
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যস্ত পাকিস্তান। বিপরীতে কদিন পরই ঘরোয়া ক্রিকেটে নামতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। এরপরই দ্বিপক্ষীয় সিরিজে মুখোমুখি হবে দুই দল। আগামী মাসে পাকিস্তান সিরিজের জন্য আজ সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
আগামী ৯ মার্চ ঢাকায় পা রাখবে সালমান আলি আগার দল। এরপর ১১, ১৩ এবং ১৫ মার্চ মিরপুর শেরে-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সবকটি ম্যাচই শুরু হবে বেলা ২.১৫ মিনিটে।
আইসিসির টুর্নামেন্টের বাইরে চলতি বছর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ৯টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার কথা রয়েছে। পিএসএল শেষে এপ্রিলে আবার বাংলাদেশ সফরে আসবে পাকিস্তান।
সবশেষ গত বছরের জুলাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। এর আগে পাকিস্তান সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ দল। সেই সিরিজে পাকিস্তানের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরে ধবলধোলাই হয় লিটন দাসের দল।
No posts available.
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:০১ পিএম
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৭ এম
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৬ পিএম

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফ্রাঞ্চাইজি লিগের বড় অংশের মালিকানাই এখন ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের হাতে। তাই অনেক লিগে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্তি না হওয়া যেন এক অলিখিত বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ দ্য হান্ড্রেডেও যদি পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের দেখা না যায়, তবে তা দুঃখজনক হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইংলিশ তারকা হ্যারি ব্রুক।
আগামী ১১ ও ১২ মার্চ হবে হান্ড্রেডের নিলাম। নিলামের জন্য পাকিস্তানের ৬৩ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী ক্রিকেটার নিবন্ধন করেছেন। বিবিসির প্রতিবেদনে জানা গেছে, নিলামে ৪টি ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজি পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের বিবেচনায় নিচ্ছে না। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়নি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে রোববার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। এর আগে ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে হান্ড্রেডে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ। যেখানে পাকিস্তানিদের পক্ষে ব্যাট ধরেন ইংল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক ব্রুক বলেন।
“পাকিস্তান বহু বছর ধরে দারুণ ক্রিকেট খেলছে। তাদের দলে বিশ্বের সেরা কয়েকজন খেলোয়াড় আছে। হান্ড্রেডে তাদের কাউকে না দেখা গেলে সেটা দুঃখজনক হবে।”
হান্ড্রেডের ৮ দলের মধ্যে ৪টি- ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস, এমআই লন্ডন, সাউদার্ন ব্রেভ ও সানরাইজার্স লিডস- আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় রয়েছে। এই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের ড্রাফটে না ডাকার ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
আরও পড়ুন
| আফগানিস্তানে গিয়েই কাজ করতে হবে রশিদ-নবীদের নতুন কোচের |
|
সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভনও শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তার মতে, ক্রিকেটে জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো বিভাজন থাকা উচিত নয় এবং খেলোয়াড়দের যোগ্যতা অনুযায়ী সুযোগ পাওয়া উচিত।
