
চলতি মৌসুমে দারুণ ছন্দে রয়েছে বার্সেলোনা। তবে রক্ষণের দুর্বলতা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা। নিজেদের পছন্দসই কোনো সাইনিং নেই। এর মধ্যেই আলোচনা¬—আগামী গ্রীষ্মের দলবদলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে দলে টানতে নীরবে আশাবাদী বার্সেলোনা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম কট অফসাইডের প্রতিবেদন, নিজেদের রক্ষণভাগ শক্তিশালী করতে একজন সেন্টারব্যাক খুঁজছে বার্সেলোনা। লিসান্দ্রোকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে দেখছে লা লিগার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী এই ডিফেন্ডারকে গ্রীষ্মকালীন দলবদলেই দলে ভেড়াতে বার্সেলোনা আত্মবিশ্বাসী।
যদিও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অবস্থান স্পষ্ট— আর্জেন্টিনার ২৮ বছর বয়সী লিসান্দ্রো বিক্রির জন্য নন। তারপরও ইংলিশ ক্লাবটি তাঁর জন্য ৫৫ মিলিয়ন ইউরোর মূল্য নির্ধারণ করে রেখেছে। উপযুক্ত প্রস্তাব এলে আলোচনা হতে পারে, এমন ইঙ্গিতও মিলছে।
২০২২ সালের জুলাইয়ে আয়াক্স থেকে ৫৫ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেন লিসান্দ্রো। আর্জেন্টিনার নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের একাডেমিতে গড়ে ওঠা এই ডিফেন্ডার ইউরোপে নিজের নাম পরিচিত করেন আয়াক্সে খেলার সময়। ওল্ড ট্রাফোর্ডে যোগ দেওয়ার পর গত সাড়ে তিন বছরে তাঁর সময়টা ছিল ওঠানামায় ভরা।
আরও পড়ুন
| ধারে গিয়ে বাজিমাত, ব্রাজিল দলে ফিরছেন এন্ড্রিক |
|
চোট সমস্যায় ভুগলেও মাঠে নামলে লিসান্দ্রো সাধারণত নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স দিয়েছেন। এ পর্যন্ত ইউনাইটেডের জার্সিতে শতাধিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ডিফেন্ডার হয়েও করেছেন তিনটি গোল ও তিনটি অ্যাসিস্ট। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষের পথে চলে আসায় তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বর্তমান চুক্তির আর ১৮ মাস বাকি থাকায় ইউরোপের কয়েকটি বড় ক্লাব, যার মধ্যে বার্সেলোনাও আছে, পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।
বার্সেলোনার রক্ষণভাগে পরিবর্তনের আভাস মিলছে বেশ কিছুদিন ধরেই। আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, রোনাল্ড আরাউহোর পারফরম্যান্স সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে ধারাবাহিক ছিল না। নতুন সেন্টারব্যাক দলে ভেড়ানো বার্সেলোনার অগ্রাধিকারে রয়েছে।
ক্লাবটির নতুন কোচ হানসি ফ্লিক একজন বাঁ পায়ের সেন্টারব্যাক খুঁজছেন, যিনি রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি বল বিল্ড-আপেও কার্যকর হবেন। এই দিক থেকে লিসান্দ্রোকে আদর্শ প্রোফাইল হিসেবে দেখছে বার্সেলোনা।
তবে শেষ পর্যন্ত সবকিছু নির্ভর করছে অর্থনৈতিক সমীকরণের ওপর। ইউনাইটেড যদি ৫৫ মিলিয়ন ইউরোর দাবিতে অনড় থাকে, তাহলে বার্সেলোনা সেই অঙ্ক পরিশোধে রাজি হয় কি না—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
No posts available.
