২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ৮:২৪ পিএম

নিউজিল্যান্ডের কাছে হারের পর বাংলাদেশ সহ-অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ বলেছেন, ৩০০-৩১০ রান করলে জিততে পারত বাংলাদেশ। আর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তুলে ধরেছেন বিদেশের মাটিতে ভালো ক্রিকেট না খেলতে পারার বিষয়টি। দুজনের দুই রকমের মন্তব্যে আপনার মনে একটা প্রশ্ন জাগতেই পারে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কি স্রেফ খেলার জন্যই খেলছে বাংলাদেশ নাকি খেলোয়াড়দের সামর্থ্য ছিল বড় কিছু করার?
প্রশ্নটা করা এই কারণেই, একই টুর্নামেন্টে যেখানে দলগুলো করছে ৩০০, এমনকি ৩৫০ প্লাস স্কোরও, সেখানে দুই ম্যাচেই যে ব্যাট হাতে খাবি খেল বাংলাদেশ। দুবাইয়ের উইকেটে বড় রান করাটা চ্যালেঞ্জই, তবে সেই ম্যাচে ভারতের সাথে ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে সেখানেই ম্যাচটা হেরে বসে দলটি। অথছ, ওই সময়ে না হয়েছে এমন কোনো দুর্দান্ত বোলিং, না উইকেটে ছিল কোনো জুজু। ব্যাটারদের দায়িত্বহীন শটে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসার প্রবণতায় শুরুতেই মেরুদণ্ড ভেঙে যায় দলের।
আরও পড়ুন
| ভেসে গেল অস্ট্রেলিয়া-দ.আফ্রিকা লড়াই, চাপ বাড়ল ইংল্যান্ডের |
|
একটা টুর্নামেন্টের শুরুটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে অমন ভয়াবহ এক ব্যাটিং ধসে বাংলাদেশ পায় ভুলে যাওয়ার এক অভিজ্ঞতা। এরপর টেনেটুনে ২২৮ করলেও ম্যাচে সেভাবে লড়াই আর জমাতেই পারেনি বাংলাদেশ। ইনিংসের মাঝে কয়েকটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছে ভারত, ক্যাচও পড়েছে একটা বটে, তবে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে যাবে এমনটাও মনে হয়নি প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তার গভীরতার কারণেই।
আর এখানেই চলে আসে সামর্থ্যের প্রশ্ন। ভারত এই টুর্নামেন্ট খেলছে দলের তো বটেই, বিশ্ব ক্রিকেটেরই অন্যতম সেরা পেসার জাসপ্রিত বুমরাহকে ছাড়া। অথচ ঠিকই তারা হেসেখেলে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচেই তাদের ব্যাটাররা জানান দিয়েছেন নিজেদের সামর্থ্যের। আর সেটা স্পষ্ট হয়েছে শুবমান গিল ও বিরাট কোহলির দুই সেঞ্চুরিতে।
ভারত ম্যাচে দ্রুত ৫ উইকেট হারানোর পরও বাংলাদেশ ২২৮ পর্যন্ত যেতে পেরেছিল তাওহীদ হৃদয়ের লড়াকু সেঞ্চুরির কারণেই। তবে নব্বইয়ের ঘরে যেতে ক্র্যাম্পের কারণে দাঁড়াতেই যেন পারছিলেন না এই তরুণ ব্যাটার। ফলে ২৫০ রানের ভিত থাকলেও তিনি শেষের দিকে সেভাবে রানই বের করতে পারেননি। অর্জন বলতে ওই তার শতকই।
একই ম্যাচে গিল ওপেন করতে নামেন ৫০ ওভার ফিল্ডিংয়ের ক্লান্তি নিয়ে। আর মাঠ ছাড়েন দলকে জিতিয়ে, অপরাজিত সেঞ্চুরিতে। একবারও ক্যাম্প হয়নি তার। ম্যাচ শেষেও তার প্রাণশক্তি বলে দিচ্ছিল, চাইলেই অনায়াসে আরও ৫০ ওভার ব্যাট করা সম্ভব তার পক্ষে। তাওহীদ বা বাংলাদেশের অন্য ব্যাটারদের সাথে সামর্থ্যের ফারাকটা এখানেই হয়ে যায় শীর্ষ ব্যাটারদের।
আরও পড়ুন
| ‘বড় মঞ্চে সাকিবের মত পারফর্ম করতে ব্যর্থ মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ’ |