২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাইয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। নিরাপত্তার অজুহাত এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ২০০৯ সাল থেকেই আইপিএলে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের পথ বন্ধ হয়ে যায়।
একই ধারা দেখা গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার এসএটি-টোয়েন্টি লিগেও। সেখানে সব দলই আইপিএল মালিকানাধীন হওয়ার ফলে পাকিস্তানের কোনো খেলোয়াড় খেলেননি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টি লিগে এমআই লন্ডন ও সাউদার্ন ব্রেভের মালিকানাধীন দলগুলো চার মৌসুমে কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটার নেয়নি।
হান্ড্রেডের বাকি চার দল- বার্মিংহাম ফিনিক্স, লন্ডন স্পিরিট, নর্দান সুপারচার্জার্স এবং ট্রেন্ট রকেটসে এখনও কোনো ভারতীয় বিনিয়োগ আসেনি, তাই পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের জন্য এই দলগুলোই এখন একমাত্র ভরসা।

জনাথন ট্রটের বিদায়ের পর নতুন কোচের জন্য নতুন নিয়ম করতে যাচ্ছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। তাদের ইচ্ছা, জাতীয় দলের পরবর্তী প্রধান কোচ ও বিদেশি সাপোর্ট স্টাফরা খেলা না থাকার সময়ে অফ-সিজনে আফগানিস্তানেই অবস্থান করবে ও ঘরোয়া ক্রিকেট পর্যবেক্ষণ করবে।
ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই কথা জানিয়েছেন আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নাসিব খান।
চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটেছে আফগানিস্তানের সঙ্গে জনাথন ট্রটের ৪ বছরের সম্পর্কের। তার বিদায়ের পরই নতুন কোচ খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে আফগান বোর্ড।
নাসিব জানান, নতুন চুক্তিতেই শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে- প্রধান কোচ ও অন্য বিদেশি কোচদের ‘ডিউটি স্টেশন’ হবে আফগানিস্তান।
“আমরা চাই, জাতীয় দলের কোচরা ঘনিষ্ঠভাবে আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট ও স্থানীয় ক্রিকেটারদের কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করুন। যখন কোনো আন্তর্জাতিক সিরিজ থাকবে না, তখন দলটির দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে তারা কাজ করবেন।”
আরও পড়ুন
| বিদায় বেলায় ওমানের ওপর জ্বালা মেটাল অস্ট্রেলিয়া |
|
আসন্ন শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগেই নতুন কোচের নাম ঘোষণা করতে চায় বোর্ড। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষে মার্চের মাঝামাঝি দুবাই ও শারজাহতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আফগানিস্তান-শ্রীলঙ্কা সাদা বলের সিরিজ।
খসড়া সূচি অনুযায়ী, ১৩ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে দুই দল।
নাসিব জানিয়েছেন, এরই মধ্যে কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে গিয়েছে। সেজন্য তিন কোচকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। তাদের সাক্ষাৎকারও সম্পন্ন। এদের মধ্যে দুজন দক্ষিণ আফ্রিকার ও একজন এশিয়ান।
তবে চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নাম প্রকাশ করতে চাননি নাসিব। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগেই আফগানিস্তান পাবে তাদের নতুন প্রধান কোচ।

প্রথম তিন ম্যাচের দুটি হেরে দলের বিদায়ঘণ্টা বেজে গিয়েছিল আগেই। ওমানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে সেই ঝালই যেন তুলেছে অস্ট্রেলিয়া। অ্যাডাম জাম্পার লেগ স্পিনের জাদুতে প্রতিপক্ষকে মাত্র ১০৪ রানে গুটিয়ে তারা পেয়েছে ৯ উইকেটের সহজ জয়।
