৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১১ এম

প্রথমে নিজে গোল করলেন, এরপর আরেকজনের গোলে সহায়তা করলেন; এমনই চেনা ছন্দে মাঠে পাওয়া গেল লিওনেল মেসিকে। তবে প্রাক-মৌসুম ম্যাচের শেষ দিকে লাল কার্ড আর গোল হজমে জয় হাতছাড়া হয় ইন্টার মায়ামির।
আজ ভোরে প্রস্তুতি ম্যাচে ইকুয়েডরের ক্লাব বার্সেলোনা এসসির সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে ইন্টার মায়ামি। দলের হয়ে একটি গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে সহায়তা করেন মেসি। অন্য গোলটি করেন নতুন যোগ দেওয়া গেরমান বেরতেরামে।
এস্তাদিও মনুমেন্টালে ম্যাচের ৩১ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। মাঝমাঠ থেকে একাই বল নিয়ে উপরে উঠেন তিনি। এরপর বক্সের সামনে প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে জাল কাঁপান আর্জেন্টাইন তারকা। চলতি বছরে এটি তাঁর প্রথম গোল।
আরও পড়ুন
| ঘরের মাঠে অপ্রতিরোধ্য বার্সেলোনা |
|
৪১ মিনিটে জোয়াও রোহাসের গোলে সমতা ফেরায় স্বাগতিক বার্সেলোনা। তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আবার এগিয়ে যায় মায়ামি। ডান প্রান্ত থেকে মেসির নিখুঁত ক্রসে সহজেই গোল করেন বেরতেরামে।
দ্বিতীয়ার্ধে এক ঘণ্টা পার হওয়ার পর মেসিকে তুলে নেন কোচ হাভিয়ের ম্যাচেরানো। ম্যাচ তখনও নিয়ন্ত্রণে ছিল সফরকারীদের।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে ছন্দপতন। ৮৭ মিনিটে বদলি নামা ডেভিড আয়ালা লাল কার্ড দেখলে দশ জনের দলে পরিণত হয় মায়ামি। সেই সুযোগে কয়েক মিনিটের মধ্যেই কাছ থেকে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান টমাস মার্তিনেজ। শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইন্টার মায়ামি। দক্ষিণ আমেরিকায় প্রাক-মৌসুম সফরে খেলা ৩টি ম্যাচের মধ্যে মায়ামির দ্বিতীয় ড্র এটি।
২২ ফেব্রুয়ারি লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ মেজর লিগ সকার (এমএলএস) অভিযান শুরু করবে ইন্টার মায়ামি। তার আগে আগামী শনিবার ভোরে ইন্ডিপেনদিয়েন্তে দেল ভালের বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে মেসির ক্লাব।
No posts available.

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে স্থগিত হওয়া এশিয়ান কাপের ড্রয়ের নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। বুধবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ৯ মে রিয়াদের দিরিয়ার ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত ঐতিহাসিক আত-তুরাইফ ডিস্ট্রিক্টে হবে ড্র অনুষ্ঠান।
এর আগে ড্রয়ের নির্ধারিত তারিখ ছিল ১১ এপ্রিল। কিন্তু ওই অঞ্চলের নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এএফসি ড্র স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অবশেষে বুধবারের বিবৃতিতে নতুন তারিখ নিশ্চিত করা হলো।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে অঞ্চলের বেশ কিছু ক্রীড়া ইভেন্ট স্থগিত বা বাতিল করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পর নতুন তারিখ ঘোষণা করল এএফসি।
২৪ দলের এই টুর্নামেন্ট প্রথমবারের মতো এককভাবে আয়োজন করবে সৌদি আরব। ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই ফুটবল উৎসব। ইতোমধ্যে ২৪টি দলের মধ্যে ২৩টি দল চূড়ান্ত হয়ে গেছে।
২৪তম দলের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আগামী ৪ জুন। সেদিন প্লে-অফ ম্যাচে মুখোমুখি হবে লেবানন ও ইয়েমেন। ড্র অনুষ্ঠানে এই কোয়ালিফায়ারসহ মোট ২৪টি দলকে ৬টি গ্রুপে বিভক্ত করা হবে।

চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে ২-১ ব্যবধানে জিতলেও অগ্রগামিতায় আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরেছে বার্সেলোনা। দিয়েগো সিমিওনের দলের বিপক্ষে অনাকাঙ্ক্ষিত হার কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না কাতালানরা। ক্লাবের নব নির্বাচিত সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা আঙুল তুলেছেন ম্যাচ অফিসিয়ালদের ওপর।
আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালের দুই লেগেই ১০ জন নিয়ে ম্যাচ শেষ করতে হয় বার্সেলোনাকে। প্রথম লেগে পাউ কুবার্সি দেখেন লাল কার্ড। দ্বিতীয় লেগে এরিক গার্সিয়া। দুজনই ফাইনাল ফিনিশিংয়ের আগে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ফাউল করার অপরাধে লাল কার্ড দেখেন।
ক্যাম্প ন্যুতে ২-০ গোলে পিছিয়ে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে যায় বার্সেলোনা। দ্বিতীয় লেগে শুরুর চতুর্থ মিনিটে লিড আদায় করেন লামিন ইয়ামাল। এরপর ফেরান তোরেস লিড দ্বিগুণ করেন। কিন্তু আদেমালো লুকমান একটি গোল শোধ করলে সব শেষ হয়ে যায় সফরকারীদের। যদিও বার্সা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা কম করেনি। ১৫টি শট নিয়ে আতলেতিকোর পোস্টে ৮টি শট রাখতে পারে ক্লাবটি।
ফিরতি লেগে হুয়ান মুসোর বুটের আঘাতে ফারমিন লোপেজের রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনা কিংবা বার্সেলোনার দ্বিতীয় গোলের পর ফেরান তোরেসের গোল ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডে বাতিল হয়ে যাওয়া। পাশাপাশি প্রতিপক্ষের ধাক্কায় দানি ওলমো বক্সে পড়ে যাওয়ার পর বার্সেলোনা পেনাল্টির আবেদন। সব মিলিয়ে রেফারির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন লাপোর্তা।
বার্সা প্রেসিডেন্ট বলেন,
“রেফারি ও ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) উভয়ের সিদ্ধান্ত ছিল খুবই বাজে। তারা আমাদের সঙ্গে যা করেছে, তা অসহনীয়। প্রথম লেগে তারা আমাদের একটি স্পষ্ট পেনাল্টি দেয়নি এবং আমাদের একজন খেলোয়াড়কে (পাউ কুবার্সি) মাঠ থেকে বের করে দিয়েছিল, যেটায় শুধু হলুদ কার্ড হতে পারত। জুলিয়ানোর (সিমেওনে) বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছিল না, রেফারি প্রথমে সঠিক বাঁশিই বাজিয়েছিল, কিন্তু ভিএআর তাকে সিদ্ধান্ত পাল্টে লাল কার্ড দেখাতে বাধ্য করে, যা আমাদের জন্য ছিল খুবই বেদনাদায়ক।”
প্রথম লেগের পর ফিরতি লেগেও একই ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঘটায় মেজাজটা একটু বেশিই খারাপ লাপোর্তার,
“এটা এমন এক ম্যাচ ছিল যেখানে রেফারির সিদ্ধান্তগুলো আমাদের অনেক ভুগিয়েছিল। দ্বিতীয় লেগেও একই ঘটনা ঘটেছে। তারা আমাদের একজন খেলোয়াড়কে (এরিক গার্সিয়া) মাঠ থেকে বের করে দেয়, অথচ (জুলস) কুন্দে সহজেই বলটা ধরতে পারত, তাই সেখানে এরিক শেষ ডিফেন্ডার ছিল না। রেফারি হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন, যা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল, কিন্তু ভিএআর তাকে সিদ্ধান্তটি পাল্টে দিতে বাধ্য করে, যা আরেকটি ভুল সিদ্ধান্ত।”
প্রথম লেগের পরই রেফারিং নিয়ে উয়েফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানায় বার্সেলোনা। কিন্তু তাদের সেই অভিযোগকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে খারিজ করে দেয় ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা। এবার উয়েফার ওই সিদ্ধান্তকেই ‘অগ্রহণযোগ্য’ বললেন লাপোর্তা।
তিনি বলেন,
“আমরা একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলাম এবং জবাবে উয়েফা জানিয়েছে যে, সেটা অগ্রহণযোগ্য। এখন আমরা জানতে চাইছি, কেন সেই অভিযোগটি অগ্রহণযোগ্য। আমরা আরও একটি অভিযোগ দায়ের করব, কারণ গতকাল আমাদের সঙ্গে আবার যা হয়েছে, তা অগ্রহণযোগ্য। এই সিদ্ধান্তগুলো স্পষ্টতই আমাদের ক্ষতি করেছে।”

শঙ্কাই সত্যি হল— বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন হুগো একিতিকে। মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে গুরুতর চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড। ফুটবল বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিনের প্রতিবেদন, ‘অ্যাকিলিস টেন্ডন’ (গোড়ালির চোট) ছিঁড়ে যাওয়ায় অন্তত ৯ মাসের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাঁকে।
