২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:১৩ পিএম

ব্যাটারদের সম্মিলিত অবদানে লড়াইয়ের পুঁজি পেল বাংলাদেশ। তিন স্পিনার সানজিদা আক্তার মেঘলা, রাবেয়া খান ও ফাহিমা খাতুন মিলে স্পিনের জাদুতে নাচিয়ে ছাড়লেন প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের। অনায়াস জয়ে সুপার সিক্সে পৌঁছে গেল বাংলাদেশ দল।
নারী বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে নামিবিয়াকে ৮০ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে ১৪৪ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। জবাবে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায় নামিবিয়া।
টানা তিন ম্যাচে তিন জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে এখন বাংলাদেশ। একইসঙ্গে নিশ্চিত হয়েছে সুপার সিক্সের টিকেট। গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ে শনিবার আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা।
বৃহস্পতিবারের ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কেউই। সোবহানা মোস্তারির ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ২৭ রান। দিলারা আক্তার খেলেন ১৭ বলে ২৫ রানের ইনিংস। ১৮ বলে ২৩ রান করেন স্বর্ণা আক্তার।
রান খরায় ভুগতে থাকা অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ২১ রান করতে খেলে ফেলেন ২৯ বল।
নামিবিয়ার হয়ে ২টি করে উইকেট নেন সাইমা তুহাদেলেনি ও সিলভিয়া শিহেপো।
রান তাড়ায় নামিবিয়ার পক্ষে দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেন শুধু অধিনায়ক সুন উইটমান (১৯) ও উইকেটকিপার মার্কজারলি গোরাসেস (১২)।
বাঁহাতি স্পিনের জাদুতে ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রানে ৪ উইকেট নেন মেঘলা। ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে তিনিই জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। এছাড়া লেগ স্পিনার রাবেয়া খান ৫ রানে ৩টি ও ফাহিমা খাতুন ১২ রানে নেন ৩টি উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৪৪/৭ (দিলারা ২৫, জুয়াইরিয়া ৯, শারমিন ১৩, জ্যোতি ২১, সোবহানা ২৭, স্বর্ণা ২৩, রিতু ৬, রাবেয়া ১১*, ফাহিমা ১*; সাইমা ৪-০-৩৪-২, কেজারুকুয়া ২-০-১৯-০, উইলকা ৪-০-১৪-১, সিলভিয়া ৪-০-২১-২, উইটমান ২-০-১৭-০, জুরিয়েন ৪-০-৩৫-১)
নামিবিয়া: ১৭.৫ ওভারে ৬৪ (উইটমান ১৯, ইয়াসমিন ৫, গ্রিন ৩, গোরাসেস ১২, উইলকা ৯, নাওমি ২, মিকেল ২, জুরিয়েন ০, সিলভিয়া ১, কেজারুকুয়া ০, সাইমা ৬*; তৃষ্ণা ৩-০-১৮-০, মেঘলা ৪-১-১৪-৪, রাবেয়া ৪-১-৫-৩, রিতু ২-০-৮-০, ফাহিমা ৩.৫-০-১২-৩, স্বর্ণা ১-০-৫-০)
ফল: বাংলাদেশ ৮০ রানে জয়ী
No posts available.