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:০৮ পিএম
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৪২ পিএম

নেগ্রেইরা কেসের উত্তাপ যেন থামছেই না। সময়ের ব্যবধানে কিংবা বড় কোনো ম্যাচের আগে ইস্যুটি নতুন করে আলোচনায় ফিরে আসে। বছরের পর বছর ধরে এই বিষয়টি নিয়ে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যে যুক্তি–পাল্টা যুক্তির লড়াই চলছে।
নেগ্রেইরা কেসকে স্পেনের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি বলে অভিহিত করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আলভারো আরবেলোয়া।
লা লিগায় শিরোপা দৌড়ে টিকে থাকতে আগামীকাল ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে রিয়াল মাদ্রিদ। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে নেগ্রেইরা কেস নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন আরবেলোয়া।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন,
“নেগ্রেইরা কেস নিয়ে কথা বলতে গেলে… আমার মনে হয় আজ পর্যন্ত কেউই বুঝতে পারছে না, কীভাবে স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারিটি এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। আমার কাছে এটিই এমন বিষয়, যা অনেকের জন্য গভীর উদ্বেগের হওয়া উচিত।”
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০০১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বার্সেলোনা রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের রেফারিজ টেকনিক্যাল কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি হোসে মারিয়া এনরিকে নেগ্রেইরাকে মোট ৮৪ লাখ ইউরো (প্রায় ৭ মিলিয়ন পাউন্ড) পরিশোধ করেছে।
বার্সেলোনার দাবি, নেগ্রেইরাকে তারা পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। তার কাজ ছিল রেফারিং–সংক্রান্ত কারিগরি ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন দেওয়া। নেগ্রেইরাও বারবার অস্বীকার করেছেন যে ম্যাচে কোনো সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তাকে অর্থ দেওয়া হয়েছিল।
২০২৪ সালের মে মাসে স্পেনের একটি আদালত ঘুষের অভিযোগ খারিজ করে দেয়। যদিও ‘ক্রীড়া দুর্নীতি’র অভিযোগে তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।

শনিবার লা লিগায় মায়োর্কাকে ৩–০ ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা। এই জয়ে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ব্যবধান চার পয়েন্টে বাড়িয়েছে। লা লিগায় ২৩ ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের পয়েন্ট ৫৮। লস ব্লাঙ্কোসদের ২২ ম্যাচে ৫৪।
বার্সেলোনার জয়ে ম্যাচে একটি গোল করেছেন ১৮ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল। ম্যাচের ৬১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত এক শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।
মায়োর্কার বিপক্ষে একটি গোলের মাধ্যমে ইয়ামাল একেবারে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। একবিংশ শতাব্দীতে ১৯ বছর বা তার কম বয়সি ফরোয়ার্ডদের মধ্যে তাঁর গোলই সর্বোচ্চ। এছাড়া, বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সে ৪০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।
বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ লিগ মিলিয়ে ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডদের মধ্যে ইয়ামাল ২৪টি গোল পূর্ণ করে অতীতের রেকর্ড ভেঙে দিলেন। আগের রেকর্ডটি কিলিয়ান এমবাপের, যিনি ১৯ বছর বয়সে ২৩ গোল করেছিলেন।
আরেকটি নজরকাড়া কীর্তি হলো—১৮ বছর ৬ মাস ২৫ দিনে বার্সেলোনার হয়ে ৪০ গোল পূর্ণ করা। তুলনামূলকভাবে, লিওনেল মেসি এই চক্রটি পৌঁছেছিলেন ২১ বছর ৪ মাস ১১ দিনে। যদিও ক্লাবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল এখনো মেসির নামে।

সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩–০ ব্যবধানে জয়ের পর প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল আর্সেনাল। এই জয়ের ফলে মিকেল আরতেতার দল ৯ পয়েন্টে এগিয়ে গেল দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি ও অ্যাস্টন ভিলার থেকে। চতুর্থ স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের চেয়ে আর্সেনাল ১২ পয়েন্টে এগিয়ে।