|
অন্য উদাহারণটি হতে পারেন কোহলি। দুবাইয়ের গরমের মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে রান তাড়ায় তিনিও উপহার দেন ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি। চেজ মাস্টার খ্যাত এই ব্যাটার শতক করেছেন নব্বইয়ের বেশি স্ট্রাইক রেটে। চার মারেন মাত্র ৭টি। অর্থাৎ, বাউন্ডারি থেকে মাত্র ২৮ রান করেও তিনি দারুণ একটা স্ট্রাইক রেট বজায় রেখেছেন। দৌড়ে রানই নিয়েছেন ৭২টি।
এর একদিন বাদে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওপেন করতে নেমে রাওয়ালপিন্ডির ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে শান্ত ৭৭ রান করতে বল খেলেছেন ১১০টি। তিনি কোহলির চেয়ে চার মেরেছেন দুটি বেশি। তবে ডট বলের সংখ্যাও তার বেশি, ৬২টি। আর এখানেই চলে আসে বাংলাদেশ ব্যাটারদের সামর্থ্যের বিষয়টি। একজন ব্যাটার প্রায় ১০ ওভার যদি একটা রানও না বের করতে পারেন, সেই দলের ইনিংস কার্যত নেমে আসে ৪০ ওভারে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই একটা দলের জন্য ৩০০ পার করা স্কোর গড়ার কাজটা ভীষণ কঠিন হয়ে যায়।
তাওহীদের ওই একশ করার আগেই ফিটনেসের কমতি ফুটে ওঠা বা শান্তর ডট বলের হিড়িক যেন বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিটের দীনতাই ফুটিয়ে তোলে। অবশ্য দুই ম্যাচে সর্বোচ্চ রান করা দুজনকে উদাহারণ হিসেবে টেনে আনাটা কিছুটা দৃষ্টিকটু লাগতেই পারে। মন্দের ভালো তো ছিলেন তারাই।
তবে অন্যদের দিকে তাকালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ কেন আর কোন লক্ষ্যে খেলছে, তা নিয়েই যে প্রশ্ন জাগতে বাধ্য। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে রিকি পণ্টিং যখন বলেছিলেন, বাংলাদেশের কোনো সম্ভাবনাই দেখছেন না তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক সাধারণত ক্রিকেট নিয়ে ভুল ভবিষ্যৎবাণী কমই করেন।
দুই ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটাররা প্রমাণ দিয়েছেন, ভুল ছিলেন না পন্টিং। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যর্থ ছিলেন তিন অভিজ্ঞ সৌম্য সরকার, মেহেদি হাসান মিরাজ ও মুশফিকুর রহিম। এদের মধ্যে দুজনই আবার মারেন ডাক। তিনজনের আউটের ডেলিভারি ছিল না খুব বিশেষ কিছু।
তবে নিউজিল্যান্ড ম্যাচ যেন ছাড়িয়ে গেছে সেই ব্যর্থতার গল্পও। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে বিশের ঘরে ভালো শুরু পেয়েও আউট হয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। দুটি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞ একজন ব্যাটারের কাছ থেকে বড় ইনিংস তো দল আশা করতেই পারে। অবশ্য অভিজ্ঞতার বিচারে দলের সবচেয়ে প্রবীণ দুই ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহই তো করেছেন সবচেয়ে বেশি হতাশ।
ভারত ম্যাচ মিস করা মাহমুদউল্লাহ ১০৬ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর নেমে যেভাবে মিচেল ব্রেসওয়েলকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হয়েছেন, তা অবাক করেছে ধারাভাষ্যকারদের। এর আগে একই ভুল করেছেন মুশফিকুরও। অথচ ওই সময়ে তাদের দরকার ছিল দেখেশুনে খেলে ইনিংস মেরামতের। এই টুর্নামেন্টেই ৩৫১ রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়ার তুলনামূলক দুই অনভিজ্ঞ ব্যাটার জস ইংলিশ ও অ্যালেক্স কেরি যেভাবে জুটি গড়েছেন খুব বেশি আগ্রাসন না দেখিয়েই, তা বাংলাদেশের ২০ বছরের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের জন্য হতে পারে এক শিক্ষা। ডট বলের চাপ এলেও তারা সিঙ্গেলস বের করে সেটা সরিয়েছেন। কয়েকটা বল ডট গেলেই মুশফিকুর বা মাহমুদউল্লাহরা বারবার চাপের মুখে স্রেফ বড় শটেই নিস্তার চান, তা উদ্বেগজনকই।
আরও পড়ুন
| রান আউট-ক্যাচ মিসের আক্ষেপে বিদায় বাংলাদেশের |
|
যেহেতু তারা দুজনই আছেন ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায়, সেদিক থেকে বাংলাদেশের বড় চিন্তার কারণ হতে পারেন মিরাজ। মূলত বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে খেললেও এই দলে তিনি এখন নিয়মিত ব্যাট করছেন ওপরের দিকেই। মজার ব্যাপার হল, ওয়ানডেতে তার সেরা সব পারফরম্যান্স এসেছে ব্যাট হাতেই। অবশ্যই সাকিব আল হাসান যুগে এটা বাংলাদেশের জন্য দারুণ খবর। তবে মিরাজের মূল কাজ তো বল হাতে, কারণ দলের চতুর্থ বা পঞ্চম বোলার যে তিনিই।
সেই মিরাজ ১০৫টি ওয়ানডেতে নিয়েছেন মাত্র ১১০ উইকেট। গড়ে প্রতি উইকেট নিতে গুনেছেন ৪৫ রানের বেশি। দলের একজন মূল বোলার যখন দিনের পর দিন গড়পড়তা পারফরম্যান্স উপহার দিবেন, তখন সেটা দলকে বাড়তি চাপে ফেলবেই। হচ্ছেও তাই। মিরাজের করা ১০টি ওভার ওয়ানডেতে প্রতিপক্ষকে সেভাবে চাপে ফেলতেই পারছে না মাঝের ওভারে। ফলে নিউজিল্যান্ড ম্যাচের মত পেসাররা শুরুটা দারুণ কিছু করলেও মিরাজের স্পেলে প্রতিপক্ষ পাচ্ছে সহজ রান বের করার সুযোগ। তাতে চাপও যাচ্ছে আলগা হয়ে।
সব মিলিয়ে তাই এক ম্যাচ হাতে রেখেই আসর থেকে বিদায় নেওয়া বাংলাদেশ দল ব্যর্থ হল বিরেন্দর শেবাগকে একটা জবাব দিতে। সাবেক ভারত ওপেনার প্রথম ম্যাচের পর বলেছিলেন, দলটা বাংলাদেশ বলেই তাদের কাছে হারার চিন্তাও নাকি হয়নি তার। ওয়াসিম জাফর বা শেন বন্ডের মত সাবেকরা এমন তির্যক মন্তব্য না করলেও বলেছেন, বড় মঞ্চে বাংলাদেশের এমন বাজে প্রদর্শনী অবাক করেছে তাদের।
এই অবাক বিস্ময়ে আছেন বাংলাদেশের সমর্থকরাও, যারা ভারত ম্যাচের আগের দিন রাতে শান্ত-তাসকিন-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহদের দেখলেন সাবেক ওপেনার তামিম ইকবালের সাথে ডিনার করতে। যেখানে তৈলাক্ত খাবারের সাথে ছিল আবার কোমল পানীয়ও। টুর্নামেন্টে নিজেদের সবচেয়ে বড় ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের নিবেদনের এই চিত্র বলে দেয়, নিজেদের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা যেন তারা মেনে নেন মাঠে নামার আগেই।
ক্রিকেট পাগল একটা দেশের সমর্থকদের জন্য এই নির্মম সত্য মেনে নেওয়াটা কঠিনই বটে। কারণ, তারা যে প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশকে সেরাদের সেরা হওয়ার। তবে খেলোয়াড়দের সামর্থ্যের কমতি থাকা বা লড়াইয়ের আগে হালকা মেজাজে থাকাটা বলে দেয়, সময় এসেছে ‘রিয়েলিটি চেক’ দেওয়ার। শান্তরা সেটা পাবেন কি?
No posts available.
