২৬ অক্টোবর ২০২৪, ৭:১০ পিএম

ভারতের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে নিউজিল্যান্ড মাঠে নামার আগেই খেয়েছিল বড় এক ধাক্কা। চোটের কারণে প্রথম দুই টেস্ট থেকেই ছিটকে যান দলের সেরা ব্যাটার কেন উইলিয়ামসন। ফেভারিটের তকমা গায়ে মাঠে নামা ভারত কী ভাবতে পেরেছিল, এই কিউই দলের কাছে তারা এক ম্যাচ হাতে রেখেই হেরে যাবে সিরিজ! ভারতের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের জন্য যে একটা টেস্ট ম্যাচ জয়ই ছিল বিরল ঘটনা। এই সিরিজের আগে যে সব মিলিয়ে ভারতের মাঠে দেশটির বিপক্ষে ৩৬ ম্যাচে জয় ছিলই মাত্র দুইটি!
কী বিস্ময়। এই নিউজিল্যান্ডই কিনা উড়তে থাকা ভারতকে মাটিতে নামিয়ে পরপর জিতে নিয়েছে দুটি টেস্ট। পুনেতে মাত্র তিন দিনেই ভারতকে ১১৩ রানে হারিয়ে নিশ্চিত করে ফেলেছে সিরিজ জয়। আগের ৬৯ বছরেই যেখানে জয় ছিল মাত্র দুইবার, সেখানে এবার টানা দুই টেস্টে বিজয়ীর বেশে মাঠ ছেড়েছে কিউইরা।
১৯৫৫ সালে প্রথমবার ভারতে টেস্ট সফর করে নিউজিল্যান্ড। প্রথমবার জয়ের দেখা মেলে সেই ১৯৬৯ সালে। দ্বিতীয় জয়টির জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল আরও ১৯ বছর। এরপর থেকেই ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলতে এসে খালি হাতেই বারবার ফিরতে হচ্ছিল দলটিকে। এবারের সফরের আগেও একই পরিণতি হবে বলেই ভাবা হচ্ছিল।
একেতো নেই উইলিয়ামসন, তার ওপর এই সিরিজের আগে শ্রীলঙ্কায় হোয়াইটওয়াশড হয়েছে নিউজিল্যান্ড। এরপর নেতৃত্ব ছেড়ে দেন পেসার টিম সাউদি। তাতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে নেতৃত্ব আসে টম লাথামের কাঁধে। এমন একটা ভঙ্গুর দল শক্তিশালী ভারতের সামনে কেমন প্রতিরোধ গড়তে পারে, সেটাই ছিল দেখার বিষয়।
তবে প্রথম টেস্টে পেসারদের কল্যাণে জয়ের পর দ্বিতীয় টেস্টে ভারতকে আরও চমক দিয়ে স্পিনেই চমক দেখিয়েছে নিউজিল্যন্ড। আর তাতে মূল নায়ক আগের ২৮ টেস্টের ক্যারিয়ারে কখনই ইনিংসে তিন বা তার বেশি উইকেট পাওয়া মিচেল স্যান্টনার।
দুই ইনিংস মিলিয়ে এই বাঁহাতি স্পিনার বলতে গেলেই একাই হারিয়ে দিয়েছেন ভারতকে। টার্নিং উইকেটে দুই ইনিংসেই তার বিরুদ্ধে খাবি খেয়েছেন ভারতের ব্যাটাররা। তাতে দিনের হিসেবে ৪ হাজার ৩৩১ দিন পর ঘরের মাটিতে টেস্ট সিরিজ হারের ভুলতে বসা স্বাদ পেয়েছে ভারত।
শেষবার ভারত নিজেদের মাঠে টেস্ট সিরিজ হেরেছিল ২০১২ সালে, ইংল্যান্ডের কাছে। এবারের সিরিজ সহ এই নিয়ে মাত্র চারবার দেশের মাটিতে তিন বা তার বেশি ম্যাচের সিরিজে হেরেছে ভারত।
No posts available.
