২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২১ এম

ক্রীড়াঙ্গনে দু’জনই নিজ নিজ বিভাগে সেরাদের সেরা। দুই মেরুর দুই মহাতারকা—একজন টেনিস কোর্টের সম্রাট, অন্যজন ক্রিকেট পিচের রাজা। টেনিসের রেকর্ড ভাঙা-গড়ার কারিগর নোভাক জোকোভিচ। আর আধুনিক ক্রিকেটের আইকন বিরাট কোহলি। এবার ভিন্ন দুই ভুবনের এই দুই মহাতারকাকে এক সুতোয় বাঁধল পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
সার্বিয়াতে ক্রিকেট খুব একটা জনপ্রিয় খেলা নয়, কিন্তু টেনিস কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচ ‘ভদ্রলোকের খেলা’ হিসেবে পরিচিত ক্রিকেটের সঙ্গে এক অনন্য সংযোগ খুঁজে পেয়েছেন—আর সেই সেতুবন্ধনটি হলেন ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার বিরাট কোহলি। লরিয়াস ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ডস-এ কোহলির প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে জোকোভিচ জানান যে, এই আইকনিক ব্যাটারের কারণেই নাকি ক্রিকেট দেখা শুরু করেছেন রেকর্ড ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী।
ফ্রিস্টাইল স্কিইং তারকা আইলিন গু-র সঙ্গে লরিয়াস ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ডসের জমকালো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করার সময় জোকোভিচ ভারতের ভক্তদের প্রতি তাঁর টান এবং কোহলির কারণেই ক্রিকেটের প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হওয়ার বিষয়টি সামনে আনেন।
মূল অনুষ্ঠানের আগে রেড কার্পেটে ভারতের ভক্তদের উদ্দেশ্যে এক বার্তায় জোকোভিচ জানান, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ভারতের আবেগপ্রবণ ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রশংসা করে আসছেন। জোকোভিচ টাইমস নাও-কে বলেন, ‘আমার বার্তা সবসময়ই ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতার। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ভারতের টেনিস ও ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছ থেকে বছরের পর বছর আমি যে সমর্থন পেয়েছি, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এই দীর্ঘ সময়ে তাদের অনেকের সঙ্গেই আমার দেখা হয়েছে। আমার আরেকটি বার্তা হলো—খুব শিগগিরই ভারতে দেখা হচ্ছে। কারণ আমাকে সেখানে যেতেই হবে। গত কয়েক বছর ধরে আমি ভারত সফরের এক তীব্র টান অনুভব করছি। আমি সত্যিই আশা করি কোনো ইভেন্ট হোস্ট করতে, ম্যাচ খেলতে অথবা যে কোনো কারণেই হোক আমি ভারতে আসব। আমি মনেপ্রাণে এটা চাই, কারণ ভারতের মানুষের সাথে আমি আত্মার টান অনুভব করি।’
সার্বিয়ার মতো একটি দেশ, যেখানে ক্রিকেটের প্রচলন খুব একটা নেই, সেখান থেকে উঠে এসেও ক্রিকেটের প্রতি জোকোভিচের আগ্রহের পেছনে বিরাট কোহলির বড় ভূমিকা রয়েছে বলে জানান তিনি। কোহলির প্রভাবই তাঁকে এই খেলার প্রতি আগ্রহী করে তুলেছে। ডিজিটাল এই যুগে ‘বন্ধু’ হওয়ার জন্য দুই ব্যক্তিকে আর একই জায়গায় থাকার প্রয়োজন হয় না। হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে থেকেও জোকোভিচ কোহলির মাঝে একজন বন্ধু খুঁজে পেয়েছেন, আর কোহলিও তাই।
বিরাট কোহলির সঙ্গে নিজের বন্ধুত্ব ও ক্রিকেটে আসার গল্প শুনিয়ে জোকোভিচ বলেন, ‘হ্যাঁ, বিরাট আমার বন্ধু। আমি তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি এবং পছন্দ করি। সত্যি বলতে, তার কারণেই আমি ক্রিকেট দেখা শুরু করেছি। আগে আমি এই খেলাটির খোঁজ রাখতাম না, কিন্তু তার মাধ্যমেই আমি ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠি। আমাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হয়। আমি যখন ভারতে আসব—আমি 'যদি' বলব না, বরং বলব 'যখন' আসব—আশা করি সে আমার সঙ্গে যোগ দেবে। আমরা দুজনে মিলে কিছুটা টেনিস আর কিছুটা ক্রিকেট খেলব, মজা করব এবং খেলাধুলাকে উদ্যাপনের মাধ্যমে সবার মাঝে ইতিবাচক শক্তি ছড়িয়ে দেব।’
No posts available.
