২১ এপ্রিল ২০২৬, ৬:৪৪ পিএম

এ বছরের মার্চে নারী এশিয়ান কাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ায় হওয়া ওই টুর্নামেন্টে অবশ্য কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি লাল সবুজের মেয়েরা। তবে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা আজ মঙ্গলবার মেয়েদের র্যাঙ্কিং হালনাগাদ করেছে। র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ আগের মতোই ১১২ নম্বরে অবস্থান করছে। তবে তাদের রেটিং কমেছে ৪.৮৭ পয়েন্ট। বর্তমানে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ১১৬৫.৫৭।
এশিয়ান কাপে ‘বি’ গ্রুপে মিলি আক্তার-আফঈদা খন্দকাররা খেলেছেন চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে। পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ১১ গোল হজম করেছে। বিপরীতে তারা কোনো গোল দিতে পারেনি।
আরও পড়ুন
| ‘মানুষের মধ্যে মেসি ১ নম্বর, কিন্তু আমার বাবা ঈশ্বর’ |
|
আজকের হালনাগাদে র্যাঙ্কিংয়ে সর্বোচ্চ ১৭ ধাপ এগিয়েছে আমেরিকান সামোয়া। দলটির রেটিং বেড়েছে +০.৬২। ১১৩০.৪২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে তারা অবস্থান করছে ১২০ নম্বরে। সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে সুরিনামের। বর্তমানে ওশেনিয়া মহাদেশের এই দেশটি অবস্থান করছে ১৩৯ নম্বরে।
বরাবরের মতো সবার ওপরে স্পেন। ১.০৩ রেটিং বেড়ে দলটির রেটিং ২০৮৩.০৯। ২০৫৪.৬৫ রেটিং নিয়ে দুইয়ে যুক্তরাষ্ট্র। তাদেরও অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
No posts available.
২২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০১ এম

২০১৬ সালের মে মাসে কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামে প্রিমিয়ার লিগ ট্রফি জয় ছিল ক্লাবটির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ দিন। আর গতকাল হাল সিটির বিপক্ষে ড্র-টি হয়ে থাকবে তাদের অন্ধকারতম দিনগুলোর একটি। প্রিমিয়ার লিগ জয়ের ঠিক ১০ বছর আর এফএ কাপ জয়ের মাত্র ৫ বছরের মাথায় চূড়ান্ত পতন। ক্লাবের ১৪২ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম টানা দুইবার অবনমনের তেতো স্বাদ পাওয়া। লেস্টার সিটির চরম দুর্যোগের এক বিষাদময় অধ্যায়ই যেন রচিত হলো।
চ্যাম্পিয়নশিপে গতকাল হাল সিটির বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করে লিগ ওয়ানে (তৃতীয় বিভাগ) নেমে গেল হামজা চৌধুরীর লেস্টার সিটি। প্রিমিয়ার লিগ জয়ের ঠিক ১০ বছরের মাথায় দলটির এমন বিদায়ে ক্ষুব্ধ সমর্থকরা ক্লাবের মালিকপক্ষের পদত্যাগ দাবি করেছেন এবং খেলোয়াড়দের মাঠ থেকে দুয়োধ্বনি দিয়ে বিদায় জানিয়েছেন।
গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ থেকে চ্যাম্পিয়নশিপে নামা লেস্টার ফুটবল ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম দল হিসেবে টানা দুইবার অবনমিত হয়ে সরাসরি তৃতীয় স্তরে পৌঁছাল।
লেস্টারের অবনমন হওয়া একরকম নিশ্চিতই ছিল। অবনমন ঠেকাতে হাতে থাকা তিন ম্যাচ জয়ের সঙ্গে অন্য দলের ফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হতো তাদের। তবে কাল পয়েন্ট টেবিলে ৭ নম্বরে থাকা হাল সিটির বিপক্ষে ড্রয়ের পর আর কোনো সমীকরণই থাকল না।
ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর জর্ডান জেমস ও লুক টমাসের দ্রুত দুই গোলে জয়ের স্বপ্ন জাগিয়েছিল গ্যারি রোয়েটের দল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্থের মাঝামাঝি সময়ে সফরকারী দলের অলি ম্যাকবার্নির গোল সেই স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেয়। হাতে মাত্র দুই ম্যাচ বাকি থাকতে অবনমন অঞ্চল থেকে তারা এখন ৭ পয়েন্ট দূরে, যা আর ঘোচানো সম্ভব নয়।
লেস্টারের জন্য পুরো ২০২৫-২৬ মৌসুম ছিল এককথায় ভয়াবহ। লিগে ৪৪ ম্যাচে মাত্র ১১টিতে জয়ের দেখা পেয়েছে হামজা চৌধুরিরা। মৌসুমজুড়ে দলের ব্যর্থতা মেনে নিচ্ছেন লেস্টারের কোচ গ্যারি রোয়েট, ‘তিন-চার ম্যাচে কেউ অবনমন হয়ে যায় না, এটা পুরো মৌসুমের ফল। ক্লাবকে মেনে নিতে হবে যে এটি একটি ফুটবল ক্লাবের যাত্রার ভয়াবহ অংশ।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘বেশিদিন আগের কথা নয় যখন এই ক্লাব প্রিমিয়ার লিগ জিতেছিল। সেই বিশাল অর্জনের বিপরীতে আজকের এই ব্যর্থতা সমানভাবে হতাশাজনক।’
লেস্টারের সমর্থকদের মেজাজ ছিল তুঙ্গে। তারা ম্যাচ শুরুর আগেই খেলোয়াড়দের দুয়োধ্বনি দেয় এবং ম্যাচ শেষে ‘তোমরা এই জার্সি পরার যোগ্য নও’ বলে চিৎকার করতে থাকে।
২০১৬-এর সেই রূপকথার পর ২০২১ সালে এফএ কাপ জয় এবং ইউরোপিয়ান কনফারেন্স লিগের সেমিফাইনালে খেলার মতো বড় সব অর্জন এখন ক্লাবটির জন্য কেবলই দূর অতীত। ২০২২-২৩ সালে অবনমন হওয়ার পর তারা পরের মৌসুমেই আবার প্রিমিয়ার লিগে ফিরেছিল। কিন্তু ২০২৪-২৫ মৌসুমটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। কোচ স্টিভ কুপার বরখাস্ত হওয়ার পর রুড ফন নিস্টেলরয় দায়িত্ব নিলেও দলকে বাঁচাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত অবনমনের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাওয়া আটকাতে পারেনি ক্লাবটি।

চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায়ের পর সমালোচনার সব তীর ছিল যেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দিকেই। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে গোল করার কিছু সহজ সুযোগ হাতছাড়া করায় সমর্থকদের ক্ষোভের মূল লক্ষ্য ছিলেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। লা লিগায় দেপোর্তিভো আলাভেসের বিপক্ষে ম্যাচে সমর্থকদের তীব্র দুয়োধ্বনির মুখে পড়েন ভিনি। তবে তাঁর দুর্দান্ত এক গোলে মুহূর্তেই পাল্টে যায় চিত্র। দুয়োধ্বনির পরিবর্তে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু মুখরিত হয়ে ওঠে করতালিতে।
লা লিগায় গতকাল রাতে আলাভেসের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠ বার্নাব্যুতে প্রথামার্ধে কিলিয়ান এমবাপের গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুন করেন ভিনিসিয়ুস। শেষ দিকে নির্ধাররিত সময়ের পর যোগ করা সময়ের তিন মিনিটে একটি গোল শোধ করে সফরকারীরা।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা চার ম্যাচ পর স্বস্তির জয় পেল রিয়াল। এই জয়ে লিগে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধানও কিছুটা কমিয়ে আনল তারা। ৩২ ম্যাচে রিয়ালের পয়েন্ট ৭৩। লস ব্লাঙ্কোসরা বার্সেলোনার চেয়ে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে। রিয়ালের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলা বার্সা আজ ঘরের মাঠে সেল্টা ভিগোর মুখোমুখি হবে।
রিয়ালের জন্য ম্যাচের শুরুটা বেশ ধীরগতির ছিল। শুরুর দিকে আলাভেস গোল করার কয়েকটা সুযোগ পাওয়ায় বার্নাব্যুর দর্শকরা বেশ ক্ষেপে যায়। দলের পারফরম্যান্সে হতাশ হয়ে গ্যালারির একাংশের দর্শকরা দুয়োধ্বনি দিতে থাকে। এমনকি ম্যাচ জেতার পরও এবং একদম শেষ মুহূর্তে আলাভেস গোল দেওয়ায় আবার দুয়োধ্বনি দিতে থাকে রিয়ালের সমর্থকরা।
