২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ৮:২৪ পিএম

নিউজিল্যান্ডের কাছে হারের পর বাংলাদেশ সহ-অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ বলেছেন, ৩০০-৩১০ রান করলে জিততে পারত বাংলাদেশ। আর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তুলে ধরেছেন বিদেশের মাটিতে ভালো ক্রিকেট না খেলতে পারার বিষয়টি। দুজনের দুই রকমের মন্তব্যে আপনার মনে একটা প্রশ্ন জাগতেই পারে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কি স্রেফ খেলার জন্যই খেলছে বাংলাদেশ নাকি খেলোয়াড়দের সামর্থ্য ছিল বড় কিছু করার?
প্রশ্নটা করা এই কারণেই, একই টুর্নামেন্টে যেখানে দলগুলো করছে ৩০০, এমনকি ৩৫০ প্লাস স্কোরও, সেখানে দুই ম্যাচেই যে ব্যাট হাতে খাবি খেল বাংলাদেশ। দুবাইয়ের উইকেটে বড় রান করাটা চ্যালেঞ্জই, তবে সেই ম্যাচে ভারতের সাথে ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে সেখানেই ম্যাচটা হেরে বসে দলটি। অথছ, ওই সময়ে না হয়েছে এমন কোনো দুর্দান্ত বোলিং, না উইকেটে ছিল কোনো জুজু। ব্যাটারদের দায়িত্বহীন শটে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসার প্রবণতায় শুরুতেই মেরুদণ্ড ভেঙে যায় দলের।
আরও পড়ুন
| ভেসে গেল অস্ট্রেলিয়া-দ.আফ্রিকা লড়াই, চাপ বাড়ল ইংল্যান্ডের |
|
একটা টুর্নামেন্টের শুরুটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে অমন ভয়াবহ এক ব্যাটিং ধসে বাংলাদেশ পায় ভুলে যাওয়ার এক অভিজ্ঞতা। এরপর টেনেটুনে ২২৮ করলেও ম্যাচে সেভাবে লড়াই আর জমাতেই পারেনি বাংলাদেশ। ইনিংসের মাঝে কয়েকটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছে ভারত, ক্যাচও পড়েছে একটা বটে, তবে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে যাবে এমনটাও মনে হয়নি প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তার গভীরতার কারণেই।
আর এখানেই চলে আসে সামর্থ্যের প্রশ্ন। ভারত এই টুর্নামেন্ট খেলছে দলের তো বটেই, বিশ্ব ক্রিকেটেরই অন্যতম সেরা পেসার জাসপ্রিত বুমরাহকে ছাড়া। অথচ ঠিকই তারা হেসেখেলে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচেই তাদের ব্যাটাররা জানান দিয়েছেন নিজেদের সামর্থ্যের। আর সেটা স্পষ্ট হয়েছে শুবমান গিল ও বিরাট কোহলির দুই সেঞ্চুরিতে।
ভারত ম্যাচে দ্রুত ৫ উইকেট হারানোর পরও বাংলাদেশ ২২৮ পর্যন্ত যেতে পেরেছিল তাওহীদ হৃদয়ের লড়াকু সেঞ্চুরির কারণেই। তবে নব্বইয়ের ঘরে যেতে ক্র্যাম্পের কারণে দাঁড়াতেই যেন পারছিলেন না এই তরুণ ব্যাটার। ফলে ২৫০ রানের ভিত থাকলেও তিনি শেষের দিকে সেভাবে রানই বের করতে পারেননি। অর্জন বলতে ওই তার শতকই।
একই ম্যাচে গিল ওপেন করতে নামেন ৫০ ওভার ফিল্ডিংয়ের ক্লান্তি নিয়ে। আর মাঠ ছাড়েন দলকে জিতিয়ে, অপরাজিত সেঞ্চুরিতে। একবারও ক্যাম্প হয়নি তার। ম্যাচ শেষেও তার প্রাণশক্তি বলে দিচ্ছিল, চাইলেই অনায়াসে আরও ৫০ ওভার ব্যাট করা সম্ভব তার পক্ষে। তাওহীদ বা বাংলাদেশের অন্য ব্যাটারদের সাথে সামর্থ্যের ফারাকটা এখানেই হয়ে যায় শীর্ষ ব্যাটারদের।
আরও পড়ুন
| ‘বড় মঞ্চে সাকিবের মত পারফর্ম করতে ব্যর্থ মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ’ |