২০২৫–২৬ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগের দুই-তৃতীয়াংশ ম্যাচ শেষের পথে। ৩৮ ম্যাচের লিগে বেশিরভাগ দল ২৫টি ম্যাচ খেলেছে, তবে ২৪টি ম্যাচ খেলেছে ম্যানসিটি, লিভারপুল, ব্রাইটন ও ক্রিস্টাল প্যালেস। আজ রাতে মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার সিটি-লিভারপুল এবং ব্রাইটন-ক্রিস্টাল প্যালেস।
বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে দশটায় অ্যানফিল্ডে অতিথি হবে ম্যানচেস্টার সিটি। শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে টাইটেল রেসে লড়ছে সিটিজেনরা। তবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলের অবস্থান একটু পেছনেই। ২৪ ম্যাচে লিভারপুলের সংগ্রহ ৩৯ পয়েন্ট, আর ম্যানসিটির ২৪ ম্যাচে পয়েন্ট ৪৭।
আজ অ্যানফিল্ড থেকে জয় পেলে পেপ গার্দিওলার দলের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৫০, যা আর্সেনালের থেকে কেবল ৬ পয়েন্ট দূরত্বে হবে। রেস আরও জমে যাবে। অন্যদিকে আর্নে স্লটের দলও জিতলে আক্ষেপের সঙ্গে বাস্তবতায় ফিরে আসবে। অ্যানফিল্ড সবসময়ই অলরেডসদের জন্য কঠিন, আর মাঠের ইতিহাসও সেটাই বলে।
ইতিহাস বলছে, লিভারপুলের হোম গ্রাউন্ডে সিটির জন্য সবচেয়ে প্রতিকূল। অ্যানফিল্ডে লিভারপুল গার্দিওলার দলের কাছে তাদের শেষ ২২ লিগ ম্যাচের মাত্র একটিতে হেরেছে। জিতেছে ১৪টি, ড্র বাকি ৭টিতে। সবশেষ ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অ্যানফিল্ডে সিটি জয় পেয়েছিল।
ম্যাচে সিটির সামনে এবার বিরল সুযোগের হাতছানি। নভেম্বরে ইতিহাদে প্রথম লেগে ৩–০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল তারা। আজ জিতলে ১৯৩৬–৩৭ মৌসুমের পর প্রথমবার একই মৌসুমে লিভারপুলের বিপক্ষে দুই লেগে জয় (ডাবল) নিশ্চিত হবে।
লিভারপুলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়—আলেকজান্ডার ইসাক, জিওভান্নি লেওনি ও কনর ব্রাডলি ম্যাচটিতে অনুপস্থিত থাকবেন। ডিফেন্সিভ বিভাগে শূন্যতা তৈরি হবে অ্যানফিল্ডের দলের। কারণ জো গোমেজ ও জেরেমি ফ্রিম্পংও খেলতে পারবেন না এই ম্যাচে। ফলে ডমিনিক সবোসলাইকে আবারও রাইট ব্যাকে ফিরতে হতে পারে।
ম্যানচেস্টার সিটির দিকেও চ্যালেঞ্জ আছে। জেরেমি ডোকু ও সাভিনহো অনুপস্থিত থাকলেও, সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে বার্নার্ডো সিলভার। এই পর্তুগিজ মিডফিল্ডার শতভাগ ফিট নন। এছাড়া মাতেও কোভাচিচ, জন স্টোনস ও যশকো গভার্ডিওলও চোটে খেলতে পারবেন না।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হওয়ার পর সমালোচনার মুখে পড়েছেন বাবর আজম। ১৮ বলে মাত্র ১৫ রান করে আউট হন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক। ১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানকে পড়তে হয় কঠিন চাপে, আর বাবরের মন্থর ইনিংস সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।
এই পারফরম্যান্সের পর পাকিস্তানের সাবেক ব্যাটার বাসিত আলী প্রশ্ন তুলেছেন বাবর আজমের টি-টোয়েন্টি যোগ্যতা নিয়ে। ইউটিউবে ‘শো দ্য গেম প্ল্যানে’ কথা বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, পরের ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে একাদশে বাবর আজমকে নাও দেখা যেতে পারে।
মাইক হেসনের চেহরার ভঙ্গি দেখে বাসিতের অনুমান, ‘আমার মনে হয়, পাকিস্তানের পরের ম্যাচে বাবর আজম খেলবে না। কোচ মাইক হেসনের মুখে যে রাগ দেখেছি, তাতে মনে হয়নি পরের ম্যাচে আবার চার নম্বরে বাবরকে খেলানো হবে।’
বাবরের ‘সুপারস্টার’ তকমা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন বাসিত। তাঁর ভাষায়, ‘ওয়ানডে বা টেস্টে যদি বাবর আজমকে সুপারস্টার বলা হয়, আমি হয়তো মানতে পারি। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে? কোথা থেকে সে সুপারস্টার? যে ব্যাটার নিজের নিয়মিত ব্যাটিং পজিশন ছেড়ে চার নম্বরে নেমে ব্যাট করে, অথচ ম্যানেজমেন্টকে এটুকুও বলতে পারে না যে সে চার নম্বরের ব্যাটার নয়—এটা কেমন কথা? বাবর কি এটা নিজেই বোঝে না?’