১৪ মে ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম
১৪ মে ২০২৬, ৫:৩৩ পিএম

২০১০ সালে লর্ডস এবং ম্যানচেষ্টার টেস্টে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি করে শুণ্যে লাফিয়ে তামিমের উদযাপনের দৃশ্যটা এখনো ধরে রেখেছে গ্যাটি ইমেজ। ওই দুটি সেঞ্চুরিতে বড় একটা স্বীকৃতি পেয়েছেনতামিম ইকবাল। ২০১১ সালে উইজডেন ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার-পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এই বাঁ হাতি ওপেনার।
বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের মধ্যে সবার আগে ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বড় পুরস্কার ওটাই। ২০২১ সালে আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ পুরস্কার প্রবর্তন করলে বাংলাদেশের সেরা পারফরমাররা পাচ্ছেন সাফল্যের স্বীকৃতি। ২০২১ সালের মে মাসে মুশফিকুর রহিম প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে জিতেছেন এই পুরস্কার। সে বছরের জুলাই মাস সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পেয়েছেন বাঁ হাতি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ২০২৩ সালের মার্চ মাসের সেরা ক্রিকেটারও বিবেচিত হয়েছেন সাকিব। ২০২৫ সালের এপ্রিলের প্লেয়ার অব দ্য মান্থ-এর মুকুটটি পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
শুধু ছেলেদের ক্যাটাগরিতেই নয়, মেয়েদের ক্যাটাগরিতেও প্লেয়ার অব দ্য মান্থ-এর পুরস্কার পেয়েছেন ২ বাংলাদেশী। ২০২৩ সালের নভেম্বরে নাহিদা আক্তার এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সুবহানা মুস্তারি।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক সময়ে টিমমেট পেস বোলাররা থাকতেন সৎ ভাইয়ের দৃষ্টিতে। মোস্তাফিজের আর্বিভাবে ২০১৫ থেকে বদলেছে দৃষ্টিভঙ্গি। এখন তো রীতিমতো স্পটলাইটে ডান হাতি পেসার নাহিদ রানা।
এ বছরের মার্চ থেকে অন্য এক নাহিদ রানাকে দেখছে বিশ্ব। অবলীলায় ঘন্টায় ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারেন। কোনো কোনো ডেলিভারি ছাড়িয়ে গেছে ঘন্টায় ১৫০ কিলোমিটার। বর্তমানে ক্রিকেট বিশ্বে এক্সপ্রেস বোলারের দেখা মেলা যেখানে ভার, সেখানে গতির বোলিংয়ে ব্যাটারদের যম হিসেবে আবির্ভূত নাহিদ রানা।

গত মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১৮.১২ গড় এবং ৫.৩২ ইকোনমিতে ৮ উইকেট, এপ্রিলে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও নামতা গুনে ৮ উইকেট-১৬.৭৫ গড়ে এবং ৪.৪৬ ইকোনমিতে ৮ উইকেট! দুটি সিরিজেই একটি করে ম্যাচে ৫ উইকেট! ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো প্লেয়ার অব দ্য সিরিজের পুরস্কার পেয়েছেন নিউ জিল্যান্ডকে ২-১ এ হারিয়ে দেয়ার নায়ক। এই ধারাবাহিক বোলিংয়ের পুরস্কার পেয়েছেন নাহিদ রানা। এপ্রিল মাসসেরা নমিনেশনে তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ওমানের যতিন্দার সিং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অজয় কুমার । তবে তাদের কারো পারফরমেন্স আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে নয়।আইসিসি মেন্স ওয়ার্ল্ড কাপ লিগ টু-তে যতিন্দার ৫ ওয়ানডেকে করেছেন ২৬৬ রান, অজয় কুমার এপ্রিল মাসে তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম ২টি ওয়ানডে ম্যাচে পেয়েছেন ৯ উইকেট। আইসিসির সহযোগী সদস্য দুই দেশের দুই ক্রিকেটারকে নয়, এপ্রিল সেরা ক্রিকেটার হিসেবে নাহিদ রানাকে বেছে নিয়েছে আইসিসি। বাংলাদেশের প্রথম কোনো পেস বোলার পেলেন আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ-এর পুরস্কার।