৩০ মিনিটে এমবাপ্পে প্রথম গোল করে ডেডলক ভাঙেন। তার নেওয়া শটটি আলাভেসের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলকিপার আন্তোনিও সিভেরা-কে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়। চলতি মৌসুমে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা (২৪ গোল) ফরাসি ফরোয়ার্ড গত ফেব্রুয়ারির পর লিগে প্রথম গোল পেলেন।
এরপর ৫০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক দূরপাল্লার শটে লক্ষ্যভেদ করে ব্যবধান ২-০ করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত ছয় ম্যাচ ধরে গোলহীন ছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
আরও পড়ুন
| রিয়ালে ফিরছেন মরিনিয়ো, দাবি সংবাদমাধ্যমের |
|
অবনমন অঞ্চলের ঠিক উপরে থাকা আলাভেস ম্যাচের একদম শেষ দিকে টনি মার্টিনেজের গোলে ব্যবধান কমায়। স্বস্তির জয় পাওয়া ম্যাচে রিয়ালের জন্য দুঃসংবাদ হয়ে আসে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার এদের মিলিতাও প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে। তবে রিয়াল মাদ্রিদ জানিয়েছে, তার এই চোট খুব একটা গুরুতর নয়।
ম্যাচ শেষে দুয়োধ্বনির শিকার হওয় ভিনির পাশে দাড়ান রিয়াল মাদ্রিদ কোচ আলভারো আরবেলোয়া। বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নেওয়ায় বার্নাব্যুর সমর্থকরা বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন। তারা এমবাপ্পে এবং ভিনিসিউস—উভয়কেই লক্ষ্য করে দুয়োধ্বনি দেন। এমনকি মিউনিখে লাল কার্ড পাওয়া বদলি খেলোয়াড় এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার ওপরও চড়াও হয় ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাবটির সমর্থকরা।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোচ আরবেলোয়া বলেন, ‘ভিনিসিয়ুস কঠিন পরিস্থিতিতে সবসময় নিজের সেরাটা উজাড় করে দেয়। সে দলকে নিজের কাঁধে টেনে নিয়েছে। তার নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। সে লুকিয়ে থাকে না, বরং সাহসের সঙ্গে লড়ে। সে রিয়ালের পাঁড় ভক্ত, এই ক্লাবের জার্সি আর লোগোকে সে মনেপ্রাণে ধারণ করে।’
আরবেলোয়া আরও যোগ করেন, ‘এখানকার দর্শকরা অনেক বেশি প্রত্যাশা করে, তারা খেলোয়াড়দের সেরাটা চায়। ভিনি আজ দুয়োধ্বনিকে করতালিতে বদলে দিয়েছে—যা সে আগেও করেছে। দিনশেষে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
সমর্থক ও সংবাদমাধ্যমের সমালোচনার মুখে থাকা কামাভিঙ্গার প্রতিও সমর্থন জানান আরবেলোয়া, ‘অল্প বয়স হলেও তার ব্যক্তিত্ব আর অভিজ্ঞতা অনেক। সে অনেকটা ভিনির মতোই, খুব অল্প বয়সে রিয়ালে এসেছে এবং অনেক বড় বড় ট্রফি জিতেছে। কোচ, ক্লাব এবং আমি নিশ্চিত সমর্থকদেরও তার ওপর পূর্ণ আস্থা আছে।’

কোপা দেল রে ও চ্যাম্পিয়নস লিগে একই প্রতিপক্ষ আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে হেরে অনেকটাই চুপসে আছে বার্সেলোনা। হান্সি ফ্লিকের দলের হাতে এখন অবশিষ্ট কেবল লা লিগা। বিরাট কোনো অঘটন না ঘটে, লা লিগা কাতালান শোকেসেই উঠছে। কারণ, দ্বিতীয় স্থানের দল রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৯ পয়েন্ট এগিয়ে বার্সেলোনা।
লা লিগায় সাত রাউন্ড বাকি থাকলেও, এখনই শিরোপা ঘরে তুলতে চান বার্সা কোচ। বুধবার লা লিগায় সেলতা ভিগোর মুখোমুখির আগে ফ্লিক বলেন,
‘আমরা লা লিগায় মনোযোগী। আমরা এখানে কিছুটা ভালো অবস্থানে আছি। তবে এখনও লড়াই শেষ হয়নি। এটা সহজ হবে না। আমরা নিজেদের সেরা খেলা খেলতে চাই। আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু দিতে হবে। দলকে নিয়ে সবাই গর্বিত, কারণ ছেলেরা তাদের সবটা দিচ্ছে।”
দুটি বড় প্রতিযোগিতায় হারা বার্সেলোনার কাছে লা লিগাটাই একমাত্র সম্বল, যেখানে তাদের জয়ের সম্ভবনা প্রবল। ফ্লিক বলেন,
“কেবল লা লিগাতেই টিকে আছি আমরা। মাথা পরিষ্কার করার জন্য কয়েকদিন ছুটি পেয়েছি। আবহ দুর্দান্ত। এটাই মাঠে নিয়ে যেতে হবে এবং নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স করতে হবে।”
৩১ ম্যাচে ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে রিয়াল।

প্রিমিয়ার লিগের অন্তিম মুহূর্ত জমে উঠেছে বেশ। বিশেষ করে, শনিবার রাতে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে আর্সেনালের ২-১ গোলের হারে লিগ হয়ে উঠেছে আরও রোমাঞ্চকর। শীর্ষে থাকা গানারদের পয়েন্ট ৭০। দ্বিতীয়স্থানে থাকা সিটিজেনদের ৬৭। মিকেল আরতেতার দলের চেয়ে একটি ম্যাচ কম খেলেছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। তাতেই নতুন জীবন পেয়েছে সিটিজেনরা।
লিগে পেপ গার্দিওলার দল আগামী বৃহস্পতিবার রাতে বার্নলির মাঠে আতিথ্য নেবে। রেলিগেশনের শঙ্কায় থাকা দলটির বিপক্ষে জয় তোলা যে সহজ হবে উড়তে থাকা সিটির, সেটা সহজেই অনুমেয়। পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জনে আর্সেনালের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলবে ম্যানসিটি। দু’দলের ম্যাচ এবং পয়েন্ট হবে সমানে সমান।
টার্ফ মুরে বাংলাদেশ সময় রাত একটার ম্যাচটির আগে গার্দিওলা আর্সেনালের বিপক্ষে শিরোপার লড়াই নিয়ে কথা বলেন। সিটিজেন কোচ বলেন,
‘দুই দলই (সিটি ও আর্সেনাল) জানে অতীতে কী ঘটেছে। উভয় পক্ষই জানে যে, এখন আর কোনো পয়েন্ট হারানো যাবে না। তা পুনরুদ্ধার করা খুব কঠিন। আমাদের খেলার সূচিও খুব ঠাসা, বিশেষ করে পরবর্তী প্রতিপক্ষ এভারটন—যাদের বিপক্ষে খেলা সবসময়ই অনেক কঠিন।’
গার্দিওলার যোগ করেন,
‘লিগে যে দল পেছনে থেকে ধাওয়া করে, তাদের জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে কাজটা বেশি কঠিন। আর্সেনালকে হারানোর পর এখন আমাদের বার্নলির মাঠে গিয়ে নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলতে হবে।’
আর্সেনালের বিপক্ষে জয়ের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে গার্দিওলা বলেন,
‘ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমি তাদের বলেছি, আমাদের ফোকাস বা মনোযোগ নষ্ট করা যাবে না। আর্সেনাল এখনো লিগের শীর্ষে আছে এবং বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী তারাই চ্যাম্পিয়ন হতে যাচ্ছে।’

আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা নাকি লিওনেল মেসি—কে সেরা? ফুটবল বিশ্বের এই চিরন্তন বিতর্কে এবার নতুন মাত্রা যোগ করলেন ম্যারাডোনার ছেলে দিয়েগো ম্যারাডোনা জুনিয়র। স্প্যানিশ টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘লা রেভুয়েলতাতে’ অংশ তিনি এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে নিজের বাবার শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কথা বলেন। তাঁর মতে, সাধারণ রক্ত-মাংসের মানুষের তালিকায় মেসি এক নম্বর হলেও তাঁর বাবা ছিলেন ফুটবলের ‘ঈশ্বর’।
সোমবার রাতে প্রচারিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ডেভিড ব্রোনকানোর আমন্ত্রণে হাজির হন ইতালিতে জন্ম নেওয়া ম্যারাডোনা জুনিয়র। ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনা যখন আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো এবং নাপোলিকে শিরোপা উপহার দেওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন, সেই বছরই ক্রিস্টিনা সিনাগ্রার গর্ভে জন্ম নেন তিনি। ২০২০ সালের নভেম্বরে বাবার মৃত্যুর পর থেকে প্রতিটি শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে তাঁকে সামনের সারিতে দেখা গেছে।
আরও পড়ুন
| ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি |
|
অনুষ্ঠানে নিজের বাবার ঘটনাবহুল জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে দিয়েগো জুনিয়র বলেন,
‘বাবার জীবন ছিল জটিল কিন্তু অত্যন্ত সুন্দর। তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ যিনি জীবনকে সবটুকু দিয়ে উপভোগ করেছেন, যদিও তাকে অনেক কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। তিনি ভুল করেছিলেন এবং তার চড়া মূল্যও দিয়েছেন, কিন্তু তিনি কারো ক্ষতি করেননি।’
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিতর্ক—মেসি বনাম ম্যারাডোনা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বেশ কৌশলী অথচ স্পষ্ট জবাব দেন। মেসিকে সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন,
‘আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে চিনি না, তার কাছের মানুষরা হয়তো পরিচয় করিয়ে দিতে চাননি। তবে এটা ঠিক, সাধারণ মানুষের মধ্যে মেসিই এক নম্বর। কিন্তু আমার বাবা তো মানুষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন ফুটবলের ঈশ্বর।’
বাবার ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, ম্যারাডোনার নামের পাশে অন্তত তিনটি বিশ্বকাপ ট্রফি থাকা উচিত ছিল। তাঁর ভাষায়,
‘আমার বাবার কাছ থেকে দুটি বিশ্বকাপ চুরি করা হয়েছিল। ১৯৯০ এবং ১৯৯৪ বিশ্বকাপের শিরোপা তার জেতা উচিত ছিল।’
বাবার সঙ্গে দীর্ঘ দূরত্ব ঘুচিয়ে শেষ জীবনে কাছে আসার গল্পটিও শোনান দিয়েগো জুনিয়র। প্রায় ২৯ বছর পর বাবার সঙ্গে তাঁর পুনর্মিলন হয়েছিল। সেই স্মৃতি মনে করে বলেন,
‘টেলিভিশনে আমার একটি সাক্ষাৎকার দেখে বাবা আমার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। আমি যখন তার সঙ্গে রাতের খাবারে বসলাম, মনে হচ্ছিল আমি কোনো স্বপ্ন দেখছি। আমরা অতীতের কোনো কটু স্মৃতি নিয়ে আলাপ করিনি, বরং বর্তমান নিয়েই কথা বলেছিলাম।’
আরও পড়ুন
| শিষ্যদের প্রতি একটাই পরামর্শ গার্দিওলার |
|
বাবার স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে দিয়েগো জুনিয়র আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,
‘তিনি বর্তমানে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তবুও তিনি সবসময় আমার ভেতরে সবচেয়ে বেশি উপস্থিত। মাঠে এবং মাঠের বাইরে তিনি অজস্র মানুষকে আনন্দ দিয়েছেন। তার সাথে কাটানো অল্প সময়টুকুই আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের দিন। আমার আনন্দের দিনগুলোর অধিনায়ক ছিলেন তিনি।’
অনুষ্ঠানের শেষ অংশে উপহার বিনিময় এবং ব্যক্তিগত জীবনের মজার কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বিদায় নেন কিংবদন্তিপুত্র। বর্তমানে কোচিং পেশায় যুক্ত থাকা ডিয়েগো জুনিয়র জানান, বাবা বেঁচে না থাকলেও তাঁর আদর্শ আর ভালোবাসা প্রতি মুহূর্তে তাঁকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়।