|
অন্য উদাহারণটি হতে পারেন কোহলি। দুবাইয়ের গরমের মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে রান তাড়ায় তিনিও উপহার দেন ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি। চেজ মাস্টার খ্যাত এই ব্যাটার শতক করেছেন নব্বইয়ের বেশি স্ট্রাইক রেটে। চার মারেন মাত্র ৭টি। অর্থাৎ, বাউন্ডারি থেকে মাত্র ২৮ রান করেও তিনি দারুণ একটা স্ট্রাইক রেট বজায় রেখেছেন। দৌড়ে রানই নিয়েছেন ৭২টি।
এর একদিন বাদে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওপেন করতে নেমে রাওয়ালপিন্ডির ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে শান্ত ৭৭ রান করতে বল খেলেছেন ১১০টি। তিনি কোহলির চেয়ে চার মেরেছেন দুটি বেশি। তবে ডট বলের সংখ্যাও তার বেশি, ৬২টি। আর এখানেই চলে আসে বাংলাদেশ ব্যাটারদের সামর্থ্যের বিষয়টি। একজন ব্যাটার প্রায় ১০ ওভার যদি একটা রানও না বের করতে পারেন, সেই দলের ইনিংস কার্যত নেমে আসে ৪০ ওভারে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই একটা দলের জন্য ৩০০ পার করা স্কোর গড়ার কাজটা ভীষণ কঠিন হয়ে যায়।
তাওহীদের ওই একশ করার আগেই ফিটনেসের কমতি ফুটে ওঠা বা শান্তর ডট বলের হিড়িক যেন বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিটের দীনতাই ফুটিয়ে তোলে। অবশ্য দুই ম্যাচে সর্বোচ্চ রান করা দুজনকে উদাহারণ হিসেবে টেনে আনাটা কিছুটা দৃষ্টিকটু লাগতেই পারে। মন্দের ভালো তো ছিলেন তারাই।
তবে অন্যদের দিকে তাকালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ কেন আর কোন লক্ষ্যে খেলছে, তা নিয়েই যে প্রশ্ন জাগতে বাধ্য। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে রিকি পণ্টিং যখন বলেছিলেন, বাংলাদেশের কোনো সম্ভাবনাই দেখছেন না তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক সাধারণত ক্রিকেট নিয়ে ভুল ভবিষ্যৎবাণী কমই করেন।
দুই ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটাররা প্রমাণ দিয়েছেন, ভুল ছিলেন না পন্টিং। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যর্থ ছিলেন তিন অভিজ্ঞ সৌম্য সরকার, মেহেদি হাসান মিরাজ ও মুশফিকুর রহিম। এদের মধ্যে দুজনই আবার মারেন ডাক। তিনজনের আউটের ডেলিভারি ছিল না খুব বিশেষ কিছু।
তবে নিউজিল্যান্ড ম্যাচ যেন ছাড়িয়ে গেছে সেই ব্যর্থতার গল্পও। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে বিশের ঘরে ভালো শুরু পেয়েও আউট হয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। দুটি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞ একজন ব্যাটারের কাছ থেকে বড় ইনিংস তো দল আশা করতেই পারে। অবশ্য অভিজ্ঞতার বিচারে দলের সবচেয়ে প্রবীণ দুই ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহই তো করেছেন সবচেয়ে বেশি হতাশ।