একিতিকের চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার রাতে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) কাছে ২-০ গোলে হেরে (দুই লেগে ৪-০) বিদায় নিয়েছে লিভারপুল। ম্যাচের ২৭ মিনিটে পা হড়কে ডান পায়ের গোড়ালিতে চোট পান একিতিকে। চোটের গুরুত্ব বুঝে চিকিৎসকরা দ্রুত স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যান ফরাসি ফরোয়ার্ডকে।
ম্যাচের পরই একিতিকের চোট নিয়ে লিভারপুল কোচ আর্নে স্লটের কণ্ঠে ছিল দুশ্চিন্তার ছাপ, ‘পরিস্থিতি ভালো মনে হচ্ছে না। বেশ গুরুতর চোট বলেই মনে হচ্ছে, তবে ঠিক কতটা তা এখনই বলা কঠিন। আগামীকাল (আজ) আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিস্তারিত জানব।’ লিভারপুল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে একিতিকের অস্ত্রোপচার ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা শুরু করেছে।
চলতি মৌসুমে লিভারপুলের অন্যতম সেরা পারফর্মার ছিলেন একিতিকে। ২৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ক্লাব ও দেশের হয়ে এরমধ্যেই ১৯টি গোল করেছেন। গত মাসে ব্রাজিলের বিপক্ষে ফ্রান্সের ২-১ ব্যবধানের জয়েও তাঁর গোল ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘আই’ তে ফ্রান্স। তাদের গ্রুপে রয়েছে সেনেগাল, ইরাক ও নরওয়ে। ১৭ জুন সেনাগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে দুই বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

হোয়াংহো নদী যেমন চীনের দুঃখ, তেমনি চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার জন্য এক মূর্ত অভিশাপ দিয়েগো সিমিওনে। ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল নিয়েও ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্যের প্রতিযোগিতায় সিমিওনের আতলেতিকো মাদ্রিদের সামনে এসে আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে বার্সাকে। তর্কাতিতভাবে সর্বকালের সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির হৃদয় যেমন ভেঙেছেন সিমিওনে, তেমনি বর্তমানের অন্যতম সেরা লামিনে ইয়ামালকেও দেখতে হলো বিদায়ের বিষাদ। বার্সার ভিন্ন ভিন্ন দুই যুগের এই তারকাকে বিদায় করে তাই বাধ ভাঙা আবেগে ভাসছেন সিমিওনে।
গতকাল বার্সেলোনাকে দুই লেগ মিলিয়ে হারিয়ে ২০১৭ সালের পর প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের টিকিটি কাটে আতলেতিকো মাদ্রিদ। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পর কোচ দিয়াগো সিমিওনে জানিয়েছেন, নিজের দলের এই লড়াকু মানসিকতা দেখে তিনি রীতিমতো 'আবেগপ্রবণ' হয়ে পড়েন।
মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটিতে বার্সেলোনা ২-১ ব্যবধানে জিতেছে—গোল করেন লামিন ইয়ামাল, ফেরান তোরেস এবং আদেমোলা লুকমান। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ চারে যাওয়া সিমিওনের দল মুখোমুখি হবে আর্সেনাল অথবা স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে।
সিমিওনের অধীনে এ নিয়ে চারবার (২০১৪, ২০১৬, ২০১৭ এবং ২০২৬) চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে উঠল আতলেতিকো মাদ্রিদ। আর এই যাত্রায় তারা তিনবারই বিদায় করেছে শক্তিশালী বার্সেলোনাকে।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সিমিওনে বলেন, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বার্সাকে ছিটকে দেওয়া মোটেও সহজ কাজ নয়। আমরা লিওনেল মেসির বার্সার মুখোমুখি হয়েছি, ইয়ামালের বার্সার মুখোমুখি হয়েছি এবং দুইবারই আমরা তাদের হারিয়ে দেখিয়ে দিয়েছি।’
আরও পড়ুন
| নেইমারের বিশ্বকাপ ভাগ্য নিয়ে ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট-আনচেলোত্তির আলোচনা |
|
আতলেতিকোতে নিজের ১৪ বছরের দীর্ঘ সফরের কথা মনে করিয়ে দিয়ে সিমিওনে আরও যোগ করেন, ‘দলের এই লড়াই করার ক্ষমতা দেখে আমি আজও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। অনেক খেলোয়াড় বদলেছে, আমরা বহুবার শূন্য থেকে শুরু করেছি, কিন্তু দিনশেষে আবারও আমরা ইউরোপের সেরা চারটি দলের একটি। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে খেলা যে কতটা আনন্দের!’
