলেন,
‘এটি হতাশাজনক। আজকের ম্যাচটি আমাদের পুরো মৌসুমের পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। প্রথমার্ধে আমরা একটি ভয়াবহ ভুল করে বসি যা প্রতিপক্ষকে এগিয়ে দেয়। আমরা বারবার এমনটা করেছি। ম্যাচের গুরুত্ব বুঝে যে ধরণের তাড়ণা দেখানোর কথা ছিল, তা আমরা দেখাতে পারিনি। যদিও আমরা গোল করার মতো কিছু ভালো সুযোগ তৈরি করেছিলাম।’
দ্বিতীয়ার্ধ নিয়ে তিনি,
‘দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। গত ৫-৬টি ম্যাচে যদি আমরা এই তাড়ণা নিয়ে খেলতাম, তবে আজ আমাদের পয়েন্ট আরও বেশি হতো। আমাদের লড়াকু মানসিকতা দেখা গেছে, অনেক সুযোগও তৈরি হয়েছে, কিন্তু আমরা সেগুলো কাজে লাগাতে পারিনি।’
লেস্টারের অবনমন প্রসঙ্গে রোয়েট বলেন,
‘বড় পরিসরে দেখলে, একটি দল কেবল তিন-চারটি ম্যাচের কারণে অবনমন হয় না। বরং পুরো মৌসুমের ব্যর্থতাই এর কারণ। আমরা গোল করার প্রচুর সুযোগ নষ্ট করেছি ঠিকই, সেটা একমাত্র কারণ নয়। মৌসুমে আমরা মাত্র পাঁচটি ক্লিন শিট রাখতে পেরেছি, তাই দোষটা শুধু ফরোয়ার্ডদের নয়। আমরা আজকেও খুব বাজেভাবে গোল হজম করেছি।’
লেস্টারের এমন পরিস্থিতিতে রোয়েটের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ঢের। তিনি বলেন,
‘ম্যানেজার হিসেবে সম্ভবত এটাই আমার সবচেয়ে হতাশাজনক সময়। কারণ আমি বিশ্বাস করি আমাদের পারফরম্যান্স আরও বেশি পয়েন্ট পাওয়ার যোগ্য ছিল। কিন্তু সুযোগ নষ্ট করার মাশুল আমাদের দিতে হচ্ছে।’

আগামী ২৫ মে ভারতের গোয়ায় পর্দা উঠতে যাচ্ছে অষ্টম সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। গত আসরের মতো এবারও প্রতিবেশী দুই দেশ বাংলাদেশ ও ভারত একই গ্রুপে।
বুধবার ঢাকার সাফ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র। ড্র অনুযায়ী ‘এ’ গ্রুপে পড়েছে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে ভারত, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ। ছয় দেশের অংশগ্রহণে এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে না পাকিস্তান।

ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে অনুষ্ঠিত হয়েছে ড্র। র্যাঙ্কিংয়ে ভারত ও নেপাল শীর্ষ দুই অবস্থানে থাকায় তাদের রাখা হয়েছে দুটি আলাদা গ্রুপে। আর বাংলাদেশ রয়েছে তিন নম্বরে।
২০১০ সালে ঢাকায় প্রথম নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই থেকে ভারত টানা পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তাদের সাফল্যে ভাগ বসায় বাংলাদেশ। গত দুটি আসরের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের সামনে এবার হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের লড়াই।

লিওনেল মেসি হাসছেন। ইন্টার মিয়ামির অনুশীলনে রদ্রিগো দি পলের সঙ্গে তাঁর সেই চিরচেনা হাসিমুখের ছবিই বলে দিচ্ছে, আর্জেন্টাইন জাদুকর ফুটবলকে কতটা উপভোগ করছেন। কোটি কোটি ভক্তের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—আগামী বিশ্বকাপে কি দেখা যাবে ফুটবলের এই মহাতারকাকে? সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষার মাঝেই কাল সকালে এমএলএসে রিয়াল সল্ট লেকের মুখোমুখি হচ্ছে ইন্টার মিয়ামি।
বিশ্বকাপের আগে মেসির সামনে এখন সাতটি ম্যাচ। প্রতিটি ম্যাচই এখন তাঁর জন্য প্রস্তুতির মঞ্চ। যদিও মেসি এখনো জনসমক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি, তবে ফুটবল বিশ্ব একরকম নিশ্চিত যে কাতার জয়ের পর এবার মুকুট রক্ষার মিশনেও নেতৃত্ব দেবেন এই খুদে জাদুকরই।
স্বাভাবিকভাবেই মেসি মাঠে নামা মানেই নতুন কোনো রেকর্ডের হাতছানি। এরই মধ্যে এমএলএসে ৬০ ম্যাচে ৯৪ গোলে অবদান (গোল ও অ্যাসিস্ট) মেসির। আর ৬টি গোল বা অ্যাসিস্ট করলেই সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করবেন।
বর্তমানে এমএলএসে দ্রুততম ১০০ গোল কন্ট্রিবিউশনের রেকর্ডটি সেবাস্টিয়ান জিওভিনকোর (৯৫ ম্যাচ)। মেসি যদি তাঁর বর্তমান ছন্দ ধরে রাখেন, তবে তিনি জিওভিনকোর চেয়ে প্রায় ৩০ ম্যাচ কম খেলেই এই রেকর্ড নিজের করে নিতে পারেন। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখার পর থেকে মেসি কেবল মিয়ামির খেলার মানই বাড়াননি, বরং লিগের পরিসংখ্যানের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছেন।
কোচ গুইলার্মো হোয়োসের অধীনে মিয়ামি এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। লুইস সুয়ারেজ ও দি পলের সঙ্গে মেসির রসায়ন মিয়ামিকে লিগের অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত করেছে। ফুটবল প্রেমীদের নজর এখন রিয়াল সল্ট লেকের ম্যাচে দিকে—মেসি কি রেকর্ডের আরও কাছে পৌঁছে যাবেন?
