১৬ জুন ২০২৫, ৩:২৭ পিএম

পেশাদার ক্যারিয়ারের যে বয়স, সেই বয়সে অনেকেই চলে যান অবসরে। তবে জাপানের কিংবদন্তি ফুটবলার কাজুয়োশি 'কিং কাজু' মিওরা ৫৮ বছরেও যেন থামবার পাত্র নন। ৫৮ বছর বয়সে চোট কাটিয়ে ফিরেছেন পেশাদার ক্যারিয়ারের ৪০তম মৌসুমে।
সম্প্রতি আতলেতিকো সুজুকার হয়ে ওয়াইএসসিসি ইয়োকোহামার বিপক্ষে জাপান ফুটবল লিগ (চতুর্থ স্তর) ম্যাচে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে এই মৌসুমে প্রথমবার খেলেন কাজুয়োশি। ম্যাচের শেষের দিকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামেন তিনি। তার দল জেতে ২-১ গোলে।
২০২৪ সালের জুনে ১৮ মাসের ধারের চুক্তিতে সুজুকায় যোগ দেন কাজুয়োশি। তবে জানুয়ারিতে পাওয়া চোটের কারণে এই মৌসুমে গত সপ্তাহের আগ পর্যন্ত মাঠে নামতে পারেননি অভিজ্ঞ এই ফুটবলার। গত রবিবারের ম্যাচে অবশেষে হয়েছে তার প্রত্যাবর্তন।
আরও পড়ুন
| গাড়ি বিক্রেতা-ছাত্র-শিক্ষকদের নিয়ে গড়া অকল্যান্ডের অদ্ভুত ক্লাব বিশ্বকাপ যাত্রা |
|
ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কাজুয়োশি বলেন,
“আমি আবারও মাঠে নিজের সেরাটা দেখাতে চাই। সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, যাদের সহায়তা পেয়ে আমি আবার ফিরতে পেরেছি। এখন এই জায়গা থেকে আমি আরও গতি বাড়াতে চাই।”
কাজুয়োশি সেই ১৯৮৬ সালে ব্রাজিলের সান্তোস ক্লাবের হয়ে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেন। ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে জাপানের ভার্দি কাওয়াসাকির হয়ে জিতেছেন টানা দুটি জে-লিগ শিরোপা। লম্বা এক ক্যারিয়ারে খেলেছেন ব্রাজিল, ইতালি, ক্রোয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগালের বিভিন্ন ক্লাবে। আর জাপান জাতীয় দলের হয়ে ৮৯ ম্যাচে করেছেন ৫৫ গোল।
No posts available.
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ৪:২৪ পিএম

ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে রেখে হলুদ কার্ডের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো থেকে খেলোয়াড়দের অহেতুক বহিষ্কার বা নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের দুটি নির্দিষ্ট ধাপের পর খেলোয়াড়দের অর্জিত একটি করে হলুদ কার্ডের রেকর্ড মুছে ফেলা হবে।
মঙ্গলবার ফিফা কাউন্সিলের সভায় এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় এবং পরবর্তীতে সংস্থাটি এক বিবৃতির মাধ্যমে এই পরিবর্তনের কথা নিশ্চিত করে। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর খেলোয়াড়দের নামের পাশে থাকা একটি হলুদ কার্ড থাকলে, সেটি বাতিল হয়ে যাবে। একইভাবে কোয়ার্টার ফাইনাল বা শেষ আটের লড়াই শেষ হওয়ার পরও একটি হলুদ কার্ডের রেকর্ড আবারও মুছে ফেলা হবে।
উত্তর আমেরিকায় আয়োজিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের বৃহত্তম আসর। ৪৮টি দলের এই টুর্নামেন্টে নকআউট পর্বে একটি বাড়তি ধাপ যোগ করা হয়েছে। আগে গ্রুপ পর্বের পর সরাসরি শেষ ১৬ বা দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হতো, কিন্তু এবার যুক্ত হয়েছে শেষ ৩২-এর লড়াই। এই বাড়তি ম্যাচের ধকল এবং খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরে থাকার ঝুঁকি কমাতে ফিফা এই ‘সাধারণ ক্ষমা’ বা নিয়ম পরিবর্তনের পথে হেঁটেছে।
আগের বিশ্বকাপগুলোতে নিয়ম ছিল, টুর্নামেন্টের যেকোনো দুটি আলাদা ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলেই এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে হতো। নতুন নিয়মে ফিফা দুটি 'ফ্রি জোন' বা কার্ড মুছে ফেলার ধাপ তৈরি করেছে। প্রথম ধাপ—গ্রুপ পর্বের সব খেলা শেষ হওয়ার পর। দ্বিতীয় ধাপ—কোয়ার্টার ফাইনাল (শেষ আট) শেষ হওয়ার পর।