ভারত ম্যাচ মিস করা মাহমুদউল্লাহ ১০৬ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর নেমে যেভাবে মিচেল ব্রেসওয়েলকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হয়েছেন, তা অবাক করেছে ধারাভাষ্যকারদের। এর আগে একই ভুল করেছেন মুশফিকুরও। অথচ ওই সময়ে তাদের দরকার ছিল দেখেশুনে খেলে ইনিংস মেরামতের। এই টুর্নামেন্টেই ৩৫১ রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়ার তুলনামূলক দুই অনভিজ্ঞ ব্যাটার জস ইংলিশ ও অ্যালেক্স কেরি যেভাবে জুটি গড়েছেন খুব বেশি আগ্রাসন না দেখিয়েই, তা বাংলাদেশের ২০ বছরের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের জন্য হতে পারে এক শিক্ষা। ডট বলের চাপ এলেও তারা সিঙ্গেলস বের করে সেটা সরিয়েছেন। কয়েকটা বল ডট গেলেই মুশফিকুর বা মাহমুদউল্লাহরা বারবার চাপের মুখে স্রেফ বড় শটেই নিস্তার চান, তা উদ্বেগজনকই।
আরও পড়ুন
| রান আউট-ক্যাচ মিসের আক্ষেপে বিদায় বাংলাদেশের |
|
যেহেতু তারা দুজনই আছেন ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায়, সেদিক থেকে বাংলাদেশের বড় চিন্তার কারণ হতে পারেন মিরাজ। মূলত বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে খেললেও এই দলে তিনি এখন নিয়মিত ব্যাট করছেন ওপরের দিকেই। মজার ব্যাপার হল, ওয়ানডেতে তার সেরা সব পারফরম্যান্স এসেছে ব্যাট হাতেই। অবশ্যই সাকিব আল হাসান যুগে এটা বাংলাদেশের জন্য দারুণ খবর। তবে মিরাজের মূল কাজ তো বল হাতে, কারণ দলের চতুর্থ বা পঞ্চম বোলার যে তিনিই।
সেই মিরাজ ১০৫টি ওয়ানডেতে নিয়েছেন মাত্র ১১০ উইকেট। গড়ে প্রতি উইকেট নিতে গুনেছেন ৪৫ রানের বেশি। দলের একজন মূল বোলার যখন দিনের পর দিন গড়পড়তা পারফরম্যান্স উপহার দিবেন, তখন সেটা দলকে বাড়তি চাপে ফেলবেই। হচ্ছেও তাই। মিরাজের করা ১০টি ওভার ওয়ানডেতে প্রতিপক্ষকে সেভাবে চাপে ফেলতেই পারছে না মাঝের ওভারে। ফলে নিউজিল্যান্ড ম্যাচের মত পেসাররা শুরুটা দারুণ কিছু করলেও মিরাজের স্পেলে প্রতিপক্ষ পাচ্ছে সহজ রান বের করার সুযোগ। তাতে চাপও যাচ্ছে আলগা হয়ে।
সব মিলিয়ে তাই এক ম্যাচ হাতে রেখেই আসর থেকে বিদায় নেওয়া বাংলাদেশ দল ব্যর্থ হল বিরেন্দর শেবাগকে একটা জবাব দিতে। সাবেক ভারত ওপেনার প্রথম ম্যাচের পর বলেছিলেন, দলটা বাংলাদেশ বলেই তাদের কাছে হারার চিন্তাও নাকি হয়নি তার। ওয়াসিম জাফর বা শেন বন্ডের মত সাবেকরা এমন তির্যক মন্তব্য না করলেও বলেছেন, বড় মঞ্চে বাংলাদেশের এমন বাজে প্রদর্শনী অবাক করেছে তাদের।
এই অবাক বিস্ময়ে আছেন বাংলাদেশের সমর্থকরাও, যারা ভারত ম্যাচের আগের দিন রাতে শান্ত-তাসকিন-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহদের দেখলেন সাবেক ওপেনার তামিম ইকবালের সাথে ডিনার করতে। যেখানে তৈলাক্ত খাবারের সাথে ছিল আবার কোমল পানীয়ও। টুর্নামেন্টে নিজেদের সবচেয়ে বড় ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের নিবেদনের এই চিত্র বলে দেয়, নিজেদের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা যেন তারা মেনে নেন মাঠে নামার আগেই।
ক্রিকেট পাগল একটা দেশের সমর্থকদের জন্য এই নির্মম সত্য মেনে নেওয়াটা কঠিনই বটে। কারণ, তারা যে প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশকে সেরাদের সেরা হওয়ার। তবে খেলোয়াড়দের সামর্থ্যের কমতি থাকা বা লড়াইয়ের আগে হালকা মেজাজে থাকাটা বলে দেয়, সময় এসেছে ‘রিয়েলিটি চেক’ দেওয়ার। শান্তরা সেটা পাবেন কি?
No posts available.