বিশ্বকাপ বিরতির আগে মেসির সামনে থাকা ম্যাচগুলো হলো:
২২ এপ্রিল: রিয়াল সল্ট লেক (অ্যাওয়ে)
২৫ এপ্রিল: নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশন (হোম)
২ মে: অরল্যান্ডো সিটি (হোম)
৯ মে: টরন্টো (অ্যাওয়ে)
১৩ মে: সিনসিনাটি (অ্যাওয়ে)
১৭ মে: পোর্টল্যান্ড টিম্বার্স (হোম)
২৪ মে: ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন (হোম)

ইউরোপীয় ফুটবলের মৌসুম শেষের বাঁশি বাজতে আর দেরি নেই। শিরোপা লড়াইয়ের পাশাপাশি এখন সবার নজর চ্যাম্পিয়নস লিগের টিকিটের দিকে। ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে জায়গা পাওয়ার এই চূড়ান্ত লড়াই এখন এক রোমাঞ্চকর মোড়ে দাঁড়িয়ে।
লিগ টেবিলের শীর্ষ চারে কিংবা পাঁচে থেকে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসরে নাম লেখাতে মরিয়া হয়ে লড়ছে ক্লাবগুলো। একদিকে বড় দলগুলোর সম্মান বাঁচানোর লড়াই, অন্যদিকে মাঝারি সারির ক্লাবগুলোর ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন—সব মিলিয়ে মাঠের প্রতিটি সেকেন্ডই এখন অমূল্য। পয়েন্ট তালিকার সামান্য হেরফের বদলে দিতে পারে পুরো মৌসুমের পরিশ্রমের ফল। কার হাতে উঠবে সেই কাঙ্ক্ষিত টিকিট আর কারা ছিটকে যাবে ইউরোপের এই রাজকীয় আসর থেকে, সেই প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে আর কদিন পরই। দেখে নেওয়া যাক ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের হাল-চাল।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
ইউরোপের সবচেয়ে জনপ্রিয় লিগের শেষ অংশে শিরোপার লড়াইটা জমিয়ে তুলেছে ম্যানচেস্টার সিটির প্রত্যাবর্তন আর আর্সেনালের একের পর এক হোঁচট। ৩৩ ম্যাচ শেষে আর্সেনালের পয়েন্ট ৭০। এক ম্যাচ কম খেলে ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে এরপরই অবস্থার করছে সিটিজেরা। দুই নিজদের বাকি সব ম্যাচে জয় পেলে লিগ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ হবে গোল ব্যবধানে। এখানেও দুই দলের অবস্থান একই থাকলে দেখা হবে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকা দল। আর এখানেই এগিয়ে পেপ গার্দিওলার ম্যান সিটি।
আরও পড়ুন
| ভিনিকে আমার ওপর ছেড়ে দিন—কিসের ইঙ্গিত রিয়াল সভাপতির |
|
শিরোপার লড়াই জমে উঠলেও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে নেই তেমন কোনো রোমাঞ্চ। এই লিগ থেকে এবার পাঁচটি দল অংশ নিবে আগামী মৌসুমের ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতায়। পয়েন্ট টেবিলের তিন ও চারে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি ও অ্যাস্টন ভিলার পয়েন্ট সমান ৫৮। ৩ পয়েন্ট কম নিয়ে পাঁচে লিভারপুল।
প্রিমিয়ার লিগের আসল লড়াইটা এরপরই। পয়েন্ট টেবিলে ছয় থেকে ১৪ নম্বরে থাকা দুই দলের পয়েন্ট ব্যবধান মাত্র ৮। সাত নম্বরে থাকা ব্রাইটনের পয়েন্ট ৫০। সাত, আট ও নয় নম্বরের দল চেলসি, ব্রেন্টফোর্ড ও বোর্নমাউথের পয়েন্ট সমান ৪৮।
এরমধ্যে অবনমন নিশ্চিত হয়েছে উলভারহ্যাম্পটনের। চ্যাম্পিয়নশিপে নেমে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে আছে বার্নলি। ৩৩ ম্যাচে পয়েন্ট নিয়ে ১৮ নম্বরে থাকা টটেনহ্যামের জন্য বাকি পাঁচ ম্যাচই এখন বাঁচামরার।
লা লিগা