সদ্য সমাপ্ত ঢাকা টেস্টে নাহিদ রানার দুটি ডেলিভারির কথাই ভাবুন। প্রথম ডেলিভারিটি বাউন্সার দিয়ে পাকিস্তানের অভিষিক্ত বাঁ হাতি ওপেনার আজান আইওয়াসের মাথাটা ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর বাউন্সার হেলমেটের গ্রিলে এতোটাই জোরে আঘাত হেনেছে যে, তাঁকে স্বাভাবিক করে তুললে ৪ মিনিট পরিচর্যা করতে হয়েছেপাকিস্তানের টিম ডাক্তারকে। দ্বিতীয় ইনিংসে রিজওয়ানের মতো ব্যাটারকে কী হতভম্বই না করেছেন নাহিদ রানা। তাঁর শর্ট অব লেন্থ ডেলিভারি অফ স্ট্যাম্পের বাইরে বল পিচ করে ইনসুইং করে স্ট্যাম্পে আঘাত হানবে, তা ঘুর্ণাক্ষরেও আন্দাজ করতে পারেননি। বলটা অফ স্ট্যাম্পের বেশ বাইরে দিয়ে চলে যাচ্ছে, তা ধরে নিয়েই ব্যাট লিফট করেছিলেন রিজওয়ান। অথচ, নিজেকে নিরাপদ রাখতে ওই কৌশলে কাজ হয়নি। বোল্ড আউটে থেমেছেন পাকিস্তানের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রিজওয়ান।
২০১৬ সালে আইপিএলে মোস্তাফিজের ইয়র্কারে আন্দ্রে রাসেলের ভুপাতিত হওয়ার দৃশ্যটার কথাই ভাবুন, কী আনন্দই না পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটপ্রেমীরা। রিজওয়ানের আউটেও নাহিদ রানা স্তুতি বিশ্বজুড়ে। কারণ, ওই আউটটাই মিরপুর টেস্টের টার্নি পয়েন্ট। পাকিস্তানের সাবেকদের আলোচনা, ক্রিকেট বিশ্লেষকদের আলোচনা জুড়ে এখন আছেন শুধুই নাহিদ রানা।
২ দিন আগে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ভয়ংকর এক স্পেলে পাকিস্তানের বিপক্ষে স্মরণীয় বোলিংয়ে (৫/৪০) বাংলাদেশকে ১০৪ রানে টেস্ট জিতিয়ে আকাশে উড়তে থাকা নাহিদ রানার জন্য আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ পুরস্কারটি আরো বেশি প্রাণশক্তি যোগাবে।

চোটের কারণে সিলেট টেস্ট থেকে ছিটকে গেলেন সাদমান ইসলাম। পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে এই ওপেনারের বিকল্প হিসেবে দলে ডাকা হয়েছে বাঁহাতি ওপেনার জাকির হাসানকে।
জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান জানিয়েছেন বুকের চোটে পড়েছেন সাদমান। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিবৃতিতে বায়েজিদুল জানান,
‘মিরপুরে প্রথম টেস্টের সময় ক্যাচ নিতে গিয়ে সাদমান বুকে আঘাত পান। তার বুকের হাড়ে চোট (ট্রমাটিক কন্টুশন) লেগেছে এবং তিনি ব্যথায় ভুগছেন। দুর্ভাগ্যবশত দ্বিতীয় টেস্টে তাকে পাওয়া যাবে না।’
মিরপুরে প্রথম টেস্টে ১০৪ রানের দাপুটে জয়ের পর বাংলাদেশের নজর এখন সিলেট টেস্টে। আগামী ১৬ মে থেকে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই অনুশীলনে নেমেছে দুই দল। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ওপেনিং জুটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েল টিম ম্যানেজমেন্ট।
প্রথম টেস্টে ফিল্ডিং করার সময় ক্যাচ নিতে গিয়ে বুকে চোট পেয়েছিলেন সাদমান। আজ সিলেটে দলীয় অনুশীলনে ব্যাটিং করার সময় সেই চোট আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। মাত্র কয়েক বল খেলার পরই ব্যথার কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন বাঁহাতি ব্যাটার।
সাদমানের জায়গায় সুযোগ পাওয়া জাকির বাংলাদেশের হয়ে ১৩টি টেস্ট খেলেছেন। ২০২২ সালে অভিষেক টেস্টে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি ও পরের দুই টেস্টে ফিফটি করলেও ধারাবাহিকতার অভাবে জায়গা হারান ২৮ বছর বয়সী বাঁহাতি ওপেনার। সবশেষ ২০২৪ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে লাল বলের ক্রিকেটে ছিলেন তিনি।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট যুগে প্রবেশ করছে সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি এই বছরের শেষের দিকে তাদের প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আয়োজন করতে যাচ্ছে। 'ডুনস লিগ টি-টোয়েন্টি' নামের এই আসরটি আগামী অক্টোবরে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সৌদি আরব ক্রিকেট ফেডারেশন (এসএসিএফ) এই লিগের অনুমোদন দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সম্প্রতি অবসর নেওয়া কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এখনও নিয়মিত খেলছেন—এমন তারকাদের এই টুর্নামেন্টে দেখা যাবে।