গ্রুপ পর্বের পর কী হবে? গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচের কোনো একটিতে একজন খেলোয়াড় একটি হলুদ কার্ড পেলেন। আগের নিয়মে এই কার্ডটি নকআউট পর্বেও তার নামের পাশে থেকে যেত। ফলে নকআউটের প্রথম ম্যাচে আরেকটি কার্ড পেলেই তিনি পরের ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতেন। এখন গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়া মাত্রই ওই একটি কার্ড মুছে ফেলা হবে। নকআউট পর্ব (শেষ ৩২) থেকে তিনি একদম 'ফ্রেশ' হয়ে খেলা শুরু করবেন।
কোয়ার্টার ফাইনালের পর কী হবে? নকআউট পর্ব শুরু হওয়ার পর (শেষ ৩২, শেষ ১৬ এবং কোয়ার্টার ফাইনাল) যদি কোনো খেলোয়াড় এই তিনটি ম্যাচের মধ্যে যেকোনো একটিতে হলুদ কার্ড পান, তবে কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ হওয়ার পর সেটি আবার মুছে ফেলা হবে। উদ্দেশ্য যাতে সেমিফাইনাল ম্যাচে কোনো খেলোয়াড় কার্ড পেয়ে ফাইনাল ম্যাচ থেকে ছিটকে না যান। এটি নিশ্চিত করে যে, ফাইনালে সব দল তাদের সেরা শক্তি নিয়েই মাঠে নামতে পারবে।
তবে মনে রাখতে হবে, কোনো খেলোয়াড় যদি একই ম্যাচে লাল কার্ড পান অথবা দুই রাউন্ডের মধ্যে নির্ধারিত সংখ্যক হলুদ কার্ড পেয়ে নিষিদ্ধ হন, তবে তাঁকে শাস্তি ভোগ করতেই হবে।
কার্ডের নিয়ম পরিবর্তনের পাশাপাশি ফিফা অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য আর্থিক বরাদ্দের পরিমাণও বাড়িয়েছে। ৪৮টি দলের জন্য মোট অর্থের পরিমাণ ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৮৭১ মিলিয়ন ডলার করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিটি দল এখন কমপক্ষে ১৮ মিলিয়ন ডলার করে পাবে। এছাড়া টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি এবং বাছাইপর্বের সাফল্যের জন্য দেওয়া অর্থের পরিমাণও আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বযজ্ঞ চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। নতুন এই নিয়মের ফলে দলগুলো তাদের সেরা তারকাদের মাঠের লড়াইয়ে আরও বেশি সময় পাবে বলে আশা করছে ফিফা।

ভিসেন্তে ক্যালডেরন স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে বাবার কোলে চড়ে যখন প্রথম মাঠে নেমেছিল, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র দুই বছর। আজ দিয়েগো 'চোলো' সিমিওনের ছোট ছেলে জিউলিয়ানো সিমিওনে আতলেতিকো মাদ্রিদের গল্পের নিছক কোনো দর্শক নয়; বরং এই গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র।
গত মঙ্গলবার ছিল দিয়েগো সিমিওনের ৫৬তম জন্মদিন। কোচ হিসেবে নিজের চতুর্থ চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রস্তুতি নিতে নিতেই তিনি দিনটি পালন করেছেন। তবে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বাবার দীর্ঘ ক্যারিয়ার নয়, বরং ছেলের উত্থান। আতলেতিকোর হয়ে জিউলিয়ানোর এই বেড়ে ওঠা আসলে ক্রীড়াজগতে 'স্বজনপ্রীতির' অভিযোগকে ভুল প্রমাণ করে নিজের যোগ্যতায় জায়গা করে নেওয়ার এক অনন্য উদাহরণ।
বলবয় থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগের দাবিদার