২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম
২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪১ এম
২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২১ এম
২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৪ পিএম

ক্রিকেট উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা জোর করতে একটি সমঝোতা স্বারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ)।
প্রিটোরিয়ায় বাংলাদেশ হাই-কমিশন চ্যান্সারিতে গত ১৬ জানুয়ারি আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিসিবির পক্ষে স্বাক্ষর করেন দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শাহ আহমেদ শফি এবং সিএসএর পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ফোলেতেসি মোসেকি।
চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের উদীয়মান ক্রিকেটাররা প্রিটোরিয়ায় সিএসএর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে উঁচুমানের প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি আম্পায়ার ও কিউরেটরদের জন্য প্রশিক্ষণের সঙ্গে বিনিময় কর্মসূচি রাখা হয়েছে চুক্তিতে। নারী ও পুরুষ উভয় দলেরই দ্বিপাক্ষিক সফর বাড়ানোর ব্যাপারটিও সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে কোচিং উন্নয়ন, কারিগরি জ্ঞান বিনিময় ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে দুই বোর্ড একসঙ্গে কাজ করবে। চুক্তির মেয়াদ তিন বছর। সংশ্লিষ্টদের আশা, দুই দেশের ক্রিকেপ সম্পর্ককে আরও পোক্ত করবে এই চুক্তি।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই বিপিএলের ১২তম সংস্করণের ট্রফি নিয়ে জল্পনাকল্পনার শেষ নেই সবার। বিসিবির পক্ষ থেকে শুরুতেই জানানো হয়েছিল, এবার ভিন্ন ডিজাইনের নতুন ট্রফি দেবেন তারা। কিন্তু ফাইনালের আগের দিন পর্যন্ত দেখা মেলেনি সেই ট্রফির।
দর্শকদের জন্য একপ্রকার চমক হিসেবেই রাখা হয়েছে এটি। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার ফাইনাল ম্যাচ শুরুর ঘণ্টা দেড়েক আগে প্রথমবার দেখা যাবে হীরাখচিত বিশেষ এই ট্রফি।
ফাইনাল ম্যাচের দিনের সূচি অনুযায়ী, বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে ট্রফিটি নিয়ে মাঠে নামবেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সালমা খাতুন ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক অধিনায়ক আকবর আলি।
২০১৮ সালে সালমার নেতৃত্বে নারী এশিয়া কাপ জিতেছিল বাংলাদেশ আর ২০২০ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক আকবর। তাদের হাত দিয়েই মাঠে নামবে বিপিএলের হীরাখচিত ট্রফি। বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন আগেই জানিয়েছেন, এই ট্রফিটির বানাতে খরচ প্রায় ২৫ হাজার ডলার।
এরপর বিপিএলের দুই ফাইনালিস্ট চট্টগ্রাম রয়্যালস অধিনায়ক শেখ মেহেদি হাসান ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত মিলে আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করবেন বিপিএল ট্রফির। পরবর্তী আধঘন্টা ধরে মাঠে ঘুরে বেড়াবে বিশেষ এই ট্রফি।
খেলা শুরুর আগে মাঠে আগত দর্শকদের জন্য রাখা হয়েছে মডেল ও অভিনেত্রী তানজিন তিশার নৃত্য পরিবেশন। পরে টসের আগমুহূর্তে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা হবে ট্রফি। আর ৫টা ৩০ মিনিটে টস করে ম্যাচের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করবেন দুই অধিনায়ক।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাকি আর ১৫ দিন। এরমধ্যেই বড় ধাক্কা খেল নিউ জিল্যান্ড। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন দলটির ফাস্ট বোলার অ্যাডাম মিলনে। এসএ২০ লিগে খেলতে গিয়ে চোটে পড়েন তিনি। তাঁর বদলি হিসেবে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কাইল জেমিসনকে।
গত রোববার এমআই কেপ টাউনের বিপক্ষে সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপের হয়ে নিজের প্রথম ওভারেই চোট পান মিলনে। পরে স্ক্যানে চোটের মাত্রা নিশ্চিত করা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার এই টি-টোয়েন্টি লিগে আট ম্যাচে ১১ উইকেট নেন ডানহাতি পেসার, গড় ছিল ১৬.২৭ এবং ইকোনমি রেট ৭.৬১।
নিউজিল্যান্ডের প্রধান কোচ রব ওয়াল্টার বলেন, ‘অ্যাডামের জন্য আমরা সবাই ভীষণভাবে মর্মাহত। এই টুর্নামেন্টের জন্য সে নিজেকে দারুণভাবে প্রস্তুত করেছিল এবং ইস্টার্ন কেপ সানরাইজার্সের হয়ে আট ম্যাচে তাকে আবার নিজের সেরা ফর্মেই দেখা যাচ্ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সময়টা তার জন্য একেবারেই ভালো নয়। আমরা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।’
বর্তমানে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে থাকা কাইল জেমিসনকে ভ্রমণরত রিজার্ভ তালিকা থেকে মূল দলে নেওয়া হয়েছে। ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত স্কোয়াডে বিনা বাধায় পরিবর্তন আনা যাবে, এরপর কোনো বদল আনতে হলে আইসিসির অনুমোদন লাগবে।
ওয়াল্টার আরও বলেন, ‘ভালো বিষয় হলো, কাইল ইতোমধ্যেই আমাদের সঙ্গে এখানে ভারতে আছে। সে আমাদের পেস বোলিং ইউনিটের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং এই সফরে শুরু থেকেই নিজের প্রভাব দেখিয়েছে। সে একজন পরিশ্রমী ক্রিকেটার, যার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপে দলের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠবে।’
পিঠের চোট কাটিয়ে গত বছরের শেষদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা জেমিসন চলতি মাসের শুরুতে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ক্যারিয়ারসেরা ৪১ রানে ৪ উইকেট নেন। এর আগে নিউজিল্যান্ড জানিয়েছিল, ম্যাট হেনরি ও লকি ফার্গুসন বিশ্বকাপ চলাকালে স্বল্প সময়ের জন্য পিতৃত্বকালীন ছুটি নিতে পারেন।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিউজিল্যান্ড দল আরও একজন ভ্রমণরত রিজার্ভ খেলোয়াড় যুক্ত করবে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে কিইউদের। তার আগে ৬ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা। এর আগে ভারতের বিপক্ষে চলমান টি-টোয়েন্টি সিরিজে এখনও চারটি ম্যাচ বাকি রয়েছে।

টিমটিম করে জ্বলতে থাকা জয়ের আশা খানিকটা উজ্জ্বল হয় জেমি ওভারটনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে। মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে হাল ধরেছিলেন ইংল্যান্ডের লেজের দিকের ব্যাটার। তবে ২০০ স্ট্রাইকরেটে ১৭ বলে ৩৪ রানের ওভারটনের এই ইনিংস জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি। শেষ দিকে ম্যাচ জমিয়ে তুলে আউট হওয়ার পরই নিশ্চিত হয় শ্রীলঙ্কার জয়।
কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে গতকাল প্রথম ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৯ রানে হেরেছে ইংল্যান্ড। স্লো পিচে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা স্বাগতিক লঙ্কানরা ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৭১ রান তোলে।
জবাবে বেন ডাকেটের ফিফটির সঙ্গে দারুণ এক মাইলফলক স্পর্শ করা রুটের ফিফটিতেও লক্ষ্যে পৌছাতে পারেনি ইংলিশরা। মিডল অর্ডারে নাটকীয় ধসের ৪৯.২ ওভারে ২৫২ রানে শেষ হয় সফরকারীদের ইনিংস। ১২ বলে ২৫ রানের ছোট্ট তবে কার্যকরী ইনিংস খেলার সঙ্গে বল হাতে ৪১ রান খরচ করে দুই উইকেটে নেওয়া দুনিথ ওয়েলালাগে হন ম্যাচসেরা।
এই জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল শ্রীলঙ্কা। আগামীকাল একই ভেন্যুতে বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটায় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ।
বিদেশের মাটিতে ওয়াডেতে এ নিয়ে টানা ১১ ম্যাচে হারল ইংল্যান্ড। ম্যাচ শেষে হ্যারি ব্রুক স্বীকার করেন, শ্রীলঙ্কাই প্রাপ্য জয় পেয়েছে এবং টসের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, মিডল ওভারে স্পিনাররা দারুণ বোলিং করেছে এবং সাদা বলের ক্রিকেটে শেষ দিকের ওভারগুলো অনেক সময় ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়।
ইংল্যান্ডের রান তাড়া শুরুটাই ছিল টালমাটাল। ওপেনার জ্যাক ক্রলি মাত্র ৬ রান করে ফেরেন—আসিথা ফার্নান্দোর বলে কুসাল মেন্ডিসের হাতে ক্যাচ ১২ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর বেন ডাকেট ও জো রুটের ব্যাটে দারুণভাবেই লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছিল ইংল্যান্ড। কিছুটা ধীরগতির শুরু হলেও ডাকেট ধীরে ধীরে ছন্দ খুঁজে পান। অপরপ্রান্তে রুট চিরচেনা ঠান্ডা মাথায় খেলে যান। দু’জনে মিলে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ১১৭ রানের জুটি।
২৫তম ওভারে ৭২ বলে রুট নিজের ৪৪তম ওডিআই অর্ধশতক পূর্ণ করেন। ওয়াডেতে ৬০০টি চার মারার মাইলফলক স্পর্শ করেন ৩৫ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রুট বরাবরই সফল—৩০ ম্যাচে ১,২৩৯ রান, গড় ৬১.৯৫, যার মধ্যে আছে ১০টি অর্ধশতক ও ২টি শতক। এশিয়ার মাটিতে তাঁর রেকর্ডও দারুণ—৩৯ ম্যাচে ১,৬২৭ রান, গড় ৪৯.৩, ১৪টি ফিফটি।
আরও পড়ুন
| মেঘলা-ফাহিমা-রাবেয়ার ঘূর্ণিতে সুপার সিক্সে বাংলাদেশ |
|
দুই সেট ব্যাটার দ্রুত ফিরে যাওয়ায় পরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। প্রথমে ভান্ডারসের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৬২ রানে আউট হন ডাকেট। এর পরই আসে টার্নিং পয়েন্ট—সুইপ শট খেলতে গিয়ে ধনঞ্জয়া ডি সিলভার বলে এলবিডব্লিউ হন রুট। ৯০ বলে ৬১ রান করা রুট বিদায় নিলে ইংল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ১৪৪/৩।
এই উইকেটের পরই শুরু হয় ভয়াবহ ধস। চাপে ভেঙে পড়ে ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডার। হ্যারি ব্রুক (৬) আসালাঙ্কার বলে মেন্ডিসের হাতে স্টাম্পড হন। এরপর বেটেল (১৫) একইভাবে ওয়েলালাগের বলে স্টাম্পড। স্যাম কারান (৫) ওয়েলালাগের বলেই সহজ ক্যাচ তুলে দেন, আর রেহান আহমেদ (২৭) ভান্ডারসের বলে ওয়েলালাগের হাতে ক্যাচ হন। ইংল্যান্ডের স্কোর তখন ২০৭/৩।
কঠিন উইকেটে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছিলেন জস বাটলার। ১৯ রান করে শেষ পর্যন্ত প্রমোদের স্লোয়ার ইয়র্কারে আউট হন তিনি—তাতে স্কোরবোর্ডে চার রান যোগ হতেই আরেকটি উইকেটের পতন। দলীয় ২১৩ রানে লিয়াম ডসন (২) আউট হওয়ার পর শেষ উইকেট পতন শুধু সময়ের অপেক্ষাই ছিল। তবে ঝড় তুলে সামান্য লড়াইয়ের আভাস দিয়ে ওভারটন আউট হলে নিশ্চিত হয় শ্রীলঙ্কার জয়।
এর আগে দুই ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা এবং কামিল মিশারার ব্যাটে ভর করে ভালো শুরু পায় লঙ্কানরা। ওপেনিং জুটি থেকে আসে ৫০ রান। ৩০ বলে ২১ রান করে বিদায় নেন নিসাঙ্কা। এরপর শ্রীলঙ্কার রানের গতি কমে যায়। ৩৭ বলে ২৭ রান করে বিদায় নিয়েছেন মিশারাও। ৫৪ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারিয়ে ফেলে লঙ্কানরা।