বেলজিয়ামভিত্তিক ইউরোপীয় টি–টোয়েন্টি লিগে (ইইউটি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম) নাম লিখিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ ব্যাটার রাসি ফন ডার ডুসেন। ২০২৬ সালে শুরু হতে যাওয়া এই লিগের জন্য নিবন্ধন করা প্রথম বড় তারকাই তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই ইউরোপের নতুন এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিজের আগ্রহের কথা জানান ফন ডার ডুসেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা ইইউটি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম লিগের প্রথম আসর হওয়ার কথা আগামী বছরের মে–জুনে। ছয়টি দল নিয়ে আয়োজন করা হবে এই টুর্নামেন্ট, যেখানে অংশ নেবে অ্যান্টওয়ার্প, ব্রুজ, লুভেন, লিয়েজ, গেন্ট ও ব্রাসেলস শহরের প্রতিনিধিরা। লিগটির অ্যাম্বাসাডর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মরগান।
বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এসএ-টোয়েন্টিতে এমআই কেপটাউনের হয়ে খেলছেন ডুসেন। গত বছরের মেগা নিলামে তাঁকে আবার দলে ফেরায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। চলতি মৌসুমে পাঁচ ইনিংসে ১৩৮ রান করে তিনি এখন পর্যন্ত সপ্তম সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৩৩.৯৮, যা শীর্ষ দশ রানসংগ্রাহকের মধ্যে সবচেয়ে কম।
এর আগে ২০২৫–২৬ মৌসুমের সিএসএ টি–টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জেও ব্যাট হাতে ধারাবাহিক ছিলেন ডুসেন। ছয় ইনিংসে ২৭৫ রান করে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হন তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডুসেনের সবশেষ উপস্থিতি ছিল ২০২৫ সালের আগস্টে। অস্ট্রেলিয়া সফরে দক্ষিণ আফ্রিকার সাদা বলের দলে ছিলেন তিনি এবং তিনটি টি–টোয়েন্টির মধ্যে দুটিতে খেলেন। ওয়ানডেতে তাঁর শেষ ম্যাচ ছিল ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। আর টেস্ট ক্রিকেটে ২০২২ সালের পর আর দেখা যায়নি তাঁকে।
২০২২ সালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ওয়ানডে ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে ক্যারিয়ার–সেরা দুই নম্বরে উঠেছিলেন ডুসেন। সে বছর নয় ম্যাচে ৪৭৬ রান করেছিলেন, গড় ছিল ৭৯.৩৩ এবং স্ট্রাইক রেট ১০০.৪২। করেছিলেন দুটি করে সেঞ্চুরি ও ফিফটি।

এবারের বিপিএলে দারুণ ছন্দে আছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। আর পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা এই ফ্রাঞ্চাইজিটির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছিলেন অ্যাডাম রসিংটন। তবে চট্টগ্রামের জন্য বড় দুঃসংবাদ, দলটির ইংলিশ এই ব্যাটার চোটে পড়ে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছেন।
গতকাল সিলেটে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ের সময় ওই চোট পান রসিংটন। বিনুরা ফার্নান্দোর খানিকটা লাফিয়ে ওঠা বল আঘাত করে অ্যাডাম রসিংটনের আঙুলে, ব্যাথায় কাতর হয়ে ওঠা এই ব্যাটার মাঠে শুশ্রূষার পর আবার ব্যাটিং চালিয়ে গেছেন যান। তবে খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। পুরোনো চোটের জায়গাতেই নাকি আবার আঘাত পেয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
বিপিএলের এবারের আসরে আর খেলার সুযোগ না থাকায় নিজ দেশের ফিরছেন রসিংটন এক ভিডিওবার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের টিম ম্যানেজার নাফিস ইকবাল খান। নাফিস জানান,
‘রসিংটনের যে আঙুলে চোট লেগেছে সেখানে আগেও চোট ছিল তার। গতকাল ইনজুরির পর আঙুলের স্ক্যান করানো হয়। তাকে ২ সপ্তাহ বিশ্রামের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। আর সে কারণেই এবার দেশে ফিরে যাচ্ছেন তিনি। নাফিস জানিয়েছেন, রসিংটনের জায়গায় বিকল্প ব্যাটারের সন্ধান শুরু করে দিয়েছে চট্টগ্রাম।’