১০ মে ২০২৬, ৪:১৭ পিএম

মাঠের পারফরম্যান্সে দাপট দেখালেও মাঠের বাইরের রাজনীতি আর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। স্বায়ত্তশাসিত ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগের ব্যবস্থাপনা বেসরকারি খাতের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে জটিলতার রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে এল নতুন সংকট। কেন্দ্রীয় চুক্তিতে তুষ্ট নন দলটির পাঁচ তারকা ক্রিকেটার। তাঁরা এখনো ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া নতুন চুক্তিতে সই করেননি।
বিগ ব্যাশ লিগকে ঢেলে সাজাতে এবং ব্যবসায়িক লাভের উদ্দেশ্যে এটি ব্যক্তিগত মালিকানায় ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু শুরুতেই বড় ধাক্কা খেয়েছে এই উদ্যোগ। অস্ট্রেলিয়ার ছয়টি প্রাদেশিক ক্রিকেট সংস্থার মধ্যে তিনটি— নিউ সাউথ ওয়েলস, কুইন্সল্যান্ড ও সাউথ অস্ট্রেলিয়া এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রায় ৬০ থেকে ৮০ কোটি ডলারের এই বিনিয়োগ মডেল নাকচ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে বোর্ড।
আরও পড়ুন
| অভিষেকে ১৩তম পাকিস্তানি, বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয় |
|
একটি ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোর্ডের প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় চুক্তির শর্ত ও বেতন নিয়ে মোটেই খুশি নন পাঁচ সিনিয়র খেলোয়াড়। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ খেলোয়াড়দের রাজি করানোর চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি।
বোর্ড যেখানে ওয়ানডে ও টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে তিন বছরের জন্য বিশাল অংকের চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে, সেখানে অন্য তারকাদের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলা কামিন্সকে প্রায় ১২ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু বাকি সিনিয়র ক্রিকেটাররা মনে করছেন, তাদের প্রস্তাবিত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাজারের তুলনায় অনেক কম।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ বলেছেন,‘আমরা এখন এমন এক অবস্থায় আছি যেখানে পুরো বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল পুরো ক্রিকেটের উন্নয়ন, কিন্তু বর্তমানে আমরা ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে নেই।’
বিগ ব্যাশ লিগের বেসরকারীকরণ ভেস্তে যাওয়ায় স্থানীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে বড় ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। দেখা গেছে, এই টুর্নামেন্টে বিদেশি খেলোয়াড়দের তুলনায় স্থানীয় খেলোয়াড়রা প্রায় এক থেকে দুই লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার কম পারিশ্রমিক পান। চুক্তিতে এই বৈষম্য দূর না হওয়ায় অনেক তারকা ক্রিকেটার এখন দেশের খেলা বাদ দিয়ে বিদেশের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের দিকে ঝুঁকে পড়ার হুমকি দিচ্ছেন। অধিক আয়ের আশায় তারা জাতীয় দলের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে পারেন বলেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও বড় ‘শত্রু’ যখন প্রকৃতি |
|
সংকট নিরসনে বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাদেশিক সংস্থাগুলোর দফায় দফায় আলোচনা চলছে। টড গ্রিনবার্গ জানিয়েছেন, তাঁরা পুরো পরিস্থিতির গভীর বিশ্লেষণ করছেন। মার্কেটে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কীভাবে খেলোয়াড়দের সন্তুষ্ট রাখা যায় এবং অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের স্বার্থ রক্ষা করা যায়, সেটিই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। তবে চুক্তি নিয়ে এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে আগামী আন্তর্জাতিক সিরিজগুলোতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রবল।