দলের জয়ে বড় অবদান রেখে মাত্র ২১ রানে ৪ উইকেট নেন জাম্পা। একইসঙ্গে ৩টি রেকর্ডে উঠেছে তার নাম। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এ নিয়ে ৪ বার এক ম্যাচে ৪ বা এর বেশি নিলেন জাম্পা।বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৪ উইকেটের রেকর্ড এটি।
তিনবার করে ৪ উইকেট নিয়ে এতদিন জাম্পার সঙ্গে ছিলেন সাকিব আল হাসান, রশিদ খান, আনরিক নরকিয়া ও সাঈদ আজমল। এবার তাদের ছাড়িয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছেন জাম্পা।
আরও পড়ুন
| ১৪ বছর পর সঙ্গী পেল বাংলাদেশ |
|
এছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় দুইয়ে বসেছেন জাম্পা। তার নামের পাশে এখন ৪৪ উইকেট। আফগানিস্তানের রশিদ খানকে (৪৩) টপকে গেছেন তিনি। সামনে শুধু সাকিব আল হাসান (৫০)।
এর বাইরে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ সেরার রেকর্ডেও এখন দুইয়ে উঠেছেন অস্ট্রেলিয়ার লেগ স্পিনার। ২১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন জাম্পা। ক্রিস গেইল, মাহেলা জয়াবর্ধনে ও শেন ওয়াটসন জিতেছেন ৫ বার করে।
ম্যাচ সেরার পুরস্কারে সবার ওপরে ভারতের ব্যাটিং গ্রেট বিরাট কোহলি- ৮ বার।
এত এত অর্জন ও রেকর্ডের পরও মনে আনন্দ নেই জাম্পার। ম্যাচ সেরার পুরস্কার গ্রহণ করে তিনি উল্টো বললেন, এত বাজে অনুভূতি কখনও হয়নি।
“সত্যি বলতে, একদম শূন্য লাগছে। উইকেট না পাওয়ার চেয়ে অবশ্যই পাওয়া ভালো। তবে চার উইকেট পাওয়ার পর আমার সবচেয়ে বাজে অনুভূতি হয়তো এটিই। কালকেই দেশের পথে উড়াল দিচ্ছি, সত্যি বলতে এরকম কিছু তো ভাবনায়ও ছিল না। কাজেই এই অনুভূতি বলার মতো নয়।”
আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপর জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে বড় ধাক্কা খায় তারা। আর শ্রীলঙ্কার কাছেও হেরে গেলে শেষই হয়ে যায় সুপার এইট খেলার স্বপ্ন। শেষ পর্যন্ত তাই গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়।
কোনোভাবেই এমন ফল মানতে পারছেন না জাম্পা।
আরও পড়ুন
| বিদায় বেলায় ওমানের ওপর জ্বালা মেটাল অস্ট্রেলিয়া |
|
“গত তিন দিন ধরে আসলে ভাবছি এই তিন বিশ্বকাপ আমাদের কেমন গেল… বিশেষ করে, বিশ্বকাপের মাঝের সময়টায় আমরা যেমন খেলেছি। আমরা সম্ভবত (র্যাঙ্কিংয়ের) দুই বা তিন নম্বর দল, ভারতের পরই।”
“দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোতে সবসময়ই আমরা ভারতের ঘাম ছুটিয়ে দিয়েছি। কখনও তারা আমাদেরকে হারায়, কখনও আমরা তাদেরকে। কাজেই দল হিসেবে আমরা ভালো। সেখানে এরকম ফলাফল….আসলে বোধগম্য নয়।”

দীর্ঘ ১৪ বছর পর বাংলাদেশকে যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ করে দিল ওমান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা সবচেয়ে বেশি হারের বিব্রতকর রেকর্ডে এখন আর একা নয় বাংলাদেশ। চলতি টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বে শেষ ম্যাচে তাদের সঙ্গী হয়েছে ওমান।
পাল্লেকেলেতে শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে গেছে ওমান। এর আগে 'বি' গ্রুপে নিজেদের বাকি তিন ম্যাচও হেরেছে তারা। এ নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের টানা পরাজয়ের সংখ্যা ১০টি।
এতদিন পর্যন্ত এই রেকর্ডে একা ছিল বাংলাদেশ। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় হওয়া বিশ্বকাপের প্রথম সংস্করণে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে চমক দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এরপর ওই সংস্করণে সুপার এইটসহ বাকি ৪ ম্যাচই হেরে যায় তারা।
আরও পড়ুন
| বাংলাদেশে আসছে পাকিস্তান, সূচি ঘোষণা বিসিবির |
|
এরপর ২০০৯, ২০১০ ও ২০১২ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের দুইটি করে ম্যাচ হেরে প্রথম রাউন্ডে বিদায় নেয় বাংলাদেশ। ওই সময় তাদের টানা ১০ ম্যাচের পরাজয়ই ছিল এতদিন বিশ্বকাপে টানা হারের বিব্রতকর রেকর্ড।