বিপিএলে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান করেছেন রসিংটন। প্রথমবার বিপিএল খেলতে এসে ৬৫.৫০ গড় ও ১৩৯.৪৫ স্ট্রাইক রেটে ২৫৮ রান করেছেন তিনি। মোহাম্মদ নাঈম শেখের সঙ্গে বেশ কার্যকর উদ্বোধনী জুটি গড়ে তুলেছিলেন রসিংটন। এছাড়া উইকেটের পেছনেও অসাধারণ ৩২ বছর বয়সী ক্রিকেটার। এক ম্যাচে চার স্টাম্পিংয়ের রেকর্ডও করেছেন।
এবারের বিপিএল শুরুর আগে মালিকানা নিয়ে জটিলতা দেখা গেলেও টুর্নামেন্ট শুরুর পর সবাইকে চমকে দিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচ খেলে ৫ জয় নিয়ে টেবিলের শীর্ষে আছে ফ্রাঞ্চাজিটি। এরমধ্যেই সেরা তারকাকে হারানো বড় ধাক্কাই দলটির জন্য। চট্টগ্রামের পরের ম্যাচ আগামী বৃহস্পতিবার মিরপুরে নোয়াখালীর বিপক্ষে।

দুইদিন আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলেছিলেন উসমান খাজা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেও ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান এই ব্যাটার। অবসরের দু’দিন পর বিগ ব্যাশে মাঠে নেমেই ম্যাচসেরা হলেন খাজা।
ব্রিসবেনে আজ প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ডেভিড ওয়ার্নারের ৮২ রানের ইনিংসে ভর করে ৬ উইকেটে ১৮০ রান তোলে সিডনি থান্ডার। জবাবে উসমান খাজার ৪৮ বলে ৭৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের নৈপুণ্যে ২২ বল আর ৭ উইকেট হাতে রেখে জয় পায় ব্রিসবেন হিট।
রান তাড়ায় ম্যাট রেনশোর সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৯৩ রানের জুটি গড়েন খাজা। ম্যাচে ৩০ বলে ফিফটি তুলে নেন তিনি। খাজার ৭৮ রানের ইনিংসে ছিল ৭ টি চার ও ৩ টি ছক্কা।
জয় থেকে মাত্র ৫ রান দূরে থাকতে আউট হন ব্রিসবেন হিট অধিনায়ক খাজা। সাজঘরে ফেরার সময় দর্শকরা দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান সদ্য বিদায়ী ওপেনারকে।
গত ২ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধ্যায়ের ইতি টানার ঘোষণা দেন খাজা। সিডনিতে অ্যাশেজের পঞ্চম টেস্ট খেলার মধ্য দিয়ে ঘরের মাঠ থেকে ৮ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন তিনি।
টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে ৮৮ ম্যাচে ৬,২২৯ রান করেছেন খাজা। ওয়ানডেতে ৪০ ম্যাচে করেছেন ১৫৫৪ রান, টি-টোয়েন্টিতে ৯ ম্যাচে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই বাঁহাতি ওপেনার করেছেন ২৪১ রান।
বিগ ব্যাশে ৮ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার পাঁচ নম্বরে ব্রিসবেন হিট। ১৪ জানুয়ারি হোবার্ট হারিকেন্সের বিপক্ষে মাঠে নামবে উসমান খাজার ব্রিসবেন হিট।

ক্রিকেট খেলতে খেলতেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ভারতের ক্রিকেটার খাওলহরিং লালরেমরুয়াতা। বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি ক্রিকেট ম্যাচ খেলার সময় হঠাৎ মাঠে লুটিয়ে পড়েন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৩৮ বছর।
রাইডার্স ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খালেদ মেমোরিয়াল দ্বিতীয় বিভাগ স্ক্রিনিং টুর্নামেন্টে খেলছিলেন লালরেমরুয়াতা ভেঙনুয়াই। সাইরাং রেলস্টেশনের কাছে সুয়াকা ক্রিকেট মাঠে ম্যাচ চলাকালে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।
মিজোরাম ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (সিএএম) জানিয়েছে, ম্যাচ চলাকালীন লালরেমরুয়াতা স্ট্রোক করেন। দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
উইকেটকিপার হিসেবে খেলা লালরেমরুয়াতা মিজোরামের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে দুটি ও সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে সাত ম্যাচ খেলেছেন। ২০১৮ সালে মেঘালয়ের বিপক্ষে তাঁর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয়। সবশেষ ২০২২ সালে নাগাল্যান্ডের বিপক্ষে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি।
স্থানীয় পর্যায়েও পরিচিত মুখ ছিলেন লালরেমরুয়াতা। বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলার পাশাপাশি মিজোরামের সিনিয়র টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় লালরেমরুয়াতার পরিবার ও মিজোরাম ক্রিকেট মহলের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন মিজোরামের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণমন্ত্রী লালনঘিংলোভা হামারও।

রংপুর রাইডার্সের শীর্ষস্থান নিশ্চিত নাকি নোয়াখালী এক্সপ্রেসের লজ্জার রেকর্ড থেকে রেহাই—বিপিএলের আজ বিপরীত সমীকরণ মাথায় রেখে খেলতে নেমেছিল দু’দল। শেষ পর্যন্ত সম্মান রক্ষা হয়েছে প্রথমবার বিপিএলে অংশ নেওয়া নোয়াখালীর। টানা ছয় ম্যাচে হারের পর সপ্তম ম্যাচে ৯ রানে জয় পেয়েছে হায়দার আলীর নেতৃত্বাধীন দলটি।
তুমুল আগ্রহ-উদ্দীপনা ও দর্শক সমর্থন নিয়ে প্রথমবার বিপিএল ক্রিকেট খেলতে এসে একের পর এক শুধু ব্যর্থতাই দেখছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। একে একে টানা ছয়টি ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্টে সবার নিচে রয়েছে বিপিএলের নবাগত দলটি। ২০১২ সালে টুর্নামেন্টের প্রথম সংস্করণে টানা সাত ম্যাচ পরাজয়ের পর অষ্টম ম্যাচে গিয়ে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছিল সিলেট রয়্যালস। টানা হারের সেই লজ্জার রেকর্ডে ভাগ বসানোর শঙ্কা ছিল নোয়াখালীর। তবে অবশেষে জয় পেয়ে সেই অপ্রীতিকর রেকর্ড এড়াল তারা।
শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯.৫ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রান করে নোয়াখালী। জবাবে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৯ রানে থামে রংপুর।
এ জয়ে পয়েন্ট টেবিলে উন্নতি হয়নি নোয়াখালী এক্সপ্রেসের। ষষ্ঠ নম্বরেই অবস্থান করছে দলটি। আজ জিতলে ১০ পয়েন্ট হতো রংপুর রাইডার্সের। নেট রান রেটে ভর করে বন্দর নগরীর ফ্রাঞ্চাইজিকে পেছনে ফেলার সুযোগ ছিল তাদের। তবে দুই পয়েন্ট না পাওয়া দুইয়েই অবস্থান করছে রংপুর।
রান তাড়ায় শুরুটা ভালো ছিল না রংপুরের। দলীয় ২৩ রানেই দুই ওপেনারকে হারায় তারা। হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বলে লিটন দাস বোল্ড হওয়ার পর ডেভিড ম্যালানকে বোল্ড করেন স্পিনার নবী।
অবশ্য দুই ওপেনারকে হারানোর পরও পথ হারায়নি রংপুর। তৃতীয় উইকেটে ৫১ বলে ৬৩ রান যোগ করেন তাওহিদ হৃদয় ও ইফতিখার আহমেদ। তাদের দুর্দান্ত এই জুটি শেষ হয় জহির খানের বলে ৩১ বলে ৩৭ করা ইফতিখার আউট হলে।
১৪.৫ ওভারে ১০০ রান তোলার পর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উইকেটও হারায় রংপুর। সবশেষ তিন ম্যাচে দারুণ ব্যাটিং করা এই ব্যাটার আউট হন ৮ বলে ৯ করে। আরও ৭ রান যোগ হতেই উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া হৃদয়ও আউট হয়ে সমীকরণ কঠিন করে ফেলেন রংপুরের। পঞ্চম উইকেট পতনের পর জয়ের জন্য শেষ চার ওভারে রংপুরের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ রান।
এবারের বিপিএলে ব্যর্থতার ধারা বজায় রাখেন সোহান। মেহেদী হাসান রানার বলে ৬ বলে ৪ রান করে আউট হয়ে দলকে আরও বিপদে ফেলেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। আট নম্বর ব্যাটার হিসেবে মাঠে নামেন মৃত্যুঞ্জয়।