সব মিলিয়ে বোর্ডের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতা এবং খেলোয়াড়দের আর্থিক অসন্তোষ অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

২০২৬ আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ১৫ সদস্যের দলের নেতৃত্বে দেবেন নিগার সুলতানা জ্যোতি।
জ্যোতির সঙ্গে সহ-অধিনায়ক হিসেবে রয়েছেন নাহিদা আক্তার। সবশেষ শ্রীলঙ্কা সিরিজের দলে খেলা শারমিন সুলতানার জায়গা হয়নি বিশ্বকাপ দলে। তাঁর জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন তাজনেহার।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ১১ জুন শুরু হবে এবারের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। গ্রুপ ১- এ জ্যোতি-নাহিদাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৪ জুন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ শুরু হবে।
বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ের আগে স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে ২৫ মে এডিনবার্গের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল। সেখান থেকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচগুলো খেলতে তারা লফবরায় যাবে।
এবার টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে কোয়ালিফাই করেছে বাংলাদেশ। বাছাই পর্বে গ্রুপ ও সুপার সিক্স মিলিয়ে মোট সাত ম্যাচ খেলে সবগুলোতেই জয় পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
বিশ্বকাপের অন্য গ্রুপে ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। প্রথম সেমিফাইনাল হবে ৩০ জুন এবং দ্বিতীয়টি ২ জুলাই। এরপর ৫ জুলাই লর্ডসের ফাইনালে নির্ধারিত হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল
নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ-অধিনায়ক), দিলারা আক্তার, জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়িতা, সোবহানা মোস্তারি, ফাহিমা খাতুন, শারমিন আক্তার সুপ্তা, রিতু মনি, স্বর্ণা আক্তার, রাবেয়া খান, মারুফা আক্তার, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, সুলতানা খাতুন, সানজিদা আক্তার মেঘলা, তাজনেহার।

দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত দৌড়ে আলোচনায় এসেছে 'ডুওটির রান ফর বাংলাদেশ' নামে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। ২১ এপ্রিল ভোর ৪ টায় টেকনাফের জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে তেঁতুলিয়ার শেষ প্রান্ত বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে শনিবার বিকাল ৫ টায় শেষ হয়েছে ১০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই যাত্রা।
গত ২১ এপ্রিল ভোর ৪ টায় শুরু হওয়া এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল প্রকৃতি রক্ষা, নারী শিক্ষা ও শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা। দলটির স্লোগান ছিল— 'প্রকৃতি বাঁচলে বাঁচবে দেশ,নারী শিক্ষা ও শিশু স্বাস্থ্যের হোক জয়জয়কার, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ছড়িয়ে দিই এই অঙ্গিকার।'
আরও পড়ুন
| তাসকিন-মিরাজে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনটি বাংলাদেশের |
|
দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতিদিনই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁদের। কখনো তীব্র রোদ, কখনো ঝড়-বৃষ্টি, আবার কখনো গভীর রাতে ফাঁকা মহাসড়ক—সবকিছু পেরিয়েই এগিয়ে গেছেন ৪ তরুণ।
দলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন নোয়াখালীর আসিফুল হক (পাভেল-২২)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন টাঙ্গাইলের এহসানুল হক (সানি-১৭), পঞ্চগড়ের আসিফ আকবর (২২) এবং কক্সবাজারের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (২১)। এর মধ্যে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সাইকেলে পুরো যাত্রায় সঙ্গ দিয়েছেন। বাকি তিনজন দৌড়ে অতিক্রম করেছেন দীর্ঘ এই পথ।
অভিযানের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল যমুনা নদী পার হওয়া। দলটি প্রায় পাঁচ দশমিক তিন আট (৫.৩৮) কিলোমিটার নদীপথ সাঁতরে পার হয়েছে। প্রবল স্রোতের মধ্যেও তাঁদের এই সাহসিকতা পথের মানুষকে বিস্মিত করেছে।
যাত্রাপথে বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানুষ তাঁদের স্বাগত জানিয়েছেন। কেউ পানি দিয়েছেন, কেউ ফল, আবার কেউ শুধু দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে উৎসাহ জানিয়েছেন। অনেক জায়গায় স্থানীয় তরুণেরা তাঁদের সঙ্গে কিছু দূর দৌড়েও অংশ নেন।
দলটির সদস্যরা বলেন, দেশের তরুণদের ইতিবাচক কাজে এগিয়ে আসার বার্তা দিতেই তাঁদের এই আয়োজন। তাঁদের মতে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বড় কিছু করা সম্ভব।
তেঁতুলিয়ায় পৌঁছানোর পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দলটির সদস্যরা। দীর্ঘ দিনের ক্লান্তি শেষে জাতীয় পতাকা হাতে তাঁদের হাসিমুখ ঘিরে স্থানীয় মানুষের ভিড় দেখা যায়।
আয়োজকদের ভাষ্য, এটি শুধু একটি ম্যারাথন ছিল না, বরং দেশজুড়ে ইতিবাচক একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা। 'ডুওটির রান ফর বাংলাদেশ' দেখিয়ে দিল, ইচ্ছাশক্তি আর লক্ষ্য ঠিক থাকলে তরুণদের পক্ষে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।

চকচকে নুতন বলে নাহিদ রানার প্রথম ডেলিভারিতে বাউন্সারে মাথা এলোমেলো হয়ে যাওয়ার দশা। ঘন্টায় ১৪১ কিলোমিটার গতির ওই ডেলিভারিটি হেলমেটের গ্রিলে এতো জোরে আঘাত হেনেছে যে মাঠের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসায় স্বাভাবিক হতে ৪ মিনিট লেগেছে আজান আওয়াইস। অভিষিক্ত এই বাঁ হাতি ওপেনারই পরবর্তীতে নাহিদ রানার উপর চড়াও হয়েছেন। দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনে নাহিদ রানার তিনটি বাউন্সারকে দর্শনীয় তিনটি হুক শটে ডিপ স্কোয়ার লেগ, ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগ এবং ডিপ ফাইন লেগ দিয়ে মেরেছেন বাউন্ডারি। দ্বিতীয় দিন শেষে ৮৫ রানে ব্যাটিংয়ে থেকে অভিষেকে সেঞ্চুরির আভাস দিয়েছিলেন। তৃতীয় দিনের ৫ম ওভারে নাহিদ রানার শর্ট বলে গালি অঞ্চল দিয়ে বাউন্ডারিতে পৌছে গেছেন তিন অঙ্কে। ১৯৬৪ সালে করাচিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকে সেঞ্চুুরির রেকর্ড করেছিলেন খালিদ ইবাদুল্লাহ। অভিষেকে ত্রয়োদশতম পাকিস্তানি সেঞ্চুরিয়ান আজান আইওয়াস।
বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেকে সেঞ্চুরির রেকর্ডে তৃতীয় পাকিস্তানি তিনি। ২০০১ সালে মুলতানে তৌফিক ওমর, ২০০৩ সালে করাচিতে ইয়াসির হামিদের পর চলমান টেস্টে আজান আইওয়াস। টেস্ট অভিষেকে পাকিস্তানের ১৩ কৃতিমানের সেঞ্চুরির অধিকাংশই দেশের মাটিতে। টেস্ট অভিষেকে ৩ পাকিস্তানি শুধু বিদেশের মাটিতে সেঞ্চুরিতে রাঙিয়েছেন। সেই রেকর্ডে ২০০৯ সালে কলম্বোর পি সারা ওভালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাওয়াদ আলম (১৬৮), একই বছর ডানেডিনে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওমর আকমলের (১২৯) পর মিরপুরে চলমান টেস্টে অভিষেকে পেলেন আজান আইওয়াস সেঞ্চুরি (১০৩)।