বাসিত আলি আরও দাবি করেন, পাকিস্তান দলে বাবরের চেয়ে টি-টোয়েন্টিতে ভালো বিকল্প ব্যাটারন রয়েছেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে যে কেউ বলবে—শাদাব খান, উসমান খান, মোহাম্মদ নওয়াজ, ফাহিম আশরাফ এরা সবাই এই ফরম্যাটে বাবরের চেয়ে কার্যকর।’
এমনকি সাহিবজাদা ফারহান ও সাইম আইয়ুবকেও বাবরের চেয়ে ভালো টি-টোয়েন্টি ব্যাটার বলে মন্তব্য করেন বাসিত আলি। তাঁর মতে, ‘সাহিবজাদা ফারহান আর সাইম আইয়ুব দুজনই টি-টোয়েন্টিতে বাবরের চেয়ে ভালো খেলোয়াড়। সালমান আলী আগাও দেখিয়েছে যে তিন নম্বরে সে বাবরের চেয়ে বেশি মানানসই।’
বিগ ব্যাশ লিগে বাবর আজমের পারফরম্যান্সের কথাও তুলে ধরেন বাসিত, ‘স্টিভ স্মিথ বিগ ব্যাশে বাবরের সঙ্গে যা করেছে, তারপরও মানুষ শিক্ষা নেয়নি। স্মিথ ইচ্ছে করে সিঙ্গেল নেয়নি, শুধু বাবরকে স্ট্রাইকে আসতে না দেওয়ার জন্য। এটা প্রমাণ করে, বাবরের খেলা টি-টোয়েন্টির জন্য মানানসই নয়।’
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে ফাহিম আশরাফের শেষ দিকের ঝোড়ো ইনিংস না থাকলে পাকিস্তানের হার এড়ানো কঠিন হয়ে যেত বলেও মনে করেন বাসিত। এই পরিস্থিতিতে বাবর আজমের টি-টোয়েন্টি দলে ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হলো।

শীতকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডে রেঁনে থেকে ফরাসি সেন্টারব্যাক জেরেমি জাকাকে দলে ভেড়ায় লিভারপুল। অ্যানফিল্ডের ক্লাবটির সঙ্গে ২০৩১ সাল পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ২০ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে ২০২৬–২৭ মৌসুমের শুরুতেই অল রেডস শিবিরে যোগ দেওয়ার কথা জাকা।
লিভারপুলে যোগ দেওয়ার আগেই নতুন এক শঙ্কার মুখে পড়েছেন জাকা। কাঁধের চোটে পড়েছেন তিনি। লিগ ওয়ানে লেন্সের বিপক্ষে ৩–১ ব্যবধানে হারের ম্যাচে চোট পান রেঁনের এই সেন্টারব্যাক।
শনিবারের ম্যাচে ৬৯ মিনিট পর্যন্ত মাঠে ছিলেন জাকা। এরপর কাঁধে আঘাত পেয়ে রেঁনের মেডিকেল স্টাফদের সহায়তায় মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। মাঠে লুটিয়ে পড়ার সময় যন্ত্রণায় চিৎকার করতেও দেখা যায় এই ফরাসি সেন্টারব্যাককে। চোটের তীব্রতা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও বিস্তারিত এখনও জানায়নি ক্লাব।
আরও পড়ুন
| লিসান্দ্রোকে দলে ভেড়াতে নীরব আশাবাদ বার্সেলোনা |
|
মাঠে থাকার সময় জাকার পারফরম্যান্সেও ছিলেন চোখে পড়ার মতো। ৩২টি পাসের মধ্যে ২৮টিই সফলভাবে সম্পন্ন করেন তিনি, যা তার বল কন্ট্রোল ও পাসিং দক্ষতার প্রমাণ দেয়।
এই মৌসুমে রেঁনের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৯টি ম্যাচে শুরুর একাদশে খেলেছেন জাকা। তরুণ এই ডিফেন্ডারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ আশাবাদী লিভারপুল কোচ আর্নে স্লটও।
জাকাকে নিয়ে স্লট বলেন, “নিশ্চয়ই এটা খুব আনন্দের বিষয়। সে একজন বড় প্রতিভা—বরং বলা যায়, প্রতিভার চেয়েও বেশি কিছু। বয়স কম বলেই আমরা তাকে প্রতিভা হিসেবে দেখি। আর আমরা একমাত্র ক্লাব ছিলাম না যারা তাকে চাইছিল, তাই তাকে দলে টানতে পারা মানে খেলোয়াড় বাছাইয়ে আমাদের টিমের কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি।”
তিনি আরও বলেন, “এটা আমাদের ক্লাবের ট্রান্সফার মডেলের আরেকটি উদাহরণ। আমরা তরুণ, ভীষণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দিকেই নজর দিই—যারা স্বল্পমেয়াদে দলকে শক্তিশালী করবে, আবার দীর্ঘমেয়াদে ক্লাবের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে। এই পথে আমরা সম্প্রতি অনেক খেলোয়াড়কে দলে এনেছি। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে, এমনকি স্বল্পমেয়াদেও, লিভারপুলের ভবিষ্যৎ খুব ভালো জায়গায় আছে।”