মোট ছয়টি দল নিয়ে এই লিগটি জেদ্দার কাছের শহর তায়েফে অনুষ্ঠিত হবে। স্পোর্টস এশিয়ান নেটওয়ার্ক এবং দুটি নামী ট্যালেন্ট এজেন্সির সঙ্গে মিলে এই প্রজেক্টটি সাজানো হয়েছে। স্পোর্টস এশিয়ান নেটওয়ার্ক এবং দুটি শীর্ষস্থানীয় ট্যালেন্ট এজেন্সির অংশীদারিত্বে এই লিগটি তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিক স্পোর্টস গ্রুপের ক্লায়েন্ট তালিকায় রয়েছেন জোফ্রা আর্চার, আর অভিষেক শর্মার ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে রয়েছে ‘প্রোলিথিক’। ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং এই লিগের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করবেন।
সৌদি আরব ক্রিকেট ফেডারেশন জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য হলো সৌদি আরবকে বিশ্বের ক্রিকেট মানচিত্রে জায়গা করে দেওয়া এবং স্থানীয় প্রতিভাদের মানোন্নয়ন করা।
নিয়মের মারপ্যাঁচে আইসিসি-র সরাসরি অনুমোদন এড়াতে এই লিগটি একটি বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রতিটি দলে সর্বোচ্চ চারজন এমন খেলোয়াড় থাকতে পারবেন যারা গত দুই বছরের মধ্যে কোনো পূর্ণ সদস্য দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। এই সীমা বজায় রাখলে টুর্নামেন্টটি আইসিসি-র বিশেষ কাঠামোর মধ্যেই পড়ে যায়। শোনা যাচ্ছে, এই লিগে খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ বেতন হতে পারে ১ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত।
তেল সমৃদ্ধ এই দেশ সৌদি আরব গত পাঁচ বছর ধরে ফুটবল, টেনিস এবং বক্সিংয়ের মতো বড় বড় ইভেন্ট আয়োজন করে ক্রীড়াবিশ্বে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে। এমনকি তারা 'লিভ গলফ' (নামে একটি লিগও চালু করেছিল, যদিও সম্প্রতি তারা এই মৌসুম শেষে সেখান থেকে বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন ছিল যে, সৌদি আরব আইপিএল-এর প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো বড় ক্রিকেট লিগ আনবে, কিন্তু বাস্তবে তাদের ক্রিকেটে প্রবেশটা হচ্ছে বেশ ধীরে ও সুশৃঙ্খলভাবে।
ইতিমধ্যেই তারা আইসিসি-র বিভিন্ন ইভেন্টের স্পনসর হয়েছে এবং আইপিএলের ২০২৪ আসরের আইপিএল আয়োজন করেছে। এছাড়া তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টি লিগের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে এবং নারীদের ফেয়ারব্রেক টি-টোয়েন্টি আয়োজনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিও সেরে রেখেছে। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতার কারণে নারীদের সেই টুর্নামেন্টটি আপাতত স্থগিত রয়েছে। সেই জায়গা থেকে 'ডুনস লিগ' সৌদি আরবের নিজস্ব ক্রিকেট যাত্রার এক বড় মাইলফলক হতে পারে।

বাংলাদেশের ক্রিকেট অবকাঠামো উন্নয়নে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাডহক কমিটির সদস্য সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে অবস্থিত ইউএই দূতাবাসে দেশটির রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী আব্দুল্লাহ আলহামদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউএই’র মধ্যকার ক্রিকেট সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নয়নে ইউএই সরকারের আগ্রহের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