প্রথম উইকেট জুটিতে ইমাম উল হক-এর সঙ্গে ১০৬ এবং দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আবদুল্লাহ ফজলকে নিয়ে ১০৪ রানের পার্টনারশিপে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। উইকেটে পাহাড় হয়ে দাঁড়ানো আজানের ইনিংসের স্থায়ীত্ব ছিল ১৭১ মিনিট। ১৬৫ বল মোকাবেলায় মেরেছেন ১৪টি চার। সেঞ্চুরির পর ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে তার। তাসকিনের চতুর্থ এবং তৃতীয় দিনের প্রথম স্পেলের তৃতীয় ওভারে শর্ট অব লেন্থ বলে ফার্স্ট স্লিপে শান্ত'র হাতে দিয়েছেন ক্যাচ এই অভিষেক সেঞ্চুরিয়ান। কাঁধ সমান উঁচু থেকে ভালো ক্যাচ নিয়েছেন শান্ত।

লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে ‘আইকন’ খেলোয়াড়দের জন্য অন্যরকম এক শর্ত চালু করার ঘোষণা দিয়েছিল লঙ্কান ক্রিকেট (এসএলসি)। নতুন নিয়ম অনুযায়ী টপ টায়ার আইকন ক্যাটাগরির জন্য আবেদন করতে খেলোয়াড়দের অন্তত ৭৫টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলতে হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে হবে ১০০টির বেশি। শেষ ১৮ মাসে ন্যূনতম ৩০ ম্যাচ খেলতে হবে। এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে থাকতে হবে আড়াই লাখের বেশি ফলোয়ার। শেষের এই নিয়ম নিয়েই যত আলোচনা।
তুমুল বিতর্কের পর শেষ পর্যন্ত ‘অদ্ভুত’ এই নিয়ম তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। নিউজওয়্যার-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯ মে প্রকাশিত এলপিএলের ষষ্ঠ আসরের খেলোয়াড় নিবন্ধন ও ড্রাফট গাইডের সংশোধিত সংস্করণে এই শর্তটি আর রাখা হয়নি। এর আগে নিয়ম করা হয়েছিল যে, আইকন ও স্টার ক্যাটাগরিতে নাম লেখাতে হলে খেলোয়াড়দের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবশ্যই আড়াই লক্ষাধিক ফলোয়ার থাকতে হবে।
আগামী ১০ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে শীর্ষস্তরের ‘আইকন’ ক্যাটাগরিতে জায়গা পেতে বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য শুধু মাঠের পারফরম্যান্সই যথেষ্ট ছিল না। আগের নিয়ম অনুযায়ী, তাদের অন্তত ৭৫টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বা ১০০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা থাকার পাশাপাশি গত ১৮ মাসে অন্তত ৩০টি ম্যাচে মাঠে নামার বাধ্যবাধকতা ছিল। এর সঙ্গে বাড়তি যোগ করা হয়েছিল আড়াই লক্ষ ফলোয়ার থাকার সেই বিতর্কিত শর্তটি।
সংশোধিত নীতিমালায় সামাজিক মাধ্যমে ফলোয়ারের বিষয়টি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে; যদিও আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক ম্যাচ খেলার মতো ক্রিকেটীয় যোগ্যতার শর্তগুলো আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের এই বিতর্কিত পদক্ষেপটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। সমালোচকরা বলছেন, একদিকে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট তাদের জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার কমিয়ে খেলায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেয়, অন্যদিকে এলপিএল-এর নিয়মাবলীতে অনলাইন জনপ্রিয়তা বা ফলোয়ার সংখ্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—যা চরম দ্বিচারিতা।
সামাজিক মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের দাবি ছিল, শ্রীলঙ্কার ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা উচিত তাদের ক্রিকেটীয় মেধা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে, ডিজিটাল জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে নয়।
ফলোয়ারের সংখ্যার শর্তটি শেষ পর্যন্ত সরিয়ে নেওয়া হলেও, সংশোধিত নীতিমালায় প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডের ওপর বেশ জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাধ্যতামূলকভাবে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকা, ফ্যান এনগেজমেন্ট প্রোগ্রাম এবং টুর্নামেন্টের বিভিন্ন প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা।