
স্বীকৃত টি–টোয়েয়েন্টিতে পারফরম্যান্স বিচারে বর্ষসেরা একাদশ বেছে নিয়েছে ক্রিকেট–বিষয়ক ওয়েবসাইট উইজডেন। ওয়েবসাইটটির বর্ষসেরা এই একাদশে রয়েছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান।
২০২৫ সালে অন্তত ১৫০ ওভার বল করেছেন—এমন বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজের ধারেকাছেও কেউ নেই বোলিং গড়ে। তাঁর গড় ১৮.০৩, যা এই তালিকায় সবার সেরা। বছরজুড়ে স্বীকৃত টি–টোয়েন্টিতে ৪৩ ইনিংসে ৫৯ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন মাত্র ৬.৭৮, স্ট্রাইক রেট ১৫.৯। ১১ রানে ৩ উইকেট—যা মোস্তাফিজের সেরা বোলিং।
২০২৫ সালে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে মোস্তাফিজ বল করেছেন ১৫৬.৫ ওভার। ক্যারিবিয়ান পেস অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডার ২৫০.২ ওভার বোলিং করে সর্বোচ্চ ৯৭ উইকেট নিলেও তাঁর বোলিং গড় ছিল ২১.৪২—যা মোস্তাফিজের চেয়ে বেশি।
উইজডেনের বর্ষসেরা একাদশে পেস আক্রমণে মোস্তাফিজের সঙ্গে আছেন নিউজিল্যান্ডের জ্যাকব ডাফি। পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন স্যাম কারেন ও জেসন হোল্ডার। স্পিন বিভাগে ভারতের বরুণ চক্রবর্তী ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনীল নারাইন।
ব্যাটিংয়ে ওপেনিং জুটি হিসেবে আছেন ভারতের অভিষেক শর্মা ও ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট। মিডল অর্ডারে জায়গা পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার দেভাল্ড ব্রেভিস, ডনোভান ফেরেইরা এবং অস্ট্রেলিয়ার টিম ডেভিড।
উইজডেনের বর্ষসেরা (২০২৫) টি–টোয়েন্টি একাদশ: অভিষেক শর্মা, ফিল সল্ট, দেভাল্ড ব্রেভিস, স্যাম কারেন, ডনোভান ফেরেইরা, টিম ডেভিড, সুনীল নারাইন, জেসন হোল্ডার, জ্যাকব ডাফি, মোস্তাফিজুর রহমান ও বরুণ চক্রবর্তী।
No posts available.
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৯ পিএম

বিপিএলের ১২তম সংস্করণের এলিমিনেটর ম্যাচে কয়েনভাগ্য পাশে পেলেন না লিটন কুমার দাস। বাঁচা-মরার এই লড়াইয়ে টস জিতে রংপুর রাইডার্সকে আগে ব্যাটিং করতে পাঠালেন সিলেট টাইটান্স অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
এই ম্যাচ হারলে চতুর্থ হয়ে বিদায় নিতে হবে টুর্নামেন্ট থেকে। আর জিতলে অপেক্ষা করতে হবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচের। প্রথম কোয়ালিফায়ারে লড়বে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও চট্টগ্রাম রয়্যালস। ওই ম্যাচের পরাজিত দলের সঙ্গে খেলতে হবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার।
ম্যাচের একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে রংপুর। বাদ পড়েছেন ইফতেখার হোসেন ইফতি ও আকিফ জাভেদ। তাদের জায়গায় দলে ফিরেছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও কাইল মেয়ার্স।
আর সিলেটের একাদশে পরিবর্তন মোট ৪টি। বাদ পড়ে গেছেন মুমিনুল হক, রুয়েল মিয়া, শহিদুল ইসলাম ও ইথান ব্রুকস। প্রথমবার বিপিএল খেলতে নামছেন ক্রিস ওকস ও স্যাম বিলিংস। আর একাদশে ফিরেছেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও আরিফুল ইসলাম।
রংপুর রাইডার্স একাদশ
দাভিদ মালান, তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), খুশদিল শাহ, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, কাইল মেয়ার্স, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), ফাহিম আশরাফ, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা, আলিস আল ইসলাম
সিলেট টাইটান্স একাদশ
মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন (উইকেটরক্ষক), তৌফিক খান তুষার, স্যাম বিলিংস, আফিফ হোসেন ধ্রুব, আরিফুল ইসলাম, মইন আলি, ক্রিস ওকস, নাসুম আহমেদ, সালমান ইরশাদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ

৮৪, ১৩১* ও ১৩৭। ওয়াডেতে ড্যারি মিচেলের সবশেষ তিন ইনিংস। ভারতের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ে নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে সিরিজ জয়ের নায়ক এভাবে ব্যাট হাতে রাজত্ব করেন। ভারতের মাটিতে কিউইদের প্রথমবার ৫০ ওভারের সিরিজ জয়ে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৩৫২ রান, হন সিরিজসেরা। ওয়ানডে ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা বিরাট কোহলি থেকে মাত্র এক পয়েন্ট দূরে আছেন। কিন্তু ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে থেকে ভারত জয় করা এই মিচেল একসময় ভারতেই পথ হারিয়েছিলেন। পথ খুঁজে পেতে তাঁর লেগেছিল কঠিন ছয়টি বছর। উপমহাদেশে স্পিনারদের সামনে খাবি খাওয়া মিচেল কোন মন্ত্রে বদলে গেলেন?
২০১৩ সাল। ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম মৌসুমে ভালো করার পর নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে ভারত ও শ্রীলঙ্কা সফর সুযোগ পান ড্যারিল মিচেল। সেখান থেকেই শুরু হয় দুঃস্বপ্ন ডানহাতি ব্যাটারের। স্পিনে ধারাবাহিকভাবে পরাস্ত হতে থাকেন। ভারতের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজে যিনি কুলদীপ যাদবকে মাঠের চারদিকে অনায়েসে খেলছিলেন, সেই ব্যাটসম্যানই তখন স্পিনের সামনে রীতিমতো অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। তারপর নিউজিল্যান্ডের মূল দলে জায়গা করে নিতে তাঁর লেগে যায় দীর্ঘ ছয় বছর। একসময় যে ভারত তাঁকে আটকে দিয়েছিল, আর আজ সেই ভারতেই বিজয়গাঁথা লিখছেন। ৩৪ বছর বয়সী ব্যাটারের ইস্পাত কঠিন মানসিকতায় মুগ্ধ খোদ ভারতই।
বর্তমান ক্রিকেটে এমন ব্যাটার খুব কমই আছেন, যারা ড্যারিল মিচেলের মতো ‘ভি’ অঞ্চলে—সোজা মাঠের মাঝখান দিয়ে—এত ধারাবাহিকভাবে শট খেলতে পারেন, সেটা স্পিন হোক বা পেস। যেখানে একটা সময় বলের দিকে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঝাঁপিয়ে পড়তেন, আগেভাগেই স্পিনারদের আন্দাজ করার চেষ্টা করতেন—আর তাতেই বারবার ধরাও পড়তেন।
আরও পড়ুন
| ২৬৪ স্ট্রাইক রেটে স্বর্ণার ছক্কার রেকর্ড |
|
ইউটিউব চ্যানেল ক্রিকেট মেন্টরিং-এ একবার মিচেল বলেনছিলেন, ‘নিউজিল্যান্ডে বড় হওয়া, এরপর পার্থে (অস্ট্রেলিয়া) খেলা—এই দুই জায়গায় এমন কন্ডিশনের মুখোমুখি আমি কখনো হইনি। ওই সফর আমার চোখ খুলে দিয়েছিল। বুঝেছিলাম, আলাদা পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে; সব জায়গায় একভাবে খেললে চলবে না। আমি খুব একগুঁয়ে ছিলাম। ভাবতাম—এই আমার টেকনিক, এভাবেই আমি খেলি, এটাই আমি।’