স্প্যানিশ লা লিগা এবার বড্ড ম্যাড়ম্যাড়ে। বার্সেলোনার দাপটে শিরোপার লড়াই এখন প্রায় একপেশে , শীর্ষ চারে থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা দলও প্রায় চূড়ান্ত। ৩১ ম্যাচে ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে রাজত্ব বার্সেলোনার। এক ম্যাচ বেশি খেলা কাতালান ক্লাবের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ ৬ পয়েন্ট কম নিয়ে দুই নম্বরে আছে।
বার্সা-রিয়াল ছাড়া শীর্ষ চারে থাকা অন্য দুই দল ভিয়ারিয়াল ও আতলেতিকো মাদ্রিদ। ৩১ ম্যাচে ৬১ পয়েন্ট ভিয়ারিয়ালের। সমান ম্যাচে ৫৭ দিয়েগো সিমিওনের দলের। পাঁচ নম্বরের দল রিয়াল বেতিসের সংগ্রহ ৪৯ পয়েন্ট।
সিরি‘আ’
২০২৫-২৬ মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে সবচেয়ে জমজমটা লড়াই দেখা যাচ্ছে ইতালির সিরি‘আতে। তবে সেটা শিরোপার দৌড়ে নয়, পয়েন্ট টেবিলে দুই নম্বরে অবস্থান করা এসি মিলানের চেয়ে ১২ পয়েন্ট এগিয়ে থাকা ইন্টার মিলানের লিগ শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে পরের ম্যাচেই।
ইদুঁর-বিড়াল দৌড় শুরু এরপরই। দুই ও তিন নম্বরের দল এসি মিলান ও নাপোলির পয়েন্ট সমান ৬৬। ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে জুভেন্টাস। ৩৩ ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট কম নিয়ে ৫৮ কোমোর। ইউরোপা লিগের এই স্পট নিয়ে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বি সমান পয়েন্ট সংগ্রহ করা রোমা।
বুন্দেসলিগা
বুন্দেসলিগায় চার ম্যাচ হাতে রেখেই চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ। চ্যাম্পিয়নস লিগের বাকি তিন স্পটের মধ্যে দুই ও তিন নম্বরে থাকা বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও আরবি লিপজিগের টিকিট প্রায় নিশ্চিত—৩০ রাউন্ড শেষে ডর্টমুন্ডের ৬৪ আর লিপজিগের ৫৯। পয়েন্ট টেবিলে চার নম্বরে অবস্থান করা স্টুটগার্ড পা হড়কালেই বিপদ। তাদের সংগ্রহ ৫৬, সমান ম্যাচে হফেইনহেইমের ৫৪, বায়ার লেভারকুজেনের অর্জন ৫২ পয়েন্ট।
লিগ আঁ
সবশেষ মৌসুমে ৬ ম্যাচ বাকি রেখেই লিগ শিরোপা নিশ্চিত করেছিল পিএসজি। তবে এই মৌসুমে ট্রফি অক্ষুন্ন রাখতে কঠিন পরীক্ষা দিতে হচ্ছে লুইস এনরিকের দলকে। ২৮ ম্যাচ শেষে পিএসজির পয়েন্ট ৬৩। তাদের থেকে এক ম্যাচ বেশি খেলে এক পয়েন্ট কম লাঁসের।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপ স্বপ্ন ও চোটের দুঃস্বপ্ন, মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে কঠিন মনের যুদ্ধ |
|
ফরাসি লিগটি থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলবে তিনটি দল। এক ও দুইয়ে থাকা পিএসজি ও লাঁসের জায়গা অনেকটা নিশ্চিত হলেও তিন নম্বর পজিশন নিয়েই দেখা যেতে পারে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তিনে থাকা লিঁওর সঙ্গে পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বরের দল লিলের পয়েন্ট ও গোল ব্যবধান দুটোই সমান। তবে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকায় লিলের ওপরে আছে লিঁও।
এখানেই শেষ নয়, লিগ আঁ’ তে পয়েন্ট টেবিলে পাঁচ, ছয় ও সাত নম্বরের দলগুলোর মধ্যে পয়েন্টের পার্থক্য কেবল ৩। ৩০ ম্যাচে রেনের পয়েন্ট ৫৩, মার্শেইয়ের পয়েন্ট ৫২ আর মোনাকোর পয়েন্ট ৫০। তাতে লিগে বাকি থাকা আর চার রাউন্ডের এক একটি ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে পুরো দৃশ্যপট।