তারপর দলের হাল ধরেন তিনে নামা কুশল মেন্ডিস। এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলে গেছেন কুশল। চারে নেমে ধনঞ্জয়া ডি সিলভা খেলেছেন ২১ বলে ১০ রানের ইনিংস। পাঁচে নামা অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কাও সুবিধা করতে পারেননি। ১৬ বলে ১৭ রান করে বিদায় নেন তিনি।
সাবলীল ব্যাটিংয়ে কুশল করেন ফিফটি। ছয়ে নেমে কুশলের সাথে ভালো জুটি গড়েন জানিথ লিয়ানাগে। কুশল ফিফটি ছুঁয়ে আরও সামনে এগিয়েছেন। লিয়ানাগেও ফিফটির পথে এগিয়েছেন। তবে ফিফটির আগেই নিয়েছেন বিদায়। ৫৩ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান লিয়ানাগে।
শেষ দিকে পাভেন রাথনায়েকে ১৪ বলে ১২ রান করেন। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে দলকে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ এনে দেন দুনিথ ভেল্লালাগে। ১২ বলে ২৫ রানের ক্যামিও খেলে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন তিনি। অন্যদিকে কুশল মেন্ডিস সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও সেঞ্চুরিটা ছুঁতে পারেননি। ১১৭ বলে ৯৩ রানের ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন কুশল।
ইংল্যান্ডের হয়ে ৩ উইকেট নেন আদিল রশিদ। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন স্যাম কারান, লিয়াম ডওসন এবং রেহান আহমেদ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম সংস্করণ মাঠে গড়াবে দুই সপ্তাহ পর। তার আগে বড় ধাক্কা খেল দক্ষিণ আফ্রিকা। চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন টনি ডি জর্জি ও ডোনোভান ফেরেইরা। এই দুই প্রোটিয়া ব্যাটারের পরিবর্তে দলে জায়গা পেয়েছেন রায়ান রিকেলটন ও ট্রিস্টান স্টাবস।
আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড (সিএসএ) জানিয়েছে, জর্জি গত ডিসেম্বরে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় প্রত্যাশিত উন্নতি না হওয়ায় বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না তাঁর।
এসএ টি-টোয়েন্টিতে ফিল্ডিং করার সময় ফেরেইরার কাঁধের হাড় ভেঙে যায়। গুরুতর এই চোটের কারণে তিনিও বিশ্বকাপ স্কোয়াডে।
আরও কয়েকজন ক্রিকেটারের ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরে। ডেভিড মিলার অ্যাডাক্টর পেশির চোটে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলতে পারবেন না। বিশ্বকাপে তাঁর অংশগ্রহণ নির্ভর করছে ফিটনেস পরীক্ষার ফলাফলের ওপর।
এ ছাড়া পেসার লুঙ্গি এনগিডি ও অলরাউন্ডার ডেওয়াল্ড ব্রেভিসও চোট সমস্যায় ভুগছেন।সিএসএ জানিয়েছে, মিলারের চোট নিয়েই সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
নিয়মানুযায়ী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ঘোষিত বিশ্বকাপ দলে যে কোনো কারণে পরিবর্তন আনতে পারবে দলগুলো। তবে এই সময়ের পর কোনো পরিবর্তন করতে হলে আইসিসির ইভেন্ট টেকনিক্যাল কমিটির বিশেষ অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি কানাডার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে দক্ষিণ আফ্রিকা।
দক্ষিণ আফ্রিকা দল:
এইডেন মার্করাম (অধিনায়ক), করবিন বোশ, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, কুইন্টন ডি কক, মার্কো জানসেন, জর্জ লিন্ডে, কেশব মহারাজ, কোয়েনা মাফাকা, ডেভিড মিলার, লুঙ্গি এনগিদি, আনরিখ নরকিয়া , কাগিসো রাবাদা, রায়ান রিকেলটন, জেসন স্মিথ ও ট্রিস্টান স্টাবস।