সাইডলাইন থেকে মূল একাদশে আসার এই পথটা জিউলিয়ানোর জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন। দীর্ঘ কয়েক বছর বলবয় হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৫ সালের এক ডার্বি জয়ের পর সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট জিউলিয়ানোর বাবার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ার দৃশ্যটি আজও সবার মনে থাকার কথা। তবে ‘বসের ছেলে’ হওয়ার কারণে তাঁকে যে পরিমাণ কড়া নজরদারি আর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে, তা অন্য কেউ হলে হয়তো ভেঙে পড়তেন।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলো শুরুতে জিউলিয়ানোর যুব দলে অন্তর্ভুক্তিকে কেবল বাবার প্রভাব হিসেবেই দেখেছিল। এই সমালোচনা মোকাবিলা করতে দিয়েগো সিমিওনেও ছিলেন কঠোর। ছেলেকে সরাসরি মূল দলে সুযোগ না দিয়ে ধারে (লোন) পাঠিয়েছিলেন আলাভেস-এ। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—আতলেতিকোর ড্রেসিংরুমে বসার আগে লা লিগার কঠিন লড়াইয়ে নিজেকে প্রমাণ করা।
রক্তের উত্তরাধিকার ও লড়াইয়ের গল্প
মাত্র ২৩ বছরের তরুণ জিউলিয়ানো এখন সিমিওনে সাম্রাজ্যের এক পরীক্ষিত সৈনিক। আলাভেসের হয়ে ৯ গোল করে তিনি প্রমাণ করেছেন, বাবার নাম নয়—নিজের পায়ের ধারেই তিনি আজ আতলেতিকোর আঙিনায়। ইউরোপের কোনো বড় ক্লাবে টানা ১৪ বছর ড্রেসিংরুম শাসন করে দিয়েগো সিমিওনে যখন রেকর্ড বই নতুন করে লিখছেন, ঠিক তখনই প্রথম সন্তান হিসেবে বাবার কড়া শাসনের অধীনে লড়ছেন জিউলিয়ানো। বড় দুই ছেলে জিওভানি কিংবা জিয়ানলুকারা অন্য ক্লাবে আলো ছড়ালেও, জিউলিয়ানোর নিয়তি যেন বাঁধা ছিল বাবার এই লাল-সাদা দুর্গের কঠিন লড়াইয়েই।
"চলো-ইজমো’র বিবর্তন: জিউলিয়ানোর পায়ে সিমিওনে দর্শন
জিউলিয়ানোর খেলার ধরনে বাবার সেই চিরচেনা আগ্রাসী মেজাজ ফুটে উঠলেও, তিনি মাঠে নিয়ে এসেছেন আধুনিক ফুটবলের বহুমাত্রিক সামর্থ্য। দিয়েগো সিমিওনে যখন খেলতেন, তিনি ছিলেন নিখুঁত এক 'নাম্বার ফাইভ' মিডফিল্ডার—যাঁর কাজই ছিল প্রতিপক্ষের আক্রমণ গুঁড়িয়ে দেওয়া। তবে জিউলিয়ানো নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন 'হাইব্রিড ফরোয়ার্ড' হিসেবে। সামনে থেকে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার (প্রেসিং) অসাধারণ ক্ষমতা দিয়ে তিনি স্থবির হয়ে পড়া আতলেতিকোকে নতুন প্রাণ দিয়েছেন।
মাদ্রিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যাকটিক্যাল অ্যানালিস্টদের মতে, জিউলিয়ানো প্রতি ম্যাচে গড়ে ১১.৪ কিলোমিটার দূরত্ব দৌড়ান, যা বর্তমান দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। এটি সিমিওনের সেই বিখ্যাত ‘চলো-ইজমো’ দর্শনেরই প্রতিফলন—যেখানে সাফল্যের মূল মন্ত্র হলো মাঠে নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়া।
ক্রীড়া পরিবারের বৈশ্বিক আখ্যান: সিমিওনে থেকে কেনিয়া
সিমিওনে পরিবারের এই গল্প কেনিয়ার ক্রীড়াপ্রেমীদের মনেও গভীর নাড়া দিচ্ছে। যেখানে পারিবারিক ঐতিহ্যই জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। ক্রিকেটের সেই কিংবদন্তি ওধিয়াম্বো ভাইদের থেকে শুরু করে ফুটবলের ওয়ানিয়ামা পরিবার—বিখ্যাত পদবি বইয়ে বেড়ানোর চাপ কেনিয়ার ভক্তদের কাছে খুব পরিচিত।
কেনিয়ার নাইরোবির স্পোর্টস বারগুলোতে এখন সিমিওনেদের নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলে: বিখ্যাত বাবার নাম কি আশীর্বাদ নাকি বোঝা? সেখানকার স্থানীয় কোচদের মতে—পরিবারের নাম হয়তো বড় কোনো সুযোগের দরজা খুলে দেয়, কিন্তু সেখানে টিকে থাকতে হলে মেধা আর পরিশ্রমেরই দরকার হয়। নাইরোবির এনগং রোডের 'লিগি এনডোগো' অ্যাকাডেমির তরুণ অ্যাথলেটদের কাছে জিউলিয়ানোর এই সাফল্য এক বড় অনুপ্রেরণা। সে প্রমাণ করেছে, উত্তরাধিকার কেবল জন্মগতভাবে পাওয়া বিষয় নয়, এটি নিজের পরিশ্রমে গড়ে নেওয়ার বিষয়।