১২ মার্চ ২০২৬, ৮:০৬ পিএম

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টস জিতল বাংলাদেশ দল। সফরকারীদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
প্রথম ওয়ানডেতে ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। আজ মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজ লক্ষ্যে মাঠে নামছে স্বাগতিকেরা। পাকিস্তানের সুযোগ সিরিজ বাঁচানোর।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একাদশে কোনো পরিবর্তন নেই বাংলাদেশের। ছয় ব্যাটারের সঙ্গে দুই স্পিনার ও তিন পেসার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। পাকিস্তানের একাদশে অবশ্য একটি পরিবর্তন আছে। বাদ পড়েছেন লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ। তাঁর জায়গায় একাদশে ফিরেছেন অভিজ্ঞ পেসার হারিস রউফ।
২০১৫ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশ-পাকিস্তান কোনো দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে খলেছে। নিজেদের মাঠে আবারও সফরকারীদের সিরিজ হারানোর দারুণ সুযোগ তাসকিন-মোস্তাফিজদের।
আরও পড়ুন
| ট্রু উইকেটে বল করা চ্যালেঞ্জিং, বললেন মিরাজ |
|
এই সিরিজে ২-১ বা ৩-০ ব্যবধানে জয় পেলে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে নবম স্থানে উঠে আসবে বাংলাদেশ। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জনের দৌড়ে তাদের অবস্থান আরও সমৃদ্ধ হবে।
বাংলাদেশ একাদশ:
তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাস (উইকেটকিপার), আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), রিশাদ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা।
পাকিস্তান একাদশ:
সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, শামিল হুসাইন, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), সালমান আলী আগা, হুসাইন তালাত, আব্দুল সামাদ, ফাহিম আশরাফ, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র ও শাহিন শাহ আফ্রিদি (অধিনায়ক) ও হারিস রউফ।

লন্ডনের পিকাডিলি লাইটসে তখন বিডিং যুদ্ধ। পাঁচ দলের সেই যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জিতেছে লন্ডন স্পিরিট। সাসেক্সের ২১ বছর বয়সী তরুণ অলরাউন্ডার জেমস কোলস হয়তো ভাবতেও পারেননি তাকে নিয়ে এমন কাড়াকাড়ি হবে। কারণ, ২০২৬ দ্য হানড্রেডের নিলামে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন বিশ্বের বাঘা বাঘা সব নাম।
বৃহস্পতিবারের নিলামে কোলসকে নিয়ে বিডিংয়ের শুরুটা করেছিল সানরাইজার্স লিডস। এরপর যোগ দেয় ট্রেন্ট রকেটস। ৭৫ হাজার পাউন্ড ভিত্তিমূল্যের কোলসকে শেষ পর্যন্ত ৩ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে দলে ভেড়ায় লন্ডন স্পিরিট। সাহসী এই সিদ্ধান্তে নিলাম কক্ষেই উপস্থিত অনেকের প্রশংসা পায় দলটি।
কোলস এর আগে সাদার্ন ব্রেভের হয়ে খেলেছেন। তাকে দলে নিতে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস ও বার্মিংহাম ফিনিক্সও আগ্রহ দেখায়। মোট পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে প্রতিযোগিতা হয় তাকে পাওয়ার জন্য। শেষ পর্যন্ত স্পিরিটই তাকে দলে ভেড়ায়। যদিও মনে হচ্ছিল সানরাইজার্স লিডসই হয়তো তাকে কিনে নেবে।
নিলামে কোলসকে চতুর্থ সর্বোচ্চ দামে কেনা হয়েছে। তার আগে ইংল্যান্ডের জোফরা আর্চার ৪ লাখ পাউন্ডে সাদার্ন ব্রেভে, ফিল সল্ট ৪ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডে ওয়েলশ ফায়ারে এবং হ্যারি ব্রুক ৪ লাখ ৬৫ হাজার পাউন্ডে সানরাইজার্স লিডসে যোগ দেন। এই তিনজনকে অবশ্য নিলামের আগেই দলে নেয় তাদের ক্লাবগুলো।
প্রশ্ন উঠেছে—কেন কোলসকে নিয়ে এত আগ্রহ? আর কেনই বা তার দাম পড়েছে ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ক্রিকেটার জো রুটের চেয়েও প্রায় দেড় লাখ পাউন্ড বেশি?