প্রায় ১৪ বছর পর তাদের সঙ্গী হলো ওমান। ওমানের এই পরাজয়ের যাত্রাটা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের কাছে হেরেই। ২০২১ সালে পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে জেতার পর বাংলাদেশের কাছে হেরে যায় তারা। পরে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে জিততে না পেরে বিদায় নেয় ওমান।
এরপর ২০২২ সালের বিশ্বকাপে সুযোগ পায়নি ওমান। ২০২৪ সালের সংস্করণে টুর্নামেন্টে ফিরলেও চার ম্যাচের সবকটিই হেরে যায় তারা। একই দশা হলো চলতি বিশ্বকাপেও। অস্ট্রেলিয়ার আগে শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের কাছেও হেরেছে ওমান।
বিশ্বকাপে টানা পরাজয়ের রেকর্ডে দ্বিতীয় স্থানে নামিবিয়া, আয়ারল্যান্ড ও পাপুয়া নিউ গিনি। বিভিন্ন সময়ে টানা ৭টি করে ম্যাচ হেরেছে এই তিন দল।

গ্রুপ পর্বে জিম্বাবুয়ে-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ার দিন বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার ভাগ্য লেখা হয়ে যায়। আইরিশরা জিতলে এবং গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ওমানের বিপক্ষে বড় জয়ে ‘যদি-কিন্তুর’ ওপর ভর করে সুপার এইটের সম্ভাবনা তৈরি হতো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
দুইটি সম্ভবনার একটি অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে গেলেও আরেকটির অবস্থান ভিন্ন মেরুতে। ফলে দুঃখ বুকে চাপা দিয়েই বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ মিচেল মার্শদের। আজ তারা ওমানের বিপক্ষে ৯ উইকেটে জিতলেও বাস্তবে এই জয় কেবল পরিসংখ্যানই সমৃদ্ধ করেছে।
পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে আজ টস জিতে ওমানকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান মার্শ। আগে ব্যাটিং করে সর্বসাকুল্যে ১০৪ রান তুলতে পারে ওমান। জবাব দিতে নেমে ৯.৪ ওভারে এবং ৯ উইকেট হাতে রেখে ম্যাচের ইতি টেনে দেয় অস্ট্রেলিয়া।
ওমানের দেওয়া টার্গেট টপকাতে নামা অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী জুটি ভাঙে শতকের ৭ রান আগে। ৩২ রানে হেড ফিরলে ইস্পাত-লৌহ জুটি ফাটল ধরে। এরপর জস ইংলিসকে নিয়ে ম্যাচের ইতি টেনে দেন ক্যাপ্টেন মার্শ। মার্শ ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ৭টি চার ও ৪টি ছয়ে সাজানো ছিল তার ইনিংস।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নামা ওমানকে বড় স্কোর করার সুযোগ দেননি মার্কাস স্টোনিস, অ্যাডাম জাম্পা ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।
পেসার জেভিয়ার বার্টলেট শুরুতেই দুই ওপেনারকে ফেরান। তার সঙ্গে যোগ দেন দুই স্পিনার জাম্পা ও ম্যাক্সওয়েল। ১০ উইকেটের ৬টি ছিল দুই স্পিনারের দখলে।
চার উইকেট নেয়া জাম্পা আজ দারুণ কীর্তি গড়েছেন। বিশ্বকাপে কোনো অস্ট্রেলিয়ান স্পিনারের মধ্যে তিনিই সর্বোচ্চ চারবার চার উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন। এতদিন সাকিব আল হাসান, সাইদ আজম, রাশিদ খান ও এনরিখ নরকিার পাশে ছিলেন তিনি। আজ তাদের ছাড়িয়ে গেলেন। বিশ্বকাপে অসি স্পিনার চারবার চার উইকেট নিয়েছেন।
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিদের মধ্যেও সাকিবের কাছাকাছি চলে গেছেন জাম্পা। ওমানের বিপক্ষে নামার আগে তার উইকেট সংখ্যা ছিল ৪০টি। বাংলাদেশের সাকিবের ৫০টি।
ওমানের হয়ে সর্বোচ্চ রান ছিল ওয়াসিম আলির। ৩৩ বলে ৩২ রান করেন তিনি। হামিদ মির্জা ১৩ বলে ১৬ রান এবং ওপেনার জাতিন্দ্রার সিংহের ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ১৭ রান।
ওমানের মাত্র ৪ জন ব্যাটার দুই অঙ্কের রান স্পর্শ করতে পারেন। বাকি সাতজন ব্যাটারের ব্যক্তিগত স্কোর ছিল ১০ রানের নিচে। এর মধ্যে দুজন শূন্য রানে ফিরেছেন।