মিচেল আরও যোগ করেন, ‘ভালো স্পিন বোলারের সামনে যদি আপনি ক্রিজে স্থির থাকেন এবং পায়ের ব্যবহার না জানেন, তাহলে আপনি শেষ। এটা বুঝতে আমার কয়েক বছর লেগে গেছে।’
বাবার কাছ থেকেই হয়তো এমন একগুঁয়েমি স্বভাব পেয়েছেন মিচেল। বাবা ছিলেন অল ব্ল্যাকসের রাগবি খেলোয়াড় এবং ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের একজন জনপ্রিয় কোচ। বাবার কোচিং ক্যারিয়ারের কিছুটা খারাপ সময়ই ছেলের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
২০০০ সাল। মিচেলর বাবা তখন সিক্স নেশনস লিগে জয়ী ইংল্যান্ড দলের কোচিং টিমের অংশ ছিলেন, কিন্তু তিনি যে পদটির আশা করেছিলেন—হেড কোচ—সেটি পাননি, তখন তিনি নিউজিল্যান্ডে ফিরে আসেন। নতুন স্কুলে তখন ৯ বছরের মিচেল ক্রিকেট কোচকে মুগ্ধ করেছিলেন।
সংক্ষেপে, বাবার কঠোরতা ও ব্যাটসম্যান তৈরি করার ধৈর্যই ড্যারিল মিচেলের খেলোয়াড়ি মানসিকতার বীজ বোনা।
মিচেলকে গড়তে শুরু হলো বাবার কর্মযজ্ঞ। বাড়ির পেছনের লনে একটি ক্রিকেট নেট বসানো হলো, এবং নিয়মগুলো ঠিক করা হলো। নেটের স্লিপে ক্যাচ হলে আউট। অন-সাইড বাউন্ডারির জন্য বল অবশ্যই হিপের নিচে হিট করতে হবে, পুরো বাড়ি মারলে চলবে না।
ছেলেকে একটি লক্ষ্য দিলেন, ১২ বলে ১৫ রান করা। ‘ছয়টি ফাস্ট, ছয়টি স্লো বল। কল্পনা করতে পারো, ব্যাটগুলো লাউঞ্জে উড়ছে!’, সিনিয়র মিচেল হাসতে হাসতে বললেন।
মিচেলর বাবার ভাষায়, ‘আমি শুধু তাকে নিজেই আবিষ্কার করতে দিয়েছি। যেখানে পারতাম উপস্থিত থেকেছি। সম্প্রতি মারা যাওয়া তার দাদাও থাকতেন। আমি মাঝে মাঝে চলে গিয়ে দেখতাম—ভাল দিন হোক বা খারাপ দিন। তাকে নিজের পথ খুঁজে নিতে হতো। সে তার কৌশল আয়ত্ত করতে শিখেছে। ফিজিওলজি-তে তাঁর একটি এক্সারসাইজ ডিগ্রি আছে—মানসিক প্রস্তুতির দিকে সে বেশ মনোযোগি।’
এককথায় মিচেলের বাবা শুধু তাকে শেখাননি বরং নিজে খুঁজে বের করার সুযোগও দিয়েছেন—ড্যারিল মিচেলের স্বতঃসিদ্ধ এবং মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার গল্পের কেন্দ্রবিন্দু।
ড্যারিল মিচেলের দ্বিতীয় বড় উত্থান ঘটল তখন, যখন নিউজিল্যান্ড রাগবি দল বাবাকে কোচ হিসেবে ছেড়ে দেয় সেমিফাইনাল থেকে ব্যর্থ হওয়ার পর। খুব শিগগিরই তিনি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থে একটি রাগবি দলের কোচের চাকরি নিলেন। তখন ১২ বছরের মিচেল পুরোনো মাঠ আর ঘাস ছেড়ে যেতে মোটেও রাজি ছিল না। কিন্তু নতুন স্কুলের ক্রিকেট মাঠ একবার দেখার পর—সে উত্তেজিত হয়ে উঠল।
আরও পড়ুন
| উইজডেনের বর্ষসেরা টি–টোয়েন্টি একাদশে মোস্তাফিজ |
|
সেখানে মিচেলের বন্ধুত্ব হয়ে গেল মার্কাস স্টোইনিস ও মার্কাস হ্যারিসের সঙ্গে, যারা পরে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছেন। পাশাপাশি প্রায়ই দেখা হতো জাস্টিন ল্যাঙ্গার ও তার কোচ নডি হোল্ডারের সঙ্গে, যারা মিচেলের ব্যাটিংয়ের মূল নীতি ঠিকমতো বোঝাতেন।
সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল, যতক্ষণ না ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের ভারত সফরে হোঁচট খেলেন। মিচেল বলেন, ‘সব দল আমার বিপক্ষে শুধু স্পিনারদের কাজে লাগাতে শুরু করল।’ তখন ধীরে ধীরে মিচেল নিজের পথ খুঁজতে শুরু করলেন—স্পিন বোলে কীভাবে আগেভাগে আন্দাজ করা থেকে বেরোনো যায়, পা কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, বলকে কিভাবে জায়গা দিতে হয় যাতে সিঙ্গল সহজ হয়, এবং শেষ পর্যন্ত কিভাবে স্পিনারদের বিরুদ্ধে শট খেলার উপায়।
২০১৮-১৯ মৌসুম নিউজিল্যান্ডের হয়ে টেস্ট দলে অভিষেক হয় মিচেলের। আর ২০২১ এ ওয়ানডেতে।ক্যারিয়ারে বহু চড়াই উৎরাই পা করে মিচেল শেষ পর্যন্ত বিশ্বসেরা ব্যাটার হিসেবে প্রমাণ করেছেন। ওয়ানডেতে তাঁর গড় এখন ৫৮.৪৭। এ সংস্করণে ৫৪ ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ২৬৯০ রান। সেঞুরি নয়টি, ফিফটি ১২। এরমধ্যে প্রায় ৭০ গড়ে ১২৫৯ রান এসেছে স্পিনারদের বিপক্ষে। ৪৯ ইনিংসে স্পিনারদের নিজের উইকেট দিয়েছেন মাত্র ১৮বার।
এভাবেই নিজের দূর্বলতাকে শক্তিমত্তার জায়গায় পরিণত করেছেন ড্যারিল মিচেল। নিজেকে ভেঙে আবার গড়ে সেরাদের কাতারে নিয়ে গেছেন, আর ক্রিকেটকে উপহার দিয়েছেন ঘুরে দাড়ানোর দারুণ এক অনুপ্রেরণার গল্প।

ক্রিজে গিয়ে প্রথম ৪ বল সময় নিলেন স্বর্ণা আক্তার। পঞ্চম বলে তিনি মেরে দিলেন ছক্কা। এরপর ৮ বলের মধ্যে মারলেন আরও ৩টি ছক্কা। সব মিলিয়ে ২৬৪.২৮ স্ট্রাইক রেটের ইনিংস খেলে নিজে গড়লেন ছক্কার রেকর্ড, দলকে এনে দিলেন বড় পুঁজি।
নেপালে মঙ্গলবার নারী বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে ৫ উইকেটে ১৬৮ রান করেছে বাংলাদেশ। স্বর্ণার পাশাপাশি বাংলাদেশ দলও গড়েছে ছক্কার রেকর্ড।
১৬তম ওভারে ক্রিজে গিয়ে শেষ ওভারে আউট হন স্বর্ণা। মাঝে ১৪ বল খেলে ১ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা মেরে ২৬৪.২৮ স্ট্রাইক রেটে ৩৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তরুণ অলরাউন্ডার।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে ইনিংসে এটিই সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। এর আগে আয়েশা রহমান শুকতারা, সানজিদা ইসলাম ও নিগার সুলতানা জ্যোতির ছিল ইনিংসে ৩টি করে ছক্কার রেকর্ড।
এছাড়া বাংলাদেশের হয়ে অন্তত ২৫ রানের ইনিংসে স্বর্ণার এটি সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেটেরও রেকর্ড। ২০১৯ সালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ২১৬.৬৬ স্ট্রাইক রেটে ১২ বলে ২৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন ফাহিমা খাতুন।
স্বর্ণার ৪টি ছক্কার পাশাপাশি সোবহানা মোস্তারি ২টি, দিলারা আক্তার ১টি ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়িতা মারেন ১টি। সব মিলিয়ে ম্যাচে ৮টি ছক্কাও বাংলাদেশের রেকর্ড। এর আগে ইংল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ভিন্ন তিন ম্যাচে ৪টি করে ছক্কা মেরেছিল তারা।
দলকে দেড়শ ছাড়ানো পুঁজি এনে দিতে স্বর্ণাই করেন সর্বোচ্চ ৩৭ রান। এছাড়া সোবহানা ২৪ বলে ৩৪ ও দিলারা ২৯ বলে করেন ৩৫ রান।

অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে হার দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল পাকিস্তানের। দ্বিতীয় ম্যাচে ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়েছে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। স্কটল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম জয় পেল পাকিস্তান।
সোমবার দিনের বাকি দুই ম্যাচের একটিতে তানজানিয়াকে ৩২৯ রানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অপরটিতে আয়ারল্যান্ডকে ১০৬ রানে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা।
হারারেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে ৪৮.১ ওভারে ১৮৭ রানে অলআউট হয়ে যায় স্কটল্যান্ড। রান তাড়ায় নেমে ৪১ বল আর ৬ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।
স্কটল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন ওপেনার থমাস নাইট। ফিনলে জোনস ৩৩ ও অলি জোনসের ব্যাটে আসে ৩০ রান। পাকিস্তানের হয়ে আলি রাজা ৪ টি, মমিন কামার নেন ৩ উইকেট। জবাব দিতে নেমে উসমান খানের ৭৫ ও আহমেদ হুসাইনের ৪৭ রানে সহজ জয় পায় পাকিস্তান।
‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে অধিনায়ক মোহাম্মদ বুলবুলিয়া ১০৮ ও জেসন রয়েলসের অপরাজিত ১২৫ রানে ৩৯৭ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় প্রোটিয়া যুবারা। জবাবে মাত্র ৬৮ রানেই গুটিয়ে যায় তানজানিয়া।
‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২৬৭ রান করে শ্রীলঙ্কা। রান তাড়ায় নেমে ১৬১ রানে গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ড। দুই ম্যাচে দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে শ্রীলঙ্কা।

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। টুর্নামেন্টের ১১তম মৌসুম থেকে খেলোয়াড় বাছাই হবে নিলাম পদ্ধতিতে। ফলে ২০১৬ সাল থেকে চালু থাকা ড্রাফট পদ্ধতির অবসান ঘটছে।
১১তম নিলামে খেলোয়াড় কেনার জন্য প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির বাজেট ১৩ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৬ লাখ ডলার করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দল সর্বোচ্চ চারজন খেলোয়াড় ধরে রাখতে পারবে এবং প্রতিটি ক্যাটাগরি থেকে একজন করে রাখা যাবে। আগে একটি দল তাদের গত বছরের স্কোয়াড থেকে সর্বোচ্চ ৮ জন খেলোয়াড়কে ধরে রাখতে পারতো।
আগে দলগুলো মেন্টর বা অ্যাম্বাসেডর নিয়োগের মাধ্যমে কৌশলে অতিরিক্ত তারকা খেলোয়াড় ধরে রাখত। এখন সেই সুযোগ থাকছে না। সব খেলোয়াড়কে মূল স্কোয়াডের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
নতুন মৌসুমে রাইট টু ম্যাচ বা আরটিএম সুবিধা থাকছে না। এর মাধ্যমে নিলামে কোনো খেলোয়াড়কে অন্য দল কিনে নিলেও, পুরোনো দল সেই একই দামে তাকে ফিরিয়ে নিতে পারতো। ২০২৬ সাল থেকে এই আরটিএম সুবিধা আর থাকছে না।
নতুন যুক্ত হওয়া দুটি দল- হায়দরাবাদ ও শিয়ালকোট নিলামের আগে খেলোয়াড় তালিকা থেকে চারজন করে বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো একটি করে বিদেশি খেলোয়াড় সরাসরি দলে নেওয়ার সুযোগও পাবে, শর্ত হলো সেই খেলোয়াড় যেন পিএসএলের দশম আসরে না খেলেন।
পিএসএলের ১১তম মৌসুম শুরু হবে ২৬ মার্চ। নতুন মৌসুমে ভেন্যু হিসেবে যুক্ত হয়েছে ফয়সালাবাদ।