শেষ অঙ্ক: একটি স্বপ্নের সন্ধানে
আতলেতিকো যখন সেমিফাইনালের মহারণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, তখন বাজিটা কিন্তু অনেক বড়। দিয়েগো সিমিওনের জন্য এটি সেই ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরার শেষ সুযোগ, যা দুবার ফাইনাল পর্যন্ত গিয়েও তাঁর হাত ফসকে গেছে। আর জিউলিয়ানোর জন্য এটি বাবার দীর্ঘ ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের ভাগ্য গড়ার এক মহাসুযোগ। 'চোলো' যুগের শেষ অঙ্কটা এখন এক ব্যক্তিগত আবেগ আর প্রাপ্তির লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।

প্রায় পাঁচমাস আগে ফিফার ‘শান্তি পুরস্কার’ জেতেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকেই এই সিদ্ধান্তের সমালোচনায় সরব মানবাধিকার কর্মী ও ফুটবল সংশ্লিষ্টরা। পাল্টা জবাবে আজ হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের চেয়ে বেশি যোগ্য আর কেউ নেই এই পুরস্কারের জন্য।
গত বছরের ডিসেম্বরে ২০২৬ বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে বিশ্বজুড়ে শান্তি ও ঐক্য প্রচারের স্বীকৃতিস্বরূপ ট্রাম্পকে প্রথম ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। এর পরপরই মানবাধিকার গোষ্ঠী ও আন্দোলনকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন।
চলতি সপ্তাহে অস্ট্রেলীয় ফুটবলার জ্যাকসন আরভিন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ায় কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে ফিফা তাদের নিজস্ব মানবাধিকার সনদকে উপহাসের পাত্রে পরিণত করেছে। সোমবার নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন ফিফাকে এই শান্তি পুরস্কার প্রথা পুরোপুরি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে সংস্থাটি রাজনৈতিক বিতর্কে না জড়ায়।
আরও পড়ুন
| আক্ষেপ ঘুচিয়ে ইতিহাস লেখার শপথ আর্সেনাল ও আতলেতিকোর |
|
ক্রমাগত সমালোচনার জবাবে হোয়াইট হাউস জানায়, ট্রাম্পের ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ পররাষ্ট্রনীতির কারণে এক বছরেরও কম সময়ে আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটেছে। ট্রাম্প নিজেও একাধিকবার দাবি করেছেন, তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া উচিত।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল বিবৃতিতে বলেন, ‘ফিফার প্রথম শান্তি পুরস্কারের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে যোগ্য ব্যক্তি বিশ্বে আর কেউ নেই। যারা এর ভিন্ন কিছু ভাবছেন, তারা স্পষ্টতই 'ট্রাম্প ডেরাঞ্জমেন্ট সিনড্রোম'-এ ভুগছেন।‘
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশের একটি যুক্তরাষ্ট্র। ড্র হওয়ার মাত্র এক মাস পর দেশটি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায় এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ বিমান হামলা শুরু করে।

আতলেতিকো মাদ্রিদ ও আর্সেনালের দুঃখ অতি সরলরেখায় বহমান—কখনোই চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতেনি ফুটবল বিশ্বের জায়ান্ট এই দুই ক্লাব। শিরোপার মঞ্চে উঠতে গিয়ে হোঁচট খেতে হয়েছে বরংবার। তবে ২০২৫-২৬ মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা দল দুটির সামনে সুযোগ নিজেদের আরেকবার প্রমাণের। সেই মাহেন্দ্রক্ষণের শুরুটা হতে যাচ্ছে আজ রাতেই।
চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফার্স্ট লেগে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আতলেতিকো মাদ্রিদ ও আর্সেনাল। মেত্রোপলিতানোতে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হবে এই মহারণ। ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আতলেতিকো কোচ দিয়েগো সিমিওনে কন্ঠে ঝরেছে আত্মবিশ্বাস। ইতিহাস বদলে দেওয়ার শপথ এই আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ডের। প্রায় একই কথা শোনা গেছে মিকেল আরতেতার প্রেসমিটেও।
আরও পড়ুন
| আতলেতিকো ম্যাচ ‘সিরিয়াসলি’ নিচ্ছেন আরতেতা |
|
ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় এ নিয়ে চতুর্থবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্সেনাল ও আতলেতিকো। গত অক্টোবরে লিগ পর্বের ম্যাচে আর্সেনালের কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল সিমিওনের শিষ্যরা। আজকের ম্যাচে সেই হারের প্রতিশোধ নিয়ে বুদাপেস্টের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নামবে স্প্যানিশ ক্লাবটি।
টানা হারের বৃত্ত ভেঙে গত শনিবার নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় তাদের প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে ফিরিয়ে এনেছে এবং একটি ঐতিহাসিক ‘ডাবল’ (লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ) জয়ের বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। অন্যদিকে, আতলেতিকো মাদ্রিদের পূর্ণ মনোযোগ এখন চ্যাম্পিয়নস লিগে। সিমেওনে অন্য সবকিছুর চেয়ে এই শিরোপাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।
ফার্স্ট লেগ যেহেতু লস কলচনেরোসদের ডেরা খ্যাত মেত্রোপলিতানোতে। যেখান থেকে শত্রুপক্ষ খুব কমই জয় নিয়ে ফিরতে পেরেছে। হাতের তালুর মতো চিরচেনা সবুজ গালিচায় দুইবার মুখোমুখি হয়ে একবারও জয় বাগাতে পারেনি আর্সেনাল। প্রথম দেখাতে হারতে হয়েছিল গানারদের। তবে দ্বিতীয়টিতে পয়েন্ট ভাগাভাগিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাদের। দেখার বিষয় আর্সেনাল সেখানকার উত্তপ্ত পরিবেশ কীভাবে সামলায়, সেটিই জয়-পরাজয়ের মূল চাবিকাঠি হতে পারে। কারণ, ফিরতি ম্যাচ যে তাদেরই আঙিনায়।
ঘরের মাঠে খেলা হলেও ইনজুরি নিয়ে কিছুটা চিন্তাগ্রস্ত আতলেতিকো। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে চোট পাওয়ায় পাবলো বারিওস এবং আদেমোলা লুকম্যানকে নিয়ে সংশয় তীব্র। আতলেতিকো ক্লাবের বিপক্ষে লা লিগার জয়ে বারিওস উরুর চোট পান। আর রিয়াল সোসিয়েদাদের কাছে কোপা দেল রে ফাইনাল হারের সময় চোট পাওয়ায় লুকম্যান সপ্তাহান্তের ম্যাচে খেলতেই পারেননি। তবে লুকম্যানের ফেরার সম্ভাবনা বেশি দেখা যাচ্ছে। যা সিমেওনের আক্রমণভাগকে শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে ডেভিড হাঙ্কো সম্ভবত মাঠের বাইরেই থাকছেন। এই অনুপস্থিতিগুলো আতলেতিকোর আক্রমণাত্মক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুন
| ৫-৪ গোলের থ্রিলার একদমই উপভোগ করেননি কোম্পানি |
|
আর্সেনালের পরিস্থিতিও বেশ নাজুক। নিউক্যাসলের বিপক্ষে ম্যাচে এবারিচি এজে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে কয়েকগুণ। কাই হাভার্টজকেও আগে তুলে নেওয়া হয়েছিল সে ম্যাচে। স্বস্তির খবর বুকায়ো সাকা ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন। যদিও গত ম্যাচে তিনি বদলি হিসেবে নেমেছিলেন।