আতলেতিকো মাদ্রিদের জয় উদযাপনের মাঝেই কোচ দিয়াগো সিমিওনে স্তুতি গাইলেন আতোয়ান গ্রিজম্যানের। এই গ্রীষ্মেই ক্লাব ছেড়ে এমএলএস-এর দল অরল্যান্ডো সিটিতে যোগ দিচ্ছেন এই ফরাসি তারকা। প্রিয় শিষ্যকে নিয়ে সিমিওনে বলেন, ‘সে একজন জিনিয়াস। সময় গেলেই আমরা উপলব্ধি করতে পারব যে আমাদের দলে ফুটবলের একজন জাদুকর ছিল—এমন একজন খেলোয়াড় যে তার অভিজ্ঞতা আর ব্যক্তিত্ব দিয়ে ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। আমাদের সাথে তার যেটুকু সময় বাকি আছে, ঈশ্বর আর ভাগ্য যেন তাকে তার কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দেয়।’
সিমিওনের দলকে প্রায়ই 'ডিফেন্সিভ' বা রক্ষণাত্মক দল হিসেবে তকমা দেওয়া হয়। কিন্তু কোচ দাবি করেছেন, বার্সেলোনাকে ছিটকে দেওয়ার পেছনে ছিল তাদের আক্রমণাত্মক মানসিকতা, ‘আমরা বছরের পর বছর ধরে নিজেদের পরিবর্তন করেছি। আমরা কী চাই, তা নিয়ে আমাদের মনে কোনো সংশয় নেই। সত্যি বলতে, আমরা ডিফেন্ড করার চেয়ে অ্যাটাক ভালো করি! তাই আমাদের আক্রমণ করতেই হবে, এছাড়া আর কোনো পথ নেই।’

ইউরোপীয় মঞ্চে বায়ার্ন মিউনিখের একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রমাণ মেলে তাদের টানা তিনবার শিরোপা জয়ের কীর্তিতে। তবে সেই দাপুটে বাভারিয়ানরা এখন ছয় বছর ধরে এক বৃত্তে বন্দি। ২০১৯-২০ মৌসুমে সবশেষ চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলটি গত ২০২৩-২৪ মৌসুমেও রিয়াল মাদ্রিদ নামক দুর্ভেদ্য দেয়ালের সামনে এসে থমকে গিয়েছিল।
২০২৩-২৪ মৌসুমই নয় শুধু, ইতিহাস সাক্ষী এ নিয়ে সাতবার নকআউট পর্বে লস ব্লাঙ্কোস দেয়াল টপকাতে পারেনি বায়ার্ন। কড়ায়ৎ-গণ্ডায় এবার সে প্রতিশোধ তোলার পালা এলো বুঝি। ২০২৫-২৬ মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। ফিরতি লেগে বুধবার আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে রিয়ালের বিপক্ষে খেলবে বায়ার্ন। খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।
চ্যাম্পিয়নস লিগের ফার্স্ট লেগে বায়ার্ন জিতলেও এখন পর্যন্ত দুদলের মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে আলভারো আরবেলোয়ার দল। ৭ বার জিতেছে রিয়াল, ২টিতে জয় বায়ার্নের। ২টি ম্যাচ হয়েছে ড্র। হোম কন্ডিশনেও পিছিয়ে বাভারিয়ানরা। এখন পর্যন্ত দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে একবারই জিতেছে তারা। তিনটি জয় রিয়ালের। একটি ড্র হয়েছে। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাকে সবশেষ দু’দল মুখোমুখি হয়েছিল ২০২৪ সালের মে মাসে। ওই ম্যাচ ২-২ ব্যবধানে ড্র হয়েছিল।
চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্নের মাঠে সবশেষ মুখোমুখি লড়াইয়ে রিয়াল জিতলেও সান্তিয়াগো বার্নাব্যু থেকে জয় নিয়ে ফিরেছে কোম্পানির শিষ্যরা। তার মধ্যে বুন্দেসলিগায় সেন্ট পাউলির বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় জয় তুলেছে তারা। এই ম্যাচে কোম্পানি তার বেশ কিছু তারকা খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিতে পেরেছিলেন, যা এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের জন্য দলকে সতেজ রাখবে।