আলোচনায় আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ, আধুনিক টার্ফ সুবিধা, ইনডোর ট্রেনিং অবকাঠামো এবং বায়োমেকানিক্যাল সেন্টার প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স উন্নয়নে স্পোর্টস সায়েন্স ও প্রযুক্তিনির্ভর সহযোগিতার বিষয়ও গুরুত্ব পায়।
ক্রিকেটের বাইরেও বাংলাদেশে সোলার এনার্জি ও এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউএই।
বৈঠক শেষে সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ বলেন,
“বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিতে হলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউএই’র মতো একটি দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব দেশের ক্রিকেটের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন,
‘‘তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং দেশের ক্রিকেট কাঠামোকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। ইউএই শুধু ক্রিকেট নয়, স্পোর্টসের কেন্দ্র গড়ে তুলেছে৷ তাদের অবকাঠামো অনেক উন্নত। আমরা চেষ্টা করবো তাদের সঙ্গে অবকাঠামোগত দিকগুলো নিয়ে কাজ করতে।’’
এসময় ইউএই রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক সাফল্যে শুভকামনা জানিয়েছেন।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে সেরা পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পেয়েছেন নাহিদ রানা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) এপ্রিলের ‘প্লেয়ার অব দ্য মান্থ’ হয়েছেন বাংলাদেশের এই তরুণ ডানহাতি পেসার। ওমানের ব্যাটার যতিন্দর সিং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রিকেটার আজয় কুমারকে পেছনে ফেলেছেন তিনি।
সফরকারী নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৮ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ। তাঁর বোলিং গড় ছিল ১৬.৭৫ এবং ইকোনমি রেট ৪.৪৬। সিরিজসেরার পুরস্কারও জেতেন তিনি।
মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল নাহিদ। ৩২ রানে নেন ৫ উইকেট। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ১টি ও তৃতীয় ওয়ানডেতে নেন আরও ২ উইকেট।
নিউ জিল্যান্ডের মতো একটি বিশ্বমানের দলের বিপক্ষে ভালো পারফর্ম করার পর আইসিসি ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ নির্বাচিত হওয়াটা দারুণ এক অনুভূতি বলে জানিয়েছেন নাহিদ।
প্রথমবার আইসিসির মাসসেরা হওয়ার পর নাহিদ বলেন, ‘ঘরের মাঠে পারফর্ম করে দলকে জেতাতে পারা এই সিরিজটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে, যা আমি সবসময় হৃদয়ে লালন করব।’
পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘‘আমি আমার সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞ, পুরো সময় জুড়ে আমার ওপর তাদের নিরন্তর সমর্থন ও বিশ্বাসের জন্য। আশা করি, দলের হয়ে আরও অনেক জয় এবং স্মরণীয় মুহূর্তে এভাবেই অবদান রেখে যেতে পারব।”
পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেও সফলতা পাচ্ছেন নাহিদ। ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে একটি এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ফাইফারের দেখা পান তিনি। ম্যাচটিতে বড় ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দেশের মাঠে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানকে হারানোর স্বাদ পায় নাজমুল হোসেন শান্তরা।