সাসেক্সের হয়ে মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় কোলসের। ২০২০ সালে তিনি ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী অভিষিক্ত ক্রিকেটার হন।
২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলের সদস্য ছিলেন তিনি। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া সফর করা ইংল্যান্ড ‘লায়ন্স’ দলেও জায়গা পান।
লন্ডন স্পিরিটে তিনি কাজ করবেন ইংল্যান্ডের সাবেক কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের অধীনে। গত অক্টোবরে ট্রেন্ট রকেটস ছেড়ে স্পিরিটের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন ফ্লাওয়ার।
কোলসকে দলে নেওয়ার বিষয়ে ফ্লাওয়ার বলেন, তিনি আগে থেকেই এই ক্রিকেটারকে চেনেন। তার ভাই গ্রান্ট ফ্লাওয়ার সাসেক্সে ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করেন এবং সেখানেই কোলসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতাতেও কোলসের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে তার।
ফ্লাওয়ারের মতে, কোলস একজন অলরাউন্ডার। নিলামে এমন ক্রিকেটারদের দাম সাধারণত বেশি হয়। সব ধরনের ক্রিকেটেই এখন ভালো করছেন তিনি।

শুরুর দিকে নাহিদ রানার তোপ। এরপর ঘূর্ণি বিষ নিয়ে হাজির মেহেদী হাসান মিরাজ। তাতেই তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে শিরদাঁড়া টান করে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮ উইকেটে হেরে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ ওয়ানডে সিরিজ শুরু অতিথিদের।
শাহিন আফ্রিদিদের বিপক্ষে পেসার নাহিদ রানার ফাইফারের ছায়ায় কিছুটা আড়াল হয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের কৃতিত্ব। তবে অতিথিদের ১২৪ রানে আটকে ফেলতে কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না তার ৩ উইকেট। বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন জানালেন, নিজেকে ফিরে পেতে বেশ কয়েকদিন ধরেই জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
শুক্রবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে দ্বিতীয় ও সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে নামবে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগের দিন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় নিজের বোলিং নিয়ে তিনি কথা বললেন।
আরও পড়ুন
| মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে পটারের সঙ্গে চুক্তি বাড়াল সুইডেন |
|
মিরাজ বলেন, ‘বেশ কয়েকদিন ধরেই বোলিং নিয়ে কাজ করছি আমি। মাঝখানে বোলিং নিয়ে স্ট্রাগল করছিলাম। কোথায় আমার উন্নতি করতে হবে সেটা আমি খুব ভালো করেই জানি। সেটা নিয়ে আমি কাজ করেছি। বিসিএলে দুটো ম্যাচ খেলেছি, সেখানেও কাজ করার চেষ্টা করেছি।’
খানিক বিলম্ব হলেও নিজেকে ফিরে পেয়ে খুশি মিরাজ। প্রথম ম্যাচে নিজের বোলিং পারফরম্যান্সের ওপর সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন তিনি, ‘আলহামদুলিল্লাহ কাল আমার বোলিংয়ের অনেক বেশি কন্ট্রোল ছিল এবং লাইন-লেন্থ অনেক ভালো জায়গায় ছিল। উইকেট অনেক ভালো ছিল। এই উইকেটে লাইন-লেন্থ মেইনটেইন করে যদি বল করতে না পারতাম, রান হয়ে যেত, উইকেটও বের করতে পারতাম না।’
সিরিজের আগে ট্রু উইকেটে কথা বলেছিলেন মেহেদী। দ্বিতীয় ম্যাচের আগেই সেই ট্রু উইকেট নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। জানিয়েছেন, ট্রু উইকেট স্পিনারদের জন্য একটু কঠিনই।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু ট্রু উইকেটে খেলছি, স্পিনারের জন্য ট্রু উইকেটে বল করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। যদি ভালো জায়গায় বল করতে পারি, লাইন লেন্থ ঠিক রাখতে পারি, আমার কাছে মনে হয় সফল হওয়ার সুযোগ বেশি থাকবে।’

বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ইংল্যান্ডের একশ বলের ক্রিকেট ‘দ্য হান্ড্রেড’ নিলামে দল পেলেন মোস্তাফিজুর রহমান। টুর্নামেন্টের সামনের সংস্করণে বার্মিংহাম ফিনিক্সের জার্সিতে দেখা যাবে বাংলাদেশের কাটার মাস্টারকে।
লন্ডনে বৃহস্পতিবার বিকেলে শুরু হওয়া নিলামের শেষ দিকে গিয়ে দল পান মোস্তাফিজ। তাকে ভিত্তিমূল্য ১ লাখ পাউন্ডেই কিনে নিয়েছে ফিনিক্স। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বেশি।
মোস্তাফিজের আগে নিলামে নাম উঠেছিল বাংলাদেশের তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের। তবে তার প্রতি আগ্রহ দেখায়নি কোনো দল। তাই হান্ড্রেডে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে থাকবেন মোস্তাফিজই।
একশ বলের এই টুর্নামেন্টে প্রধান কোচ হিসেবে নিউ জিল্যান্ড দলের সাবেক গতি তারকা শেন বন্ডকে পাবেন মোস্তাফিজ। এই দলটিতে নিলামের আগেই সরাসরি চুক্তিতে জায়গা পেয়েছেন জ্যাকব বেথেল, রেহান আহমেদ, মিচেল ওয়েন ও ডনোভান ফেরেইরা।
দ্য হান্ড্রেডের আগে চলতি বছরের আইপিএল ও পিএসএলেও দল পেয়েছিলেন মোস্তাফিজ। তবে নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে মোস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। তাই এখন পিএসএলে দেখা যাবে তাকে।
আগামী ২১ জুলাই শুরু হবে দ্য হান্ড্রেডের নতুন সংস্করণ। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা বিবেচনায় ইংল্যান্ডের এই টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়ার অনুমতি পেতে পারেন অভিজ্ঞ পেসার।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কায় এক নারীর সঙ্গে অসাদাচরণের অভিযোগ ওঠে সালমান মির্জার বিরুদ্ধে। তবে পাকিস্তানি এই পেসার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে প্রচারিত ওই প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা ও মানহানিকর’ বলে অভিযোগ করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সালমান মির্জার আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ নাকি টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করেছিল। এছাড়া সেখানে আরও দাবি করা হয়, আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তাকে জরিমানাও করেছিল। তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন মির্জা এবং এ কারণেই সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।
সালমান মির্জার পাঠানো আইনি নোটিশে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, পিসিবি তাদের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশ্যে এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে এবং প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যকে বিদ্বেষপূর্ণ, মনগড়া ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, মির্জার ওপর কোনো জরিমানাও আরোপ করা হয়নি। যাচাই-বাছাই ছাড়াই খবরটি প্রকাশ করায় মির্জা, পিসিবি এবং পুরো পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এছাড়া ওই প্রতিবেদনে বাঁহাতি এই পেসারকে অসম্মানজনক ও অপেশাদার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে, যা জনসাধারণ ও ক্রিকেট মহলের চোখে তার মর্যাদা কমিয়ে দিয়েছে।
নোটিশে আরও দাবি করা হয়, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ও প্রতিবেদক তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। যথাযথ যাচাই ছাড়া বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্যে তথ্য প্রকাশ করে তারা পেশাদার সাংবাদিকতার নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন।
১৭টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করা মির্জা নিজের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম রক্ষার জন্য আইনি প্রতিকার চাইছেন।
সালমান মির্জা দৃঢ়ভাবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন এবং প্রকাশ্যে প্রতিবেদনটির সমালোচনা করেছেন। পাকিস্তানি ফাস্ট বোলারের ভাষায় এটি দায়িত্বহীন কাজ যে যাচাই না করা তথ্য প্রচার করা। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন,
‘মিডিয়ায় একটি অবাস্তব খবর প্রচারিত হচ্ছে এবং আমি এই ধরনের সস্তা সাংবাদিকতা দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানাচ্ছি। কোনো মিডিয়া হাউস যাচাই না করা কোনো খবর সম্প্রচার করতে পারবে না।’
পিসিবিও অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে এবং খেলোয়াড়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। বোর্ড সাংবাদিকের কাছ থেকে একটি প্রকাশ্য ক্ষমা দাবি করেছে এবং সতর্ক করেছে যে, বিষয়টি সমাধান না হলে তারা ব্যবস্থা নেবে।