বায়ার্ন ভক্তদের জন্য আরও বড় খুশির খবর, হ্যারি কেইনের দলে ফেরা। চোটে ভোগা ইংলিশ ফরোয়ার্ড পুরোপুরি তৈরি এখন। হাঁটুর সমস্যা কাটিয়ে সার্জ গ্রানব্রি মূল একাদশে ফিরছেন। রক্ষণভাগে বায়ার্ন বেশ শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও চোটের কারণে লেনার্ট কার্ল এবং গোলরক্ষক সভেন উলরাইখকে পাওয়া যাচ্ছে না। লিওন গোরেৎজস্কা ও আলফোনসো ডেভিসকে নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা আছে। কারণ আজ একটি হলুদ কার্ড পেলেই তারা সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়বেন।
আরও পড়ুন
| নেইমারের বিশ্বকাপ ভাগ্য নিয়ে ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট-আনচেলোত্তির আলোচনা |
|
অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদ চোট আর খেলোয়াড় নিষিদ্ধ হওয়া নিয়ে বেশ সমস্যায়। সবচেয়ে বড় ধাক্কা চুয়ামেনির না থাকা। কার্ড জটিলতায় এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি। ইনজুরির কারণে রদ্রিগোও মাঠের বাইরে। সেন্টারব্যাক রাউল আসেনসিও পেটের পীড়ায় ভুগছেন। দলের সঙ্গে জার্মানিতে যাননি তিনি।
সমর্থকদের জন্য স্বস্তির বিষয়—কিলিয়ান এমবাপে সুস্থ আছেন এবং তিনি শুরু থেকেই খেলবেন। কোর্তোয়া এখনো চোটমুক্ত না হওয়ায় গোলবারের নিচে লুনিনই থাকছেন। জুড বেলিংহাম, ভিনিসিয়াস এবং কামাভিঙ্গা—এই তিনজনেরই আজ কার্ড দেখে নিষিদ্ধ হওয়ার ভয়ে আছেন। তাই কোচ আরবেলোয়াকে এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে যাতে দল জিতলে সেমিফাইনালে তিনি তার সেরা তারকাদের ফিরে পান।
এত এত সমস্যার মাঝেও চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসের দোহাই দিয়ে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে পিছিয়ে থাকা ম্যাচ জেতার প্রত্যয় আলভারো আরবেলোয়ার। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘আমরা রিয়াল মাদ্রিদ এবং আমরা বিশ্বাস করি যে আমরাই জিততে যাচ্ছি। আরও বেশি সুযোগ তৈরি করতে দলটিকে অনেক বিষয়ে উন্নতি করতে হবে। আমাদের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো—প্রথমত, আমরা রিয়াল মাদ্রিদ। আমরা এমন এক দল যারা কখনো হার মানে না এবং আমাদের ঝুলিতে ১৫টি ইউরোপিয়ান কাপ (চ্যাম্পিয়নস লিগ) রয়েছে।’’
ভিনসেন্ট কোম্পানি জানিয়েছেন, রিয়াল মাদ্রিদ যে ‘রেমনতাদা’ (অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন) করার চেষ্টা করবে, তা ঠেকাতে তিনি ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা করে ফেলেছেন। কোম্পানি বলেন, ‘‘নিঃসন্দেহে একটি মূল বিষয় হলো, রিয়াল মাদ্রিদের প্রতি আমাদের অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। বার্নাব্যুতে ম্যাচের আগেও আমরা তেমনটাই অনুভব করেছিলাম এবং এখনো আমাদের সেই শ্রদ্ধা অটুট আছে।’’
মোদ্দাকথা, ১৯৭০-৭১ মৌসুমের পর কখনোই নিজেদের মাঠে নকআউট পর্বের প্রথম লেগ হেরে পরের রাউন্ডে যেতে পারেনি রিয়াল। বায়ার্নের বিপক্ষে ম্যাচ জিততে হলে আরবেলোয়ার দলকে ফেরাতে হবে প্রায় ৫৬ বছর আগের স্মৃতি।
তবে ইতিহাস বলে, চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদ কোনো যুক্তি মানে না। সবাই যখন ধরে নেয় তারা শেষ, তখনই ঘুরে দাঁড়িয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে বার্নাব্যুর যোদ্ধারা। বিষয়টি বায়ার্নের চেয়ে কার বেশি মনে রাখার কথা?