রিককার্ডো ক্যালাফিওরি ফেরার অপেক্ষায় আছেন এবং এই ম্যাচে তাকে দেখা যেতে পারে। তবে জুরিয়েন টিম্বার কুঁচকির ইনজুরির কারণে এখনো মাঠের বাইরে। মিকেল মেরিনো তার স্ট্রেস ফ্র্যাকচার থেকে সেরে ওঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। আশা করা হচ্ছে মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই তিনি ফিরতে পারবেন।
শত সমস্যার মাঝেও সম্ভবনা দেখছেন আরতেতা। ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন ইতিহাস এবার বদলাবেই। স্প্যানিশ কোচ বলেন, ‘আমরা ঠিক এই জায়গাটিতেই থাকতে চেয়েছিলাম। গত নয় মাস কঠোর পরিশ্রম, আবেগ আর মানসম্মত পারফরম্যান্স দিয়ে আমরা এই সুযোগ অর্জন করেছি। এখন সময় নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করার এবং বিশ্বকে দেখিয়ে দেওয়ার যে আমরা এই ট্রফিটা কতটা জিততে চাই। সুযোগ আমাদের সামনে, আমাদের এখন ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।’
আর্সেনাল প্রতিপক্ষ হিসেবে যে দুর্দান্ত, সে কথা ম্যাচের আগে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সিমিওনে। তবে তিনি জানিয়েছেন, এমন লড়াইয়ের মুখোমুখি তারা আগেও হয়েছেন। তাই চাপমুক্ত থেকে খেলে যেতে চান। সিমিওনে বলেন, ‘চাপের কথা বলতে গেলে, আমি কোনো চাপ অনুভব করছি না। শিরোপার এত কাছে পৌঁছানোটা বরং রোমাঞ্চকর। এর আগে আমরা কখনো এটি জিততে পারিনি’
আতলেতিকো ও আর্সেনাল ম্যাচটি খুব সহজেই গোলবন্যায় ভেসে যাবে বলে মনে হচ্ছে না। উভয় দলই সুসংগঠিত এবং সুশৃঙ্খল। আর্সেনাল কি পারবে আতলেতিকোর বৈরী পরিবেশ সামলাতে? মেত্রোপলিতানোর দর্শকদের গর্জন নকআউট পর্বের ম্যাচে প্রায়ই বড় প্রভাব ফেলে। সে দেয়াল বেদ করেই তবে, ইতিহাসের পথে এগোতে হবে আর্সেনালকে।

ফিফা বিশ্বকাপের দামামা বাজতে থাকলেও চূড়ান্ত দল ঘোষণা নিয়ে বাড়তি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে জার্মানি। বুন্দেসলিগার শেষ দিনের খেলা এবং চোট আক্রান্ত খেলোয়াড়দের ফিটনেস প্রমাণের সুযোগ দিতে দল ঘোষণার তারিখ ৯ দিন পিছিয়ে দিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
মঙ্গলবার জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিশ্চিত করেছে, ১২ মে এর পরিবর্তে এখন ২১ মে ফ্রাঙ্কফুর্টে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হবে। একই সাথে খেলোয়াড়দের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার সময়ও দুই দিন পিছিয়ে ২৭ মে করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
| ৫-৪ গোলের থ্রিলার একদমই উপভোগ করেননি কোম্পানি |
|
আগামী ১৬ মে বুন্দেসলিগার শেষ রাউন্ড। এরপর ২৩ মে বায়ার্ন মিউনিখ ও স্টুটগার্টের মধ্যে জার্মান কাপের ফাইনাল। জাতীয় দলের বড় একটি অংশ এই দুই ক্লাবের হওয়ায় খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ দিতে চান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান। বায়ার্ন যদি ৩০ মে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে পৌঁছায়, তবে সেই খেলোয়াড়রা আরও পরে জাতীয় দলে যোগ দেবেন।
দলে থাকা একাধিক ফুটবলারের চোট নিয়ে চিন্তিত নাগেলসম্যান। টুর্নামেন্ট থেকে গত মাসে ছিটকে গেছেন বায়ার্ন মিউনিখের ফরোয়ার্ড সার্জ নাবরি। তাঁর সতীর্থ লেনার্ট কার্ল বর্তমানে ফিট হয়ে দলে জায়গা করে নেওয়ার লড়াই চালাচ্ছেন।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে ৩১ মে ফিনল্যান্ড ও ৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে জার্মানি। ১৪ জুন বিশ্বকাপের মূলপর্বের প্রথম ম্যাচে জার্মানির প্রতিপক্ষ নবাগত কুরাসাও। 'ই' গ্রুপে ডাই ম্যানশ্যাফটদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ আইভরি কোস্ট ও ইকুয়েডর।