এরপর রংপুরকে জেতানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিলেও ব্যর্থ হন খুশদিল শাহ। শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য সমীকরণ দাঁড়ায় ২৩ রান। বিলাল সামির করা ১৯তম ওভারে ৮ রান তোলার পর শেষ ওভারে লক্ষ্য দাড়ায় ১৫ রান।
নোয়াখালীর হয়ে শেষ ওভার করতে আসেন আগের তিন ওভারে ২১ রান দিয়ে এক উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ। মাত্র পাঁচ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়ে নোয়াখালীকে প্রথম জয় এনে দেন তিনি। তাঁর করা প্রথম ডেলিভারিতেই ১৬ বলে ২৪ করা খুশদিল আউট হন সৌম্য সরকারের ক্যাচ হয়ে। পরের বলে সিঙ্গেল নেওয়ার পর তৃতীয় বলে আউট হন মৃত্যুঞ্জয়ও। দশ নম্বরে নামা মোস্তাফিজ চার মেরে রংপুরকে আশা দেখালেও শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হাসে নোয়াখালীই।
টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শেষ দিকে ব্যাটিং ধসের কবলে পড়ার আগে শুরুটা মন্দ ছিল না নোয়াখালীর। প্রথম ৬ ওভারে তারা তুলেছিল ৬৬ রান। তবে ১৬ বলে ৩০ রান করা হাবিবুর রহমান সোহান, আর ২৭ বলে ৩১ করা সৌম্য সরকারের শুরুটা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় নোয়াখালী।
প্রথম ২ ওভারেই ২৫ রান তুলে নোয়খালী। রংপুর পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর প্রথম ওভার থেকে এসেছে দলটি তোলে ১৪ রান। এরপর ডানহাতি স্পিনার ইফতিখার আহমেদের ওভার থেকে এসেছে ১১।
আক্রমণে এসেই নোয়াখালীর ওপেনিং জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর প্রথম বলেই ব্যাট দিয়ে স্টাম্পে টেনে বোল্ড হয়েছেন শাহাদাত হোসেন। ৮ বলে ৩ চারে ১৪ রান করেছেন এই ব্যাটার।
দ্বিতীয় উইকেটে সোম্য-সোহানের ৪৫ রানের জমে যাওয়া জুটি ভাঙেন সুফিয়ান মুকিম। ৩০ রান করা হাবিবুর পাকিস্তানি স্পিনাররের বলে লং অনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর জোড়া আঘাত করেন রংপুরের স্পিনার খুশদিল শাহ। ওভারের প্রথম বলে ৩১ রান করা সৌম্যকে ফেরানোর পর দ্বিতীয় বলে বোল্ড করেন মোহাম্মদ নবীকে।
স্কোরবোর্ডে আর ৫ রান যোগ হতেই আরেক ব্যাটার সাজঘরের পথ ধরেন। ঘণ্টায় ১৪৯ কিলোমিটার গতিতে করা নাহিদ রানার শর্ট বলটি থেকে কোনোভাবে বাঁচতে চেয়েছিলেন হায়দার আলী। তবে বল গ্লাভসে লেগে চলে যায় উইকেটকিপার নুরুল হাসানের হাতে। ৪ বলে ১ রান করেছেন হায়দার।
৮৯ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া নোয়াখালীকে এরপর পথ দেখান জাকের আলী ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। ধীরলয়ে ব্যাটিং করা জাকের করেন ৩৮ বলে ৩৭ আর অঙ্কনের ব্যাট থেকে আসে ২১ বলে ২৮ রানের ইনিংস।
দলীয় ১৩৮ রানে টানা দুই বলে জাকের ও মেহেদীকে ফেরানোর হাসান মাহমুদকেও আউট করে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন মোস্তাফিজ। তবে এই পেসার নিজেই ক্যাচটা নিতে পারেননি। ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের সফলতম বোলার তিনি।
মোস্তাফিজ না পারলেও হ্যাটট্রিকের স্বাদ পান মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরি। একমাত্র বাংলাদেশি বোলার হিসেবে বিপিএলে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকের মালিক হলেন তিনি। শেষ ওভারের তৃতীয় বলে মাহিদুল, চতুর্থ বল মেহেদী রানা ও পঞ্চম বলে বিলাল সামিকে আউট করেন মৃত্যুঞ্জয়। ২.৫ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন তিনি। এর আগে ২০২২ সালে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন এই বাঁহাতি পেসার।
মৃত্যুঞ্জয়ের হ্যাটট্রিকের দিন গতির ঝড় তুলে ৪ ওভারে ১৭ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট নেন নাহিদ। বাঁহাতি স্পিনার খুশদিল শাহ ২৭ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন।